বিশাল সুখবর পাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা !

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর নিয়ে আসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। এর মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে খাতা, কলম, জামা (স্কুল ড্রেস) ও জুতাসহ বেশ কিছু ‍উপকরণ।

মূলত শিশু শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, স্কুলের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং উপকরণের অভাবে যাতে কোনও শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা হাতে নিয়ে সরকার।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা, কলম, জামা ও জুতাসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও আনুষঙ্গিক উপকরণ দিতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার জন্য শিশুদের যা প্রয়োজন হবে, তার সবই দেওয়া হবে বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে।সূত্র আরো বলছে, প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তাই দেশের একটি শিশুও যেন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বাদ না পড়ে সেটিই হচ্ছে সরকারের লক্ষ্য। আর এটির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রখে।

এ বছরই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০২০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের এসব উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
তবে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলছেন, এখন পর্যন্ত সবই পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে, কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র: আমাদেরসময়.কম

আজ ৩ শাবান, ইমাম হুসাইন (রা:) এর জন্মদিন

দরুদ ছাড়া সালাত আদায় করলে তা আল্লাহ কবুল করেন না। আর দরুদের মাধ্যমে আখেরি নবী হযরত মুহাম্মাদ (দ.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর সালাম প্রেরণ করা হয়ে থাকে। কারবালায় প্রকৃত ইসলাম ও ভণ্ডামীর পার্থক্য দেখানো মহাবিপ্লবের রূপকার ইমাম হুসাইন (আ.) হচ্ছেন আখেরি নবীর (দ.) মহান বংশধর। খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (সালামুন আলাইহা) ও আমীরুল মুমিনিন হযরত আলীর (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) দ্বিতীয় এই পুত্র হিজরি চতুর্থ সনের ৩ শাবান ভূপৃষ্ঠে আগমন করেন।

আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আবু বকর জাসসাস তাঁর ‘আহকামুল কোরআন’ গ্রন্থে এবং শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী তাঁর ‘রাহাতুল কুলুব’ গ্রন্থে মহানবীর (দ.) আহলে বাইতের সদস্যদের নামের পাশে ‘আলাইহিস সালাম’ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এবং অন্যান্য সাহাবীদের নামের পাশে ‘রাযিআল্লাহু আনহু’ (তাঁর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট) কথাটি ব্যবহার করেছেন। যেভাবে হযরত মারিয়াম (আ.), হযরত লুকমান (আ.) ও ফেরেশতাদের নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা হয়, তাঁরা নবী না হওয়া স্বত্বেও। ইমাম হুসাইন (আ.) হচ্ছেন মহানবীর (দ.) আহলে বাইতের ৫ম সদস্য।

মহান আল্লাহ (সুবাহান ওয়া তা’আলা) পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَٰ

বলুন (হে নবী), আমি তোমাদের থেকে এর (রিসালাত) বিনিময়ে কোনও প্রতিদান চাই না, শুধু আমার নিকটতম স্বজনের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া (সূরা-শুরা, আয়াত ২৩)

তাফসিরে এসেছে, এই আয়াতে কুরবা বা নিকটতম স্বজন বলতে রাসুলের রক্তজ স্বজনের কথা বলা হয়েছে। যা রাসুলের কন্যা ফাতিমা (সা.আ.) ও তাঁর পরিবারকে ইঙ্গিত করে, রাসুলের (দ.) স্ত্রীদের নয়। কেননা, স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক তালাকের মাধ্যমে খতম করা সম্ভব, অন্যদিকে রক্তের সম্পর্ক অস্বীকার করা নাজায়েজ।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন-

আমি মহানবীকে (দ.) জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনার যেসব আত্মীয়কে ভালোবাসা আমাদের জন্যে ওয়াজিব, তাঁরা কারা? মহানবী (দ.) বললেনঃ “তাঁরা হলেন আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন। (ইয়ানাবী-উল-মুয়াদ্দাহ্‌, পৃষ্ঠাঃ ৩১১)

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন-

إنّى تارِكٌ فِيكُمْ الثَقْلَيْنِ کِتَابَ اللهِ و عِتْرَتِی أَهْلَ بَيْتِی إنْ تَمَسَّکْتُمْ بِهِمَا لَنْ تَضِلُّوا أبَداً

আমি তোমাদের জন্য অতি মূল্যবান দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। একটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, আরেকটি হচ্ছে আমার রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়, আমার আহলে বায়েত। তোমরা যদি এ দুটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধর তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।

এ হাদিসটি সামান্য শব্দের তারতম্যভেদে বিভিন্ন বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে- সহিহ মুসলিম, ৭ম খণ্ড, পৃ:-১২২, দারুল যিল, বৈরুত; সহিহ তিরমিযি, ৫ম খণ্ড, পৃ:-৬৬৩, বৈরুত; মুসনাদে আহমাদ, ৩য় খণ্ড, পৃ:-১৪, বৈরুত; কানযুল উম্মাল, ১ম খণ্ড, পৃ:-১৮৭; মুসতাদরাকে হাকেম, ৩য় খণ্ড, পৃ:-১৪৮, বৈরুত।

ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন রাসুলের (দ.) আহলে বায়েত বা নবী পরিবারের সদস্য, যে পরিবার পবিত্র ও পাপমুক্ত। মহান আল্লাহ (সু.ও.তা.) ইরশাদ করেন-

إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا

হে নবীপরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের মধ্য থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সূরা আহযাব, আয়াত ৩৩)

উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা (সা.আ.) বর্ণনা করেন, এই আয়াতটি আমার গৃহে অবতীর্ণ হয়। এই সময় আলী, ফাতিমা, হাসান, হোসাইন এই চারজন আমার গৃহে উপস্থিত ছিলেন। রাসূল (দ.) এই চারজনকে চাদরে জড়িয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহ, এরাই আমার আহলে বায়েত’।

এ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত আছেঃ মহানবী (দ.) যখন উপরিউক্ত চারজনকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করছিলেন, তখন হযরত উম্মে সালামা (সা.আ.) বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমিও কি এই দলের (অর্থাৎ আহলে বায়েতের) অন্তর্ভুক্ত নই?’ এর জবাবে মহানবী (সা.) বলেছিলেন, ‘না, তবে তোমার নিজস্ব বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, তোমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’ (সূত্র : আল্লামা সুয়ূতি প্রণীত ‘তাফসীরে দুররে মানসূর’)

ইমাম হুসাইন (আ.) প্রকৃত মুমিনদের ওপর যে গভীর প্রভাব রাখবেন সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন স্বয়ং বিশ্বনবী (দ.)। তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে হুসাইনের শাহাদতের ব্যাপারে এমন ভালোবাসা আছে যে, তার উত্তাপ কখনো প্রশমিত হয় না। (মুস্তাদরাক আল-ওয়াসাইল, খণ্ড-১০, পৃষ্ঠা-৩১৮)

হুসাইনের (আ.) কান্নায় মহানবী (দ.) বিচলিত ও ব্যথিত হতেন : মহানবীর (দ.) ঘর হযরত ফাতেমার (সা.আ.) ঘরের পাশেই ছিল। একদিন মহানবী (দ.) ঘর থেকে বের হয়ে ফাতেমার (সা.আ.) ঘরের দরজায় আসলেন। মহানবী (দ.) হুসাইনের (আ.) কান্নার শব্দ শুনলেন। রাসূলের (দ.) পক্ষে হযরত ফাতেমার (সা.আ.) ঘর অতিক্রম করা সম্ভব হলো না। তিনি কিছুক্ষণের জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং হযরত ফাতেমার (সা.আ.) ঘরের দরজায় জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। শব্দ শুনে হযরত ফাতেমা (সা.আ.) ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসলেন। বাইরে এসেই তিনি মহানবী (দ.) দেখতে পেলেন। আর ভাবলেন, হয়তোবা মহানবী (দ.) তাঁকে দেখতে এসেছেন। তাই তিনি পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী মহানবীকে (দ.) অভ্যর্থনা জানালেন। মহানবী (দ.) ফাতেমার (সা.আ.) ভক্তিপূর্ণ এ অভ্যর্থনার প্রত্যুত্তরে বললেন,“তুমি কি জানো না, হুসাইনের কান্নায় আমি ব্যথিত হই?” (ফাযায়েলুল খামসাহ্, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ২৫৬; তাবরানী প্রণীত আল-মু’জাম আল-কাবীর গ্রন্থে ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত)

মহানবী (দ.) মিম্বর থেকে নেমে আসেন : একদিন মহানবী (দ.) মসজিদে নববীর মিম্বরে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে উপদেশ ও বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। আর জনগণও একাগ্রতার সাথে তাঁর অমিয় বাণী শ্রবণ করছিল। হঠাৎ করেই মহানবীর (দ.) ভাষণ বন্ধ হয়ে গেল এবং তিনি ব্যথিত মনে মিম্বর থেকে নীচে নেমে আসলেন। তখন সবাই লক্ষ্য করল, শিশু হুসাইন (আ.) মসজিদে আসার সময় পায়ের সাথে কাপড় জড়িয়ে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি যাচ্ছেন আর কান্নাকাটি করছেন। মহানবী তখন হুসাইনকে মাটি থেকে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং নিজের সাথে মিম্বরের ওপর নিয়ে আসলেন।

মহানবী (দ.) সিজদা দীর্ঘায়িত করেন : একদিন মসজিদে নববীতে জামাতে নামায আদায় করার সময় মহানবীর (দ.) পাশেই শিশু ইমাম হুসাইন (আ.) বসেছিলেন। কোনও এক রাকাতে মহানবী (দ.) সিজদা করার জন্য মাটিতে মাথা রাখলেন। আর তিনি এত বেশি সময় ধরে ঐ সিজদায় ছিলেন যে, মুসল্লীরা মনে করলেন সম্ভবত মহানবীর (দ.) কিছু হয়েছে অথবা তাঁর ওপর মহান আল্লাহর তরফ থেকে ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। নামায শেষে মহানবীকে (দ.) এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন,“না,আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়নি। তবে আমার দৌহিত্র (হুসাইন) আমার পিঠের ওপর চড়ে বসেছিল এবং আমি তাকে পিঠ থেকে নামাতে চাচ্ছিলাম না। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল, সে নিজেই পিঠ থেকে নেমে আসুক।” (ইবনে হাজর আল-আসকালানী প্রণীত তাহযিব আত্-তাহযিব, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৪৬; ফাযায়েলে খামসাহ্, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৯৩)

মহানবীর (দ.) কাঁধে হুসাইন (আ.) : মদীনাবাসীরা বহুবার দেখেছে, মহানবী (দ.) তাঁর দুই দৌহিত্রকে দু’কাঁধে বসিয়ে তাঁদের মন খুশী করার জন্য মদীনার অলিতে-গলিতে হাঁটছেন। অনেকে বহুবার চেষ্টা করেও তাঁদের একজনকেও মহানবীর কাঁধ থেকে নামাতে পারেনি। মহানবী কাউকে তা করার অনুমতি দেননি। কোন কোন সাহাবী এ দৃশ্য দেখে ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনকে বলতেন, “কতই না উত্তম বাহনের ওপর তোমরা দু’জন চড়েছো!” মহানবীও ঐ সাহাবীদের উদ্দেশে বলতেন, “আর এ দু’জনও কতই না উত্তম আরোহী!” আর এভাবে মহানবী তাঁর দুই দৌহিত্রের উচ্চমর্যাদা, সম্মান ও তাঁদের দু’জনের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা ও আত্মিক টানের কথা বর্ণনা করতেন।(মানাকিবে খাওয়ারিয্মী, পৃঃ ১১১।)

হুসাইন আমা হতে আমিও হুসাইন হতে : সহিহ মুসলিম ও তিরমিযী শরিফে এসেছে, ইয়ালী বিন মুররাহ্ বলেন, একবার মহানবী (দ.) আমাদেরকে দাওয়াত করলেন এবং আমরা ওই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করার জন্য রওয়ানা হলাম। চলার পথে আমরা একটি ময়দানে এসে উপস্থিত হলাম। সেখানে শিশুরা খেলাধুলা করছিল আর তাদের মধ্যে ইমাম হুসাইনও (আ.) ছিল। শিশুরা আমাদেরকে দেখা মাত্রই আমরা সেখান থেকে না যাওয়া পর্যন্ত খেলাধুলা বন্ধ করে দিল। মহানবী (দ.) আমাদের সামনাসামনি হাঁটছিলেন। তিনি যখন হুসাইনকে (আ.) ঐ শিশুদের মাঝে দেখতে পেলেন তখন তাকে দেখে চুমু না দিয়ে থাকতে পারলেন না। তাঁর সাথে লোকজন থাকা সত্ত্বেও সবাইকে দাঁড় করিয়ে রেখে হুসাইনের (আ.) দিকে গেলেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য হাত বাড়ালেন। কিন্তু হুসাইন এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করতে লাগল। আর এতে মহানবী (দ.) হাসলেন। অবশেষে তিনি হুসাইনকে (আ.) ধরে এক হাত তাঁর চিবুকে ও অন্য হাত তাঁর মাথায় রাখলেন। এরপর তিনি নিজের গাল হুসাইনের (রা.আ.) গালের সাথে মিশিয়ে বললেন,

حسین منی و انا من حسین، احبّ الله من احبّ حسینا. الحسین سبط من الاسباط

হুসাইন আমা হতে আমিও হুসাইন হতে। যে হুসাইনকে ভালোবাসবে আল্লাহ্ও তাকে ভালবাসবেন। হুসাইন সৎ কাজের ক্ষেত্রে যেন নিজেই একটি জাতি। (শেখ সুলায়মান আল-হানাফী আল-কুন্দুযী প্রণীত ইয়ানাবিউল মাওয়াদ্দাহ্, পৃঃ ২৬৪;আল-খাওয়ারিয্মী প্রণীত মাকতালুল হুসাইন, ১ম খণ্ড,পৃঃ ১৪৬; ইবনে আসীর প্রণীত আন্-নিহায়াহ্ ফী গারীবিল হাদীস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৩৪।)

মহানবী থেকে বর্ণিত সিব্ত্ (سبط) শব্দের একাধিক অর্থ করা যেতে পারে :

১। হুসাইন সৎ কাজের ক্ষেত্রে যেন নিজেই একটি জাতি অর্থাৎ একটি গোত্র বা জাতির সমান।(ইবনে আসীর প্রণীত আন্-নিহায়াহ্ ফী গারীবিল হাদীস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৩৪।)

২। সিব্ত্ শব্দের অপর অর্থ বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত বৃক্ষ। আর হুসাইনকে সিব্ত্ বলার অর্থ হচ্ছে,মহানবীর বংশধররা হুসাইনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করবে।

৩। এ হাদীসটির অর্থ এও হতে পারে,উচ্চ সম্মান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে একটি জাতি যেমন সুউচ্চ আসনের অধিকারী এক্ষেত্রে হুসাইনেরও ঠিক এমনি আসন রয়েছে।

৪। এ হাদীসের অর্থ এমনও হতে পারে, একটি জাতি যেমন পুণ্য ও প্রতিদান পেয়ে থাকে ঠিক তেমনিভাবে ইমাম হুসাইনও মহান আল্লাহর কাছে পুণ্য ও প্রতিদান পাবেন।(পারতাভী আয-আযামাতে হুসাইন, পৃঃ ৩৩।)

মহানবী (দ.) হুসাইনকে (আ.) চুমু দিতেন এবং শরীরের ঘ্রাণ নিতেন : মহানবী (দ.) ইমাম হুসাইনকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং স্নেহ করতেন। আর এ ভালোবাসা, স্নেহ ও মমতা প্রকাশ করার জন্য তিনি হুসাইনকে (আ.) চুমো দিতেন এবং এভাবে তিনি আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতেন। মহানবী প্রায়ই হযরত ফাতেমাকে (আ.) বলতেন, আমার দৌহিত্রদ্বয়কে ডেকে আন, আমি তাদেরকে জড়িয়ে ধরে তাদের শরীরের ঘ্রাণ নেব।

কখনও কখনও হুসাইন (আ.) মহানবীর (দ.) কাছে আসতেন। তখন তিনি হযরত আলীকে (কা.) বলতেন, ‘হে আলী, ওকে ধরো এবং আমার কাছে নিয়ে এসো।’ হযরত আলী হুসাইনকে (আ.) ধরে মহানবীর কাছে নিয়ে আসতেন এবং মহানবী (দ.) তাঁকে ধরে চুমো খেতেন।

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগেও মহানবী (দ.) ইমাম ভ্রাতৃদ্বয়কে (আ.) বুকে জড়িয়ে চুমো দিয়েছিলেন এবং তাঁদের শরীরের ঘ্রাণ নিয়েছিলেন। আর এ সময় তাঁর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল।(আল-খাওয়ারিয্মী প্রণীত মাকতালুল হুসাইন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১০২)

মহানবীর (দ.) কোলে শিশু হুসাইন (আ.) : উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত- এক রাতে মহানবীর (দ.) সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হলাম। আমার খুব জরুরী কাজ ছিল তাঁর সাথে। মহানবীর (দ.) কাছে আমার প্রয়োজনের কথা বর্ণনা করলে তিনি আমার আবেদন গ্রহণ করলেন। কথা বলার সময় আমি দেখতে পেলাম, তাঁর দেহের দু’পাশ ফোলা যেন তাতে কিছু আছে। আমি ভাবছিলাম, কখন তিনি তাঁর চাদর খুলে ফেলেন। কিন্তু তিনি চাদর খুললেন না। তাই কথাবার্তা শেষ হলে আমি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করলাম, “হে রাসূলাল্লাহ, আপনার চাদরের নীচে কি লুকিয়ে রেখেছেন? তিনি স্মিত হেসে চাদরটি একটু সরালেন। অমনি আমি দেখতে পেলাম, হাসান ও হুসাইন নানার ঊরুর ওপরে নির্বিঘ্নে শুয়ে আছে যেন তারা শান্তির মাঝে ঘুমিয়ে পড়েছে। মহানবী এমতাবস্থায় বললেন-

هذان ابنای و ابنا ابنتی، اللهم انی احبهما فاحبّهما و احبّ من یحبهما

এরা দু’জন আমার দৌহিত্র এবং আমার কন্যার সন্তান। হে আল্লাহ্, আমি এ দু’জনকে ভালোবাসি। অতএব, তুমি তাদেরকে ভালোবেস যারা এ দু’জনকে ভালোবাসবে। (আল-খাওয়ারিয্মী প্রণীত মাকতালুল হুসাইন,১ম খণ্ড,পৃঃ ৯২।)

নেতা, নেতার সন্তান ও নেতাদের পিতা : হযরত সালমান ফারসি (রাযি.) বর্ণিত, একদিন হুসাইন (আ.) মহানবীর পবিত্র ঊরুর ওপর বসেছিলেন। তিনি তাঁকে চুমু দিচ্ছিলেন এবং তাঁকে বলছিলেন,

انت السیّد ابن السیّد ابو السادة- انت الامام ابن الامام ابو الائمة- انت الحجة ابن الحجة ابو الحجج تسعة من صلبک و تاسعهم قائمهم (حجّ)

তুমি ইমাম, ইমামপুত্র ও ইমামদের পিতা; তুমি মহান আল্লাহর নিদর্শন পুরুষ, নিদর্শন পুরুষের সন্তান এবং নয়জন নিদর্শন পুরুষের পিতা। আর এদের মধ্যে নবম নিদর্শন পুরুষই হচ্ছে ইমাম মাহ্দী। (মানাকিব, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ২২৬; আল-খাওয়ারিয্মী প্রণীত মাকতালুল হুসাইন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৪৬)

আবু আইয়ুব আনসারী (রাযি.) বলেন, একদিন মহানবীর কাছে গেলাম। হাসান ও হুসাইন (আ.) তাঁর বগলের নীচে ছিল এবং খেলা করছিল। মহানবীকে বললাম, আপনি এ দু’জনকে এত ভালবাসেন?” তিনি বললেন,কীভাবে এ দু’জনকে না ভালবেসে থাকতে পারি আর এরাই তো এ পৃথিবীর বুকে আমার সুগন্ধি ফুল! আর আমি এ দু’জনের সুঘ্রাণ নিয়ে থাকি। (উসদুল গাবাহ্, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৮)

হুসাইনের (আ.) তৃষ্ণায় মহানবী (দ.) বিচলিত হয়ে পড়েন : একদিন মহানবী (দ.) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই শিশু হুসাইনের (আ.) কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। মহানবী হযরত ফাতেমার (সা.আ.) দিকে দ্রূত অগ্রসর হয়ে বললেন, ‘আমার দৌহিত্র কাঁদছে কেন?’ তখন হযরত ফাতেমা তাঁকে বললেন, ‘তৃষ্ণার্ত, তাই পানি চাচ্ছে।’ মহানবী (দ.) এ কথা শুনে পানির খোঁজে গেলেন। কিন্তু পানি পেলেন না। তাই তিনি নিজের পবিত্র জিহ্বা হুসাইনের (আ.) মুখের ভেতর রাখলেন এবং কান্না থামালেন। (আল্লামাহ্ ইবনে হাজার আসকালানী প্রণীত তাহযিব আত্-তাহযিব, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৯৮; আল-খাওয়ারিয্মী প্রণীত মাকতালুল হুসাইন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৫২; ফাযায়েলুল খামসাহ্, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৭৯)

ইমাম হুসাইনের (আ.) জন্য মহানবীর (দ.) কান্না : তারিখে ইবনে আসাকির মাকতালে খাওয়ারেযমী, মাজমাউয যাওয়ায়িদসহ আহলে সুন্নাতের অন্যান্য গ্রন্থে আবি সালমা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ

হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (দ.) হুসাইনকে (আ.) তার উরুতে বসিয়েছিলেন। জিবরাঈল (আ.) তার কাছে এসে বললেন, “শীঘ্রই আপনার উম্মত (আপনার পরে) তাকে হত্যা করবে। মহানবীর (দ.) চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত হলো। জিবরাঈল বললেন, যদি আপনি চান তাহলে যে মাটিতে তিনি (ইমাম হুসাইন) শহীদ হবেন, তা আপনাকে দেখাতে পারি। তিনি বললেন, তাই করুন। জিবরাঈল (আ.) তাফ (কারবালা) থেকে মাটি এনে হযরতকে (দ.) দেখালেন ।

মুসতাদরাকে সহীহাইন, তাবাকাতে ইবনে সা’দ, তারিখে ইবনে আসাকিরসহ আহলে সুন্নাতের অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে বর্ণনাকারী বলেনঃ উম্মে সালমা (সা.আ.) আমাকে বলেন যে, এক রাতে মহানবী (দ.) ঘুমানোর জন্য বিছানায় শুলেন এবং (কিছুক্ষণ) পরে বিষন্ন অবস্থায় ঘুম থেকে উঠলেন, পুনরায় ঘুমিয়ে গেলেন ও নীরব হলেন। দ্বিতীয়বার প্রথমবারের চেয়ে আরও বেশী বিষন্ন অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। পুনরায় রক্তিম বর্ণের মাটি হাতে নিয়ে তাতে চুম্বনরত অবস্থায় জেগে উঠলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ মাটি কিসের? তিনি বললেন, জিবরাঈল আমাকে সংবাদ দিল যে, সে (হুসাইন) ইরাকের মাটিতে শহীদ হবে। আমি জিবরাঈলকে বললাম, যে মাটিতে শহীদ হবে তা আমাকে দেখাও। আর এ হলো সেখানকার মাটি।

ইমাম জয়নুল আবেদিন (রা.আ.) ইমাম হুসাইনের (রা.আ.) শাহাদতের স্মরণে ক্রন্দনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: যদি কোনও মুমিন ইমাম হুসাইনের (রা.আ.) শাহাদতের কথা স্মরণ করে ক্রন্দন করে, তাহলে এ ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে তার চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরবে, সেগুলোর প্রতিটি ফোটার জন্য আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবেন এবং সেখানে সে চিরন্তন অবস্থান করবে। (দ্র: সওয়াবুল আমাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৮ এবং মুনতাখাবুল মিযানুল হিকমাহ, পৃ. ২৮)

আউলিয়াদের শ্রদ্ধায় ইমাম হুসাইন (রা.আ.) : সুফি আউলিয়াদের কাছে পাক-পঞ্জাতন (নবী, ফাতিমা, আলী, হাসান, হুসাইন) অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। সকল সুফি আউলিয়া ইমাম হুসাইনের (আ.) উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করে গেছেন। যেমন দেখা যায়, হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি (রহ) গজলে-

“শাহ আস্ত হোসাইন, বাদশাহ্ আস্ত হোসাইন দ্বীন আস্ত হোসাইন, দিন পানাহ আস্ত হোসাইন সার দাদ নাদাদ দাস্তদার দাস্ত এ ইয়াযিদ হাক্কাকে বেনা এ লা ইলাহ আস্ত হোসাইন।”

(আধ্যাত্বিক সম্রাট হোসাইন, বাদশাহ হোসাইন, ধর্ম হোসাইন, ধর্মের আশ্রয়দাতা হোসাইন, মাথা দিলেন, তবু ইয়াযিদের হাতে হাত দিলেন না, সত্য তো এই যে লা-ইলাহার স্তম্ভই হোসাইন)

নাইজেরিয়ায় একসঙ্গে ৪০০ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে প্রায় ৪০০ জন লোক ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি এর কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।

দেশটির হাউসা সংবাদপত্র ‘রারিয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নাইজার রাজ্যের ওরানি এলাকায় চার শতাধিক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে।

এ উপলক্ষ্যে নাইজেরিয়ার মুসলিম নারীদের উদ্যোগে একটি দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তারা ধর্মান্তরিতদের সাহায্যের জন্য মালামার সুলতান সুফিয়ান আহমদের নেতৃত্বে ত্রাণ সহায়তা দিতেও সহযোগিতা করছে বলে খবরে বলা হয়। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।-নাজি ডটকম

ড. জসিম হজে গিয়ে মারা গেলেন , জান্নাতুল মুআল্লায় দাফন

চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ইসলামিক স্কলারসের সদস্য ড. জসিম উদ্দীন নদভী হজে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌদি আরবে মারা গেছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় তিনি মক্কার কিং ফয়সাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে জানাজা শেষে তাকে অসংখ্য সাহাবা কেরামের স্মৃতি ও পুণ্যধন্য জান্নাতুল মুআল্লায় দাফন করা হয়।

স্ত্রী ও মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন। ডায়াবেটিস, জ্বর, কাশি হওয়ার কারণে তিনি কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে তার একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল।

মাত্র ৪৯ দিনেই পবিত্র কুরআনের হাফিজ বাংলাদেশের এই শিশু!

মাত্র ৪৯ দিনেই পবিত্র কুরআনের হাফিজ। তাও আবার ৯ বছরের এক শিশু। এ কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশের এক শিশু। নাম তার রাফসান।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের প্রবাসী বাহার উদ্দিনের ছেলে এই শিশু হাফিজ। শহরের ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিফজ বিভাগের ছাত্র সে।

শনিবার রাতে রাফসানের হিফজ বিভাগের শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, রাফসান দেশের বিস্ময় বালক। ৪৯ দিনে কোরানের ৩০ পারাই মুখস্ত করেছে। তার মেধা সাধারণের চাইতে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরের ২ তারিখে রাফসানকে আল-কুরআনের ৩০ তম পারা মুখস্ত করতে দেই। দিন শেষে রাফসান গড়গড় করে ৩০তম পারাটি মুখস্ত বলে দেয়। এতে অবাক হলেও হয়ত আগে থেকেই পারাটি তার মুখস্ত ছিল ভেবে পরের দিন আবার তাকে প্রথম পারা মুখস্ত করতে দেই।

একইভাবে সে দ্রুত ওই পারাটিও সবক দিয়ে দেয়। এভাবে কুরআনের পাঁচটি পারা কয়েক দিনের মধ্যে মুখস্ত করে দিলে আমরা নিশ্চিত হই যে রাফসান আর সব শিশু থেকে আলাদা। তার মুখস্তবিদ্যা প্রখর। এভাবে প্রতিদিনই এক পারা করে মুখস্ত করে যেতে থাকে ও পেছনের আয়াতগুলো ঝালিয়ে নিতে থাকে রাফসান।

রাফসানের এখন পুরো কুরআন শুনানি চলছে বলে জানান শিক্ষক জামাল উদ্দিন।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাফসানের মা শাহিনা আক্তার ২০১৭ সালে ছেলেকে নুরানি দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি করে। এক বছর রাফসান প্রথম শ্রেণির বই পড়ার সঙ্গে দেখে দেখে কুরআন পড়া শেষ করে। এরপরই ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে তাকে একই বিদ্যালয়ের হিফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ইসলাম হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম: লর্ড বার্নার্ড

ইসলামিক দেশগুলি কতখানি ইসলামিক -এই নিয়ে গবেষণা করেন জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুসেন আসকারী। ইসলাম ধর্মে রাষ্ট্র ও সমাজ চলার যে বিধান দেয়া হয়েছে তা যে দেশগুলি প্রতিদিনের জীবনে মেনে চলে তা খুঁজতে যেয়ে দেখা গেলো, যারা সত্যিকারভাবে ইসলামিক বিধানে চলে তারা কেউ বিশ্বাসী মুসলিম দেশ নয়।

স্টাডিতে দেখা গেছে, সবচেয়ে ইসলামিক বিধান মেনে চলা দেশ হচ্ছে- নিউজিল্যান্ড এবং দ্বিতীয় অবস্থানে লুক্সেমবার্গ। তারপর এসেছে পর্যায়ক্রমে আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ষষ্ঠ ও কানাডা সপ্তম অবস্থানে। মালয়েশিয়া ৩৮তম, কুয়েত ৪৮তম, বাহরাইন ৬৪তম, এবং অবাক করা কাণ্ড, সৌদি আরব ১৩১তম অবস্থানে। গ্লোবাল ইকোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থান সৌদীদেরও নীচে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলমানরা নামাজ, রোজা, সুন্নাহ, কোরআন, হাদিস, হিজাব, দাড়ি, লেবাস নিয়ে অতি সতর্ক। কিন্তু রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ইসলামের আইন মেনে চলে না।মুসলমানরা পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি ধর্মীয় বয়ান, ওয়াজ নসিহত শোনে। কিন্তু কোনও মুসলিম দেশ পৃথিবীর সেরা রাষ্ট্র হতে পারেনি। অথচ গত ষাট বছরে মুসলমানরা অন্তত ৩০০০ বার জুমার খুতবা শুনেছে।

একজন বিধর্মী চাইনিজ ব্যবসায়ী বলেছেন, মুসলমান ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে এসে দুই নম্বর নকল জিনিস বানানোর অর্ডার দিয়ে বলে, অমুক বিখ্যাত কোম্পানির লেবেল লাগাবেন। পরে যখন তাদেরকে বলি, আমাদের সাথে খানা খান, তখন তারা বলেন, হালাল না, তাই খাবো না। তাহলে নকল মাল বিক্রি করা কি হালাল?একজন জাপানি নব্য মুসলিম বলেছেন, আমি পশ্চিমা দেশগুলিতে অমুসলিমদের ইসলামের বিধান পালন করতে দেখি, আর পূর্বের দেশগুলিতে ইসলাম দেখি। কিন্তু কোনও মুসলিম দেখিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আগেই ইসলাম এবং মুসলমানদের পার্থক্য বুঝেই আল্লাহর ধর্ম গ্রহণ করেছি।

ইসলাম ধর্ম শুধু নামাজ-রোজা নয়, এটি একটি জীবন বিধান এবং অন্যের সাথে মোয়ামালাত আর মোয়াশারাতের বিষয়। একজন নামাজ রোজা করা আর কপালে দাগওয়ালা মানুষও আল্লাহর চোখে একজন মোনাফেক হতে পারে।নবী (স) বলেছেন, ‘আসল সর্বহারা আর রিক্ত মানুষ হচ্ছে তারা, যারা কেয়ামতের দিন রোজা, নামাজ, অনেক হজ্জ্ব, দান খয়রাত নিয়ে হাজির হবে। কিন্তু দুর্নীতি করে সম্পদ দখল, অন্যদের হক না দেয়া, মানুষের উপর অত্যাচারের কারণে রিক্ত হস্তে জাহান্নামে যাবে।’

ইসলামের দুটি অংশ। একটি হচ্ছে বিশ্বাসের প্রকাশ্য ঘোষণা যাকে ‘ঈমান’ বলা হয়, আর একটি হচ্ছে বিশ্বাসের অন্তর্গত বিষয় যাকে ‘এহসান’ বলা হয়,– যা ন্যায়গতভাবে সঠিক সামাজিক নিয়ম-কানুন মেনে চলার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। দুটোকে একত্রে প্র্যাকটিস না করলে ইসলাম অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যা প্রতিটি নামে মুসলমান দেশে হচ্ছে।

ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানা যার যার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং এটি আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয়। কিন্তু সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলা একজন বান্দার সাথে অন্য বান্দার মধ্যকার বিষয়। অন্য কথায়, ইসলামিক নীতিমালা যদি মুসলমানরা নিজেদের জীবনে ব্যবহারিক প্রয়োগ না করে, মুসলিম সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ হবে অসম্মানজনক।

লর্ড বার্নার্ড’ শ একবার বলেছিলেন, ‘ইসলাম হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং মুসলমানরা হচ্ছে সর্ব নিকৃষ্ট অনুসারী।

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির পর উদ্বোধনের পথে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

আফ্রিকা মহাদেশের বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র আলজেরিয়ায় উদ্বোধন হতে চলেছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ। ‘আলজেরিয়া গ্রান্ড মসজিদ’ নামের এই মসজিদটি দুই-চার মাসের মধ্যই উদ্বোধন হতে পারে বলে জানিয়েছেন আলজেরিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ ইসা। খবর আনাটোলিয়া’র।

মসজিদটি রাজধানী আলজিয়ার্সের মোহাম্মদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। ২০১২ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া মসজিদটি একটি বৈজ্ঞানিক ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে এতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদটি ২ হাজার বর্গমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং এর মিনারের উচ্চতা প্রায় ২৬৫ মিটার।

এছাড়া মসজিদের ভূগর্ভস্থ তিন তলায় গাড়ি পার্কিংয়ে ব্যবস্থা রয়েছে। ১ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটারের পার্কটিতে ৬ হাজারের বেশি গাড়ি অনায়াসে রাখা যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে আলাদা দুটি হল। একটি ১৬,০০০ বর্গমিটারের ১৫০০ আসন সমৃদ্ধ। অন্যটি ১০০ বর্গমিটার ও ৩০০ আসন বিশিষ্ট।

মসজিদে আগত বইপ্রেমীদের জন্য থাকবে ২১ হাজার ৮০০ বর্গমিটারের সুবিশাল ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। পুরো মসজিদ কমপ্লেক্স প্রকল্প বাস্তাবায়নে খরচ হচ্ছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির পর বিশ্বের সর্ববৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।

আলজেরিয়ার ধর্মমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসা বলেন, মুসল্লিদের সব ধরনের সুবিধাসম্পন্ন করে যাবতীয় নির্মাণকাজ শেষের পথে। খুব দ্রুত এটি উদ্বোধন করতে পারবো বলে আমরা আশা রাখি।

কাবা ঘরের উপর দিয়ে কখনও পাখি ও বিমান উড়ে যায়নি!

কাবা শরীফ এমন একটা জায়গা যার উপর দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও পাখি উড়ে যায়নি। দুনিয়ার কোনও বিমানও তার উপর দিয়ে যেতে পারেনি। কুদরতী দৃষ্টিকোণ থেকেও তার অবস্থান এমনই যে তার উপর চন্দ্র ও সূর্যও অবস্থান করতে পারে না। কোরআন এবং বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, গোটা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু ওই স্থান যেখানে খানায়ে কাবা শরীফ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।

মুসলমানদের কেবলা কাবা শরীফ। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবা ঘর তাওয়াফ করতে মক্কা গমন করেন। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা কাবা ঘর নির্মাণ করেন। কাবা ঘরকে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরান এর ৯৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ ‘

নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।’ (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ৯৬)।

কাবা ঘরটি আল্লাহ তায়ারার আরশে মুয়াল্লামার ছায়াতলে সোজাসুজি বাইতুল মামুর আকৃতি অনুসারে স্থাপন করেন। হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.) উভয়েই আল্লাহ তায়ালার কাছে ইবাদাতের জন্য একটি মসজিদের প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করেন এবং বায়তুল মামুর আকৃতিতে পবিত্র কাবা ঘর স্থাপন করেন। এখানে হজরত আদম (আ.) সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকতেন।

অনেকের মতে মানব সৃষ্টিরও অনেক আগে মহান আল্লাহ তায়ালা কাবাঘর সৃষ্টি করেন। হাফসিরবিদ মাজাহির বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বায়তুল্লাহর স্থানকে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেন। মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে হজরত আবুযর গিফারী হতে বর্ণনা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো মসজিদে হারাম। এরপরের মসজিদ হলো মসজিদে আকসা।

মসজিদে হারাম নির্মাণের ৪০ বছর প র মসজিদে আকসা নির্মিত হয়। হজরত আদম আলাইহিস সালাম কাবা ঘর আল্লাহর আদেশে পুনঃনির্মাণ করেন। এরপর বহুদিন অতিক্রম হলো। শত শত বছর অতিবাহিত হলো আল্লাহর বান্দারা কাবাঘর জিয়ারত করতেন। আল্লাহর কাছে হাজিরা দিত এই কাবা ঘরে সমবেত হয়েই। কাবা ঘরে এসে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও অংশীদার হীনতা ঘোষণা দিত।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক্’-এভাবে চলতে চলতে দিন গত হতে থাকলো। এরপর হজরত শীষ (আ.) কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন। দিন দিন একাত্তবাদের সংখ্যা বাড়তে থাকল। এরপর কাবা শরীফ নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। হজরত ইব্রাহিম (আ.) হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) কাবা ঘর সংস্কার করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে, হে আমার প্রতিপালক আমাদের উভয়কে আজ্ঞাবহ করো আমাদের বংশ থেকে একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর। আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি দয়ালু হে প্রতিপালক তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন পয়গম্বর প্রেরণ করো।

অর্থাৎ ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, তার বংশধরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর আসার মিনতি করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। যিনি তাদের কাছে তোমাদের আয়াত তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং পবিত্র করবেন নিশ্চয়ই তুমি মহাপরাক্রমশালী।

আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর বংশ হতে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী ও রাসূল হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এরপর কয়েকশো বছর গত হলো। পবিত্র কাবা ঘর সংস্কার করলো আমালিকা সম্প্রদায়। তারপর আরো শত বছর কিংবা হাজার হাজার বছর পরে কাবা ঘর সংস্কার করেছিল মক্কার জুলহাস সম্প্রদায়। আরবের অর্থাৎ মক্কায় যে সকল সম্প্রদায়ের প্রতিপত্তি ছিল তাদের দায়িত্ব থাকত কাবা শরীফ রক্ষণাবেক্ষণের। দায়িত্ব পালনকে তারা সম্মানিত ও গর্ভের মনে করত।

শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিবাহিত হলো। কাবা শরীফ ও কাবা ঘর সংস্কার করলেন মুজার সম্প্রদায়। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর আগে কাবাঘর সংস্কার করে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশ। এই কুরাইশ বংশেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। কুরাইশরা কাবা শরীফের সংস্কারে পরে হাজের আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। সকলের সম্মতিক্রমে আল্লাহর রাসূল (সা.) কাবা গৃহে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন। মহানবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) জীবিত অবস্থায় ৯-১০ হিজরিতে কাবা ঘর সংস্কার করেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)।

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭৪ হিজরিতে কাবা শরীফ সংস্কার করেন। সুদীর্ঘ ১৪০০ বছরে কাবা ঘরের কোনো সংস্কার প্রয়োজন হয়নি। শুধুমাত্র কাবা ঘরের চারপাশে অবস্থিত মসজিদে হারামের পরিবর্ধন সংস্কার বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাবা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজপরিবারের।

ভৌগলিক দিক দিয়ে মক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া ও ইউরোপ আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত মক্কা নগরী পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লাহ কাবা ঘর মক্কাতেই স্থাপন করেন। পবিত্র হজ পালন করতে লাখ লাখ মুসলমান মক্কা শরীফে আগমন করেন। জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মূল হজ অনুষ্ঠিত হয়। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহার দিন। ওইদিন কোরবানি দিতে হয়। যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) সালামের স্মৃতি বহন করে চলেছে হাজার হাজার বছর ধর

জমজম কূপ ও ঠিক তেমনি হজরত ইসমাইল (আ.) ও তার মা বিবি হাজেরা (আ.) এর স্মৃতি বহন করে চলেছে। এ জমজম কূপ মহান আল্লাহর কুদরতের অপরূপ ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। হজ মুসলমানদের ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। আরবের মক্কা নগরী পবিত্র কাবাঘর হেফাজতের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই।

একের পর এক মসজিদ ভাঙছে চীন, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সেই ছবি

চীনের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদ ভাঙছে চীন সরকার। সামাজিক কর্মীদের পোস্ট করা স্যাটেলাইট ছবিতে এসব দেখা যায় চীনা সরকার মুসলিম জিনজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ল্যান্ডমার্ক মসজিদের সুসংগতভাবে ধ্বংস করছে। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তথাকথিত ‘পুনর্বাসন শিবিরে’ সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের নির্যাতন নিয়ে বেইজিংয়ের সমালোচনা করছে।

দুজন বিশিষ্ট কর্মীর পোস্ট করা টুইটারে দেখা যায়, জিনজিয়াংয়ের ল্যান্ডমার্কের অনন্ত দুটি মসজিদের চিত্র দেখা যায়, যেখানে মসজিদের আগের চিত্র ও পরের চিত্র দেয়া হয়েছে। এসব ছবি স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত। এতে প্রমাণ হিসেবে ধ্বংসের আগের চিত্রের সঙ্গে পরের চিত্রের তুলনা দেখানো হয়।

ধ্বংসপ্রাপ্ত কেরিয়া আতিকিকা মসজিদ হোটান শহরে অবস্থিত। যেটি ৮০০ বছরের পুরনো। মসজিদটি ১২৩৭ সালে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটিকে ২০১৭ চীনা স্থাপত্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।অনির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, কারগিলিক মসজিদটি ইতিমধ্যেই চীনা সরকার ভেঙে ফেলেছে।

এদিকে গত সেস্টেম্বরে মানবাধিকার সংস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিনজিয়াংয়ে মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর চীনা সরকার পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

প্রতিদিন ৮ কোটি টাকা খরচ করলে বিল গেটসের নিঃস্ব হতে সময় লাগবে ২১৮ বছর!

একজন ধনী ব্যক্তি যদি প্রতিদিন ১ মিলিয়ন ডলার বা ৮ কোটি টাকা খরচ করেন, তাহলে তার নিঃস্ব হতে কত দিন লাগবে? এর জবাব হিসাব-নিকাশ করে তারাই বলতে পারবেন। কিন্তু মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস যদি প্রতিদিন ৮ কোটি টাকা খরচ করেন, তবে তার যাবতীয় অর্ধ ফুরোতে ২১৮ বছর লেগে যাবে।

অক্সফামের এক গবেষণায় এ হিসাব দেওয়া হয়েছে যা গার্ডিয়ানে প্রকাশ করা হয়। তার ৭৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফুরোনোর এমনই হিসাব পাওয়া গেছে।

ওদিকে বিশ্বের আরেক শীর্ষ ধনী মেক্সিকান ব্যবসায়ী কার্সোল স্লিমের সময় লাগবে ২২০ বছর। বিনিয়োগ গুরু এ হারে খরচ করতে থাকলে ১৬৯ বছরে শূন্য হবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
তবে এসব অদ্ভুত হিসাব বিলিয়নেয়ারদের ক্ষেত্রেই করা যায়। আর বিশ্বে বিগত অর্থনৈতিক মন্দার পর বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

অক্সফাম জানায়, ২০০৯ সালে মার্চে ৭৯৩ জন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যাটি ২০১৪ সালের মধ্যে ১৬৪৫ জনে দাঁড়ায়। এই বিলিয়নেয়াররা তাদের মোট অর্থের ৫.৩ শতাংশ পরিমাণ প্রতিদিন ইন্টারেস্ট হিসাবেই পান। এই হারে বিল গেটস প্রতিদিন ১১.৫ মিলিয়ন ডলার কেবল ইন্টারেস্ট থেকেই আয় করেন।

বিলিয়নেয়ারদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো শেষ নেই। বিশ্বের নাম করা ৮৫ জন ধনীর সম্পদের পরিমাণ যত, এই ধরণীর অর্ধেক দরিদ্র মানুষের মোট সম্পদের পরিমাণ তত।