রায়পুরে আজহারীর মাহফিলে দুই যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল !

লক্ষ্মীপুরে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজাহারীর ওয়াজ মাহফিলে দুই যুবক হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
কোরআনকে ভালোবেসে ও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে পবিত্র কালেমা পড়ে তারা নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং কোনো চাপের মুখে না পড়ে তারা ধর্মান্তরিত হতে চাচ্ছেন বলে জানালে মিজানুর রহমান আজহারী তাদেরকে পবিত্র কালেমা পাঠ করান। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রায়পুর হায়দারগঞ্জ আওলাদে রাসুল (সা.) ছাইয়্যেদ তাহের আহমাদ জাবেরী আল মাদানী (রাঃ) পঞ্চম দিন ব্যাপী ৫৫ তম আজিমুশশ্বান ইছালে ছাওয়াব তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এসময় এই দুই যুবক ইসলামের পথে থেকে জীবন যাপন করার জন্য দোয়া করেন মিজানুর রহমান আজাহারী।

মাওলানা আজহারীর কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করার পর তারা বলেন, ইসলাম গ্রহণ করতে আমাদের কেউ বাধ্য করেননি। কোরআনকে ভালোবেসে ও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমরা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান সবচেয়ে জনপ্রিয়তা তাফসির কারক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, যাকে বর্তমান যুবসমাজের আইকন বলা হয়, যার জনপ্রিয়তা শুধু মুসলিম নয় বিভিন্ন ধর্মের লোকেরাও তার ওয়াজ শুনার জন্য মাহফিলে ভিড় জামায়।

ইজতেমার প্রথম পর্বের তারিখ ঘোষণা

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করার লক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে।এ লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা গাজীপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের ডিসি এস.এম. তরিকুল ইসলাম। এতে ইজতেমার আয়োজনে

করণীয় নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে।
আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে ইজতেমা ময়দানের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ইজতেমায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সেবা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ মুসল্লিদের বিভিন্ন সেবা বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।ইজতেমা মাঠের পুরো এলাকাই বাঁশের খুঁটি পোতা হয়েছে। মাঠের পশ্চিম পার্শ্ব থেকে চটের সামিয়ানা

টাঙানো এবং মঞ্চের কাজ শুরু হয়েছে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১২ জানুয়ারি প্রথম পর্ব বা মাওলানা যোবায়ের পন্থীদের পর্ব শেষ হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা বা মাওলানা সা’দ পন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। দুই পর্বেই আখেরি মোনাজাত হবে।এবারের ইজতেমার পুরো ময়দানে ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। থাকবে জেলা প্রশাসনের ৩০টির বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাঠে নিয়োজিত থাকবে বোমা ডিসপোজাল টিম।

ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিজিবি সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে মোতায়েন করা হবে।মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য ৩১টি টয়লেট বিল্ডিংয়ে ৮ হাজার ৩৩১টি টয়লেট থাকবে। ১৭টি গভীর নলকূপ দিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে। তিনটি গ্রিড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ৪টি শক্তিশালী জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হবে। মুসল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদের উপর ৭টি ভাসমান সেতু তৈরি করবে সেনাবাহিনী। মুসল্লিদের জন্য ১০টি বিশেষ ট্রেন চালু করবে এবং সব ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। স্টেশনে তিন স্তরে টিকেট বিক্রি করা হবে। স্টেশনে মুসল্লিদের জন্য আলাদা

অস্থায়ী বিশ্রামাগার ও ১০০টি টয়লেট তৈরি করা হবে।ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ২০টি পথ তৈরি করা হয়েছে। এবার পুরো ইজতেমা ময়দানকে ৮৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এতে ৬৪টি জেলার মুসুল্লিরা খিত্তা অনুসারে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার জন্য ২৩টি খিত্তা এবং ময়মনসিংহ জেলার জন্য দুটি খিত্তা রাখা হয়েছে। বাকি সব জেলা একটি করে খিত্তায় থাকবে।মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মাঠ

সমতল করাসহ মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য ৩১টি টয়লেট বিল্ডিংয়ে ৮ হাজার ৩৩১টি টয়লেট থাকবে। ১৭টি গভীর নলকূপ দিয়ে খাবার ও অজু গোসলের পানি সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, ইজতেমার প্রবেশ পথে এলইডি লাইট বসানোর কাজও দ্রুতগতিতে করা হচ্ছে যাতে করে দেশি বিদেশি মুসল্লিরা সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারেন।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গতবারের মতো এবারো মাওলানা

যোবায়ের অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা আগে হবে এবং চার দিন বিরতি দিয়ে মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমার মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। দুই পর্বেই থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। পুলিশ র‌্যাবসহ কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ইজতেমা মাঠ ও মাঠের বাইরে থাকবে।

মৃ,ত্যুর আগেই দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন ১০ সাহাবি

ইসলামিক পরিভাষা অনুযায়ী, পার্থিব জীবনে যে সকল মুসলিম আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে এবং পরকালীন হিসাবে যার পাপের চেয়ে পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে তারাই জান্নাতে যাবে।ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠায় নবী রাসুলগণের পর যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি এবং যাদের পথ সবচেয়ে অনুসরণীয় তারা হলেন আল্লাহর রাসূল (সা)-এর সাহাবিগণ।এবার আসুন জেনে নিই, মৃ**ত্যুর আগেই দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন যে ১০ সাহাবি

১. হযরত আবু বকর রা.। তার আসল নাম আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আমর। তাঁর উপাধি আতীক, সিদ্দীক। তার মায়ের নাম উম্মুল খায়র। পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।তার হাতে হযরত উসমান বিন আফফান, হযরত যুবাইর, হযরত তালহা, হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ প্রমুখ বড় বড় সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসূলে কারীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের সাথী। ইসলামের প্রথম খলীফা। ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

২. উমর বিন খাত্তাব রা. বিন নুফাইল বিন আবদুল উযযা। ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীনের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম আমীরুল মুমিনীন খেতাবে ভূষিত হন।তার খেলাফতকাল ছিল দশ বছর ছয় মাস চার দিন। আল্লাহ তা’আলা তার দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন।

৩. হযরত উসমান রা. বিন আফফান বিন আবিল আস। ইসলামের তৃতীয় খলীফা। তাঁর খেলাফতকাল এগার বছর এগার মাস কয়েক দিন।

৪. হযরত আলী রা. বিন আবু তালিব বিন আবদুল মুত্তালিব। সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাবুক ছাড়া সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলামের চতুর্থ খলীফা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা।

৫. হযরত তলহা রা. বিন উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন উমর। উহুদ যুদ্ধে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অত্যন্ত মজবুতভাবে অবস্তান নিয়েছিলেন।চব্বিশ স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রেখেছিলেন তলহাতুল খায়র। তিনি জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।

৬. হযরত যুবাইর রা. বিন আওয়াম বিন খুয়াইলিদ। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাহে তরবারী চালিয়েছিলেন। তার আকৃতিতে ফেরেশতাগণ বদর যুদ্ধে অবতরণ করেছিলেন। তিনি জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।

৭. হযরত আবদুর রহমান রা. বিন আউফ বিন আবদুল হারিছ। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

৮. হযরত সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা.। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাহে তীর নিক্ষেপ করেন। উহুদ যুদ্ধে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন,তোমার উপর আমার মা, বাবা কোরবান হোক, তীর নিক্ষেপ কর। তিনি সকল যুদ্ধে শরীক হয়েছেন।

৯. হযরত সাঈদ বিন যায়েদ ইবনে উমর বিন নুফাইল। বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১০. হযরত আবু উবাইদাহ আমের বিন আবদুল্লাহ বিন জাররাহ। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণকরেন। তিনিই উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোয়ালে বিঁধে যাওয়া লৌহবর্ম দাঁত দিয়ে বের করেছিলেন। তখন তার সামনের দুই দাঁত পড়ে গিয়েছিল।

মহানবী (সা.) মধু খুব পছন্দ করতেন, মধু খাওয়ার উপকারিতা

সাধারণভাবে বলা যায়- মধু হলো লাখ লাখ মৌমাছির অক্লান্ত শ্রম আর সেবাব্রতী জীবনের দান। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে ফুলের রেণু ওমিষ্টি রস সংগ্রহ করে পাকস্থলীতে রাখে। তারপর সেখানে মৌমাছির মুখ নিঃসৃত লালা মিশ্রিত হয়ে রাসায়নিক জটিল বিক্রিয়ায় মধু তৈরি হয়। এরপর মুখ হতে

মৌচাকের প্রকোষ্ঠে জমা করা হয়।কোরআনে মধুর কথা : আরবি পরিভাষায় মধুপোকা বা মৌমাছিকে নাহল বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা বিদ্যমান আছে।সূরা নাহল এর আয়াত ৬৯-এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- “ইয়াখরুজু মিমবুতুনিহা শারাবুম মুখতা লিফুন আল্ওয়া নহু ফীহি শিফাউল লিন্নাসি।”অর্থ : তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। মধু হচ্ছে ওষুধ এবং খাদ্য উভয়ই। মধুকে বলা হয়- বিররে এলাহি ও তিব্বে নব্বী।অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করীম (সা.)- এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সূরা মুহাম্মদ- এর ১৫ আয়াতে আল্লাহ

তায়ালার এরশাদ হচ্ছে- “জান্নাতে স্বচ্ছ মধুর নহর প্রবাহিত হবে।”খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতার কারণে মধুর রঙ বিভিন্ন হয়ে থাকে। এ কারণেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ফল-ফুলের প্রাচুর্য থাকলে সেই এলাকার মধুতে তার প্রভাব ও স্বাদ অবশ্যই পরিলক্ষিত হয়। মধু সাধারণত তরল আকারে থাকে তাই একে পানীয় বলা হয়। মধু যেমন বলকারক খাদ্য এবং রসনার জন্য আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক, তেমনি রোগ ব্যাধির জন্যও ফলদায়ক ব্যবস্থাপত্র।কেন হবে না, স্রষ্টার ভ্রাম্যমাণ মেশিন সর্বপ্রকার ফল-ফুল থেকে বলকারক রস ও পবিত্র নির্যাস বের করে সুরক্ষিত গৃহে সঞ্চিত রাখে। মধুর আরো একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য

এই যে, নিজেও নষ্ট হয় না এবং অন্যান্য বস্তুকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত নষ্ট হতে দেয় না। এ কারণেই হাজারো বছর ধরে চিকিৎসকরা একে অ্যালকোহল এর স্থলে ব্যবহার করে আসছেন। মধু বিরেচক এবং পেট থেকে দূষিত পদার্থ অপসারক।রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর কাছে কোন এক সাহাবি তার ভাইয়ের অসুখের বিবরণ দিলে তিনি তাকে মধু পান করানোর পরামর্শ দেন। দ্বিতীয় দিনও এসে আবার সাহাবি বললেন- অসুখ পূর্ববৎ বহাল রয়েছে। তিনি আবারো একই পরামর্শ দিলেন। তৃতীয় দিনও যখন সংবাদ এল যে, অসুখের কোন পার্থক্য হয়নি, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন- আল্লাহর উক্তি নিঃসন্দেহে সত্য, তোমার ভাইয়ের

পেট মিথ্যাবাদী। উদ্দেশ্য এই যে, ওষুধের কোনো দোষ নেই। রোগীর বিশেষ মেজাজের কারণে ওষুধ দ্রুত কাজ করেনি। এর পর রোগীকে আবার মধু পান করানো হয় এবং সে সুস্থ হয়ে উঠে।মধুর নিরাময় শক্তি বিরাট ও সতন্ত্র ধরনের। কিছু সংখ্যক আল্লাহওয়ালা বুজর্গ ব্যক্তি এমনও রয়েছেন, যারা মধু সর্বরোগের প্রতিষেধক হওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ। তারা ফোড়া ও চোখের চিকিৎসাও মধুর মাধ্যমে করেন। দেহের অন্যান্য রোগেরও চিকিৎসা মধুর দ্বারা করেন। হজরত ইবনে ওমর (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তার শরীরে ফোঁড়া বের হলেও তিনি তাতে মধুর প্রলেপ দিয়ে চিকিৎসা করতেন। এর কারণ

জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন- আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কি বলেননি যে, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। -(কুরতুবী)হাদিস শরিফে মধুর গুণাগুণ : পবিত্র হাদিস শরিফে মধু সম্পর্কে প্রচুর রেওয়ায়েত আছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর মতে সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ঠ।তিনি বলেন- মধু এবং কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেয়া উচিত। -(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম)হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন যে, “রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ভোরে মধু চেটে খায় তার কোন বড় বিপদ হতে পারে না।” -(ইবনে মাজাহ, বয়হাকী)

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। যারা নিয়মিতভাবে মধুর শরবত পান করতে না পারবে তাদের জন্য তিনি বলেন- যে ব্যক্তি মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে সেবন করবে, ওই মাসে তার কোন কঠিন রোগব্যাধি হবে না।রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে কেহ আরোগ্য কামনা করে, তার ভোরের নাশতা হিসাবে পানি মিশ্রিত মধু পান করা উচিত।রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন- আল্লাহর শপথ যে ঘরে মধু আছে অবশ্যই ফেরেস্তারা সে ঘরের অধিবাসীদের মাগফেরাত কামনা করেন। কোন ব্যক্তি যদি মধুপান করে তবে যেন তার পেটে লক্ষ ওষুধ স্থির হলো এবং পেট হতে লাখ

রোগ বের হয়ে গেল। আর যদি সে পেটে মধু ধারণ অবস্থায় মারা যায় তবে তাকে দোজখের আগুন স্পর্শ করে না। -(নেয়ামুল কোরআন)হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে হুজুর পাক (সা.) বলেছেন, তোমরা দুটি সেফা দানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নাও। একটি মধু অপরটি কুরআন। -(মিশকাত)মধু ৯৯ প্রকার রোগের প্রতিষেধক। কারণ, মধু রোগব্যাধি শেফা দানে এক অব্যর্থ মহৌষধ। আর কোরআন দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার গ্যারান্টি। এ দুটির দ্বারা বহু শতাব্দী ধরে মানুষ অশেষ উপকৃত হয়ে আসছে। আমাদের প্রিয় নবী হুজুর পাক (সা.) মধু খেতে বড়ই ভালো বাসতেন।রোগ

নিরাময়ে মধুর গুণাগুণ: রোগ নিরাময়ের জন্য মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম্নে কয়েকটি রোগের চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে : চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রেগের উপশম হয় (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)।দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়। তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়। সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল,

মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গা ভালো হয়। খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়।২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি দূর হয়। হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর বৃদ্ধি পায়।অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে। এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা
চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।আমাশয়ে মধু : রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, তৈলাক্ত পায়খানা এবং সঙ্গে

পেট কামড়ানি থাকলে তাকে আমাশয় বলে। মধু দিয়ে কিভাবে আমাশয় রোগ নিরাময় করা যায় তা তুলে ধরছি-কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া (বাকল) বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়। কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।
৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বালাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে ৩/৪ দিন নিয়মিত খেলে সব ধরনের আমাশয় ভালো হয়ে যায়।অন্যান্য রোগে মধু : শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষ*ততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর ক্ষত সারে। মৌরির পানিতে

মধু মিশিয়ে পান করলে দূষিত বায়ু পেট থেকে বেরিয়ে যায়। যারা খুব মোটা হচ্ছেন তাদের মেদ কমানোর জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়।দুর্বল শিশুকে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে। এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে শক্তি বৃদ্ধি পায়। মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়। চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে

নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে।আমাশয় ও পাতলা পায়খানা থাকলে গরম পানিতে আড়াই চা-চামচ মধু মিলিয়ে শরবত বানিয়ে বারবার সেবন করতে হবে। যক্ষ্মা রোগে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রামমধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।রাসূল (সা.)

বলেছেন, মধু হৃদপি-কে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না। জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেন,উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপি- শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া মধু আয়ুও বৃদ্ধি করে।ডায়রিয়াতে রাসূল (সা.) মধু খাওয়ানোর কথা বলছেন। ডায়রিয়া হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো

হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।মধু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা: মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ নামক দুই ধরনের সুগার থাকে। অবশ্য সুক্রোজ ও মালটোজও খুব অল্প পরিমাণে আছে। মধু নির্ভেজাল খাদ্য। এর শর্করার ঘনত্ব এত বেশি যে, এর মধ্যে কোনো জীবাণু ১ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচতে পারে না। এতে ভিটামিন এ, বি, সি প্রচুর পরিমাণ বিদ্যমান। অনেক প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও আছে।যেমন- এনজাইম বা উৎসেচক, খনিজ পদার্থ (যথা পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ), এছাড়াও প্রোটিন আছে।মধুতে

কোনো কোলস্টেরল নেই। সুস্থ অসুস্থ যে কেউ মধু খেতে পারেন। সুস্থ মানুষ দিনে দুচা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি খেতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাদ্য ভাত, রুটি,আলু কমিয়ে খেতে হবে। অন্যথা মোটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণ খেলে মোটা হওয়ার ভয় নেই। হজমের গোলমাল, হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস প্রভৃতিরোগে আধা চা-চামচ এর বেশি মধু না খাওয়াই ভালো। পোড়া, ক্ষত ও সংক্রমণের জায়গায় মধু লাগালে দ্রুত সেরে যায়।

কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে

১. এই কিতাব আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে অন্ধকার থেকে বের করে আলোকে আনতে পারো। বের করে আনতে পারো তাঁর পথে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত। [সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ১ (দ্বিতীয় পর্ব)]তাফসির : এ আয়াতের মূল কথা হলো, কোরআন আলোকময় গ্রন্থ। এই কোরআন মানুষকে আলোকিত করে। এটি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে।‘অন্ধকারের যাত্রী’ ও

‘আলোকের যাত্রী’ বলে সমাজভাবুকদের একটি বিশেষ পরিভাষা আছে। কেউ কেউ মনে করে, ধর্মপ্রবণতা,ধর্মপরায়ণতা ও ধর্মভীরুতা হলো ‘অন্ধকারের পথে যাত্রা’। এর বিপরীতে যুক্তিবাদিতা, ধর্মবিযুক্ততা ও বস্তুবাদিতা হলো ‘আলোকের পথে যাত্রা’।কিন্তু কোরআন বলছে, ঈমান হলো আলোকের পথে যাত্রা। খাঁটি ঈমানদারই প্রকৃত আলোকিত মানুষ। পবিত্র কোরআন প্রকৃত আলোকিত গ্রন্থ। এই কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে। যারা বিশ্বাসী মানুষ, তারাই আলোকিত মানুষ।ঈমানের আলোয় তাদের অন্তর আলোকিত। চির আলোকময় জান্নাতে তাদের বসবাস হবে। আর যারা অবিশ্বাসী,

তারাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাদের অন্তর কুফর ও শিরকের আঁধারে ভরপুর। সব সময় তারা পাপ সাগরে নিমজ্জিত থাকে। চির অন্ধকারময় জাহান্নামে তাদের ঠিকানা হবে।কোরআন নিজেই আলোর আধার। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘…. আল্লাহর কাছ থেকে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের কাছে এসে গেছে।যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এটা দিয়ে তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ ইচ্ছায় অন্ধকার থেকে বের করে আলোকে নিয়ে আসেন। আর তাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১৫-১৬)কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো

আলোকিত মানুষ তৈরি করা। এ কথা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে।এক আয়াতে এসেছে, ‘তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন, তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোকে আনার জন্য। আল্লাহ তো তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ৯)তবে এই কোরআন পাঠ করে তাদের পক্ষেই আলোকিত মানুষ হওয়া সম্ভব, মহান আল্লাহ যাদের তাওফিক দান করেছেন।ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোকে নিয়ে যান।আর যারা কুফরি করে, তাগুত তাদের অভিভাবক। এরা তাদের আলো থেকে

অন্ধকারে নিয়ে যায়। এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৭)আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) সুরা বাকারার এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এ আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন,তাঁর সন্তুষ্টি-সন্ধানীদের তিনি শান্তির পথ দেখান। তিনি বিশ্বাসী বান্দাদের অবিশ্বাস, সন্দেহ ও দ্বিধা-সংকোচ থেকে বের করে সত্যের উজ্জ্বল পথে নিয়ে যান।পক্ষান্তরে অবিশ্বাসীদের অভিভাবক হলো শয়তানেরা, যারা মানুষের মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতাকে শোভনীয় করে দেখায়। এর মাধ্যমে তারা তাদের সত্যের পথ থেকে বের করে অবিশ্বাস ও সন্দেহের দিকে নিয়ে যায়।

(ইবনে কাসির)আল্লামা ওহাবা জুহাইলি (রহ.) আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এ আয়াতে ‘আলো’ বোঝাতে একবচন এবং ‘অন্ধকার’ বোঝাতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।এর কারণ হলো, ঈমান ও হেদায়েতের পথ এক ও অভিন্ন। কিন্তু কুফর ও অজ্ঞতার পথ হাজারো। তাই ‘আলো’ বোঝাতে একবচন এবং ‘অন্ধকার’ বোঝাতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। (আততাফসিরুল মুনির : ১৩/২২১)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মিজানুর রহমান আজহারীর হাত ধরে হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করলেন কলেজছাত্র !!

মুসলমানদের আচার-ব্যবহার, ধর্মীয় রীতিনীতি ও সংস্কৃতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে সনাতন ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন চুয়াডাঙ্গার এক কলেজছাত্র। গতকাল সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসার ১৩তম ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে কালেমা পড়ে তিনি মুসলমান হন।

এদিন মাহফিলের আলোচনা শেষে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে পবিত্র কালেমা পড়েন রনি কুমার দাস। জনপ্রিয় ও আলোচিত ইসলামি বক্তা শায়খ মিজানুর রহমান আজহারী তাকে পবিত্র কালেমা পাঠ করান। পরে তার নাম রাখা হয়েছে আব্দুর রহমান। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে। তার বাবার নাম খোকা কুমার দাস। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির দর্শন বিভাগের ছাত্র।

এসময় লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে আব্দুর রহমান জানান, ইউটিউবে ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের ছায়াতলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কালেমা পড়ার আগে আব্দুর রহমান আরও বলেন, মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পর থেকে প্রতিটা মানুষেরই উচিৎ সঠিক পথে চলা। আমি এতদিন অনেক ধর্ম দেখেছি, বিভিন্ন বই পড়েছি। তবে আমার সব থেকে ভালো
লেগেছে মহাগ্রন্থ কোরআন শরীফ, যার ভুল আজও পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী ধরতে পারেননি।

“আমি ভেবেছিলাম লেখাপড়া করে আগে নিজে প্রতিষ্ঠিত হবো, তারপর মুসলিম হবো কিন্তু পরে ভাবলাম তার আগে যদি আমার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে তো মুসলিম হয়ে মরতে পারব না।এ জন্য আজকেই শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করতে চলে এসেছি।” পরে তিনি জানান খুব শিগগিরই আদালতে গিয়ে এফিডেভিট করে ধর্মান্তরিত হবেন। এসময় সদ্য মুসলিম হওয়া নবমুসলিমকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী

সন্তান বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকসহ উপস্থিত শত শত মানুষ। পরে তাৎক্ষণিক আব্দুর রহমানকে আর্থিক সহায়তাও করেন অনেকে।

মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণায় মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সুখী মানুষ

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে গবেষণায় ওঠে এসেছে মুসলিমদের নাম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডেইলি মেইলের তথ্য মতে জানা যায়,সুখী মানুষ হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে মুসলিমরা। এরপর যথাক্রমে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দুরা।আর যারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না তথা নাস্তিকরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষ।পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ নির্ণয়ের এ গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডেইলি

মেইলের বরাতে জানা যায়,জার্মানির ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সুখী মানুষের চিত্র তুলে ধরতে ৬৭হাজার ৫৬২ জন মানুষের ওপর জরিপ চালায়। আর এ জরিপের আলোকে মুসলিমরাই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।গবেষণা প্রতিবেদনে সুখী হওয়ার উপায় সম্পর্কে বলা হয়, ‘মুসলমানদের এক আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসই তাদেরকে কোনো হতাশা ও উদ্বেগ স্পর্শ করতে পারে না। আবার মুসলিমরাই মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি সহনশীল। কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনাও হলো মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়া। আর এসব কারণে মুসলিমদের মধ্যে আ**ত্মহ**ত্যা, হ*তা*শা ও উদ্বেগ প্রবণতা

অন্যদের তুলনায় অনেক কম।এ গবেষণার ফলাফল ও জরিপে নেতৃত্ব দেন জার্মানির ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট ড. লরা ম্যারি এডিনগার-স্কন্স। গবেষণা একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে যে, মানুষের সন্তুষ্টি ও আত্ম-তৃপ্তির সঙ্গে একত্ববাদের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একত্ববাদ মানুষকে উদার, মানবিক ও ত্যাগী হতে উদ্বুদ্ধ করে।আর মুসলিমদের মধ্যে ধর্মের প্রভাব সবচেয়ে বেশি কার্যকর। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ ভয়ই মানুষকে জবাবদিহিতার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। তাই মুসলমানরা সাধারণত অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকে।আর এটিই তাদেরকে বিশ্বব্যাপী সুখী

মানুষ হতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে পিও গবেষণা কেন্দ্রের এক তথ্যেও ধর্মের প্রতি আন্তরিক সুসম্পর্ক ও সহনশীলতায় মানুষের সুখী হওয়ার বিষয়টি ওঠে আসে।প্রকৃত অর্থেই ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সুখ ও শান্তি রয়েছে একত্ববাদে বিশ্বাসী ধর্ম ইসলামে।

গ্রামের সব পরিবার মিলে ‘খ্রিস্টান’ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ইসলাম ধর্ম হল শান্তির ধর্ম। তাওহিদের স্বীকৃতি দিয়ে আল্লাহ্‌র প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে নতি স্বীকার করা, শিরক ও শিরককারীদের থেকে মুক্ত থাকা। যুগে যুগে অনেকেই ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন
ফিলিপাইনের একটি গ্রামের সবাই।জানা যায়, ফিলিপাইনের একটি গ্রামে প্রায় ২৫০ জন বসবাস করে। নভেম্বরের ১১ তারিখ তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে

জানায় একাডেমিটি। মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলে পুরো গ্রামের মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়।তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একসঙ্গে অনেক লোক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে শাহাদাত আঙ্গুল উঁচিয়ে কালিমা পড়ে মুসলমান হচ্ছে। সমস্বরে কালিমা পড়ছে।আইইআরএ জানিয়েছে, তাদের দায়িরা ফিলিপিন্স প্রদেশ সেবুতে বানতান দ্বীপের মদিনা মসজিদে গেলে, তাদের দাওয়াতে একজন ইসলাম গ্রহণ

করে। তার রাখা হয় আবু বকর।পরে আইইআরএ দলটি তখন বান্টায়ান দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে যায়, ও দাওয়াতের কাজ করে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে দেখা করে তাদের ইসলাম সম্পর্কে বুঝায়।সেখানের একটি গ্রামে পৌঁছে, ইসলামের বাণী শোনানো ও দাওয়াত দেয়ার পর তারা সেখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত প্রায় আড়াইশ জন খ্রিস্টান একত্রে ইসলাম গ্রহন করেন।

বাবা-মায়ের সেবা করলে কবুল হজের সওয়াব পাওয়া যায়!

আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবানদের ওপর হজ অবশ্য পালনীয় একটি বিধান। হজ ইসলামি শরিয়তের অন্যতম একটি স্তম্ভ ও রুকন।প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিকহাদিসে আমাদের হজের গুরুত্ব, সওয়াব ও উপকারিতা বুঝিয়েছেন।সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, ‘জান্নাতই হচ্ছে মকবুল হজের একমাত্র প্রতিদান।’ (সহিহ বোখারি: ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম: ৪৩৭)তবে যাদের হজ অথবা ওমরায় যাওয়ার সামর্থ্য ও

সক্ষমতা নেই, তাদের জন্যও দয়াবান আল্লাহ এমন কিছু পথ বের করে দিয়েছেন; যেগুলো দ্বারা দুর্বল বান্দারা মকবুল হজের সওয়াব পেয়ে যেতে পারে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সেসব রকমারি পথ বা আমল বাতলিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন হাদিসে। সেসব হাদিসের কোনোটা সহিহ বোখারি,সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিজি কিংবা অন্য কোনো হাদিসগ্রন্থে অকাট্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।আবার কোনোটা ওই মানের না হলেও জয়িফ কিংবা মওজু নয়, পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেগুলোকে হাসান বলা হয়। অতএব আমরা যদি বিশ্বাস এবং সওয়াবের দৃঢ় আশ্বাস নিয়ে এসব আমল করতে পারি,

তবে ইনশাআল্লাহ অনেক বিরাট প্রতিদানের অধিকারী হতে পারবো। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, মাতা-পিতার সেবা এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার
করা। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই।’নবীজি প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল,

আমার মা জীবিত। প্রত্যুত্তরে নবীজি বললেন, তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট জিহাদে যেতে না পারার অপারগতা বা ওজর পেশ কর। এভাবে যদি
করতে পার এবংতোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ্জ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ: ১৩৩৯৯)

পুরো কুরআন হাতে লিখলেন বরিশালের হুমায়ুন

সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র কুরআন হাতে লেখার খবর পাওয়া যায়। এবার বাংলাদেশের এক প্রতিভাবান তরুণ হুমায়ুন কবির সুমন হাতে লিখেছেন পুরো পবিত্র কুরআন।মাদ্রাসায় না পড়েও প্রবল ইচ্ছা শক্তির জোরেই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের হুমায়ুন কবির সুমন আরবি শিখে ৩

বছরে পুরো কুরআন হাতে লিখেছেন।১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পর হুমায়ুন কুরআনুল কারিম লেখার উদ্দেশ্যে আরবি লেখা শেখেন। অতঃপর ২০০৭ সালে পবিত্র কুরআন হাতে লেখা শুরু করেন। ৩ বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে পুরো কুরআন লেখা সম্পন্ন করেন হুমায়ুন।সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় আরবি লেখা শিখে কুরআন লেখা এবং পৃষ্ঠা বিন্যাস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যালিওগ্রাফিও ব্যবহার করেছেন তিনি। বরিশালের তরুণ প্রতিভা হুমায়ুন বিশ্বের সবচেয়ে বড়

হাতে লেখা কুরআনে পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে চান তিনি।হুমায়ুন কবির সুমন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের মো. রজব আলী শিকদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার গাউছিয়া মার্কেটের একটি শোরুমের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।