হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েও লক্ষাধিক মানুষকে মুসলিম বানিয়েছেন তিনি !

হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়ে জীবনের ৪৭টি বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই উদ্যোগী হয়েছেন দ্বীনপ্রচারে। তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।

আলোচিত ওই ব্যক্তি হলেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের দ্বীন মোহাম্মদ শেখ।১৯৪২ সালে একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়া দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৮৯ সালে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসেন।জন্মগতভাবে ইসলাম সম্পর্কে ছিল তার ব্যাপক আগ্রহ। ইসলামের প্রতি এমন অনুরাগ দেখে তার মা ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। মায়ের বিশ্বাস ছিল, বিয়ে করে ফেললে অন্য ধর্মের প্রতি তার টান কমে আসবে।

কিন্তু বিয়ের পরও ইসলাম সম্পর্কে তার কৌতুহল একটুও কমেনি। তাই ইসলাম সম্পর্কে জানতে মোহাম্মদ জাগসি নামে এক মুসলিম শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দ্বীন মোহাম্মদ। মোহাম্মদ জাগসির কাছেই নিয়মিত পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের বাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন তিনি।ভাগ্যক্রমে দ্বীন মোহাম্মদ শেখের চাচাও একই মানসিকতার লোক ছিলেন। তারা দু’জন এই মর্মে একমত হলেন যে, তারা একে অপরকে সব কাজে সহায়তা করবেন। অতঃপর তিনি তার মেয়েদের বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন দ্বীন মোহাম্মদ। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দ্বীন মোহাম্মাদের দাওয়াতে ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।দ্বীন মোহাম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামে মসজিদের সভাপতি। তিনি অসহায় ইসলাম গ্রহণকারীদের আবাসনের জন্য প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন। যারা সেখানে বসবাস করছে।

ইসলাম গ্রহণের পর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, আমি ইসলামকে ভালোবাসি। ইসলাম গ্রহণ করার আগে পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করতে শুরু করি। কোরআন পড়ার পর বুঝতে পারি ৩৬০ দেবতার পূজা করে আসলেও কোনোদিন আমার কোনো উপকার হয়নি।
ইসলাম প্রচারের জন্য একটি মিশনারী সংস্থা খুলেছেন দ্বীন মোহাম্মদ শেখ। শুরুতে পরিবার থেকেই ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। পরিবারের শক্তিশালী সমর্থনই ইসলামের প্রচার কাজে তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখের ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার বাড়ির মসজিদে নও মুসলিম শিশু কিশোর নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে নামাজ ও পবিত্র কোরআন শেখার ব্যবস্থা।নারী শিক্ষকদের দিয়ে নারীদের কোরআন শেখারও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। সেখানে ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কোরআন ও নামাজ শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি।

এই বছর সব থেকে বয়স্ক ১৩০ বছর বয়সের হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছালেন ! স্বাগত জানালো ….

১৩০ বছর বয়সী ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক বার্ষিক হজ করার জন্য আজ বুধবার সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)স্বাগত জানিয়েছে, ওহি এইড্রোস সামরি মক্কায় হজ্ব করতে কিং আবদুলাজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাম্রি, তাঁর পরিবারের সাথে ছয় সদস্য রয়েছেন, এই বছর হজ পালনের জন্য বাদশাহ সালমান হজ ও ওমরাহ অতিথি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে, ।এসপিএর সাথে সাক্ষাত্কারে, ওহি এবং তার পরিবারের সদস্যরা হজযাত্রীদের জন্য যে সমস্ত যত্ন ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে, সেখানকার সুবিধাগুলি ও পরিষেবাদির প্রশংসা করে দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক, রাজা সালমান বিন আব্দুলাজিজ আল সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্সের প্রতি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সৌদি আরবের কিংডমে আসার প্রথম মুহূর্ত থেকেই তাদের সকল প্রয়জনীয় ব্যবস্থা সরবরাহ করে।

পূর্বে হজ করার ক্ষেত্রে রেকর্ট করা বয়স্ক ব্যক্তি হলেন ১০৪ বছর বয়সী আইবু মেরিয়া মারঘাণী মুহাম্মদ, তিনি ও ইন্দোনেশীয় ছিলেন। তিনি হজ করেছিলেন ২০১৭ সালে। জাকার্তা পোস্ট অনুসারে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা ২২০,০০০ হজযাত্রীর মধ্যে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক ১৩০ বছর বয়সের হজ পালনকারী ।

সৌদি আরবে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃ*ত্যু !

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কা নগরীতে আরও দুই বাংলাদেশি মা*রা গেছেন।নি*হতরা হলেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার মো. গোলাম মোস্তফা তালুকদার (৬২) (পাসপোর্ট নম্বর-বিডব্লিউ ০২৬৩৯৭২) এবং বাগেরহাট জেলার নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা আবদুল মালেক শেখ (৭৪) (পাসপোর্ট নম্বর-বিএক্স ০৮৪৫১৮৪)।

রোববার (২৮ জুলাই) দুই হজযাত্রীর মৃ**ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মক্কার বাংলাদেশ হজ কার্যালয়।এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসে মক্কায় ১৭ জন, মদিনায় দুজন, জেদ্দায় একজনসহ মোট ১৯ বাংলাদেশি মা*রা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও নারী দুজন।

সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২৭২টি ফ্লাইটে মোট ৯৭ হাজার ৩১২ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাবা আবদুল্লাহর এ ঘরেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন !

বিশ্ব মুসলমানদের হৃদয়ের তীর্থস্থান মসজিদুল হারাম থেকে সামান্য দূরেই রাসুল (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর ঘর অবস্থিত। সেটি ‘শিআবে আলী’র প্রবেশমুখে অবস্থিত। বনি হাশেম গোত্র যেখানে বাস করত সেটিই ‘শিআবে আলী’ হিসেবে তখন পরিচিত ছিল। আর বাবা আবদুল্লাহর এ ঘরেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসুল (সা.) এ ঘরেই বসবাস করতেন বলে জানা যায়। যদিও এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমাণ নেই।তবুও মক্কা নগরীতে এটি রাসুল (সা.)-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। ওসমানি শাসনামলে এ বাড়িটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হত।
বর্তমানে রাসুল (সা.)-এর জন্মস্থানে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। সৌদির বিখ্যাত শায়খ আব্বাস কাত্তান ১৩৭১ হিজরিতে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেন।

মসজিদুল হারামের নতুন সম্প্রসারণ-কার্যক্রমে এই লাইব্রেরিটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রসারণের নতুন নকশা ও মডেল থেকে যতটুকু জানা যায়, এ স্থানে কোনো স্থাপনা তৈরি না করে খালি ও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র ঈদুল আজহা পালনের তারিখ ঘোষণা করল !

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব , আরব আমিরাত , কাতার ও অন্যন্য দেশ পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে আগামী ১১ আগস্ট। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কুয়েতের আবহাওয়াবিদ আদেল আল সাদোন কুনাকে বলেছেন, দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে আগামী ১১ আগস্ট (রবিবার)।

তিনি বলেন, পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দিন শুরু হবে ২ আগস্ট (শুক্রবার) এবং সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত হবেন ১০ আগস্ট (শনিবার)।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২২ জুলাই থেকে সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জ দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করেছে। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট ৯ দিনের ছুটি পালন করবে স্টক এক্সচেঞ্জ।সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপনের পরদিন মুসলিমদের অন্যতম এ উৎসব বাংলাদেশে পালিত হয়।

একসঙ্গে ৪৭৩ ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ !

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নালরাগু প্রদেশের ইয়াবালা গ্রামের ৪৭৩ জন বাসিন্দা এক সঙ্গে পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি আফ্রিকার ‘রেসালাতে তাওসিয়া’ ইন্সটিটিউটের সদস্যদের দাওয়াত ও তাবলিগের ফলে ইয়াবালা গ্রামের এ লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেন।

জানা যায়, ইয়াবালা গ্রামের মোট বাসিন্দার সংখ্যা ১ হাজার ২০০। এদের মধ্যে আগে ৩২০ জন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর এ দফায় ইসলাম গ্রহণ করলেন ৪৭৩ জন। সে হিসেবে ৭৯৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেছেন।আফ্রিকার দেশগুলোতে ‘রেসালাতে তাওসিয়া’ ইন্সটিটিউট ইসলামের প্রচার-প্রসারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতেই ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছেন।

দাওয়াত ও তাবলিগের ধারক সংগঠন ‘রেসালাতে তাওসিয়া’ ইন্সটিটিউট। এ ইন্সটিটিউটে ইসলামের প্রচার-প্রসারে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাসের আয়োজন করে চলেছেন সংগঠনটি।দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ ছাড়াও সংগঠনটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সমাজ-সংস্কারমূলক কাজও করে থাকে। বিভিন্ন দেশে মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন করা ছাড়াও মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

এদিকে, ইয়াবালা গ্রামের এখনো কোনো মসজিদ নির্মাণ হয়নি। নেই কোনো পুরনো মসজিদও। নও মুসলিমদের উদ্যোগেই মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মসজিদ নির্মাণে মুসলমানরা আর্থিকভাবে সহায়তাও করেছেন।

পা নেই, হাতে ভর করে পবিত্র কাবা ৭ বার তাওয়াফ করল এই কিশোর !

ইচ্ছা শক্তি আর ইসলামেরপতি ভালবাসা থাকলে কি না সম্ভব। দুই পা ছাড়া এক চতুর্থাংশ শরীর নিয়ে জন্ম হয়েছিল কাতারের প্রতিবন্ধী কিশোর গানিম আল মুফতার। এখন সে হুইল চেয়ারে করে চলাচল করে সে।

এদিকে পবিত্র কাবা শরীফের কাছে আসলে তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আবেগঘন ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে। এ সময় তিনি হুইল চেয়ার থেকে নেমে দুই হাতে ভর দিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করেছে প্রতিবন্ধী কিশোর গানিম আল মুফতার।মাগরিব নামাজের সময় সাতবার কাবা তাওয়াফ করে প্রতিবন্ধী গানিম। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই তাওয়াফের ভিডিও প্রচারের পর বেশ সাড়া পড়েছে। জানা যায়, কিশোর গানিমের স্বপ্ন ছিল নিজহাতে পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এবং পবিত্র হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুম্বন করা।

আর তার এমন স্বপ্নের কথা জেনে তা পূরণে তার জন্য ওমরা পালনের ব্যবস্থা করেন সৌদি পর্যটন এবং জাতীয় ঐতিহ্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিন্স সুলতান বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ।এদিকে গানিম প্রতিবন্ধী হওয়ায় কাবা তাওয়াফসহ ওমরা পালনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল। এজন্য একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে গানিম ও তার পরিবারের সদস্যদের মক্কায় পৌঁছানোর পর থেকে ওমরা পালনের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় মক্কায় গানিমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রিন্স সুলতান। এছাড়া মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম শেখ মাহের আল-মুয়াকলির পেছনে গানিমদের নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।এদিকে প্রতিবন্ধী গানিম হাত দিয়ে ভর দিয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে পারায় দারুণ খুশি। এ জন্য প্রিন্স সুলতান ও শেখ মাহেরে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এই কিশোর।

বাংলাদেশে প্রথম ইসলাম প্রচার হয় এই মসজিদ থেকে !

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহন করেন খ্রিস্টিয় ৫৭০ সালে। এর মাত্র ৫০ বছর পর ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে আসে ইসলাম!আর উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে শুরু হয় যাত্রা!

বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাপ্ত শিলালিপি এমন দাবিই জোরালো করেছে। এতে আরও দেখা যায়, ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে দেশের প্রথম মসজিদটিও নির্মিত হয় এই জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ নামক গ্রামে।

১৯৮৭ সালে পঞ্চগ্রামে জঙ্গল খননের সময় প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এর একটি ইটে কালেমা তাইয়্যেবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হয়, মসজিদটি হিজরি ৬৯ অর্থাৎ ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে স্থাপন কিংবা সংস্কার করা হয়।

রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.)-এর মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)। অনেকে অনুমান করেন, পঞ্চগ্রামের মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন যা ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়।

দেশের প্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরে রয়েছে একটি কাতারের জন্য ৪ ফুট প্রস্থ জায়গা। মসজিদের চার কোণে রয়েছে অষ্টকোণ বিশিষ্ট স্তম্ভ। ধ্বংসাবশেষ থেকে মসজিদের চূড়া ও গম্বুজ পাওয়া গেছে। মতিউর রহমান বসুনিয়া রচিত ‘রংপুরে দ্বীনি দাওয়াত’ গ্রন্থেও এই মসজিদের বিশদ বিবরণ আছে।

‘দেশে ইসলাম প্রচার করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজী’ এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত থাকলেও এসব তথ্য প্রমান করে যে, এর অনেক আগেই এদেশে ইসলাম প্রচারিত হয়।
১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন খিলজীর বাংলা বিজয়ের প্রায় ৬০০ বছর আগেই সাহাবীদের দ্বারা বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। প্রথম মসজিদও নির্মিত হয় সেই সময়েই।

৩৫ বছর ধরে বিনা খরচে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন হাফেজ আবদুল হান্নান !

মানুষকে কোরআন শিক্ষা দেয়াই তার পেশা। তবে কোরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না তিনি। নিজের তেমন কোনো জমি না থাকলেও বাবার থেকে প্রাপ্ত এক কাঠা জমির ওপর নিজের অর্থেই গড়ে তুলেছেন মক্তব ঘর।

প্রভাতের আলো ফুটে উঠতেই প্রতিদিন সেখানে কোরআন শিক্ষা দেন তিনি। কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড সুলতানপুর গ্রামে নীরবে-নিভৃতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মানুষকে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন হাফেজ আবদুল হান্নান।হাফেজ আবদুল হান্নান জানান, ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম বাড়ির উঠানে গ্রামের ছেলেমেয়েদের কোরআন শেখানো শুরু করেন। এরপর ব্যাপক হারে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় ১৯৮৬ সালে বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে একটি মাটির ছাপড়াঘর তৈরি করে সেখানে কোরআন শিক্ষা অব্যাহত রাখেন।

পরে ১৯৯৫ সালে বাবা মৃত আবদুল আজুজ শেখ তাকে এক কাঠা জমি দিলে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে কোরআন শিক্ষা দেন।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নিজের গ্রাম ছাড়াও আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।
হাফেজ আব্দুল হান্নান বলেন, আমি নিজে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছি। কোরআন শিক্ষাগ্রহণের সময় আমাদের শিক্ষক শিখিয়েছিলেন ‘যে নিজে কোরআন শিক্ষাগ্রহণ করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয় সে রাসূল (সা.)-এর কাছে উত্তম ব্যক্তি’।

আমি তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নেই মানুষকে বিনা খরচে কোরআন শিক্ষা দেব। তাই আমি এখন পর্যন্ত করে যাচ্ছি, এবং যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন কোরআন শিক্ষাদানের এই মহান কাজটি করে যাব।তিনি আরও বলেন, আমার মক্তবে বিভিন্ন বয়সের মানুষ কোরআন শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তাছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীর কোরআন শরিফ কেনার সামর্থ্য নেই তাদেরকেও বিনামূল্যে কোরআন শরিফ দেয়া হয়।

নিজের আয় সম্পর্কে আব্দুল হান্নান জানান, নিজের আয় বলতে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামতি করে বছরে ২০ মণ ধান পাই। এছাড়াও নিজের দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চলে।

জামালপুরে কালিমা পড়ে পুরো পরিবার নিয়ে মুসলমান হলেন কৃষ্ণ বাবু !

জামালপুরে স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে মুসলমান হন শ্রী কৃষ্ণ বাবু (২৯)। বর্তমানে তার নাম বিলাল হোসেন মণ্ডল। তিনি জামালপুর শহরের কাচারী পাড়া এলাকার শ্রী মন্টু ঋষীর ছেলে।বিলাল হোসেনের স্ত্রী পূর্নি ঋষির (২৬) বর্তমান নাম মোছাঃ মরিয়ম, বড় ছেলে শ্রী সুখ নাথ ঋষির (৮) বর্তমান নাম হাসান এবং ছোট ছেলে শ্রী দুখ নাথ ঋষির (৬) বর্তমান নাম হুসাইন।

এ বিষয়টি আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লীদের জানিয়েছেন, জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। জুমার নামাজ শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ এ.কে.এম জহুরুল ইসলাম মনসুর, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, মিজানুর রহমানসহ মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যবৃন্দ ও মুসল্লি।

এ সময় সদ্য মুসলিম হওয়া এ পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া সদ্য মুসলিম দুই শিশুকে আলহাজ নূর মোহাম্মদ ক্বওমী মাদ্রাসায় বিনামূল্যে পড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার মোহতামিম কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম।
এদিকে গত ১৩ জুন জামালপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা-এর মাধ্যমে সনাতন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ওই পরিবারের চারজন সদস্য। যার রেজিঃ নং- ৫৮০। এরপর আবার জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম তাদের কালিমা পড়ান।

সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল বলেন, আমি বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে যেতাম এবং মোবাইলে ওয়াজ শুনতাম। বাড়িতে গিয়ে ওইসব বিষয় আমার স্ত্রীকে বলতাম। এরপর থেকে আমাদের কাছে ইসলাম ধর্ম ভালো লাগতে শুরু করে।এক পর্যায়ে আমি ও আমার স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই। পরে মুসলমান হওয়ার বিষয়ে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন কাচারী পাড়া এলাকার মোঃ আল আমিন হীরা।