সন্তানকে প্রথমেই যা শেখাতে বলেছেন মহানবী (সা.)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশু সন্তানতে প্রথমে কালেমা শিক্ষা দেয়ার নসিহত পেশ করেছেন। কোমল হৃদয়ে তাওহিদের কালেমা শেখাতে পারলেই শিশুর জন্য তা হবে সার্থক ও সফল।শিশুকে কথা বলা শেখানোর দায়িত্ব কিংবা শিশুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় যিনি অতিবাহিত করার বিষয়টি দেখাশুনা করেন প্রত্যেক শিশু সন্তানের মা। এ কারণেই নেপোলিয়ান বলেছিলেন- ‘আমাকে একজন ভালো মা দাও, আমি তোমাদের একটি ভালো জাতি

উপহার দেবো।’নেপোলিয়ানের চিন্তা দর্শনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিখ্যাত কবি আব্দুর রহমান আল-কাশগারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি প্রত্যেক মাকে শিশুর পাঠশালা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন,‘হিজনুল উম্মাহাতি হিয়া আল মাদরাসাতু লিল বানিনা ওয়াল বানাত’ অর্থাৎ ‘মায়ের কোল বালক-বালিকাদের জন্য পাঠশালা স্বরূপ।’শিশুদের চিন্তা-চেতনার বিকাশ সাধনে মা এর ভূমিকা অত্যধিক। কেননা শিশুরা মা এর সঙ্গেই বড় হয়। শিশুর সুশিক্ষা ওআত্মবিশ্বাসও অর্জিত হয় মা এর কাছে। তাইতো প্লেটো বলেছেন- ‘মা-এর শিক্ষাই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের বুনিয়াদ।’সুতরাং শিশুকে উত্তম শিক্ষা

দেয়া প্রতিটি মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে নির্দেশ দিয়ে বলেন,‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।’পরিবারের লোকদের এমন শিক্ষা দাও। যাতে সে অন্যায় পথে ধাবিত না হয়। ইসলামের সুমহান সত্য ও সুন্দরের সঙ্গে সন্তানকে গড়ে তোলা ঈমানের দাবি। শিশুকে কথা বলা শেখাতে হাদিসের উপদেশ হলো এমন-হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, ‘তোমরা নিজ নিজ শিশুকে সর্বপ্রথম কথা শিখাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (বায়হাকি, মুস্তাদরেকে হাকেম)দুনিয়ার সব শিশুর কথা বলা শুরু হোক কালেমা পাঠের মাধ্যমে। আর তাতে শিশুর জন্য

বয়ে আনবে কল্যাণ ও বরকত। এর মাধ্যমেই শিশু হবে বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী।মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে তাদের শিশু-সন্তানের কোরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তম জীবনব্যবস্থায় বড় করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। কালেমার মাধ্যমে কথা বলা শুরু করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শুক্রবার জান্নাতে বাজার বসে

জান্নাতের বাজার পৃথিবীর বাজারের মত নয়। জান্নাতের বাজারের নিয়ম-নীতি পৃথিবীর বাজারগুলোর চেয়ে ভিন্ন। সেখানের কোনো ব্যবসায়িক কর্মকা’ণ্ড থাকবে না। সেখানে ক্রয়-বিক্রয় থাকবে না।আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, জান্নাতে একটি বাজার থাকবে।প্রত্যেক জুমায় জান্নাতি লোকেরা তাতে একত্রিত হবেন। তারপর উত্তরদিকের মৃদুবায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে।

এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তারপর তারা নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, পরিবারের লোকদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহুগুণ বেড়ে গেছে।পরিবারের লোকেরা তাদের বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের কাছ থেকে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বেড়ে গেছে।উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্যও তোমাদের নিকট থেকে আম’রা যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে। (মু’সলিম, হাদিস নং: ২৮৩৩, ১৮৮৯)আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে। সেখানে যখনই কোনো

ব্যক্তির যে ধরনের মুখাবয়ব (ও প্রতিকৃতি) ধারণ করতে চাইবে তৎক্ষণাৎ সে সেই আকৃতি ধারণ করতে পারবে। (মিশকাত, হাদিস নং: ৫৬৪৬, ১৯৮২; তিরমিজি, হাদিস নং: ২৫৫০)সাঈদ ইবনুল মু’সাইয়াব (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে। তিনি একদিন আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে আবু হুরায়রা (রা.)বললেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি আমাকে এবং তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন।সাঈদ ইবুনল মু’সাইয়াব তখন বললেন, জান্নাতে কি বাজারও থাকবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, রাসুল (সা.) আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর নিজ নিজ আমলের আধিক্য

অনুসারে যথাযোগ্য বাসস্থান গ্রহণ করবে।আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আম’রা কি আমাদের প্রতিপালকের দর্শন পাব?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। সূর্য বা পূর্ণিমা’র চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো অ’সুবিধা হয়? আম’রা বললাম, না।তিনি বললেন, তেমনিভাবে তোমাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতেও কোনো অ’সুবিধা থাকবে না। ওই মজলিসে এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না, যার সঙ্গে আল্লাহ তা’আলার কথোপকথন না হবে।সেখান থেকে জান্নাতিরা জান্নাতের বাজারে আসবে। ফেরেশতারা তা ঘিরে রাখবেন। তাতে এমন সব জিনিস থাকবে,যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি,

কোনো কান কোনো দিন শোনেনি, কোনো হৃদয়ে তা কল্পনাও হয়নি। সেখানে কিছুর কেনাবেচা হবে না। এই বাজারেই জান্নাতিদের পরস্পর সাক্ষাৎ হবে।
জান্নাতিরা নিজ নিজ আবাসে ফিরে আসার পর স্ত্রী’রা এসে অভ্যর্থনা জানাবে। বলবে, স্বাগতম ও শুভেচ্ছা।আমাদের নিকট থেকে যখন গিয়েছিলেন, তখনকার তুলনায় এখন আপনারা আরো বেশি সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছেন।তখন জান্নাতি পুরুষরা বলবে, আম’রা তো আজ মহাপরাক্রমশালী আমাদের প্রভুর মজলিসে বসে এসেছি।(হাদিসটির অনুবাদ সংক্ষেপে এবং বর্ণনাভঙ্গি বদল করা হয়েছে।) (তিরমিজি, হাদিস নং: ২৫৪৯; ইবনু মাজাহ, হাদিস নং: ৪৩৩৬)

কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে মুসলমান হয়েছেন অধ্যাপক

কানাডার অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার ছিলেন সাবেক খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। একসময় তিনি পবিত্র কুরআনের মধ্যে ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয়। কিন্তু এর ফল হয়েছিল বিপরীত। অবশেষে আল্লাহর কুদরাতে তিনিই প্রবেশ করলেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।পর তিনি তার মুসলিম নাম গ্রহণ করেছেন আবদুল আহাদ উমার। অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার বলেন, আমি একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া

শুরু করলাম।প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে। কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে।তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব।কিন্তু কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং আমি অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম। বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। সেখানে আল্লাহ বলেন, এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে নাযিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখা যেত’।এরপর আরো গভীরভাবে কুরআন অধ্যয়ন করলেন গ্যারি মিলার। আর তার এই অধ্যয়নই তাকে নিয়ে গেল ইসলামের পথে।ইসলামের

দোষ খুঁজতে গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন একজন মুসলিম— তথা মহাসত্যের কাছে সমর্পিত একজন।তিনি বলেছেন, আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে কুরআনে ঈসার (আ.) মাতা মারিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তার এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করাহয়েছে যে এত প্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে।

সুবহান আল্লাহ! পাঁচ ওয়াক্ত আজানের ধ্বনিতে যে ফুল ফোটে

অবিশ্বাস্য তবুও সত্যি যে, মুয়াজ্জিনের সুরেলা কন্ঠে যখন আজানের ‘আল্লাহু আকবার’ বাণী উচ্চারিত হয়, তখন এর সাথে ছন্দ মিলিয়ে ফোটে উঠে এক ফুল।আজানের ধ্বনি যেন ফুলগুলোকে ইবাদতের জন্য জাগ্রত করে। প্রতিটি সমুধুর ধ্বনিতে পাপড়িগুলোও ক্রমান্বয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে।ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা প্রত্যেক ওয়াক্তে আযানের সাথে সাথে ফোটে এই অদ্ভুত ফুল। আর সেকারণেই ফুলটির নাম দেয়া হয় আযান ফুল

আজারবাইজানের এক মুসলিম গ্রামে মোহাম্মদ রহিমের বাগানে সন্ধান পাওয়া যায় অদ্ভুতএই আজান ফুলের। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আযানের সময় এই ফুল ফোটে, আবার আযানের শেষ হলে চুপসে যায়। ‘সিএনএন’ (সিএনএন-এর রিপোর্টটি দেখতে-https://www.youtube.com/watch?v=GLs1NoFSkjY এই লিংকে যেতে পারেন) এই ফুলের উপর একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করে রিপোর্ট প্রচারিতও করে।এদিকে এই ফুলকে অনেকেই ‘ইভিনিং প্রাইমরোজ’ বা ‘সানকাপস’ বা ‘সানড্রপস’ নামে চেনেন। ১৪৫ প্রজাতির মধ্যে এটি একটি হলদে রঙের ফুল।ধারণা করা হয় এ ফুলের উৎস আমেরিকাতে। তবে ফুলটির

গণ অয়ননথেরা, এটি হারবেকয়াস উদ্ভিদ প্রজাতির বলে জানান বিজ্ঞানীরা।অন্য গানের সুর বা কখনও আযানের মতো করে অন্য কোন সুর দিয়েও গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন কিন্তু এ ফুল ফোটাতে পারেনি। এই ফুল ফোটার ঘটনাটি আল্লাহর অপার মহিমা।

ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে ভেঙে গেল সবকিছু শুধু টিকে থাকল রহমতুল্লাহ মসজিদ !

রহমতুল্লাহ মসজিদ। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত আচেহ প্রদেশের লোকঙ্গা জেলার লামপুক সমুদ্র সৈকতের ধারে এটির অবস্থান।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাতোলিয়া নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়,মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭ সালে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মসজিদটি প্রথম আলোচনায় আসে ১৫ বছর আগে। ২০০৪ সালে।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ৯.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামি আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়া থেকে ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত আঘাত হানে। এতে ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বলে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সূত্র দাবি করে। সুনামিটি বয়ে যায় ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) উচ্চতা। এর স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় লামপুকের সব স্থাপনা।পরবর্তীকালে আচেহ প্রাদেশিক সরকার জানায়, স্থানটিতে ওই সময় বাস করা ৬ হাজার অধিবাসীর মধ্যে মাত্র ৭০০ জন জীবিত ছিলেন।

স্রোতের করালগ্রাসে আশপাশের সবকিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। কিন্তু সমুদ্র সৈকতের খুব কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও মসজিদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল।দেখা গেছে, সুনামিতে ১৬শ বর্গ মিটার আয়তনের মসজিদটির পিলারের সামান্য ক্ষয় ছাড়া আর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
সুনামি থেকে বেঁচে যাওয়া মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিরা সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা ভাবলে আঁতকে উঠেন।ইমাম সুলাইমান মুহাম্মদ আমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, আল্লাহর রহমত হিসেবে মসজিদটি তার নামেরই স্বার্থকতা প্রকাশ করেছে। ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল মসজিদের গম্বুজের থেকেও উঁচু।

ক্ষিপ্র স্রোতের প্রবল ধাক্কায় ইমাম আমিন ভেসে গিয়েছিলেন তিন কিলোমিটার। পরে ফিরে এসে মসজিদকে অক্ষত অবস্থায় দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে যান। বেঁচে থাকা অধিবাসীদের নিয়ে তখন তিনি মসজিদে শোকরিয়ার নামাজ আদায় করেন।এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। যদিও কিছু পিলারের অংশ ভেঙে পড়েছিল।২০০৬ সালে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় নতুনভাবে মসজিদটির সংস্কারকাজ করা হয়। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় ৭০০টি নতুন ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়। তুর্কি সহায়তায় পুনর্নিমাণের কারণে স্থানটি ‘তুর্কি গ্রাম’ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে খ্যাতি লাভ করেছে।

সুনামির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য পিলারগুলোকে অক্ষত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেসময়ের ভেঙে যাওয়া জানালা, কার্পেট ও জায়নামাজগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ভেঙে যাওয়া এক পিলারে ‘সুনামির কথা ভুলে যেও না’ শীর্ষক সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে।
সুনামির দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিতে এবং সচেতনতা বাড়াতেই তাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

হেরা গুহা যেখানে ধ্যানমগ্ন থাকতেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

জাবালে নূর। আল্লাহ তাআলার নাজিল করা পবিত্র কুরআনের প্রথম আলোয় আলোকিত পাহাড়। যে পাহাড়ের গুহায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহি লাভে ধ্যানমগ্ন থাকতেন। বিশ্বব্যাপী যে পাহাড়কে গারে হেরা বা হেরা গুহা নামেই মানুষ সবচেয়ে চেনে বা জানে।জাবালে নূর কিংবা গারে হেরা তথা হেরা গুহা সম্পর্কে জানতে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। জাবালে নূরে যে গুহায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্যানমগ্ন থাকতেন। সেখানে ওঠা একদমই সহজ ছিল না তখন। ছিল না উপরে ওঠার কোনো সহজ পথ।বর্তমানে যেখানে ওঠতে শক্তিশালী ও সামর্থবান মানুষদের প্রায় ১ ঘণ্টারও বেশি

সময় লেগে যায়। প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতার ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠতে বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নিতে হয়।সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ের ওপরের দিকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট পথ গাড়িতে যাওয়া যায়।সেখান থেকে ৮৯০ ফুট উচ্চতায় হেরা গুহা অবস্থিত। হেরা গুহায় যেতে আরও প্রায় ১০০ ফুট রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।কেননাপাহাড়ের চড়ূা থেকে বিপরীত দিকে একটু নিচে অবস্থিত হেরা গুহায় যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। হেরা গুহাটি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চুড়ায় না হলেও সেখানে যেতে হলে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠতে হয়। সেখানে ওঠা ছাড়া হেরা গুহায় যাওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই।প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে গুহায় ধ্যান করেছিলেন, সেটি আকারে অনেক ছোট। যেখানে একজন সুঠামদেহী মানুষ ঠিকভাবে নড়াচড়া করতেই কষ্টকর হয়ে

যায়।অনেকেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত এ পাহাড় দেখতে যায় এবং হেরা গুহায় নামাজ আদায় করে। সেখানে একজনের বেশি লোক নামাজ আদায় করা কষ্টকর হয়ে যায়।জাবালে নূর খ্যাত হেরা পাহাড়ের রয়েছে আকর্ষণীয় ৬টি তথ্য। আর তাহলো-জাবালে নূর
পবিত্র কাবা শরিফ থেকে ২ মাইল দূরে অবস্থিত একটি পাহাড় হেরা। পাহাড়ের নাম হেরা হলেও এটি এখন বিশ্বব্যাপী জাবালে নূর বা জাবালে হিরা নামেই বেশি চেনে। জাবালে নূর অর্থ হলো নূর বা আলোর পাহাড়।কেননা এ পাহাড়েই আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সর্বপ্রথম বরকতময় আলোকিত কুরআন নাজিল হয়।যা শুধু মুসলিম উম্মাহ নয় বরং বিশ্ব মানবতার জন্য নূর বা আলো। সে কারণেই এ পাহাড় বিশ্বব্যাপী

জাবালে নূর নামেই পরিচিত।গুহার অবস্থান ও পরিধি হেরা গুহা এত ছোট ও এর মধ্যকার জায়গা এত কম যে, প্রথম দেখাতেই বিস্ময়কর মনে হবে। এ স্থানেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্যনমগ্নে নিয়োজিত ছিলেন।যার লম্বায় ৪ মিটার আর পাশে ১.৫ তথা দেড় মিটার। উচ্চতায় ভালোভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ানোও কষ্টকর। যদিও সমতল থেকে পুরো পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় হাজার ফুট।প্রথম কুরআন নাজিল
এ পাহাড়ের প্রায় চূড়া সংলগ্ন হেরা গুহায় ৬১০ খ্রিস্টাব্দে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারিম নাজিল করেন। যদিও এরআগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক সত্য স্বপ্ন দেখতেন যা ওহির সমতুল্য।জিবরিল আলাইহিস সালামের প্রথম সাক্ষাৎ
এ পাহাড়ের হেরা গুহায় ধন্যমগ্ন থাকা অবস্থায় সর্ব প্রথম হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম কুরআনের ওহি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন-‘এক রাতে তাহাজ্জুদের সময় মানুষের আকৃতিতে একজন ফেরেশতা প্রিয়নবির কাছে আসেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, পড়ুন। উত্তরে রাসুল বলেছেন,আমি পড়তে জানি না। তারপরও ফেরশতা তাকে আরও দুইবার পড়ার অনুরোধ করেন, সে দুইবারও প্রিয় নবি জানালেন আমি পড়তে জানি না।শেষ পর্যন্ত ফেরেশতা হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম কুরআনের ৯৬নং সুরার প্রথম ৫ আয়াত পড়লেন। এ ছিল প্রিয় নবির প্রতি হেরা গুহায় প্রথম ওহি। তিনি শুরু করেছিলেন-
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَخَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍاقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُالَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِعَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
পড়ুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু।যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।নবুয়তের সূচনা জাবালে নূর খ্যাত এই সেই ঐতিহাসিক গুহা। যেখান থেকে এ ওহি লাভের মাধ্যমেই প্রথম শুরু হয়েছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তি দায়িত্ব পালনের কঠিনজীবনের শুভ সূচনা। কেননা তিনি যখন ওহি

নিয়ে হেরা গুহা থেকে পাহাড়ের অর্ধেক নিচে নেমে আসলেন, তখন তাঁর কানে একটি কণ্ঠের আওয়াজ আসে-‘হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর নবি আর আমি জিবরিল।’তিনি পৃথিবীতে নবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনে হলেন আল্লাহ তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি ও রাসুল।হেরা পাহাড়ের সেই কঠিন রাতহেরা গুহায় যে দিন প্রথম জিবরিল আলাইহিস সালাম ওহি নিয়ে আসলেন, সে রাতটি ছিল প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য কঠিন রাত।সে রাতে হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম বিদায় গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত প্রিয় নবি যে দিকেই তাকাতেন দেখতেন হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম সব দিক থেকেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এতে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নেমে আসার সময়ই তাঁর

নবুয়তি পরিচয়সহ জিবরিল নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন।তারপর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেরা গুহা থেকে নিজ ঘরে ফিরে আসলেন এবং হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, আমাকে কম্বল দ্বারা আবৃত করে দাও, জড়িয়ে ধরো।হেরা গুহা থেকে কুরআনের প্রথম ওহি নাজিল হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ২২ বছর ৫ মাস ১৪দিন সময়ে মানব জাতির জন্য সংবিধান হিসেবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহি নাজিলের মাধ্যমে পুরো কুরআনুল কারিম অবর্তীণ করেন। যার শুভ সূচনা হয়েছিল জাবালে নূর থেকেই…

পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও সুন্দর ছিলেন আমার নবীজি (সা:)

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে পৃথিবী এমন সভ্য, সুন্দর ছিল না। ছিল জাহিলিয়াতে ঢাকা। কারণ মানুষ তখন ভুলে গিয়েছিল নিজেদের পরিচয়।ভুলে গিয়েছিল তারা মানুষ। ফলে পশুত্বের চেয়েও নিকৃ ষ্ট হয়ে উঠেছিল তাদের মন। তারা এতটাই অমানবিক ছিল, নিজের ঔরসজাত সন্তানকেও জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলত।হা নাহানি, মা রামারি, র ক্তার ক্তি, কাফেলা লুট, নারী নি র্যাতনসহ এমন কোনো ম ন্দ কাজ নেই, যা তারা করত না।এমনই এক অ ন্ধকা রাচ্ছন্ন সময়ে

সমাজব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনের জন্য সে ছিলেন এক মহামানব যাঁর নাম মুহাম্মদ (সা.)। তিনি এক আ শ্চর্যময় পরিবর্তন আনেন সমাজে।
ঐশী আলোয় আলোকিত। নূরের চেরাগ জ্বলে। তিনি মক্কার কুরাইশ বংশে জ ন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আবদুল্লাহ।আর মাতা আমিনা। বাবা-মাহারা শিশু মুহাম্মদ বড় হতে থাকেন দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং চাচা আবু তালিবের আদরে। শৈশবেই তিনি স ত্যবা দিতা আর স দাচরণে সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন।আমানতদারির বি শ্বস্ততায় উপাধি পান ‘আল-আমিন’ তথা বিশ্বাসী। সেই যুগে মানুষ যখন কারণে অকারণে হ ত্যা, লু টতরা জ,ম দ্যপান, জো য়া, নারী

নি’র্যা’তন হীন কর্মকা ণ্ডে উ ন্মা দ হয়ে থাকত, তখন যুবক মুহাম্মদ (সা.) চিন্তাম গ্ন থাকতেন মানবতার মু ক্তির।কীভাবে এ ব র্বরোচিত সমাজের পরিবর্তন হবে, মানুষ স ত্যিকারের মানুষে প রিণত হবে এ ধ্যানেই ম গ্ন থাকতেন দিন-রাত। চল্লিশ বছর বয়সে হলেন নবী ও রাসূল। প্র ভুর ঐশী বাণীকে মানুষের কাছে তুলে ধরলেন।দয়ার সাগর নবীজি অবিশ্বা সীদের বিদ্রু প, অমা নুষিক নি র্যাতনে ক্ষু ব্ধ না হয়ে তাদের প্রতি দয়া দেখিয়ে করুণাময় রবের কাছে তাদেরই জন্য ক্ষ মা প্রা র্থনা করেছেন।তাদের ভালোবাসা দিয়ে সত্যে র পথে ডেকেছেন। কারণ তিনি যে দয়ার নবী আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এসেছে তোমাদের

মধ্যকার এমন একজন রাসূল,তোমাদের দুঃখ যার কাছে দুঃসহ। তিনি তোমাদের হি তাকা ক্সক্ষী, বিশ্বাসীদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা তাওবা : ১২৮)।নবীজির এ দয়া নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক, বৃ দ্ধ সব মানুষের জন্যই সমানভাবে ছিল। হোক সে ভিন্ন মতের বা পথের। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়ে একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।তিনি তখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লা শ। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের জি জ্ঞেস করলেন, আলাইসাত নাফসা? অর্থাৎ সে কি মানুষ নয়? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩১২)।নবীজির দয়ামায়া শুধু মানব জাতিতেই সীমাব দ্ধ থাকেনি। বাকহীন পশু-পাখির জন্যও ছিল তার দয়ামায়া।তাদের জন্যও নবীজির মমতা ছিল মানুষের মতোই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা

এক সফরে রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম।এক সময় একটু প্রয়োজনে দূরে গেলাম। দেখলাম একটি লাল পাখি, সঙ্গে দুটি বাচ্চা। আমরা বাচ্চা দুটি ধরে নিয়ে এলাম। কিন্তু মা-পাখিটিও চলে এলো। বাচ্চা দুটির কাছে আসার জন্য পাখিটি মাটির কাছে অবিরাম উড়ছিল।তখন রাসূল (সা.) এসে পড়লেন। তিনি এটি দেখে বললেন, কে এ বাচ্চা ধরে এনে এদের মাকে ক ষ্ট দিচ্ছে? যাও, বাচ্চা দুটি মায়ের কাছে রেখে এসো। (আবু দাউদ ১৪৬/২)।এ জন্যই তো নবীজি লক্ষ কোটি হৃদয়ে সুবাসিত ফুল হয়ে আছেন। যা স্বীকার করেছেন মহাত্মা গান্ধীজিও। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সেরা একজনের জীবন সম্পর্কে জানতে

চেয়েছিলাম,যিনি আজ লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে অবিতর্কিতভাবে স্থান নিয়ে আছেন। যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি বেশি নিশ্চিত যে, ইসলাম ত রবারির মাধ্যমে সেসব দিনগুলোতে মানুষের জীবন-ধারণ প দ্ধতিতে স্থান করে নেয়নি।ইসলামের প্রসারের কারণ হিসেবে কাজ করেছে নবীর দৃঢ় সরলতা, নিজেকে অন্যের জন্য প্রতিভাত করা, ভবিষ্যতের ব্যাপারে স তর্ক ভাবনা, বন্ধু ও অনুসারীদের জন্য নিজেকে চরমভাবে উৎসর্গ করা।মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী সাহিত্যিক মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দি হানড্রেড’ গ্রন্থে বলেন, ‘মুহাম্মদকে আমি বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী মনীষীদের তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছি, এতে

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন।কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও ধর্মবহির্ভূত ক্ষেত্রে একযোগে বিপুলভাবে ও সর্বাধিক সফলকাম হয়েছেন।’ ইংরেজ কবি জন কিটস বলেন, ‘পৃথিবীর যা কিছু মঙ্গলময়, যা কিছু মহৎ ও সুন্দর সবই নবী মুহাম্মদ। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।’
নবীজির মূল্যায়নে এ রকম উৎকৃষ্ট উক্তি অসংখ্য মনীষীগণই করে গেছেন। সেই দেড় হাজার বছর আগের বুহাইরা থেকে শুরু করে এখনকার মহাত্মা
গান্ধী, সামনে আরও অসংখ্য মনীষীরাও নবীজির শানে এমন উক্তি-উপমা করে যাবেন। কারণ নবীজি এমনই এক ফুল, যে ফুল যুগ যুগ খশবু ছড়ায়।

এমনভাবেই নবীজি পৃথিবীর ইথারে ইথারে মহাসত্যের আলো ছড়িয়ে গেছেন। রোপণ করেছেন মানবতার বীজ।দিয়েছেন আল্লাহ প্রদত্ত সুন্দর একটি জীবন ব্যবস্থা। এরপর এগারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে আল্লাহতায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী থেকে চিরবি দায় নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারায় শায়িত হয়েছেন।নবীজি ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ.) চেয়েও বহুগুণ সুন্দর। পূর্ণিমার চাঁদের মতো গোলাকার ছিল নুরানি মুখমণ্ডল।প্রশস্ত কপাল, চিকন ও ঘন ভ্রু, দুই ভ্রুর মাঝখানে একটা উঁচু রগ ছিল। কবির ভাষায়, ‘যখন বুলাই তার মুখমণ্ডলে দু’চোখ/ সে যেনো বর্ষামুখী মেঘে বিদ্যুতের চমক।’ গোলাপের পাপড়ির মতো তাঁরঠোঁটদ্বয়ে প্রায়শই লেগে থাকত ফুলের হাসি। গমের মতো লালচে সাদা ছিল আমার নবীর গায়ের রং।

বিশ্বের প্রথম হাতের সেলাই করা পবিত্র কুরআন শরীফ

বিশ্বের প্রথম হাতে সেলাই করে পবিত্র কুরআন শরীফ লেখা সম্পন্ন করলেন পাকিস্তানী নারী নাসিম আক্তার। তিনিই প্রথম পবিত্র কুরআন শরীফ হাতে সেলাই করে লেকার গৌরব অর্জন করেছেন।৩২ বছরের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, নিবেদন এবং ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের প্রতি ভালবাসা থেকে কাজটি তিনি সম্পন্ন করেছেন।নাসিম আক্তার বলেন, ‘আমি কুরআনটি সম্পূর্ণ হতে কতদিন লাগবে তা নিয়ে চিন্তা না করে পূর্ণ সংকল্প নিয়ে সেলাই শুরু

করি।এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করার রহমত দানের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি এটা করতে পেরে খুব খুশি।আমি আমার পুরো জীবনে আর কখনও এত খুশি হতে পারিনি।’ তিনি জানান, ৩২ বছর আগে তার মনে হঠাৎ করেই এই ইচ্ছাটা জাগে এবং তিনি এটি কার্যকর করা শুরু করেন। তবে,তিনি জানতেন না যে তার এই কাজ শেষ হতে কয়েক দশক সময় লাগবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
নাসিম আক্তারের মতে, ‘এই কাজটির সম্পূর্ণ করার মত তৃপ্তি ও আনন্দ তিনি জীবনে আর কখনই পাননি। তিনি এর জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।

নাসিমার সেলাই করা পবিত্র কোরআনের ওজন ৬০ কেজি এবং এটি সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি। এটিকে পরিপূর্ণতা দিতে সোনালী এমব্রয়ডারিও করা হয়েছে। এর মলাট রেশমি কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়েছে।প্রতিটি পারার শুরুতে পৃথক কভার পৃষ্ঠা রয়েছে। তিনি কুরআনের সমস্ত আয়াতকে সজীব সবুজ বর্ণে সেলাই করেছিলেন।সব কিছুই তিনি নিজে হাতে করেছেন। কোন মেশিনের সাহায্য নেননি। এমনকি এই উদ্দেশ্যে তিনি কারও কাছ থেকে কোন সহায়তাও নেননি।

সর্বোপরি তিনি শুধুমাত্র ওযু থাকা অবস্থাতেই সেলাই করতেন যা সরাসরি কাজের প্রতি তার উৎসর্গকে প্রতিনিধিত্ব করে।নাসিম আক্তার বর্তমানে পাকিস্তানের গুজরাটে থাকেন। সউদী কর্মকর্তারা তার কাজের কথা শুনে তাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।তিনি খুশি মনে তার হাতের সেলাই করা পবিত্র কুরআনের অনুলিপিটি পবিত্র মদিনার মিউজিয়ামে দান করেন।

জমজম কূপের পানি বিশুদ্ধ, প্রমাণ করলেন জাপানের বিজ্ঞানী !

অনেকেই রোগ মুক্তি বা মুসলমানদের ধর্মীয় কাজের জন্য জমজম কূপের পানি পান করে থাকেন। হজে যাওয়া লাখ লাখ হাজী এ পানি নিজেরা পান করেন। সঙ্গে বোতলে করে নিয়ে যান নিজ দেশে।জাপানি বিজ্ঞানী মাসারু ইমোতো ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণা করেছেন জমজমের পানির ওপর। কেন জমজমের পানি পৃথিবীর বিশুদ্ধতম পানি তার কিছু বৈজ্ঞানিক ধারণা বের করেছেন গবেষণার মাধ্যমে।

১। এক ফোঁটা জমজমের পানিতে যে পরিমাণ আকরিক পদার্থ থাকে তা পৃথিবীর অন্য কোনো পানিতে থাকে না।
২। জমজমের পানির গুণগত মান কখনও পরিবর্তিত হয় না।৩। সাধারণ কূপের পানিতে জলজ উদ্ভিদ জন্মালেও জমজম কূপের পানিতে কোনো জলজ উদ্ভিদ বা অন্যান্য উদ্ভিদজাত অণুজীব জন্মায় না।
৪। জমজমের পানিতে যেসব আকরিক পদার্থ পাওয়া গেছে তার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফ্লোরাইড, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট,নাইট্রেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম উল্লেখযোগ্য।

ফ্লোরাইড ছাড়া বাকি মিনারেলগুলোর মাত্রা অন্যসব স্বাভাবিক খাবার পানিতে পাওয়া মাত্রা থেকে বেশি ছিল।
৫। জমজমের পানিতে এন্টিমনি, বেরিলিয়াম, ব্রোমাইন,কোবাল্ট, বিস্মুথ, আয়োডিন আর মলিবডেনামের মতো পদার্থগুলোর মাত্রা ছিল
০.০১ ppm থেকেও কম। ক্রোমিয়াম, ম্যাংগানিজ আর টাইটানিয়াম এর মাত্রা ছিল একেবারেই নগণ্য।
৬। জাপানি বিজ্ঞানীর পরীক্ষা অনুযায়ী জমজমের পানির pH হচ্ছে ৭ দশমিক ৮। যেটি সামান্য ক্ষারজাতীয়। বিজ্ঞানী তার পরীক্ষায় আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সীসা এবং সেলেনিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থগুলো ঝুঁকিমুক্ত মাত্রায় পেয়েছেন।

যে মাত্রাগুলোতে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় না।

৭। মাসারু তার পরীক্ষায় জমজমের পানির এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী মৌলিক আকার পেয়েছেন যেটি খুবই চমকপ্রদ।
পানির দুইটি স্ফটিক সৃষ্টি হয়- একটি আরেকটির উপরে কিন্তু সেগুলো একটি অনুপম আকার ধারন করে।

এই ম’সজিদে ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন!

ম’ক্কা থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। মিনায় হাজিদের জন্য স্থাপিত বিশেষ তাঁবুতে অবস্থান করে হ’জের বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্প ন্ন করতে হয়। হ’জের আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম অংশ হলো- শয়তানের প্রতীকী’’ স্তম্ভে ক ঙ্কর নিক্ষে প করা। এই ক ঙ্কর নি ক্ষে পের স্থানের খুব কাছে ঐতিহাসিক ‘ম’সজিদে খায়েফ’ অ বস্থিত। এই ম’সজিদে ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন। সওর পাহাড়ের বিপরীত দিকের পাহাড়ের অদূরে প্রতিষ্ঠিত এই ম’সজিদের আলোচনা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।

বিশাল ম’সজিদটি কঙ্কর নিক্ষে প করতে আসা হাজিদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের অনেক ঘটনাকে। বৃহদাকার ম’সজিদের উচুঁ মিনারগুলো বেশ দূর থেকে পাহাড়ের চূ ড়ার স ঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাঁ ড়িয়ে আছে। বর্ণিত আছে, হ’জরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ম’সজিদে নামাজ আদায় করছেন এবং বলেছেন, এখানে সত্তরজন নবী সমাহিত হয়েছেন। নবী করিম (সা.) বিদায় হ’জে ম’সজিদে খায়েফে নামাজ পড়েছেন। এই ম’সজিদের অনেক ফ জিলত হাদিস ও ইতিহাসের গ্র ন্থসমূহে উল্লেখ আছে।

পাহাড়ের চেয়ে নিচু এবং সমূদ্রপৃ ষ্ঠ থেকে উঁ চু স্থা নকে আরবি পরিভাষায় খায়েফ বলা হয়। আবার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাসম ভূমিকেও খায়েফ বলে আরবরা। অ’পরদিকে, খায়েফ ম’সজিদ হচ্ছে ম’ক্কার কাফেরদের বি’রুদ্ধে মু’সলমানদের বিজয়ের এক স্মৃ’তিচিহ্ন।ইতিহাসে এসেছে, পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের প্র’রোচনায় ম’ক্কার কাফেররা ম’দিনায় হা’মলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে তারা কিছু আরব গোত্রের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তি করার জন্য ম’ক্কার কাফেররা যে স্থানটি বেছে নেয় পরে সেখানেই খায়েফ ম’সজিদ নির্মিত হয়।