মা সম্পর্কে বি’স্ফোরক মন্তব্য রানু মণ্ডলের মেয়ের

গলি থেকে রাজপথ। উত্থান একেবারে উল্কার গতিতে। পশ্চিমবঙ্গের রাণাঘাটের রানু মণ্ডল এখন শিরোনামে। রাণাঘাট স্টেশনে গান গাইতেন। সমাজসেবী অতীন্দ্র চক্রবর্তীর চোখে পড়ে যান রানু। তার গান ভিডিও করেন। নিয়ে যান মুম্বই। বাকিটা ইতিহাস।বিতর্কেও জড়িয়েছেন। অতীন্দ্রকে ‘‌ভগবানের চাকর’‌ বলে ফেলেছেন রানু দি। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। যদিও অতীন্দ্র বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। ইতিমধ্যেই অভিনেতা, গায়ক ও সুরকার হিমেশ রেশমিয়ার আগামী ছবি ‘‌হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হীর’‌ ছবির জন্য দুটি গান গেয়েছেন রানু মণ্ডল। একটি ‘‌তেরি মেরি কাহানি’‌।

অপরটি ‘‌আদত’‌। এবার রানুদিকে নিয়ে আরো একটি গান রেকর্ড করবেন হিমেশ। ‘‌৩৬ চায়না টাউন’‌ ছবির দ্বিতীয় পর্বের জন্য ‘‌আশিকি মে তেরি’‌ গান রেকর্ড করার কথা ভেবেছেন হিমেশ।মুম্বই পাড়ি দেয়ার পর রানুর মেয়ে এলিজাবেথ সাথি রায় একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এবার তিনি বলেছেন, ‘‌আমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন। বিভিন্ন সংবাদপত্র আমার মায়ের মন্তব্য শুনে বি’রক্ত।

’‌ এরপরেই রানুর মেয়ের দাবি, ‘‌মাকে নিয়মিত দেখতে যেতে পারতাম না। তাই জানতাম না যে মা স্টেশনে বসে গান গায়। বেশ কয়েক মাস আগে ধর্মতলার বাসস্ট্যান্ডে মাকে বসে থাকতে দেখি। তখন ২০০ টাকা হাতে দিয়ে বলেছিলাম বাড়ি যাও।’‌জানা গেছে, সাথির নাকি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে তার। সুরিতে একটি ছোটখাট দোকান রয়েছে। সাথি জানিয়েছে, তার মার নাকি দু’‌বার বিয়ে হয়েছিল। চার সন্তানের মধ্যে সে একজন।

সাথির মারাত্মক অভিযোগ ছিল, ‘‌মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে নাকি তাঁর পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল অতীন্দ্র ও তপন। ফোনেও মার সঙ্গে কথা বলতে দেন না। আমার মা কে উল্টোপাল্টা বোঝাচ্ছে।আমি কিছু করতেও পারছি না। চাই মা মন দিয়ে গান করুক।’‌এরপরই সাথির সংযোজন ছিল, ‘‌মায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। নিজের কাছে নিয়ে আসতে চেয়েছি।

কিন্তু মা রাজি হয়নি। এখন সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে। সবাই আমার বিপক্ষে চলে গেছে।’‌ সূত্র : আজকাল

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা সৌদি-আমিরাতের

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ও সৌদি-আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীতবৃহস্পতিবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আহমেদ আল যুবায়ের এবং সংযুক্তর আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল নাইয়ান কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দেন। খবর ডনের।রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে মন্ত্রীদের বৈঠকের সময় এ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় ও ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন। জেনারেল বাজওয়া বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিশেষ কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে গর্বিত।এর আগে বুধবার দুই মন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী দফতরের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ও উপত্যকাটির সবশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে ইমরান খান সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। বিশেষত গত এক মাস যাবৎ সেখানে কারফিউর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ উপত্যকাটিতে বসবাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।ইমরান খান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরাতে ভারত নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি করবে বলেও আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী দফতরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ দেশের অবস্থান ব্যক্ত করেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে তারা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রতি জোর দেন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।কাশ্মীরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি ও আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশ দু’টি সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।

সুজুকি জিক্সারের নতুন বাইক! জেনে নিন বিস্তারিত

সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে সুজুকি জিক্সার নতুন কিছু ফিচার। ইতোমধ্যে সুজুকির এই স্ট্রিট নেকেড মোটরসাইকেলটি নতুন কিছু ফিচারসহ বাজারে এসেছে। তাই বাইক প্রেমীদের জন্য সুজুকি জিক্সারের নতুন ফিচারগুলো তুলে ধরা হলো।নতুন লুক ও ডিজাইন: সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলটি গত জুলাইতে ভারতের বাজারে ছেড়েছে। নতুন এই মডেলটি ২০১৯ সুযুকি জিক্সার এসএফ এর পর পরই বাজারে ছাড়া হলো। দুটো মডেলই মুলত নতুন কিছু ফিচার আর নতুন লুকের সমন্বয় করে তৈরি করা হয়ছে।

আর তাই বলা যায় নতুন জিক্সার পেয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি লুক ও ডিজাইন। নতুন এই ভার্শনটি মুলত এক্সটেরিয়রের একটি ম্যাসিভ আপডেট। তবে নতুন লুকের সাথে সাথে এর আইকনিক অবয়বটারও সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ফলে নতুন চেহাড়াটিও জিএসএক্স-আর সিরিজের সত্যিকার পরিচয়টা বহন করে।তো সেই সূত্রে এর ট্যাঙ্ক-ডেন্ট ও মাঝের সাইড-প্যানেলগুলো কিছুটা অপরিবর্তিত রেখে বাকি সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে। বাইকটির ফুয়েল-ট্যাঙ্কের দুই পাশ দিয়ে এর প্যানেলদুটো ধারালো ব্লেডের মতো অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

আর সাইড-প্যানেল দুটো পেছনের দিকে নতুন ডিজাইন নিয়ে টেইললাইটের সাথে যোগ হয়ে গিয়েছে। আর সিটটা এখন স্প্লিট-টাইপ, আর সেগুলো আলাদা ও ভিন্ন উচ্চতায় বসানো। আর নতুন তীরাকৃতি এলইডি টেইললাইট ও স্প্লিট গ্র্যাবরেইলসহ এর টেইলটি সম্পূর্ণ নতুন এক ডিজাইন পেয়েছে।নতুন জিক্সারেও ডুয়াল একজস্ট মাফলার রয়েছে। তবে তা এখন আরো ফোকাসড ও খানিকটা লম্বাকৃতির। আর এর পেছনের দিকটা সম্পূর্ণ নেকেড-ডিজাইনের হলেও এর পেছনের চাকায় বাড়তি বিকিনি-মাডগার্ড রয়েছে। তো সবমিলিয়ে এর পেছনটা কম্প্যাক্ট, স্পোর্টি আর চমৎকার।

এর সামনের দিকের অংশ নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয় এটা পুরোপুরি নতুন ডিজাইনের। নতুন ডিজাইনের ডয়মন্ড-শেপ হেডলাইটটি মাল্টি-পিট এলইডি সেটআপ সহ একদমই নতুন এক অংশ। আর সেই সাথে সংযুক্ত এর নতুন ওডো মিটারটিও নেকেড ডিজাইনের। নতুন এই ডিসপ্লে প্যানেলটি পুরোপুরি ডিজিটাল। তো সবমিলিয়ে বলা যায় এটি নতুন জিক্সারের পরিচিতি যথাযথভাবেই তুলে ধরে।ফ্রেম, হুইল, ব্রেক ও সাসপেনশন সিস্টেম: আগের মডেলের মতোই অনেকটা একই ফ্রেম, হুইল, ব্রেক ও সাসপেনশন সম্বলিত। তবে নতুন ডিজাইনের সাথে কিছু পরির্তন তো আছেই। নতুন এক্সটেরিয়রের সাথে এর সার্বিক ডাইমেনশনেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।

চাকাতে আগের মতোই ৬-স্পোক এ্যালয়-রিম সহ টিউবলেস টায়ার রয়েছে। দুই চাকাতেই হাইড্রলিক ডিষ্ক ব্রেক রয়েছে। আর নতুন ২০১৯ ভার্শনে বাড়তি যোগ হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস সিস্টেম। আর সাসপেন্শনের ক্ষেত্রে এর সামনে রয়েছে ৪১মিমি আপরাইট টেলিস্কোপিক ফর্ক সাসপেনশন।আর পেছনে রয়েছে রেক্টএ্যাঙ্গুলার সুইংআর্ম সংযুক্ত মনো-সাসপেনশন। তবে নতুন ভার্শনে আরো ভালো ষ্ট্রিট পারফর্মেন্স ও কন্ট্রোলের জন্যে নতুন ট্যুইকিং সমন্বয় করা হয়েছে। আর সার্বিক ডাইমেনশনে বাইকটি বর্তমানে সবমিলিয়ে ১৪০কেজি ওজনের।আর এর হুইলবেজও একটুখানি বেড়ে গেছে। আর নতুন সিট ডিজাইন নিয়ে এর সিট-হাইটও অনেকটাই বেড়ে গেছে। তো সবমিলিয়ে বলা যায় নতুন এই মডেলটি আলাদা ডাইমেনশন আর হ্যান্ডেলিং ক্যারেক্টারের নতুন একটি বাইক।ইঞ্জিন পারফর্মেন্স ও ফিচার: নতুন সুজুকি জিক্সারটিতে মোটামুটি আগের ইঞ্জিনটিই ব্যবহৃত হয়েছে। এই ইঞ্জিনটি আগের সেই সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, ফোর-স্ট্রোক, এয়ারকুলড, এসওএইচসি ২-ভালভ ইঞ্জিন।

আর এর বোর-স্ট্রোকও একই হওয়ায় এটি সেই লংস্ট্রোক ১৫৫সিসি ইঞ্জিন। তবে নতুন ভার্শনে এটি বিএস-ফোর স্ট্যান্ডার্ডে পরিমার্জন করা। আর সেই সাথে এর পুরোনো কার্বুরেটর সিষ্টেম বদলে ফেলে নতুন ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকটর সংযোজিত হয়েছে।ফলে নতুন বিএস-ফোর স্ট্যান্ডার্ডে পরিমার্জন ও ফুয়েল ইনজেকটর সহ এই এসইপি-ইঞ্জিনটি আগের চেয়ে বেশি পরিমার্জিত। আর সবমিলিয়ে এটি সর্বোচ্চ ১৪.১পিএস পাওয়ার আর ১৪এনএস টর্ক ডেলিভারি করে। এছাড়া নতুন ভার্শনে ট্রান্সমিশন আগের মতোই ৫-স্পিড গিয়ার বক্স নিয়ন্ত্রিত।আর নতুন মডেলে এর ইঞ্জিন থেকে কিক-স্টার্টারটি বাদ দিয়ে কেবল সেলফ স্টার্টার রাখা হয়েছে। তাই সবমিলিয়ে বলা যায় নতুন ভার্শনে জিক্সারের ইঞ্জিনটি আরো বেশি পরিশিলিত পারফর্মেন্স ও ফুয়েল ইকোনমি নিশ্চিত করে টিউন করা হয়েছে।

রুশ ভাষায় প্রথম কোরআন অনুবাদক চলে গেলেন না ফে’রার দেশে

রুশ ভাষায় প্রথম কোরআন অনুবাদক চলে গেলেন না ফে’রার দেশেপোরুখোভা ইংরেজি থেকে সরাসরি কোরআন অনুবাদ করেন। এরপর সূক্ষ্ণ, সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করেন করেন। সম্পাদনার সময় কিছু কিছু তাফসির সংযোজন করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, রুশ অঞ্চলের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার অনুবাদটিকে সবচেয়ে ভালো অনুবাদ বলে মূল্যায়ন করেছে।

কোরআনের অনুবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিখ্যাত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল-আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় খুব দ্রুত (১৯৯৭ সালে) এটি প্রকাশের জন্য অনুমোদন দেয়। এর আগে কয়েক বছর পুনর্পাঠ ও প্রাসঙ্গিক সম্পাদনার করা হয়।রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের বিখ্যাত মুসলিম দাঈ ও ধর্মবেত্তা ড. মুহাম্মদ সাইদ আর-রুশদকে বিয়ে করেন পোরুখোভা। তার হাতেই ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে ঈমান রাখেন। পরবর্তীতে রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে মুসলমানদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভ্যালেরিয়া পোরুখোভার বেশ চমৎকার রয়েছেবিভিন্ন রুশ লেখক বলেন, তার অনুবাদটি বিশ শতকের শেষের দিকে রাশিয়ান ভাষায় রচিত সেরা অন্যতম সেরা একটি গ্রন্থ। পোরুখোভা রাশিয়ান লেখক ইউনিয়ন, রাশিয়া-মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি সাহিত্য ও বৈজ্ঞানিক একাডেমির সদস্য ছিলেন।

ভারত সফর বাতিল করলেও পাকিস্তান যাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কাশ্মীরের ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই। তবে ভারত সফর বাতিল করলেও চলতি সপ্তাহেই তিনি পাকিস্তান সফর করবেন।জানা গেছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য ৯-১০ সেপ্টেম্বর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরের কথা ছিল। তবে কাশ্মীরের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এ সফর বাতিল করেছেন।

তবে ভারত সফর বাতিল করলেও চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তান আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই। ইসলামাবাদে চীন,আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।গত ৫ আগস্ট ভারত কর্তৃক জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (স্বায়ত্বশাসন) বাতিল নিয়ে পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও সীমানা বিতর্কে জড়িয়েছে ভারত সরকার।

ওই ঘটনার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র হুয়া চুনইয়াং এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশে ভারতের প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে চীনা এলাকার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং। ভারত অভ্যন্তরীণ আইন একতরফা সংশোধন করায় চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরীণ আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় পক্ষ একতরফা চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে যাচ্ছে।

হুয়া বলেন, কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা পাকিস্তান ও ভারতকে বিরোধীয় অঞ্চল নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।চীন ভারতকে সীমান্তের সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছিল।

আবাসিক হোটেল থেকে প্রেমিক যুগলকে আটকের পর ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে থানায় বিয়ে !

দিনাজপুরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে প্রেমিক যুগলকে আ*টকের ১৫ ঘণ্টা পর কোতোয়ালি থানায় ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় থানায় বিয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ ৫৪ ধারায় তাদের গ্রে*ফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। পরে আদালত প্রেমিক যুগলের জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রেমিক আল মামুনুর রশিদ সরকার (২৬) ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান আলী সরকারের ছেলে। আর প্রেমিকা দুলালী পারভীন ( ২৩) একই উপজেলার টেংরিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে।কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন জানান, দিনাজপুরের একটি আবাসিক হো*টেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে রাত্রিযাপন করার সময় তাদেরকে আটক করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একে অপরকে ভালোবাসেন বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে কোতোয়ালি থানায় ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয় ।তিনি আরও জানান, স্থানীয় কাজী আব্দুল গাফফার মিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে মেয়ের খালু মতিউর রহমানের উকালতিতে এই বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় কাজী আব্দুল গাফফার মিয়া জানান, উভয়পক্ষের সম্মতিতে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে যৎ সামান্য টাকা মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও একজন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে নবদম্পতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।দিনাজপুর পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম রবি জানান, তার উপস্থিতিতে ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক উভয়পক্ষের অভিভাবকের উপস্থিতিতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয় ।

তবে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজওয়ানুর রহিম বলেন, থানায় কোনো বিয়ে হয়নি। থানা বিয়ের জায়গা নয়। আমরা প্রেমিক যুগলকে আটক করে আদালতে চালান দিয়েছি।

জেলখানায় মিন্নিকে যে নির্যা’তনের কথা জানালো তা শুনলে অবাগ হবেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো ধরনের কথা না বলার শর্তে বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের জি’ম্মায় মুক্তি পেয়েছেন বরগুনার আলোচিত রিফাত হ’ত্যা মামলার সাক্ষী থেকে আসা’মি হওয়া তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। তবে কারামুক্তির পর গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দিলেও মিন্নি তার উপর অমানু’ষিক নি’র্যাতনের কথা বাবাকে জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘মিন্নি পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় তার হাঁটুতে আ’ঘাত করা হয়েছে। সে শারী’রিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। যার কারণে তাকে কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় আনা হয়েছে।’
উন্নত চিকিৎসার জন্য মিন্নিকে ঢাকা অথবা বরিশালে নিয়ে যাবেন জানিয়ে তার বাবা বলেন, ‘বাসা থেকে যখন সাক্ষী হিসেবে মিন্নিকে প্রথমে পুলিশ লাইনে আসামি শনাক্তকরণের কথা বলে নেওয়া হয় সেই থেকেই চলে নি’র্যা’তন।

আদালতে তোলার আগের রাতে মিন্নিকে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। সারা রাত দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এমন কি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেও (প্র’সাব করতে) দেওয়া হয়নি।’মিন্নি মোজাম্মেল হক কিশোর আ’ক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এক নম্বর সাক্ষী থেকে আসামি করে চার্জশিট দিয়েছে বরগুনার একটি কু’চ’ক্রী মহলের কারণে।’কু’চ’ক্রী মহলের কারা জানতে চাইলে মিন্নির বাবা বলেন, ‘যারা বরগুনায় নয়ন বন্ড তৈরি করেছে, ইয়া’বা মা’দকের সিন্ডি’কেট গড়ে তুলেছে,

যে প্রভাবশালী মহলের নাম ইতিপূর্বে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তারাই আমার মেয়েকে সাক্ষী থেকে আসামির কাঠগড়ায় এনেছে। এমন কি মিন্নিকে ঢাকা থেকে যেন জামিন করাতে না পারি সেজন্য সেই কু’চ’ক্রী মহল তখন ঢাকায় অবস্থান করছিল।’মিন্নি বাসায় এসে চুপচাপ হয়ে গেছে জানিয়ে মোজ্জাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘একদিকে স্বামী হারানোর শোক, অপরদিকে মিথ্যা হয়’রা’নিমূলক মামলা।

দেশে ফেরা হলো না হাজি জব্বারের, জেদ্দা বিমানবন্দরে মৃ’ত্যু হলো তার

জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসবি-৩৮১৪ ফিরতি হজ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বিমানবন্দরে অন্যান্য হাজিদের সঙ্গে দেশে ফেরার অপেক্ষায় বসে আলাপ করছিলেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। হঠাৎ করেই তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

প্রথমে হাজিরা নিছক শ্বাসকষ্ট মনে করে পানি খাইয়ে বেঞ্চে শুইয়ে দেন। কিন্তু শ্বাসক’ষ্ট বাড়তে থাকলে খবর পেয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে বাংলাদেশ মেডিকেল টিমের সদস্যরা ছুটে আসেন।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আবদুল জব্বার মৃ**ত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার পাসপোর্ট নম্বর বিওয়াই ০৯৩৮২৯৫। পিলগ্রিম আইডি ০২৫৪১৭৫।

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তার মৃ**ত্যু হয়। জেদ্দা বিমানবন্দরে কর্মরত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ওই হজযাত্রীর মৃ*ত্যুর খবর জানান।

নিয়মানুযায়ী মৃ***ত্যুর পরপরই মৃ**তের লা*শ দাফনের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

আবদুল জব্বার হজের উদ্দেশ্যে গত ২৬ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্সের (এসবি-৩৮০৫) ফ্লাইটযোগে সৌদি আরব যান। আজ বিকেল পৌনে ৫টায় তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের পাশে দাড়ালেন মমতা

আসামের প্রকৃত নাগরিকদের নামের তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১৯ লাখের বেশি মানুষ।

আসামের এনআরসি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় অনলাইনে তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

তবে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। এর বিরুদ্ধে আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

এ ইস্যুতে সোমবার বিকেলে তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আসামের নাগরিক তালিকার বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের অভিযোগ ভারতে বিভাজনের রাজনীতি করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। আসামের নাগরিক তালিকাও এই বিভাজনের রাজনীতিরই অংশ। এর বিরুদ্ধে আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

১২ সেপ্টেম্বর কলকাতার চিড়িয়া মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এতে অংশ নিতে পারেন।

দলের একজন বলেন, দলীয় বৈঠকে আসামের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে যে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষের কাছে গিয়ে বিজেপির অশুভ দিক তুলে ধরতে। যেমন : তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে।

তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে উত্তর পূর্বের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিম এবং রাজ্যসভার সদস্য তথা উপনেতা সুখেন্দুশেখর রায়কে।

এনআরসি নিয়ে দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ, আসাম থেকে বাঙালিদের তাড়াতে এনআরসিকে হাতিয়ার করা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ‘সরকার কী করে এতটা হীনমন্য হতে পারে যে, একটা সকালে তারা নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশ করল এবং আসামের কয়েক দশকের বাসিন্দারা ঘরছাড়া হলেন?’

এ দিকে আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও ‘বাংলাদেশী মুসলমানদের’ তাড়াতে নাগরিক তালিকা তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ভাষায়,

ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে ‘বাংলাদেশী মুসলমানদের’ তাড়াতে পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জি করা হবে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে বিজেপি।

অ্যাম্বুলেন্সও দিলোনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশেষে মেয়ের ম’রদেহ নিয়েই রওনা দিলেন বাবা

অ্যাম্বুলেন্স দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেয়ের মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার টাকাও ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে সাত বছরের মেয়ের মৃতদেহ কোলে নিয়েই হাঁটতে শুরু করলেন অসহায় বাবা। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায়। অসহায় ওই ব্যক্তির নাম সম্পত কুমার। তার বাড়ি তেলেঙ্গানার রাজ্যের পেড্ডাপল্লির কুনাভরম গ্রামে।

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রকাশ হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের প্রবল সমালোচনা করছেন বিরোধীরা দলের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সম্পত কুমারের সাত বছরের মেয়ে কোমলতা। বাধ্য হয়ে তাকে করিমনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন সম্পত।গত রোববার হাসপাতালে মারা যায় শিশু। এতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সম্পত। মেয়ের মৃতদেহ নিজের গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানায়, অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে গেছে। তাই মৃতদেহ নিয়ে যেতে চাইলে বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার মতো টাকা ছিল না সম্পতের পকেটে।তাই প্রিয় সন্তানের মৃতদেহ বুকে জড়িয়ে হাসপাতাল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। রাস্তা দিতে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে কোলে নিয়ে ফিরছিলেন সম্পত।

কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর তাকে ওই অবস্থায় হাঁটতে দেখে কী হয়েছে জানতে চান এক অটো-চালক। পুরো বিষয়টি শোনার পর নিজের অটোতে করে সম্পতকে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেন ওই অটো-চালক। পরে সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশ হতেই শোরগোল পড়ে যায় পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যে। এদিকে,

পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ওই ব্যক্তি তাড়াহুড়া করছিলেন। তিনি নিজেই মেয়ের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন