একই পরিবারের ৮ জনের ইসলাম গ্রহণ

পবিত্র ইসলাম ধর্মের আচার অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় বিধি বিধান এবং নিয়ম কানুন ভালো লাগায় ও পবিত্র ইসলাম ধর্মে আকৃষ্ট হয়ে চাঁদপুরের কচুয়ায় হিন্দু থেকে একই পরিবারের ৮জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।তারা হলেন, গৌরাঙ্গ (ইব্রাহিম খলিল), স্ত্রী আলো রানী (আফরোজা), কন্যা মিতা (জান্নাত), ছেলে হৃদয় (আব্দুল্লাহ), লক্ষী (কাজলী), প্রতিমা (সীমা), মিতু ও সাধনা।

কচুয়ার দহুলিয়া দরবার শরীফের পীর আবুল হাসান শাহ মুহাম্মদ রুহুল্লাহ শাজুলী তাদেরকে পবিত্র কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু-মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ পাঠ করে ইসলামিক শরীয়ত নিয়ম অনুসারে তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করান। পরে নামের পরিবর্তন করে ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক নাম রাখা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান মিয়া বলেন, হিন্দু ধর্ম থেকে গৌরাঙ্গ ও তার পরিবারের সদস্যরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বিষয়টি খুব ভাল। তবে এলাকাবাসীসহ তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে আসছি।

একটি শিক্ষামূলক পোস্ট, শালী মারা যাওয়ার পর লাশের …এমন সময় তার দুলাভাই…

শালী মারা যাওয়ার পর লাশের চার পাশে মহিলারা কুরআন তেলাওয়াত করতেছে। এমন সময় তার দুলাভাই এসে দাবি করল,”আমি আমার শালীকে শেষ গোসলটা করাইতে চাই!এই কথা শুনে আশে পাশের মানুষ হামলে পড়ল, তারা দুলা ভাইকে বুঝিয়ে দিল, ফতোয়া কত প্রকার কি কি? একজন তো হেব্বি গরম হয়ে বলেই ফেলল, “মরার পরে শালীকার মুখ দেখাও নাজায়েয, আর তুই গোসল করাইতে চাস মানে!?”

এইবার দুলাভাই বলা শুরু করল, আমার শালীকা যখন জীবিত ছিলো, তখন কতবার হাত চেপে ধরছে ৫০০ টাকার জন্য, গলা জড়িয়ে ধরছে মেলায় যাওয়ার জন্য, আমার মটর সাইকেলের পিছনে উঠার জন্য, কত কি যে করেছে! তখন সবই জায়েজ ছিলো, আর মরার সাথে সাথে মুখ দেখাও নাজায়েজ হয়ে গেল?এতদিন কোথায় ছিল আপনাদের ফতোয়া??

তখন একজন বুঝিয়ে দিল, মৃত অবস্থার তুলনায় জীবিত থাকা অবস্থাতেই দুলা ভাইয়ের সামনে পর্দা মেইনটেইন করা অনেক বেশি জরুরী ছিল।দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় তার জন্য পর্দা করা ফরজ ছিল। কিন্তু আজ যদি আপনি তার কাফনের ৫ টুকরা কাপড়ের উপরে আরও ৬ টুকরা এক্সট্রা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন, তাতে কোনো লাভ হবেনা।

আর মরা মানুষকে কুরআন তেলোয়াত শুনিয়ে লাভ কি? জীবিত থাকতে কেউ যদি কুরআন মেনে চলতে না পারে, তাহলে মরার পরে কুরআনকে তাবিজ বানিয়ে তার কবরে পাঠিয়ে দিলেও বিন্দু পরিমাণ লাভ হবে না।

আল কোরআন মরা মানুষের জন্য নাযিল হয় নাই! আল কোরআন নাযিল হয়েছে আমরা যারা জীবিত আছি তাদের হেদায়াতের জন্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ভাবে দ্বীন বুঝার তৌফিক দান করুন — আমিন!

ইহুদীদের বাধা ভেঙ্গে আল-আকসা মসজিদে জুমা আদায় করল ৪০ হাজার মুসল্লি

পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিনিদের রক্ষার্থে খুব শিগগির বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব মুসলিমকে আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিব শায়েখ ইসমাইল নুওয়াহাজাহ।শুক্রবার ব্যাপক-বাধা নিরাপত্তা তল্লাশি সত্ত্বেও ৪০ হাজার মুসল্লি জুমা আদায় করতে আল-আকসায় উপস্থিত হয়েছিলেন। জুমায় আগত ৪০ হাজার মুসল্লির উদ্দেশে দেয়া খুতবায় তিনি এই আহ্বান জানান। খবর আনাদলু আরবির।

জুমার খুতবায় শায়খ ইসমাইল বলেন, মুসলমানরাই আল-আকসার প্রকৃত মালিক। ইহুদিবাদীরা আল-আকসা ও জেরুজালেমে মুসলমানদের ওপর যে ঘৃণ্য হামলা অব্যাহত রেখেছে, এটা গোটা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের শামিল।শান্তি ও শান্ত পরিস্থিতি ফিরে পেতে দ্রুত আল-আকসা রক্ষা আন্দোলন জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দখলদাররা সব মাধ্যম এবং পদ্ধতি অবলম্বন করে জেরুজালেমকে মুসলিমশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে, মুসলমানদের জীবনকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।জেরুজালেম ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফারাস আদ-দুবস জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর বাধা ও ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি সত্ত্বেও এ সপ্তাহে ৪০ হাজার মুসল্লি জুমা আদায় করতে আল-আকসায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

মুসল্লিদের ভিড়ে মসজিদ এলাকার বাইরেও শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার ভোর থেকে ইসরাইলি পুলিশ আকসা প্রাঙ্গণে তল্লাশি বাড়িয়ে দেয়।গত মাসে ১৬ বছর পর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পবিত্র আল আকসা মসজিদের বাব আল-রহমায় নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তারা আল আকসার এ অংশে প্রবেশ করেন।

এর জেরে জেরুজালেমের ওয়াকফ কাউন্সিলের পরিচালক শেখ আবদুল আজিম সালহাবকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল পুলিশ। এমন উত্তেজনার মধ্যে এ সপ্তাহের জুমায় বিশ্বের প্রতিটি মসজিদের খতিবদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিন সম্পর্কে খুতবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্সদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আল-ইত্তিহাদুল আলামিয়্যু লি-উলামায়িল মুসলিমিন (ওয়ার্ল্ড ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স)।

এদিকে গত ৪ মার্চ জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যবহৃত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে তা ইসরাইলি মিশনের সঙ্গে একীভূত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া আল আকসা মসজিদের বাবে রহমত ফটক নিয়েও সংঘর্ষ চলছে দু’সপ্তাহ পর্যন্ত।

১ মার্চ দখলদার ইসরাইল জেরুজালেম নগরীতে মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক যে নিপীড়নমূলক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এর কঠোর নিন্দা জানানো হয়।

জুমার নামাজ না পড়লে যে ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন রাসূল (সা.)

মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হল শুক্রবার অর্থাৎ জুমার দিন। ফজিলতের কারণে এদিনটি গরীবের ঈদের দিন বলা হয়ে থাকে। জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন ঘোষণা দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)। অপর দিকে বিনা বারণে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়ার জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।

জুমার নামাজ না পড়ার পরিণাম:
রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুমা বিনা ওজরে ও ইচ্ছা করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। (তিরমিযী,আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।

অপর এক হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, জুমা ত্যাগকারী লোকেরা হয় নিজেদের এই খারাপ কাজ হতে বিরত থাকুক। (অর্থাৎ জুমার নামাজ আদায় করুক), নতুবা আল্লাহ তাআলা তাদের এই গোনাহের শাস্তিতে তাদের অন্তরের ওপর মোহর করে দেবেন। পরে তারা আত্মভোলা হয়ে যাবে। অতপর সংশোধন লাভের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে যাবে। (মুসলিম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পর পর তিনটি জুমা পরিত্যাগ করবে, সে ইসলামকে পিছনের দিকে নিক্ষেপ করল। (মুসলিম)।

তবে আবার রাসূল (সা.) বলেছেন, চার শ্রেণির লোক ব্যতিত জুমআ’র নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। চার শ্রেণির লোক হল- ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি। (আবু দাউদ)।মহান আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করে ভয়াবহ শাস্তি থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন

প্রতি শুক্রবার এই শিশুর শরীরে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের একেকটা বানী লেখা ভেসে ওঠে!

উত্তর রাশিয়ার দাগিস্তানে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয় শিশু আলিয়া ইয়াকুব। প্রতি শুক্রবার তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ত্বকের নীচে জমাট রক্তের মতো হরফে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের একেকটা বানী লেখা ভেসে ওঠে। এর স্থিরচিত্র বিভিন্ন মানুষ তুলে রাখেন। বাড়িতে একটি অ্যালবামের প্রদর্শনী খোলা হ

য়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি টেলিভিশন শিশুটির মায়ের সাক্ষাৎকার নেয়।
শিশুটির মা টেলিভিশনটিতে বলেন, ‘যে সময় তার দেহে আয়াত বা হাদিস ভেসে ওঠে এর আগে তার অনেক জ্বর আসে। সে সময় সে প্রচণ্ড কান্না করতে থাকে। এরপর লেখাগুলো ভেসে উঠলে জ্বর কমে এবং কান্না থেমে যায়। দুধ পান করার সময়ও সে খুব শান্ত থাকে। ভিডিওটিতে শিশুটির নানা অঙ্গে আয়াত ও হাদিসের কিছু চিত্র দেখা যাবে। কিছু স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘এটি আল্লাহর কুদরত ও মহানবী স-এর মুজিযা। যে কোনও কারণে আল্লাহ তা তার বান্দা অথবা প্রকৃতির মধ্যে প্রকাশ করে থাকেন। যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ ও ঈমান মজবুত করতে পারে।’অনেকে বলছেন, ‘এটি ইমাম মাহাদির আগমনের অন্যতম নমুনা। কিয়ামতের নিদর্শনও হতে পারে এটি।

শিশুটির পেটে ‘আল্লাহ’ গলায়, পায়ে, ঘাড়ে, পিঠে ও কানে আল্লাহর নাম। পা থেকে উরু হয়ে কোমর পর্যন্ত লম্বা লেখাটি হচ্ছে একটি হাদিসের বানী। যার অর্থ, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে হাসতে কম কাঁদতে বেশি।’টিভিতে বলা হয়, প্রতিদিন আলিয়া ইয়াকুবদের বাড়িতে গড়ে ২ হাজার লোক বিস্ময়কর এ ঘটনা দেখতে আসেন।

নামাজের সালাম ফেরানোর পর প্রিয়নবি কিছু সময় দোয়া ও তাসবিহ পড়তেন

নামাজের সালাম ফেরানোর পর প্রিয়নবি কিছু সময় দোয়া ও তাসবিহ পড়তেন। তাঁর উম্মতকেও এ সব দোয়া পড়তে উৎসাহ প্রদান করতেন।যে সব নামাজের পর সুন্নত কিংবা নফল নামাজ রয়েছে সেসব নামাজে সংক্ষেপে দোয়া পড়তেন। আর যেসব নামাজে সুন্নত কিংবা নফল নামাজ নেই তাতে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময় ধরে দোয়া ও তাসবিহ পড়তেন।হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজের সালাম ফেরাতেন, তখন এ দোয়া পাঠ করা পরিমাণ সময়ের বেশি বসে থাকতেন না। (আর তাহলো)-
اَللهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ تَبَرَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া জাল ঝালালি ওয়াল ইকরাম।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি নিজেই শান্তিময়। আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে প্রতাপশালী ও সম্মানের অধিকারী! তুমি বরকতময়।’ (মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে, নামাজ শেষে প্রিয়নবি বলতেন-
হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজ শেষ করতেন, তখন ৩বার ইসতেগফার করতেন-
اَسْتَغْفِرُ الله
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহ
অর্থ : হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন। অতঃপর বলতেন-
اَللهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ تَبَرَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া জাল ঝালালি ওয়াল ইকরাম।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি নিজেই শান্তিময়। আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে প্রতাপশালী ও সম্মানের অধিকারী! তুমি বরকতময়।’ (মুসলিম)

হাদিসের শেখানো ভাষায় ও পদ্ধতিতে নামাজ শেষে সংক্ষেপে দোয়া ও তাসবিহ পড়া সুন্নাত ও বরকতময় ইবাদত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষ করে হাদিসে ঘোষিত দোয়ার আমল যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।-জাগো নিউজ

তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও ব্রুনেইয়ে কঠোর ইসলামি শরিয়াহ আইন কার্যকর

বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও এশিয়ার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনেইতে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক একাধিক কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ওই সব আইন কার্যকর হয়। আইনগুলোর একটিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও সমকামিতার জন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানরয়েছে।

বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ব্রুনেইয়ের এক পাশে মালয়েশিয়া ও অপর প্রান্তে দক্ষিণ চীন সাগর। প্রাকৃতিক সম্পদশালী এই দেশটির বেশির ভাগ মানুষই মুসলমান। দেশটির সব ক্ষমতার অধিকারী সুলতান হাসান-আল বলকিয়াহ। কয়েক বছর ধরেই দেশটিতে ইসলামি শরিয়াহ আইন প্রণয়নের কথাবার্তা হচ্ছিল।

তখন থেকেই বিশ্বের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, তারকা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই রকম আইনের বিরোধিতা করে তা প্রণয়ন না করতে ব্রুনেই কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। অবশেষে গতকাল ওই সব আইন কার্যকরের ঘোষণা দেন ব্রুনেইয়ের সরকারি কর্মকর্তারা।

নতুন আইনের দণ্ডবিধিতে চুরির অপরাধে অঙ্গচ্ছেদের (হাত-পা কেটে নেওয়া) বিধান রয়েছে। ধর্ষণ ও ডাকাতির সাজা মৃত্যুদণ্ড। আইনগুলোর আরেকটিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এটা মুসলমান বা অমুসলমান উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে এই রকম শরিয়াহ আইন বলবৎ থাকলেও পূর্ব অথবা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্রুনেইতেই প্রথম।

ব্রুনেইতে শরিয়াহ আইন কার্যকরের আগেই তা নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্কের ঝড় ওঠে। জাতিসংঘ এই আইনকে ‘নিষ্ঠুর’ ও ‘অমানবিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা জর্জ ক্লুনি, পপ তারকা এলটন জনসহ বিশ্বের প্রথম সারির তারকাও শরিয়াহ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার সহকারী পরিচালক ফিল রবার্টসন এই আইনকে পুরোপুরি ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দেন। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, এই আইন নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রও এ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেছেন, শরিয়াহ আইনের দণ্ডবিধির ২ ও ৩ নম্বর ধারা বাস্তবায়নে ব্রুনেইয়ের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের আইনের একেবারেই বিপরীত।

তবে পাঁচ দশক ধরে সিংহাসনে থাকা সুলতান হাসান-আল বলকিয়াহ এই শরিয়াহ আইনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গতকাল পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে রাজধানীর বন্দর সেরি বেগওয়ান থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে তিনি দেশটিতে ইসলামিক অনুশাসন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।-এএফপি, ব্রুনেই/প্রথম আলো

মেরাজে গিয়ে মহানবী (সা.) জাহান্নামে নিজ চোখে যা অবলোকন করেছেন-

মেরাজে গিয়ে মহানবী (সা.) জান্নাত ও জাহান্নাম নিজ চোখে অবলোকন করেছেন। জাহান্নামে তিনি একদল লোক দেখলেন, যারা তামার তৈরি নখ দিয়ে অনবরত নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে আঁচড় মারছে।

জিবরাইল (আ.) বললেন, এরা মানুষের গোশত খেত (গিবত করত)। (আবু দাউদ : ৪৮৭৮, মুসনাদে আহমাদ : ৩/২২৪, তাফসিরে ইবনে কাসির : ৫/৯)এরপর এমন কিছুসংখ্যক লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাদের জিব ও ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে।

জিবরাইল (আ.) বলেন, এরা আপনার উম্মতের দুনিয়ায় স্বার্থপূজারি উপদেশ দানকারী, যারা অন্যকে সৎ কাজের নির্দেশ দিত, কিন্তু নিজের খবর রাখত না। (মা’আরেফুল কোরআন : ৩৭, মুসনাদে আহমাদ : ১২২১১)

অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়কে দেখলেন, পাথর দ্বারা যাদের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করা হচ্ছে। জিবরাইল (আ.) বলেন, তারা নামাজে অলসতা করত। (ফাতহুল বারি : ৭/২০০)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটাক্ষ করলে মৃত্যুদণ্ডের আইন ব্রুনাইয়ে

সমকামিতা, পরকীয়া, ব্যাভিচার ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটাক্ষ করলে উন্মুক্ত মঞ্চে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন চালু করতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র ব্রুনাই। ৩ এপ্রিল (বুধবার) থেকে এই আইন দেশটিতে কার্যকর করা হবে।
এছাড়া চুরি ও ধর্ষণের মত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড জারি করতে যাচ্ছে ব্রুনাই।তবে এই আইন জারি করতে যাওয়ায় দেশটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অনেক মানবাধিকার সংস্থা ব্রুনাইয়ের এমন আইনের কড়া বিরোধিতা করছে।

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে ব্রুনাইয়ের এমন আইনকে ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া সমালোচনা করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাচলেট সোমবার এক বিবৃতিতে ব্রুনাইয়ের এই আইন কার্যকর না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।এছাড়া অনেক দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ব্রুনাইয়ের সুলতান ২০১৩ সালে ইসলামি শরিয়া আইনে দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন।
১৯৮৪ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে আলাদা হলেও এখনো ব্রিটেনের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে শুরু থেকে অনেক বেশি ধর্মীয় গোঁড়ামি বলে পরিচিত। মুসলিম অধ্যুষিত ব্রুনাইয়ে মদ বিক্রি থেকে মদ্যপান সবটাই নিষিদ্ধ। এছাড়া জুয়াও দেশটিতে একপ্রকার নিষিদ্ধ।

তিন দিক থেকে মালয়েশিয়া ও এক দিকে চীন সাগর বেষ্টিত দেশটিতে সম্প্রতি ইসলামি শরিয়া আইন চালু হয়েছে। ব্রুনাইয়ের সুলতান ২০১৪ সালে ইসলামি শরিয়া আইনে দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন।
এদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে ব্রুনাইয়ের গবেষক ব়্যাচেল চো হাওয়ার্ড বলছেন, ‘ব্রুনেই প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই ভয়ংকর আইন পাশ হওয়া স্থগিত করা। দণ্ডবিধি করতে হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে। কিন্তু তা মানছে না এই দেশটি। আন্তর্জাতিক মহল এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।’

যদিও এসব কথা বিশেষ কানে তুলছেন না ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান-অল-বলকিয়া। তার কথায়, ‘আমাদের এই আইনকে কেউ সমর্থন করতে পারে, বা নাই পারে। কিন্ত আমি নিশ্চিত, অন্যরা আমাদের যেভাবে শ্রদ্ধা করে, সেই শ্রদ্ধা অটুটই থাকবে। এতে আমাদের নিয়ে ধারণা কারও বদলে যাবে না।’
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, টাইমস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইউএন

পবিত্র শবে মেরাজ আজ

আগামীকাল ৩ এপ্রিল বুধবার সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। গতকাল ২ এপ্রিল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানায়।

এদিকে পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ বুধবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম মি’রাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে জ্ঞানগর্ব আলোচনা করবেন। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করবেন।

আজ বুধবার দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক, অসামান্য, মহাপূণ্যে ঘেরা রজনী। এ রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের।আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের একাদশ বর্ষের ২৬ রজবের দিবাগত গভীর নিশিথে মহান আল্লাহর খাস রহমতে হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরে ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা, অত:পর সত্তর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন।

মেরাজকালে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহ তায়ালার অফুরান রহমত-বরকত-মাগফিরাতে সমৃদ্ধ। আরবী শব্দ মেরাজ অর্থ উর্ধারোহণ। এ মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চে কম দূরত্বে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ।

এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি। অতএব এই রাত্রিতে যতদূর সম্ভব জেগে নফল নামাজ, জিকির-আযকার, কুরআন তিলওয়াত ও দরুদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা এবং নফল নিয়তে দিবা ভাগে রোজা রাখা ভাল, এগুলো ব্যাতীত এই রাত্রে অন্য কোন প্রকার শরীয়ত বিরোধী রুসম-রেওয়াজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আর যেহেতু এই রাতের তোহফা ৫ ওয়াক্ত নামাজ তাই বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ে শুকরিয়া আদায় করা।

শবে মেরাজের ইবাদত সম্পর্কে হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ও সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, নিঃসন্দেহে রজব মাসে এমন একটি মহান দিন ও রাত রয়েছে, কোন মোমিন যদি ঐদিনে রোযা রাখে ও রাতে নামাজে মশগুল থাকে, তার প্রতিদান হবে যেন সে একশ বছর দিনে নফল রোযা ও রাতে নফল নামাজ পড়েছে।সেই মহান রাতটি হলো রজবের সাতাশতম রাত। (গুনিয়াতুত্বালিবীন)। তবে এ রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, আতশবাজি, আলোক সজ্জা ইত্যাদি সবই বিদ‘আতের পর্যায়ভুক্ত বলে মত দেন উলামারা।