ট্রেনের টয়লেটে ধ’র্ষ’ণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে মাদরাসাছাত্রী আসমাকে !

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) একটি ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির টয়লেটের ভেতর থেকে উ’*দ্ধার হওয়া মাদরাসাছাত্রী আসমা আক্তারের (১৭) লা*শের ময়নাত’*দন্ত গতকাল সম্পন্ন হয়েছে।ময়না ত*’দন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তরুণীকে শ্বা’সরোধে হ**’ত্যা করা হয়েছে। তার আগে তাকে ধ*’র্ষণ করা হয়েছে। তবে এটা গণধ’র্ষণ কি না তা নিশ্চিত হতে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানানো যাবে।

এ দিকে ঘটনার প্রায় দুই দিন পরও এ ঘটনার সাথে জ’ড়িত কোনো দুর্বৃত্তকে পু*’লিশ গ্রে*’ফতার করতে পারেনি। শুধু পু’লিশ নয়, এ ঘটনার দায়দায়িত্ব বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা।এ প্রসঙ্গে জানতে গতকাল সন্ধ্যার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোহাম্ম’দ শামছুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, কমলাপুর স্টেশনে কোনো খু’*নের ঘটনা ঘটেছে কি না সেটি আমি এখনো খবর নিতে পারিনি।

আমি এ মুহূর্তে জরুরি কাজে যশোর এসেছি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি পু’লিশ দেখবে।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে আসমা’র লা’শের ময়নাত’দন্ত সম্পন্নের পর ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা: প্রদীপ বিশ্বা*’স সাংবাদিকদের বলেন, ময়নাত’দন্তের সময় মেয়েটির গলায় আম’রা দাগ দেখতে পেয়েছি। তাকে শ্বা’সরো’ধে হ*’ত্যা করা হয়েছে। হ’ত্যার আগে যে তাকে ধ’*র্ষণ করা হয়েছে সে আলামত পেয়েছি।

তবে একাধিক ব্যক্তির ধ’*র্ষণের শিকার হয়েছে কি না সেটি জানতে টিস্যু, (হাই ভ্যাজাইনাল সফ) র’ক্ত ও ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ওয়াশফিড এলাকার পবিত্যক্ত বলাকা ট্রেনের একটি বগির টয়লেট থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পু’লিশ আসমা আক্তারের লা’শ উ’দ্ধার করে।

সোমবার রাতে কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি রুশো বনিক নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মোতাবেক কমলাপুর রেল স্টেশনের ওয়াশফিড এলাকায় বলাকা ট্রেনের একটি ডেমেজ বগির টয়লেটের ভেতর থেকে ১৭-১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর লা’শ উ’দ্ধার হয়েছে। লা’শটি উ’দ্ধারের সময় গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। ধারণা করছি, মেয়েটিকে দু’র্বৃত্তরা শ্বা’সরো’ধে হ’**ত্যা করতে পারে।

তবে এর আগে সে ধ’র্ষিত হয়েছে কি না সেটি ময়নাত’দন্তের আগে বলা যাচ্ছে না। মেয়েটির শরীরের কোথাও আ’ঘাতের চিহ্ন পাইনি। এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, আম’রা লা’শের পাশ থেকে তার ব্যবহৃত একটি ব্যাগ পেয়েছি। সেই ব্যাগে কিছু কাগজপত্র ছিল।বার্থ সার্টিফিকেট ছিল। সেই অনুযায়ী তার পরিচয় আম’রা নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করি। আসমা’র গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজে’লার শীলপাড়ায়। তার পিতার নাম আব্দুল রাজ্জাক মিয়া।

তবে আসমা’র চাচা মো: রাজু পু’লিশকে বলেছেন, রোববার সকাল থেকে তার ভাতিজি আসমা নিখোঁজ ছিল। সোমবার পু’লিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে লা’শ শনাক্ত করেন। তিনি আরো জানান, আসমা গ্রামের একটি মাদরাসা থেকে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। ওই গ্রামের একটি ছেলের সাথে তার প্রেমের স’ম্পর্ক ছিল।আসমা নিখোঁজের পর থেকে ওই ছেলেকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অ’ভিযোগ করেন, এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের সাথে ওই ছেলে জ’ড়িত থাকতে পারে। নি’হত আসমা’র বাবা একজন কৃষক। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি রুশো বনিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ডিউটি অফিসারের টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি ফ্যাক্সের লাইনে চলে যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা অ’ত্যন্ত দুর্বল। এক কথায় অরক্ষিত। যার কারণে প্রতিদিন স্টেশনে ছোট-বড় অ’প’রাধ সংগঠিত হলেও সেদিকে কারো দৃষ্টি দেয়ার সময় নেই বলে ভু*ক্তভোগীদের কাছ থেকে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

আর এসব ছিচকে চো’র থেকে শুরু করে খু’নিরা পর্যন্ত অনেকটা প্রকাশ্যেই স্টেশনে ঘোরাফেরা করলেও পু’লিশ, আনসার ও আরএনবির সদস্যদের সেদিকে তেমন নজর নেই।তারা বেশির ভাগ ব্যস্ত থাকেন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কিভাবে স্টেশনে ঢোকানো যায় এবং তাদের কাছ থেকে টাকা কামাই করা যায়। তবে কমলাপুর রেলস্টেশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মক’র্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, স্টেশনের মূল ফট’ক ছাড়াও আশপাশ থেকেও যেকোনো লোক স্টেশনের ভেতরে অবাধে প্রবেশ করতে পারে।

যার কারণে তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। লোকজনের অবাধে স্টেশনে প্রবেশের কথা বারবার রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের জানানোর পরও তারা এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না।