সৌদি প্রবাসীদের ‘আকামা’ পদ্ধতিটি আর থাকছে না !

সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য প্রচলিত ‘আকামা’ (কাজের অনুমতিপত্র) পদ্ধতির পরিবর্তে দেওয়া হবে নতুন পরিচয়পত্র। এটিকে ‘আকামা’র পরিবর্তে ‘পরিচয়পত্র’ বলা হবে।এর ফলে সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য প্রচলিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘আকামা’ পদ্ধতিটি আর থাকছে না। সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের প্রধান সহকারী পরিচালক কর্নেল খালেদ আল-সাইখান ‘আরব নিউজ’ কে জানান, আকামা জালিয়াতিসহ তথ্য নিবন্ধন সহজ করার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।তিনি বলেন, ডাকযোগে প্রবাসীরা নতুন এই পরিচয়পত্র পাবেন। এতে তাদের সব ধরনের তথ্য থাকবে এবং অনলাইনের মাধ্যমেও নবায়ন করা যাবে।

সৌদি প্রবাসীদের কাজের ক্ষেত্র আরও কমে আসছে
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিশাল আয়তনের দেশ সৌদি আরব। দেশটির আয়তনের বিশাল একটা অংশ বালুময় মরুভূমি। রয়েছে বিশাল বিশাল পাহাড়। মরুভূমির এই দেশটিতে এক সময় বাংলাদেশ সরকারের হিসাব মতে প্রায় পঁচিশ লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করতেন।আর এখন কত তার সঠিক হিসাব জানা যায়নি। একটা সময় ছিল সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজের পরিধি সবচেয়ে বেশি।অফিস থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সেক্টরে আধিপত্য ছিল কিন্তু বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার সাথে সৌদি আরবে সেই প্রভাব পড়তে শুরু করে। একদিকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক মন্দাভাব অন্যদিকে সৌদি সরকার তুলনামূলকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিদেশিদের কাজের হার ক্ষীণ করতে থাকে।

ফলে ক্রমান্বয়ে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের লোকজনের কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। আর সৌদি সরকারকর্তৃক প্রবাসীদের কাজের সুযোগ সীমিত করণের নীতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রবাসীরা।বাংলাদেশিরা এক সময় সৌদি আরবে মোবাইল ব্যবসা, মুদি দোকান, লন্ড্রির দোকান, স্বর্ণের দোকানসহ ইত্যাদি ব্যবসায় বিস্তর ছিলেন। কিন্তু সৌদি সরকারের বিধি-নিষেধের ফলে অনেক বাংলাদেশি বেকার হয়ে পড়েছেন।আর এই বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের রেমিটেন্সের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একদিকে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশির বেকারত্ব অপরদিকে নতুন লোক এসে তারাও বেকার হয়ে পড়ছেন। এই দুইয়ে মিলে প্রবাসীদের সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়ছে।

জেদ্দার বিখ্যাত বাঙালি বাজার মাছনা, গুলাইল, গোরায়া, পাসদোর বাজারসহ অন্যান্য বাঙালি অধ্যুষিত বাজারে কেনাবেচার ব্যাপক ভাটা পড়েছে। ক্রেতার অভাবে অনেক ছোট ছোট দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলো বন্ধ হওয়ার পথে।প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসাসহ সবাই আতঙ্কগ্রস্ত আছেন ভবিষ্যতে কী হবে এই ভেবে। দিন দিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেকারত্বের হার বাড়ছে। যদি বেকারত্বের হার অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে তবে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ হবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট মহলের নীতিনির্ধারকদের এখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।