হেলালের মোবাইলে ছিল বন্ড-মিন্নির গোপন ভিডিও ! যা দেখে মিন্নিকে মে’রেছেন রিফাত !

দেশব্যাপী আ’লোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা*কা’ণ্ডের দুইদিন আগে হেলাল নামের এক বন্ধুর মোবাইল ফোন নিয়েছিলেন রিফাত।
সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হেলালের বোন পারুল বেগম ও স্ত্রী’ মনিকা বেগম। তবে কি কারণে বা কেন হেলালেন মোবাইল ফোন রিফাত নিয়েছিলেন তা জানাতে পারেননি তারা।

এরই মধ্যে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন হেলাল। এ কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।সোমবার রাতে এসব বিষয়ে প্রথমে কথা হয় হেলালের স্ত্রী’ মনিকা বেগমের সঙ্গে। এরপর সেই কথোপকথনে যুক্ত হন হেলালের বড় বোন পারুল বেগম।পারুল বেগম বলেন, অ’সুস্থতার কারণে গত ২৪ জুন আমি হেলালকে সঙ্গে নিয়ে আমা’র র’ক্তের গ্রুপ যাচাই করার জন্য বাজারে যাই। বাজারের মিষ্টি পট্টি এলাকায় আম’রা পৌঁছালে রিফাত শরীফের সঙ্গে দেখা হয়।

এ সময় রিফাত শরীফ হেলালকে ডেকে নিয়ে তার মোবাইল ফোনটি দিতে বলেন। হেলাল নিজের মোবাইল ফোনটি রিফাতের হাতে দিলে মোবাইলটি নিয়ে চলে যান রিফাত। এ সময় রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নিও ছিলেন।পারুল বেগম আরও বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাসায় এসে আমা’র মাকে বিষয়টি জানাই। তখন মা বেশ কয়েকবার রিফাত শরীফকে কল দিয়ে মোবাইলটি দিয়ে যেতে বলেন।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে রিফাত আমা’র ভাই হেলালকে ডেকে নিয়ে মোবাইলটি দিয়ে দেন। এক প্রশ্নের জবাবে পারুল বেগম বলেন, মোবাইলটি রিফাত শরীফ কেন নিয়েছিলেন তা আমি জানি না। ওই মোবাইলে গো’পন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ছিল কিনা তাও আমি জানি না।হেলালের স্ত্রী’ মনিকা বেগম বলেন, হেলালের মোবাইলটি রিফাত শরীফ নিয়েছিলেন বরগুনা পৌর মা’র্কে’টের নিচে থাকাকালীন অবস্থায়। সকাল সাড়ে ১০টা বা ১১টার দিকে। মোবাইলটি নিলেও আমা’র শাশুড়ির অনুরোধে বিকেল ৪টা কিংবা ৫টার দিকে ফিরিয়ে দেন রিফাত।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিকা বেগম বলেন, মোবাইলটি রিফাত শরীফ কেন নিয়েছিলেন তা আমি জানি না। মোবাইলে গো’পনীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ছিল কিনা তাও আমা’র জানা নেই।এদিকে, হেলালের কাছ থেকে মোবাইল নেয়ার দুইদিন পরই রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা জে’লা পু’লিশের এক সদস্য বলেন, ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ড সংঘটিত হয়।

ঘটনার দুইদিন আগে সোমবার রিফাত শরীফ হেলাল নামে তার এক বন্ধুর মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন ব’ন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।ওই মোবাইল উ’দ্ধারের জন্য নয়ন ব’ন্ড মিন্নির দারস্থ হয়। পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোনটি উ’দ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উ’দ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধরের শিকার হয় মিন্নি।পু’লিশের এই সদস্য আরও বলেন, নয়নের কথায় রিফাত শরীফের কাছ থেকে হেলালের ফোন উ’দ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উ’দ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধরের শি*কার হয় মিন্নি।

পরে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেয়। এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মা’রধরের শি*কার হয়েছেন তার প্রতিশোধ নিতে নয়নকে মা’রধর করতে বলে।তবে মা’রধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকে, সেটিও নয়নকে বলে দেয় মিন্নি। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মা’রধরের প্রস্তুতি নেয় ব’ন্ড বাহিনী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নি’হত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, হেলালের কাছ থেকে মোবাইল নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তবে রিফাত হ’ত্যায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আমি জানি।গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পু’লিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পু’লিশ।এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং পু’লিশের কৌশলী ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আ’ট’কে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হ’ত্যাকা’ণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই তাকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রি’মান্ড আবেদন করে পু’লিশ। শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন আ’দালতের বিচারক মোহাম্ম’দ সিরাজুল ইস’লাম গাজী।পরদিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পু’লিশ সুপার মো. মা’রুফ হোসেন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার রি’মান্ড মঞ্জুরের পর পু’লিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছিলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। ইতোমধ্যে মিন্নি স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হ’ত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

আ’দালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দিতে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, একটি গো’পন মোবাইল ফোন নম্বরে তিনি নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন।ওই নম্বরে শুধু নয়নের সঙ্গেই কথা বলতেন তিনি। মোবাইল নম্বরটি নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এমনকি রিফাত খু’ন হওয়ার পরও ওই নম্বরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হয়।পলাতক থাকা নয়নকে মিন্নি বলেন, ‘তুমি তো রিফাতরে কো*পাইয়া মাই’রা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁ’সির আ’সামি হইবা।’ হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগে-পরে এসব কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ড ও কললিস্ট সিডি আকারে মা’মলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইস’লাম গাজীর খাসকাম’রায় ১৯ জুলাই এ জবানব’ন্দি রেকর্ড করা হয়।
খাসকাম’রায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি রেকর্ড করার সময় বিচারক ও মিন্নি ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাআড়াই পৃষ্ঠার জবানব’ন্দিতে রিফাত খু’নের বিবরণ দেন মিন্নি। পু’লিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র রোববার এসব তথ্য নিশ্চিত করে।তবে এই জবানব’ন্দি প্রত্যাখ্যান করেছে মিন্নির পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রোববার রাতে বলেন, ‘আহা রে এই হল দুনিয়া।

আমা’র মেয়েটারে মা’রধর করে জবানব’ন্দি নিয়েছে পু’লিশ। জে’লখানায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমা’র কা’ন্নায় ভেঙে পড়ে। বলেছে, ‘বাবা পু’লিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি।আমি এ ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত নই। স্বামীকে আমি কেন খু’ন করাতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টা পু’লিশ লাইনে বসিয়ে রেখে আমা’র মেয়েকে প্রচুর মা’রধর করা হয়। যখন আ’দালতে তোলা হয় তখন আমা’র মেয়ে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিল না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনার পু’লিশ সুপার মা’রুফ হোসেন রোববার বলেন, ‘মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ খু’ন হন। তিনি আ’দালতে দেয়া জবানব’ন্দিতে সব স্বীকার করেছেন।’জবানব’ন্দিতে মিন্নি বলেন, ৬ লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বল্ডের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন ব’ন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এই বিয়ের বিষয়টি জানতেন।কিন্তু মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গো’পন রেখে পরে রিফাতকে বিয়ে করেন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন ব’ন্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে তিনি নয়নদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন।

জবানব’ন্দিতে মিন্নি বলেন, নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। কারণ মিন্নির একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও নয়নের কাছে ছিল।এছাড়া জুনের ৩ তারিখে নয়ন ব’ন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল ফোন সেট জো’র করে নিয়ে যায় রিফাত শরীফ। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাতের কথা কা’টাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে বলেন, ‘রিফাতকে ফোন ফিরিয়ে দিতে বল। না হলে পরিস্থিতি খা’রাপ হবে। হ’ত্যাকা’ণ্ডের দু’দিন আগে রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও।’