অস্ট্রেলিয়াকে উ*ড়িয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড !

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে আক্ষরিক অর্থেই উড়িয়ে ১৯৯২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনের সেমিফাইনালে ইংলিশদের জয়টা ৮ উইকেটের।এরই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপ পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। রবিবারের ফাইনালে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের। ইংলিশরা তিনবার ফাইনাল খেললেও শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি একবারও।

অন্যদিকে গত আসরে ফাইনাল খেললেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে হতাশ হতে হয়েছিল কিউইদের। এবার সেই অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে লর্ডসের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।লক্ষ্যটা মোটেও কঠিন ছিল না। বোলারদের দু*র্দান্ত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ২২৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইংলিশরা। সেই লক্ষ্য জেসন রয়ের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে জো রুট ও এউইন মরগানের দৃঢ়তায় মাত্র ৩২.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় স্বাগতিকরা।

উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের সুবাস পেতে থাকে ইংল্যান্ড। রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে তারা পায় ১২৪ রানের ওপেনিং জুটি। তাদের সামনে অসহায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা। মিচেল স্টার্ক বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শি*কারি হয়েছেন ঠিকই, তবে ১ উইকেট নিতে ৯ ওভারে তার খরচ ৭০ রান! গ্লেন ম্যাকগ্রাকে (২৬) সরিয়ে নির্দিষ্ট কোনও বিশ্বকাপে স্টার্কের ২৭ উইকেট এখন সর্বোচ্চ।

তার বলেই অস্ট্রেলিয়া পায় প্রথম উইকেট। ৩৪ রান করা বেয়ারস্টোকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক। তবে অন্যপ্রান্তে তা*ণ্ডব চালিয়েছেন রয়। যদিও বিতর্কিত আউটে শেষ হয় তার চমৎকার ইনিংস। বল তার ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেও ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন ইংলিশ ওপেনার! আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ৮৫ ‍রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন রয়।

তার তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ঝ*ড়ো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আম্পায়ারের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে প্যাট কামিন্সের বল তার ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেই জমা পড়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। বেশ কিছুক্ষণ ভেবে আঙুল তুলে আউটের সংকেত দেন আম্পায়ার। হতাশ হয়ে ফেরার সময় রয় তার ৬৫ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৯ চার ও ৫ ছক্কায়।

এই ব্যাটসম্যানের ফেরার পর বাকি কাজটা সেরেছেন রুট ও অধিনায়ক মরগান। ৭৯ রানের অবিছিন্ন জুটিতে নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের ফাইনাল। রুট ৪৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে, আর মরগান ৩৯ বলে ৮ বাউন্ডারিতে খেলেন হার না মানা ৪৫ রানের ইনিংস।

বোলিংয়েই ‘আসল’ কাজ সেরে রেখেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’। শুরুর মতো শেষেও আঘাত করেন ক্রিস ওকস। মাঝের সময়ে আদিল রশিদের স্পিন ছোবলে কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া। ইংলিশ বোলারদের দাপটের দিনে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে যান স্টিভেন স্মিথ। বিপদের সময় সাবেক এই অধিনায়কের ৮৫ রানের কার্যকরী ইনিংসের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে অলআউট হয় ২২৩ রানে।

ওকসের পেস ঝড়ে মাত্র ১৪ ‍রান তুললে অস্ট্রেলিয়া হারায় ৩ উইকেট। সেখান ‍থেকে শুরু স্মিথ-ক্যারির প্রতিরোধ। ‍চতুর্থ উইকেটে তাদের গড়া ১০৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু রশিদ এক ওভারে ক্যারি (৪৬) ও মার্কাস স্টোইনিসকে (০) ফেরালে আবার বি*পদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেটা ‍আরও বাড়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (২২) বিদায়ে।

তবে বিপদের মুহূর্তে একপ্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে গেছেন স্মিথ। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৩তম হাফসেঞ্চুরি। রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১১৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করে যান ৮৫ রান। যোগ্য সঙ্গ পেয়েছেন তিনি মিচেল স্টার্কের (২৯) কাছ থেকে।ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার ওকস। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই পেসার ৮ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। তার মতো ৩ উইকেট পেয়েছেন স্পিনার রশিদও। ৩২ রান দিয়ে জোফরা আর্চারের শিকার ২ উইকেট।