কে এই দুবাইয়ের রাজবধূ শেখ হায়া? যাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় !

রাজকন্যা শেখ হায়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জার্মানি পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। খবরটি বিশ্বের বড় বড় মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা দিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় দুবাইয়ের শাসক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মুখতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী হায়া দেশ ছাড়েন। তিনি মূলত জর্ডানের রাজকন্যা।

শেখ হায়া জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সৎ বোন। তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৪৫ বছর বয়সী জর্ডানের এই রাজকন্যা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে ছিলেন।জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও কাজ করেন তিনি। ২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মদকে বিয়ে করেন শেখ হায়া। তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলছে, শৈশব থেকে খেলাধুলা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে।

বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও রয়াল উইন্ডসোর হোরস সো’র সহ-সভাপতি তিনি। ইমেরেটস উমেনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে শেখ হায়া বলেন, আমি সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম। দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীর প্রতি আমার আলাদা অনুরাগ আছে।তার মেয়ে শেখ আল জলিলা ও ছেলে শেখ জায়েদকে নিয়ে সবসময় উচ্ছ্বসিত তিনি। আমিরাত থেকে পালিয়ে আসার সময় সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তিনি। শেখ হায়া ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পাশাপাশি স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্সও চেয়েছেন।

শেখ মোহাম্মেদের ষষ্ঠ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী হায়া। বিভিন্ন স্ত্রীর ঘরে দুবাইয়ের এই শাসকের ২৩টি সন্তান আছে বলে জানা যাচ্ছে। দুবাইয়ের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে জীবনের ভয়েই স্বামীকে ছেড়ে তিনি দুবাই থেকে পালিয়েছেন।প্রিন্সেস হায়া প্রথমে জার্মানি গিয়েছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে। এখন তিনি বাস করছেন লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেনসের একটি টাউন হাউজে যার মূল্য প্রায় ১০৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি এখন আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শোনা যায়, শেখ হায়া সম্প্রতি তার স্বামীর এক কন্যা শেখ লতিফার দুবাই থেকে পালিয়ে আবার রহস্যজনক ফিরে আসার পেছনে কিছু বিষয় জেনে যান। শেখ লতিফা এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সাগর পথে পালিয়েছিলেন কিন্তু ভারতীয় উপকূলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের বাধা দেয় ও পরে দুবাইতে ফিরিয়ে নেয়।ওই ঘটনায় দুবাইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রিন্সেস হায়া তখন সে সময় আইরিশ প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সাথে কাজ করেছিলেন। দুবাই কর্তৃপক্ষ বলছে যে, শেখ লতিফা এখন দুবাইতে নিরাপদে আছেন, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে।

এরপর প্রিন্সেস হায়া সত্যি কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এ নিয়ে তার স্বামীর পরিবার থেকে চাপ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।একটি সূত্র জানায়, তিনিও অপহরণের শিকার হতে পারেন বলে এখন আশঙ্কা করছেন। যদিও লন্ডনে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। তারা বিষয়টিকে একজনের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

শেখ হায়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং এখন তিনি যুক্তরাজ্যেই বসবাস করতে চান। তবে যদি তার স্বামী তাকে ফেরানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন তাহলে এটা ব্রিটেনের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার বিষয় হবে। আরব আমিরাত যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ।

ঘটনাটি জর্ডানের জন্যও বিব্রতকর। কারণ প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎ বোন। আবার জর্ডানের বিপুল সংখ্যক নাগরিক দুবাইতে কাজ করে ও বিপুল রেমিট্যান্স আয় করে। তাই দুবাইয়ের সাথে বিরোধে জড়ানো কঠিন হবে জর্ডানের জন্যও।