ছাদে ওঠায় মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন !!

চুরির অপবাদ দিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেয়ার সময় আর্তনাদ করতে করতে মাটিতে ঢলে পড়েন মোশারফের মমতাময়ী মা খুদেজা খাতুন। বার বার তিনি মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

মানসিক প্রতিবন্ধী মোশারফ হোসেনকে শিকলে বেঁধে রাখা হত। তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তাই ঈদের আগের দিন তাকে মুক্ত করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় ঘুরতে ঘুরতে পাশের এক উচ্চবিত্তের বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে সে। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। চুরির অপবাদ দিয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হিটলার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

তাড়াইল উপজেলার দক্ষিণ শামুকজানি গ্রামের কেন্তু মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন অনেক দিন ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দড়ি জাহাঙ্গীরপুর এলাকায় সাবেক কাস্টম অফিসার মোখলেসুর রহমান খান শাহানের বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে সে। এতেই ঘটে বিপত্তি।

বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে কেয়ারটেকার সাজ্জাদ হাসান হিটলার মোশারফকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওতে দেখা যায়, মারপিটের সময় ওই কিশোর বাঁচার জন্য আকুতি করলেও মন গলছিল না বাড়ির মালিকসহ অন্যদের। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। শুক্রবার সকালে এর প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকার লোকজন।

নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোর মোশারফকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোশারফের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে রাতেই বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে আসামি করে তাড়াইল থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আটক করা হয় অভিযুক্ত সাজ্জাদ হাসান হিটলারকে। তিনি পূর্ব দড়ি জাহাঙ্গিরপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তাড়াইল থানা পুলিশের ওসি মো. মুজিবুর রহমান। সূএঃ জাগোনিউজ