বিজেপি না করায় শিশুকে হত্যা করে মাকে নির্যাতন

সবে কদিন আগেই শেষ হলো ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এরই মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেছেন মোদি। ক্ষমতায় বসেছে বিজেপি। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২ জুন) এমনই এক ঘটনা ঘটল ভারতের অশোকনগরের সেনভাঙা এলাকায়।সেনভাঙায় এক গৃহবধূ বিজেপি না করায় তার দু’মাসের শিশুকে হত্যা এবং তাকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উঠোন ঝাঁড় দেওয়াতে দেরির অজুহাতে মারধোর করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক আক্রোশ রয়েছে ওই গৃহবধূর ভাসুর-ননদদের। অভিযুক্ত পরিবারটি কট্টর বিজেপি। আর কিছুদিন আগেই ওই নারী ও তার স্বামী যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে।

এরই মধ্যে এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। আর অভিযোগের পর পরই অভিযুক্ত ভাশুর সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বাকি অভিযুক্ত শিপ্রা শর্মা, রিনা মণ্ডল, সমাপ্তি গঙ্গোপাধ্যায়, কমলা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারাসত পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘তদন্দ শুরু হয়েছে, একজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছে।’

প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিবাদের জেরে তরুণীর ওপরে বরাবরই নির্যাতন চলত বলে জানতে পারে পুলিশ। এ দিকে, ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজিত তৃণমূলকর্মী-সমর্থকেরা অশোকনগর থানার সামনে জড়ো হন। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তোলেন।

স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায় বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটে ওই তরুণীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিজেপির মনোনয়নে দাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছিল।

রাজি হননি উনি। নানা সময়ে বিজেপি করার জন্য চাপ দিত। সে কথা শোনেনি ওই তরুণী। সেই রাগেই মারধর। শিশুটিও চোট পেয়ে মারা গেল।’ বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের কথায়, কোনও রাজনৈতিক দল এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটাতে পারে, ভাবাই যায় না।