বরিশালে রোজা রাখা অবস্থায় ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ করেছে মাদরাসা শিক্ষক !

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের খাটিয়ালপাড়া নুরানী মাদরাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) রোজা রাখা অবস্থায় ধর্ষণ করেছে এক শিক্ষক। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুসাকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার ( ১৩ মে) দুপুরে ওই মাদরাসা শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে সোমবার সকালে মাদরাসা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুসার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা।
গ্রেফতারকৃত মাদরাসা শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুসা উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মাদার্শী গ্রামের মৃত এসকান্দার সরদারের ছেলে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের খাটিয়ালপাড়া নুরানী মাদরাসার শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রায়ই মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ছাত্রীদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করতো। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী মাদরাসায় গেলে একটি খালি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে শিক্ষক জাহাঙ্গীর।

পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কাছে বিষয়টি জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পরই অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুসাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।তবে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আমার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, মামলা দায়েরের পরই অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ ও গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত !

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ ও গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ মামলার আসামি ইয়াকুব আলী কাজল (২৩) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের একটি বাঁশবাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল গাড়াডোব গ্রামের জালাল উদ্দীন হাবুর ছেলে।

গাংনী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে ধর্ষণ ও এসিড নিক্ষেপের অপরাধ স্বীকার করে কাজল। তার নেতৃত্বে গাড়াডোব গ্রামের বেশ কয়েক যুবক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ও তাদের কাছে বেশ কয়েকটি অস্ত্র রয়েছে বলে জানায় সে।

তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক অস্ত্র উদ্ধারে গাড়াডোব গ্রামে গেলে কাজলের দলের লোকজন পুলিশের ওপর গুলি বর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন ও কাজল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কাজলকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাড়াডোব গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করে কাজলসহ কয়েকজন। ওই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে গাংনী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইয়াকুব আলী কাজল। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপন করেন। এ সময় ওই গ্রামের এক গৃহবধূর দিকে কুনজর পড়ে কাজলের। প্রেমের প্রস্তাব দিলে গৃহবধূ তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এর জেরে বৃহস্পতিবার গৃহবধূর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেন কাজল। ওই ঘটনায় শুক্রবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। গৃহবধূ গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারাবি নামাজের সুযোগেই চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসটি কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তখনো ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় শাহিনুরের। বলেন, আর মাত্র পাঁচ-সাত মিনিট লাগবে পিরিজপুর পৌঁছাতে।কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে বাসের সব যাত্রী নেমে যায়। কিন্তু গাড়িচালক ও হেলপার কৌশলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের সঙ্গের চার-পাঁচজনকে যাত্রীবেশে গাড়িতে তোলেন।

কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী ভৈবর-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী নামক নীরব জায়গায় শাহিনুরকে জোরপূর্বক চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। তার মৃত্যুর পর ধর্ষণকারীরা রাত পৌনে ১১টার দিকে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে দুর্ঘটনার কথা বলে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।হাসপাতালের রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, শাহিনুরের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন আল-আমিন, বাবা ওয়াহিদুজ্জামান, গ্রাম ভেঙ্গারদি, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

এদিকে পাঁচ মিনিটের কথা বলে দীর্ঘ সময় তানিয়া পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ডে স্বর্ণলতা বাস না পৌঁছায় তার ভাই মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে খবর পায় শাহিনুরের মরদেহ কটিয়াদী হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।তানিয়ার ভাই কফিল উদ্দিন সুমন বলেন, শাহিনুরের সঙ্গে একটি এলইডি ১৯ ইঞ্চি টেলিভিশন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বেতনের ১৫-১৬ হাজার টাকা ছিল।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় স্বর্ণলতা নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৪) নামে এক নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে তাকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষণকারীরা।সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া জামতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিনুর কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর আক্তার ওরফে তানিয়া ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরি করতেন। সোমবার বিকেলে তিনি বিমানবন্দর কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে স্বর্ণলতা পরিবহনে ওঠেন। স্বর্ণলতা বাস মহাখালী থেকে কটিয়াদী হয়ে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচল করে। পিরিজপুর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা।বিকেলে বাসে ওঠার পর থেকে বাবা এবং ভাইদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয় শাহিনুরের। রাত ৮টার দিকে তিনি যখন মঠখোলা বাজার অতিক্রম করেন তখন তার বাবাকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন। তার বাবা তখন এশা এবং তারাবির নামাজের জন্য মসজিদে যাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাসটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে কটিয়াদি আসার পর তানিয়া ও অন্য দুই যাত্রী ছাড়া সবাই নেমে যায়। উজানচর এলাকায় ওই দুই যাত্রীও নেমে যায়। বাসটি গজারিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক ও সহকারী তাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেয়। সেখান থেকে এলাকাবাসী তাকে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুধুমাত্র আমাকে দেখার জন্য মেয়ে বাড়ি আসছিল। বাসে ওঠার পর কয়েকবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে আমার কথা হয়। মেয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি তারাবি নামাজ পড়তে যাই। এসে শুনি হাসপাতালে মেয়ের লাশ। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজরীনা তৈয়ব বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কটিয়াদী থানা পুলিশকে জানানো হয়। তানিয়ার ঠোঁট, গলা ও বুকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।

পরে অভিযান চালিয়ে বাসচালক নূরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়াসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসচালক ও হেলপার জানায়, মেয়েটি বাস থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তবে তাদের জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষক নিজেই শিবচর হোটেলে ধর্ষণে মৃত্যুর লোমহর্স ঘটনা বর্ণনা দিল।ভিডিও সহ

পুলিশ সূত্রে, রোববার দুপুরে জেলার শিবচর পৌর বাজারের ৭১ উৎসব আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুবেল খান ও ৯ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ইন্নি আক্তার নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রেখে ৩য় তলার ৩০৫ নম্বর আবাসিক রুমটি ভাড়া নেয়।

সন্ধ্যায় হোটেলের কর্মচারীরা ওই রুমের সামনে গেলে রুমের দরজা খোলা দেখতে পায়।এসময় রুমের ভিতর উঁকি দিলে স্কুল ছাত্রীকে একা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতে লাশটি উদ্ধার করে।শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজারের তোতা খানের ছেলে।

আর ইন্নি আক্তার শিবচর উপজেলা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। সে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত ইলিয়াস মুন্সীর মেয়ে।

রুবেলই প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরিকল্পিত ইন্নি আক্তারকে উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে ধর্ষণ করে হত্যা করে

শিবচরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইন্নি আক্তার নামের নবম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক রুবেল খান ও আবাসিক হোটেলটির ২ কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত রুবেল নিজেকে মেয়েটির প্রেমিক পরিচয় দিয়ে ওষুধ সেবনের পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পালিয়ে যায় বলে দাবী করে।স্কুল ছাত্রীটির এক সহপাঠী শুরুতেই ঘটনার সুত্র জানিয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, ও রুবেলের সাথেই এখানে এসেছে। এরআগেও ও এখানে এসেছিল।
স্কুল ছাত্রীটির মা কাদতে কাদতে বলেন, আমার মেয়েকে রুবেল মাইরা ফেলছে। আমি ওর ফাসি চাই।

অভিযুক্ত রুবেল খান জানায়, ইন্নীর সাথে আমার প্রেম ছিল। আমরা মিথ্যা পরিচয় দিয়া হোটেলে উঠছি। সম্পর্কের একপর্যায়ে অনেক রক্তপাত দেইখা আমি ওরে থুইয়া পালাইছি।থানায় উপস্থিত কাদিরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিএম জাহাঙ্গীর বেপারি বলেন, এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের ফাসি চাই।

পুলিশ সহ একাধিক সুত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে শিবচর পৌর বাজারের ৭১ উৎসব আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুবেল খান ও ৯ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ইন্নি আক্তার নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রেখে ৩ য় তলার ৩০৫ নম্বর আবাসিক রুমটি ভাড়া নেয়। বিকেলে হোটেলের কর্মচারীরা ওই রুমের সামনে গেলে রুমের দরজা খোলা দেখতে পায়। এসময় রুমের ভিতর উঁকি দিলে স্কুল ছাত্রীকে একা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় তারা।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাতে লাশটি উদ্ধার করে। পরে পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে, স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে ও তার ব্যাগে থাকা ডায়েরি পড়ে নিশ্চিত হয় রুবেল খান নামক এক যুবকের সাথেই মেয়েটি আবাসিক হোটেলে আসে। পরে পুলিশের একাধিক টিম রুবেলকে গ্রেফতারে মাঠে নামে।পরিদর্শক(অপারেশন) আমির হোসেন, এসআই খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল কাঠালবাড়ি লঞ্চ ঘাট এলাকা থেকে লঞ্চ মালিক সমিতির সহায়তায় রাতে রুবেলকে আটক করে। রুবেল লঞ্চ ঘাটে সুপারভাইজার পদে চাকুরী করতো।

রুবেল শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজারের তোতা খানের ছেলে। আর ইন্নী আক্তার শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী। সে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত ইলিয়াস মুন্সীর মেয়ে। তার মা শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মচারী। তারা শিবচর পৌরসভার স্বাস্থ্য কলোনীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজার খায়রুল, হোটেল বয় রোনাল্ডকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন, ওসি জাকির হোসেন, পরিদর্শক(তদন্ত ) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে জন্মবিরতিকরন ট্যাবলেট এর প্যাকেটের শুন্য খোসা, কনডম ছাড়াও মেয়েটির স্কুল ব্যাগ থেকে বই খাতা ও একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। ডায়েরিটিতে প্রেমঘটিত নানান কথা পাওয়া যায়।

শিবচর থানার পরিদর্শক(অপারেশন)আমির হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল ইন্নীর সাথে প্রেম ঘটিত ও দৈহিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে। আজও ওদের মধ্যে সম্পর্ক হয় এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হলে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি বিস্তর তদন্ত করছি।
শিবচর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুবেল ও হোটেলের ২ কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে । সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর প্রেরন করার প্রক্রীয়া চলছে। মামলা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচরে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে হোটেলে দৈহিক সম্পর্ক অতঃপর প্রেমিকার মৃত্যু !

মাদারীপুর জেলার শিবচরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইন্নি আক্তার নামের নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক রুবেল খান ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজার খায়রুল, হোটেল বয় রোনাল্ডকে আটক করেছে পুলিশ।

রুবেল নিজেকে মেয়েটির প্রেমিক পরিচয় দিয়ে ওষুধ সেবনের পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পালিয়ে যায় বলে দাবী করে।
পুলিশ সূত্রে, রোববার দুপুরে জেলার শিবচর পৌর বাজারের ৭১ উৎসব আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুবেল খান ও ৯ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ইন্নি আক্তার নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রেখে ৩য় তলার ৩০৫ নম্বর আবাসিক রুমটি ভাড়া নেয়। সন্ধ্যায় হোটেলের কর্মচারীরা ওই রুমের সামনে গেলে রুমের দরজা খোলা দেখতে পায়।

এসময় রুমের ভিতর উঁকি দিলে স্কুল ছাত্রীকে একা রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতে লাশটি উদ্ধার করে। পরে পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে, স্কুল ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে ও তার ব্যাগে থাকা ডায়েরি পড়ে নিশ্চিত হয় রুবেল খান নামক এক যুবকের সাথেই মেয়েটি আবাসিক হোটেলে আসে।

পরে পুলিশের একাধিক টিম কাঠালবাড়ি লঞ্চঘাট এলাকা থেকে লঞ্চ মালিক সমিতির সহায়তায় রুবেলকে আটক করে। রুবেল লঞ্চঘাটে সুপারভাইজার পদে চাকুরী করতো।

সে জেলার শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজারের তোতা খানের ছেলে। আর ইন্নি আক্তার শিবচর উপজেলা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। সে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত ইলিয়াস মুন্সীর মেয়ে।

বড় ভাইয়ের বন্ধুদের হাতে ধর্ষিত হয়ে বিবস্ত্র উদ্ধার করা হয় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী !

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিজের বড় ভায়ের বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে অষ্টম শ্রেনীর এক স্কুলছাত্রী নদোনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন একাডেমির ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) শনিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়।

এ সময় ওত পেতে থাকা পার্শ্ববর্তী ছিদ্দিক মিয়ার বাড়ির ছিদ্দিক উল্ল্যার পুত্র আলমগীর ও পাচঁবাড়িয়া গ্রামের মান্নান মাষ্টারের ছেলে রাসেল তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনের ধানখেতে নিয়ে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ঐ ছাত্রীর মা তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির পিছনের জমিতে বিবস্ত্র এবং রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার নদোনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রবিবার (২৮ এপ্রিল) রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করলে পুলিশ রাতেই মামলার ১নং আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করে।এরপর গতকাল সোমবার (২৯ এপ্রিল) অভিযুক্ত আলমগীর নোয়াখালী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সাইদীন নাহি তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

নদোনা ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন একাডেমির ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী (১৬) শনিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় ওত পেতে থাকা পার্শ্ববর্তী ছিদ্দিক মিয়ার বাড়ির ছিদ্দিক উল্ল্যার পুত্র আলমগীর ও পাচঁবাড়িয়া গ্রামের মান্নান মাষ্টারের ছেলে রাসেল তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনের ধানখেতে নিয়ে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ঐ ছাত্রীর মা তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির পিছনের জমিতে বিবস্ত্র এবং রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।ঐ ছাত্রীর মা পেয়ারা বেগম জানান, আমার বড় ছেলের সাথে আলমগীর হোসেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এ সুবাধে সে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সামাদ বিডি২৪লাইভকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলার ১নং আসামি ধর্ষক আলমগীরেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর আসামি রাসেলকে ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি আরও জানান, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েই আমরা তাঁর চিকিৎসা এবং ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। রবিবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

 এর কিছুদিন আগেই গত ৯ এপ্রিল রাতে সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেরশ্বর ইউনিয়নে দুই সন্তানের জননী তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করে রাতভর গণধর্ষন করে ৪ যুবক। এ ঘটনার পর ওই নারী মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ওই ঘটনার মামলায় ৪ আসামির মধ্যে স্থানীয় জনতা ২ লম্পটকে ধরে পুলিশে দিলেও বাকি ২ আসামিকে ২০ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ।

বাবাকে বাইরে পাঠিয়ে মেয়েকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করল চিকিৎসক !

গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির পরিবার মামলা দায়ের করলে, সে মামলার আসামি চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

রাজধানীর দক্ষিণখানে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা ১৩ বছরের এক শিশুকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেছে এক পল্লী চিকিৎসক।
ধর্ষক চিকিৎসকের নাম- বিজয় কৃষ্ণ তালুকদার। সে দক্ষিণখানের চালাবন এলাকার ‘দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থা নামে একটি ক্লিনিকের চিকিৎসক। ধর্ষণের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির বাবা বলেন, আমরা উত্তরখান এলাকায় থাকি। গত ২৩ এপ্রিল আমার মেয়ের জ্বর হলে তাকে দক্ষিণখানের চালাবন এলাকার ‘দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থা নামে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। সেখানে পল্লী চিকিৎসক বিজয় তাকে দেখেন এবং প্রেসক্রিপশনে ‘সিডিল’ লিখে সেটা আনতে পাঠান আমাকে।
আমি দীর্ঘ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় খুঁজে বের করে সিডিল নিয়ে ক্লিনিকে যাই। এরপর চিকিৎসা শেষে মেয়েকে বাসায় নেয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পল্লী চিকিৎসক বিজয় আমার মেয়েকে ভয় দেখানোর কারণে এতোদিন সে কিছু বলেনি। ২৬ এপ্রিল (শুক্রবার) সে আমাদের কাছে সবকিছু খুলে বলে। সে জানায়, ওইদিন আমি ওষুধের জন্য বাইরে গেলে, এ সুযোগে বিজয় তাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে।

দক্ষিণখান থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল গণি বলেন, ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী চিকিৎসক বিজয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই শিশুকে চিকিৎসার জন্য শনিবার ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

একা পেয়ে ছাত্রীকে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ অতপরঃ কোচিং মালিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত।

ট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাড়িতে মায়ের অনুপস্থিতিতে হাত-পা বেঁধে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত কোচিং সেন্টারের মালিক সাইফুল ইসলাম কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

রোববার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর আমিরাবাদ এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক এএসপি মো. মাশকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধর্ষণে অভিযুক্ত কোচিং সেন্টারের মালিক সাইফুলকে গ্রেফতারের করতে গেলে তার সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাইফুলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা।’

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি অস্ত্র ও ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) মায়ের অনুপস্থিতিতে হাত-পা বেঁধে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে তিনি আত্মগোপনে যান। এ ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা করে ওই স্কুলছাত্রীর মা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর আমিরাবাদের আব্দুস সোবহানের ছেলে সাইফুল ইসলাম কিছুদিন আগে এলাকায় ‘সৃজনশীল’ নামে একটি কোচিং সেন্টার চালু করে। সাইফুলের অনুরোধে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী, তার বোন ও দুই ভাইকে ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সেই থেকে সাইফুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিবারের যোগসূত্র গড়ে ওঠে।

গত ১২ এপ্রিল ওই স্কুলছাত্রীর মায়ের অনুপস্থিতে তার বাসায় যায় কোচিং সেন্টারের পরিচালক সাইফুল এবং তাকে একা পেয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই স্কুলছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ধর্ষক সাইফুল পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চমেক হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসা নেয়ার পর গত ১৯ এপ্রিল বাড়ি ফেরে ওই ছাত্রী।

ধর্ষণের পর ভিডিও প্রকাশ করেও ক্ষান্ত হয়নি এবার হত্যার হুমকি দিচ্ছে ! (ভিডিও সহ)

শনিবার সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করে ওই ছাত্রী। ভিডিওতে সে বলে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার জন্য আমি কোর্টে মামলা করেছি। কিন্তু মামলা করার পরও আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোনো বিচার তো করে নাই। এখন তিনি আমাদের বাড়িতেই থাকতে দিচ্ছেন না।

আমার ভাইকে বাড়ি ফিরতে দেয় না।’ঘটনাটি গত ৫ এপ্রিল রাতের। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বেরিয়েছিল নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। সে সময় ওত পেতে থাকা মানুষরূপী দুই হিংস্র পশু মেয়েটিকে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে তা আবার ফেসবুকে প্রচার করে।

এমনই ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের সালথায়। এ ঘটনায় সালথা থানা পুলিশ শাকিল নামে এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।এদিকে এ ঘটনায় মামলা করার পর উল্টো ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।তাদের অভিযোগ, মামলা করার পরও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। উল্টো তাদের বাড়ি ছাড়া করা ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন জড়িতদের স্বজন ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এর সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ওই ছাত্রী আরও বলে, ‘আমাদের ওপর যত ধরনের অন্যায় অত্যাচার তিনি করছেন।’এ সময় ভিডিওধারণকারী তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তোমার কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের?’ ওই ছাত্রী বলে, ‘গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু।’

এ সময় ভুক্তভোগী আরও বলে, ‘তিনি কোনো বিচার করেন নাই, বিধায় আপনার (ভিডিওধারণকারী) কাছেও বিচারের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আপনাকে বলার পর চেয়ারম্যান আমাদের বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। আমার ভাইকে মারার জন্য খোঁজে। কাউকে বাড়ি ঘরে থাকতে দিচ্ছেন না।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করে ওই ছাত্রী আরও বলে, ‘এখন বিষয়টি সমাধানে আপনার কাছে বিচার দাবি করছি। আমার তো বাবা নাই, আমার মা আর পরিবারকে মরতে হবে। এ ছাড়া আর কিছু করার নাই।আত্মহত্যা করা ছাড়া পথ খোলা নাই। আপনি যদি ন্যায্য বিচার করেন তো পাবো, নয়তো কিছু হবে না। আমাদের পরিবারের আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ নাই।’

ভিডিওতে এক সিরাজুল শেখ নিজের সমস্যার কথা জানান। ভিডিওধারণকারী তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি তো ওই মেয়েটির সঙ্গে শুরু থেকেই আছেন। আসলে এই মেয়েটি যা বক্তব্য দিয়েছে, তা কতটুকু সত্য?’ উত্তরে সিরাজ বলেন, ‘হ্যাঁ সত্য। এই মানুষগুলো একদম গরিব। ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা
দায়েরের পর তাদের পাশে দাঁড়ানোয় তারা (চেয়ারম্যান ও ধর্ষণে জড়িতদের স্বজন) আমাকেও ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। গ্রামের মানুষকে আমাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে দিচ্ছে না।’

সিরাজুল আরও বলেন, ‘আমার হাত-পা কেটে ফেলবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন তারা। গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলুও গ্রামে তার লোকদের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “সিরাজুলকে যেখানে পাবি তার হাত-পা কেটে ফেলবি।” ভয়ে আমি এখন পালিয়ে আছি।’একই ভিডিওতে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বড় ভাই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘লাভলু চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি সিরাজ কাকাকে নিজ হাতে মারবেন। আমাদেরকেও খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ভয়ে আমরা বাড়িছাড়া। প্রায় ১৫ দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে আছি।’

এদিকে অভিযোগের পুরো বিষয়টি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা হয়েছে। আমি নিজেও এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিচার দাবি করেছি।

আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। আমি ভুক্তভোগীর পরিবারকে কোনো হুমকি দেইনি, এমনকি সিরাজকেও মেরে ফেলার হুমকি দেইনি।’

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমি ওই মেয়েটির বাড়িতে গ্রাম্য পুলিশ মোতায়েন করেছি। তারা আমার কাছে এসেছিল, আমি তাদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছি।’সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন ধর্ষণের ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় শাকিল ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তারের পর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। পরে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত রিমান্ডের শুনানির তারিখ পরে ধার্য করার আদেশ দিয়ে শাকিলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে হুমকি-ধমকির বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ ওসি পাননি বলে জানান দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘হুমকি-ধমকির কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। আমাদের এসপি ও ডিসি সাহেবরা এসেছিলেন,তাদের কাছেও কোনো অভিযোগ হয়নি। তবে আমরা জানার চেষ্টা করব। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’