এবার সৌদি আরবে যে কারনে বেগম খালেদা জিয়াকে পাঠানো হচ্ছে

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে নাটকের পর নাটক চলছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া অচিরেই মুক্তি পাচ্ছেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য যাবেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ত্রিপাক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে চুড়ান্ত হচ্ছে।

বেগম জিয়ার পরিবার, সরকারের প্রতিনিধি দল, এবং সৌদি দূতাবাস এই খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তদারকি করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৬ টি মামলা রয়েছে।

মুক্তি পেতে হলে আরো ৪টি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে হবে। এর মধ্যে জিয়া এতিম খানা মামলা উচ্চ আদালতে জামিনের অপেক্ষায় আছে। জিয়া এতিম খানা মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছিল গত সপ্তাহে। তখন বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বলেছিল নিম্ন আদালত থেকে তার নথি আসতে হবে। এর জন্য দুই মাস সময় বেধে দিয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি করার অভিযোগে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে যে দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নেই, সেই মামলাগুলোও আইনী জটিলতায় আটকা পড়ে আছে।

সহসা তার জামিন সম্ভব নয় বলে আইনজীবিরা মনে করছেন। কাজেই জামিন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা আপাতত নেই। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার প্যারোল নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। বেগম খালেদা জিয়া সকালে প্যারোলের পক্ষে বললেও বিকালে তিনি প্যারোলের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে প্যারোলে আবেদন করতে হবে আসামীর নিজেকেই। তাকে অপরাধ স্বীকার করতে হবে। পরবর্তীতে এই মামলার আইনী লড়াইয়ের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণেই প্যারোলটি অসম্মানজনক মনে করছেন বেগম জিয়া। যার কারণে বেগম জিয়ার প্যারোলে উৎসাহী নন।

এর মধ্যে বেগম জিয়ার পরিবার খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তির জন্য তৃতীয় একটি পথ খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে। সে পথটি হলো বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা একটি প্রতিবেদন দিবেন উন্নত চিতিৎসার জন্য। সেই প্রতিবেদনে যদি থাকে তার দেশের বাইরে চিকিৎসা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট বা দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দিতে পারেন।

চিকিৎসক দলের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ রয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদি এবং ভিন্ন পরিবেশে তাঁর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এখানে তাঁরা খুব বেশী উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে একটা বিষয়ে পরিষ্কার হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া হয়তো চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাবেন।

সৌদি দূতাবাসের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছে যে, সৌদি দূতাবাস বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যেতে চায়। বেগম জিয়া কি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, সৌদি আরবে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা গত কয়েকদিনে সৌদি আরবের কিং ফয়সাল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে যোগাযোগ করছেন।

উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া এখানেই হার্টের অপারেশন করিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেগম খালেদা জিয়া, ঈদের আগেই আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

তারেক রহমানকে লন্ডন গিয়ে যে কঠিন হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যেকোনোভাবেই সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বুধবার (১লা মে) দিবাগত রাতে সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

জানা যায়, চোখের চিকিৎসা করাতে লন্ডন এসে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা না করলেও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসা শেষে খুব শীঘ্রই সব নেতাকর্মীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানান।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, তিনি তারেক রহমান সম্পর্কে বলেছেন, যথা সম্ভব দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এবারের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সভা করার কথাও রয়েছে।তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের চিকিৎসা শেষ করেই সব নেতাকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ বলেন, চোখের সমস্যার জন্য উনি একটু দুর্বল। এজন্য বলেছেন তাকে একটু সময় দিতে হবে। পরে বড় সভা করা সম্ভব করা হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কাল আমার ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েনমেন্ট। কথা বলা নিষেধ। এজন্য আমার চোখের অপারেশনটা করার পর সবার সঙ্গে দেখা করবো, কথা বলবো।

বুধবার বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইট। এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের নেতৃত্বে এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

প্রসঙ্গত, ১০ দিনের সরকারি সফরে বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।এই সফরে লন্ডনে ছোট বোন শেখ রেহানার পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাবেন তিনি। শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। নাতির সঙ্গে এবারই প্রথম দেখা হবে নানি শেখ হাসিনার।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছেন জোবাইদা রহমান

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৬টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান ২৫ এপ্রিল শপথ নেন। এরপর গত সোমবার শপথ নিয়েছেন আরও ৪ বিজয়ী সাংসদ। ফলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাদে বাকি পাঁচজনই সাংসদ হিসেবে শপথ নিলেন।এদিকে বিএনপি শপথ গ্রহণের পরই শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা। সংরক্ষিত নারী আসনে একটি আসন পাবে বিএনপি। কে আসছে এই আসনে? বিষয়টি নিয়ে সব মহলে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, দলের একটি বড় অংশই এই আসনে জিয়া পরিবারের সদস্যকে চাচ্ছেন। তাদের মতে, সংসদে বিএনপির যে প্রতিনিধিরা থাকছেন তার মধ্যে একজন জিয়া পরিবারের সদস্য থাকা প্রয়োজন। এজন্য দলের কেউ কেউ প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিকে আনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান আসলে সেটা বেশি ভালো হয়।তবে অনেকেই মনে করছেন- পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর। খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে এমনটি হতে পারে।

এছাড়া সংরক্ষিত এই আসনটিতে জিয়া পরিবারের বাইরের থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে সংসদে যেতে অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সময়মতো সবই জানা যাবে।
তথ্য- :বিএনপির একাধিক সূত্র ।

আজ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) আদালত যে সুখবর দিলেন খালেদা জিয়া জন্য ।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।

এর পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। পরে আপিলে এই মামলায় খালেদা জিয়ার ১০ বছর কারাদণ্ড হয়।এদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাত বছরের দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি অর্থদণ্ড ও সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত।

আগামী দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি চেয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, নথি পাওয়ার পর জামিনের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গত বছরের ২৬ নভেম্বর নিম্ন আদালতের সাত বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মাশরাফিকে নিয়ে যে কটূক্তি করলেন হাসপাতালের চিকিৎসক !

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার তৎপরতায় দায়িত্বে অবহেলা ও অফিসের সময়ে অনুপস্থিত থাকার কারনে নড়াইল সদর হাসপাতালের ৪ চিকিৎসককে শাস্তিস্বরূপ ওএসডি (অন স্পেশাল ডিউটি) করা হয়েছে।

আর এ ব্যাপারে ক্ষিপ্ত হয়েছেন দুইজন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডা. অশিত মজুমদার ও আমিনুল ইসলাম জুয়েল মাশরাফি সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেছেন।

এদিকে বিষয়টি সামাজি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ভাইরাল হয়েছে। কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মাশরাফির ভক্তরা।

এদিকে ফেসবুকে ডা. অশিত মজুমদার লিখেছেন, ‘মাশরাফিটা কে?

আবার আমিনুল ইসলাম জুয়েল লিখেছেন, ‘নড়াইলের কোনো পাতি নেতাটেতা হবে আর কি!’অশিত পুনরায় লিখেছেন, ‘সে রকমই তো ক্ষেতের মত এটিচিউড করল।’আমিনুল ইসলাম জুয়েল পুনরায় লিখেছেন, ‘কিছু বুঝে নাকি? সেভেন এইট পাশ মনে হয়।’এদিকে বিষয়টি স্ক্রিনশটসহ ফেসবুকে আপ করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ম্যাশরাফি ভক্তরা। এমন কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঞ্জুর মোর্শেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আপনারা তো শিক্ষিত মানুষ। একজ সর্ম্পকে না জেনে বাজে মন্তব্য করলেন। আপনারা কোন দেশের ডাক্তার যে মাশরাফি কে চনেন না। মেধা থাকলে অবশ্যই চিনতেন ডাক্তার হতে হয়তো আপনাদের মা-বাবাদেরকে টাকা দিয়ে আগের রাতে উত্তরপত্র কিনতে হয়েছিলো।’
এদিকে ফরহাদ আহম্মেদ লিখেছেন, ‘সারা দিনরাত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন, চেম্বারে বসা আবার কষ্ট করে হাসপাতালে গিয়ে হাজিরা খাতায় সই দেয়া, ফ্রি ওষুধ বিক্রি, ওষুধ কোম্পানির কথামত (দরে পটলে) পেসক্রিপশনে তাদের ওষুধের নাম লেখা, ইত্যাদি। নেশা, পরকীয়া থাকগে। এতো কিছু করে মাশরাফিকে চেনার সময় কই।’

তাছাড়া মোস্তফা কামরুজ্জামান কামাল লিখেছেন, ‘এদের পুরো ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করলে পুরস্কৃত করবো…।’সৈয়দ সামিউল আলম জেহাদ লিখেছেন, ‘মাশরাফি সমন্ধে কটূক্তিকারিরা সাবধান। মাশরাফির অপর নাম বাংলাদেশ। মাশরাফি আমাদের গর্ব। কটূক্তিকারিদের বিচার চাই।’মো. রানা লিখেছেন, ‘এই দুই জানোয়ারকে টার্মিনালে এই আম গাছে ঝুলায়ে পিটাতে হবে। জানোয়ার আইডি পেয়ে নিই।’

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে আকস্মিকভাবে সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। এসময় কর্তব্যরত ৩ চিকিৎসকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না দেখে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর এবং পরে অনুপস্থিত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যার কথাও শোনেন।

এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন পিপিএম, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর, সিভিল সার্জন ডা. আসাদ-উজ-জামান মুন্সি, হাসপাতালের আর.এম.ও ডা. মশিউর রহমান বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ এমপি মাশরাফি নিজে রোগী সেজে হাসপাতালে অনুপুস্থিত ডক্টরকে ফোন দিলে যা বলল ডাক্তার :

আসন্ন ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগদানের আগে দুদিনের নির্বাচনী এলাকায় সফরে মাশরাফি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন হাসপাতালকে। গতকাল ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩ টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টানা ২ ঘন্টা নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে ঝটিকা সফর করেন মাশরাফি।

এ সময় নারী ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যা শোনেন। ওই সময় পুরো হাসপাতালে মাত্র একজন ডাক্তারের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাশরাফি।এ সময় সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ২ জন নার্স দেখে তাদের ডিউটির ব্যাপারে খোজ নেন। জানতে পারেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও ২-১ জন নার্স দিয়েই বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিচালিত হচ্ছে।

ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক নিচে নেমে এসে নার্সিং সুপারভাইজারদের খোঁজ করেন মাশরাফি। নার্সদের কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে টেলিফোনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। একজন সুপারভাইজারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং অপরজনের ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করেননি।এ সময় রোগীদের অনুরোধে হাসপাতালের বাথরুম ও তার পরিবেশ নিজে দেখেন এবং মোবাইলে ছবি তুলে নেন। কয়েকটি বাথরুমের দরজা ভাঙ্গা এবং দূর্গন্ধ তাকে অত্যন্ত বিব্রত করে তোলে।

তিনি এ ব্যাপারে জানার জন্য আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে ফোন করতে বলেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বিথী খাতুন এসময় অফিসে উপস্থিত থেকে মাশরাফির নানা প্রশ্নের জবাব দেন।এ সময় মাশরাফি জানতে পারেন, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্সের কোনো সংকট নেই। এই মুহূর্তে ৭৩ জন নার্স রয়েছে ওই হাসপাতালটিতে।

এরপর মাশরাফি পুনরায় দোতলায় এসে ডাক্তারদের অবস্থান জানতে চেয়ে হাজিরা খাতা দেখেন। হাজিরা খাতায় সার্জারী চিকিৎসক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আকরাম হোসেনের ৩ দিনের অনুপস্থিতির প্রমাণ পেয়ে ছুটির আবেদন দেখতে চান। পরে জানতে পারেন ছুটি ছাড়াই সেই ডাক্তার ৩ দিন অনুপস্থিত!
এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে টাইগার ক্যাপ্টেন প্রথমে রোগী সেজে ওই চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি রোগীকে অর্থাৎ মাশরাফিকে রবিবার হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন।

এ সময় নিজের পরিচয় দিয়ে মাশরাফি ডাক্তারকে বলেন, ‘এখন যদি হাসপাতালের সার্জারী প্রয়োজন হয় তাহলে সেই রোগী কী করবে?’ এরপর সেই ডাক্তারকে তার কর্তব্যর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্রুত এলাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন তিনি।এ সময় মাশরাফির হাসপাতালে আসার খবর পেয়ে ততক্ষণে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মশিউর রহমান বাবু ছুটে এসেছেন হাসপাতালে। আরেক চিকিৎসক ডা.আলিমুজ্জামান সেতুও চলে এসেছেন।

এসময় চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বিষয়ে কথা বলে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার কে দিয়ে হাজিরা খাতায় সেই চিকিৎসক ডা. আকরাম হোসেনের ৩ দিনের অনুপস্থিত করিয়ে নেন।

এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে বসে মাশরাফি তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সাকুরকে ফোন করেন। সে সময় তিনি খুলনায় একটি সভায় অংশগ্রহন করে মাগুরায় বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। স্টেশনে অবস্থান করার কথা জানিয়ে রাতের মধ্যেই তাকে হাসপাতালে চলে আসতে বলেন মাশরাফি। খবর পেয়ে একঘন্টার মধ্যেই সদর হাসপাতালে আসেন তত্ত্বাবধায়ক ডা.আব্দুস সাকুর।

এরপর হাসপাতালের নানা স্থান ঘুরে ঘুরে দেখেন এমপি মাশরাফি। তখন এক অন্য রূপ দেখে সবাই। একজন এমপি যে এমন রুপ ধারণ করতে পারেন এটা না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করত না নড়াইল বাসী। উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এসময় আনন্দের হাসি দেখা গেলেও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তারা নিজেদের দোষ ঢাকতে তখন ব্যস্ত।

এ সময় নড়াইল সদর হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনা বিষয়ে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা.মশিউর রহমান বাবু বলেন, ‘হাসপাতালের প্রধান সমস্যা হলো চিকিৎসক সংকট। আমরা যে কয়জন আছি তারা প্রত্যেকে যদি একশ ভাগ সেবা দেই তাহলে অবস্থার উন্নতি হবে। পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকট এবং পৌরসভার সহযোগিতা না করার কারণে ময়লা-আবর্জনা সরানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।’

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আব্দুস শাকুর বলেন, ‘আমি এখানে এসেই কয়েকজন চিকিৎসকের গাফিলতি লক্ষ্য করেছি। এমপি সাহেব যেভাবে আজ দেখলেন, আর যা বললেন তাতে আমার কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেল। এখন আর কেউ আমার বিরুদ্ধে দল পাকাতে পারবে না।’

এ সময় নিজের পরিদর্শনের ব্যাপারে সংসদ সদস্য মাশরাফি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি হলো চিকিৎসা। এই সেবার মান নিশ্চিত করতে আমার যা কিছু করার আমি সবই করব। কিছু মানুষের জন্য নিরীহ জনগন কষ্ট পাবে এটা সহ্য করা হবে না।’

বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দলে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন…

সংসদে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্যই নেই।আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে ওলামা দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে শহীদ জিয়ার কবরে মোনাজাতে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়ার বিষয়ে দলে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।বিএনপি থেকে নির্বাচিত এক থেকে দুইজন প্রার্থী সংসদে যেতে চাচ্ছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এধরণের কোনো ইনফরমেশন আমাদের কাছে নাই।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, বেগম জিয়ার সাথে তার স্বাস্থ্য এবং তার যেনো আরো ভালো চিকিৎসা হয়, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বেগম জিয়া যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা কি- সেবিষয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন। আর দলের অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে চেয়েছেন এবং দলের নেতাকর্মীদেরকে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বেগম জিয়ার সাথে তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্যারোল দলের বিষয় নয়। এটা বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি আলোচনা করি নাই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বেগম জিয়া আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, দল ও দেশের জনগণের যে ঐক্য, সেই ঐক্য যেন অটুট থাকে।

বিএনপি কি ধরণের আন্দোলন করবে- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ, ধরণ ও কৌশল থাকে। আন্দোলন বলতে শুধু হরতাল ও অবরোধ যদি বুঝেন তাহলে আপনাদের এবিষয়ের সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি না। আর জনগণের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করতে হবে এবং জনগণকে নিয়ে স্বোচ্চার হতে হবে- এটাই আমরা আন্দোলন মনে করি। এর জন্য আমরা কাজ করছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি। সুতরাং আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে আমরা সক্ষম হবো।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে আমরা শপথ নিয়েছি, যে গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছে, খালেদা জিয়াসহ দলেন নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে- এই সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে আরো বেগবান করবো। আর আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বেগম জিয়া মুক্ত করবো এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো।

এসময় ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক, সদস্য সচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা মো: নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৫

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। দুটি খাদ্য তৈরীর কারখানার মালিক যুবলীগ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। ভাংচুর করা হয়েছে পিকআপ গাড়ি, একটি বাড়িতে চালানো হয়েছে লুটপাট।
রোববার বিকাল ৫টায় উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ষাড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ষাড়পাড়া এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মুঞ্জুর হোসেন। এবং মৃত আফর উদ্দিনের ছেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নান্নু মিয়া। তারা উভয়েই প্রায় আট বছর যাবৎ সরকার অনুমোদনবিহীন ভুট্টার মিস্টি খই, চিপস, আইস ললি ও আইসক্রীম কারখানা বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল।

সম্প্রতি নরসিংদী এলাকার মিঠুন নামে এক ক্রেতা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নান্নু মিয়ার কারখানা থেকে বাকিতে মাল কিনে টাকা দিতে গড়িমসি করে। রোববার বিকালে মিঠুনের নিকট যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেন বাকিতে মাল বেচে করে। এ নিয়ে মুঞ্জুর হোসেন ও নান্নু মিয়ার মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নান্নু মিয়া ও তার লোকজন ধারালো দা, ছোরা, হকিস্টিক নিয়ে যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আহত মুঞ্জুর হোসেন (৩৫), নান্নু মিয়া (৩৬), লিপি আক্তার (৪০), মনির হোসেন (৪০), নজরুল (৪৫), ইয়াছিন (৩৫), বিলকিছ আক্তার (৩৫), মজিবুর (৪৫), বাবুল মিয়া (৫২), শামীম মিয়া (২০) ও আলেয়া বেগমকে (২৮) আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

ওই সময় যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেনের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে মুঞ্জুর হোসেন জানান।
অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নান্নু মিয়া অভিযোগ করেন, তার ব্যবসা বন্ধ করার জন্য মুঞ্জুর হোসেন তার ক্রেতাদের কাছে কম দামে ও বাকিতে মাল বিক্রি করছে। ঘটনার দিন তার কারখানায় মাল নিতে আসা একটি পিকআপ মুঞ্জুর ও তার লোকজন ভাংচুর করে বলে জানান তিনি।

আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অবশেষে জানা গেল!কেন অবিবাহিত মমতা ব্যানার্জী?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, ‘নিজের স্ত্রীকে কোনওদিন ঠিক করে দেখেছেন? আপনি কী করে জানবেন ঘরের মেয়েদের কথা, ঘরের বোনেদের কথা, ঘরের মায়েদের কথা, ঘরে স্বামীদের কথা?

সংসার না করলেও পরিবারকে সব সময়েই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। দাবি করেন, রাজ্যের মা বোনেদের কথা তিনি জানেন, বলেন। কিন্তু তার বাংলার প্রত্যেকটি মা বোনের মতো নিজের ব্যক্তিগত একান্ত আপন কথা কাউকে বলেছেন কি? হয়তো বলেছেন। হয়তো বা না। তার জীবনের আদলে তৈরি হওয়া বাংলা ছবির টিজার যেন সেই সমস্ত জল্পনাকে উসকে দিয়েছে জনতা জনার্দনের কাছে।

কি দেখানো হয়েছে টিজারে? টিজারের ১৪ থেকে ২০ সেকেন্ডে দেখা যাচ্ছে মমতার আদলে তৈরি হওয়া চরিত্র ইন্দিরা তার এক পরিচিত যুবককে বলছে, তুমি বিয়ের কথা বলছো তো, কিন্তু আমার জীবনের লক্ষ্যটা যে মানুষের জন্য কিছু করা।

এখানেই আম জনতা মনে প্রশ্ন জাগছে। মুখ্যমন্ত্রীর জীবনের আদলে তৈরি হওয়া ছবির নাম ‘বাঘিনী’।
২০১৬ সাল থেকে মুক্তির সামনে এসেও আটকে ছিল। ২০১৯ সালের মে মাসে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেতে চলেছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক স্বয়ং। ছবির গল্প স্ক্রিপ্ট লিখেছেন পিঙ্কি পাল। প্রযোজনাও করছেন তিনি নিজে।

টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মারামারি করছে ছাত্রলীগ: ভিপি নুর

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) যে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে তার আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নয় বলে দাবি করেছেন ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এই প্রোগ্রাম নিয়ে ডাকসুতে কোনো আলোচনাই হয়নি। অপকর্ম ঢাকতে ডাকসুকে ব্যবহার করছে ছাত্রলীগ।

আজ শনিবার গনমাধ্যমের কাছে এই দাবি করেন নুর। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে কনসার্ট নিয়ে যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে তা ঢাকতেই ডাকসুর নাম ব্যবহার করছে।যদিও কনসার্ট উপলক্ষে ছাপানো পোস্টারে ছাত্রলীগের সঙ্গে ডাকসুর নামও আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি পুরোপুরি জানি না। প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে কনসার্ট করা না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে মল চত্বরে বৈশাখী কনসার্টস্থলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির শীর্ষ তিন নেতা। এ সময় মঞ্চের পাশের সাউন্ড সিস্টেম ও প্যান্ডেলসহ স্টলগুলোতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এরপর এর জের ধরে আজ শনিবার সকালে আবারও কনসার্টস্থলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘এটা ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম। ডাকসুর হলে আমি জানতাম। তবে, ডাকসুর নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ কিছু করে তাহলে আর কিছু বলার থাকে না।’

নুর অভিযোগ করেন, এই কনসার্ট উপলক্ষে এক কোটি ২০ লাখ টাকা বাজেট হয়। মোজো কোম্পানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীপ্রতিষ্ঠান এই কনসার্ট উপলক্ষে টাকা দেয়। ছাত্রলীগের নেতারা এই টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মারামারি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করছে। একপক্ষ আরেকপক্ষকে কোণঠাসা করতে প্রচার চালাচ্ছেন এটি ডাকসু ও ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম। অথচ ডাকসুতে এই প্রোগ্রাম নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

ডাকসুর সঙ্গে এই বাণিজ্যিক কনসার্টের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন ডাকসুর ভিপি। একই সঙ্গে ডাকসুকে কলঙ্কিত করতে এই নাম ব্যবহার না করারও অনুরোধ জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন এবং কনসার্টের অন্যতম সমন্বয়কারী ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা আসিফ তালুকদারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।