যা লেখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া বিএনপির চিঠিতে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে বিএনপি।রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন তেজগাঁওয়ে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেন।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে যা লেখা হয়েছে তা তুলে ধরা হলো-‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সৌজন্যে আমরা জানতে পেরেছি যে আপনি সর্বশেষ ভারত সফরকালে ০৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের সাথে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছেন।এছাড়া একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানি বিষয়সহ ৩টি প্রকল্প

উদ্বোধন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশ।প্রকৃতপক্ষে এ সফরের সময় ভারতের সাথে সর্বমোট কয়টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সে সম্পর্কে জনগণ অবহিত নয়।’‘ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এসকল চুক্তিকে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি তথা বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি হিসেবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার। অপরদিকে স্বাক্ষরিত এসকল চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী মর্মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশং**সভাবে পিটিয়ে হ**ত্যা করা হয়।’‘ভারত দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত চুক্তি

ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের চুক্তি, বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের সার্বক্ষণিক নজরদারিতেসহযোগিতা বিনিময়ের নামে ভারতকে আমাদের উপকূলে রাডার স্থাপনে চুক্তি এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তি সই করার পূর্বে
বিষয়টি নিয়ে কখনো কোনো ধরনের পাবলিক ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা বাংলাদেশের জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি।’‘বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) তে উল্লেখ আছে যে, ‘বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার

ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’‘কিন্তু ভারতের সাথে যেসকল চুক্তি সই করা হলো তার কোনোটিই জনসম্মুখে কিংবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণই এসকলচুক্তির খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। অথচ এসকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে অবহিত থাকা জনগণের মৌলিক অধিকার, যে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা স্পষ্টতঃই সংবিধানের লঙ্ঘন।’‘প্রকৃতপক্ষে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়নি।’‘এমতাবস্থায় সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুযায়ী ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তির পূর্ণবিবরণী অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করে জনমনে সৃ্ষ্ট নানাবিধ প্রশ্ন ও সন্দেহ দূর করার আহবান জানাচ্ছি।’

জানা গেল যে কারণে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বিএনপির নেতা আলাল ও খোকন

সম্পতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত বিভিন্নচুক্তির বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিচ্ছে বিএনপি। দলের দুই নেতা ওই চিঠি নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।তারা হচ্ছেন, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও

খায়রুল কবির খোকন।রবিবার (১৭নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা হন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস ইউংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির ডকুমেন্ট চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয়া হচ্ছে। বিএনপির দুই নেতা চিঠি নিয়ে যাচ্ছেন।সোয়া ১১টায় খায়রুল কবির খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা মহাখালী পার

হচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি পৌঁছে দেবো।এর আগে শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদসম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে,প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে যেসব চুক্তি করেছেন তা জনসমক্ষে প্রকাশ করবার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা চিঠি দেব।

নূর হোসেন ‘ইয়াবাখোর’ নয়, ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন: রাঙ্গা !

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ ছিল এ কথা বলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। সোমবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, রাঙ্গা জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা।

বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা এ কথা জানান।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নূর হোসেন মা বলেন, আমার ছেলে বুকে-পিঠে লেখে রাজপথে নামলো দেশের জন্য, জনগণের জন্য। কীসের জন্য নামলো? ও কি পাগল ছিল, ওর কি জ্ঞান, বিচার ছিল না? আজ ৩০ বছর পরে ওরে নেশাখোর বলা হলো। আমি এ বিচারের দায়ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম। জনগণের কাছে তাকে (মসিউর রহমান রাঙ্গা) ক্ষমা চাইতে হবে। এসময়, নূর হোসেনকে নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বড় ভাই আলী হোসেনও।

জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে তাকে বয়কটের কথা বলেন তিনি।
নূর হোসেনকে নিয়ে দেয়া বক্তব্য তার নিজের না দলীয়—জানতে চাইলে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমি জাপার মহাসচিব। আমি যা বলি, দলের পক্ষেই বলি। আমার কি ব্যক্তিগত কোনও বিষয় আছে? নূর হোসেনের সঙ্গে তো আমার জমি জমা সংক্রান্ত কোনও ঝামেলা ছিল না।

আপনি নূর হোসেনের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবেন কিনা’—সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গা বলেন, নূর হোসেনকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে যারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বলে দিয়েছি।

‘ইয়াবাখোর’, ফেনসিডিলখোর’ শব্দ দুটি স্লিপ অব টাং হয়ে গেছে। এই শব্দগুলো আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। নূর হোসেন ইয়াবা, ফেনসিডিল খেত এ কথাটি বলার জন্য আমি তার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি।প্রসঙ্গত, রোববার (১০ নভেম্বর) বনানীতে জাপার চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র দিবস’-এর এক আলোচনা সভায় রাঙ্গা বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করলেন? নূর হোসেনকে? কে নূর হোসেন? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর।’

রাঙ্গা বলেন, ‘আমি গতকাল বলেছিলাম, নূর হোসেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল, ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর ছিল। সেটা আমার স্লিপ অব টাং হয়ে গিয়েছিল। আমি স্বীকার করছি, তখন ফেনসিডিল-ইয়াবা পাওয়া যেতো না। সুতরাং এই দুটি শব্দের জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’

নূর হোসেনের বুকেপিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, এসব কথা তো আপনি আপনার বুকে আঁকতে বা লিখতে পারেন না। কেউ না কেউ এটা লিখে দিয়েছে। একজন সুস্থ প্রকৃতির মানুষ এটি কোনও সময় করতে পারেন না। সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। এটা কেউ না কেউ সাবোটাজ করেছে। একটা লাশের দরকার ছিল। সেটা তারা করেছে। একইভাবে আমরা ডাক্তার মিলন হত্যারও প্রতিবাদ করেছি। তাকেও পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে। এগুলো হলো রাজনীতির আলোচনা।

নূর হোসেনের পরিবার আপনার (রাঙ্গা) বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে–এ প্রসঙ্গে জাপা মহসচিব বলেন, এখন তারা মামলা করলে করতে পারে। মামলা তো যে কেউ করতে পারেন। দেশে আইন-কানুন তো আছেই। সূত্র : সময় নিউজ টিভি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: রাতে ঘুমাননি প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার রাতে আ ঘাত হানার পর প্রধানমন্ত্রী নি র্ঘুম রাত কা টিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।আজ রবিবার (১০ নভেম্বর) নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় হাছান মাহমুদ এসব

বিষয় জানান।তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ক্ষ য়ক্ষ তি এড়াতে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাত থেকেই মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স ত র্ক থাকার নি র্দে শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ঘূর্ণিঝড় আ ঘা ত হা নার পর নি র্ঘুম রাত কা টিয়েছেন তিনি। হাছান মাহমুদ আরও বলেন,
সরকারের প্র স্তুতির কারণেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কোনো ক্ষ য়ক্ষ তি করতে পারেনি। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টা ন্ত স্থা পন করেছেন।
সরকার ঘূর্ণিঝড় মো কাবেলায় প্রস্তুত নয় বলে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ম ন্তব্যের নি ন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আয়নায় আগে নিজেদের

মুখ দেখুন। ১৯৯১ সালেবিএনপি ক্ষ মতায় থাকার সময় যে ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল তাতে পাঁচ লাখ মানুষ মা রা গিয়েছিল। এরপর তারা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, সরকারের প্র স্তুতির কারণে যত লোক মা রা যাওয়ার কথা ছিল তত মা রা যায়নি।

দলের বা আত্মীয় পরিচয় দেখতে চাই না, অভিযান চলবেইঃ প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অভিযানে কে দলের, কে কী বা কে আমার আত্মীয়-পরিবার এসব আমি দেখতে চাই না। অভিযান অব্যাহত থাকবেই।সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারের নেয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। কারণ, আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে হবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকের সাথে সাথে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান না চালানো হয় তাহলে সমাজে একটা বিরাট বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে উন্নয়নের প্রকল্প তৈরি করি। যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও উন্নত হবে, আরও এগিয়ে যাবে। সমাজের বৈষম্যটাও দূর হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে (দুর্নীতিবিরোধী অভিযান) আমার দলের কে কী, সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয়-পরিবার দেখতে চাই না, বিত্তশালী কেউ আছে কি-না -এটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবেই।
তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ, আমি জানি এটা খুব রিস্কি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা একটা (অবৈধ সম্পদ অর্জন) অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা মুষ্টিমেয় লোক করে যাচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষ করে না, কিন্তু এর প্রভাবটা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়। সেখান থেকে দেশটাকে তো রক্ষা করতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। আমাদের জীবনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সমস্যাটা প্রায় তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করছে। আমরা মিয়ানমারের সাথে আলোচনা এবং একটি চুক্তিও করেছি যে, তারা তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে। কিন্তু ফেরত নেওয়ার সময় আর ফেরত নেয়া হচ্ছে না।

আমি লজিং থেকে টিউশনি করিয়ে আজ অর্থমন্ত্রী হয়েছি !

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহাবাগে জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ বিভিন্ন স্কুল এর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমি লজিং থেকে টিউশনি করিয়ে পড়ালেখা করেছি।

তারপর আজকে অর্থমন্ত্রী হয়েছি। সুতরাং সব শিশু-কিশোরই আগামীতে অর্থমন্ত্রী হতে পারবে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে অনুসরণ করো কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। আমি স্কুলে বেতন দিতে পারিনি তাই এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার আগে তিনবার খাতা থেকে নাম কাটা গেছে।তারপর গ্রামের মানুষ বেতন দিলে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি পেয়েছি।

একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাতেও বেতন দিতে পারিনি। গ্রামের মানুষ বেতন দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।কিশোরদের উদ্দেশ্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এজন্য মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে এবং বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

যুবলীগের যে ৪ নেতার গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ !

বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের শীর্ষ চার নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা গণভবন সূত্রে জানা গেছে, । বাংলা ইনসাইডার এরা হলেন-মইনুল হোসেন খান নিখিল (সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ)

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট (সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ)রেজাউল করিম রেজা (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ)উল্লেখ্য যে, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে হড়িত বলে অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিল এবং বনানীতে একাধিক ক্যাসিতোতে অভিযান চালায়।

এসব ক্যাসিনোর মালিকানা যুবলীগের বিভিন্ন নেতার নামে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর পরই এসব নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। সেই শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস এবং নৈতিকস্খলনজনিত অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর অংস হিসেবেই যুবলীগের চার নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে, ছাত্রলীগ নেতা শোভন-রাব্বানীর গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সূএঃ আমাদের সময়.কম

রিজভীকে ‘চামড়া সিন্ডিকেটে’র নেতার নাম দিতে বললেন কাদের !

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল মঙ্গলবার কারো নাম উল্লেখ না করেই অভিযোগ করেছিলেন, দেশের চামড়া বাজারে ধসের পেছেনে সিন্ডিকেট কাজ করেছে। সেই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক বড় নেতা।একদিনের ব্যবধানে আজ বুধবার রিজভীর কাছে সেই নেতার নাম জানতে চাইলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কোন নেতার নেতৃত্বে চামড়া সিন্ডিকেট হয়েছে, তাঁর নাম রিজভী সাহেবকেই প্রমাণসহ দিতে হবে। প্রমাণসহ নাম পেলে আমরা অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঈদ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।চামড়ার বাজার নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কারণে চামড়াশিল্পের কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ চামড়াশিল্প রক্ষার জন্য যা করা দরকার, সরকার সবকিছুই করবে বলেও জানান তিনি।

চামড়ার দাম না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও খুব বেশি ওয়াকিবহাল নই। অনেকেই অভিযোগ করছেন। এটি নিয়ে আমি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আপনাদের জানাব। তবে চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট হয়ে থাকলে আমরা এর বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপির আপাতত কোনো কাজ নেই। এ কারণেই তারা এখন শুধু সরকারি দলের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াচ্ছে।’ঈদের আগে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কোরবানির চামড়া নিয়ে যাতে কোনো কারসাজি বা সিন্ডিকেট না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।’ গত সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরবানির পর পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানিদাতারা। কোনো কোনো এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। কেউ কেউ রাস্তায় ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে শোরগোল চলছে।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে গরু থেকে পাওয়া যায় ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগল ও ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষ এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়া থেকে পাওয়া যায়। বছরে মোট প্রাপ্ত চামড়ার শতকরা ৬০ ভাগই আসে কোরবানিতে জবাই করা পশু থেকে।

অনেক দিন পর দুই নাতনিকে নিয়ে বাসার খাবার খেলেন খালেদা জিয়া !

দুই নাতনি জাহিয়া ও জাফিয়া হচ্ছেন তাঁর প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে। দুজনই তাদের মা শর্মিলা রহমান সিঁথির সঙ্গে কারাবন্দি দাদি খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে।স্বজনদের নিকটজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অসুস্থ খালেদা জিয়া দুই নাতনিকে দেখে খুশি হয়েছেন। দুই নাতনি পায়ে ধরে সালাম করলে তাদের বুকে জড়িয়ে আদর করেন খালেদা জিয়া।

পরিবারের সদস্যরা জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কারো সাহায্য ছাড়া একা হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে করে তাঁকে চলাচল করতে হয়। ডায়াবেটিস থাকায় প্রতিদিনই তাঁকে ইনসুলিন নিতে হয়। রয়েছে দাঁত ও চোখের সমস্যা। হাত-পায়ে আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও রয়েছে তাঁর।২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো।

কারাবন্দি অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আজ ঈদের দিন কারা কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে ছয়জনকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়। কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছাড়া ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার।

দুপুর দেড়টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকে আসেন তাঁরা। ছোট ছেলের বউ শাশুড়ির (খালেদা জিয়া) জন্য বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা নাতনি, ছোট ছেলের বউসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় সময় কাটান বিএনপি চেয়ারপারসন।সেবার জন্য গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দি রয়েছেন। তিনিও স্বজনদের আনা খাবার একই সঙ্গে খেয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, সাবিনা ইয়াসমীনসহ ১৫-১৬ নেতা-কর্মীও কেবিন ব্লকের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের নেত্রীকে স্মরণ করেন। ছাত্রদলের পাঁচ-ছয়জন নেতা-কর্মীকেও কেবিন ব্লকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সঠিক উন্নয়ন হলে মশা মারার দরকার হতো না : গয়েশ্বর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মেয়র ও মন্ত্রীরা কাজের চেয়ে কথা বলছেন বেশি। সঠিক উন্নয়ন হলে মশা মারার দরকার হতো না।’ উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীনদের পকেট ভারী হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন মিলছে না, এমন অভিযোগের পাশাপাশি এ সময় নিজ দলের আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা।নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তি মিলবে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তির মুক্তির জন্য মানববন্ধন? মানববন্ধন হলো সামাজিক অনুষ্ঠান। সামাজিক প্রতিবাদ এ ভাষায় করে। সুতরাং এই শান্তিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, ‘বিএনপি এমন কোনো আন্দোলন করেনি যে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে। বিএনপির মতো একটা দল যে আন্দোলন করার ক্ষমতা রাখে, সেই আন্দোলন যতক্ষণ পর্যন্ত না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না।’