যুবলীগের যে ৪ নেতার গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ !

বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের শীর্ষ চার নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা গণভবন সূত্রে জানা গেছে, । বাংলা ইনসাইডার এরা হলেন-মইনুল হোসেন খান নিখিল (সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ)

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট (সভাপতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ)রেজাউল করিম রেজা (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ)উল্লেখ্য যে, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে হড়িত বলে অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিল এবং বনানীতে একাধিক ক্যাসিতোতে অভিযান চালায়।

এসব ক্যাসিনোর মালিকানা যুবলীগের বিভিন্ন নেতার নামে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর পরই এসব নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। সেই শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস এবং নৈতিকস্খলনজনিত অপরাধের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর অংস হিসেবেই যুবলীগের চার নেতার গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে, ছাত্রলীগ নেতা শোভন-রাব্বানীর গণভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সূএঃ আমাদের সময়.কম

রিজভীকে ‘চামড়া সিন্ডিকেটে’র নেতার নাম দিতে বললেন কাদের !

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল মঙ্গলবার কারো নাম উল্লেখ না করেই অভিযোগ করেছিলেন, দেশের চামড়া বাজারে ধসের পেছেনে সিন্ডিকেট কাজ করেছে। সেই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক বড় নেতা।একদিনের ব্যবধানে আজ বুধবার রিজভীর কাছে সেই নেতার নাম জানতে চাইলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কোন নেতার নেতৃত্বে চামড়া সিন্ডিকেট হয়েছে, তাঁর নাম রিজভী সাহেবকেই প্রমাণসহ দিতে হবে। প্রমাণসহ নাম পেলে আমরা অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঈদ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।চামড়ার বাজার নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কারণে চামড়াশিল্পের কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ চামড়াশিল্প রক্ষার জন্য যা করা দরকার, সরকার সবকিছুই করবে বলেও জানান তিনি।

চামড়ার দাম না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও খুব বেশি ওয়াকিবহাল নই। অনেকেই অভিযোগ করছেন। এটি নিয়ে আমি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আপনাদের জানাব। তবে চামড়া নিয়ে কোনো সিন্ডিকেট হয়ে থাকলে আমরা এর বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপির আপাতত কোনো কাজ নেই। এ কারণেই তারা এখন শুধু সরকারি দলের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াচ্ছে।’ঈদের আগে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কোরবানির চামড়া নিয়ে যাতে কোনো কারসাজি বা সিন্ডিকেট না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।’ গত সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। কোরবানির পর পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানিদাতারা। কোনো কোনো এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। কেউ কেউ রাস্তায় ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে শোরগোল চলছে।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে গরু থেকে পাওয়া যায় ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগল ও ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষ এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়া থেকে পাওয়া যায়। বছরে মোট প্রাপ্ত চামড়ার শতকরা ৬০ ভাগই আসে কোরবানিতে জবাই করা পশু থেকে।

অনেক দিন পর দুই নাতনিকে নিয়ে বাসার খাবার খেলেন খালেদা জিয়া !

দুই নাতনি জাহিয়া ও জাফিয়া হচ্ছেন তাঁর প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে। দুজনই তাদের মা শর্মিলা রহমান সিঁথির সঙ্গে কারাবন্দি দাদি খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে।স্বজনদের নিকটজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অসুস্থ খালেদা জিয়া দুই নাতনিকে দেখে খুশি হয়েছেন। দুই নাতনি পায়ে ধরে সালাম করলে তাদের বুকে জড়িয়ে আদর করেন খালেদা জিয়া।

পরিবারের সদস্যরা জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কারো সাহায্য ছাড়া একা হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে করে তাঁকে চলাচল করতে হয়। ডায়াবেটিস থাকায় প্রতিদিনই তাঁকে ইনসুলিন নিতে হয়। রয়েছে দাঁত ও চোখের সমস্যা। হাত-পায়ে আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও রয়েছে তাঁর।২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো।

কারাবন্দি অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আজ ঈদের দিন কারা কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে ছয়জনকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়। কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছাড়া ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার।

দুপুর দেড়টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকে আসেন তাঁরা। ছোট ছেলের বউ শাশুড়ির (খালেদা জিয়া) জন্য বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা নাতনি, ছোট ছেলের বউসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় সময় কাটান বিএনপি চেয়ারপারসন।সেবার জন্য গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দি রয়েছেন। তিনিও স্বজনদের আনা খাবার একই সঙ্গে খেয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, সাবিনা ইয়াসমীনসহ ১৫-১৬ নেতা-কর্মীও কেবিন ব্লকের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের নেত্রীকে স্মরণ করেন। ছাত্রদলের পাঁচ-ছয়জন নেতা-কর্মীকেও কেবিন ব্লকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সঠিক উন্নয়ন হলে মশা মারার দরকার হতো না : গয়েশ্বর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মেয়র ও মন্ত্রীরা কাজের চেয়ে কথা বলছেন বেশি। সঠিক উন্নয়ন হলে মশা মারার দরকার হতো না।’ উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীনদের পকেট ভারী হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়ার জামিন মিলছে না, এমন অভিযোগের পাশাপাশি এ সময় নিজ দলের আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা।নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তি মিলবে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তির মুক্তির জন্য মানববন্ধন? মানববন্ধন হলো সামাজিক অনুষ্ঠান। সামাজিক প্রতিবাদ এ ভাষায় করে। সুতরাং এই শান্তিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, ‘বিএনপি এমন কোনো আন্দোলন করেনি যে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে। বিএনপির মতো একটা দল যে আন্দোলন করার ক্ষমতা রাখে, সেই আন্দোলন যতক্ষণ পর্যন্ত না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না।’

স্যার বলা লাগবে না, মানুষের সেবা করুন: মাশরাফি !

বুধবার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছেন নড়াইল-২ (নড়াইল-লোহাগড়া) আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ ৭ আগস্ট বুধবার বিকেলে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মাশরাফি বলেন, ‘আমি সালাম, স্যালুট চাই না। আমাকে স্যার বলা লাগবে না। গরিব মানুষের সেবা করুন, আমি তাতেই বেশি খুশি হব। দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ছিনিমিনি খেললে আমি সেটা মেনে নেব না।’এ সময় রোগীদের জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে ১০টি ফ্যান, ওষুধ রাখার জন্য বড় ফ্রিজ, নষ্ট জেনারেটর মেরামতের ব্যবস্থা, টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা করেন তিনি। হাসপাতালের সীমানা ম্যাপে অবৈধ স্থাপনা থাকলে অপসারণ করবার নির্দেশ দেন।

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের খোঁজখবর নেন তিনি। অক্লান্ত কষ্ট করে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানান মাশরাফি।এ সময় মতবিনিময় সভায় লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, পৌর মেয়র মো. আশরাফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান বিএম কামাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন ইতি, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সমস্য সৌমেন বোস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধ বাধলে ভারতের পক্ষে থাকবে বাংলাদেশ- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল !

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাধলে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। সবখানে ভারত আমাদের সহযোগিতা করে। ভারত যখন আক্রান্ত হবে, তখন নিশ্চয়ই আমরা ভারতের সঙ্গে থাকব।’

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কী—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে সাম্প্রতিক সফরের সময়ে ভারতীয় সাংবাদিকেরাও একই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি বলেছি, ভারত যখন আক্রান্ত হবে, তখন নিশ্চয়ই আমরা ভারতের সঙ্গে থাকব।’

চলমান অবস্থায় বাংলাদেশের কোনো প্রস্তুতি রয়েছে কি না—জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের বর্ডার নেই। ১ হাজার ২০০ মাইল দূরে তাদের অবস্থান। তাদের হুংকার, হাঁকডাকে আমাদের কিছু আসে-যায় না। আমরা তাদের ১৯৭১ সালে পরাস্ত করে বিদায় করে দিয়েছি। তাদের কথা চিন্তাও করতে চাই না, স্মরণও করতে চাই না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমােন্ত হত্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। এখন বিজিবি ও বিএসএফের সুসম্পর্ক রয়েছে।বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকার। এতে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শামীম চৌধুরী, বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এডিস মশা সুযোগ পেলে মেয়রেরও র’ক্ত খাবে: ওবায়দুল কাদের !

এডিস মশার হাত থেকে বাঁচতে দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে সবাইকে একযোগে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তা না হলে মন্ত্রী-এমপি কেউ-ই রেহাই পাবে না। সুযোগ পেলে মেয়রেরও র’ক্ত খাবে।মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দলটির এক বিশেষ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই এডিস মশা ভয়ঙ্কর, এই এডিস মশা কারো চেহারার দিকে তাকায় না,আপনি কাউন্সিলর, মন্ত্রী, এমপি নাকি মেয়র কোন দিকে তাকাবে না। সুযোগ পেলে র’ক্ত খাবে, মেয়রেরও র’ক্ত খাবে, মন্ত্রীর র’ক্ত খাবে, এমপির র’ক্ত খাবে, নেতার রক্ত খাবে-কাউকে ছাড়বে না।’সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা সিটিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা যতই মুখে নিয়ন্ত্রণের কথা বলি না কেন, এখনও এটা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাস্তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফটোসেশনের জন্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন না। আমরা চাই, ঢাকা সিটির প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নেত্রী এটা জানতে চেয়েছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন। নেত্রী কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এর আগে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা আমরা মীন করতে চাই যে, কর্মসূচিটি আমরা সিনসিয়ারলি এবং সিরিয়াসলি পালন করছি। জনস্বার্থে, আমাদের দলের স্বার্থে, নেত্রীর নির্দেশনায় দেশের স্বার্থে এই কাজটি আমরা করছি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘মিডিয়া না থাকলে ডেঙ্গুকে গুজব বলে চালিয়ে দিত সরকার’ বিএনপির এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বলবো মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে একটা রাজনৈতিক দল এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। মিডিয়া না থাকলে বিএনপি যে আছে এটা বোঝার কোন উপায় আছে?’মন্ত্রী বলেন ‘নির্বাচনে তারা ব্যর্থ, আন্দোলনে তারা ব্যর্থ। এত বড় বন্যা হয়ে গেলো ছিটেফোঁটা দু’একটা জায়গায় গিয়ে ফটো সেশন করে শেষ।

ডেঙ্গু অভিযানেও তারা নেই, তারা শুধু মুখে মুখে আবাসিক প্রতিনিধি পল্টনের অফিসে বসে কথা বলছে। মিডিয়া না থাকলে আজকে জনগন কিভাবে বুঝতো এই দল যে আছে?‘

নড়াইলের সকল ডে*ঙ্গু আ*ক্রান্ত রো*গীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন মাশরাফি !

২০০১ সালের পর আবারো সারাদেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে সম্প্রতি এডিস মসার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর। এমতাবস্থায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় ডেঙ্গু আ*ক্রান্ত সকল রোগীদের চিকিংসার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তুজা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্হ্যমন্ত্রণালয়ে গিয়ে এসব কথা উল্লেখ করেন মাশরাফি। সেই সাথে তার এলাকার হাসপাতারের উন্নয়ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। মাশরাফি বলেন, ‘আমার নি*র্বা*চনী এলাকায় ডেঙ্গু রোগে আ*ক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা সকলের পাশে আমি আছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমার। সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার জনগণের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বানও জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার কাজ করে যেতে হবে। দেশের জন্য সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করে যেতে পারি তবে খুব দ্রুতই আমরা ডে*ঙ্গুসহ যেকোনো সমস্যার বি*রুদ্ধে জয়ী হতে পারবো।’

দেশের জাতীয় একটি দৈনিকের খবর অনু*যায়ী বর্তমানে দেশের ৫ টি জেলা ছাড়া সব জেলাতেই ডেঙ্গু আ*ক্রান্ত রোগী রয়েছে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের তথ্য মদে নড়াইলে ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

মশারি ব্যবহার করেন, মশা কামড়াবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আগে মশার হাত থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করা হতো। আমি সবাইকে বলব আপনারা বাসায় মশারি ব্যবহার করেন। তাহলে আর মশা কামড়াবে না।’

রোববার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা শিশুপার্ক উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।ডেঙ্গু জ্বরের কোনো প্রতিশোধক নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জানা মতে ডেঙ্গু জ্বরের কোনো প্রতিশোধক নেই। যদি কোনো ডাক্তার বা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলে থাকেন ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিশোধক আছে তাহলে মিথ্যা কথা। এদের কথা বিশ্বাস করা যাবে না।’

তিনি বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকেরা অনেক অভিজ্ঞ। তারা কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুর চিকিৎসা করছেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই। ডেঙ্গু হলে চিকিৎসক আছেন, চিকিৎসা হবে। ডেঙ্গুর জন্য কোনো ধরনের প্রতিষেধকের আশ্রয় না নেওয়াই মঙ্গলজনক বলে মনে করি আমি।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, মেয়ররা কাজ করছেন। ডেঙ্গু ও এডিস মশা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে মানুষকেও ডেঙ্গু জ্বর ও এডিস মশার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ঢাকা শহরের চেহারা আমরা পাল্টে দেবো। আমাদের দুই মেয়র সেই লক্ষ্যে-ই কাজ করছেন। সূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর, বাংলাদেশ টুডে

প্রিয়া সাহা ‘ভদ্র মহিলা’ বলে যা বললেন মির্জা ফখরুল !

প্রিয়া সাহা একজন ‘ভদ্র মহিলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রিয়া সাহা নামের একজন ভদ্র মহিলা আমেরিকাতে বক্তব্যে দিয়েছেন। তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রো**হিতার মা*মলা হওয়া উচিত।তারপরের দিন বলছেন, তাকে আত্ম*পক্ষের সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি আত্ম*পক্ষে সমর্থন করেছেন। তার একটি ভিডিও বের হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, এটা তো আমার কথা নয়, এটা প্রধানমন্ত্রীর কথা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কি বেগম জিয়ার মুক্তি চাই। যদি চাই তাহলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্য, ঐক্য এবং ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তাই দলমত নির্বি*৮শেষে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আজকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশ নিয়ে কিছু মানুষ প্রচার করছে যে, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঠিক নেই। কিন্তু ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট ঠিক আছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসা জন্য লন্ড*নে গিয়েছেন। আমরাও চাই, উনি সুদৃষ্টি নিয়ে ফিরে আসুক। উনি দেখুক, এদেশের মানুষ কি চায়। মানুষের মনে ভাষা পড়ুক। তাহলেই উনি বুঝতে পারবেন, এদেশের মানুষ বেগম জিয়ার মু**ক্তি চায়।

ফখরুল বলেন, বিএসএমএমইউতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) বেগম জিয়াকে সরকার সঠিক চিকি*ৎসা দিতে পারছে না। কারণ সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে। গতকাল আমি খোঁজ নিয়েছি যে, দেশনেত্রী আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ব্লা**ড সুগার বারবার উঠানামা করছে।তার জিভের মধ্যে আলসার হয়েছে। এখন তিনি শ্বাস*ক*ষ্টের জন্য নি*শ্বাস নিতে পারছেন না। আজকে আমরা এই সভা থেকে দাবি জানাচ্ছি, সুচিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে অবিলম্বে মু*ক্তি দেওয়া হোক।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা (বিএনপি) এতো দিন পরে কেনো বুঝলাম, আইনিভাবে নয়, সংগ্রামের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। আমরা কেনো এতো দিন কিছু করলাম না? তাহলে কি জেলের মধ্যে বেগম জিয়ার মৃ**ত্যু হলে তার লাশ নিয়ে আমরা মিছিল করবো? আর আমি শেখ হাসিনার পদ*ত্যা*গ চাই। কারণ উনি ভোট চোর।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকার ডেঙ্গু মশা মারতে পারে না। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের মারতে পারে। আর সরকারের কিছু লোক আছে, আমাদের কামড় দেয় এবং চুষে চুষে র**ক্ত খায়। এই অবস্থা চলতে পারে না।এজন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে নাই। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মু*ক্ত করতে হবে। আর বেগম জিয়াকে মু*ক্ত করার জন্য আমাদের যা যা করার দরকার আমরা তাই তাই করবো।

এদিন, সমাবেশ শুরু হওয়ার পর পরই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নামতে শুরু করে। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘মু*ক্তি মু*ক্তি মু*ক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মু*ক্তি চাই’, ‘বাধা দিয়ে আন্দোলন ব*ন্ধ করে যাবে না, পুলিশ দিয়ে আন্দোলন ব*ন্ধ করা যাবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগানে সমাবেশস্থল মুখরিত করে তোলেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়। দুপুর থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে খুলনা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠন এবং যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, মাগুড়া, সাতক্ষীরা জেলাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মসূচি অংশ নিতে দেখা গেছে।এদিকে, বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সমাবেশের প্রাঙ্গণসহ এর আশ-পাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, কবির মুরাদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিবুর ইসলাম হাবিব, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।