বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হলেন তামিম ইকবাল

অবশেষে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছিটকেই পড়লেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, আর বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক হলেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) রাত পৌনে দশটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর নিশ্চিত করেছে।মাশরাফির অনুপস্থিতিতে বিকল্প অধিনায়কের নামটিও ঘোষণা করে দিয়েছে বিসিবি। শ্রীলঙ্কা সফরে সীমিত ওভারের সিরিজটিতে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় বাংলাদেশ তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ২৬ জুলাই। এরপরের দুটি ২৮ আর ৩১ জুলাই। সবগুলো ম্যাচই দিবারাত্রির।এই সিরিজকে সামনে রেখেই সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটের আলোয় শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেরে বাংলার সেন্ট্রাল নেটে।সেখানে বোলিং অনুশীলন করতে গিয়েই আবারও চোটে পড়লেন মাশরাফি, সেই হ্যামস্ট্রিংয়ে। যে চোট সেরে উঠতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে।

বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘মাশরাফি আজ (শুক্রবার) অনুশীলন করতে গিয়ে বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন।পরীক্ষার পর জানা গেছে, এটি গ্রেড ওয়ান ইনজুরি। এই ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে চার সপ্তাহের মতো লাগে। তাই এক মাসের মধ্যে খেলাধুলা সংক্রান্ত কোনো কাজই করতে পারবেন না মাশরাফি।’

২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টাইগারদের কোচ হতে চান সুজন !

২০১৭ সালে হাথুরুসিংহে দলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। কোচশূন্য টাইগারদের অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব পালন করেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। তখন শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ঘরেরমাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ হার এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ।

টাইগারদের ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচনা হয় সুজনের। তাই এবার অন্তর্বর্তী নয়, কোচ হলে দীর্ঘমেয়াদের জন্য হতে চান বলে জানিয়েছেন সুজন।
২০১৯ বিশ্বকাপের পর আবার কোচ শূন্য বাংলাদেশ দল। প্রধান কোচ স্টিভ রোডসকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলংকা সফরের আগে তাই কোচ না পেলে অন্তবর্তীকালীন কোচ দিয়ে কাজ চালাতে হবে। তবে খালেদ মাহমুদ সুজন স্বল্প সময়ের জন্য কোচ হতে চান না।

কোচ নিয়োগ বিষয়ে আগামী ২২ জুলাই বোর্ড সভায় আলোচনা হবে। কিন্তু এর আগেই ২০ জুলাই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে টিম টাইগার।
সুতরাং এজন্য দরকার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ। এ বিষয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাকে এমন কিছু বলেনি (বিসিবি)। তবে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে আমার কথা অনেকে বলছে। স্বল্প সময়ের জন্য আমার এ দায়িত্ব নেওয়া ইচ্ছে নেই। যদি লম্বা সময়ের জন্য দেয়, তাহলে অবশ্যই করব।’লম্বা সময় বলতে আগামী ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব চান সুজন। সেটি না হলেও অন্তত আগামী ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত সময় চাইবেন তিনি। জাতীয় দলে লম্বা সময়ের জন্য কোচিংয়ের সুযোগ পেলে তিনি বোর্ডের বাকী সব দায়িত্ব ছাড়তে রাজী আছেন।

সুজনের ভাষায়, ‘লম্বা মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পেলে আমার বোর্ডের পরিচালক হিসেবে থাকার কথা না। আমাকে একটাই বেছে নিতে হবে। এখন আসলে এসব নিয়ে কথা বলা কঠিন। বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে তখন এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলা যায়।’

এই নায়িকার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন ক্রিকেটার যশপ্রীত বুমরাহ !

অভিনেত্রীর সঙ্গে ক্রিকেটারের প্রেম ব্যাপারটা একেবারেই নতুন নয়৷ এর আগেও বহুবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিনেত্রীদের নাম জুড়িয়ে নানারকম গুঞ্জন কানে এসেছে৷

তবে এবার এই গুঞ্জনে ঢুকে পড়লেন ক্রিকেটার যশপ্রীত বুমরাহ! বুমরাহর নাম জড়ালো অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরনের সঙ্গে৷ যশপ্রীত বুমরাহ বোলিংয়ে এতদিন বুঁদ হয়েছিলেন ক্রিকেট প্রেমীরা৷ক্রিকেটার বুমরাহ : তার দুরন্ত বলে এবার যেন আহত হলেন অভিনেত্রী অনুপমাই৷ আর সঙ্গে সঙ্গে প্রেমের তরণী বেয়ে সোজা অনুপমা ঢুকে পড়লেন বুমরাহ হৃদয়ে৷ বুমরাহর বয়স ২৫ বছর৷ আর অন্যদিকে অনুপমার বয়স ২৩ বছর৷

এই দু’জনকে নিয়ে আপাতত গুঞ্জন চরমে৷ এমনকী, অনেকেই বলছেন, এই দুইজনকে নাকি মাঝে মধ্যেই একসঙ্গে দেখা গিয়েছে ঘুরতে ফিরতে৷ তবে এই প্রেম গুঞ্জন নিয়ে আপাতত কিছুই বলতে চাইছেন না বুমরাহ বা অনুপমা কেউ-ই৷

জেতা ম্যাচ হেরে যাকে দোষারোপ করলেন উইলিয়ামসন

২৪২ রান তাড়ায় শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান, হাতে মাত্র ২ উইকেট। সেট ব্যাটসম্যান বেন স্টোকসই ছিলেন ভরসা। একাই দলকে টেনে নিচ্ছিলেন এই অলরাউন্ডার।৫০তম ওভারের চতুর্থ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন স্টোকস। দৌড়ে দুই রান নিতে যান তিনি, তাকে আউট করতে থ্রো করেন কিউই ফিল্ডার মার্টিন গাপটিল।

তবে বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে চলে যায় মাঠের বাইরে। যে ওভারথ্রো থেকে চার আর দৌড়ে নেয়া ডাবলস মিলিয়ে মোট ৬ রান পায় ইংলিশরা। শেষ ওভারে ওই ঘটনাই ম্যাচটা ঘুরিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের দিকে, না হয় ‘টাই’ হওয়াও কঠিন ছিল।শেষ পর্যন্ত তো টাইয়েও টাই হলো, বাউন্ডারির হিসেবে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হলো ইংল্যান্ড। এমন এক ম্যাচের পর ওই ‘চার’ নিয়ে কিউইদের আক্ষেপ হওয়াই স্বাভাবিক। যেখানে আসলে দো*ষ কারোরই ছিল না। গাপটিলও ভুল থ্রো করেননি, স্টোকসও ইচ্ছে করে ব্যাটে সেটা লাগাননি।

কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন আসলে এটা নিয়ে কাকে দুষবেন, যেন বুঝে উঠতে পারছেন না। ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করেই বললেন, ‘এটা আসলে হতাশ হওয়ার মতোই, তাই নয় কি? এমন মুহূর্তে এটা কেউই চাইবে না। আপনারা হয়তো একে বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে এখন আর তাতে আমাদের কোনো লাভ হবে না।আসলে এই ম্যাচটা বিশ্লেষণ করাই কঠিন, এত ছোট ছোট বিষয়গুলো পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। শুধু অতিরিক্ত রানই নয়। ছোট ছোট অনেক কিছু অন্যরকম হতে পারতো।’

তাই বলে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের অর্জনকে খাটো করে দেখছেন না উইলিয়ামসন। নিরেট ভদ্রলোক ভদ্র চেহারা নিয়েই বললেন, ‘দু*র্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন। এটা চ্যা*লেঞ্জিং ছিল। যেমন ভেবেছিলাম, পিচ কিছুটা আলাদা ছিল। আমরা বলছিলাম ৩০০ প্লাস স্কোরের কথা। কিন্তু খুব বেশি ম্যাচে এমন দেখা যায়নি। পুরো টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ড দল যেমন ল*ড়াই করেছে, তার জন্য তাদের ধন্যবাদ।’

উইলিয়ামসনের মনে রয়ে গেছে বাড়তি ২০টি রানের আক্ষেপও। কিউই দলপতি বলেন, ‘পিচ কিছুটা শুষ্ক ছিল। এই পিচে যে এই রানই যথেষ্ট চ্যা*লেঞ্জিং, সেটা প্রমাণ হয়েছে। আরও ২০টা রান করতে পারলে ভালো হতো, তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে ২৪০-২৫০ও কম না। দুই দলই হৃদয় জিতেছে, লড়াই করেছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে টাই। বোঝাই যায়, এই ম্যাচের অনেকগুলো অংশ ছিল।’

উইলিয়ামসন তুমি না, এটার যোগ্য সাকিব !

স্বাগতিক দল ইংল্যান্ড শিরোপা জিতে শেষ হয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২তম আসর। পুরস্কার ঘোষণার সময় সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসাইন বলেন, সাকিব আল হাসান, রোহিত শর্মা ও মিচেল স্টার্ক আসর সেরা খেতাবের বড় দাবিদার।তবে ব্যাট হাতে নৈপুণ্য এবং অসাধারণ নেতৃত্ব গুণের কারণে পুরস্কারটা পাচ্ছেন কেন উইলিয়ামসন।

ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট শিকারের মতো অবিশ্বাস্য পারফরমেন্সের পরও, সাকিব আল হাসান পেলেন না বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। দারুণ অর্জনের পরও সাকিব আল হাসান ‘টুর্নামেন্ট সেরা’ না হওয়াতে টুইটারে সমালোচনার ঝড়।সেই পুরস্কারটি জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট হাতে ৫৭৮ রান করেছেন তিনি। বলতে গেলে এক হাতে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনাল পর্যন্ত। তাই নির্বাচকদের দৃষ্টিতেই তিনিই টুর্নামেন্ট সেরা।ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের দৌড়ে সাকিব আর উইলিয়ামসন ছাড়াও ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বাধিক রান করা ভারতের রোহিত শর্মা আর অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। তবে তারা দুজনই ব্যর্থ হয়েছেন সেমিফাইনালে।

সাকিব আল হাসান ‘টুর্নামেন্ট সেরা’ না হওয়াতে টুইটারের জুড়ে আক্ষেপ। সমর্থক, ক্রিকেট লেখক, বিশ্লেষক, সাবেক ক্রিকেটার’রা টুইটারে জানিয়েছেন অনবদ্য অর্জনের জন্য সাকিবই ২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়।ক্রিকইনফোর বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসলাম নাম লিখেছেন, ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার যথাযোগ্য ছিলো সাকিব আল হাসান। ৬০০ এর বেশি রান ও ১১ উইকেট। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের আর কারো নেই।’

অর্নব রয় নামের ভারতীয় এক সমর্থক তা ভেরিফাইড টুইটারে লিখেছেন, ‘দুঃখিত কেন উইলিয়ামসন, তুমি এটার যোগ্য নয়। আমি ভেবেছিলাম সাকিবেই জিতবে।’
পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষক সাজ সাদিক তার ভেরিফাইড টুইটারে লিখেছেন, ‘রানের গড়ে সবার উপরে সাকিব আল হাসান। তারপর কেন উইলিয়ামসন ও রোহিত শর্মা।’

বিজয় দীপ সিং নামের ভারতের এক ক্রিকেট ভক্ত লিখেছেন, ‘সাকিবেই এটার যোগ্য।’৯০’ লোন ওলফ নামের এক পেইজে লিখেছে, ‘৬০৬ রান ১১টি উইকেট। সাকিব আল হাসান ছাড়া আর কেউ এটার যোগ্য নয়। ফিফার মতোই কেন উইলিয়ামসনকে সান্তনা পুরস্কার দিয়েছে আইসিসি।

ভেঙেছে ১২ বছর আগের রেকর্ড, সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারির তালিকায় মুস্তাফিজ !

ইংল্যান্ডের হাতে শিরোপা তুলে দেয়ার মধ্যে দিয়ে পর্দা নেমেছে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের। যে আসর শুরু হওয়ার আগে বলা হচ্ছিলো ব্যাটসম্যানদের আসর হতে যাচ্ছে এটি। পুরো টুর্নামেন্টে ছড়ি ঘোরাবেন ব্যাটসম্যানরা।

কিন্তু না, কথার মতো মাঠের চিত্র একইরকম ছিলো না। বোলারদের যথেষ্ট আধিপত্য দেখা গেছে এবারের আসরে। ভেঙেছে ১২ বছর আগের রেকর্ড। এক আসরে সর্বোচ্চ নেয়া গ্লেন ম্যাকগ্রার রেকর্ড। ভেঙেছেন অবশ্য তারই স্বদেশি। আর তিনিই হয়েছেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। বলছিলাম মিচেল স্টার্কের কথা।এবারের বিশ্বকাপের ৪৮টি ম্যাচ শেষে শিরোপা তুলে দেয়া হয়েছে ইংলিশদের হাতে। আর সব ম্যাচ মিলিয়ে সর্বে্চ্চা উইকেট শিকারি হয়েছেন মিচেল স্টার্ক। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির সেরা পাঁচে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানও।

মিচেল স্টার্ক ৯ ম্যাচ খেলে উইকেট শিকার করেছেন মোট ২৭টি। যার মধ্যে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি আছে একবার।তালিকার দুইয়ে এবং তিনে আছেন নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন ও ইংল্যান্ডের জোফরা আরচার। দুজনেরই উইকেট সংখ্যা সমান ২১টি করে। ফার্গুসন ১০ ম্যাচে এবং আরচার ১১ ম্যাচে এই উইকেট শিকার করেছেন।সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তালিকার চারে আছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ৮ ম্য্চা খেলে মোট ২০টি উইকেট শিকার করেছেন ফিজ।

বাংলাদেশিদের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট। তাছাড়া তিনি গ্রুপপর্বের শেষ দুটি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইভ উইকেট হলের অনন্য কীতি গড়েন। এছাড়াও লর্ডসের মাটিতে ৫ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ নাম লিখিয়েছেন লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।মুস্তাফিজের নীচে আছেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার আগে ১০টি ম্য্চা খেলেছেন বুমরাহ। শিকার করেছেন মোট ১৮টি উইকেট। তালিকায় তার অবস্থান পাঁচে।

প্রবাসী ডা. সামিরা কুয়েত থেকে দেশে ফিরে অসহায় মানুষের সেবা করতে চান !

সামিরা আফরিন। চীনের সুজো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস ও ইন্টার্ন শেষ করে কুয়েতের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। ঢাকার গোপীবাগের মেয়ে সামিরা দেশে ফিরে অসহায় মানুষের সেবা করতে চান।

সামিরার বাবা মোহাম্মদ ইলিয়াস ১৯৮৮ সালে জীবিকার তাগিদে কুয়েতে আসেন।মা রওশন আক্তার আসেন ১৯৯৩ সালে। বড় মেয়ে সামিরা আফরিন, ছোট মেয়ে জেরিন আনজুমের জন্ম হয় কুয়েতে। স্বামী ও সংসারের দেখাশোনার পাশাপাশি রওশন আক্তার ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডিয়ান একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

কুয়েতের ইন্ডিয়ান স্কুলে পড়াশোনা করে দুই মেয়ে সামিরা ও জেরিন। জেরিন ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডিয়ান স্কুলে টুয়েল্ভ (ইন্টার) ক্লাসে পড়ছেন।

২০১২ সালে কুয়েতের আব্বাসিয়া ইন্ডিয়ান সেন্টাল স্কুল থেকে সামিরা আফরিন উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর মেডিকেলে পড়াশোনা করতে ২০১৩ সালে চলে যান চীনে। সেখানে সামিরা ভর্তি হন সুজো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। চলতি বছরে সামিরা এমবিবিএস ও ইর্ন্টান কোর্স শেষ করে গত ১২ জুলাই কুয়েতে আসেন।

সামিরা আফরিন বলেন, ‘প্রথমে আমি কৃতজ্ঞ আমার বাবা-মায়ের প্রতি। তারা আশীর্বাদ ও পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আমাদের দুই বোনের জন্য। ডাক্তারি লাইসেন্স পরীক্ষাসহ কিছু পরীক্ষা রয়েছে সেটা শেষ করার পর আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব। দেশে ফিরে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিতে চাই।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমার ইচ্ছা আছে ইউকেতে (যুক্তরাজ্যে) নিউরোলজিস্টের ওপর পড়াশোনা করা। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পোঁছাতে পারি। মাবনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি।’

সামিরার রওশন আক্তার বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা, ঠিকঠাক মতো দেখাশোনা করা, ছেলে-মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া খুবই কষ্টকর। তবে দেখা যায়, বেশিরভাগই কাছে ব্যস্ত থাকে, টাকার পিছে দিনরাত ছুটতে থাকে।

সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টায় থাকে। আসলে একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার সন্তান। তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা সব অভিভাবকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। অন্য সম্পত্তির দিকে ছুটতে ছুটতে আমরা অনেক সময় আসল সম্পত্তির দিকে খেয়ালই রাখি না।’

বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড, ম্যাচ হারেনি নিউজিল্যান্ড

অবিশ্বাস্য! অসাধারণ!! এসব বিশেষণে ব্যাখা করার উর্ধ্বে চলে গেছে আজকের ফাইনাল ম্যাচ। ঐতিহাসিক লর্ডসে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার যে ফাইনাল ম্যাচ দেখেছে বিশ্ব, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।টানটান উত্তেজনামূলক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড।

ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ম্যাচ আর কখনোই দেখেনি বিশ্ব। আর দেখবেও কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমন একটা ম্যাচেও না হেরেও জিততে না পারার আক্ষেপটা পোড়াবে নিউজিল্যান্ডকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপটা ইংল্যান্ড জিতেছে; কিন্তু হারেনি নিউজিল্যান্ডও।জমজমাট এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। হেনরি নিকোলসের ৫৫ রান ও টম ল্যাথামের ৪৭ রানের উপর ভর করে ২৪১ রানের পুঁজি দাঁড় করায় কিউইরা।

জবাব দিতে নেমে ১০০ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু জস বাটলার ও বেন স্টোকসের ১১০ রানের জুটিতে জয়ের পথে এগোতে থাকে তারা। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ঝটপট কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে নিউজিল্যান্ড।

এক পর্যায়ে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান দরকার পড়ে ইংলিশদের; কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের সেই ওভারে ১৪ রানের বেশি নিতে পারেনি তারা। ফলে টাই হয় ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।

সেই সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে জস বাটলার ও বেন স্টোকসের কল্যাণে ১৫ রান তোলে ইংল্যান্ড। যেখানে তাদের বাউন্ডারি ছিল দুটি। তাই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হতে কিউইদের দরকার ছিল এক ওভারে মাত্র ১৬ রান।

কিন্তু কিউইদের সেই আশা পূরণ করতে পারলেন না মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। শেষ বলে প্রয়োজন থাকা ২ রান নিতে গিয়ে এক রান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে তাদের। অপর প্রান্তে রান আউট হয়ে যান গাপটিল।

নির্ধারিত ওভারে ম্যাচের ফলাফল টাই। সুপার ওভারেও টাই। তাহলে জিতলো কে? এমন আন্দাজটা অনেক আগেই করে ফেলেছেন, যখন বাটলার গাপটিলের রানআউট করে ভোঁ দৌড় দিলেন। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডই জিতেছে আর সেটা হলো বাউন্ডারির ব্যবধানে। কারণ, পুরো ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের (১৪ চার, ২ ছক্কা) থেকে ৮ টি বাউন্ডারি বেশি মেরেছে ইংলিশরা (২২ চার, ২ ছক্কা)।

ঠিক ফুটবলে টাইব্রেকারের মত। অফিসিয়ালি ফুটবলে টাইব্রেকারের ম্যাচগুলোকে ড্র ধরা হয়। কিন্তু নকআউট যেহেতু, জয়-পরাজয় নির্ধারণে টাইব্রেকার। এখানেও সুপার ওভারেও যখন ম্যাচের নিষ্পত্তি হলো না,

তখন চ্যাম্পিয়ন বেছে নিতে আইসিসির একেবারে অন্তিম নিয়ম, বাউন্ডারির ব্যবধান- সেটাই প্রয়োগ করতে হয়েছে। সুতরাং, ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপ জেতা হলো না নিউজিল্যান্ডের।ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়টা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকলেও, সেখানে এটাও লেখা থাকবে যে- এই ম্যাচে হারেনি কেউ। অর্থাৎ টাই। যদিও বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড কিন্তু ম্যাচ হারেনি নিউজিল্যান্ড।

উইলিয়ামসনের কাছে সারা জীবনের জন্য ক্ষমা চাইলেন স্টোকস !

ছয় সপ্তাহের বিশ্বকাপ মহাযজ্ঞের পর্দা নেমেছে আজ ইংল্যান্ডের লর্ডসে। যেখান শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এর আগে আরো তিনবার ফাইনাল খেললেও কোনোবারই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা।

ইংলিশদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের। পুরো আসর জুড়ে ভালো খেলার পর ফাইনালেও বাজিমাত করেছেন তিনি।ব্যাটিংয়ে তার সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিয়েছিলো তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে ৯৮ বল থেকে খেলেন ৮৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।এরপর সুপার ওভারেও তিন বল মোকাবেলা করে নেন ৮ রান। যে কারণে ম্যান অব দ্য ফাইনালও নির্বাচিত হয়েছেন স্টোকস। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে এসে প্রতিপক্ষ দল নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন স্টোকস। দৌড়ে দুই রান নিতে যান তিনি, তাকে আউট করতে থ্রো করেন কিউই ফিল্ডার মার্টিন গাপটিল। তবে বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে চলে যায় মাঠের বাইরে। যে বল থেকে মোট ৬ রান পায় ইংলিশরা। আর ঐ ঘটনার জন্যও কিউই অধিনায়কের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইংলিশ এই অলরাউন্ডার।ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। গত চার বছর ধরে আমরা যে কঠিন পরিশ্রম করেছি তার ফল পেলাম আজ।

আমার মনে হয় ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনও এমন হবে না। বাটলার ও আমি জানতাম, আমরা যদি শেষ পর্যন্ত থাকি তাহলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখতে পারবো।’উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘বলটা আমার ব্যাটে এসে হঠাৎই লেগে যায়, আমি এর জন্য উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। জোফরা আর্চার আজ পুরো বিশ্বকে নিজের প্রতিভা দেখিয়েছে।এই ওয়ানডে টিমের সবাই, টেস্ট টিমের সবাই, আমার পরিবারের সবাই যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ।’

নাটকীয় ভাবে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড !

শিরোপার স্বাদ কেমন, তা জানা ছিলো না দুই দলের কারোরই। এর আগে তিনবার ফাইনাল খেলেও ট্রফিতে চুমু খাওয়া হয়নি ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে বিশ্বকাপের গত আসরে ঘরের মাঠে হওয়া টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও, চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপে ৬ বার ৩০০+ রান করা ইংলিশদের সামনে মাত্র ২৪১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিল কেন উইলিয়ামসনের দল।
শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের করা সে ওভার থেকে ১৪ রান নিতে পারেন বেন স্টোকস। যে কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাই হয় ফাইনাল ম্যাচ এবং শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ নেয়া হয়েছে সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড। বাটলার এবং বেন স্টোকস মিলে ১৫ রান করে।এরপর ১৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে ১ ওভারে ১৫ রান করে নিউজিল্যান্ড। আর এতেই বিশ্বকাপের ১ম বারের মত শিরোপা জিতে ইংল্যান্ড।