বাংলাদেশের জিততে চাই মাত্র ১৩৯ রান !

শুরুর দিকে দুই আফগান ওপেনারে আতঙ্ক ছড়ায় বাংলাদেশ শিবিরে। অবশ্য তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। আফগানিস্তানের ব্যাটিং ছন্দ থামিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা। ফলে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেটে ১৩৮ রানে থেমে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। বন্দরনগরীর ভেন্যুতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু শুরুর দিকে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত খুব একটা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ধারহীন বোলিংয়ের পাশাপাশি বাজে ফিল্ডিংয়ে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

অবশ্য আফগানদের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ মিসের কারণে সেটা হতে দেননি মাহমুদউল্লাহ। শফিউলের বলে সহজ ক্যাচ ফেলে রহমতউল্লাহ গুরবাজকে জীবন দেন এই অলরাউন্ডার।আফগানিস্তানের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের ঘটনা। ওভারের পঞ্চম বলে শফিউলের আউট সুইং ঠিক মতো খেলতে পারেননি রহমতউল্লাহ। ফলে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। বল চলে যায় ফাইন লেগে। যেখানে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু রহমাতউল্লাহর সেই সহজ ক্যাচ  মুঠোয় জমাতে পারেননি তিনি। এক রানে আউট হতে যাওয়া এই আফগান ওপেনার পৌঁছে যান ২৯ রানে।

তাঁর সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন হজরতউল্লাহ জাজাইও। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে ৪৭ রানে করেন তিনি। দুই ব্যাটসম্যানে চড়ে শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে থামে অতিথিদের ওপেনিং জুটি।দশম ওভারে জাজাইকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান আফিফ হোসেন। একই ওভারে দুইবার আঘাত হানেন আফিফ। প্রথমে জাজাইকে ফেরানোর পর ফেরান আসগর আফগানকে। তিনে ব্যাট করতে নামা এই ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তরুণ এই অলরাউন্ডার। এরপর ১১ তম ওভারে রহমতউল্লাহকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। এবারো ক্যাচ তুলে দেন আফগান তারকা। নিজের ক্যাচ নিজেই তালুবন্দী করে তাঁকে সাজঘরের পথ দেখান মুস্তাফিজ।

দ্রুত তিন উইকেট নেওয়ার পর আফগানিস্তানকে চেপে ধরেন বাংলাদেশি বোলাররা। ওপেনিংয়ের পর আর কোনো জুটিকে থিতু হতে দেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত আফগানদের ১৩৮ রানে থামায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বাকি ৯ ব্যাটসম্যানের রান সংখ্যা যথাক্রমে ০, ১৪, ৪, ১, ২৩*, ৩, ১০, ১১*।বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন আফিফ হোসেন। সমান একটি করে নেন মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান।গত বছর দেরাদুনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আফগানদের সামনে টি-টোয়েন্টিতে জয়হীন বাংলাদেশ। দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে তিনটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতেও কাটছে না সেই দুর্দশা। দলটির বিপক্ষে শেষ ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিতেছে টাইগাররা।

তাতে দুই দুলের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৪-১। টানা চার পরাজয়ের পর আজ শনিবার সফরকারীদের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
তবে আফিফ-মুস্তাফিজ বাংলাদেশকে খেলায় ফেরালেও মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ ম্যাচের সুবিধা প্রথম নয় ওভারেই বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে আফগানিস্তান। প্রথম নয় ওভারে ৭৫ রান তুলে রানের গতি ধরে রেখেছে সফরকারীরা।

মাহমুদউল্লাহ’র ঝ*ড়ে জিম্বাবুয়েকে চ্যা,লেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল বাংলাদেশ

চলতি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ মাঠে নামে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ম্যাচে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

তাদের ব্যাটে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটিতে আঘাত হানেন জার্ভিস। অভিষেকে ১১ রান করে জার্ভিসের বলে তার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শান্ত।শান্তর বিদায়ের পর সাঝঘরে ফিরেন লিটন। এমপোফুর বলে মাদজিভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ রান করে ফিরেন তিনি। এরপর ১০ রান করে বার্লের বলে উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। তাদের সেই জুটিটি ভাঙ্গেন মুতুম্বোজি।৩২ রান করে টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মুশফিক। অন্যদিকে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৭ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।এমপোফুর বলে টেলরের হাতে ধরা পড়ে ৭ রান করে ফিরেন আফিফ। ৪১ বলে ১ চার ও ৫ ছয়ে ৬২ রান করে জার্ভিসের বলে উইলিয়ামসের হাতে তালুবন্ধি হয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ।

এরপরের বলেই চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মোসাদ্দেক। ২ রান করে ফিরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন সাইফউদ্দিন।এরই ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ১৭৬ রান।

বাংলাদেশের বোলিং তাণ্ডবে ৪ উইকেট নেই আফগানদের,১০ ওভার শেষে স্কোর দেখে নিন

টস হারলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুটা দুর্দান্ত করেছে বাংলাদেশ। স্কোর কুড়ির ঘর ধরার আগেই আফগানিস্তানের তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন সাইফউদ্দিন-সাকিবরা। ইনিংসের প্রথম বলেই আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইনিংসের প্রথম বলটা মিডল স্টাম্পে পিচ করেন সাইফউদ্দিন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই বল বাতাসে ভেসে সামান্য আউট সুইংয়ে গুরবাজের অফস্টাম্প উপড়ে দেয়। অবিশ্বাস্য এক ডেলিভারি। উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের সামনে বাতাসে ভাসতে থাকে স্টাম্প।আফগানিস্তান ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৬০ রান । নবী ১২ রান ও আজগর ১৬ রানে ব্যাট করছে ।

ইনিংসের প্রথম বল হওয়ায় স্বভাতই রানের খাতা খুলতে পারেননি গুরবাজ। পরে তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আরও এক আফগান ব্যাটসম্যানকে তুলে নেন সাইফউদ্দিন। সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে নাজিবুল্লাহ তারাকাইকে (১১) ফেরান তিনি।মাঝে নিজের প্রথম আর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাফল্য পান সাকিব আল হাসান। স্লগ খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন হযরতউল্লাহ জাজাই (১)। পরে সাকিবের বলে আউট হন নাজিবুল্লাহ জাদরানও।

এর আগে টস জিতে প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান। এই ম্যাচে দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মতো দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি আফগানিস্তানও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ী একাদশ নিয়েই খেলছে দুদল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যাচ শেষে আফিফের সাথে কথা বলেন

মিরপুরে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকাল স্বস্তির জয় পেয়েছে টাইগাররা। তবে সেই জয় সহজে আসেনি। মাত্র ৬০ রানের মাথায় ৬ উইকেট হারিয়ে যখন চরম বিপর্যয়ে বাংলাদেশ,তখন খাদের কিনার থেকে দলকে তোলেন আফিফ হোসেন। মূলত ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের ব্যাটেই জয় পায় টাইগাররা।

আফিফ হোসেনের এমন পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে ফোন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রশংসা করেছেন আফিফের। ফোনে সাকিব-আফিফের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
খেলা শেষে মাঠেই বিসিবি সভাপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী খেলার মাঝেই বার বার তাকে ফোন করছিলেন। তিনি বেশ চিন্তিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘পাপন এইটা কী হচ্ছে? এ রকম হচ্ছে কেন?’ এসময় তিনি বেশ চিন্তিত ছিলেন।তারপর যখন আফিফ নামলো, তখন তার খেলা দেখে বললেন, ‘ও আগে নামেনি কেন? একে তো আগে দেখিনি।’বিসিবি সভাপতি প্রধানমন্ত্রীকে বললেন, ‘আপা ও তুলনামূলকভাবে একদম নতুন এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়স। ওর আসলে পাঁচে খেলার কথা ছিল।’প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘যাই হোক যেখানে খেলেছে সেটা বড় কথা নয়। ও ভালো খেলেছে। ওর খেলা দেখেছি।

’খেলা শেষ হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ‘দোয়া করতে করতে তো আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।’পাপন বলেন, ‘খেলা শেষ হওয়া মাত্রই প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন। পরে আফিফ হোসেন ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেই।

আফিফের ঝড়ো ব্যাটিং এ স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ !

দলীয় ৬০ রানের মাথায় সাব্বির রহমান আউট হবার সাথে সাথেই মাঠে থাকা দর্শকদের মধ্যে নিরবতা দেখা যায়। কারন এসময় উইকেট হারিয়েছিল ৬টি। এসময় মাঠে নামে আফিফ হোসেইন। তার ঝড়ো ব্যাটিং এ আবার মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়। মারমুখি ব্যাটিং এ থতমতো খেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। পর পর কয়েকটি বাউন্ডারিতে দর্শক ফিরে পায় প্রাণ। সাথে সঙ্গ দেয় মোসাদ্দেক। এখন দেখার পালা এই তরুন দুই ব্যাটসম্যান কি করেন।

জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৪৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং এ শিশুসুলভ আচরন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে। মাত্র দলীয় ২৯ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাও শুধু দলীয় ২৬ থেকে ২৯ রানের মধ্যে সবগুলো উইকেট পরে যায়। যা দেখতে অনেকটা শিশুসুলভ মনে হয়েছে। লিটন দাস ১৯ রান, সৌম্য সরকার ৪ রান, মুসফিক শুণ্য রান এবং ভরসার জায়গা সাকিব ১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে জান।

এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করে সফরকারীরা।৫টি উইকেট নেন যথাক্রমে-তাইজুল ইসলাম, কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফ এবং সৈকত। রানআউট হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন তিমিসেন মারুমা।এদিকে ৪ ওভার বল করে সাকিব আল হাসান দিয়েছেন ৪৯ রান। এরমধ্যে তার এক ওভারেই ৩০ রান তুলে নেন রায়ান ব্রুল।শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ম্যাচটি শুরু হয়েছে রাত ৮টায়। নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় ২ ওভার কমে এখন হবে ১৮ ওভারের ম্যাচ।

স্কোর: ৯৫ রান ৬ উইকেট (১২ ওভার) বাংলাদেশ একাদশ: লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রেন্ডন টেলর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রায়ান বার্ল, ক্রেগ এরভিন, সন উইলিয়ামস, টিমেনসেন মারুমা, টিনোতেডা মুটম্বোডজি, টনি মুনিয়ঙ্গা, নেভিল মাদজিভা, কাইল জারভিস, টেন্ডাই চাতারা।

এবার বৃষ্টি কাঁদাল আফগানিস্তানকে, এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের ক্রিকেটে এখন সুদিন। গত সপ্তাহেই টেস্টে ঘরের মাঠের বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছেন রশিদ খানরা, ম্যাচটি কয়েকবার বৃষ্টি বাধায় পড়ার পরও। তবে বড়রা হাসলেও এবার কাঁদতে হলো ছোটদের।

শ্রীলঙ্কার মোরাতোয়ায় যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে এই আফগানদের পেছনে ফেলেই ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলযেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ভারতকে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এক টুইটে দুই দলের ফাইনালে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।আফগানিস্তান অবশ্য হারেনি। বৃষ্টির কারণে তাদের কপাল পুড়েছে। একই অবস্থা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কারও। কলম্বোয় তাদের সেমিফাইনাল ছিল ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটিও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ আর ভারত দুই দলই ফাইনালে উঠেছে গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন থাকার কারণে। রিজার্ভ ডে না থাকায় পয়েন্টে এগিয়ে থাকার পুরো সুবিধা পেয়েছে দুই দল।কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৪ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ আর ভারত।

ছক্কা মারলে তালি, আউট হলে গালি !

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ে খেলেন ৪৮ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস। যে কারণে দ্বিতীয় ইনিংসেও অধিনায়কের আস্থা হয়ে ওঠেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিন নম্বরে নামানো হয় তাঁকে। কিন্তু সে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি  তরুণ এই অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে নেমেই এলোমেলো শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন।

মোসাদ্দেকের এমন দায়িত্বহীনতা নিয়ে সমালোচনা হয়।  ম্যাচ শেষে সাকিবও বলেছিলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমরা যারা ব্যাট করেছি সবচেয়ে বেশি ভালো ওকে মনে হয়েছে। সে কারণে ওকে (সৈকত) আগে পাঠানো হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাট করছিল ততক্ষণ খুব ভালো ব্যাটিং করেছে সত্যি কথা। কিন্তু ধরে রাখতে পারেনি। এটা ওর ব্যর্থতা।’সেই আউট প্রসঙ্গে আজ বুধবার সংবাদিকদের মোসাদ্দেক বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যাটসম্যানেরই ধরন আলাদা থাকে। আমি যখন ব্যাটিং করতে নামি তখন চিন্তা করি একটি বাউন্ডারি হয়ে গেলে আমি হয়তো একটু কম চাপে থাকব।

যখন প্রথম ইনিংসে আমি ছক্কা মারলাম তখন সবাই তালি দিয়েছিল, যখন দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়ে গেলাম তখন গালি দিবে এটাই স্বাভাবিক। এটি নিয়ে আমি আসলে খুব বেশি চিন্তিত না। এরপরে যখন খেলব তখন হয়তো ভুলগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা করব।’টেস্টের হতাশা ভুলে টি-টোয়েন্টিতে ভালো করার প্রত্যাশায় মোসাদ্দেক আরো বলেন, ‘এই ফরম্যাট পুরোপুরি আলাদা। আমরা বেশি ফোকাস করছি একটি ম্যাচ জেতার দিকে। ইনশাআল্লাহ একটি ম্যাচ জিতলে হয়তো মোমেন্টাম আমাদের দিকে চলে আসবে। ’

সাকিব ১৫০, সৌম্য ১২০ রান করলেই বাংলাদেশ জিতবে !

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থদিন বাংলাদেশের কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল বৃষ্টি। বৃষ্টির বাধা কাজে লাগিয়ে এই হার এড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। লম্বা ব্যাটিং লাইন সত্ত্বেও আফগান স্পিনারদের সামনে রীতিমতো ধরাশয়ী সাকিব আল হাসানের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এরই মধ্যে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।

উইকেটে থাকা সাকিবের উপস্থিতিই কেবল আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে। পঞ্চম দিনে বাংলাদেশকে করতে হবে আরো ২৬২ রান। হাতে চার উইকেট। সমীকরণ যখন এই তখনো বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আশায় বুক বেঁধেছেন। পঞ্চম দিনে কী করলে এখনো লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব সেটা চতুর্থ দিন শেষে জানিয়ে দিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির হলেন সাকিব। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাওয়াটা কঠিন হলেও তা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

হাসির ছলে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন,টেস্ট জিততে আর কত দরকার? ২৭০ (২৬২)। একজন ১৫০ আর একজন ১২০ করলেই তো হয়ে যাবে। আমি যদি দেড় শ করি, অন্য প্রান্তে আরেকজনকে ১০০ করতে হবে। সেটা এখন সৌম্যকে করতে হবে। সাকিবের এমন উত্তরে কারো কারো হাসি পেতেই পারে। কিন্তু অধিনায়কের এমন কথার পেছনে যুক্তিও আছে যথেষ্ট। কারণ ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন অসাধ্য সাধন করেই বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সেটা ছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টপঅর্ডারের ব্যর্থতার পর সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ করেন জোড়া সেঞ্চুরি। অবশ্য এরপরও যদি না হয় তাহলে টাইগার ভক্তদের মতো সাকিবও বৃষ্টির আশা করেন,দেখেন দুনিয়াতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। দেখা যাক না কী হয়। আরেকটা আছে উপরের বৃষ্টি, সেটাও আমাদের বাঁচাতে পারে। বেশ কয়েকটা পথ আছে। এখন বাকিটা দেখা যাক। <

মুশফিকের বিতর্কিত আউট নিয়ে সমালোচনার ঝড়

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে সাকিব আল হাসানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন মুশফিক। দল চাপে থাকায় বিপর্যয় মোকাবেলায় তিনিই ছিলেন আশার প্রতীক। তবে আম্পায়ারের বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে। তার বিদায়ে দলও ধুঁকছে, ইতোমধ্যে হারিয়েছে পাঁচটি উইকেট।

ইনিংসের ৩৩তম ওভারের শেষ বলে ব্যাট করছিলেন মুশফিক। আফগান অধিনায়ক রশিদ খানের করা ডেলিভারি মুশফিকের ব্যাটে লেগে সন্দেহ জাগিয়ে জায়গা করে নেয় শর্ট লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডার ইবরাহিম জাদরানের হাতে। আফগান ক্রিকেটাররা উদযাপন শুরু করলে আম্পায়ার সফট সিগন্যালে আউটের সংকেত দেন।

পর্যালোচনার জন্য সিদ্ধান্ত চাওয়া হয় তৃতীয় আম্পায়ারের। টেলিভিশন রিপ্লে দেখেও বোঝা যাচ্ছিল না, মুশফিকের ব্যাট ছুঁয়ে বল মাটি স্পর্শ করেছে নাকি মুশফিকের পায়ে। সফট সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে তৃতীয় আম্পায়ারও আউটের সংকেত দিলে মুশফিককে ২ বলে কোনো রান না করেই সাজঘরের পথ ধরতে হয়।

আফ্রিদির বিশ্বরেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন মালিঙ্গা

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ খান আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক এখন লাসিথ মালিঙ্গা।

রোববার পাল্লেকেলেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে বোল্ড করে এই কীর্তি গড়েন শ্রীলঙ্কান পেসার। ম্যাচটিতে নিজের তৃতীয় ওভারের নিউজিল্যান্ড তারকাকে ফেরান মালিঙ্গা। সে সঙ্গে টপকে যান আফ্রিদিকে।

৯৯ ম্যাচে ৯৮ উইকেট নিয়ে এতদিন রেকর্ডটা ছিল পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার আফ্রিদির। ৭৪ ম্যাচে মালিঙ্গার উইকেট এখন ৯৯টি। ৭২ ম্যাচে ৮৮ উইকেট নিয়ে তিনে আছে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।

৯৭ উইকেট নিয়ে কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচে নেমেছিলেন মালিঙ্গা। ইনিংসের চতুর্থ বলেই কলিন মানরোকে ইয়র্কারে বোল্ড করে আফ্রিদিকে ছুঁয়ে ফেলেন ৩৬ বছর বয়সি পেসার। এর পর নিজের তৃতীয় ওভারে আরেকটি উইকেট পান তিনি।
e>