সন্তানকে বীভ*ৎস*ভাবে মারছে গৃহকর্মী, ক্যামেরায় দেখছেন বাবা (ভিডিও)

‘বাসায় ফিরে আমার সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছি, কোলে তুলে নিয়েছি, অনেক আদর করেছি। কিন্তু অন্য দিনের মতো চিৎকার করে বাবা বাবা করে ডাকে নাই। বাচ্চাটা মার আর লাথির ভয়ে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে ‘বাবা’ বলতে যেন ভুলেই গিয়েছিল! আমি এই ঘটনার বিচার চাই। সেইসঙ্গে আমাদের মতো দম্পতিরা যেন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন হয়। সবাই দোয়া করবেন আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটার জন্য’— কথাগুলো বলছেন এক শিশু সন্তানের বাবা।

দুইবছর একটি শিশুকে ৪০ বছর বয়সী গৃহকর্মীর ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। এই ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। টাইমলাইনে ঘুরতে থাকা এ নির্যাতনের দৃশ্য দেখে— এটিকে অমানবিক, লোমহর্ষক ও বীভৎস ঘটনা বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুরে ওই ঘটনাটি ঘটে। এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। শিশুটির মা লুৎফুন্নাহার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এই দম্পতির একমাত্র শিশু আবদুল্লাহ আবতাই আয়াতের বয়স মাত্র দুই বছর। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করায় আয়াত থাকত বাসায় গৃহকর্মীর কাছে।

কিছুদিন ধরেই সন্তানকে দেখে এমনই কিছু একটা আশংকা হয়েছিল বাবার। যে কারণে তিনি দ্রুত নিজের বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। আইপি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ তিনি নিজের স্মার্টফোনেই লাইভ দেখতে পারতেন। যে কারণে নিজের সন্তান চোখে চোখেই থাকত।

অবশেষে এল ১৪ নভেম্বর ২০১৯! অফিসে বসে ভয়ংকর এক দৃশ্য চোখে পড়ল আল আমিন সরকারের। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে গৃহকর্মী দ্বারা সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য! বাথরুম থেকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওইটুকু শিশুকে একের পর এক লাথি মারতে থাকে সেই গৃহকর্মী!

অতঃপর ক্রন্দনরত শিশুকে সেভাবে ফেলে দিয়েই আবারও নিজের কাজে মন দেয় সে। প্রযুক্তির কল্যাণে অফিসে বসে কলিজার টুকরা সন্তানের ওপর এই ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য দেখে চিৎকার করা ছাড়া বাবার তখন কীইবা করার ছিল! সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ছোটেন বাসার দিকে। গৃহকর্মীর হাত থেকে উদ্ধার করেন নিজের সন্তানকে।

এই ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে শাহজাহানপুর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন আল আমিন সরকার।

অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবা আল আমিন সরকার বলেন, ‘আমি একজন অসহায় বাবা, যাকে দেখতে হয়েছে ২ বছরের সন্তানকে বীভৎস মারের দৃশ্য! এই নির্যাতনের দৃশ্য দেখেও কিছু করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছি আমি। দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না আমার!’ (সূত্র: কালের কণ্ঠ)

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে চলছে ছিনতাই-ডাকাতি

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে দেখা মিলছে একশ্রেণির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের। যারা গ্রেফতার করছে বিভিন্ন মামলার আসামিদের। তাদের রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হ্যান্ডকাপ ওয়াকিটকি এমনকি অস্ত্রও। তবে পুরো বিষয়টি ভুয়া। আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ছিনতাই ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে তারা।

কথা হয় এমন চক্রের কয়েক সদস্যের সঙ্গে। বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সহজেই ঘটানো যায় ছিনতাই। তাই এ পরিচয় ব্যবহার করেন তারা।এদিকে পুলিশ বলছে, এরকম একটি চক্রকে ধরতে গিয়ে সম্প্রতি পুলিশকে গুলি ছোড়ে অপরাধীরা। নিহতও হয় একজন এক ভুয়া র‌্যাবরাজধানী একটি ব্যস্ততম সড়ক। রাস্তায় সবধরণের যানবাহন, মানুষের চলাচল সব মিলিয়ে নিত্যদিনের কোলাহল মুখর চিত্র। একটি বাস এসে থামে স্টপেজে। হঠাৎ এগিয়ে যায় র‌্যাবের জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি। পিছু পিছু আরো একজন। পাশেই এসে থামে একটি কালো গ্লাসের মাইক্রোবাস। কয়েক মিনিট পর নামিয়ে আনা হয় এক ব্যক্তিকে। টেনেহিঁচড়ে তোলার চেষ্টা মাইক্রোবাসে।

আশপাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু প্রতিবাদ করছেন না কেউই। এক পর্যায়ে কথিত মামলার কথিত আসামিকে নিয়ে চলে যায় মাইক্রোবাসটি।পুরো ঘটনাটিই মিথ্যা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সবার সামনেই ঘটে যায় একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা। কথা হয় এমন এক চক্রের কয়েক সদস্যের সঙ্গে।তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তাই এ পরিচয়ে ছিনতাই ডাকাতি করেন তারা।তারা বলেন, আমরা পরিচয় দিই যে আমরা র‌্যাবের লোক, তোমার নামে মামলা আছে, তোমার ব্যাগে অবৈধ-জাল টাকা আছে, তুমি ইয়াবার ব্যবসা করো, তোমাকে গ্রেফতার করলাম, তুমি গাড়িতে ওঠো। র‌্যাবের কোটি থাকে আমাদের গায়ে।

র‌্যাবের কথা বলে তাদের গাড়িতে উঠাই। কিছুদূর গিয়ে ফাঁকা জায়গা পেলে তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে রেখে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিই।পুলিশ বলছে, রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত কিংবা বনানী এলাকাতে এ ধরনের অপরাধ বেশি ঘটছে। এসব এলাকা থেকে টার্গেট ব্যক্তিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে তিনশফুট সড়কের নির্জনস্থানে চলে যায় অপরাধীরা। টাকা পয়সা সব ছিনিয়ে নিয়ে নামিয়ে দেয় গাড়ি থেকে। কখনো টাকা না পাওয়া পর্যন্ত জিম্মি করে রাখে ভিক্টিমকে।

গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, মানুষ মোবাইলে ভিডিও করে ফেলতে পারে। এখন সবার মোবাইলে স্পষ্ট ভিডিও হয়। পারলে তারা ওই দলটি র‌্যাবের কোন ইউনিট থেকে এসেছে তা জানতে চাইতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করতে পারবোগেলো সপ্তাহে রাজধানীর বাড্ডায় এরকম একটি চক্রকে ধরতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত একজন। আহত হয় আরো দুজন।

ভেনিসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

বন্যায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ইতালির ভেনিসের বাসিন্দারা। এখনও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেঙে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন শিল্পও। এ অবস্থায় শিগগিরই সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভেনিসকে বলা হয় পর্যটন নগরী। বিশ্বে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণস্থল এখন পানির নিচে। অড্রিয়াটিক সাগরের শতাধিক ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই শহর গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার জোয়ারে ডুবেছে।এর আগে ১৯৬৬ সালে এমন করুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন এখানকার বাসিন্দারা।বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে নিম্নাঞ্চলের সেইন্ট মার্কস স্কয়ার অন্যতম। এই স্কয়ার সংলগ্ন সেইন্ট মার্কস ব্যাসিলিকাতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। গত এক হাজার ২০০ বছরের মধ্যে এ নিয়ে ছয়বার এই ক্যাথেড্রালটি বন্যার কবলে পড়লো। যার মধ্যে গত ২০ বছরেই চারবার প্লাবিত হয়েছে। তিনটি ওয়াটারবাসও ডুবে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বন্যা পরিস্থিতি এমন চরম আকার ধারণ করেছে।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরটির অসংখ্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁর বাইরে বন্যার পানিতে চেয়ার ও টেবিল ভাসতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পণ্য ও বইপত্র বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোকানপাটও।স্থানীয় এক নারী বলেন, আমাদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলে বোঝানো যাবে না। অনেক মূল্যবান জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার যেন আমাদের দিকে একটু নজর দেয় এখন এটাই চাওয়া। না হলে আমাদের সংকট কাটবে না।

আরেক নাগরিক বলেন, গত ৫০ বছরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা কখনো হইনি। বন্যায় চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছি।

বন্যার পানিতে ভিজে যাওয়া বইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তা শুকানোর চেষ্টা করছেন অনেক ব্যবসায়ী। দুর্গতদের সহযোগিতা দেয়ার কথা বলা হলেও এখনও তা পাননি বলে জানান অনেকে।

শহরটিকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে ২০০৩ সাল থেকে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ব্যয়বৃদ্ধি ও নানা জটিলতায় সেটি এখনো শেষ হয়নি।

“বস্তা বস্তা পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে চাক্তাই খালে!

বেশি লাভের আশায় গুদামজাত করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাওয়ার কারণে চাক্তাই খালে ফেলে দিচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিন দিন ধরে খাতুনগঞ্জের পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন চাক্তাই খালে এসব পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে। খালের পাড়ে এখন বিপুল পচা পেঁয়াজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।এদিকে আজ শনিবার বন্দর নগরীর চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দাম আরো বাড়বে, এ আশায় আড়তদারদের গুদামে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। সে পচা পেঁয়াজ এখন আড়ত থেকে বের হচ্ছে প্রতিদিনচট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন চাক্তাই খালে পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে কর্ণফুলী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চাক্তাই খালের কিছুটা দূরে রাতের অন্ধকারে বস্তাভর্তি পচা পেঁয়াজ কে বা কারা ফেলে গেছে। পেঁয়াজগুলো আকারে ছোট। ফেলে যাওয়া পচা পেঁয়াজের বস্তা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা খাওয়ার উপযোগী পেঁয়াজ বেছে নিচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস জানান, পেঁয়াজগুলো মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এসব পেঁয়াজ যখন খাতুনগঞ্জে ঢুকছিল, তখন কিছুটা পচা ছিল। আর আড়তে মজুদ করে রাখার ফলে একেবারে পচে গেছে। তবে তিনি পচা পেঁয়াজের আড়তদারের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি।

এদিকে চাক্তাই এলাকার চাল ব্যবসায়ী আবুল হাসেম বলেন, ‘পেঁয়াজ পচলে ব্যবসায়ীদের কোনো লোকসান হবে না। কারণ যে পরিমাণ পেঁয়াজ পচবে, তার ক্ষতি পোষাতে ভালো পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেবে তারা। এখন প্রতিদিন পচা পেঁয়াজ আড়ত থেকে বের হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব আড়তদার খুঁজে বের করা।’
এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী পচা পেঁয়াজ প্রতি বস্তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে নিয়ে সেখান থেকে ভালো পেঁয়াজ আলাদা করছে।

আলাদা করে কিছুটা ভালো পেঁয়াজ তাঁরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে মানুষের কাছে বিক্রি করছে বলে জানান পচা পেঁয়াজ কেনা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহেসান উল্লাহ জাহেদী পচা পেঁয়াজের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ তো বেশিদিন মজুত করে রাখা যায় না। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের অনেক আড়তে পানি ঢুকেছে। তখন হয়তো আড়তে পানি ঢুকে পেঁয়াজগুলো নষ্ট হতে পারে।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পেঁয়াজ না খাওয়ার ঘোষণা!

দেশের মানুষের আলোচনার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু এখন পেঁয়াজ। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির এক ব্যতিক্রম প্রতিবাদ জানিয়েছে মেহেরপুরের গাংনীর সুধিজনদের নিয়ে গঠিত

‘প্রভাতী সংঘ’ নামের একটি সংগঠন। প্রতিবাদ স্বরূপ পেঁয়াজের দর স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে শপথ নিয়েছেন এ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালের হাঁটা শেষে মহিলা ডিগ্রি কলে প্রাঙ্গণে তারা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান গাংনী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যা. একেএম শফিকুল আলম। শপথ বাক্য হুবহু তুলে ধরা হল-

“আমরা শপথ করছি যে, পেঁয়াজের এই স্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি একটি অন্যায়। আমরা এ

অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাই। তাই যতদিন পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে না ততদিন পর্যন্ত আমরা পেঁয়াজ বর্জন করলাম।

আমাদের রান্নাঘরে আর কোনও পেঁয়াজ ঢুকবে না। আমরা আজকের এই শপথ অনুষ্ঠান থেকে সকলকে আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।”

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক রফিকুর রশিদ রিজভী, গাংনী প্রেস ক্লাব সভাপতি রমজান আলী, কাজিপুর কলেজ অধ্যক্ষ মোকাদেচ্ছুর রহমান, জেলা আওয়ামী

লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের ডিজিএম নিরাপদ দাসসহ

v

প্রভাতী সংঘের সদস্যবৃন্দ এ শপথ গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে একেএম শফিকুল আলম বলেন, পেঁয়াজের স্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি অবশ্যই অন্যায়। এর প্রতিবাদ থাকা দরকার। অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা পেঁয়াজ বর্জনের ঘোষণা বাস্তবায়ন করছি।

Share

পেঁয়াজের বিকল্প ‌‘চিভ-১’ উদ্ভাবন করলেন দেশের বিজ্ঞানীরা!

মাস পেরিয়ে গেছে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অস্থিরতা। হু হু করে বাড়ছে এর দাম। দুই দিন আগেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছে মসলাটির প্রতি কেজির মূল্য।লাগাম টেনে ধরতে পারছে না খোদ সরকারও।বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়াই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে,দেশে পেঁয়াজের তেমন ঘাটতি নেই। সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এমন পরিস্থিতি।এসব কথা নিয়ে রাজনীতির মাঠেও বীরদর্পে বিচরণ করছে পেঁয়াজ। সংসদ উত্তাল পেঁয়াজ কথনে। বিরোধী দলীয় নেতারা বিষয়টি সরকারের ব্যর্থতা দাবি করে বিষবাক্য নিক্ষেপ করছেন।

এদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্তরা পেঁয়াজের ঝাঁঝে মরণ দশা। গত দুই দিন ধরে হালিতে পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন বাজারে।সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন না বলে পোস্ট দিচ্ছেন।এমন যখন পরিস্থিতি তখন দেশবাসীর জন্য সুখবর নিয়ে এলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। তারা জানালেন, রান্নায় আর পেঁয়াজ ব্যবহার করা লাগবে না। এমন এক বিকল্প আবিস্কার করেছেন তারা যাতে পেঁয়াজের ঝাঁঝ পাওয়া যাবে।দেশের মাটিতে পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামক এক মসলা চাষে সফল হয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিভ চাষে এই সাফল্য পেয়েছেন।

বারি এর আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, চিভ মসলাটি উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় সেই মসলার চাষ বাংলাদেশের মাটিতে করতে সফল হয়েছি আমরা।শুধু তাই নয়; উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন চিভের ওপর গবেষণা করেও সফলও হয়েছেন। তারা বারি চিভ-১ নামের একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন যা বছর জুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী।এ গবেষণায় ড. মো. নূর আলম চৌধুরীকে সাহায্য করেছেন ড. মোস্তাক আহমেদ এবং ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।কি এই চিভ-১? এটি কি সত্যি পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে?

ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, চিভে পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ বা গুণাগুণ রয়েছে। তাই আপৎকালীন সময়ে পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এই চিভ।তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে চিভ সাধারণত স্যুপ, সালাদ ও চাইনিজ ডিসে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা লিলিয়ান আকৃতির ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ ও এর ভালভ লম্বা আকৃতির।মসলাটি হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণও বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান।

২০১৭ সালে বারি’র এই তিন বিজ্ঞানী উন্নত জাতের উচ্চফলনশীল চিভ উদ্ভাবনে গবেষণা শুরু করেন।প্রথম দিকে দেশের পাহাড়ি এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রামে চাষ হতে থাকে এটি। কিন্তু এখন পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলেছে জানান কৃষিবিদরা।তারা বলেন, চিভ গাছ একবার লাগালে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবে এই ফসলের চাষ করা যায়এ বিষয়ে বারি’র মশলা ফসল বিশেষজ্ঞ ও গাজীপুর আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, চিভকে

পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হিসেবে আদর্শ একটি মশলা হতে পারে। বাঙালিরা এতে অভ্যস্ত হওয়াই এখন সময়ের ব্যাপার। পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি চিভ দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছি আমরা।প্রসঙ্গত বিবিএস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বাৎসরিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন।
কিন্তু চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। এ ক্ষেত্রে পাশাপাশি চিভ ব্যবহার করলে বাকি ৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে। পেঁয়াজের দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে গেলেও সমস্যাটি এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

তোকে কিনেছি, যা ইচ্ছা তাই করব’ বলেই প্রতিরাতে সুমির ওপর…..

সৌদি আরবে নি*র্যা*তনের শিকার নারী শ্রমিক সুমি আক্তার গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরেছেন।দেশে ফিরেই সন্ধ্যায় নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন সুমি। তুলে ধরেন নির্মম নি*র্যা*তনের কথা।ভ*য়াবহ নি*র্যা*তনের বর্ণনা দিয়ে সুমি বলেন, ‘প্রতি রাতেই শরীরের ওপর চলত নি*র্যা*তন। প্রতিবাদ করলেই মা*র*ধর।একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। কিন্তু তাতে তারা থেমে যেত না। ওই অবস্থায়ই শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত।

জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারতাম সেটা। আমি প্রথমে যেই বাসায় ছিলাম, সেই বাসার মালিক চালাত এমন নি*র্যা*তন।একপর্যা*য়ে ওই মালিক আমাকে বিক্রি করে দেয় আরেক বাসায়। ওই বাসায় গিয়ে পড়ি আরেক বিপদে। সেখানেও শা*রী*রিক নি*র্যা*তন।নতুন মালিক বলল, বাংলাদেশি প্রায় ৪ লাখ টাকায় আমাকে কিনেছে সে। আ*ত্মরক্ষায় প্রতিবাদ করলে নতুন মালিক বলে,“তোকে কিনে এনেছি। তোর সঙ্গে যা ইচ্ছা তা-ই করব।” এভাবে প্রতি রাতে আমার ওপর চলত নি*র্যা*তন।’

সুমি জানান, সৌ*দিতে তাকে একটি রুমে আ*টকে রেখে দিনের পর দিন নি*র্যা*তন করা হয়েছে। সৌদিতে নি*র্যা**তিত হয়ে আমি ভেবেছিলাম আর কোনদিনে দেশে ফিরতে পারবনা। সেখানে যাওয়ার পর প্রথম কর্মস্থলে মালিক তাকে বিভিন্নভাবে নি*র্যা*তন করতেন, মা*র*ধর করতেন, হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিতেন এবং কক্ষে আটকে রাখতেন।সুমি আরও জানান, এক পর্যায়ে সুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই মালিক তাকে না জানিয়ে সৌদি আরবের ইয়ামেনসীমান্ত এলাকায় নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেন। ওই মালিকও তাকে নির্যাতন করেন।

উদ্ধার হওয়ার আগে ১৫ দিন তাকে ঘরের মধ্যে আ*টকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো খাবার দেয়াহয়নি। একসময় খুব কান্নাকাটি করে স্বামীর সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য ফোনটি চেয়ে নেন সুমি।তারা ফোন ফিরিয়ে দিলে বাথরুমে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন সুমি। সেই ভিডিওতে নিজেকে নির্যাতনের কথা জানিয়ে তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।পরে ওই ভিডিওটি তার স্বামী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।পরে অনলাইনে ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দেশে ফিরতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা

পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অসাধু ব্যবসায়ী

ও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) অর্ধদিবস সারাদেশে হরতাল ডেকেছে
আদর্শ নাগরিক আন্দোলন।

আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশবাসীকে অর্ধদিবস হরতাল পালনের জন্য

আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আল-আমিন।

এছাড়ও যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এ সংগঠনটি-

১। হরতালের সমর্থনে আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রামপুরায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

২। আগামীকাল রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর পল্টনন্থ শিশু কল্যাণ পরিষদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

৩। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর পল্টনসহ সারাদেশে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

৪। মঙ্গলবার

(১৯ নভেম্বর) ও বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টন, ফার্মগেট, রামপুরাসহ সারাদেশে মশালসহ হরতালের সমর্থনে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর-বক্তব্যের-পর-পেঁয়াজ-নিয়ে-প্রশ্ন-থাকা-উচিত-নয়-অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এরপর আর পেঁয়াজ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। আমারও কোনো বক্তব্যে জড়ানো উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী একদম খোলাখুলি বলেছেন, সমস্যা কোথায় এবং সমাধানের পথটিও দেখিয়ে দিয়েছেন।’

>অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যা চাইবে সব সহযোগিতা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজ নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক বাতিল করা হয়েছে। তাই পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে পেঁয়াজের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১২৩তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘যে অর্থনীতিতে দূর্নীতি থাকে সেই অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। আমরা টেকসই উন্নয়ন করবো। সব ধরনের দুর্নীতিকে বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আয়কর না দিলে সরকার চলবে কেমন করে। দেশের সব মানুষ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের জন্য রেভিনিউ দরকার। করের আয়তনটা বৃদ্ধি করবো। সম্প্রসারিত করবো পরিধি। করের হার কমিয়ে সবাইকে একটি নেটে নিয়ে আসবো। সবাই যদি ট্যাক্স দেয় তবে এটা সবার জন্য সহজ হবে।’আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের কারিগর এবং উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। তিনি বাঙালি জাতিকে নতুন এক আশা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে উন্নীত করার। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই।’

জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুসুদ্দি, বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার বার্তাপ্রধান জ. ই. মামুনসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, নার্সিং কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

সৌদি থেকে ৫৩ নারীর ম’রদেহ ফিরেছে, যা খুবই নগণ্য : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদি আরবে কর্ম’রত ২ লাখ ২০ হাজার নারীর মধ্যে ৫৩ জনের ম’রদেহ ফিরে এসেছে; যা খুবই নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
সৌদি আরব থেকে নির্যাতিত হয়ে ফেরা নারীর সংখ্যা খুব বেশি নয় উল্লেখে করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৮ হাজার নারী ফিরে এসেছেন যা খুবই নগন্য।

নারীরা দূতাবাসের শেল্টারহোমে অ’ভিযোগ না করে দেশে এসে অ’ত্যাচারের কথা বলেন। যদি সংখ্যা দেখেন তাহলে খুবই ছোট একটা সংখ্যা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ছয় লাখ নারী কর্মী বিদেশে কাজ করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারের মতো সৌদি আরবে আছেন। অ’ভিযোগগুলো বেশির ভাগই সৌদি আরব থেকেই আসে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবেই কাজ করা ২ লাখ ৭০ হাজার নারীর মধ্য থেকে ফিরে এসেছেন আট হাজারের মতো। ৯৯ শতাংশ নারী ম্যানেজ করে নিয়েছেন; দেশে টাকাও পাঠাচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি থেকে ৫৩ জন নারীর মৃ’তদেহ এসেছে। এর কতজন আত্মহ’ত্যা করেছেন তা আম’রা জানি না। ব্র্যাকের একটা স্টাডিজে দেখেছে সর্বমোট ৫৩ জনের লা’শ ফিরেছে।ড. মোমেন বলেন, ‘বিদেশে নারীকর্মী নি’র্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। ওসব জায়গাতে শেল্টার তৈরি করেছি।নি*র্যা*তিত হলে ওই শেল্টারে তাদের নিয়ে আসা হয়। এটা তাদের জন্য উন্মুক্ত। ইদানিং ২৪ ঘণ্টা হটলাইন তৈরি করেছি। যাতে তারা যেকোনো সমস্যার কথা জানাতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক নারী দেশে ফিরে বলেন, তার মনিব তাকে অ’ত্যাচার করেছেন। তিনি যদি আমাদের শেল্টার হোমে ফিরে তথ্য দেন তাহলে আম’রা মা’মলা করতে পারি।

কিন্তু তারা ওখানে না বলে দেশে ফিরে এ ধরনের অ’ভিযোগ করেন। তথ্য দিলে সৌদি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু ভ’য় কিংবা অন্য কোনো কারণে আমাদের শেল্টার হোমে থাকার পরেও তারা সেখানে কিছু বলেন না।এ বিষয়ে কী’ করব এখনোও আম’রা জানি না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আম’রা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এখন থেকে নারীকর্মী পাঠানোর আগে তার নিবন্ধন করাতে হবে বলে জানান তিনি। ড. মোমেন বলেন, ‘রিক্রুটিং এজিন্সরা নারীদের পাঠায় কিন্তু কোনো নিবন্ধন করে না। তারা

জানায় না কারা বিদেশে যাচ্ছে এবং কোন বাড়িতে তাদের পাঠানো হচ্ছে। আম’রা এ জন্য সব এজেন্সিকে বলেছি, যাকে পাঠাবে তার একটা নিবন্ধন হতে হবে। এর ফলে আম’রা তাকে খুঁজে পাব।’তিনি বলেন, ‘বাসাবাড়িতে কাজ করা নারীরাই বেশি নির্যাতিত হন। বাসাবাড়িতে কাজ করতে নি’র্যাতনের আশ’ঙ্কা বেশি।’
ড. মোমেন বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী নারীদের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি সব নারী নি’র্যাতনের শিকার হন না। কিছু কিছু নারী নিজের কারণেও নির্যাতিত হন। তারা একটু অন্য রকমের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীরা ওখানে তাদের ভাষা বোঝে না, তাদের খাদ্যাভাসের সঙ্গে পরিচিত না। প্রথম যাওয়ার পরে তারা ভাষার সমস্যায় পড়েন।মালিক যা আদেশ করেন, তিনি তা বোঝেন না। রান্না করতে বললে তার রান্না সৌদিদের মতো হয় না। এ ধরনের বহুরকম গ্যাপ আছে। তবে পাঠানোর আগে নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হলে এই পরিস্থিতির উন্নয়ন হতে পারে।’
নারীকর্মী বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আম’রা বৈষম্য করতে চাই না। অনেকে আ’ন্দোলন করছেন নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের জন্য। এতে নারীদের সুযোগ কমে যাবে।’

‘সুতরাং কি করা হবে এটা খুব কঠিন প্রশ্ন। যারা দাবি করছেন নারী না পাঠানোর, তারা কি ওদের চাকরি জোগাড় করে দেবেন?

দেশে কি ভাল চাকরি হবে তাদের? আমি জানি না। এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা দরকার,’- বলেন ড. মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সুমি নামে যে নারীকর্মীর দেশে ফেরার আকুতি জানানো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, সেটি দেখে আম’রা সংশ্লিষ্ট কনসাল জেনারেলের সঙ্গে কথা বলি তাকে উ’দ্ধারের জন্য।কিন্তু সমস্যা দেখা যায়, ওই মে’য়েটি জানাননি তিনি কোন শহরে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তার লোকেশন পাওয়া যায়। কোনো শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক বাসাবাড়িতে তিনি কাজ করেন। তাকে ফেরত আনা হয়েছে।’ সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন