জি কে শামীমের অতীত নিয়ে ’চাঞ্চল্যকর তথ্য’ দিলেন মির্জা আব্বাস

শুরুতেই ততটা আতঙ্ক ছিল না। ক্যাসিনোতে উপস্থিত জুয়ারি ও কর্মচারীরা ভেবেছিলেন, মালিক যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা তাই বিষয়টা তিনি ম্যানেজ করে ফেলবেন।সবাই অপেক্ষায় ছিলেন, ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক সশরীরে হাজির হবেন এবং বিষয়টা সহজেই মিটিয়ে ফেলবেন।

কিন্তু বিকাল-সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাসিনোতে উপস্থিত জুয়ারি ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।তখন তারা বুঝে যান; এই যাত্রায় তারা ছাড় পাচ্ছেন না। এ সময় অনেকেই কান্নাজুড়ে দেন। ক্যাসিনোতে আ টক ১৪২ জনের অনেকেই বয়স ছিল ৫৫ থেকে ৬০। কাউকে দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমাতেও দেখা যায়।

রাত সাড়ে ১০টায় লক্ষ্য করা যায়, র‌্যাবের এক কর্মকর্তা ধমক দিয়ে এক যুবককে বলছেন- ‘ওই তোর বয়স কতরে, তোর কি ডায়াবেটিস আছে, একটু পরপর টয়লেটে যেতে চাসকেন?’ ধমক শুনে সুঠাম দেহের ওই যুবক আঁতকে উঠে বলেন, ‘স্যার আমার বয়স ১৮ বছর, আমার ডায়াবেটিস নেই, ভয়ে বারবার টয়লেটের চাপ ও প্রশ্রাব ধরে।স্বপ্নেও ভাবিনি এমন বিপদে পড়ব। দয়া করে আমারে ছেড়ে দেন, আমি আর এ কাজ করব না।’

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযানটি চালায় র‌্যাব। এ সময় সেখান থেকে নগদ ২৫ লাখ টাকা, জু’য়া খেলার বিভিন্ন১৪২ জনকে আ টক করা হয়। অভিযান চালানো হয় ক্যাসিনোর মালিক ও যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়ার বাসায়ও।

বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল : রূপপুর বালিশকাণ্ডে জিকে শামীমের সংশ্লিষ্টতা ফাঁস

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স থেকে শামীমকে আটক করা হয়।শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে টাকার পাহাড়ের সন্ধান পান র‌্যাব। শুধু শামীমের মায়ের নামেই ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে।এত বিপুল সম্পত্তি কী করে গড়লেন জিকে শামীম সেটি অনুসন্ধানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতিতে জিকে শামীম জড়িত বলে তথ্য প্রকাশ হয়।

রূপপুরের বালিশকাণ্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন জিকে শামীমই।সূত্রের খবর, রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে বড় অঙ্কের কয়েকটি কাজ জিকে শামীম নিজেই করছেন।এ ছাড়া ৫ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে ৩-৪টি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি কাজও দেন বলে শামীম। মূলত রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের প্রায় সব কাজই জিকে শামীমের দখলে ছিল।তবে এদের মধ্যে যেসব কাজ পছন্দ হতো না সেগুলো অন্য ঠিকাদারদের দিয়ে দেন শামীম। তাও আবার মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে।

ত্র জানায়, কমিশনের বিনিময়ে সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লি.) ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশ কয়েকটি কাজ পাইয়ে দেন জিকে শামীম।তার এই ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের কারণেই মূলত রূপপুরে ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে বালিশ, চাদর ও ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি হয়।সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জিকে বিপিএল ব্ল্যাকলিস্টেড হয়।প্রতিবেদন আরও জানায়, রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণ প্রকল্পে জিকে শামীমের এই আধিপত্যের নেপথ্যে ছিলেন পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

শামীমের প্রতিষ্ঠানকে বড় বড় কাজ পাইয়ে দিতেন তারা। সে বাবদ শামীম তাদের আলাদা কমিশন দিতেন।মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তার বক্তব্য, এমনভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়, যাতে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। টেন্ডারের শর্ত সেভাবেই নির্ধারণ করা হয়।শামীমের সঙ্গে হাত মেলানো মন্ত্রণালয়ের সেসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সরকারি টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কাজটি করতেন। এর পর অতিরিক্ত মূল্যের একটি বড় অংশ অসৎ কর্মকর্তারা ভাগ করে নিতেন।সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকা নির্মাণ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ১৯টি ভবনের কাঠামো নির্মিত হয়েছে। আর এসব ভবন নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর টেন্ডার মূল্যের ৫ পার্সেন্ট দিতে হয়েছে নেগোসিয়েশন খরচ বাবদ।

আর এ পার্সেন্টেস নিয়েছেন জিকে শামীম। কারণ এই কাজ তিনিই সব কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এনেছেন বলে দাবি করেন।জানা গেছে, গণপূর্তের সাবেক এক ইঞ্জিনিয়ার ১ পার্সেন্ট নিয়েছেন। সাবেক একজন মন্ত্রীকে দিতে হয়েছে ১ পার্সেন্ট, একজন সচিব নিয়েছেন পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট এবং পূর্ত অধিদফতরের একজন প্রকৌশলী নেন আরও পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীতেও যেসব বড় বড় ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে তার বেশির ভাগই নির্মাণ করছে জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিপিএল।

১০০ কোটি টাকার বেশি কাজ হলেই তা শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য বলে নির্ধারিত।শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেসব কাজ করছে তার মধ্যে আছে দুটি ফেইজে নির্মিত জাতীয় রাজস্ব ভবনের ৫০০ কোটি টাকার কাজ,রাজধানীর আশকোনায় র্যা ব সদর দফতর ভবন নির্মাণের ৪৫০ কোটি কাজ, ৪০০ কোটি টাকার পার্বত্য ভবন নির্মাণ, সচিবালয়ের কেবিনেট ভবন নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ।পূর্ত মন্ত্রণালয়ে জিকে শামীমের এত আধিপত্যের কারণ হিসেবে জানা গেছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা।

মান্নান খানের আমলেই পূর্ত মন্ত্রণালয়ে বড় বড় সব টেন্ডার হাতিয়ে নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন শামীম। মান্নান খান যুগের অবসান হলেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাতির রেখে জিকে শামীম পূর্ত মন্ত্রণালয়ে তার প্রভাব বজায় রাখেন। এবং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এবার জি কে শামীমের বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে র‌্যাব

এবার রাজধানীর নিকেতনে যুবরীগ নেতা জি কে শামীমের বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাবআজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবদল থেকে যুবলীগে যোগদান করেন এই শামীম। তাছাড়া সব সময় ৬জন দেহরক্ষী নিয়ে নিয়ে চলেন এই জি কে শামীম।ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী প্রটেকশন দিচ্ছেন। সবার হাতেই শটগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাঁদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। যাকে মাঝখানে রেখে তাঁরা পাহারা দিচ্ছেন তিনি উচ্চতায় পাঁচ ফুটের কিছু বেশি। ছোটখাটো মানুষ হলেও তাঁর ক্ষমতার দাপট আকাশসমান।

তিনি যখন চলেন তখন সঙ্গে চলে নিরাপত্তা বলয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম।রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের খুবই ঘনিষ্ঠ। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো।বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

বাসাবো ও এজিবি কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর এজিবি কলোনি, হাসপাতাল জোন এবং মধ্য বাসাবোতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শামীম।৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মাধ্যমেই তাঁর রজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং তাঁদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি।ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন। বিএনপি আমলে গণপূর্ত ভবন ছিল তাঁর দখলে। শামীম ছাড়া ওই মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ অন্য কারো পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার।

ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও বদলে গিয়ে এখন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। পাশাপাশি তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও সহসভাপতি। একসময় মির্জা আব্বাস আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেত জি কে শামীমের ব্যানার-পোস্টার।এখন শোভা পায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ পোস্টার-ব্যানার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের মতোই আওয়ামী সরকারের আমলেও জি কে শামীমের একক আধিপত্য চলছে গণপূর্তে ঠিকাদারি ব্যবসায়।গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিংবা যুবলীগের পার্টি অফিস, বিয়ে বাড়ি কিংবা বন্ধুর বাড়ি, যেখানেই তিনি যান, সঙ্গে থাকে অস্ত্রধারী প্রটোকল বাহিনী। ভারী অস্ত্র নিয়ে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী আগে-পিছে পাহারা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের।এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে।এবং নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।বাসাবো এলাকায় জি কে শামীমের বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। আর খুলবেনই বা কোন সাহসে, যখন দেখেন শামীম চলছেন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী নিয়ে। যাঁর গাড়ির আগে-পিছে থাকে ক্যাডারদের গাড়ি। জি কে শামীমের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গৃহায়ণ ও গণপূর্তের ঠিকাদাররাও।

তাঁর নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বৌদ্ধ মন্দিরের পাশেই একটি চায়ের দোকানে বসে ষাটোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম চা খাচ্ছিলেন।জি কে শামীমের বাসাটা কোন দিকে জানতে চাইলে একটু এগিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু বাসার দারোয়ান জানালেন, বাসাবোর বাড়িতে তিনি কয়েক বছর ধরে থাকেন না, বসবাস করেন বনানীর ডিওএইচএসে এবং অফিসে বসেন নিকেতনে।স্থানীয় ৮ জনের কাছে শামীমের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেউ কথা না বলেই চলে যান। তবে থানা আওয়ামী লীগের সাবেক একজন নেতা—যিনি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রাজনীতিতে—তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেখুন মুখ খুললে তে জীবনটাই নাই হইয়া যাইবো, আগে-পিছনে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে চলে, কার বাপের সাধ্য আছে ওর বিষয়ে মুখ খোলার। মুখ খুললেই তো মাথার খুলি উইড়া যাইবো।’ তাঁর পাশে থাকা মাঝ বয়সী স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘

চাচা কিন্তু কথা খারাপ কয় নাই। জীবনের রিস্ক নিয়ে রাজনীতি কইরা এখন দল ক্ষমতায়, কিন্তু ঘরে বইসা তিনি জিকির করেন। বিএনপি আমলে এই শামীমের উত্থান হইছে আর আওয়ামী লীগের আমলে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এখন সন্ত্রাসী লইয়া ঘোরে।’একসময় মহানগর যুবদলের প্রভাবশালী নেতা কিভাবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পায়—এই প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান দাবি করেন, জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদে নেই।তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনুমোদিত কমিটির কোথাও জি কে শামীমের নাম নেই। কেউ যদি মুখে মুখে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলে থাকেন সেটা তো হবে না। তবে আমার জানা মতে, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে আছেন।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় যুবলীগের আরেক নেতা বলেন, ‘মূল কমিটি অনুমোদনের পর বেশ কয়েকজনকে সহসম্পাদক থেকে শুরু অনেক পদই দেওয়া হয়েছে। আর আওয়ামী যুবলীগেরকেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক এস এম মেজবাহ হোসেন বুরুজ ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর শূন্য পদটি দেওয়া হয়েছে জি কে শামীমকে। শামীম ওই পদ ব্যবহার করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সর্দার মামুন রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম, কিন্তু যুবলীগের পদ পাই না।আর যুবদলের নেতা এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় পদে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চলেন ডজনখানেক অস্ত্রধারীর প্রটোকল নিয়ে।’ তথ্য সূত্র: দৈনিক কালেরকন্ঠ। সূত্র:বিডি২৪লাইভ ডট কম

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ক্যাসিনো খালেদ

ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো মালিক যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রে’ফতা’রের পর র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেটের বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। ক্যাসিনো পরিচালনা থেকে আসা আয়ের ভাগ কার কার কাছে যেত তাদের নামও বলেছেন খালেদ।

সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা খালেদ যাদের নাম বলেছেন, তাদের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রা’সী এবং রাজিনীতিবিদও রয়েছেন। প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ।যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন বলেও জানিয়েছেন খালেদ। তার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, খালেদ তাদের কাছে দাবি করেছেন, প্রতিটি ক্যাসিনোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হতো। লাভের অংশের টাকা তিনি প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতেন।কাউকে কাউকে তিনি গাড়িও উপহার দিয়েছেন। অনেককে দামি মোবাইল ফোনও উপহার দিয়েছেন। পুলিশের ডিসি থেকে ওসি পর্যন্ত মাসিক ভিত্তিতে টাকার ভাগ পৌঁছে দিতেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত তার ক্যাসিনো ব্যবসার কথা জানত। ক্যাসিনোর অর্থ তিনি বিদেশে অবস্থানকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের স’ন্ত্রা’সী’দের কাছেও পৌঁছে দিতেন।মগবাজার এলাকার একসময়ের শীর্ষ স’ন্ত্রা’সী নাজির আরমান নাদিম ও শীর্ষ স’ন্ত্রা’সী জিসানের হয়ে তিনি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের তিনি ঢাকা থেকে অর্থ পাঠাতেন।

র‌্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, ক্যাসিনো ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে আয় করা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পা’চার করেছেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব টাকা পা’চার করেছেন তিনি।তবে কত টাকা তিনি পা’চার করেছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।বুধবার রাতে অ’বৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশানের বাসা থেকে খালেদ মাহমুদকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। দুপুরের পর থেকে ইয়াংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র‌্যাব।

যুবলীগ নেতা শামীমের বাসা থেকে যা পেল র‌্যাব

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীমকে ৬ দেহ’রক্ষীসহ আ’টক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নিকেতন এলাকা থেকে তাকে আ’টক করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে তার নিকেতনের অফিস ঘিরে রাখে র‍্যাব। পরে তাকে আ’টক করা হয়।

এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক, নগদ অর্থ ও ১২৫ কোটি টাকার এফডিআর চেক উ’দ্ধার করা হয়।

শামীমের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্মচারী দিদারুল আলম জানান, সকালে নিকেতনের ৫ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর ভবন শামীমের বাসায় কয়েকজন সাদা পোশাকে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর শামীমকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ১৪৪ নম্বর ভবনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

জানা যায়, এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম ‘শামীম ঠিকাদার’ নামে পরিচিত। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় শামীম ঠিকাদারি কাজ করে থাকেন।

শুধু তাই নয় গণপূর্ত ভবনের বেশি ভাগ ঠিকাদারি কাজ করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। পরে জিকে শামীমকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক করা হয়।

গণনা চলছে জি কে শামীমের বাসায় পাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় সম্পাদক জি কে শামীমকে তার ছয় দেহরক্ষীসহ নিজের বাসা থেকে আটক করেছে র‍্যাব। আজ শুক্রবার দুপুরে নিকেতনের অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়।

শামীমকে আটকের পর তার বিশাল বিলাসবহুল বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা, অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ জিনিস পেয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিলে সেগুলোর পরিমাণ কত হিসেব-নিকেশ করছেন। বাসা থেকে উদ্ধার করা টাকা গণনা চলছে। এখনও প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেননি অভিযানকারীর।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার পর থেকে ওই গুলশানের ওই বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। বাসাটিকে একই সাথে অফিস হিসেবেও ব্যবহার করতেন যুবলীগ নেতা শামীম।

শারিরীক গঠনে ছোটখাটো হলেও শামীমের ক্ষমতার দাপট আকাশসমান। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত।

গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।

একসময়ের যুবদল নেতা ক্ষমতার পরিবর্তনে হয়ে যান যুবলীগ নেতা। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও তিনি।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো।

একই সঙ্গে রি ফাত ও নয়নের সঙ্গে অনৈ’তিক সম্পর্ক ছিল মি ন্নির

বরগুনায় আলোচিত রি ফাত শরীফ হ’ত্যা মামলার চার্জশিট (পুলিশের অভিযোগপত্র) দাখিলের ১৮ দিন পর তার কপি বাইরে প্রকাশিত হয়েছে।গেল ২৬ জুন হ ত্যা’কা’ণ্ডের ৬৬ দিন পর এক সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির। তবে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও মামলার আসামিপক্ষ অথবা মিডিয়াকর্মীরা চার্জশিটের কপি এতদিনে হাতে পায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চার্জশিটের কপি প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালেই রিফাত অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নি’হত রিফাত ও মামলার ১ নম্বর আসামি ব’ন্দু’ক’যু’দ্ধে নি’হত নয়ন বন্ড বাল্যকাল থেকে বরগুনা জিলা স্কুলে একত্রে লেখাপড়া করেছে। সে সুবাদে তাদের উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। রিফাতের সাথে আনুমানিক দুই বছর আগে থেকে মিন্নির প্রেমের সম্পর্ক ছিল।সে সময় সরল বিশ্বাসে রিফাত নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির পরিচয় করিয়ে দেয়। এদিকে মি ন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালেই রি ফাত অন্য মেয়েদের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যান। এটা মি ন্নি জানতে পারেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের রমজান মাসে রি ফাত শরীফ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসব কারণে রি ফাতের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কের কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়।এ সুযোগে আসামি নয়ন বন্ড মি ন্নির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রেম নিবেদন করে এবং মি ন্নিও তাতে সাড়া দিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। একপর্যায়ে মি ন্নি রিফাত শরীফ ও নয়ন বন্ড দুজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখেন।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মি ন্নি ও নয়ন বন্ড বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ওই বিয়েতে নয়ন বন্ডের পক্ষে সাক্ষী ছিল মামলার ২ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজীএবং মিন্নির পক্ষে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন নয়ন বন্ডের প্রতিবেশী ও বন্ধু সাইফুল ইসলাম মুন্না এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। বিয়ের পর মিন্নি ও নয়ন বন্ড স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যেই সম্পর্ক বজায় রাখেন।

কিন্তু বিয়ের পর মিন্নি ধীরে ধীরে জানতে পারেন, নয়ন বন্ড মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং থানায় তার বি রু দ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ কারণে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হতে থাকে এবং রিফাত শরীফের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক শুরু হয়।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নয়ন বন্ড মি ন্নির কাছ থেকে রিফাত শরীফকে হ ত্যা র প্রস্তাব পেয়ে পথের কাঁটা দূর করতে তাকে হ ত্যার পরিকল্পনা চুরান্ত করে এবং হ ত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের সদস্য এবং তার অনুসারী আসামি রি ফাত ফ রাজী,রিশান ফরাজী, রায়হান, অলিউল্লাহ অলি, টিকটক হৃদয়, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, তানভীর, নাজমুল হাসানকে নিয়ে ২৫ জুন বিকেলে বরগুনা সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে মিটিং করা হয়।

তারা রিফাত শরীফকে হ ত্যা র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছক করে এবং হ ত্যা কা ন্ডে অংশগ্রহণের জন্য ২৬ জুন সকাল ৯টায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সবাইকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ জুন সকালে রিফাত শরীফকে কু পিয়ে হ ত্যা করা হয়।এদিকে রি ফাত হ ত্যা কান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া মি ন্নির সেই স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রী প্রথম বর্ষে পড়া-শুনা করি।২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করাকালীন ২০১৭ সালে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় রি ফাত শরীফ বামনা ডিগ্রী কলেজের ছাত্র ছিল।

রি ফাত শরীফ আমাকে তার কয়েকজন ব ন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করে দেয় তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। কলেজে যাওয়া আসার পথে নয়ন বন্ড আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জ্বালাতন করতো। আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে আমার বাবা ও ছোট ভাইকে ক্ষতি করার ভয় দেখাতো। বিষয়টি আমি রি ফাত শরীফকে জানাইনি।‘আমি রি ফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ্য করি এবং এ কারণে রি ফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে এবং আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’‘আমি নয়নের মোবাইল নম্বরে আমার মায়ের মোবাইল নম্বর এবং নয়নের দেয়া নম্বর শেষে ৬১১৩ ও একটি নম্বর শেষে ৪৫ দিয়ে নয়নকে কল, ম্যাসেজ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিতাম। বরগুনা সরকারি কলেজে পড়াকালীন ধীরে ধীরে রিফাত ফরাজী, রিফাত হাওলাদার ও রাব্বি আকনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।

রি ফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারণে নয়ন বন্ডের বাসায় আমার যাতায়াত ছিল। নয়নের বাসায় দুজনের শারীরিক সম্পর্কের কিছু ছবি ও ভিডিও নয়ন গোপনে ধারণ করে। যা আমি প্রথমে জানতাম না।নয়নের বাসায় আমি প্রায়ই যেতাম এবং আমাদের শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে। এরপর গত ১৫/১০/১৮ আমি রোজী অ্যান্টির বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল বেলা ব্যাংক কলোনি থেকে নয়ন বন্ড রিকশাযোগে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রি ফাত ফরাজী এবং আরও ৭/৮ জনকে দেখি। শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে এবং নয়নের বাসায় আমার ও নয়নের বিয়ে হয়। তারপর আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি। তখন নয়ন বলে- ওইটা বালামে ওঠে নাই। বালামে না ওঠলে বিয়ে হয় না।

এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখি। নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস আমি মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে আমি কুয়াকাটা যাই এবং নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি।এবিষয়ে মি ন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, অভিযোগপত্র প্রকাশে এত বিলম্ব অন্য কোনো মামলায় তিনি দেখেননি। বিলম্বের কারণ তার বোধগম্য নয়। মিন্নির বি রুদ্ধে কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তিনি তা এখনও জানেন না।

খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু, জেনে নিন বাজার দর

নিজেদের বাজার সামাল দিতে পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দিয়েছে ভারত। এ খবরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোববার বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা।ঢাকার বড় বড় বাজারে এখন ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি কিং নামের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারও দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে ন্যায্যমূল্যে ট্রাকে করে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।পেঁয়াজের বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি রোধেরোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাসের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠানো হয়েছে।এছাড়া বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা এবং নির্বিঘ্নে পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ঢাবি’র সিনেট থেকে পদত্যাগ চেয়ে শোভনের আবেদন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য থেকে পদত্যাগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট সভাপতি বরাবর আবেদন করেছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।সোমবার বিকেল ৪টায় শোভনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক আহসান হাবিব ও ডাকসু সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ।

আবেদনপত্রে শোভন উল্লেখ করেন, যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক উপর্যুক্ত বিষয়ের বরাতে আপনাকে জানাচ্ছি যে, আমি মো.রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করতে আগ্রহী।

অতএব, বিনীত নিবেদন, আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আমার ওপর আপনার অর্পিত সিনেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দানে বাধিত করবেন।
আবেদনপত্রে শোভন নিজে স্বাক্ষর করেছেন।প্রসঙ্গত চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে।

সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এবার ঢাবির হল কমিটি নিয়ে যে ঘোষণা দিলেন ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি

শিগগিরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন হল কমিটি ঘোষণা করা হয়নি, এটা আমরা জানি। এই হলগুলো ছাত্রলীগের শক্তির আঁধার। হল কমিটিতে যাচাই বাছাইয়ের কিছু ব্যাপার আছে। আমরা দুজন আজ থেকে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র। তবে শিগগিরই ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণার ব্যবস্থা করা হবে।’

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে, দলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কমিটি গঠন করে যাচাই বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নেতা নির্বাচন করা হবে বলে জানান ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘কর্মী যে কেউ হতে পারে তবে নেতা বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কমিটি গঠন করে যাচাই-বাছাই শেষে পদায়ন করব।’

ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক নেতা শোভন ঢাবির সিনেট সদস্য এবং রাব্বানী ডাকসুর জিএস ও সিনেট সদস্য। তাদের এই পদগুলো থেকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রসংগঠনগুলো।

সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে লেখক বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও ডাকসু ভিন্ন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রশাসন নেবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এসময় উপস্থিত ছিলেন।