আয়ারল্যান্ডে ১৭ ঘন্টা রোজা তাতে কি, যেহেতু আমরা মুসলিম, সবাই-ই রোজা থাকবে : মাশরাফি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র রমজান মাস, বাংলাদেশে শুরু হবে মঙ্গলবার (৬ মে)।বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন রয়েছে আয়ারল্যান্ডে, উদ্দেশ্য ত্রিদেশীয় সিরিজ। সিরিজের সবগুলো ম্যাচই স্থানীয় সময় অনুযায়ী দিনের ভাগে।

রমজান মাসে তাহলে কীভাবে খেলবেন ক্রিকেটাররা?
মাশরাফি বলেন- ‘যেহেতু আমরা মুসলিম, রোজা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাই-ই রোজা থাকবে। খেলার দিন হয়ত কেউ কেউ থাকতে পারবে না। ইউরোপে রোজায় উপোষ করতে হয় উপমহাদেশের চেয়েও অনেক বেশি সময়।রোজার উপবাস নিয়ে শারীরিক শক্তির খেলা ক্রিকেট স্বভাবতই কঠিন।

তবে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশা পালন করেন ক্রিকেটাররাও। আর সে কারণে মাঠে না নেমেও উপায় নেই।
মাশরাফি জানিয়েছেন, খেলার দিন অনেক ক্রিকেটার হয়ত রোজা রাখবেন না। তবে খেলার দিন ক্রিকেটাররা রোজা রাখুন বা না রাখুন, অন্যান্য দিনে দলের মুসলিম ক্রিকেটাররা রোজা রাখবেন, রোজা রেখেই চলবে কঠোর অনুশীলন।

সেটি উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘১৭-১৮ ঘণ্টা রোজা রেখে খেলা খুব কঠিন। অন্যান্য দিনে সবাই রোজা খেলে খেলবে ইনশাআল্লাহ্‌।’
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সত্যিকার অর্থেই কনকনে শীত। মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের সদস্যরা দেশে অনুশীলন করে গেছেন তপ্ত পরিবেশে, সূর্যের সাক্ষাতে। অথচ যে আয়ারল্যান্ড সিরিজ সেই অনুশীলনের পরের ‘পর্ব’, সেখানেই হাড়কাঁপান শীত।

তবে এই শীত বা ঠাণ্ডা বাংলাদেশ দলের অজুহাত হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ হলে তো না-ই, বাজেভাবে হারা প্রস্তুতি ম্যাচেও না।মাশরাফি যে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই শীতকে মোকাবেলা করতে হবে মানসিক পরিপক্বতা দিয়ে!

৫ বছরের জেল হতে পারে নায়ক ফেরদৌসের

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশের অভিনেতা ফেরদৌস! গত ১৪ ও ১৫ এপ্রিল তাকে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে। ভোট প্রার্থনাসহ খোলা জিপে রোড শো’তে রাজ্যের তিনটি শহরে অংশ নিয়েছেন তিনি।

বলা যায়, নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের ময়দান। পশ্চিমবঙ্গে এ উত্তাপের প্রধান কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বনাম ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র সিং মোদির বিজেপি।

এতে ফেরদৌস নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে। এমন ঘটনায় বেশ চটেছেন বিপক্ষ দল বিজেপি। ভিনদেশি তারকার এমন কাজকে ‘নিন্দনীয় ও দুঃখজনক’ হিসেবে দেখেছেন তারা।

তাকে (ফেরদৌস) ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করার অপরাধে গ্রেফতার করা উচিত বলে দাবি করে বিজেপি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন নায়ক ফেরদৌস। অভিযোগ প্রমাণ হলে ৫বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার জানা যায়, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট ভাঙার অভিযোগে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরে যেতে বলেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

উল্লেখ, পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জে কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে একটি রোডশো করেন ফেরদৌস। সঙ্গে ছিলেন টলিউডের নায়ক অঙ্কুশ ও নায়িকা পায়েল।
শুধু রোডশো করেননি, তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান এই বাংলাদেশি তারকা।

Share

অবশেষে শবে বরাতের চুড়ান্ত তারিখ ঘোষণা

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২১ এপ্রিলই পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।আজ (মঙ্গলবার) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিজ দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

শাবান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেন তিনি।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সব কার্যালয়, মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে হিসেবে আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত উদযাপন হবে।

এরপর দেশের আকাশে সেদিন চাঁদ দেখা গেছে এমন তথ্য প্রকাশিত হলে বিতর্ক দেখা দেয়। এমন অবস্থায় দফায় দফায় বৈঠক শেষে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এখন এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আগের ঘোষণাই ঠিক রইল।

অবশেষে আল্লাহ’র কাছে ক্ষমা চাইলেন অভিনেত্রী সাফা কবির

গতকাল ১৫ এপ্রিল সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় অভিনেত্রী সাফা কবির একজন ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে বলছেন, ‘না আমি পরকালে বিশ্বাস করি না।’ এরপর এই ভিডিওর অংশটুকু ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এরপর থেকেই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবির। অবশেষে আজ ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি তাঁর ‘ভুল’ বুঝতে পেরে সকলের নিকট ক্ষমা চেয়েছেন একইসাথে তিনি অনুরাগীদের মনে আঘাত দেওয়ার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে সাফা কবির বলেছেন, ‘আমি যদি কোনও ভুল করে থাকি সেই ভুলের জন্য আমি পরম করুণাময়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। তিনি পরম দয়ালু এবং ক্ষমাশীল। তিনি নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করবেন।’

এ সময় সাফা কবির আরও বলেন, ‘আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন, কারো বিশ্বাসে আঘাত দেওয়ার জন্য কোনও কথা আমি বলিনি। তবুও, আমার কোন কথায় যদি কারো মনে বা বিশ্বাসে আঘাত লেগে যায়, তার জন্য আমি দুঃখিত এবং করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী।’

অভিনেত্রী সাফা কবির বলেন, ‘তবুও যারা, আমার ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক করেছেন এবং আমাকে অত্যন্ত বাজে ভাষায় আক্রমণ করছেন তাদের বিচারের ভারও আমি আল্লাহর হাতে দিলাম। তিনি নিশ্চয়ই সবকিছু জানেন এবং দেখেন।’

চোখের পানিতে ভিজে গেল কাঁটাতারের বেড়া

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি সীমান্তে অনুষ্ঠিত হলো দুই বাংলার মিলনমেলা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই বাংলার মানুষকে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন।

বিজিবি ও বিএসএফের বাধা উপেক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে সীমান্তে হাজারো মানুষের ঢল নামে। কিন্তু স্বজনদের ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয় না তাদের। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁটাতারের বেড়া দমিয়ে রাখতে পারেনি রক্তের বন্ধনকে। সীমান্তের এপার-ওপার লাখো মানুষের ভিড়ে এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দুই বাংলার স্বজনদের পদচারণায় মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার হরিপুর কাড়িগাঁও, কান্ধাল, মলানী, ডাবরী, বেতনা, বুজরুক এবং ভারতের মালদখন্ড, বসতপুর, শ্রীপুর, নারগঁও, কাতারগঞ্জ ও বোররা সীমান্তে ৩৫৫, ৩৫৬নং পিলার থেকে শুরু করে ৩৭২নং পিলার এলাকায় সীমান্তের ১০টি পয়ন্টে কাঁটাতারের এপার-ওপারে দুই দেশের মানুষ উপস্থিত হয়।
প্রতি বছর দুই দেশের স্বজনরা ভিড় জমায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এসব সীমান্ত এলাকায়। দেখা ও কথা না হওয়া পর্যন্ত সকাল থেকে কাঁটাতারের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন দুই দেশের স্বজনরা।

সকাল ১০টার পর স্বজনদের ভিড় জমতে শুরু করে সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে। গেট না খুললেও এপারে-ওপারে দাঁড়িয়ে স্বজনদের দেখা ও কথা হয়। আদান-প্রদান হয় নানা রকমের খাদ্য সামগ্রী।স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা রানীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা কুলসুম বেগম (৪৫) বলেন, আর্থিক সঙ্কটের কারণে পাসপোর্ট ও ভিসা করতে পারি না। তাই প্রতি বছর আমার বোন আঞ্জুমারাকে দেখতে এই দিনে সীমান্তে আসি। এবারও আমার বোনের দেখা পেয়েছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা সদর এলাকার বাসিন্দা পুলন চন্দ্র রায় (৬৫) বলেন, ১০ বছর আগে আমার মেয়ে গিতা রানীর বিয়ে হয় ভারতের মাল্দা জেলার রতুয়া থানার হরিপুর গ্রামে। বিয়ের পর এ প্রথম মেয়ের দেখা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ি। পরে মেয়ে ও জামাইকে কাপড় ও মিষ্টি দিয়ে আনন্দ পেয়েছি।

ভারতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা জয়পুর হাটের তসলিমা নাসরিন বলেন, ১২ বছর আগে আমার ছোট বোন বিউটির বিয়ে হয় ভারতের গোয়ালপুকুর থানার পাঁচঘরিয়া গ্রামে। বিয়ের পর আর কথা হয়নি তার সঙ্গে। কিন্তু আজ বোনের সঙ্গে কাঁটাতারের এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি। কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে মিষ্টি ও শাড়ি দিতে পেরে আনন্দ পেয়েছি। মিলনমেলায় আসা অনেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং কথা বলেছেন। বিভিন্ন জিনিসপত্র আদান-প্রদান করেছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও দুই দেশে বসবাসরত স্বজনরা দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে কাছে পায়। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ায় আনন্দ অশ্রুতে ভেসে যায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া।

হারিয়ে যাওয়া ১১ সন্তানকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলো পুলিশ

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে রমনা পার্কে গিয়ে ভীড়ের মাঝে আদরের সন্তানকে হারিয়ে ফেলে পহেলা বৈশাখের আনন্দ ক্ষণিকের জন্য কারো কারো কাছে হয়ে গিয়েছিল বিষাদময়। কিন্তু ডিএমপি হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের তাদের নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীকে কড়া নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যে রেখেও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে পিছপা হয়নি ডিএমপি। সামাজিক নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা থেকে বৈশাখী উৎসবে মেতে থাকা হারিয়ে যাওয়া ১১ সন্তানকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ডিএমপি।

ওয়ারী থেকে রমনা পার্কে যাওয়া আট বছরের শিশু মায়ামনি। সে বাবার সঙ্গে গিয়েছিল রমনার বৈশাখী উৎসবে। কিন্তু লোকের ভিড়ে হারিয়ে ফেলে তার বাবা গোপালকে। কিন্তু হারাতে পারেনি পুলিশের চোখকে। ঠাঁই হয় ডিএমপির লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেন্টারে। আর অবশেষে তার বাবাকে খুঁজে পুলিশ ফিরিয়ে দেয় মায়ামনিকে।

কাকরাইল থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে রমনা পার্কে বৈশাখী উৎসবে যাওয়া ৮ বছর বয়সী শাহরিয়ারও হারিয়ে ফেলেছিল তার বাবা-মাকে। কিন্তু পুলিশের সদস্যরা তাকে লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেন্টারে নিয়ে যায়। এরপর তার বাবা সাইফুলকে খুঁজে ফিরিয়ে দেয়া শাহরিয়ারকে।

এমনিভাবে মুন্নি, রবিউল, মীম, আদন, সিনহা, তানভীর, মামুন, সাফা, সোহানও হারিয়ে ফেলেছিল তাদের বাবা-মাকে। পরে তাদের নেয়া হয় রমনায় স্থাপতি ডিএমপির লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেন্টারে।

পরে মাইকিং করে তাদের হারানো বাবা মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তখন কেউ বলছিল-‘স্যালুট তোমায়, বন্ধু পুলিশ। আবার কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিল- ‘পুলিশের জন্যই আমার সন্তানকে আবার ফিরে পেয়েছি‌’।

নুসরাত হত্যা: ওসির বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা, পৌর কাউন্সিলর ১০ দিনের রিমাণ্ডে

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি অভিযোগ দিতে আসার পর তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন বাদী হয়ে মামলা করেন। সুমন বলেন, নুসরাত থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তার ভিডিও করে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারার লঙ্ঘ

তিনি জানান, সোমবার দুপুর ২টায় এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির অভিযোগ দিতে নুসরাত সোনাগাজী থানায় গেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময়ের ভিডিও করেন তারা।

এদিকে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার বেলা ১২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফউদ্দিনের আদালতে তাকে ১০ দিন রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়।

নুসরাত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা
পরে শুনানি শেষে মাকসুদ আলমের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘কেরোসিন কেনে শামীম, ডেকে নেয় পপি, নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় জাবেদ’

গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আর সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্যের মধ্য দিয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ‘একটা সার্বিক চিত্র’ স্পষ্ট করে এনেছে এ ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় পিবিআই নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত চারজনের মধ্যে দুজনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং কার নির্দেশে, কারা, কীভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে; তার ‘মূল রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে’ বলে দাবি করেছে।

গতকাল রোববার বিকেল ২টা ৫৫ মিনিট থেকে দিবাগত গভীর রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা নুসরাত জাহান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ‘ঘনিষ্ঠ’ নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।তার আগে এ দুজনকে পিবিআই সদর দপ্তর ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফেনীতে নিয়ে আসা হয়। আইন অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নীল কাপড়ে তাদের মুখ ঢেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জবানবন্দি দেওয়ার পর দুই আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রাত দেড়টার দিকে গণমাধ্যমের সামনে আসেন পিবিআইর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান। তাঁর সঙ্গে পিবিআই ফেনী ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল পিবিআই এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। চার দিনের মধ্যে আমরা ঘটনার যারা মূল নায়ক, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি। পিবিআই সদর দপ্তর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তের ভিত্তিতে শুধু গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্য থেকেই তাদের মধ্যে দুজনকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এ দুজন আসামি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছে।’

‘বক্তব্যে পুরো বিষয়টি তারা খোলাসা করেছে। একেবারে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে, কারা ঘটিয়েছে, কী আঙ্গিকে ঘটিয়েছে—এর বিস্তারিত বিবরণ আমি এখানে দেব না। বাট বিষয়গুলো এখানে এসেছে। আপনারা দ্রুতই বিষয়গুলো জানবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বা এখানে পিবিআইর যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিষয়গুলো অবগত করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা সরাসরি এখানে জড়িত ছিল কয়েকজন। পরিকল্পনা অংশগ্রহণ ক

রেছে। জেলাখানা (অধ্যক্ষের কাছ) থেকে হুকুম পেয়েছে। এ বিষয়গুলো মূলত এসেছে।’

হত্যাকাণ্ডে কতজন সংশ্লিষ্ট ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তাবেরুল হক চৌহান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৩ জনের কথাই বলছি। কিন্তু আরো অনেকের নাম এসেছে। আমরা একজনের বক্তব্য যাচাই-বাছাই না করে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করতে পারি না।’

যে চারজন সরাসরি নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে, তারা কি গ্রেপ্তার হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘চারজনের সকলকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। আমার মনে হয়, দুজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আর দুজনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো সময় আমরা আপনাদের একটি ভালো নিউজ দিতে পারব।’

পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে এনটিভি অনলাইনের কথা হয়। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে মূল ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইর এই সূত্রটি দাবি করে, ‘নুসরাতের ওপর হামলার সময় নুর উদ্দিন হামলাকারীদের নিরাপত্তা ও হামলার পর নিরাপদে বের হয়ে যাওয়াটি নিশ্চিত করতে স্কুলগেটে অবস্থান করেছিল।

আর শাহাদাত হোসেন শামীম বাজার থেকে বোরকা ও পলিথিনে করে এক লিটার কেরোসিন সংগ্রহ করে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে।’

‘ঘটনার সময় ওড়না দিয়ে নুসরাতের দুই হাত পেছন থেকে ও মুখ চেপে ধরে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এবং নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়। নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় জাবেদ।’

সূত্রটি আরো দাবি করে, ‘এ ছাড়া নুসরাতকে পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নেয় পপি। নুসরাতকে বলা হয়েছিল, তার বান্ধবীকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে। ছাদে তখন অপেক্ষায় ছিল শামীম, জাবেদ, শম্পাসহ আরো একজন।’

নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এস এম মুসার মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নুসরাত তৃতীয়।

গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে তিনি মারা যান।

এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার/পাঁচজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই নোমান মামলা দায়ের করেন।

এরপর গত বৃস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন, পরদিন শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার দুই নম্বর এবং শাহাদাত হোসেন শামীম তিন নম্বর আসামি।

এ মামলায় এজাহারনামীয় সাতজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাও রয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে ১১ জনকে।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও জাবেদ সাত দিন করে এবং অন্যদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এজাহারভুক্ত এক আসামি হাফেজ আবদুল কাদের এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এনটিভি অনলাইন

এইমাত্র পাওয়াঃ অবশেষে নুসরাতের সহপাঠী শম্পা আটক

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী।

সোমবার পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পাকে ফেনী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কখন গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

গত ৪ এপ্রিল সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম ও মাদরাসার সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিনসহ চারজন। সেখানে সিরাজ তাদের ‘একটা কিছু করে’ নুসরাতকে শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় গেলে সেখানেই ভবনের ছাদে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে আগুনে পোড়ানো হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই ছাত্রীর মাধ্যমে তিনটি বোরকা আনা হয়। আনা হয় কেরোসিন তেল। ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেয়া সংবাদে ভবনের চারতলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে ছিল শাহাদাতসহ চারজন। তারা নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। কিন্তু নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে ওড়না দিয়ে বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়।

নুসরাত হত্যায় মোট ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), মুকছুদ আলম কাউন্সিলর (২০), জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফছার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার সিরাজ উদ দৌলাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক।

নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও একজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে। নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনার কথা তারা দুই ছাত্রী ও দুই ছাত্রের সঙ্গে শেয়ার করে। এর মধ্যে একটি মেয়ের দায়িত্ব পড়ে ৩টি বোরকা আনা ও পলিথিনের ব্যাগে কেরোসিন আনা। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শাহাদাতের হাতে হস্তান্তর করে।

সকাল ৯টার পর ওদের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। এরই ফাঁকে ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা ওরফে চম্পা নামে ছাত্রী এক ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, ভবনের চারতলায় যান নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বেঁধে এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়।

বাইরে নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গেট পাহারা ও স্বাভাবিক রাখার কাজ করে। আগুন দেয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়ারা বোরকা পরে বের হয়ে যায়।

নুসরাতকে এর আগেও চুন মারার কারণে পাহাড়তলির হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। যে কারণে হত্যাকারীরা মনে করেছিল নুসরাতকে মারাটা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

ঘটনার পরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআইয়ের ছয়টি ইউনিট তদন্তে অংশ নেয়। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে জড়িতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও একজনকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। একজনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন আইনের আওতায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিবিআই’র বিশেষ সুপার (ঢাকা মেট্রো) আবুল কালাম আজাদ, এসপি বশির আহমেদ, মিনা মাহমুদা, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহছান। ১০ এপ্রিল (বুধবার) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

রাজধানীর মগবাজারে ভয়াবহ আগুন

রাজধানীর মগবাজার কাজী অফিসের একটি গলিতে আগুণ লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কন্টোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন।

তিনি বলেন, কাজী অফিসের একটি গলিতে ১৫ নম্বর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। দুপুরের দিকে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।