রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হলো বেগম জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রতিষ্ঠাকালীন ভিত্তিপ্রস্তরটি রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে মূল ফটক সংলগ্ন ভিত্তিপ্রস্তরটি ভাঙা শুরু করে শ্রমিকরা।

এদিকে, প্রতিস্থাপন না করে ফলকটি ভেঙে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্বোধন করা এবং তার নামের ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেঙে ফেলায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরটি ভাঙা হচ্ছে। যা পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন করা হবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটির সঙ্গে আমাদের অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। রাস্তার কাজে তা ভাঙার প্রয়োজন যদি হয় তবে তা আগে প্রতিস্থাপন করে তারপর ভাঙার প্রয়োজন ছিলো।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করা ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপন ছাড়া ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন। রাতের আঁধারে করা এই ধরনের কাজ নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপনের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৪০ ফিটের রাস্তা ও সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণ করা হবে। এই সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরটি ভাঙা হচ্ছে। তবে ফলকটি উঠিয়ে রাস্তার কাজ শেষে ঠিকঠাক প্রতিস্থাপন করা হবে।

ভাঙার আগেই কেন প্রতিস্থাপন করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণের আগে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ভিত্তিপ্রস্তর প্রতিস্থাপন করা হলে সেটি অসুন্দর হতে পারে। তাই প্রতিস্থাপনের কাজটি পরে করা হবে। প্রয়োজনে নামফলকের লেখা যেগুলো উঠে গেছে সেগুলো নতুন কালি করে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ওই বছরের ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়।

অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে দিল সবার নাম !

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন অধ্যক্ষ সিরাজ।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, নুসতার হত্যার মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন জেলহাজত থেকে তিনি নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলে থাকা অবস্থায় নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়ার জন্য বলেন অধ্যক্ষ সিরাজ। কাজ না হলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতেও নির্দেশ দেন তিনি।গত ১০ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত অধ্যক্ষ সিরাজের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিরাজ উদ দৌলাসহ নয়জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা করেন। মামলার এজহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

সাহসী প্রেমিকা ফারজানা : প্রেমিককে সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ক অতঃপর মেরে পুঁতে রাখল প্রেমিককে !

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে প্রেমিকার হাতে উজ্জ্বল মিয়া (২২) নামে এক কলেজ ছাত্র প্রেমিক খুন হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।নিহত উজ্জল মিয়া উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের শাহ আলমের পুত্র। সে সঈদ উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

তিনি জানান, নিহত উজ্জ্বলের সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল একই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়ার কন্যা হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজের ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৮) এর। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার কারণে তাদের মধ্যে একাধিক বার দৈহিক সম্পর্ক হয়।ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, গত ২০ ফ্রেব্রুয়ারী উজ্জল মিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি লাখাই থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে। পরে কল লিস্টের সুত্রধরে গত ২১ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম কলেজ ছাত্রী ফারজানা ও তার পিতা মঞ্জু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করে নিয়ে আসে।

রাতভর তিনিসহ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা হত্যাকান্ডের পুরো বর্ণনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ওই হাওরে গিয়ে নিহত উজ্জলের লাশ সোমবার দুপুরে উদ্ধার করে।লাখাই থানার (ওসি) এমরান হোসেন জানান, নিহত উজ্জলের মরদেহ মঙ্গলবার ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। এছাড়াও এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার প্রেমিকা ফারজানা ও তার পিতা মঞ্জু মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এছাড়াও এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের তদন্ত করে গ্রেফতার করা হবে।

প্রেসব্রিফিংকালে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলাম, এসআই ইকবাল বাহারসহ লাখাই থানার একদল পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারী উজ্জ্বল সে তার প্রেমিকা ফারজানা আক্তারের বাড়িতে যায়। এসময় তার বাড়িতে কোন লোক না থাকার সুবাদে উজ্জ্বল তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আবারো দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয়। এসময় উজ্জ্বলের মোবাইল ফোনে তার অন্য প্রেমিকার ফোন আসে। উজ্জ্বল ফারজানাকে রেখে তাদের ঘরের ভেতরেই অন্য প্রেমিকার সাথে ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে উজ্জ্বল তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এর কিছুক্ষণ পর ফারজানা তার প্রেমিককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এসময় সে উজ্জ্বলের মাথায় পাথর (ফুতাইল) দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার হাত পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জলের লাশ তাদের ঘরের একটি কক্ষে মাটির নিচে পুতে রাখে।পরদিন সে তার পিতা মাতার কাছে ঢাকায় চলে যায়। ঘটনার ১০/১২ দিন পর ফারজানার পিতা শাহ আলম বাড়িতে এসে লাশটি মাটির নিচ থেকে তুলে বস্তাবন্দি করে গ্রামের পার্শ্ববর্তী মেদি হাওরের পানির নিচে ফেলে রেখে আসে।

মনির গর্ভে ৫ মাসের সন্তান ! কেন আরেকটি মেয়ের শরীরে আগুন দিল ?

কামরুন্নাহার মনি। তার অনাগত সন্তানের বয়স পাঁচ মাস। নুসরাত হত্যা মামলায় কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া মনি সব অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।জবানবন্দিতে তিনি তার গর্ভে সন্তানের বয়স পাঁচ মাস বলে জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়।

সেখানে মুখোশপরা ৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল(সোমবার) রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের ৮ জন মোট ২০ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৭ জন। ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এই কমিটি শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে। সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।২০ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।গর্ভে সন্তান ধারণ করে এরকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ানোয় ফেনীতে সকল মানুষের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ফেনীর ফরিদা ইয়াছমিন নামে এক নারীকর্মী বলেন, কামরুন নাহার মনির পেটে যে সন্তান সে সন্তান নিজ থেকে দুনিয়াতে আসতে চায়নি।যে মা তাকে দুনিয়াতে আনতে চেয়েছেন; সে মা কীভাবে এমন কাজ করতে পারে?এ সন্তানের কী অপরাধ ছিল? তাকে কেন জন্মের আগে জেল খাটতে হচ্ছে।বিথী রানী নামে এক শিক্ষিকা বলেন, কামরুন নাহার মা হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ মা। প্রত্যেক নারী একসময় মা শব্দ শোনার প্রতীক্ষায় থাকে।গর্ভে সন্তান আসলে প্রত্যেক মা সব সময় ভালো কাজে লিপ্ত থাকে। কামরুন নাহার মনি মা-তো দূরের কথা মানুষের মধ্যে পড়ে না।

গর্ভে সন্তান নিয়ে নৃশংসভাবে আরেকজন মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সে নারী নামে কলংক।২০ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে কড়া নিরাত্তার মধ্য দিয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে মনিকে হাজির করে করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।প্রায় ছয় ঘন্টাব্যাপী জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে তাদের জবানবন্দির ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল।তিনি বলেন,
নুসরাত জাহান রাফি হত্যার কিলিং মিশিনে সরাসরি জড়িত ছিলো কামরুন নাহার। নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন। বোরকা ব্যবস্থাও করে দেন তিনি।

উম্মে সুলতানা নুসরাতের পায়ে বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মনি তাকে শম্পা বলে ডাকে। এই শম্পা দেয়া নামটি পপি ও মনির দেয়া নাম। এই কিলিং মিশনে আর কোনো ছদ্মনাম ব্যবহার হয়নি। মনি আরও জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।তিনি আরো বলেন, কয়েক ঘন্টাব্যাপী এ স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনন্দিতে মনি হত্যাঃকাণ্ডের ব্যাপারে আরও চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যয় দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করেনি এই কর্মকর্তা।কামরুন নাহার মনিকে ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ এপ্রিল একই আদালতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়।শুক্রবার মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যায় পিবিআই। সে সময় মনি কিভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেন। তার দেয়া তথ্য মতে পিবিআই বোরকা দোকান পরিদর্শন করেন।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার দিন সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন। তারা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি।

এ পর্যন্ত ৮জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলেন শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, আবদুর রহীম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, উম্মে সুলতানা পপি, সাফুর রহমান জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও কামরুন নাহার মনি ।

নুসরাত হত্যা মামলায় আ’লীগ সভাপতি গ্রেফতার

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ ১৯ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে সোনাগাজীর তাকিয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে এ মামলায় আটক শামীমসহ অন্য আসামিরা জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, শিক্ষক আবসার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম,

নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ ও হাফেজ আবদুল কাদের।এর আগে গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।

কলেজ ছাত্রী খুন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার রেশ না কাটতেই এবার গাজীপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বুধবার দুপুরে এক কলেজ ছাত্র তাকে খুন করে। এ ঘটনায় হত্যাকারীকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।নিহত কলেজ ছাত্রীর নাম শারমিন আক্তার লিজা (১৮)। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি এলাকার ক্যামব্রীজ কলেজের একাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। নিহত শারমিন স্থানীয় আমবাগ ঈদগাহ মাঠ এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের মেয়ে।

এ ঘটনায় আটককৃত হত্যাকারীর নাম মোস্তাকিন রহমান রাজু (১৭)। সে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সদর থানাধীন সালনা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। রাজু স্থানীয় কোনাবাড়ী লিংকন মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্র।নিহত কলেজছাত্রী শারমিনের ভাই সাদিম আহমদ সুজন, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকার হাজী বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে রাজু স্থানীয় কোনাবাড়ী লিংকন মেমোরিয়াল কলেজে লেখাপড়া করে। কলেজে আসা যাওয়ার পথে সে বেশ কিছুদিন ধরে কলেজ ছাত্রী শারমিন আক্তার লিজাকে উত্যক্ত করে আসছিল।

একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন আক্তার লিজা বুধবার দুপুরে বর্ষ উত্তীর্ণ পরীক্ষা শেষে কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে কোনাবাড়ি কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কোনাবাড়ি লিংকন কলেজের ছাত্র মোস্তাকিন রহমান রাজু ওই ছাত্রীর গতিরোধ করে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।
এ সময় লিজা প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে রাজু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং ছুরি দিয়ে লিজার বুক ও পেটে আঘাত করে। এ সময় লিজার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ছুরিসহ রাজুকে আটক করে গণধোলাই দেয়।

ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত লিজাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ও পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আটককৃত ঘাতককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।নিহতের ভাই সাদিম আহমদ সুজন আরো জানান, হত্যাকারী রাজু কলেজে আসা-যাওয়ার পথে লিজাকে উত্যক্ত করত এবং তাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিত। এ প্রস্তাবে লিজা রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন হুমকি দিত সে। সম্প্রতি হুমকির পর লিজা চার-পাঁচদিন ধরে কলেজে যাচ্ছিল না।

বিষয়টি মোস্তাকিনের মাকে মোবাইল ফোনে জানানোর পর দুইদিন আগে মোস্তাকিন ও তার মা বিষয়টি নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং লিজার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চায়।এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, নিহতের গলার নীচে বুকে চাকুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকারী মোস্তাকিন রহমান রাজুকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আসামী রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‘ভোট দিলে এই দশা হবে’ চিরকুটে মুরগির কাটা মাথা ঝুলিয়ে

একটি চিরকুট সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে। তার সাথে মুরগির কাটা মাথা! যেখানে লেখা ‘১৮ এপ্রিল ভোট দিতে গেলে এই অবস্থাই হবে।’ চিরকুটের গায়ে সাঁটা মুরগির মাথা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভোটদাতার পরিণতি কী হবে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ভারতের ত্রিপুরার খোয়াই জেলার জাম্বুরা গ্রামে হাড় হিম করা এই দৃশ্যই দেখা গেল একাধিক সিপিএম সমর্থকের বাড়ির বাইরে, রাজধানী আগরতলা থেকে মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দূরে।এ বিষয়ে খোয়াইয়ের বিধায়ক সিপিএম নেতা নির্মল বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ওই হাতে লেখা চিরকুটগুলি বিশেষভাবে চিহ্নিত সিপিএম সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে বিলি করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। স্পষ্টতই ১৮ এপ্রিল যাতে তারা ভোট দিতে না যান তা নিশ্চিত করতেই এ কাজ করা হয়েছে।

জাম্বুরা গ্রামের বাসিন্দা স্বদেশ দেবনাথ জানান যে তিনি সকালে উঠে দেখেন, বাড়ির গেটে ঝোলানো হাতে লেখা মৃত্যুর হুমকি, সঙ্গে ঝোলানো মুরগির মাথা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আমরা ভোট দিতে যাব। এখনকার মতো খারাপ পরিস্থিতি হলে অবশ্য নাও যেতে পারি। পুরো পরিবার ভয়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয় এখানে।স্বদেশবাবু আরও জানান, তিনি সিপিএম সমর্থক। এই হুমকি কেবলমাত্র সিপিএম সমর্থক এবং তাদের পরিবারকেই দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সহকারি ইনস্পেক্টর জেনারেল সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, আমাদের কাছে এখনো এই ধরনের কোনো খবর নেই।

তবে, বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য তার দলের বিরুদ্ধে ওই চিরকুট বিলি করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনায় কোনো বিজেপি কর্মীর ভূমিকা নেই।তিনি আরও বলেন, সিপিএম সমর্থকরাই এ কাজ করছে, যাতে বিজেপির ওপর দায় চাপানো যায়। পাশাপাশি তিনি সিপিএমের ‘চক্রান্তকারীদের’ বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

নুসরাত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুল কাদের গ্রেফতার

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও এজহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) তাকে রাজধানী ঢাকার হোসনী দালান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিক পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়।

আবদুল কাদেরকে গ্রামের লোকজন মানিক নামেই চিনত। সে আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্বসফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। ৪ ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের ৫ নম্বর।

তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও হাফেজ আবদুল কাদের শিবিরের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত বলে জানা যায়।
কাদের সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তাদের স্বীকারোক্তিতে আবদুল কাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন হাফেজ আবদুল কাদের গেট পাহারার দায়িত্বে ছিল এবং ঘটনার আগের দিন ৫ এপ্রিল খুনের পরিকল্পনার বৈঠকে ছিল মানিক। গ্রেফতারকৃত আসামিরা তার হোস্টেলে বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গত ৭ এপ্রিল মালামাল নিয়ে হোস্টেল ত্যাগ করে হাফেজ আবদুল কাদের। পরদিন ৮ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়িতে ছিল। মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের খবর জানতে পেরে বাড়ি ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় আবদুল কাদের মানিক।এরপর ১২ এপ্রিল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর আবদুল কাদেরের নাম আসায় ওই দিন বিকালেই বসতঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান আবদুল কাদেরের বাবা-মা ও পরিবারের সব সদস্যরা।

তার এক ভাই দিনমজুর, একভাই মালদ্বিপ ও এক ভাই ঢাকায় একটি কারখানায় চাকরি করেন। তিন বোন বিবাহিত। আবদুল কাদের অবিবাহিত।
পিবিআই এজাহারভুক্ত ৮ জন আসামির মধ্যে ৭ আসামিসহ ১৬ জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এবার আবদুল কাদেরকেও গ্রেফতার করা হলো।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে নুসরাত ওই বিল্ডিংয়ের তিনতলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪-৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ৮ জনের মান উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।

রংপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে কৃষি কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

অসুস্থ মায়ের মাথায় পানি দেওয়ানোর কথা বলে বাসায় ডেকে এনে অষ্টম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম মিলনকে দোষি সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ রায় দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৪ জুলাই রংপুরের বদরগজ্ঞ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুকে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আনসার আলীর ছেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম মিলন বাসায় ডেকে আনে। তার মা গুরুতর অসুস্থ ও মাথায় পানি দিতে হবে এ কথা বলে মেয়েটিকে বাসায় নিয়ে আসে সে। পরে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে বদরগজ্ঞ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আসামি জাকিরুল ইসলাম মিলনকে দোষি সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

সরকার পক্ষের মামলা পরিচালনাকারী আইনজিবী বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। দেরিতে হলেও ভিকটিম ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায় ধর্ষকদের জন্য একটি বার্তা বলেও মনে করি আমি।’

এদিকে বিচারক রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণে এ মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলামের ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘তিনি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাবে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করেননি। এক মাস পর করিয়েছেন। ফলে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ডাক্তারও সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি ভিকটিমের পরনের কাপড় পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা করেন নাই।’

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘আসামি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বাসায় ডেকে এনে এক শিশুর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেছে এটা জঘন্য অপরাধ। মামলায় ১৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছে। তারা সন্দেহাতীতভাবে মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ধর্ষণের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। কখনও সাক্ষীদের জেরা করার সময় পারিবারিক বিরোধ, কখনও জমি নিয়ে বিরোধ, আবার কখনও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছেন। তারা আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য কোনও এভিডেন্স উপস্থাপন করতে পারেননি।’ বিচারক ঘটনার সময় আসামির বয়স বিবেচনা করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিলেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে সরকার পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, ‘বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ডাক্তারকে ভর্ৎসনা করেছেন।

সেই সঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনার যতগুলো মামলা হয় তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মিথ্যা । ফলে আসলে যারা ধর্ষণের শিকার হয় তাদের বিচার করতে বিলম্ব হয়ে যায়।’এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশীদ চৌধুরী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সবজি বিক্রেতা থেকে যেভাবে কোটিপতি হলেন: গ্রেফতার মাকসুদ আলম

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম।তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমদ এ আদেশ দেন। মাকসুদ আলম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য।

জানা গেছে, মাকসুদ আলম আলু ব্যবসা থেকে কাউন্সিলর হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। তারা বাবা মরহুম আহসান উল্যাহ ছিলেন সোনাগাজী বাজারের সবজি বিক্রেতা।সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ সোনাগাজী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে প্রভাব খাটিয়ে সোনাগাজী পৌর এলাকায় একের পর এক জায়গা দখল করতে থাকেন।

‘ভূমিখেকো’ হিসাবেও তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। এক্ষেত্রে ভাই হেলাল ও সবুজ তার সব অপকর্মের নিত্যসঙ্গী। তিন ভাইয়ের বেপরোয়ায় এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সাম্প্রতিক সময়ে হেলালকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবাসহ গ্রেফতার কর ২ বছরের সাজা দিলে আপিল করে জামিনে মুক্তি পান তিনি।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সোনাগাজী মেইন রোডের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন জায়গাটি ইজারা নেন নুরুল করিম শিল্পী। তিনি ১৫ বছর ধরে শিল্পী স্টিল কর্পোরেশনের নামে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করে আসছেন।

তার অর্ধকোটি টাকা মূল্যের আড়াই শতক জায়গাটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে কাউন্সিলর মাকসুদের। ২০১৭ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর শিল্পী স্টিল কর্পোরেশনের জায়গাটি দখল করে ও ১৫ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জায়গার মালিক নুরুল করিম শিল্পী মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে সোনাগাজী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ওই মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে মাকসুদ ও তার সহযোগী আবুল কালাম ভোলাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সূত্র জানায়, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পাশে টিটি আবদুর রবের কোটি টাকা মূল্যের ৪ শতক জায়গা দখল করে। চরগণেশ পাণ্ডব বাড়িতে জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করেন মাকসুদ। সোনাগাজী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন প্রবাসী আবু সুফিয়ানের স্ত্রী শাহানা আক্তারের ৬ শতক জায়গা দখল করে।

প্রতিবাদ করায় প্রবাসী আবু সুফিয়ানকে সোনাগাজী মডেল থানার সামনে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর প্রাণভয়ে তিনিও চুপসে যান। এছাড়া প্রবাসী আবু তাহেরসহ অনেক ব্যক্তির বহু সম্পত্তি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দলের প্রভাব খাটিয়ে উন্নয়নকাজ বাগিয়ে নিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণকাজ সম্পাদন করে নিজের আখের গুছিয়েছেন।

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত।

এর আগে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, মাকসুদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। বিচারক পাঁচ দিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

মাকসুদ আলমকে গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঢাকার ফকিরাপুল এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ নিয়ে এ মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ছাড়াও আরও সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ৯ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন,কেফায়াত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।