তুমি রিফাতরে কো’পাইয়া মা’ইরা ফালাইছ এখন তো তুমি ফাঁ’সির আসামি হইবা নয়নকে মিন্নি !

রিফাত শরীফ হ*ত্যা* ঘটনায় বিভিন্ন ঘটনা এখন বিভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে, প্রতিনিয়ত নি*ত্য*নতুন ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসছে। এই ঘটনায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নি জড়িত কিনা, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার পরে অবশেষে এই খু**নের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সেই সূত্রেই এখন মিলছে চাঞ্চ*ল্যকর সব তথ্য।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর খাসকামরায় ১৯ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আড়াই পৃষ্ঠার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুধুমাত্র বিচারক ও মিন্নি।জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, গো**পন একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রি*ফাতকে একটা শিক্ষা দিতে বলা হয়। সেই নম্বরটিতে মিন্নি শুধু নয়*নের সঙ্গেই কথা বলতেন। সেটি নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন* করা। রিফাত খু*ন হওয়ার পরেও ওই নম্বরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনা*লাপ হয়।

নয়নকে মিন্নি বলেন, ‘তুমি তো রিফাতরে কো*পা*ইয়া মা*ইরা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁসির আসামি হইবা।’
হ*ত্যা*কা*র আগে-পরে এই কথাগুলোর ভয়েস রেকর্ড এবং কললিস্ট সিডি আকারে মা*মলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রোববার বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ খু*ন হন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিন্নি সব স্বীকার করেছে।জবানবন্দিতে মিন্নি জানান, ৬ লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বল্ডের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এ বিয়ের বিষয়টি জানতেন। পরে এ বিয়ের বিষয়টি গো*পন রেখে মিন্নি রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন।

কিন্তু রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা ছিলো। কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে মিন্নি নিয়মিত নয়নদের বাড়ি যেতেন। ঘনিষ্ঠ মুহূ*র্তের ভিডিও থাকার কারণে নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারেননি।জুনের ৩ তারিখে রিফাত শরীফ বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে নেয় বলে নয়নের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ*কপর্যায়ে নয়ন বন্ড মিন্নিকে বলেন রিফাত যেন ফোন ফিরিয়ে দেয়, না হলে পরিস্থিতি খা*রা*প হবে। এরপর রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও।

মিন্নির কথা শুনে রিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে যান। নয়*নের সঙ্গে যোগাযোগ আছে জেনে মিন্নিকে প্রচণ্ড মার*ধরও করে রিফাত। এর পরদিনই নয়নের কাছে রিফাতের বি*রুদ্ধে অ*ভিযোগ করেন মিন্নি। তিনি রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। এ কথা শো*নার পর নয়ন মিন্নিকে শিখিয়ে দেন, কোথায় কীভাবে রিফাতকে নিয়ে যেতে হবে। সেই অনুযায়ী মিন্নি ঘটনার দিন রি*ফাতকে কলেজে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন।

রিফাত কলেজে এলে তাকে নিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে রাস্তা*য় আসেন মিন্নি। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কলেজের সামনের রাস্তায় নয়নের লোক*জন প্রস্তুত না থাকায় গোপন ফোন নম্বর দিয়ে নয়নের নম্বরে ফোন করে মিন্নি বলেন, তোমার পো*লাপান কই। এর কিছুক্ষণ পর নয়ন বন্ডের ছেলেরা হাজির হয়। নয়ন বন্ডের সাঙ্গপাঙ্গরা রিফাতকে জাপটে ধরে প্রথমে কি*ল-ঘু*ষি এবং একপর্যায়ে এলোপা*তাড়ি কো*পা*নো শুরু করে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হমায়ুন কবির বলেন, মিন্নি অনেকগুলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। এসব নম্বর ব্যবহার করে খু*নে*র আগে-পরে তিনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন। ওইসব সিমগুলোর কো*নটিই মিন্নির নিজের নামে ছিলো না।এমনকি, নয়ন বন্ডের দেওয়া মোটা অংকের টাকা মিন্নির একটি ব্যাংক হিসাবে রাখা আছে বলে প্র*মাণ পেয়েছে পুলিশ।

মিন্নির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা ! আদালতে জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য !

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, একটি গো*পন মোবাইল ফোন নম্বরে তিনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। ওই নম্বরে শুধু নয়নের সঙ্গেই কথা বলতেন তিনি।

মোবাইল নম্বরটি নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এমনকি রিফাত খু*ন হওয়ার পরও ওই নম্বরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হয়। পলাতক থাকা নয়নকে মিন্নি বলেন, ‘তুমি তো রিফাতরে কো*পাইয়া মাই*রা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁ*সির আসামি হইবা।’ হ*ত্যাকা*ণ্ডের আগে-পরে এসব কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ড ও কললিস্ট সিডি আকারে মাম*লার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর খাসকামরায় ১৯ জুলাই এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় বিচারক ও মিন্নি ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আড়াই পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে রিফাত খু*নের বিবরণ দেন মিন্নি। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র রবিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হমায়ুন কবির বলেন, মিন্নি অনেকগুলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। এসব নম্বর ব্যবহার করে তিনি খুনের আগে-পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সিমগুলো তার নিজের নামে ছিল না। তিনি জানান, নয়ন বন্ড মা*দক ব্যবসায়ী ছিলেন। মিন্নির একটি ব্যাংক হিসাবে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা রাখা আছে। ইতিমধ্যে এর প্রমাণও তারা পেয়েছেন।পুলিশ বলছে, মিন্নির জবানবন্দির প্রতিটি পর্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলার নথিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড, গোপন মোবাইল নম্বরের সিম, কল লিস্ট, ভিডিও ফুটেজ ও খুদেবার্তা বা এসএমএস।

তবে এই জবানবন্দি প্রত্যাখ্যান করেছে মিন্নির পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রবিবার রাতে বলেন, ‘আহা রে এই হল দুনিয়া। আমার মেয়েটারে মা*রধর করে জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ।

জেলখানায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমার কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলেছে, ‘বাবা পুলিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। স্বামীকে আমি কেন খু*ন করাতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টা পুলিশ লাইনে বসিয়ে রেখে আমার মেয়েকে প্রচুর মারধর করা হয়। যখন আদালতে তোলা হয় তখন আমার মেয়ে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিল না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ খু*ন হন। তিনি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সব স্বীকার করেছেন।’

জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, ৬ লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বল্ডের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এই বিয়ের বিষয়টি জানতেন। কিন্তু মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গো*পন রেখে পরে রিফাতকে বিয়ে করেন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন বন্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে তিনি নয়নদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। কারণ মিন্নির একটি ঘ*নিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও নয়নের কাছে ছিল।

এছাড়া জুনের ৩ তারিখে নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল ফোন সেট জোর করে নিয়ে যায় রিফাত শরীফ। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাতের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড মিন্নিকে বলেন,

‘রিফাতকে ফোন ফিরিয়ে দিতে বল। না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। হ*ত্যাকা*ণ্ডের দু’দিন আগে রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও।’ একথা শুনে রিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চেয়ে মিন্নিকে প্রচণ্ড মা*রধরও করে রিফাত। এতে মিন্নি ক্ষুব্ধ হন।

পরদিন নয়ন বন্ডের কাছে রিফাতের বিরু*দ্ধে অভিযোগ দেন মিন্নি। তিনি রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। এরপর নয়ন বন্ড তাকে শিখিয়ে দেন, কোথায় কিভাবে রিফাতকে নিয়ে হাজির থাকতে হবে। কথা অনুযায়ী মিন্নি ঘটনার দিন রিফাতকে কলেজে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। রিফাত এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন মিন্নি।

কিন্তু তখনও নয়নের লোকজন প্রস্তুত না হওয়ায় মিন্নি গো*পন ফোন নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডের নম্বরে ফোন করে বলেন, ‘তোমার পোলাপান কই।’ এরপর নয়ন বন্ডের ছেলেরা আসার কিছুক্ষণ পরই মিন্নি রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন। এ সময় নয়ন বন্ডের সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে কি*ল-ঘু*ষি দেয়ার পর এলোপাতাড়ি কো*পানো শুরু করে।

এদিকে মিন্নির মা মিলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলছি, শম্ভুর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে মিন্নিকে ফাঁসাতে চাইছে। মিন্নি একেবারেই নি*র্দোষ।’

বরগুনার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর থেকেই মিন্নি সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মিন্নি রিফাতকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এমন দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় জনমত মিন্নির পক্ষে চলে যায়। এজন্য নিরাপত্তার নামে তাকে মূলত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। তবে শেষমেশ পুলিশি জেরার মুখে তথ্যপ্রমাণ দেখেশুনে মিন্নি সব কিছু অকপটে স্বীকার করেন। এ সময় তাকে গ্রে*ফতার দেখানো হয়।

২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সিনেমা স্টাইলে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে নির্ম*মভাবে কু*পিয়ে খু*ন করা হয়।এ ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে। চাঞ্চল্যকর এ খু*নের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও মা*দক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ছিল। এ নিয়ে জনমনে নানা ধরনের অভিযোগও আছে।সূত্র: যুগান্তর

মিন্নির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা !

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, একটি গো*পন মোবাইল ফোন নম্বরে তিনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। ওই নম্বরে শুধু নয়নের সঙ্গেই কথা বলতেন তিনি।

মোবাইল নম্বরটি নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এমনকি রিফাত খু*ন হওয়ার পরও ওই নম্বরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হয়। পলাতক থাকা নয়নকে মিন্নি বলেন, ‘তুমি তো রিফাতরে কো*পাইয়া মাইরা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁ*সির আসামি হইবা।’ হ*ত্যাকা*ণ্ডের আগে-পরে এসব কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ড ও কললিস্ট সিডি আকারে মাম*লার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর খাসকামরায় ১৯ জুলাই এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় বিচারক ও মিন্নি ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আড়াই পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে রিফাত খু*নের বিবরণ দেন মিন্নি। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র রবিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হমায়ুন কবির বলেন, মিন্নি অনেকগুলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। এসব নম্বর ব্যবহার করে তিনি খুনের আগে-পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সিমগুলো তার নিজের নামে ছিল না। তিনি জানান, নয়ন বন্ড মা*দক ব্যবসায়ী ছিলেন। মিন্নির একটি ব্যাংক হিসাবে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা রাখা আছে। ইতিমধ্যে এর প্রমাণও তারা পেয়েছেন।পুলিশ বলছে, মিন্নির জবানবন্দির প্রতিটি পর্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলার নথিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড, গোপন মোবাইল নম্বরের সিম, কল লিস্ট, ভিডিও ফুটেজ ও খুদেবার্তা বা এসএমএস।

তবে এই জবানবন্দি প্রত্যাখ্যান করেছে মিন্নির পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রবিবার রাতে বলেন, ‘আহা রে এই হল দুনিয়া। আমার মেয়েটারে মারধর করে জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ।

জেলখানায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমার কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলেছে, ‘বাবা পুলিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। স্বামীকে আমি কেন খু*ন করাতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টা পুলিশ লাইনে বসিয়ে রেখে আমার মেয়েকে প্রচুর মারধর করা হয়। যখন আদালতে তোলা হয় তখন আমার মেয়ে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিল না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ খু*ন হন। তিনি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সব স্বীকার করেছেন।’

জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, ৬ লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বল্ডের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এই বিয়ের বিষয়টি জানতেন। কিন্তু মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গো*পন রেখে পরে রিফাতকে বিয়ে করেন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন বন্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে তিনি নয়নদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। কারণ মিন্নির একটি ঘ*নিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও নয়নের কাছে ছিল।

এছাড়া জুনের ৩ তারিখে নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল ফোন সেট জোর করে নিয়ে যায় রিফাত শরীফ। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাতের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড মিন্নিকে বলেন,

‘রিফাতকে ফোন ফিরিয়ে দিতে বল। না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। হ*ত্যাকা*ণ্ডের দু’দিন আগে রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও।’ একথা শুনে রিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চেয়ে মিন্নিকে প্রচণ্ড মারধরও করে রিফাত। এতে মিন্নি ক্ষুব্ধ হন।

পরদিন নয়ন বন্ডের কাছে রিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন মিন্নি। তিনি রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন। এরপর নয়ন বন্ড তাকে শিখিয়ে দেন, কোথায় কিভাবে রিফাতকে নিয়ে হাজির থাকতে হবে। কথা অনুযায়ী মিন্নি ঘটনার দিন রিফাতকে কলেজে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। রিফাত এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন মিন্নি।

কিন্তু তখনও নয়নের লোকজন প্রস্তুত না হওয়ায় মিন্নি গো*পন ফোন নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডের নম্বরে ফোন করে বলেন, ‘তোমার পোলাপান কই।’ এরপর নয়ন বন্ডের ছেলেরা আসার কিছুক্ষণ পরই মিন্নি রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন। এ সময় নয়ন বন্ডের সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে কি*ল-ঘু*ষি দেয়ার পর এলোপাতাড়ি কো*পানো শুরু করে।

এদিকে মিন্নির মা মিলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলছি, শম্ভুর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে মিন্নিকে ফাঁসাতে চাইছে। মিন্নি একেবারেই নি*র্দোষ।’

বরগুনার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর থেকেই মিন্নি সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মিন্নি রিফাতকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এমন দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় জনমত মিন্নির পক্ষে চলে যায়। এজন্য নিরাপত্তার নামে তাকে মূলত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। তবে শেষমেশ পুলিশি জেরার মুখে তথ্যপ্রমাণ দেখেশুনে মিন্নি সব কিছু অকপটে স্বীকার করেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সিনেমা স্টাইলে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে নির্ম*মভাবে কু*পিয়ে খু*ন করা হয়।এ ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে। চাঞ্চল্যকর এ খুনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও মা*দক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ছিল। এ নিয়ে জনমনে নানা ধরনের অভিযোগও আছে।সূত্র: যুগান্তর

অবশেষে সেই মাথা কা**টা শিশুর বাকি দে*হ উদ্ধার !

মাথা কা*টা শিশু সজীবের (৮) বাকি দে*হ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের তিনতলা থেকে শিশুটির বাকি দে*হ উ*দ্ধার করেছে পুলিশ।নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফখরুজ্জামান জুয়েল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নেত্রকোনা পৌর শহরের পাটপট্রি ব্রীজ সংলগ্ন কাটলী এলাকার কায়কোবাদ খানের নি*র্মা**ণাধীন তিনতলা ভবনের উপর থেকে র*ক্ত পড়তে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির বাকি দেহ উদ্ধার করে।পরে সজিবের বাবাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি এসে ছেলের মর**দেহ শনাক্ত করেন।তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে থেকে একটি ধারালো কা*টার (কাগজ কাটায় ব্যবহৃত হয়) উ*দ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এই কাটার দিয়েই তাকে গ*লা কে*টে হ*ত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় গটপিটুনীতে নি*হত যুবকটি পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রবিন (২৫)। নিহত শিশু সজিব ও রবিন একই এলাকার বাসিন্দা।শিশু সজিব নেত্রকোনা সদরের আমতলা গ্রামের রিকশা চালক রইছ উদ্দিনের ছেলে। রইছ উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকার হিরণ মিয়ার বাসায় ভাড়ায় থাকেন। আর রবিন নেত্রকোনা পৌর শহরের একলাছ মিয়ার ছেলে। পেশায় সে একজন রিক্সাচালক। সে মাদ*কা*সক্ত বলে জানা গেছে।

নি*হত শিশুটির বাড়ির মালিক হিরা মিয়া জানান, গণপিটুনিতে নিহ*ত রবিন আগে তার বাসায় ভাড়া থাকতো। মাদ*কাসক্ত ছিল বলে কয়েক মাস আগে তাকে বাসা থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে রইছ মিয়ার বাসায় আসা-যাওয়া করতো রবিন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম ও স্থানীয় লোকজন জানান, দুপুর ১টার দিকে শহরের কাটলি এলাকা দিয়ে রবিন হাতে ব্যাগ নিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন। এলাকায় তাকে নতুন মনে করে স্থানীয় লোকজন তাঁর নাম-পরিচয় জানতে চান। রবিন আমতা আমতা করতে থাকলে লোকজন জিজ্ঞাস করেন,

তাঁর ব্যাগের ভেতরে কী আছে? রবিন বলেন, তার ব্যাগের ভেতরে ভাঙারির জিনিস আছে। তাকে সন্দেহ হলে ওই ব্যাগটি দেখতে চায় স্থানীয়রা। কিন্তু তিনি ব্যাগটি না দেখাতে চাইলে স্থানীয়রা ব্যাগ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কা**টা মাথা ছিটকে পড়ে।এর পরই রবিনকে ধাওয়া দেয় লোকজন। একপর্যায়ে শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুর পাড়ে তাকে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই রবিনের মৃ**ত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজীবের কা*টা মাথা ও রবিনের লা*শ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

রিফাত হ*ত্যায় পরিক*ল্পিতভাবে মিন্নি অংশ নিয়েছে , জানালেন তদন্তকারী কর্মকর্তা !

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ*ত্যাকা*ণ্ডে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদ*ন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।

বুধবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য জানাতে গিয়ে গণ*মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘মূল হ*ত্যা*কারী নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিক*ল্পিতভাবে এই হ*ত্যা*কাণ্ড* সংগঠিত করে।হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনার আগের দিন মিন্নি নয়দেরর বাড়িতে গিয়ে এই হ*ত্যা*র পরিকল্পনা করে। এই হ*ত্যা*কা*ণ্ডের ৬ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই হ**ত্যা*য় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সংশ্লি*ষ্টতার কথা জানায়।

দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ফুটেজে মিন্নি রিফাত শরীফকে রক্ষার যে চেষ্টা করে সেখানে সে নয়নকে জা*পটে ধ*রলেও তাকে (মিন্নি) কোনো আ*ঘাত করেনি। এটা ছিল লোক দেখানো।

ঘটনার আগের দিন এবং ঘটনার পূর্বে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির মুঠোফোনের আলাপ-আলোচনা থেকে এই হ*ত্যাকা*ণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে।

স্বামীর হ*ত্যা*কাণ্ড নিজ চোখে দেখায় মামলায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিই ছিলেন ১ নম্বর সাক্ষী। যদিও রিফাত হ*ত্যায় জড়িত প্রতীয়মান হওয়ায় তাকে গতকাল রাতে গ্রে*প্তার করে বরগুনা পুলিশ। এর আগে তিনিসহ তার পরিবারকে হেফাজতে নেয় বরগুনা পুলিশ।

গ্রে*ফ*রের পর আজ মিন্নির পাঁচ দিনের রি**মান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বরগুনার বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আদেশ দেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ প্র*হরায় আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে মামলার ত*দন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির মিন্নিকে ৭ দিনের রি**মান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। পরে তার পাঁচ দিনের রি**মান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কু*পিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বেলা তিনটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃ*ত্যু হয়।

পরের দিন ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আ*সামি করে হ*ত্যা মা*মলা করেন।

এ মামলায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভি*যান চালিয়ে এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সাতজন (ছয়জন জীবিত) ও সন্দেহজনক সাতজন আসামিসহ মোট ১৪ জনকে গ্রে*প্তার করে। এজাহারভুক্ত গ্রে*ফতার চারজন এবং সন্দেহজনক ছয়জন আসামিসহ মোট ১০ জনকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রে*ফতার হওয়া এজাহারভুক্ত দুজন এবং সন্দেহজনক একজনসহ মোট তিন আঁসামিকে আদালতের অনুমতিক্রমে বিভিন্ন মেয়াদে রি*মান্ডে এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া এই মা*মলায় পলাতক আসামিদের গ্রে*ফতারে চেষ্টা করছে পুলিশ।

নারী জাতির অহংকার নুসরাত, কলঙ্ক মিন্নি !

দুজনই নারী। একজনের নাম নুসরাত জাহান রাফি। যৌ**ন হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই করে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃ*ত্যুব*রণ করেছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন নারী জাতির অহংকার। অপরজন আয়েশা সিদ্দিকী মিন্নি।সন্ত্রাসীর সঙ্গে অ**বৈধ সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হ*ত্যা*র অভিযোগ উঠেছে তার বি*রুদ্ধে। সর্বশেষ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। যদিও বিচার শেষ হওয়ার আগে অপরাধী বলা যাবে না তাকে।

তবে সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।তাছাড়া ঘটনার সঙ্গে মিন্নি জড়িত না থাকলে অথবা ঘটনা থেকে মিন্নিকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিলে এই হ*ত্যাকা*ণ্ডের অন্য কোনো কারণ প্রতিয়মান হয়নি এখনো। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচিত এই দুটি ঘটনা ১৭ কোটি মানুষের মনে দাগ ফেলে দিয়েছে।

রিফাত হ*ত্যা*র মাত্র দুই মাস আগে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফি নামের এক তরুণী। তার আগে ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে তুমুল ঝড় ওঠে। হ*ত্যাকা*রীদের বিচারের দাবিতে জগে ওঠে মানুষ। দেশজুরে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মানববন্ধনের প্রেক্ষিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রে*ফতার হন আওয়ামী লীগ নেতা, অধ্যক্ষ,

ওসিসহ হ*ত্যা*কাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা। যৌ*ন হয়রানির প্রতিবাদকারী নুসরাত হয়ে উঠেন মুসলিম নারীদের আদর্শ।অন্যদিকে সন্ত্রা*সীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টারত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি শুরুতে মানুষের মনে আদর্শ স্ত্রী হিসেবে স্থান করে নিলেও ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে তার ভিন্ন চেহারা। ফেসবুক স্ট্যাটাস, হ*ত্যাকা*রীর সঙ্গে জন্মদিন পালনের ভিডিও,হ*ত্যা*কাণ্ডে আগমুহুর্তে স্বামীর সঙ্গে না যাওয়া, নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ে, রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের বাসায় যাওয়া ইত্যাদির কারণে সন্দেহ দেখা দেয় মানুষের মনে।

সামজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন লাখো মানুষ। দাবি ওঠে মিন্নিকে গ্রেফতারের। গ্রে*ফতারের দাবিতে সোচ্চার হন মিন্নির শ্বশুর দুলাল শরীফও। যার প্রেক্ষিতেই বলা যায় গ্রে*ফতার করা হয় মিন্নিকে। এদিকে বুধবার আদালতে মিন্নি বলেন, স্যার আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, ঐ দিন যে এই ঘটনা ঘটবে তা আমি জানতাম না।বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মিন্নিকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান তার কোনো বক্তব্য আছে কিনা? মিন্নি এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্যার আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, ঐ দিন যে এই ঘটনা ঘটবে তা আমি জানতাম না।

সামাজিক মাধ্যমে মিন্নি সম্পর্কে এরকম হাজারো নেতিবাচক মন্তব্য আছে তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য শেষে মিন্নি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, বিভিন্ন সময় আসামিরা তাকে ফোনে বিরক্ত করতো ও ভয় ভীতি দেখাতো। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিতো।তিনি আরও বলেন, ‘আমি বা আমার পরিবার আসামিদের ভয়ে কোথাও মুখ খুলতে পারিনি। আমার স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যাকা*রীদের বিচার চাই। আমাকে ষড়য*ন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে বিচারক হ*ত্যাকা*রীর কল লিস্টে তার নম্বর কিভাবে এলো জানতে চাইলে মিন্নি নিরব থাকেন।

এখন দেখার পালা কী হয় বিচারে। দোষী হল নিঃসন্দেহে তিনি হবেন নারী জাতির কলঙ্ক। তবে এতে নারী সমাজের অপমানিত বা লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।কেননা যে সমাজে মিন্নিরা আছেন, নুসরাতরাও সেই সমাজেই বসবাস করেন। তাদের নিয়ে গর্বিত হওয়াই যায়।

স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কারণ-

এদিকে রিফাত হ*ত্যাকাণ্ডের ঘ*টনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘ*নিষ্ঠজনদের কাছ থেকে চা*ঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।ঘ*নিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কারণ সে নয়ন বন্ডের সঙ্গে স*ম্পর্ক রক্ষায় বা*ধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ জন্য রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শা*স্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সা*জানো হয়েছিলো ছক। সূত্র বলছে, ঘ*টনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কা*লক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়া যে হ*ত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সে*জন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাং*রা টেনে হে*চড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নি*র্লিপ্তভাবে হাটতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার দিনভর জি*জ্ঞাসাবাদের পর মিন্নিকে গ্রে*প্তার দেখায় বরগুনা জেলা পুলিশ। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংবাদ স*ম্মেলন করে এ কথা জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে নয়টার পর তার বাসা থেকে পুলিশ মিন্নিকে নিয়ে আসে। দিনভর জি*জ্ঞাসাবাদে রিফাত হ*ত্যায় তার জ*ড়িত থাকার প্র*মাণ পাওয়ার প*রিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রে*প্তার দেখানো হয়।

বরগুনায় প্র*কাশ্যে রিফাত শরীফ হ*ত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রে*প্তার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ৫ দিনের রিমান্ড ম*ঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান এ মামলার ত*দন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হুমায়ুন। পরে শু*নানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী। আদালতে আ*সামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির, জিয়া উদ্দিন ও মোস্তফা কাদের।

বহুল আলোচিত রিফাত শরিফ হ*ত্যা মামলায় মিন্নিকে নিয়ে কঠিন রায় দিল আদালত

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরিফ হ**’ত্যা মামলায় গ্রে**ফতার হওয়া তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ৫ দিনের রি***মান্ড দিয়েছে বরগুনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।আজ বুধবার বিকাল ৩টার পর মিন্নিকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ ৭ দিনের রি***মান্ড আবেদন করলে বিচারক তা ৫ দিন ম*ঞ্জুর করেন।

এদিকে, মিন্নিকে আদালতে তো*লার আগে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি খুবই অ*সুস্থ। যদি তাকে রি***মান্ডে নেওয়া হয়, তাহলে সে আরও অ*সুস্থ হয়ে পড়বে।’এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মিন্নির অ*সুস্থতার প্র*মাণ হিসেবে কাগজপত্রও দেখান।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার নয়াকাটা গ্রামের বাড়ি থেকে মিন্নিকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে তার বাবাকেও নিয়ে যায় পুলিশ।

হ***ত্যাকা***ণ্ডের ঘ*টনার সঙ্গে মিন্নির সং*শ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে এই মা**মলায় গ্রে**ফতার দেখানো হয়। সেইসঙ্গে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ, সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন পুলিশ সুপার !

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে পুলিশ লাইনসে নিয়ে আসা হয় তাকে।পরে, এ বিষয়ে দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এসপি।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন জানান, রিফাত হ*ত্যা মা*মলায় মিন্নিকে আ*টক বা গ্রে*ফতার করা হয়নি। মা*মলার এক নম্বর সাক্ষী সে। তাই তাকে আ*সামিদের শনাক্ত ও জিজ্ঞা*সাবাদের জন্য পুলিশ লাইনসে নিয়ে আসা হয়েছে।

তবে, মিন্নিকে কতক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।জানা গেছে, জবানবন্দি দেওয়ার জন্য মিন্নির পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে।বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হ*ত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী নিহ*তের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। খবর ইউএনবি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নির বাড়ি যেয়ে তাকে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার মারুফ হাসান জানান, হ*ত্যা মামলাটির অন্যতম সাক্ষী হিসেবে মিন্নিকে ডেকে নিয়ে সাক্ষ্য নেয়া হয়।সদর থানার ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির ও এসপি মারুফ হাসানসহ মাম*দন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফৌজ*দারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষী হিসেবে মিন্নির বক্তব্য নেন। পুলিশ এ সময় সন্দে*হজনক আসামিদের শনাক্ত করতে মিন্নির সহায়তা নেন।

এদিকে রিফাত হ*ত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত দাবি করে গত ১৪ জুলাই বরগুনায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে একটি মানব*বন্ধন করা হয়েছে।মানব*বন্ধনের পরপরই বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিন্নি দাবি করেন, মা*মলায় অভি*যুক্ত আসামিদের আড়াল করতেই তার বি*রুদ্ধে অ*পপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসময় তিনি অ*পপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টা*ন্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে সন্ত্রা*সীরা প্র*কাশ্যে কু*পিয়ে গু*রুতর আ*হত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা*রা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাতজনকে আসামি করে একটি হ*ত্যা মাম*লা করেন।রিফাত হ*ত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রে*ফতার করেছে পুলিশ। ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত ব*ন্দুকযু*দ্ধে নি*হত হন। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন*জনসহ সাত আ*সামি হ*ত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রি*মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞা*সাবাদ চলছে।

বি. দ্র : ফেসবুক নীতিমালার কারণে কিছু শব্দ ব্লক করে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা আন্তরিক দুঃখিত।

ইরানের সাথে যুদ্ধে**র ঘোষণা দিল ইসরায়েল

ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সমস্যার কারণে আগামী ২ বছরের মধ্যে দুই দেশের যু*দ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের আঞ্চলিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী জাচি হানেজবি। এই জন্য ইসরায়েল প্রস্তু*ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের মন্ত্রীসভার এই সদস্য বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যু*দ্ধ* হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এটি হবে কি-না সময় বলে দিবে। ইরানের বিষয়টি এখন যু*দ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। এটি এড়ানো অস*ম্ভব। এই যু*দ্ধ হবে ভ*য়ানক।

সিরিয়া ইস্যুতে তিনি বলেন, সিরিয়ায় ইরানের বিপ্ল*বী গার্ড বাহিনীর অধীনে ১০ হাজার যো*দ্ধা লড়াই করছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি লেবাননের লড়াইরত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক লাখ ৬০ হাজার রকেট সেখানে মজুত করেছে। যু*দ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইসরাইল যু*দ্ধ না করেও তার খেসা*রত আর দিতে পারবে না,

এর অর্থ হচ্ছে সিরিয়ায় ইরানকে তাদের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়ার জন্য একটি সবুজ বার্তা দেয়া। আমরা তাদের অবস্থান ক্ষতি*গ্রস্ত করব; নতুবা আমাদের সীমান্তের কাছে একটি সন্ত্রা*8সী রাজ্য গড়ে উঠবে।

হানেজবি বলেন, আমরা তাদের ওপর আঘাত হানব এবং তারা জবাব দিলেও আমাদের ক্ষ*8য়ক্ষতি করতে পারবে না। ইরানিরা ইরাক অথবা লেবানন থেকে রকেট ছুড়তে সক্ষম; নিজ দেশ থেকেও। কিন্তু আমরা তাদের সব সঙ্ঘাত শেষ করে দেব বিজয়ের মাধ্যমে।

সব ধরনের হুম8*কি থেকে কী ভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয় সেটি আমরা জানি। আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আছে, যেটি তাদের নেই।