বন্যায় ভেসে আসলো ৩ বছরের শিশুর নিথর দেহ !

এ যেন এক ম**র্মা**ন্তিক দৃশ্য। হাত-পা ছড়িয়ে নদীর তীরে পড়ে রয়েছে সে। ঠিক দেখে মনে হচ্ছে খেলতে খেলতেই যেন পাড়ি দিয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন সেই ঘুমের দেশে। ভারতের বিহারে বন্যার শিকার ৩ বছরের অর্জুনের ভেসে আসা সেই নিথর দেহ দেখে বুক ফাটছে দেশবাসীর।

গত বুধবার মির্জাপুর জেলার শীতলপট্টি এলাকার এক মা তার চার সন্তানকে নিয়ে বাগমতী নদী এসেছিলেন। বাসন মাজা, কাপড় কাচা, স্নান করা ইত্যাদি ঘরের কাজ সারছিলেন রানি দেবী নামের ওই নারী।সে সময় প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় অর্জুন। অর্জুনকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন রানি। তিন সন্তান নিয়ে ঝাঁপ দেন নদীতে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষ তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। কোনওমতে রানি দেবী ও তার এক মেয়ে রাধাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অর্জুন, রাজা ও জ্যোতি ভেসে যায় নদীতে। এরপর বৃহস্পতিবার অর্জুনের ম**রদে’হ দেহ ভেসে আসে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় সমগ্র বিহারে ৬৭ জনের মৃ**ত্যু হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখের ও বেশি মানুষ।কিছুদিন আগেই জলে ভেসে উঠেছিল বাবা ও মেয়ের নিথর দেহ। শেষ সময়েও বাবার টি-শার্টের মধ্যে মুখ গুঁজে ছিল ঠোট্ট মেয়েটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তের রিও গ্রান্ডে নদীতে ভেসে ওঠা ওই ছবি গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

আর কয়েক বছর আগে সিরিয়ায় সমুদ্রের বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা আয়লান কুর্দির ছবি তো সিরিয়ার উদ্বাস্তু সমস্যার এক প্রতীক হয়ে গিয়েছিলো। যেটি সমগ্র বিশ্ববাসীকে নড়া দিয়েছিলো। জানিয়ে দিয়েছিলো মানবতাহীন এক পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা।

৪৪ বছর রোজা রাখা সেই ‘মা’ চলে গেলো না ফেরার দেশে !

ছেলেকে ফিরে পেয়ে ৪৪ বছর রোজা রাখা সেই মা সখিরন নেছা ওরফে ভেজা মা*রা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সোমবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুরে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যা*গ করেন তিনি।

মৃ*ত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি ৩ ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃ*ত্যুর আগ পর্যন্ত রোজা ছিলেন তিনি।
সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সখিরন নেছা ওরফে ভেজা প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখেছেন। বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যাওয়ার পর খোঁজাখুজির প্রায় দেড় মাস পর তিনি নিয়ত করেন ছেলেকে ফিরে পেলে যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিনই রোজ রাখবেন। সেই থেকে মৃ*ত্যু পর্যন্ত তিনি রোজা রাখেন।

সখিরন নেছার ছেলে শহদিুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক মাই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। তবে আমার মা আমার জন্য সারাজীবন রোজা রাখবেন বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে পালন করছেন পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি আমার মাই শ্রেষ্ঠ।

বৃদ্ধার কান্না: বাবা-মার সঙ্গে আচরণের বদলা পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে

এখন শেষ বয়সে আমি সন্তানদের কাছ থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই পুরোপুরি দায়ী। কারণ অতীতে আমি আমার বাবা-মার সঙ্গে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা হাড়ে হাড়ে পাচ্ছি।

জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করে ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে এসব কথাই বলছিলেন ভারতের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা।ওই বৃদ্ধা বললেন, কথাগুলো কোনোদিন কারো কাছে বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা আর সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।বৃদ্ধা বলেন, সবই আমার কপাল। আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন, তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম।

তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ্বালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে।বৃদ্ধার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি অতীতের কথা বলতে শুরু করেন। বলেন, ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কৃষক পরিবার হওয়ায় সংসারে অর্থকষ্ট লেগেই থাকত। ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।

প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন। বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আমি বিতাড়িত।অভিযোগের সুরে বৃদ্ধা বলেন, সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যেদিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি।

তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিও না। কিন্তু তারা শুনল না।চোখ মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বললেন, আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এখন বুঝতে পারছি, এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।

হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৪ জন

মুসলমানদের আচার-ব্যবহার, ধর্মীয় রীতি-নীতি, চাল-চলন, ধর্মীয় কালচারে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন চার সদস্যের এক পরিবার।

স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে মুসলমান হন শ্রী কৃষ্ণ বাবু (২৯)। বর্তমানে তার নাম বিলাল হোসেন মণ্ডল।তিনি জামালপুর শহরের কাচারী পাড়া এলাকার শ্রী মন্টু ঋষীর ছেলে। বিলাল হোসেনের স্ত্রী পূর্নি ঋষির (২৬) বর্তমান নাম মোছাঃ মরিয়ম, বড় ছেলে শ্রী সুখ নাথ ঋষির (৮) বর্তমান নাম হাসান এবং ছোট ছেলে শ্রী দুখ নাথ ঋষির (৬) বর্তমান নাম হুসাইন।

এ বিষয়টি আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লীদের জানিয়েছেন, জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। জুমার নামাজ শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ এ.কে.এম জহুরুল ইসলাম মনসুর, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক,মিজানুর রহমানসহ মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যবৃন্দ ও মুসল্লি। এ সময় সদ্য মুসলিম হওয়া এ পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সদ্য মুসলিম দুই শিশুকে আলহাজ নূর মোহাম্মদ ক্বওমী মাদ্রাসায় বিনামূল্যে পড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার মোহতামিম কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম।এদিকে গত ১৩ জুন জামালপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা-এর মাধ্যমে সনাতন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ওই পরিবারের চারজন সদস্য। যার রেজিঃ নং- ৫৮০। এরপর আবার জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম তাদের কালিমা পড়ান।

সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল বলেন, আমি বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে যেতাম এবং মোবাইলে ওয়াজ শুনতাম।বাড়িতে গিয়ে ওইসব বিষয় আমার স্ত্রীকে বলতাম। এরপর থেকে আমাদের কাছে ইসলাম ধর্ম ভালো লাগতে শুরু করে।এক পর্যায়ে আমি ও আমার স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।পরে মুসলমান হওয়ার বিষয়ে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন কাচারী পাড়া এলাকার মোঃ আল আমিন হীরা।

২৫ বছর ধরে কবর খুঁড়ে যাচ্ছেন কামাল !

নীরব এক গভীর রাতে খবর এলো ঢাকা থেকে একটি লাশ আসছে যা ভোরেই কবরস্থ করা হবে। আর সেই গভীর রাতেই একা কামাল কবর খুঁড়ছেন। হঠাৎ সূফী আল্লাহওয়ালা এক হুজুর তার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মিলিয়ে গেলেন। রাত তখন প্রায় ২টা। কামাল বললেন, এদের দেখা মিললেই দোয়া দরূদ পড়তে হয়। তারা কোন ক্ষতি করেন না। দেখা দিয়েই চলে যান।

আরেকবার রাতে কবর খোড়ার জন্য তিনি ঝুড়ি কোদাল নিয়ে বেরিয়েছেন। এক পা ফেলতেই দেখলেন বিশাল এক সাপ লম্বা-লম্বি ভাবে আপন মনে শুয়ে আছে। কামাল দোয়া দরূদ পড়লেন। সাপটি নিমিষেই মিলিয়ে গেলো।অন্য আরেকদিন একটি লাশ কবরস্থ করার পর যখন সবাই চয়ে গেলো। তখন কামালের চোখে পড়লো সরু রাস্তাটির উপরে একটি তরতাজা কংকাল শুয়ে আছে। সাহসী যুবক কংকালটি স্পর্শ করা মাত্রই এক মুঠো ছাই হয়ে গেলো…

এছাড়া প্রায়শই স্বপ্নে নানা আজব ঘটনা দেখে থাকেন কামাল। একদিন কামাল স্বপ্নে দেখলেন একটি ট্রেনে কথা বলতে পারা কাটা শরীরের উপরিভাগ একটি লাশ তিনি দাফন করছেন, লাশটি তাকে কবরস্থ না করার জন্য চিৎকার করে অনুরোধ জানাচ্ছে, তৎক্ষনাত ঘুম ভেঙ্গে গেলো কামালের।এরকম অসংখ্য ঘটনা প্রতিটি কবরস্থানে প্রায় প্রতিদিন প্রতিরাতেই ঘটে যাচ্ছে কিন্তু সহসাই যা আমাদের চোখে পড়ে না। এমন অনেক চাক্ষুস বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখেছেন কামাল যা সহজে তিনি বলতে চাননি। তবে অনেক পীড়াপীড়িতে বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধির কাছে এই কয়েকটি ঘটনা বলছিলেন কামাল।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আওতাভূক্ত কালীবাড়ী কবরস্থানের কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ৩৮ বছর বয়সী কামাল হোসেন। পিতা মরহুম ফজর আলীও আমৃত্যু এই কাজটি করে গেছেন। এক রকম পৈত্রিক সূত্রে কামাল হোসেন দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করে যাচ্ছেন।
কখনও ভয়, কখনও উৎকণ্ঠা, কখনও একটি ভাল কাজ করার প্রণোদনা। সবসময়ই এই কাজ করতে গিয়ে তাকে ঘিরে রাখে। প্রথমদিকে পরিবার থেকেও তাকে নিষেধ করা হতো। কিন্তু কোথায় জানি একটা আধ্যাত্মিক চেতনা সম্মোহিত করে তাকে।

তাই কালীবাড়ী গোরস্থানে কর্মরত কামাল হোসেন নিস্তব্ধ অমাবশ্যা অথবা পূর্ণিমার গভীর রাত; ছনমনে দুপুর যখনই ডাক আসতো তিনি জায়গা বেছে কবর খোঁড়ার কাজে লেগে যেতেন। এ সময় ভয় ভয় লাগতো কিন্তু একটা অলৌকিক সাধনায় নিমগ্ন থাকতেন কামাল।তখন তার মনে হতো ভয় বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। এছাড়া কামাল মনে করেন ও তার ভাবনায় আসে তিনি একটি সর্বোত্তম ফরজ কাজ আদায় করছেন যা মৃত্যু পরবর্তী মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাক তাকে পুরস্কৃত করবেন।

এ ব্যাপারে একাধিক মুফ্তি এবং আলেমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন মূর্দ্দাকে যদি, সহিভাবে কবরে শায়িত করা হয় তবে সেই কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা আল্লাহ পাক্ নিশ্চিত করেছেন। কবর খোঁড়ার কাজ যতক্ষণ চলতে থাকে এবং কবরে শায়িত করে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহ পাকের তরফ থেকে অসংখ্য ফেরেশতা সেই কবরটি ঘিরে রাখেন যা মানবকূল দেখতে পান না।কামাল জানায়, মাত্র ৯০০ টাকা সম্মানী ভাতার মাধ্যমে তিনি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে মাসিক সম্মানী ভাতা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১০০ টাকা। স্ত্রী ও চার ছেলে মেয়েসহ কালীবাড়ী বাস্তুহারা সমিতির একটি ঘরে কোন মতে সংসার চলে তার।

আগে ছেলে-মেয়েরা নগরীর সুনামধন্য মুকুল নিকেতনে পড়াশুনা করতো কিন্তু অর্থাভাব আর টানা পোড়েনে সেখান থেকে ছাড়িয়ে অন্যত্র লেখাপড়া করছে সন্তানেরা।প্রথমে এই কাজে আসতে প্রচন্ড বাধার সম্মুখিন হয়েছিলেন কামাল। কিন্তু জীবন সংগ্রামে উপায়ন্তর না দেখে ভয়ে ভয়েই কাজটি শুরু করেন তিনি। এখন আর ভয় লাগে না তবে সিটি করপোরেশন ভূক্ত কর্মচারী হিসেবে কামাল জানান, এই স্বল্প বেতনে সংসার চলে না, তিনি বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কামাল আরও জানান, এই জীবনে অন্তত ৪ হাজার লাশের কবর খুঁড়েছেন তিনি। শুকনো দিনে একটি কবর খুঁড়তে প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লেগে যায়। আর বর্ষার দিনে আরও বেশি সময় লাগে।কামালের মতে, তিনি ভয় পান ট্রেনে কাটা লাশ মৃতদেহ দেখে কারণ। লাশগুলো একেবারেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তবে কামাল সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলেন বছর দশেক আগে গলগন্ডায় ট্রেনে আত্মহত্যার ৯ লাশের কবর খুঁড়তে গিয়ে। এ সময় তিনি এতোটাই বিমর্ষ হয়েছিলেন যে কবর খোঁড়ার কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।

তবুও মৃত্যুর পর হয়তো একটি পুরস্কারের প্রাপ্তির আশায় কামাল হোসেন আজও কবর খোঁড়ার কাজ করে যাচ্ছেন। যা অন্য কারোর মাধ্যমে এই কাজ করা সম্ভব নয়।ময়মনসিংহ শহর এবং শহরতলীতে অনেক কবরস্থান রয়েছে বলে জানা গেলেও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের স্যানেটারী ইন্সপেক্টর দীপক মজুমদার জানান, দশটি কবরস্থান করপোরেশনের অধীনে রয়েছে। এগুলো তত্ত্ববধান করা হয়। তিনি জানান, বেতন ভাতাদি যদিও এগুলো বর্তমানে সম্মানী ভাতা হিসেবে দেয়া হচ্ছে তবে মূল বেতনে প্রবেশের ব্যবস্থাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, দশটি গোরস্থানের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সিটি করপোরেশন করে থাকে। তবে কালীবাড়ী গোরস্থানের কামাল হোসেন জানান, প্রায় প্রতিদিনই তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন কবর পরিস্কার করে যান যা সওয়াবের বশবর্তী হয়েই তিনি করে থাকেন।

ময়মনসিংহ সিটি বাসীর প্রত্যাশা ময়মনসিংহ শহরের সকল গোরস্থানই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং আলোকিত থাকুক। এবং কামাল হোসেনের মত ধ্যানী ও প্রচন্ড ধার্মিক ব্যাক্তিরা কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত থেকে কবরস্থানগুলোকে আলোকিত করে রাখুক।

ক্যানসারে আক্রান্ত প্রেমিকের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও একদিন আগে বিয়ে !

মারা যাওয়ার একদিন আগে ক্যানসারযুক্ত ব্রেন টিউমার আক্রান্ত প্রেমিককে বিয়ে করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার এক তরুণী।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানায়, নাভার হারবার্ট কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট দলের রাগবি খেলোয়াড়।

২২ বছর বয়সী এ তরুণ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। হারবার্টের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল মাইয়া ফ্যালওয়াসার নামের এক তরুণীর। প্রেমিকের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও হারবার্টকে বিয়ে করেন তিনি।গোল্ড কোস্টে আবেগঘন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন দুইজনের পরিবার, স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবেরা। পরদিন গত মঙ্গলবার রাতে মারা যান হারবার্ট।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হুইল চেয়ারে চরে বরের বেশে হাজির হন হারবার্ট। ফুল হাতে সাদা গাউনে কনে মাইয়া। জাঁকজমক এক অনুষ্ঠানে পরস্পরকে বরণ করে নেন এ নবদম্পতি। বিয়েতে আয়োজন করা হয় নাচ-গান, পানীয় ও খাবারের।মৃত্যুর একদিন আগে বিয়ে করলেও দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকছিলেন তারা। তাদের ১১ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তানও আছে।মাইয়া বলেন, “আমি আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারালাম। আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমার ছেলে হারিয়েছে তার বাবাকে। আজকে আমার শোকের দিন।

বিয়েতে উপস্থিত হওয়ায় অতিথিদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছি। এমন কঠিন মুহূর্তে তারা আমার পাশে ছিলেন, আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।”

আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও এক টাকা হারাম খেতে চাই না: এসপি ফরিদ উদ্দীন

সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে সম্প্রতি যোগদান করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন।

সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি জীবনের শুরু থেকেই গরীব ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছেন।নিজ কর্ম এলাকায় তিনি একজন পরোপকারী এবং সৎ-মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত।ফরিদ উদ্দীন সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, “বেঁচে থাকার জন্য টাকা দরকার আছে এটা ঠিক তবে আমার এক টাকাও হারাম কিংবা অবৈধ টাকার দরকার নেই।
আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও যেন এক টাকা হারাম খেতে না হয় আল্লাহর কাছে এটাই আমার চাওয়া।’

আপনাদের সাহায্য প্রাণে বাঁচতে পারে বাবা-মা হারা এতিম কোহিনুর !

শরীরের বিষ ব্যাথায় কানতে কানতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, পচনের স্থানে পোকা ধরে গেছে, পোকার কামড় আর সহ্য করতে পারছি না। এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার পেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

শরীরের অসহ্য যন্ত্রনা সইতে না পেরে এই কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম নামে এক কিশোরী।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রতনপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেনর মেয়ে কোহিনুর বেগমের, গত ৪ বছর আগে হঠাৎ করে মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পিঠে অপারেশন করে তিনটি রড স্থাপন করা হয়।

সেই থেকে শরীরে রডের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোহিনুর। অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ে সেই রড খুলতে না পারায় চামরা ছিড়ে রডগুলো বেরিয়ে গিয়ে ওই স্থানে পচন ধরে পোকা হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঔষধ কিনে খাওয়ার টাকা না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রচন্ড যন্ত্রনা তাকে ভোগ করতে হচ্ছে।কোহিনুরে বাবা-মা-কেউ বেঁচে নেই, ৫ বছরের একমাত্র একটি ছোট ভাই নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন।

দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে ছোট ভাইকে রসুল্লাবাদ হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াচ্ছেন।নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে ও সমাজের সকল শ্রেণীর মানূষের কাছে সহযোগিতা চেয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, আমি এই জগতে এতিম, আমার মা বাবা কেউ নেই, আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবো।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সায়েমুল হুদা বলেন, কোহিনুরের দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে রডগুলো বের করে সুচিকিৎসা না দেয়া হলে তার জীবনের মৃত্যুর হুমকি রয়েছে এবং এই চিকিৎসাটি ব্যয়বহুল হবে। কোহিনুর বেগমকে আর্থিক সহায়তা করতে ইচ্ছুকরা যোগাযোগ করতে পারেন। বিকাশ নম্বর : ০১৮৪৬৯৮৭২৮১ (ব্যক্তিগত)।

মায়ের কারণেই আজ আমি ডিআইজি হয়েছি: মনিরুল ইসলাম !

মায়ের নিরলস চেষ্টায়- গ্রামের কর্দমাক্ত মেঠোপথ। আষাঢ়ের টিপ টিপ বৃষ্টি। লোকজনের চলাফেরা খুব একটা নাই। একহাতে ছাতা অন্য হাতে ৫/৬ বছরের একটা জীর্ন-শীর্ন ছেলেকে টেনে নিয়ে পথ চলছেন ঘোমটা পড়া এক নারী। সময় এবং হাতে বই দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অনিচ্ছুক ছেলেকে স্কুলে নিতে চেষ্টা চলছে। স্কুলের কাছাকাছি গিয়ে মা আর যেতে পারছেন না।

কাকুতি মিনতি করে বুঝিয়ে ছেলেকে স্কুলের দিকে ঠেলে পাঠিয়ে করুন চোখে তাকিয়ে আছেন মা। ছেলে দৃষ্টির অন্তরালে চলে গেলে ধীরে ধীরে পুরনো পথে হাঁটছেন হতাশাক্লিষ্ট মা। তবে কি গণকের কথাই ঠিক-‘এই ছেলের হাতের রেখা বলছে কপালে বিদ্যা নাই।’আশেপাশের কয়েক গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ের বাংলা এবং আরবী শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছে তাঁর হাতে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস একমাত্র ছেলে নিরক্ষর থাকবে। সামান্য পথও আর শেষ হতে চায় না।

বারবার আঁচল দু’চোখ স্পর্শ করছে। একটু পরে মায়ের দু’চোখে শ্রাবণের বৃষ্টি ঝরে। বাড়ীর অদূরে বই হাতে ফিরে এসেছে ছেলে, স্কুলে যায় নি।
এভাবেই আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র পেরিয়ে আবারও আষাঢ় আসে। মা-ছেলের দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন নাই। রাতে বিছানায় কিচ্ছা বলে বলে মা ছেলেকে বোঝায়। সকালে ছেলে সব ভুলে যায়। মা হাল ছাড়েন না। নাছোড়বান্দা মায়ের নিরলস চেষ্টায় ধীরে ধীরে ছেলে স্কুলমুখী হয়। ছেলেটি পড়াশুনায় কিছুটা মনোযোগী হয়।

মা আবারও হতাশ হন যখন বার্ষিক পরীক্ষায় ছেলেটি অংকে মাত্র ০৭ পায়। মা ছেলেকে অংক শেখাতে থাকেন। ধীরে ধীরে ছেলে অন্যান্য বিষয়ের মত অংকেও পাকা হয়ে যায়। শিক্ষকেরা বলতে শুরু করেন ছেলেটা অনেক মেধাবী। মায়ের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।এক সময় ছেলেটা ক্লাসে ফার্স্ট হতে শুরু করে। ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা দেয়। দু’দশ গ্রামে পঞ্চাশ বছরে কেউ বৃত্তি পায় নাই। ছেলেটা প্রাথমিক বৃত্তি পায়। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মায়ের চোখ বার বার ভিজে যায়-আনন্দে।

স্কুলে বেতন দিতে হয় না, উল্টো ছেলে সরকারী টাকা পায়। টানাটানির সংসারে এর চেয়ে সুখের আর কি থাকতে পারে।জুনিয়র বৃত্তি পাবে জানাই ছিল। পরীক্ষার হলে ইনভিজিলেটর খাতা পড়েই বলে দেয়, ছেলেটা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে। সবার অনুমান মায়ের আশা-তাতো আর মিথ্য হতে পারে না। মা কিছুতেই নয়নের মনি একমাত্র ছেলেকে দূরে যেতে দেবেন না। স্থানীয় কলেজ থেকে পাশ করে ছেলে গ্রামের স্কুলের মাষ্টার হয়ে মায়ের চোখের সামনে থাকবে। ছেলে বেঁকে বসে, ঢাকা কলেজে পড়বে।মা কিছুতেই রাজী না। স্বল্প শিক্ষিত বাবা অবশ্য ছেলের পক্ষ নেন। ছেলে এসএসসি পাশ করে।

এবার সত্যিই কলেজে ভর্তির পালা আসে। বাবা-ছেলে মিলে মাকে বোঝায়। সহজ সরল বাবা ভিতরে ভিতরে অনেকটাই নার্ভাস। ঢাকায় অনেক খরচ, কি করে চালাবেন। নিজের জীবনের চেয়েও আদরের ছেলে। ছেলের খুশিই তো মায়ের খুশী। মা রাজী হন। বাবা-মা সংসারের আর্থিক টানাপোড়ন নিয়ে আড়ালে আবডালে আলোচনা করেন। মেয়েদেরও লেখাপড়া করাচ্ছেন।গ্রামের কেউ কেউ মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ করার পরামর্শ ও দেয়। মা-বাবা সাড়া দেন না। ছেলেটি ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে যায়। প্রতি সপ্তাহে চিঠি লেখেন মা। প্রতিমাসেই ছেলে বাড়ি আসে। কলেজে ছেলের বেতন লাগে না। তবে থাকা-খাওয়ার খরচ তো আছে।

কখনো ধান-পাট, কখনো বা সুদে ধার করে ছেলের খরচ দেন। কোন কোন সময় জমি বন্ধক রেখেও টাকা দিতে হয়। ছেলে কলেজ শেষ করে। রেজাল্ট দেখে সবাই বোঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স হবে। বাড়িতে গেলে ছেলে মাকে বোঝায় ইংরেজির প্রফেসর হবে। ইংরেজিতে ভর্তিও হয়ে যায়।
ইতোমধ্যে বড় মেয়ে পাশ করে স্কুলে মাস্টারি নিয়েছে। স্বামীর ঘর করলেও সংসারে কমবেশি সাহায্য করে। ছেলে হলে থাকে, মাঝে মাঝে টিউশনি করে।

বাসায় বাসায় কলিং বেল টিপে পরের ছেলে মেয়ে পড়াতে কার ভাল লাগে, তবুও করতে হয়। মাঝে মাঝে টিউশনি ছেড়ে দেয়, মাকে চিঠি লেখে। এর ওর হাত দিয়ে বাড়ি থেকে টাকা আসে। সাথে মাত্রা টেনে টেনে গোটা হাতে লেখা মায়ের চিঠি ‘টাকার চিন্তা করিও না, ভিটে বাড়ি বিক্রি করে হলে ও তোমাকে পড়াব’। ছেলে আবার টিউশনি খুঁজে নেয়।গুলশান-বনানীতে ধনী লোকের বাড়িতে পড়াতে গিয়ে ভাবে তাঁর নিজে ছেলে মেয়েরাও কি এসব বাড়িতে টিউশনি করবে। সরকার পতনের দাবীতে হরতাল অবরোধ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে, হল ভ্যাকান্ট হয়, সেশন জট, অনার্স পাশ হয় না।বন্ধক কিংবা বিক্রি করতে করতে চাষের জমি কমে এসেছে। তবুও নিয়মিত বাড়ী থেকে টাকা আসে। পাশের রুমের সিনিয়র ভাই বিসিএস দিয়ে পুলিশের এএসপি পদে নির্বাচিত হয়েছে। হলের সিনিয়র-জুনিয়র সকলেই সালাম দেয়,

সামনে কিংবা আড়ালে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। এএসপির এতো সন্মান, ছেলেটা মনে মনে সংকল্প করে সেও এএসপি হবে।
ঘোড়ার আগে গাড়ি কেনার মতই গোপনে গোপনে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। পরীক্ষার সার্কুলার হয়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতাও ইতোমধ্যে হয়ে গিয়েছে। ফার্স্ট চয়েজ পুলিশ দিতে চায়। চৌদ্দ গোষ্ঠির মধ্যে কেউ পুলিশের চাকরিতে নাই। পুলিশে ঢুকলে গালিগালাজের ট্রেনিং করতে হয়, মানুষ নষ্ট হয়ে যায়।একমাত্র ছেলের এমন ভবিষ্যত মা কিছুতেই মেনে নেবেন না। ছেলের গো সে এএসপি হবে, এবারও সেই সহজ সরল বাবা এগিয়ে আসেন। একটির পর একটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত ফল বের হয়। পিএসসি’র টাঙানো নোটিস বোর্ডে প্রেমিকাসহ ছেলেটি নিজের রোল নম্বর খুঁজতে থাকে। পুলিশ ক্যাডারেই খোঁজে।

নিচের দিক থেকে খুঁজতে খুঁজতে না পেয়ে হতাশা বাড়তে থাকে। এতো হতেই পারে না, পরীক্ষা অনেক ভালো দিয়েছে। উপরের দিকে প্রথম রোলটা দেখে নার্ভাস হয়ে যায়, ভুল দেখছে না তো! প্রেমিকাকে দেখতে বলে, নিজেও পকেট থেকে এ্যাডমিট কার্ড বের করে। না, সত্যিই রোল নম্বর মিলে যাচ্ছে!ছেলেটা প্রথম হয়েছে! পরের দিন বাড়িতে ফিরে যায়, অনেকক্ষন মায়ের পাশে বসে থাকে। স্বপ্নের চাকুরীতে জয়েন করে। দিন, মাস, বছর গড়ায়। ধাপে ধাপে ছেলেরও পদ বাড়ে।

সেই ছেলে পুলিশ বিভাগের উচ্চ পদে। এত গুলো বছর গড়িয়েছে, বদলে গেছে অনেক কিছুই। বাবা গত হয়েছেন, মায়েরও বয়স বেড়েছে, নানান রকম রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে। বদলাননি মা, কাজের চাপে বাসায় ফিরতে দেরি হলে মা ঘুমান না, ফোন করে তাড়া দেন। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় মা বলেন, ‘সাবধানে যা, সাথে লোক আছে তো।’ হরতাল হলে মা বলেন, ‘এই গোলমালের মধ্যে অফিসে যাওয়ার দরকার কি।’ ছেলে হাসে, মাকে বোঝায়, গোলমালে পুলিশের দায়িত্ব বাড়ে। টিভি খুললেই ছেলেকে দেখা যায়, মা ফোন করেন, ‘তোর মুখটা এতো শুকনা কেন?’ খাবার টেবিলে মা বলেন, ‘এতো কম খাইলি?’

মায়ের সামনে পড়লেই মা বলেন, দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিস, তোর কোন অসুখ-বিসুখ হয় নাই তো? মাঝে মাঝে নাতি-নাতনিদের ছেলের ছোটবেলার গল্প শোনান। কাছে না থাকলে অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন ফোন করেন, ছেলের শরীরের খবর নেন।মায়ের অবস্থা দেখে মনে হয়, তাঁর সেই ছোট্ট ছেলেটি এখনো সেইটুকু রয়ে গেছে। পৃথিবীর সবকিছু বদলায়, বদলায় না শুধু সন্তানের প্রতি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসা।
এই মমতাময়ী মা আমার মা, আমার গরবিনী মা, পৃথিবীর সকল মায়েরই প্রতিচ্ছবি একই রকম।

লেখক: মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট প্রধান, অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

কন্যাসন্তান দুনিয়ায় আসে তিনটি পুরস্কার নিয়ে !

পবিত্র কোরআনে কন্যাসন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলা হয়েছে। তাছাড়া কন্যাসন্তান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার। মা-বাবার জন্য জান্নাতের দাওয়াত নামা নিয়ে দুনিয়ায় আসে এই কন্যাসন্তানরা। জাহেলি যুগের সেই বর্বর চিন্তার মানুষের সমালোচনা করা হয়েছে, যারা কন্যাসন্তানের খবর সুসংবাদ হিসেবে পেলে মন খারাপ করত।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনোস্তাপে ক্লিষ্ট হয়।তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে; সে চিন্তা করে যে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। লক্ষ করো, সে কত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল।’(সুরা: নাহল, আয়াত: ৫৮-৫৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তান লালন-পালনকারীর জন্য তিনটি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন—এক. জাহান্নাম থেকে মুক্তি, দুই. জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা এবং তিন. জান্নাতে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য।তাই মহান আল্লাহ কাউকে কন্যাসন্তান উপহার দিলে সন্তুষ্ট চিত্তে তাদের লালন-পালন করা আবশ্যক। কেননা তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে,

সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় (প্রতিবন্ধক) হবে। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৩)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তানের লালন-পালনের বিষয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে, তাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করেনি, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯১২)উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে কন্যাসন্তানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। উপহারের ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। উত্তমরূপে কন্যাসন্তান লালন-পালনের মাধ্যমে জান্নাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর সান্নিধ্য পাওয়া যায়।

হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুজন কন্যাসন্তানকে লালন-পালন ও দেখাশোনা করল (বিয়ের সময় হলে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দিল) সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ একসঙ্গে প্রবেশ করব,

যেরূপ এই দুটি আঙুল (এ কথা বলার সময় তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৪)