একই দিনে জন্ম নেওয়া ৪ বোনের একই দিনে বিয়ে !

দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের চার বোন একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, একই ছাদের নীচে তাদের জীবন কাটিয়ে চলছেন তারা – তারা একই খাবার খান এবং একই ধরণের পোশাক পরেন – এমনকি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্কুলে একই সারিতে বসতেন। এখন চারজন বোন একই দিনে বিয়ে করতে যাচ্ছেন।
এই চারবোনের একটি ভাই রয়েছে। এই পাঁচ ভাইবোন একই সাথে পৃথিবীর মুখ দেখেন। একসাথে জন্ম নেয়া পাঁচ শিশুকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কুইন্টুপ্লেটস।

কুইন্টুপ্লেটস ভাই-বোন হওয়ায় জন্মের দিন থেকেই সবার আলাদা নজরে থেকে অভ্যস্ত তারা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তাদের কষ্ট ও দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের গল্প নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতো। এবার তারা বিবিসির সাথে তাদের গল্প ভাগ করে নিয়েছেন।একটি বড় দিন চার বোন উথ্রাজা, উথারা, উথামা, উথ্রা এবং তাদের ভাই উথ্রাজন জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৯৫ সালের ১৮ই নভেম্বর, এবং সামনের বছর ২রা এপ্রিল এই চার বোন একসাথে বিয়ের পরিকল্পনা করছেন।

‘আমাদের বাড়িতে বেশিরভাগ কথাবার্তাই এখন বিয়ের বিষয় নিয়ে হয়। আমরা এখনও আমাদের সেই বিশেষ দিনটির জন্য সিল্কের শাড়ি কিনতে পারিনি। তবে আমরা একই নকশা এবং একই রঙের শাড়ি কিনবো,’ উথারা বলেন। তিনি নিজে একজন সাংবাদিক এবং তার হবুও স্বামীও একজন রিপোর্টার।
বিয়ের পুরো অনুষ্ঠান হবে স্থানীয় রীতি-রেওয়াজ এবং ঐতিহ্যকে ধরে রেখে। সে হিসেবে এখানে বর-কনে নিজেরা নিজেদের বেছে নেওয়ার পরিবর্তে পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা এখানে ঘটকের ভূমিকা পালন করেন।

এক্ষেত্রে তাদের মা রেমা দেবী বিবাহ ম্যাচমেকিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁর মেয়েদেরকে নিজেদের স্বামী বাছাই করে নিতে সাহায্য করেন।
এই ধরণের বিবাহ সাধারণত একই বর্ণের, একই অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সদস্যদের মেলবন্ধন করে। জ্যোতিষীরা নববধূ এবং কনের রাশিফলগুলো পরীক্ষা করে এবং তাদের পরিবারকে জানায় যে সত্যিই তাদেরকে একে অপরের জন্য তৈরি করা হয়েছে কি-না। তবে এসব কোন জোরপূর্বক বিয়ে নয় – বর ও কনেদের নিজেদের মতামত দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করার কারণে চারজন বরের মধ্যে তিনজন বাগদানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

দেখতে আলাদা এই কুইন্টুপ্লেটস বোনরা এখন চেষ্টা করছেন যে তাদের বিবাহের সমস্ত আয়োজন যেন দেখতে একরকম হয়।
অভিজ্ঞতা কী এই মেয়েরা জন্ম থেকেই সব কিছু একসাথে করে আসছেন, যদিও তারা একে অপরের সাথে
প্রতিযোগিতাও করতেন এবং এ কারণেই তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব একজনের থেকে আরেকজনেরটা আলাদা। উথ্রা, পড়াশোনায় পারদর্শী। উথামার আগ্রহ সংগীতে এবং তিনি বেহালা শিখতে শুরু করেছিলেন, তাদের ভাই উথ্রাজন তবলায় আগ্রহী। উথ্রা ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। উথ্রাজা এবং উথামা অ্যানেসথেশিয়া টেকনিশিয়ান হয়ে উঠেছেন।

যখন তারা নিজেদের জন্য স্বামী খুঁজতে করতে শুরু করেন, উথ্রাজা প্রথমে তার জন্য একজন সঙ্গী খুঁজে পান, তাও সেটা প্রায় এক বছর আগে। তবে তিনি তাড়াহুড়ো না করার সিদ্ধান্ত নেন। অপেক্ষা করার জন্য খুশি ‘আমাদের মায়ের ইচ্ছা যে আমাদের বিয়ে যেন একই দিনে হয়। তাই, আমরা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ উথ্রাজ বিবিসিকে বলেন। ভারতীয় বিবাহের আয়োজনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় এবং অনেক পরিবার এই ব্যয় কমাতে চাচাত
ভাই-বোন বা আপন ভাই-বোনদের একই দিনে, একই অনুষ্ঠানে বিয়ের আয়োজন করে। এই মেয়েদের জন্য চারটি আলাদা বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা তাদের মায়ের পক্ষে আর্থিকভাবে অনেক বড় বোঝা হবে। তবে বোনরা বলছেন যে, এই যৌথ বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে তাদের মায়ের জেদ
যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে এক রকম সংবেদনশীল অনুভূতি।

ভাগ্যক্রমে উথ্রারাজার ক্ষেত্রে, তার হবু স্বামী তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য কোন চাপ দেননি। নতুন দিগন্ত : তিনি আকাশ কুমারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি নিজেও একজন অ্যানেসথেশিয়া টেকনিশিয়ান। তবে তিনি কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যে।
‘আকাশ কুয়েতে যাওয়ার আগে আমরা একই হাসপাতালে কাজ করতাম। আমরা একে অপরকে চিনতাম। পরে তার পরিবার আমার মায়ের কাছে খুশি মনে প্রস্তাব নিয়ে আসে,’ বলেন, উথ্রাজা। তিনি দেশ ছাড়ার আগে তার বর্তমান চাকরিতে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিতে চান। তার মানে তিনি তার বিয়ের কয়েক মাস পরে তার স্বামীর সাথে বিদেশে পাড়ি দেবেন। ‘এটি কিছুটা কঠিন এবং দুঃখজনক। সাধারণ কিছু ভয় কাজ করে। আমি কখনও বিদেশে যাইনি। আবার একই সাথে বিয়ের কথা ভেবে আমি খুব আনন্দিত।’

উথ্রাজা আশা করেন যে তার পক্ষে কুয়েতে চাকরি পাওয়া সহজ হবে -কারণ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত পুরুষদের সাথেও উথ্রা এবং উথামার বিয়ে হচ্ছে। জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখা নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাকি বোনেরাও, এবং ভাই উথ্রাজনও খুশি যদিও গাঁটছড়া বাঁধতে এই একমাত্র ভাইয়ের কোনও তাড়াহুড়ো নেই – পারিবারিক জীবন শুরু করার আগে তিনি কয়েক বছর বিদেশে গিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। বিয়ের এই পরিকল্পনা এই পরিবারটিকে তাদের অতীতের বেদনা থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করছে।

‘পাঁচটি রত্ন’
তাদের বাবা-মা পৃথিবীর বুকে এমন কুইন্টুপলেটস জন্ম দিতে পেরে আনন্দিত ছিলেন এবং তাদের বাড়ির নাম রেখেছিলেন “পাঁচরত্ন”।
বাচ্চারা তাদের পড়াশুনায় ভাল করেছিল তবে তাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা ছিল এক বিশাল উদ্বেগের কাজ।
তাদের মা রেমা দেবী অতীতের কথা মনে করে বলেন, ‘তারা প্রত্যেকেই অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল, স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ ছিল এজন্য তারা প্রায়শই অসুস্থ হয়ে পড়তো।’একসাথে পাঁচটি সন্তানকে লালন পালন করতে গিয়ে রীতিমত সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাদের বাবা-মা প্রেমা কুমার এবং রেমা দেবীকে। যার প্রভাব পড়ে রেমা দেবীর স্বাস্থ্যের ওপরে।

তাদের সামান্য কিছু জমানো অর্থ ছিল এবং তারা তাদের সমস্ত শক্তি ও সঞ্চয় ব্যয় করেছেন ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার পেছনে।
ভারতে ছেলে সন্তানকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়ার এক ধরণের প্রোথিত মানসিকতা রয়েছে। অনেক পরিবারে ছেলেদের বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বোনরা বলছেন যে তাদের বাবা-মা সবার সাথে সমান আচরণ করেছেন। এমনকি
তাদের জন্য একই ধরণের পোশাক কিনতেন। এর ফলে কখনও কখনও বোনেরা তাদের পোশাকগুলো মিলিয়ে ফেলত।

উথারা বলেছেন, ‘এটি কখনই আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা তৈরি করে নি। আমরা একে অপরের পোশাক পরা নিয়ে কিছু মনে করি না।’
এই পরিবারটির এমন সংগ্রাম থেকে স্থানীয় এক ডাক্তার তাদের থাকার জন্য একটি বাড়ি উপহার, যার জন্য তার পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
রেমা দেবী বলেন, ‘সংকট মানুষের ভেতর থেকে তার সেরা কিছু বের করে আনে।’ পাঁচজনই স্কুলে অনেক ভাল করেছে এবং তারা নিজেদের বেছে নেয় বিষয়ে স্নাতক শেষ করেছে। ‘আমাদের মা খুব খুশি তিনি সব সময় চেয়েছিলেন আমরা যেন আত্মনির্ভরশীল হই।’, উথারা বলেন।

মিডিয়া স্পটলাইট
এই পরিবারের সদস্যরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তাদের বিয়ে একটি বিখ্যাত মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র নিকটাত্মীয় এবং বন্ধুদের সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। হাতে গোনা কয়েকজন রিপোর্টার এবং ফটোগ্রাফাররা আসবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
উথারা বলেছেন, ‘সবার নজরে থাকতে পারাটা এক আশীর্বাদ।’ কুইন্টুপ্লেটস খুব বিরল এবং গণমাধ্যম প্রায়শই তাদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
তাদের জন্ম, যেদিন তারা প্রথম স্কুলে যায় এবং যেদিন তারা স্কুল শেষ করে সব কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমে কভার করা হয়।
মানসিকভাবে একসাথে
বোনেরা এখন চিন্তা করছেন তারা কীভাবে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারেন। তারা আরও জানায় যে তারা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যাবে না।

‘আমরা যখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করবো তখনও আমরা সবসময় আবেগের দিক থেকে একসাথেই থাকব এবং একে অপরের কথা ভাবব,’ বলেন উথ্রা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

মাথায় হিজাব ছাড়া ইন্টারনেটে ছবি পোস্ট করলে ১০ বছরের জেল !

নারীদের পোশাকের ব্যাপারে কঠোর রক্ষণশীল দেশ ইরান। আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব দেশটিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছিল সেদেশের মেয়েদের জীবন ও পোশাকের ক্ষেত্রে।

দেশটির আইন ও সামাজিক বিধি-নিষেধের বেড়াজালে নতুন করে বন্দি ইরানি নারীরা। এবার নারীদের উপর নতুন এক আইন জারি করা হয়েছে।
মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব ছাড়া স্যোসাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিও পোস্ট করলে তাকে ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হবে। খবর বিবিসি ও ইনডিপেন্ডেন্ট।মার্কিন এক্টিভিস্ট ‘মাসিহ আলিনেজাদ’ এর ওয়েব সাইটে হিজাব ছাড়া ছবি পোস্ট করলেও তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘হোয়াইট ওয়েনসডে’ নামে ওই সাইটে ‘ইরানে হিজাব আইন বাধ্যতামূলক’ এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এটিকে সমর্থন জানিয়ে অনেক ইরানি নারী তাদের হিজাব ছাড়া ছবি সেখানে শেয়ার করে।

তেহরানের বিপ্লবি আদালত প্রধানের উদ্বৃতি দিয়ে একটি নিউজ এজেন্সি জানায়, যারা আইন অমান্য করে ওই সাইটে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করবে তাদের ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে। ইরানে সকল নারীকে মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। কেউ এই আইন অমান্য করলে তাকে দুই মাসের কারাভোগ বা ২০ ডলার জরিমানার আইন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার পর নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে হিজাব বা স্কার্ফ পোশাক পরিধান করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এ নিয়ম ভাঙার কারণে বহু নারীকে জেল-জরিমানারও শিকার হতে হয়েছে।এর বিরুদ্ধে স্যোসাল মিডিয়ায় ২০১২ সালে প্রথম থেকে প্রতিবাদ দানা বাঁধতে থাকে। গত বছর এক নারীকে হিজাব আইন ভঙ্গ করায় ২ বছরের জেল খাটতে হয়েছে।

বন্যায় ভেসে আসলো ৩ বছরের শিশুর নিথর দেহ !

এ যেন এক ম**র্মা**ন্তিক দৃশ্য। হাত-পা ছড়িয়ে নদীর তীরে পড়ে রয়েছে সে। ঠিক দেখে মনে হচ্ছে খেলতে খেলতেই যেন পাড়ি দিয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন সেই ঘুমের দেশে। ভারতের বিহারে বন্যার শিকার ৩ বছরের অর্জুনের ভেসে আসা সেই নিথর দেহ দেখে বুক ফাটছে দেশবাসীর।

গত বুধবার মির্জাপুর জেলার শীতলপট্টি এলাকার এক মা তার চার সন্তানকে নিয়ে বাগমতী নদী এসেছিলেন। বাসন মাজা, কাপড় কাচা, স্নান করা ইত্যাদি ঘরের কাজ সারছিলেন রানি দেবী নামের ওই নারী।সে সময় প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় অর্জুন। অর্জুনকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন রানি। তিন সন্তান নিয়ে ঝাঁপ দেন নদীতে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষ তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। কোনওমতে রানি দেবী ও তার এক মেয়ে রাধাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অর্জুন, রাজা ও জ্যোতি ভেসে যায় নদীতে। এরপর বৃহস্পতিবার অর্জুনের ম**রদে’হ দেহ ভেসে আসে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় সমগ্র বিহারে ৬৭ জনের মৃ**ত্যু হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৬ লাখের ও বেশি মানুষ।কিছুদিন আগেই জলে ভেসে উঠেছিল বাবা ও মেয়ের নিথর দেহ। শেষ সময়েও বাবার টি-শার্টের মধ্যে মুখ গুঁজে ছিল ঠোট্ট মেয়েটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তের রিও গ্রান্ডে নদীতে ভেসে ওঠা ওই ছবি গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

আর কয়েক বছর আগে সিরিয়ায় সমুদ্রের বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা আয়লান কুর্দির ছবি তো সিরিয়ার উদ্বাস্তু সমস্যার এক প্রতীক হয়ে গিয়েছিলো। যেটি সমগ্র বিশ্ববাসীকে নড়া দিয়েছিলো। জানিয়ে দিয়েছিলো মানবতাহীন এক পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা।

৪৪ বছর রোজা রাখা সেই ‘মা’ চলে গেলো না ফেরার দেশে !

ছেলেকে ফিরে পেয়ে ৪৪ বছর রোজা রাখা সেই মা সখিরন নেছা ওরফে ভেজা মা*রা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সোমবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুরে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যা*গ করেন তিনি।

মৃ*ত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি ৩ ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃ*ত্যুর আগ পর্যন্ত রোজা ছিলেন তিনি।
সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সখিরন নেছা ওরফে ভেজা প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখেছেন। বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যাওয়ার পর খোঁজাখুজির প্রায় দেড় মাস পর তিনি নিয়ত করেন ছেলেকে ফিরে পেলে যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিনই রোজ রাখবেন। সেই থেকে মৃ*ত্যু পর্যন্ত তিনি রোজা রাখেন।

সখিরন নেছার ছেলে শহদিুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক মাই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। তবে আমার মা আমার জন্য সারাজীবন রোজা রাখবেন বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে পালন করছেন পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি আমার মাই শ্রেষ্ঠ।

বৃদ্ধার কান্না: বাবা-মার সঙ্গে আচরণের বদলা পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে

এখন শেষ বয়সে আমি সন্তানদের কাছ থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই পুরোপুরি দায়ী। কারণ অতীতে আমি আমার বাবা-মার সঙ্গে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা হাড়ে হাড়ে পাচ্ছি।

জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করে ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে এসব কথাই বলছিলেন ভারতের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা।ওই বৃদ্ধা বললেন, কথাগুলো কোনোদিন কারো কাছে বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা আর সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।বৃদ্ধা বলেন, সবই আমার কপাল। আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন, তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম।

তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ্বালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে।বৃদ্ধার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি অতীতের কথা বলতে শুরু করেন। বলেন, ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কৃষক পরিবার হওয়ায় সংসারে অর্থকষ্ট লেগেই থাকত। ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।

প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন। বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আমি বিতাড়িত।অভিযোগের সুরে বৃদ্ধা বলেন, সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যেদিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি।

তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিও না। কিন্তু তারা শুনল না।চোখ মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বললেন, আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এখন বুঝতে পারছি, এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।

হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন একই পরিবারের ৪ জন

মুসলমানদের আচার-ব্যবহার, ধর্মীয় রীতি-নীতি, চাল-চলন, ধর্মীয় কালচারে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন চার সদস্যের এক পরিবার।

স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে মুসলমান হন শ্রী কৃষ্ণ বাবু (২৯)। বর্তমানে তার নাম বিলাল হোসেন মণ্ডল।তিনি জামালপুর শহরের কাচারী পাড়া এলাকার শ্রী মন্টু ঋষীর ছেলে। বিলাল হোসেনের স্ত্রী পূর্নি ঋষির (২৬) বর্তমান নাম মোছাঃ মরিয়ম, বড় ছেলে শ্রী সুখ নাথ ঋষির (৮) বর্তমান নাম হাসান এবং ছোট ছেলে শ্রী দুখ নাথ ঋষির (৬) বর্তমান নাম হুসাইন।

এ বিষয়টি আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লীদের জানিয়েছেন, জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। জুমার নামাজ শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ এ.কে.এম জহুরুল ইসলাম মনসুর, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক,মিজানুর রহমানসহ মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যবৃন্দ ও মুসল্লি। এ সময় সদ্য মুসলিম হওয়া এ পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সদ্য মুসলিম দুই শিশুকে আলহাজ নূর মোহাম্মদ ক্বওমী মাদ্রাসায় বিনামূল্যে পড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার মোহতামিম কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম।এদিকে গত ১৩ জুন জামালপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা-এর মাধ্যমে সনাতন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ওই পরিবারের চারজন সদস্য। যার রেজিঃ নং- ৫৮০। এরপর আবার জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম তাদের কালিমা পড়ান।

সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল বলেন, আমি বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে যেতাম এবং মোবাইলে ওয়াজ শুনতাম।বাড়িতে গিয়ে ওইসব বিষয় আমার স্ত্রীকে বলতাম। এরপর থেকে আমাদের কাছে ইসলাম ধর্ম ভালো লাগতে শুরু করে।এক পর্যায়ে আমি ও আমার স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।পরে মুসলমান হওয়ার বিষয়ে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন কাচারী পাড়া এলাকার মোঃ আল আমিন হীরা।

২৫ বছর ধরে কবর খুঁড়ে যাচ্ছেন কামাল !

নীরব এক গভীর রাতে খবর এলো ঢাকা থেকে একটি লাশ আসছে যা ভোরেই কবরস্থ করা হবে। আর সেই গভীর রাতেই একা কামাল কবর খুঁড়ছেন। হঠাৎ সূফী আল্লাহওয়ালা এক হুজুর তার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মিলিয়ে গেলেন। রাত তখন প্রায় ২টা। কামাল বললেন, এদের দেখা মিললেই দোয়া দরূদ পড়তে হয়। তারা কোন ক্ষতি করেন না। দেখা দিয়েই চলে যান।

আরেকবার রাতে কবর খোড়ার জন্য তিনি ঝুড়ি কোদাল নিয়ে বেরিয়েছেন। এক পা ফেলতেই দেখলেন বিশাল এক সাপ লম্বা-লম্বি ভাবে আপন মনে শুয়ে আছে। কামাল দোয়া দরূদ পড়লেন। সাপটি নিমিষেই মিলিয়ে গেলো।অন্য আরেকদিন একটি লাশ কবরস্থ করার পর যখন সবাই চয়ে গেলো। তখন কামালের চোখে পড়লো সরু রাস্তাটির উপরে একটি তরতাজা কংকাল শুয়ে আছে। সাহসী যুবক কংকালটি স্পর্শ করা মাত্রই এক মুঠো ছাই হয়ে গেলো…

এছাড়া প্রায়শই স্বপ্নে নানা আজব ঘটনা দেখে থাকেন কামাল। একদিন কামাল স্বপ্নে দেখলেন একটি ট্রেনে কথা বলতে পারা কাটা শরীরের উপরিভাগ একটি লাশ তিনি দাফন করছেন, লাশটি তাকে কবরস্থ না করার জন্য চিৎকার করে অনুরোধ জানাচ্ছে, তৎক্ষনাত ঘুম ভেঙ্গে গেলো কামালের।এরকম অসংখ্য ঘটনা প্রতিটি কবরস্থানে প্রায় প্রতিদিন প্রতিরাতেই ঘটে যাচ্ছে কিন্তু সহসাই যা আমাদের চোখে পড়ে না। এমন অনেক চাক্ষুস বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখেছেন কামাল যা সহজে তিনি বলতে চাননি। তবে অনেক পীড়াপীড়িতে বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধির কাছে এই কয়েকটি ঘটনা বলছিলেন কামাল।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আওতাভূক্ত কালীবাড়ী কবরস্থানের কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ৩৮ বছর বয়সী কামাল হোসেন। পিতা মরহুম ফজর আলীও আমৃত্যু এই কাজটি করে গেছেন। এক রকম পৈত্রিক সূত্রে কামাল হোসেন দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করে যাচ্ছেন।
কখনও ভয়, কখনও উৎকণ্ঠা, কখনও একটি ভাল কাজ করার প্রণোদনা। সবসময়ই এই কাজ করতে গিয়ে তাকে ঘিরে রাখে। প্রথমদিকে পরিবার থেকেও তাকে নিষেধ করা হতো। কিন্তু কোথায় জানি একটা আধ্যাত্মিক চেতনা সম্মোহিত করে তাকে।

তাই কালীবাড়ী গোরস্থানে কর্মরত কামাল হোসেন নিস্তব্ধ অমাবশ্যা অথবা পূর্ণিমার গভীর রাত; ছনমনে দুপুর যখনই ডাক আসতো তিনি জায়গা বেছে কবর খোঁড়ার কাজে লেগে যেতেন। এ সময় ভয় ভয় লাগতো কিন্তু একটা অলৌকিক সাধনায় নিমগ্ন থাকতেন কামাল।তখন তার মনে হতো ভয় বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। এছাড়া কামাল মনে করেন ও তার ভাবনায় আসে তিনি একটি সর্বোত্তম ফরজ কাজ আদায় করছেন যা মৃত্যু পরবর্তী মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাক তাকে পুরস্কৃত করবেন।

এ ব্যাপারে একাধিক মুফ্তি এবং আলেমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন মূর্দ্দাকে যদি, সহিভাবে কবরে শায়িত করা হয় তবে সেই কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা আল্লাহ পাক্ নিশ্চিত করেছেন। কবর খোঁড়ার কাজ যতক্ষণ চলতে থাকে এবং কবরে শায়িত করে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহ পাকের তরফ থেকে অসংখ্য ফেরেশতা সেই কবরটি ঘিরে রাখেন যা মানবকূল দেখতে পান না।কামাল জানায়, মাত্র ৯০০ টাকা সম্মানী ভাতার মাধ্যমে তিনি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে মাসিক সম্মানী ভাতা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১০০ টাকা। স্ত্রী ও চার ছেলে মেয়েসহ কালীবাড়ী বাস্তুহারা সমিতির একটি ঘরে কোন মতে সংসার চলে তার।

আগে ছেলে-মেয়েরা নগরীর সুনামধন্য মুকুল নিকেতনে পড়াশুনা করতো কিন্তু অর্থাভাব আর টানা পোড়েনে সেখান থেকে ছাড়িয়ে অন্যত্র লেখাপড়া করছে সন্তানেরা।প্রথমে এই কাজে আসতে প্রচন্ড বাধার সম্মুখিন হয়েছিলেন কামাল। কিন্তু জীবন সংগ্রামে উপায়ন্তর না দেখে ভয়ে ভয়েই কাজটি শুরু করেন তিনি। এখন আর ভয় লাগে না তবে সিটি করপোরেশন ভূক্ত কর্মচারী হিসেবে কামাল জানান, এই স্বল্প বেতনে সংসার চলে না, তিনি বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কামাল আরও জানান, এই জীবনে অন্তত ৪ হাজার লাশের কবর খুঁড়েছেন তিনি। শুকনো দিনে একটি কবর খুঁড়তে প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লেগে যায়। আর বর্ষার দিনে আরও বেশি সময় লাগে।কামালের মতে, তিনি ভয় পান ট্রেনে কাটা লাশ মৃতদেহ দেখে কারণ। লাশগুলো একেবারেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তবে কামাল সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলেন বছর দশেক আগে গলগন্ডায় ট্রেনে আত্মহত্যার ৯ লাশের কবর খুঁড়তে গিয়ে। এ সময় তিনি এতোটাই বিমর্ষ হয়েছিলেন যে কবর খোঁড়ার কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।

তবুও মৃত্যুর পর হয়তো একটি পুরস্কারের প্রাপ্তির আশায় কামাল হোসেন আজও কবর খোঁড়ার কাজ করে যাচ্ছেন। যা অন্য কারোর মাধ্যমে এই কাজ করা সম্ভব নয়।ময়মনসিংহ শহর এবং শহরতলীতে অনেক কবরস্থান রয়েছে বলে জানা গেলেও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের স্যানেটারী ইন্সপেক্টর দীপক মজুমদার জানান, দশটি কবরস্থান করপোরেশনের অধীনে রয়েছে। এগুলো তত্ত্ববধান করা হয়। তিনি জানান, বেতন ভাতাদি যদিও এগুলো বর্তমানে সম্মানী ভাতা হিসেবে দেয়া হচ্ছে তবে মূল বেতনে প্রবেশের ব্যবস্থাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, দশটি গোরস্থানের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সিটি করপোরেশন করে থাকে। তবে কালীবাড়ী গোরস্থানের কামাল হোসেন জানান, প্রায় প্রতিদিনই তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন কবর পরিস্কার করে যান যা সওয়াবের বশবর্তী হয়েই তিনি করে থাকেন।

ময়মনসিংহ সিটি বাসীর প্রত্যাশা ময়মনসিংহ শহরের সকল গোরস্থানই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং আলোকিত থাকুক। এবং কামাল হোসেনের মত ধ্যানী ও প্রচন্ড ধার্মিক ব্যাক্তিরা কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত থেকে কবরস্থানগুলোকে আলোকিত করে রাখুক।

ক্যানসারে আক্রান্ত প্রেমিকের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও একদিন আগে বিয়ে !

মারা যাওয়ার একদিন আগে ক্যানসারযুক্ত ব্রেন টিউমার আক্রান্ত প্রেমিককে বিয়ে করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার এক তরুণী।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানায়, নাভার হারবার্ট কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট দলের রাগবি খেলোয়াড়।

২২ বছর বয়সী এ তরুণ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। হারবার্টের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল মাইয়া ফ্যালওয়াসার নামের এক তরুণীর। প্রেমিকের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও হারবার্টকে বিয়ে করেন তিনি।গোল্ড কোস্টে আবেগঘন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন দুইজনের পরিবার, স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবেরা। পরদিন গত মঙ্গলবার রাতে মারা যান হারবার্ট।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হুইল চেয়ারে চরে বরের বেশে হাজির হন হারবার্ট। ফুল হাতে সাদা গাউনে কনে মাইয়া। জাঁকজমক এক অনুষ্ঠানে পরস্পরকে বরণ করে নেন এ নবদম্পতি। বিয়েতে আয়োজন করা হয় নাচ-গান, পানীয় ও খাবারের।মৃত্যুর একদিন আগে বিয়ে করলেও দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকছিলেন তারা। তাদের ১১ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তানও আছে।মাইয়া বলেন, “আমি আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারালাম। আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমার ছেলে হারিয়েছে তার বাবাকে। আজকে আমার শোকের দিন।

বিয়েতে উপস্থিত হওয়ায় অতিথিদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছি। এমন কঠিন মুহূর্তে তারা আমার পাশে ছিলেন, আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।”

আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও এক টাকা হারাম খেতে চাই না: এসপি ফরিদ উদ্দীন

সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে সম্প্রতি যোগদান করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন।

সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি জীবনের শুরু থেকেই গরীব ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে আসছেন।নিজ কর্ম এলাকায় তিনি একজন পরোপকারী এবং সৎ-মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত।ফরিদ উদ্দীন সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, “বেঁচে থাকার জন্য টাকা দরকার আছে এটা ঠিক তবে আমার এক টাকাও হারাম কিংবা অবৈধ টাকার দরকার নেই।
আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও যেন এক টাকা হারাম খেতে না হয় আল্লাহর কাছে এটাই আমার চাওয়া।’

আপনাদের সাহায্য প্রাণে বাঁচতে পারে বাবা-মা হারা এতিম কোহিনুর !

শরীরের বিষ ব্যাথায় কানতে কানতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, পচনের স্থানে পোকা ধরে গেছে, পোকার কামড় আর সহ্য করতে পারছি না। এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার পেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

শরীরের অসহ্য যন্ত্রনা সইতে না পেরে এই কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম নামে এক কিশোরী।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রতনপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেনর মেয়ে কোহিনুর বেগমের, গত ৪ বছর আগে হঠাৎ করে মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পিঠে অপারেশন করে তিনটি রড স্থাপন করা হয়।

সেই থেকে শরীরে রডের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোহিনুর। অর্থের অভাবে নির্ধারিত সময়ে সেই রড খুলতে না পারায় চামরা ছিড়ে রডগুলো বেরিয়ে গিয়ে ওই স্থানে পচন ধরে পোকা হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঔষধ কিনে খাওয়ার টাকা না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রচন্ড যন্ত্রনা তাকে ভোগ করতে হচ্ছে।কোহিনুরে বাবা-মা-কেউ বেঁচে নেই, ৫ বছরের একমাত্র একটি ছোট ভাই নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন।

দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে ছোট ভাইকে রসুল্লাবাদ হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াচ্ছেন।নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে ও সমাজের সকল শ্রেণীর মানূষের কাছে সহযোগিতা চেয়ে কোহিনুর বেগম বলেন, আমি এই জগতে এতিম, আমার মা বাবা কেউ নেই, আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবো।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সায়েমুল হুদা বলেন, কোহিনুরের দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে রডগুলো বের করে সুচিকিৎসা না দেয়া হলে তার জীবনের মৃত্যুর হুমকি রয়েছে এবং এই চিকিৎসাটি ব্যয়বহুল হবে। কোহিনুর বেগমকে আর্থিক সহায়তা করতে ইচ্ছুকরা যোগাযোগ করতে পারেন। বিকাশ নম্বর : ০১৮৪৬৯৮৭২৮১ (ব্যক্তিগত)।