‘তিন মাস ধরে চাকরি নেই, বাচ্চার জন্য দুধ চুরি করলেন বাবা’ !

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি লেখা শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মকর্তা।আজ আমাদের দেশের এক অসহায় বাবা তার বাচ্চার জন্য দুধ চুরি করে। কত মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোঁচাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে? হয়ত আমি ভালো চাকুরি করে আজ ভাল আছি, কিন্তু সমাজের কত মানুষ আজ এই বাবার মত নিরূপায়! এর দায়ভার কার?!

লেখাটি হুবুহু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:_
ফেসবুক স্ট্যাটাস
গতকাল রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিট, বাকি সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি তদারকি করছিলাম। হঠাৎ এক জায়গায় মানুষের হট্টগোল দেখতে পেলাম। ঘটনা কি তা দেখার জন্য আমার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠালাম। কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু লোক ২৫-৩০ বছর বয়সী একজন লোককে টেনে-হিচড়ে আমার সামনে নিয়ে আসলো। ঘটনা জানতে চাইলাম।

একজন বললো, ‘স্যার, লোকটা চোর, চুরি করে পালাচ্ছিল’। পাশে লোকটাকে শক্ত করে ধরে রাখা এক সিকিউরিটি গার্ড আমাকে বললো, ‘স্যার, লোকটা স্বপ্ন সুপার শপ থেকে চুরি করে পালাচ্ছিল’।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি চুরি করেছে? সিকিউরিটি গার্ড বললো, ‘স্যার, সে এক প্যাকেট দুধ চুরি করে পালাচ্ছিল’। আমার খটকা লাগলো,আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘দুধ’?তখন সিকিউরিটি গার্ড অতি উৎসাহ নিয়ে বলল, ‘স্যার বাচ্চাদের ন্যান দুধের প্যাকেট’।আমি লোকটার দিকে তাকালাম।

আমার বয়সেরই হবে। দেখতে ভদ্রলোকই মনে হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চুরি করলেন কেন? সে কেঁদে ফেলল।তারপর বললো, “স্যার, তিনমাস হল চাকরি নাই, বেতন নাই। ঘরে ছোট বাচ্চা, দুধ কেনার টাকা নাই।”
সাথে সাথে আমার ছেলের চেহারা মনে পড়ল!! মনে হল কতটা নিরুপায় হলে একজন বাবা এই কাজ করতে পারে!!ওর জায়গায় আমি থাকলেও হয়ত একই কাজ করতাম। সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম, দুধের প্যাকেটের দাম কত? সে বললো, ৩৯০ টাকা স্যার। আমি তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিল রাখতে বললাম এবং লোকটিকে ছেড়ে দিতে বললাম।

লেখক- জাহিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার

আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে একমাত্র আল্লাহর আইনই !

বাংলাদেশে একজন মন্তব্য করেছেন, ধর্মীয় আইন ‘সভ্যতা’র জন্য জরুরি ছিলো। কিন্তু আধুনিকতা হলো ‘কুরুচিপূর্ণ’। আর নাগরিক শৃঙ্খলার জন্য ধর্মীয় আইন দরকার।তবে এই মতের বিরোধীতা করে আরেক বাংলাদেশি বলেন, শরিয়াহ আইনের অধীনে আধুনিক সমাজ অকার্যকর হয়ে পড়বে। আর ‘প্রগতিশীলতাবিরোধীরা’ বিশ্বকে ‘আদিম যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

পাকিস্তানেও অনেকে বিষয়টিকে হাস্যকর বলেছেন। আবার অনেকে বলেছেন, আধুনিক পশ্চিমের কোনো অধিকার নেই এতে হস্তক্ষেপ করার। কেননা ব্রুনাই একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ।আফগানিস্তানের একজন মন্তব্য করেছেন শরিয়াহ আইন মানবজাতির ভালোর জন্যই প্রচলন করা হয়েছিলো।বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, পাথর ছুঁড়ে কাউকে হত্যা করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার বিধান করার মানে হলো যেন সভ্যতাকে কেউ বর্বর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি একে রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলেও আখ্যায়িত করেন।

মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা শুধু বলতে পারি, ব্রুনাইয়ের শাসকগোষ্ঠী এবং জনগণের জন্য আমাদের দুঃখ হয়। কেননা তারা ইসলাম ধর্মের যে অনেক প্রগতিশীল উপাদান রয়েছে সেগুলো হৃদয়ঙ্গম করতে পারেননি। আর শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই নিষ্ঠুর ও বর্বর আইনগুলো চালু করলো।’গত সোমবার ব্রুনাইয়ে চালু হয়েছে কঠোর ইসলামি শরিয়াহ আইন। সুলতানের নেতৃত্বাধীন ব্রুনাই সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা সহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করছে।

নতুন এই আইনে সমকামিতার শাস্তি করা হয়েছে পাথর নিক্ষেপ করে অথবা চাবুকপেটা করে মৃত্যুদণ্ড। মধ্যযুগীয় এই শাস্তির বিধান করা হয়েছে ব্যাভিচার এবং ধর্ষণের ক্ষেত্রেও। চোরদের হাত এবং পা কেটে ফেলার বিধানও করা হয়েছে।মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরিয়াহ আইনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেকের মতে, ব্রুনাই যা করেছে তা শরিয়াহ আইনের চরমতম উদাহরণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ব্রুনাই খুবই রক্ষণশীল একটি দেশ। তথাপি শরিয়াহ আইন প্রচলন করার ক্ষেত্রে দেশটির ৪,৩০,০০০ নাগরিকের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আর ঠিক কী কারণে ব্রুনাই সরকার দেশটিতে শরিয়াহ আইনের প্রচলন করলো সে রহস্যও এখনো পরিষ্কার হয়নি।

এমনকি মুসলিম বিশ্বেও এ ব্যাপারে চলছে সমালোচনা। ব্রুনাইয়ে ইসলামি শরিয়াহ আইন চালু করার পর ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সামাজিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।ব্রুনাইয়ের শরিয়াহ আইনগুলি নিয়ে ডয়চে ভেলের একটি প্রতিবেদন পাঁচটি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়। সেখানে ২৪ ঘন্টায় ২ হাজার মন্তব্য পড়ে।

ইন্দোনেশিয়ায় অনেকে শরিয়াহ আইনের পক্ষে মন্তব্য করে বলেছে, ‘আল্লাহর আইন আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে’।কিন্তু অন্য আরেক ইন্দোনেশিয়ান বলেছেন, ইন্দোনোশিয়া ‘বহুত্ত্ববাদের’ আমলেই ভালো ছিলো। ইন্দোনেশিয়ান রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তিগুলোরও একটি ছিলো ধর্মীয় ‘বহুত্ত্ববাদ’।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

শুধু মায়ের দোয়াই সন্তানের সফলতার জন্য যথেষ্ট !

পৃথিবীর বুকে আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল ”মা”। যত আবদার যত অভিযোগ সবই মায়ের কাছে। নাড়ী ছেড়া ধন সন্তানের জন্য দশ মাস দশ দিন শুধু নয়, মায়ের সারাটা জীবন উৎস্বর্গ করেও যেন মায়ের তৃপ্তি নেই।

কিন্তু সেই মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি আমরা? বৃদ্ধাশ্রম তো একটা সুসন্তানের মায়ের জায়গা হতে পারে না..! মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ তা আমরা অনেকেই হয়ত ভাবি না। মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দোয়া অর্জন করে একটা সন্তান তার জীবনটা বদলে নিতে পারে। তেমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব আপনাদের সাথে ধারাবহিক ভাবে।

আব্দুলাহ মাহতাব। একজন সফল ব্যবসায়ী। যার ব্যবসার শুরুটা হয় সতের বছর বয়সে। মায়ের সাথে তার জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা শেয়ার করব আজ। আমাদের সমাজে ইসলামিক রীতি অনুযায়ী বিয়ের সময় দেনমোহর পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। এই দেনমোহর বিয়ের সময় স্বামী কতৃক স্ত্রীকে পরিশোধ করতে হয়।এই দেনমোহর নির্ধারনেরও নির্দিষ্ট রীতি নীতি আছে। আবার তাৎক্ষণিক পরিশোধ না করলেও তা পরবর্তীতে পরিশোধের ব্যবস্থা আছে।

মায়ের সাথে খাবার টেবিলে বসে আব্দুল্লাহ মাহতাব খাবার খাচ্ছিলেন। খাবার টেবিলে তার মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছিলেন। আব্দুল্লাহ মাহতাব এর মায়ের বয়স যখন বাইশ তখন তার বাবা মারা যান। কথায় কথায় এক কোন এক প্রসঙ্গে মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করেন বিয়ের সময় তাদের দেন মোহরের কথা। মা জানালেন তার বাবার সাথে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা দেন মোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

ছেলের কৌতুহল ছিল এ বিষয়ে। মাকে জিজ্ঞাসা করলেন মা, বাবা কি আপনার বিয়ের দেন মোহরের টাকা পরিশোধ করেছিলেন?
আব্দুল্লাহ মাহতাব মায়ের উত্তরের অপেক্ষায় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মা জানালেন তার বাবা মারা যাওয়ার আগে তার বিয়ের দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে যেতে পারেন নি।মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন মা বাবার হয়ে যদি তার দেনমোহরের দশ হাজার টাকা যদি সে পরিশোধ করেন তাহলে মায়ের কোন আপত্তি আছে কিনা। ছেলের কথা শুনে মা অশ্রুসিক্ত চোখে চেয়ে বললেন তুমি কি তোমার বাবার দায় পরিশোধ করতে চাও?

ছেলে উঠে গেলেন পাশের ঘরে। আলমারি খুলে দশ হাজার টাকা এনে তুলে দিলেন মায়ের হাতে। মা ছেলের দেওয়া দেনমোহরের টাকা নিজ হাতে গ্রহন করলেন। তার চোখ দিয়ে অঝোড়ে পানি পড়ছে সেই খুশিতে আত্মহারা হাসি ঠোটের কোনে। জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যেন আজ মা পেলেন।স্বামীর ঋণ পরিশোধের সুযোগ তার ছেলে সঠিক ভাবে পালন করেছে। ছেলেকে সুসন্তান হিসেবে মানুষ করতে পেরেছেন মা। দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে আব্দুল্লাহ মাহতাবের জন্য দোয়া করলেন তার মা।

দোয়া শেষে মা তার হাতে থাকা থাকা দেনমোহরের টাকাগুলো তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বাসার কাজের মেয়েকে ভাগ করে দিয়ে দিলেন। নিজের কাছে একটি টাকাও রাখলেন না। মায়ের জন্য করলে তা কখনোই বৃথা যায় না। আমরা শুধু বুঝতে পারি না।
একজন সন্তানের জন্য মা যে পরিমান পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেন তার একাংশ সন্তান বুঝতে পারে না। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ও দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করলে মায়ের দোয়া একটা সন্তানের জন্য পথ চলার পাথেয় হিসেবে যুক্ত হয়।

যা একটা সন্তানের সফলতার জন্য যথেষ্ট। লিখেছেন-মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ।

এক পরীকে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে তার বাবা

আমাদের সন্তানদের ঘিরে মাঝে মধ্যেই স্বপ্ন দেখি তাকে ভবিষ্যতে কি বানাবো? যখন কোথাও চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার অথবা অবাক করা ভালো সেবা পাই তখন মনে হয় সন্তানকে ডাক্তার বানাবো। আবার কখনও কোনো সরকারি/বেসরকারি কর্মকর্তার মুগ্ধ করা আচরণ ও সাফল্য দেখে ডাক্তার বানানোর সিদ্ধান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে এসে মনে হয় সন্তানকে সেই কর্মকর্তার মতোই মানুষ বানাবো।

এমন শত শত স্বপ্ন তৈরি হয় সন্তানদের ঘিরে। কিন্তু যখন সেই সন্তান মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে তখন সকল চাওয়া পাওয়ার ব্যতয় ঘটে। সেই সময় বাবা-মায়ের শেষ চাওয়া হয় যেকোনো মূল্যে তার সন্তানকে বাঁচাতে হবে। তেমনি এক বাবা জীবনের সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করছেন।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লান্ত শরীরে যে বাবা পরীর মতো দেখতে ফুটফুটে সন্তানকে কোলে নিয়েই ক্লান্তি দূর করতো সেই বাবা আজ ওই পরীকে নিয়ে ঘুরছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। কীভাবে তিনি তার পরীকে সুস্থ করে তুলতে পারবেন সেই পথ খুঁজছেন তিনি। বাবার তিন বছর আট মাস বয়সী সেই পরীটা ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তার বলেছেন, দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে ফুটফুটে শিশু তাসনিম জাহানের। দেরি করলেই তাকে আর বাঁচানো যাবে না।

রোববার পহেলা বৈশাখের দিন যখন সারাদেশের মানুষ উৎসব আমেজে ব্যস্ত, সেদিনও মেয়েকে নিয়ে ঘরে বসে ছিলেন না এই বাবা। বিকেলে অসুস্থ মেয়েকে কোলে নিয়ে রাজধানীর ডেমরা থেকে ছুটে আসেন । অনেক স্বপ্ন ও আস্থা নিয়ে এসেছেন তিনি।

তার চোখে এ কার্যালয় যেন একটি হাসপাতাল। এখানে এলে নাকি কিছু না কিছু সাহায্য পাওয়া যায়। তাই ৪৮০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে এসেছেন তিনি। জানি না এ বাবার সেই স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়াবে কীনা সেই উদার ও মহৎ মানুষগুলো। যারা অসহায় মানুষের সেবা করে তৃপ্তি পান।

নারায়ণগঞ্জের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন তাসনিমের বাবা জাহিদুল ইসলাম। থাকেন রাজধানীর ডেমরার তামপুরাবাদ এলাকায়। সেখান থেকে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে যাওয়া আসা বাবদ মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় তার। বাকি টাকায় একরুমের বাসা ভাড়াসহ চলে তার সংসার।

মেয়ের চিকিৎসার বর্ণনা দিতে গিয়ে জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হঠাৎ জ্বর হয় তাসনিমের। সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে ডাক্তার দেখানোর পর ৫টি ব্লাড টেস্ট দেয়া হয় তার। পরদিন ডাক্তার জানান, রিপোর্ট ভালো না। পরে আবারও টেস্ট করতে বলেন তিনি। ২য় দফার রিপোর্টও সেই আগের মতো। ডাক্তার জানান, তাসনিমের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি।

আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করেন। সেখানে ৭ দিন থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তার ও নার্সদের খারাপ আচরণে অতিষ্ট হয়ে বাড়ি চলে যান তিনি।

বাড়ি যাওয়ার দিন নার্সদের রুমে গিয়ে মেয়ের হাত থেকে ক্যানোলা খুলে দেয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করার পর আড়াই ঘণ্টা দেরিতে এসে এক নার্স মেজাজ দেখিয়ে এমন জোরে সেটি খুলেন যে তাসনিমের হাতের মাংস ছিড়ে চলে আসে পাইপের সঙ্গে। এ কথা বলা মাত্রই কেঁদে দেন জাহিদুল। সঙ্গে সঙ্গে তাসনিমেরও বিষয়টি মনে পড়ে যায় এবং বলে উঠে ‘বাবা অনেক রক্ত’। বাবা-মেয়ের ওই সময়ের দৃশটি হৃদয় বিদারক ছিল।

তিনি বলেন, ওই ৭ দিনে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয় আমাদের। পরে এলাকাবাসী পরামর্শ দেন ভারতের মুম্বাইয়ে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার। সেখানে নাকি ক্যান্সার রোগীদের ভালো চিকিৎসা হয়। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। আত্মীয়-স্বজনরাই প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা করেন আমাকে।

এত টাকা সহযোগিতা পাব ভাবতেও পারিনি। যাহোক, পাসপোর্ট ভিসা করে ভারতে নেয়ার পর সেখানকার ডাক্তাররা বললেন, ৬ মাস সেখানে চিকিৎসা নিলেই ৮০ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে তাসনিম। কেমো থেরাপিতেই সুস্থ হয়ে যাবে সে। মোট ৪টা কেমো দেয়ার বিষয়ে বলেছিল সেখানে। একটা কেমো দিতে হয় কয়েকভাগে। সেখানে একটা কেমোর একভাগ দেয়ার পর টাকা শেষ হয়ে যায় আমাদের। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়, সঠিক সময়ে বাংলাদেশে এ কেমোগুলো যেন দেয়া হয়। এরপর দেশে চলে আসি। আবারও যাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভারতীয় ফাইল দেখে তারা আর ভর্তি নেয়নি তাসনিমকে।

জাহিদুল বলেন, বর্তমানে মিরপুর ডেলটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক মোমেনা বেগমের চিকিৎসা নিচ্ছে তাসনিম। এখানে কেমো দেয়া হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে রক্তও দিতে হচ্ছে (ও পজিটিভ)। আজও ছিল কেমো দেয়ার ডেট। কিন্তু টাকা না থাকায় যাইনি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ করেছি। সব মিলে আরও ৭ লাখ টাকা খরচ করতে পারলে মেয়ের পুরো চিকিৎসা করাতে পারবো। কিন্তু সেই টাকা পাব কোথায়? আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আর যাওয়ার মুখ নেই। তাই আপনার কাছে (প্রতিবেদককে) এসেছি। যদি কোনো উপায় হয়। শুনেছি আমাদের দেশে অনেক হৃদয়বান মানুষ আছে। তারা নিরবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তারা যদি আমার মেয়েটার পাশে দাঁড়াতো হয়তো সুস্থ হয়ে যাবে তাসনিম।

তাসনিমকে সহযোগিতার আগ্রহ থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন তার বাবার সঙ্গে। মোবাইল : ০১৬৩১-০১৭৪৩৩ (বিকাশ চালু আছে)। এছাড়াও সহযোগিতা পাঠাতে পারবেন তানিয়া আক্তার, হিসাব নম্বর : ১২৮১৫১২৩৩০৮, ডাচ বাংলা ব্যাক, শিমরাইল শাখা, ঢাকা।সূত্রঃজাগোনিউজ

প্রতিদিন ৮ কোটি টাকা খরচ করলে বিল গেটসের নিঃস্ব হতে সময় লাগবে ২১৮ বছর!

একজন ধনী ব্যক্তি যদি প্রতিদিন ১ মিলিয়ন ডলার বা ৮ কোটি টাকা খরচ করেন, তাহলে তার নিঃস্ব হতে কত দিন লাগবে? এর জবাব হিসাব-নিকাশ করে তারাই বলতে পারবেন। কিন্তু মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস যদি প্রতিদিন ৮ কোটি টাকা খরচ করেন, তবে তার যাবতীয় অর্ধ ফুরোতে ২১৮ বছর লেগে যাবে।

অক্সফামের এক গবেষণায় এ হিসাব দেওয়া হয়েছে যা গার্ডিয়ানে প্রকাশ করা হয়। তার ৭৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফুরোনোর এমনই হিসাব পাওয়া গেছে।

ওদিকে বিশ্বের আরেক শীর্ষ ধনী মেক্সিকান ব্যবসায়ী কার্সোল স্লিমের সময় লাগবে ২২০ বছর। বিনিয়োগ গুরু এ হারে খরচ করতে থাকলে ১৬৯ বছরে শূন্য হবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
তবে এসব অদ্ভুত হিসাব বিলিয়নেয়ারদের ক্ষেত্রেই করা যায়। আর বিশ্বে বিগত অর্থনৈতিক মন্দার পর বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

অক্সফাম জানায়, ২০০৯ সালে মার্চে ৭৯৩ জন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যাটি ২০১৪ সালের মধ্যে ১৬৪৫ জনে দাঁড়ায়। এই বিলিয়নেয়াররা তাদের মোট অর্থের ৫.৩ শতাংশ পরিমাণ প্রতিদিন ইন্টারেস্ট হিসাবেই পান। এই হারে বিল গেটস প্রতিদিন ১১.৫ মিলিয়ন ডলার কেবল ইন্টারেস্ট থেকেই আয় করেন।

বিলিয়নেয়ারদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো শেষ নেই। বিশ্বের নাম করা ৮৫ জন ধনীর সম্পদের পরিমাণ যত, এই ধরণীর অর্ধেক দরিদ্র মানুষের মোট সম্পদের পরিমাণ তত।

এই শিক্ষক দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নদী সাঁতারে পার হয়ে স্কুলে পৌঁছান

সব মানুষই নিজের দায়িত্ব নিয়ে সচেতন থাকেন। এই যেমন একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষা দান করা। কিন্তু যদি তার যাতায়াত পথ উন্নত না হয়? কথায় বলে ইচ্ছা থাকলে নাকি উপায় হয়। আর এ কথারই বাস্তবিক প্রয়োগ দেখালেন ভারতের কেরালার এক শিক্ষক।
পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার বাসে চড়ে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না তার। কিন্তু নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে বেশ সচেতন তিনি। আর তাই সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য তিনি যা করেন, তা অনেককেই অবাক করতে বাধ্য।

কেরালার মালাপ্পুরমের বাসিদা আবদুল মালিক। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে রয়েছে ছেচল্লিশ বছরের এই ব্যক্তি। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব কেবল ১২ কিলোমিটার। বাস বা ট্রেনে যেতে এটুকু রাস্তায় কতখানিই বা সময় লাগতে পারে? কিন্তু আবদুল মালিকের সেই রাস্তা যেতে প্রায় দু-তিনঘণ্টা সময় লেগে যায়। কারণ রাজ্যের দুর্বল পরিবহণ ব্যবস্থা।

সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন না তিনি। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গেলে যে সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতেই হবে। সবমিলিয়ে ভুগছিলেন বিবেকের দংশনে। তাই খুঁজে বের করলেন অন্য এক উপায়। নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হয়তো ভাববেন নৌকায় চড়ে যাতায়াতের কথা বলছি। কিন্তু না, অবাক করা হলেও সত্যি যে, তিনি প্রতিদিন সাঁতার কেটেই পৌঁছান স্কুলে।

রোজ নিয়ম করে সকাল ৯ টায় বাড়ি থেকে বের হন তিনি। নিজের পোশাক, জুতো, টিফিন বক্স প্লাস্টিকে জড়িয়ে কাঁধে তুলে নেন। কোমরে জড়িয়ে নেন একটি টায়ার। এরপর সাঁতার কেটে নদী পার হন। নদীর পাড়ে পোশাক পরিবর্তন করেন। তারপর ধীরে সুস্থে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যান স্কুলে।

এক দুইদিন পর, টানা ২০ বছর ধরে এ কাজ করে আসছেন তিনি। এভাবে স্কুলে পৌঁছাতে কোনো ক্লান্তি নেই তার। বরং সময় এবং যাতায়াতের খরচ কমে যাওয়ায় খুশি ওই স্কুল শিক্ষক। এই শিক্ষকের সময়ানুবর্তিতা অবাক করেছে তার সহকর্মীদের। এমন শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা শিখতে পেরে গর্বিত ছাত্রছাত্রীরাও।

দমে যাননি শারীরিক প্রতিবন্ধী কুড়িগ্রামের এই তানিয়া

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুই হাতের কবজি দিয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তানিয়া খাতুন। দুটো হাত অচল হলেও দমে যাননি তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে শিখিয়েছেশারীরিক প্রতিবন্ধী তানিয়া খাতুন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাগদাহ গ্রামের বীমাকর্মী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তানিয়া খাতুন বড়। জন্মের পর থেকেই তার দুটি হাতে আঙ্গুল নেই।

তানিয়া খাতুন ২০১৭ সালে পূর্ব চন্দ্রখানা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩.৪৫ পয়েন্টে পেয়ে এসএসসি পাস করে। পরে ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভর্তি হন। এবার এই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি।শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষে তানিয়া ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তানিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে ২০ মিনিট সময় বাড়তি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অন্য সকল শিক্ষার্থীদের মতো নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।তানিয়া খাতুন বলেন, আমার খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি এবং পড়াশুনা শেষে চাকরি করে বাবা-মাকে নিয়ে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারি।

তানিয়ার বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি সামান্য বীমাকর্মী মাত্র। আমার কোনও জমিজমা নেই। ঘরে প্রতিবন্ধী মেয়ে। কোনও রকমে তার লেখাপড়াটা চালিয়ে যাচ্ছি। মেয়েটি শুধু প্রতিবন্ধী শিক্ষা ভাতা পায়। সরকারিভাবে ঋণ দেওয়া হলে মেয়েটিকে ভালোভাবে পড়াশুনা শেষ করাতে পারবো।

ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব আমিনুল ইসলাম রিজু জানান, তানিয়া খাতুন অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। তবে তানিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি ২০ মিনিট দেওয়াসহ সব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে।তিনি জানান, তবে তানিয়া বাড়তি ২০ মিনিট ব্যবহার না করেই সকল প্রশ্নের উওর লিখতে সক্ষম।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সুইডিশ ফুটবল অধিনায়ক

সুইডেনের জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক রঞ্জা অ্যান্ডারসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি সুইডেনের জাতীয় দৈনিক ‘এক্সপ্রেসেন’ এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ গবেষণার পর আমি সিদ্ধান্তে এসেছি ইসলামই আমার জন্য উপযুক্ত ধর্ম। মানুষ আমার এ সিদ্ধান্ত জেনে ঘৃণা প্রকাশ করছে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে আমি গর্ব বোধ করি।’১৯ বছর বয়সী রঞ্জা বলেন, ১৫ বছর বয়সেই ছেলেবন্ধুর হাত ধরে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধর্মটির ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করেন।‘আমি দেখেছি, ইসলামে অনেক সুন্দর জিনিস রয়েছে।

যা আমাকে আকর্ষণ করেছে। এরপর আমি মসজিদে যেতে শুরু করি।’ সুইডেনের মুসলিম কাউন্সিলের হিসাব মতে দেশটিতে সাড়ে তিন লাখ ইসলাম ধর্মাবলম্বী রয়েছে।পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য মতে, বিশ্বের ৭শ’ ৭০ কোটি মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা একশো ৮০ কোটি। পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠির ২৪% শতাংশ ধর্মাবলম্বী নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলো ইসলাম। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ বিশ্বাস করেন খ্রিষ্টান ধর্মে।

নিউজিল্যান্ডে মাহমুদুল্লাহর ইমামতিতে টাইগারদের নামাজ আদায়

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ড সফরে রয়েছে পুনাঙ্গ একটি সিরিজ খেলতে ।

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠে নামাজ আদায় করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। ইমামতি করছেন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বর্তমানে নিউজিল্যান্ড সফরে। এদিকে গত ২০১৬/২০১৭ সালের সফরে এমনই এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

আর তিনি লিখেছেন, আপনি কোথায় আছেন সেটি কোনও বিষয় না। সবার আগে নামাজ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।গতবারের ন্যায় কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা।

ভিডিও ভাইরালের ১২ ঘণ্টার মধ্যে সড়ানো হলো সেই বৈদ্যুতিক খুঁটি !

মহাসড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি! বর্তমানে পৃথবীর প্রায় সব দেশে এটা অবাস্তব চিন্তা হলেও বাংলাদেশে এটাই বাস্তব। নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কারারচরে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের প্রায় দশ ইঞ্চি ভেতরে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ‘বীরদর্পে’ দাঁড়িয়ে ছিল।

এদিকে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন নামে এক আইনজীবী ওই খুঁটির সামনে দাঁড়িয়ে সচেতনতামূলক একটি বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
এর পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ১২ ঘন্টার মধ্যেই সেই খুঁটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত সেই ভিডিওটি ২১ হাজার লাইক, প্রায় ২ হাজার বার শেয়ার ও ৬১ হাজার ভিউ হয়। ভিডিওটিতে দেখা মহাসড়ক থেকে সেই খুঁটিটি ৫ ফিট দূরে বসানো হয়েছে।

সেই ভিডিওতে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘হায়! কেউই বিপজ্জনক খুঁটিটি সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে খুঁটিটি রাস্তার ওপর এভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখানে সড়ক বাতি না থাকায় ঝুঁকিও অনেক বেশি। যেকোনো সময় মহাসড়কের দ্রতগামী কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।’