নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে ”বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলকঃ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী…

গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান জানিয়েছেন,

থ্যালাসেমিয়া নির্মূলে বিয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, বিয়ের পূর্বে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় থ্যালাসেমিয়া নির্মূল হয়েছে। আমাদের দেশেও বিয়ের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ নুরুজ্জামান আহমেদ,বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও সাবেক সচিব আক্তারী মমতাজ প্রমুখ।

হিন্দু ছেলের সাথে প্রেম করায় মেয়ের পায়ে শিকল,বাবা-মা আটক

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ফতুল্লার দাপা শিহাচর শাহ জাহান রোলিং মিল এলাকায় পুলিশ পাঠাই। সেখানে গিয়ে একটি বাড়িতে তরুণীকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আমাদের পুলিশ উদ্ধার করে।

ওই তরুণীর বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আর এ মামলায় ওই মেয়ের বাবা-মাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা মানে আইনগতভাবে দণ্ডবিধি আইনের ৩৪২ ধারার অপরাধ। ওই মেয়েটা আমাকে জানিয়েছে- তাকে ১৪ এপ্রিল থেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল তার বাবা-মা।নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এক হিন্দু ছেলের সঙ্গে প্রেমে করা কলেজপড়ুয়া তরুণীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখায় তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরে শিকলে বাঁধা মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে পুলিশ। ওই তরুণী সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
বুধবার ফতুল্লার দাপা শাহ জাহান রোলিং মিল এলাকার একটি বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে কলেজপড়ুয়া তরুণীকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার এবং তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হয়।ওই তরুণী জানান, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে হিন্দু ধর্মের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। এরই মধ্যে একাধিকবার সে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাত। এতে সে বাধ্য হয়ে তার প্রেমের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

তিনি আরও জানান, ওই ছেলে কথা দিয়েছিল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করবে। কিন্তু সে তা না করে প্রেমের সম্পর্কে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ায়। বিষয়টি বাবা-মা জানতে পেরে বাধা দেয়।তিনি জানান, এ ঘটনায় কয়েকদিন ধরে তার বাবা-মা শিকল দিয়ে পা বেঁধে তাকে ঘরে আটকে রাখেন।

পরে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে জানান- তাকে ফতুল্লার এক বাসায় শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে পুলিশ তাকে চিকিৎসা দিয়েছে।

আজ যে সময় আঘাত হানতে পারে শক্তিশালী ফণী

উপকূল থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার মধ্যরাতে আঘাত হানার কথা থাকলেও শনিবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে এটি শনিবার সকাল ১১ থেকে বেলা ১২টার দিকে আঘাত হানতে পারে।

আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার মধ্যরাতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নয়, দেশেল মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এটি সাতক্ষীরার উত্তর দিয়ে যশোর, ঝিনাইদহ, রাশশাহী ও ময়মনসিংহের দক্ষিণ দিয়ে চলে যেতে পারে। এসব এলাকায় প্রবল বাতাস হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে আসার পথে আরও দুর্বল হয়ে এই ঘূর্ণিঝড় শনিবার সকাল ১১-১২ টার মধ্যে বাংলাদেশ পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।

ভারতের ওড়িশ্যার উপকূলে উঠে আসার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে ফণী দুর্বল হয়েছে অনেকটা, ‘অতি প্রবল’ থেকে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সন্ধ্যার পর কোন শিক্ষার্থী বাইরে আড্ডা দিতে দেখলেই গ্রেফতার হবে : ওসি এসএম ওবায়েদুল হক

সন্ধ্যার পর কোনো কিশোর বা শিক্ষার্থীকে বাইরে আড্ডা দিতে দেখলে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) হালিশহর থানার ওসি এস এম ওবায়েদুল হক।

শনিবার দুপুরে নগরীর হালিশহর ফইল্যাতলী বাজারে দীলিপ নামের এক কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।ওবায়েদুল হক বলেন, আগে থেকে সিএমপির প্রত্যেক থানায় নির্দেশনা ছিল, সন্ধ্যার পর কিশোর বা শিক্ষার্থীরা বাইরে আড্ডা দিলে তাদের গ্রেফতার করতে।

এই আড্ডা থেকে আর যাতে কোন অপরাধের জন্ম না হয়, সেটা নিয়ন্ত্রণে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে ওসি ওবায়েদুল হক বলেন, পরিবারে সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাড়ছে কিশোর অপরাধ। ছোট বিষয় নিয়ে দ্বন্ধে বড় ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবারের উচিত তাদের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণ করা, সন্তানদের কাজ মনিটরিং করা।

প্রসঙ্গত, নগরীর কয়েকটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে। তারা খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ।

আমি নুসরাতের মা বলছি : রাশেদা রওনক !

আজ পহেলা বৈশাখে নতুন আলোয় সেজে উঠবে বাংলাদেশ! প্রস্তুতি শেষ, এবার উদযাপনের পালা। এবার বাড়তি পাওনা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন।

আপনারাও উদযাপনের জন্য তৈরি বর্ণিল সাজসজ্জায়; পত্রিকার পাতাগুলো সাজবে নতুন সাজে; নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে প্রতি ঘণ্টায় নিউজ রিডাররা তাদের চ্যানেলগুলোতে; প্রতিটি চ্যানেল প্রতিযোগিতায় নামবে কে কত সেলিব্রিটি এনে সুন্দর প্রোগ্রাম বানাতে পারে; বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো তৈরি নতুন বছরে নতুন বিজ্ঞাপন বাজারে ছাড়তে; দোকানগুলো আগের রাতে ধুয়েমুছে পরিস্কার করা হচ্ছে।

হালখাতা খুলতে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা, নতুন বউ বায়না ধরেছে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য; হাতে-পায়ে আলতা আর মেহেদি দিয়ে তৈরি কিশোরীর দল; মেলায় নাগরদোলায় চড়ে বেড়াবে শিশুদের দল; চারদিকে চলবে অজস্র মানুষের কোলাহল; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবরের মতো বলবে- নিরাপত্তাবেষ্টিত থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সেই বর্ণিল যাত্রায় শামিল হবে তোমরা সবাই নানা রঙের পোশাক, মুখোশ আর ফানুস নিয়ে! বস্তিতে প্রতিদিনের পান্তা-ভর্তাই বৈশাখের মেন্যু।

ধনীর বাড়িতে আলাদা করে গরম ভাতে পানি ঢেলে বড় দামি ইলিশের মেন্যু আর মধ্যবিত্তের দুটির সমন্বয় ঘটিয়ে বৈশাখ উদযাপনের চেষ্টা…ঘরে ঘরে ইলিশ; না হয় অন্য কোনো মাছ রান্না করবে মায়েরা… মা রান্না করে বসে থাকে কখন ছেলেমেয়ে সেজেগুজে মেলা থেকে ফিরে তার হাতে রান্না খাবে!আপনারা, আপনাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র যখন এই বর্ণিল বৈশাখ উদযাপনে মত্ত, তখন কী করছে আমার মতো নুসরাত, তনু, রূপা, তানহা, আফসানার দুঃখিনী মায়েরা? আমাদেরও তো বড় সাধ জাগে কলিজার ধন মেয়েকে বুকে টেনে ধরতে। আমরা কী করব এই দিনে? দেশবাসী, আমাদের জীবনের বৈশাখী আনন্দ কেড়ে নিল যারা, তাদের সঙ্গেই তো আজ আপনারা বৈশাখের আনন্দে মত্ত হয়েছেন।

তারাও আছে আপনাদের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। তারাও আপনাদের সঙ্গে ফানুস ওড়াচ্ছে। নয়তো বৈশাখীর আনন্দ মিছিলে নারীর শ্নীলতাহানির চেষ্টা চলে কীভাবে? কীভাবে আমাদের মেয়েদের মতো সেদিন অনেকেই নিপীড়িত হয়? কেন এই আনন্দ আয়োজনে প্রতিবার র‌্যাব-পুলিশকে বলতে হয়- নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে? কেন আমাদের মাঝেই আমরা নিরাপদ নই?কেন আমার কিংবা আমাদের মেয়েরা হারিয়ে গেল এই নষ্টদের হাতে কষ্ট পেয়ে? এত কিছুর পরেও আপনারা আবার যাচ্ছেন আনন্দ মিছিলে; আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিকড়ের সন্ধানে! বাঙালির প্রাণের উৎসব এই বাংলায়, এর চেয়ে বড় উৎসব আর কী হতে পারে যেখানে শ্রেণি, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে যায়? কিন্তু আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন- সবাই কি এক হয়?

এই সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কিড় আমাদের এক ভাবাতে শেখায়? একই যদি হতো, একই যদি ভাবত, তবে আজ কেন আমি সন্তানহারা এক দুঃখিনী মা? এত আনন্দের মাঝে কেন আজ আমার বা আমাদের ঘরে বৈশাখের আনন্দ নেই? কেন আমার বা আমাদের মেয়েরা হারিয়ে গেল এভাবে? কেন তাদের হত্যাকাণ্ড কিংবা ধর্ষণের বিচার হয় না? কেন এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার এত দীর্ঘসূত্রতা দেখতে হয়?

কেন এখানে টাকার খেলা চলে? কীভাবে এখানে ধর্ষক, খুনি, নিপীড়ক হয়ে ওঠে ক্ষমতাশালী আর আমরা হয়ে যাই নিরীহ প্রাণী, যার ওপর প্রতি মুহূর্তে চলে মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি? কীভাবে এই হায়েনারা এখনও আমাদের প্রতি মুহূর্তে হেনস্তা করে? রাষ্ট্র কি সেই খবর রাখে? কীভাবে আমি বা আমরা প্রতিদিন বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে দিন কাটাই, সে না হয় না-ই জানলেন আপনারা। কিন্তু কন্যা হত্যার বিচারটুকুও আপনারা আমাদের দেখতে দেবেন না? আহারে মা আমার! কত কষ্ট পেয়েছে, মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করেছে… যেই জানোয়ারদের অত্যাচার সহ্য করে চলে গেছে, সেই জানোয়ারগুলোর ক্ষমতার দাপট দিন দিন বাড়তেই থাকে!

বিচার পাই না আমরা। আদালতের প্রতিটি সিঁড়ি আমাদের চোখের জলে ভিজেছে অথচ আপনাদের ভাবায় না, কষ্টও দেয় না? কখনও কি নিজেকে আমার বা আমাদের জায়গায় রেখে ভেবেছেন আপনারা? আপনারা কি দেখতে পান আমাদের চোখের কান্নায় আর পানি নেই?
শুকিয়ে গেছে আমাদের এই চোখ দুটি? এই আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সমাজ পরিচালনা করছেন, ডাক্তারি বিদ্যা নিয়ে রোগীদের বাঁচিয়ে তুলছেন, বুয়েটে পড়ালেখা করে বড় বড় ইমারত তৈরি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে শিক্ষক হচ্ছেন কিংবা আমলা হচ্ছেন, রাজনীতি করছেন, নাটক-সিনেমা বানাচ্ছেন, বড় বড় ব্যবসায়ী হচ্ছেন, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জাপান কিংবা আমেরিকার কোনো ল্যাবে বসে রসায়ন, পদার্থ কিংবা অঙ্কশাস্ত্রের কঠিন সূত্র মেলাচ্ছেন, প্রবাসীরা নিজেদের জীবন সুখ-শান্তিতে কাটিয়ে দিচ্ছেন।

কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে এই দুঃখিনী মায়েদের দুঃখ কি একটুকুও আপনাদের ছোঁয় না? আপনারা কি কখনও কোনোদিন জানতে চেয়েছেন- বেঁচে থেকেও মৃত আমি, আমরা কীভাবে দিন কাটাই? এই রাষ্ট্র কি কোনোদিন খবর নেয় আমাদের প্রতিটা দিন কীভাবে কত নতুন নতুন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যায়? এত সংগঠন- কে কবে আমার, আমাদের কাছে এসেছে দুঃখের কথা শুনতে? এত চ্যানেল, পত্রপত্রিকা কেউ কি আমার বা আমাদের কোনো খোঁজ নেয়- আমরা সন্তানহারা মায়েরা কেমন আছি, কীভাবে কাটাই এই দিনগুলো? আমাদের কলিজার ধনকে মাটির নিচে রেখে- কেউ কি এসবের খোঁজ নিতে আসে? না-ইবা আসুক, দরকার নেই আপনাদের সান্ত্বনা, যা দরকার আমাদের কন্যা হত্যার বিচার!

সেটাও আপনারা আমাদের দেবেন না? তাহলে কী লাভ এত পড়ালেখার? কী লাভ এই রসায়ন কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের ল্যাবে বসে গবেষণার? কী লাভ এই জজ-ব্যারিস্টার হয়ে? কী লাভ এত বড় রাজনীতিবিদ হয়ে, যদি নিজ দেশের দুঃখিনী মায়েদের একটা বিচার করে দিতে না পারেন? অন্তত বিচার চেয়ে পাশে দাঁড়াতে না পারেন? আমি জানি, আপনারা আপনাদের নিজের জীবন, সন্তানের জীবন কিংবা বৈশাখের এই সামাজিক জীবনের আনন্দ মিছিলকেই প্রাণবন্ত করার চেষ্টায় মত্ত, আমার দীর্ঘশ্বাস আপনাদের ভাবায় না, কাঁদায় না…আমি জানি, স্বার্থপরের দুনিয়ায়, এই আমি একলাই কাঁদব, এই সমাজ অতি স্বার্থপর…দু’দিন চিৎকার করে পরদিন ভুলে যাই আমাদের নুসরাত, তনু, আফসানা, পূজা, রিসা, তানহা, রূপাদের। আহারে!

আপনাদের মতো যদি স্বার্থপর হতে পারতাম, ভুলে যেতে পারতাম! নাড়িছেঁড়া ধন আমার, পাশে নেই; শুয়ে আছে মাটির নিচে কত কষ্ট, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, নিপীড়নকে সঙ্গে নিয়ে- সেই বেদনা আপনাদের ছুঁয়ে না যাক, অন্তত আমাদেরকে আমাদের কন্যা হত্যার বিচার পেতে সাহায্য করুন আপনারা! এইটুকু চাওয়া রইল আজকের দিনে আপনার কাছে, আপনাদের কাছে। সমকাল

শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছোট্ট রিয়ার বাঁচার আকুতি ! হার্টে ৩ টি ছিদ্র,বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়ান !

বগুড়ার সোনাতলায় মোছা. মাইশা আক্তার রিয়ামনি (৭) নামে এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর হার্টে তিনটি ফুটো দেখা দিয়েছে।জীবন বাঁচাতে শিশুটির মা-বাবা সকলের কাছে রোগমুক্তির জন্য দোয়া ও হৃদয়বানদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রার্থনা করেছেন।

মা মহসিনা বেগম ও বাবা ফরিদুল ইসলাম জানান, তিন মেয়ের মধ্যে রিয়ামনি ছোট। বড় দুই মেয়ে বিবাহযোগ্য। রিয়ামনির চার বছর বয়সে বুকে ব্যথা শুরু হয়।বগুড়া ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার হার্টে তিনটি ফুটো। মেয়ের চিকিৎসা করতে বাড়ির জমি, গাছপালা ও গরু-ছাগল বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এতে মেটেনি রিয়ামনির চিকিৎসা ব্যয়। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে।

জানা গেছে, বাড়ির জায়গা না থাকায় ফরিদুল ইসলাম পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন সোনাতলা পৌর এলাকার গড়ফতেপুর গ্রামে শশুর বাড়িতে। তিনি ওয়েল্ডিং কারখানার শ্রমিক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিয়ামনির চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন।

তার চিকিৎসার জন্য দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন রিয়ামানির মা-বাবা।

সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা:

মোছা. মহসীনা বেগম,

সঞ্চয়ী হিসাব নং: ০১০০১৬৭২২৮১০,

জনতা ব্যাংক লি:, সোনাতলা শাখা, বগুড়া।

বিকাশ নং ০১৭২১৪৩৫৫১০।

অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধের ডাক!…

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়াকাটা-বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’বলে মন্তব্য করলে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৯ মার্চ উপাচার্য এস এম ইমামুল হক তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সিন্ডিকেটের সভা সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ার পর রাতে বৈঠক করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।এদিকে ববির উপাচার্য এস এম ইমামুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, সিন্ডিকেটের সভায় সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে আন্দোলনরত বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু আমাদের কাঙ্খিত দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস না পাওয়ায় রাত ১১টার দিকে আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকে বুধবার বেলা ১১টা থেকে কাফনের কাপড় পরে কুয়াকাটা-বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অবরোধ ও আমরণ অনশন পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সহমত প্রকাশ করে ১২ দফা দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান।উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৫ দিন আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার তাদের বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা গতকাল বেলা একটায় শেষ হয়। এর মধ্যে উপাচার্যের পক্ষ থেকে পদত্যাগের বা ছুটিতে যাওয়ার লিখিত ঘোষণা না আসায় শিক্ষার্থীরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন। আগের দিনও দুই ঘণ্টার জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন তারা।

এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত ৬টি নিম্নচাপ, যার মধ্যে দুটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়!

আকাশের গায়ে কখনো ঘন মেঘ, কখনো রোদ, কখনো আবার বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত। শিলাবৃষ্টিও পড়তে দেখা গেছে। হালকা বৃষ্টির সঙ্গে একদফা ঝড়, এরপর বৃষ্টি। এতে রাজধানীসহ দেশের বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।সোমবার (৯ এপ্রিল) এমনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়ার পরিস্থিতি।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবারের ন্যায় মঙ্গলবারও (৯ এপ্রিল) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়ার পরিস্থিতি একই থাকতে পারে। দেশের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হতে পারে। একই সময় সমান্তরাল ধারায় শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে। জুন মাসে বর্ষা বিস্তার লাভ করলেও সামনের দিনগুলোয় দেশের কোথাও না কোথাও বৃষ্টির দেখা মিলবেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬টি নিম্নচাপ, যার মধ্যে দুটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

ফলে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও শিলা বৃষ্টি সেই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন ঢাকায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দোকান উপহার পেল সেই বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকান হস্তান্তর করা হয়েছে আজ।কক্সবাজারের রামুর গর্জনীয়া এলাকার বাসিন্দা জিন্নাত আলীকে গর্জনীয়া বাজারে এই দোকান হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।

এ সময় রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। উচ্চতায় ৮ ফুট ৬ ইঞ্ছি আর ২৩ বছর বয়সের জিন্নাত আলী ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে তার হরমোনজনিত রোগের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তীতে তার বসবাস উপযোগী গৃহ নির্মান করে দেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।জমি’র দখল হস্তান্তর, দোকানগৃহ নির্মাণ ও দোকানের পুঁজি’র ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৬ মাস আগে দীর্ঘদেহী মোহাম্মদ জিন্নাত আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় সংসদে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলসহ সাক্ষাত করেছিলেন।

ঝড়ের সময় ভুলেও যে ৭টি কাজ করবেন না

বৈশাখ শুরুর আগে থেকেই প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে সাথে ঝড় হওয়া, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। ঝড়ে বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের কবলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মানুষ। তাই ঝড়ের সময়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তা হলে প্রাণহানি কমানো যাবে। তবে ঝড়ের সময় অনেকে ভয় পেয়ে যান ও বুঝতে পারেন না, কী করবেন। ঝড়ের সময় ঘরে বা বাইরে যেখানে থাকুন না কেন? নিরাপদে থাকুন। আসুন জেনে নেই ঝড়-তুফানের সময় ভুলেও যেসব কাজ করবেন না..

১. যেখানে ঝড়ের তীব্রতা কম অনুভূত হবে, সেখানে আশ্রয় নিন, পুরনো বাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল এড়িয়ে চলুন।

২. ঝড়ের সময় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন। নিরাপদ স্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখুন।

৩. ধুলোবালি বেশি হলে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন, মজবুত কোনো ভবনের নিচে আশ্রয় নিন। নিরাপত্তার জন্য চশমা বা মাস্ক পরতে পারেন।

৪. ঝড়ের সময় কাচের দরজা-জানালা পর্দা দিয়ে ঢেকে দিন, বাড়ির জানালা-দরজা ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন।

৫. বাড়ির সব প্রকার ইলেকট্রিক সংযোগ বন্ধ রাখুন, ঝড়ের সময় মোবাইল ফোন চার্জ দেবেন না। ঘরের বাইরে বের হবেন না, শিশুদের প্রতি খেয়াল রাখুন।

৬. ঘরে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ রাখবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওয়াটারপ্রুফ ফাইলে রাখুন।

৭. মোমবাতি বা ব্যাটারিচালিত কোনো আলো হাতের কাছে রাখুন।