বন্যায় সড়কের ক্ষতি, প্রভাব পড়বে ঈদযাত্রায় !

বন্যায় সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এবারের ঈদ যাত্রায়। উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার বাড়ি ফেরা মানুষেরা পড়বেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ডুবে যাওয়া সড়কগুলোতে এখনই ভারি যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানি সরে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হবে। বন্যায় ডুবে গেছে মাঠ, ঘাট। ডুবেছে বাড়ি ঘর, সড়ক মহাসড়কও। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ নতুন কিছু নয় এদেশের জন্য। তবে এবার ভোগান্তিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া কোটি মানুষের যাত্রায়। মহাসড়কের বেহাল দশায় আতঙ্কিত গণপরিবহণ চালকরা।

বাস চালকরা বলছেন, বন্যায় সমস্যা বেশি। রাস্তাঘাট ভাঙা, চলতে কষ্ট হয়। সরকার ঠিক না করে দিলে ভাঙাচোরা দিয়ে যেতে হবে। রাস্তাঘাট ভাঙলে মানুষেরও কষ্ট, আমাদেরও কষ্ট।দেশের উত্তরাঞ্চলের সড়ক মহাসড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবারের বন্যায়। পানি সরে গেলেও থেকে যাবে সড়কের বেহাল দশা। এখনি এসব সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, বন্যার পরে এ সমস্ত রাস্তা কিন্তু বিরাট একটা ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়। এটা রাস্তা নাকি চষা ক্ষেত সেটা বোঝা যায় না। একটা হচ্ছে পানি সরিয়ে ফেলা আর ওভার লোডিংয়ের ব্যবস্থা করা।সড়কে পানি জমে থাকায় এখন সম্ভব নয় সংস্কার কাজ। তবে বন্যার পানি নেমে গেলে সড়কগুলোকে দ্রুত চলাচল উপযোগী করা যাবে।

সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, সাত দিনের মধ্যে আমরা সব রাস্তা ঠিক করতে পারবো। তবে শুধুমাত্র টাঙাইলের রাস্তাটায় সময় বেশি লাগবে। ওটায় একটা বড় বাঁধ আছে। এজন্য ১৫ দিন লাগবে। দেশের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : সময় টিভি নিউজ

জামালপুরে বন্যায় ১২ লাখ পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ !

জামালপুরে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে হ্রাস পেতে শুরু করলেও ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরাম, দশানীসহ সব নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জামালপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর সদর ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ৬১ টি ইউনিয়ন ও ৭ টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ১২ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। পানিবন্দী মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।বন্যার কারনে জেলার ১ হাজার ১০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোপা-আমনের বীজতলা, আউশ ধান, পাট ও সবজি, ভুট্রাসহ ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

বন্যায় জেলার কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বানভাসীরা। কোথাও ত্রাণের খবর পেলে বানভাসী মানুষ সেখানে হুমড়ী খেয়ে পরছে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ৮৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা ও ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে আত্রাই নদী, মুহূর্তে তলিয়ে গেছে ২শ’ গ্রাম !

হঠাৎ বন্যায় নওগাঁর মান্দায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিশেহারা লক্ষাধিক মানুষ। বাধঁ ভেঙে আত্রাই নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে ২শ গ্রাম।তলিয়ে গেছে প্রায় দু হাজার হেক্টর জমির রোপা, আউশ ও রবি ফসলসহ ৫শ পুকুরের কোটি টাকার বেশি মাছ ভেসে গেছে। দুর্গতরা অনেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে ভোর থেকেই মান্দার আত্রাই নদীর নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩শ ফিট ভেঙে যায়। স্রোতের প্রবল তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে পানি ঢিকে পড়ে গ্রামের পর গ্রামে।প্রায় ৫শ পুকুরের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়। প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় প্রায় দু হাজার হেক্টর রোপা আউশসহ রবি ফসল। আকস্মিক এ বন্যায় ২শ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছ। অনেকেই আশ্রয় নেয় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

এদিকে বাঁধ ভাঙার পর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আর ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান। আর প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলহানির কথা বলছে কৃষি বিভাগ।

বানভাসিদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ১শ পরিবারকে ১০ কেজি চাল ১ লিটার তেল,৫ কেজি চিনি ও ৫ কেজি চিড়া প্রদান করেছে।দুর্গতদের তালিকা করে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন । আর কৃষি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করেছে।

কুড়িগ্রামে বন্যায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী !

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটেছে। ব্রহ্মপুত্র-ধরলাসহ নদীর পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় জেলার ৫৫টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলার ৯টি উপজেলার ৩৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।এদিকে ঘরে ঘরে বন্যার পানি ওঠায় পানিবন্দি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন তারা। চরাঞ্চলে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় বন্যার্তরা স্কুল, বাঁধের রাস্তা, পাকা সড়কসহ উঁচু স্থানে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় নতুন করে ৩ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ১০ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ !

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার ১০ বছর পর জামালপুর জেলা কা**রাগার থেকে মুক্তি পেলেন সরিষাবাড়ি উপজেলার পাখিমারা গ্রামের বৃদ্ধ আজমত আলী মাস্টার। হাইকোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জামালপুর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।

যাবজ্জীবন সাজার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির করা আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত ২৭ জুন আপিল বিভাগ একটি রায় দেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আবু তাহের নির্দেশনা পাঠান।

ওই নির্দেশনাটি বিশেষ ডাকযোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুরের জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমানের কাছে পৌঁছে। নির্দেশনা পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে আজমত আলীকে কা**রাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার পাখিমারা গ্রামের ইজ্জত উল্ল্যা সর্দারের ছেলে আজমত আলী। তার বয়স এখন ৭৪ বছর। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি।

১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বি*রোধের জেরে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নি***হত হন। এ ঘটনায় আজমত আ**লীকে আ**সামি করে হ**ত্যা মা**মলা করা হয়।এ মা**মলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে যা***বজ্জীবন সাজা দেন। এ রায়ের বি**রুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। একই সময় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ ক্ষমার জন্যও আবেদন করেন। আপিল বহাল থাকার সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কা**রাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। কা**রাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সরিষাবাড়ি গ্রামের বাড়ি চলে যান।

অপরদিকে ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান। ১৩ বছর বাড়িতে থাকার পর কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর আজমত আলীকে তার বাড়ি থেকে পুলিশ ফের গ্রে***ফতার করে। এর পর থেকে তার দিন কাটতে থাকে জামালপুর জেলা কার***গারের সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে।

জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে এই কা***রাগারে যোগদানের পর আজমত আলীর বিষয়টি নজরে আসে। আমি কা**রাগারেই আজমত আলীর সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলোচনা করি। পরে আমি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেই।আজমত আলী মাস্টারের মেয়ে বিউটি আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে গ্রে****ফতার করে ১০ বছর জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমার বাবার জীবনের মূল্যবান সময়ের বেশিরভাগই জেলে কাটতে হলো। জীবনে কিছুই পেলেন না তিনি।

যাদের ভুলে তার শিক্ষক বাবাকে দীর্ঘ সময় জেলের ঘানি টানতে হলো তিনি তাদের শাস্তির দাবি জানান। মুক্তি পেয়ে আজমত আলী মাস্টার বলেন, মুক্তি পাওয়াটা আনন্দের বিষয় হলেও আমার জন্য খুবই দুঃখের। আমার জীবনটা কারা*গারেই কেটে গেছে। লেখাপড়া করে আমি কি করতে পারলাম। জীবনতো কারা*গারেই শেষ। আমি এর বিচার আপনাদের কাছে দিলাম।

রোহিঙ্গা শিবিরে অন্তঃসত্ত্বা ৩৪ হাজারেরও বেশি !

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনসংখ্যা। সম্প্রতি চালানো এক জরিপ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে সন্তান সম্ভবা হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩’শ ৩৮ জন নারী।এ বছরই তাদের অনাগত সন্তানরা পৃথিবীর আলো দেখবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ওই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি এখনও চলমান।

গত ২৩শে জুন ওই জরিপের প্রাথমিক পরিসংখ্যানসহ কক্সবাজারস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের একটি হালনাগাদ রিপোর্ট ঢাকায় জমা হয়েছে। সমন্বিত ওই রিপোর্টে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক জরিপ এবং সংগ্রহ করা তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে মানবিক কারণে আশ্রয় পাওয়া নিবন্ধিত ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫’শ ৭৬ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮’শ ৫ জন আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্টের পর।

বিশাল ওই জনগোষ্ঠির সঙ্গে এসেছে ৩৯ হাজার ৮ শ ৪১ জন এতিম শিশু। যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৫৯ জন ছেলে এবং ২০ হাজার ৭’শ ৮২জন মেয়ে। এতিম ওই শিশুদের মধ্যে ৮ হাজার ৩ শ ৯১ জনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। হয়ত তারা নিখোঁজ না হয় বর্মী বর্বরতায় প্রাণ হারিয়েছেন। এতিম ওই শিশুরা স্বজনদের সঙ্গে কোন মতে প্রাণ নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে পেরেছে।

বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের তরফে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ যৌথভাবে ওই এতিম শিশুদের তত্ত্বাবধান এবং সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।পিতৃমাতৃহীন ওই শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শুরু থেকেই। অবশ্য তাদের ট্রমা কাটাতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে জাতিসংঘের সহায়তায় বিভিন্ন ধরণের মোটিভেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।রিপোর্ট বলছে, কেবল এতিম শিশু শরনার্থীই নয়, উঠতি বয়সী সব শিশুদের বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। যেসব নারীরা তাদের স্বামী ও স্বজন হারিয়েছেন তাদের সুরক্ষায়ও বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর দিচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে- রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, সেনিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষায় সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।শিশু-কিশোর এবং উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্যাম্প এলাকাতেই পরিচালিত হয়। রিপোর্টে এসব সেবার খাতওয়ারি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্ট মতে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিকভাবে ২০০০ একর জমি বরাদ্দ ছিল রোহিঙ্গা শিবির নির্মাণের জন্য। কিন্তু আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ৩৫০০ একর জমি বরাদ্দ হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে কেবল নবাগত রোহিঙ্গাদের দখলেই রয়েছে ৬২০০ একর জমি।রিপোর্ট বলছে, প্রাথমিকভাবে নবাগতদের জন্য ৮৪ হাজার অস্থায়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। কিন্তু এটি এখন ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার, ৯ শ ৭৯জন আশ্রয় প্রার্থীসহ প্রায় সব রোহিঙ্গাকে নিয়মিতভাবে খাদ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ক্যাম্প এলাকায় ৮ হাজারের বেশী নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার। গোসল খানার সংখ্যা ১৬ হাজার। বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা।
স্বাস্থ্য খাতের বিস্তারিততে বলা হয়েছে- ক্যাম্প এলাকায় ৭টি ফিল্ড হাসপাতাল, ১৬২টি স্বাস্থ্য পরিচর্চা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এছাড়া কেবল মা ও শিশুদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতায় ১২টি কেন্দ্র বিশেষ সেবা দিচ্ছে। সব ক’টি ক্যাম্পে সরকারি বেসরকারি ১২৪টি সংস্থা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছে।

রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে চলতি বছরে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার শিশুকে ক্রিনিংসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার বরাতে রিপোর্টে বলা হয়েছে- প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ছেলে মেয়ের শিক্ষা সহায়তা প্রয়োজন। ওই টার্গেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৭৭ হাজারকে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সূত্র: মানবজমিন।

বরিশালে মুড়ি খেয়ে দিন কাটানো সেই এতিম শিশুদের পাশে আরিফিন মোল্লা ..

মানুষের দুঃখ কষ্টের খবর পেলেই তাদের কাছে ছুটে যান। অনেকের চোখে তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ কিংবা অনেক টাকার মালিক হলেও তার কর্মকাণ্ড একেবারেই সাধারণ মানুষের মত। কোন ব্যক্তি সমস্যায় পড়ে তার কাছে গেলে তিনি কখনওই কাউকে ফিরিয়ে দেননা। সকলের পাশেই দাড়ান তিনি।

অনেক সময় মানুষের সমস্যা, দুঃখ, কষ্টের সংবাদ পেলে তিনি নিজেও ছুটে যান।

ছুটি গিয়ে দিয়ে আসেন অনুদান। তার অনুদানের বিষয়টি মিডিয়ায় বা কাউকে বলতে/দেখাতে চান না তিনি। তার পরেও তার অনুদানের দুএকটি সংবাদ মিডিয়ার চোখ ফাকি দিতে পারেনা। তিনি হলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য আরিফিন মোল্লা ।এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক সংকটে একবেলা খাবার খেয়ে নয়তো মুড়ি খেয়ে দিন কাটানো রহমানিয়া কিরাতুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের পাশে দাড়ান আওয়ামী লীগ নেতা আরিফিন মোল্লা।

শুক্রবার তিনি নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর গুচ্ছগ্রামের ওই এতিমখানায় গিয়ে এতিম শিশুদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন। এসময় এতিমখানায় নগদ ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন তিনি। এছাড়াও এতিম শিশুদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যাক্ত করে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, আরিফিন মোল্লা এর পূর্বেও অসংখ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আরিফিন মোল্লার অনুদান পেয়ে ওই মাদ্রাসার এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

তার এমন উদ্যোগে খুশি হয়ে শুক্রবার মাগরিব নামাজ বাদ আরিফিন মোল্লার জন্য দোয়া করে ওই মাদ্রাসার এতিম শিশুরা।এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম ফিরোজী জানান, তার অসুস্থতার কারনে কয়েকদিন মাদ্রাসার এতিম শিশুরা একটু সমস্যায় পরে।তিনি আরো বলেন, আমি প্রায় এক সপ্তাহ যাবত মেডিক্যালে ভর্তি থাকার কারনে এতিম শিশুদের খাওয়া দাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছিলো।

তখন কিছু সাংবাদিক ভাইয়েরা আমার সাথে দেখা করতে আসলে তারা দেখে যে আমি নেই , এবং আমার মাদ্রাসার অর্ধ শত বাচ্চারা ভাত খেতে না পেরে মুড়ি ও চিড়া খাচ্ছে। পড়ে তারা এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে বিভিন্ন যায়গা থেকে ফোন এবং সাহায্য আসে।এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রুবার আরিফিন মোল্লা সাহেব মাদ্রাসায় এসে সার্বিক বিষয় দেখেন এবং নগদ টাকা অনুদান করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পরে তার জন্য দোয়া করানো হয়।

ভোলায় ধরা পড়লো ইলিশের রাজা, দাম ১০ হাজার !!

ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনায় ভরা মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া না গেলেও জেলেদের জালে ধরা পড়েছে রাজা ইলিশ। শুক্রবার দুপুরে শশীগঞ্জ মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায় আবুল হাশেম মহাজনের আড়তে ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি রাজা ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ টাকায়।

চাঁদপুর ইউনিয়নের দালাল কান্দি গ্রামের কবির মাঝির জালে রাজা ইলিশ মাছটি শুক্রবার সকালে ধরা পড়ে। রাজা ইলিশসহ তাদের জালে আরো ৯টি ইলিশ ধরা পড়েছে। ওই ঘাটের মাছ বেপারী আল আমিন কুট্টি ঢাকায় আরো বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাছটি ওই দামে কিনেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে এর সুফল জেলেরাই পাবেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ৭ হাজার টাকা না দিতে পারায় ৯০ বছরেও জোটেনি ভাতার কার্ড !

নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাল ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোসাম্মৎ লক্ষু ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী লক্ষুর বয়স ৯০ বছর। ৯০ বছর বয়সেও তার ভাগ্যে জাটেনি বয়স্কভাতা কিংবা বিধবাভাতার কার্ড। লক্ষু খাগুরিয়া গ্রামের মৃত কালাচাঁনের স্ত্রী।

জানা যায়, কাইটাল ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন চালান লক্ষু। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে গেছেন তিনি। এখন আর আকাশ দেখতে পান না, শুধু পা আর মাটি দেখেন লক্ষু।সরকারের পক্ষ থেকে দরিদ্র অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা চালু করা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় কোনো ভাতার কার্ডই তার ভাগ্যে জোটেনি।

বৃদ্ধা লক্ষু বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় সরকার নির্ধারিত বয়স্কভাতা কিংবা বিধবাভাতার কার্ড আমাকে দেয়া হয়নি। ফলে এই বয়সেও আমাকে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। আমার এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার সন্তোষের কাছে একটি বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য বার বার গেছি। একটি কার্ডের বিনিময়ে আমার কাছে সাত হাজার টাকা দাবি করেছেন সন্তোষ মেম্বার। ভিক্ষা করে যেখানে আমার জীবন চলে না সেখানে মেম্বারকে সাত হাজার টাকা কোথা থেকে দেব আমি। পরে ইউপি চেয়ারম্যানকে বললেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া, রহিমা বেগম, কলি আক্তার জানান, জনসেবায় সরকারের পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। বয়স্ক কিংবা বিধবাভাতার কার্ডের জন্য টাকা আদায় বা দাবি করা জনপ্রতিনিধিরা ওই চক্রের সদস্য। এদের আইনের আওতায় আনা দরকার।বৃদ্ধা লক্ষুর প্রতিবেশীরা জানান, লক্ষুর এক ছেলে রয়েছে, কিন্তু সে মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবার রেখে যাওয়া জমি-জমা প্রতারণা করে অন্যরা নিয়ে যাওয়ার পর থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে লক্ষুর ছেলে। ভিক্ষা করে সংসার চালান লক্ষু।

পদ্মা নদীতে সর্বস্ব হারিয়েছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন বচ্চা ছেলেটির !

মা কুলসুম বেগম (৩৫) ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত মৃ”ত্যুপথ-যাত্রী বিছানায় শুয়ে মৃ”ত্যু প্রহর গুণছে। একমাত্র সন্তান ছোট্ট কাউছার অসুস্থ মায়ের পায়ের কাছে বসে এক পায়ের উপর ভর করে মাকে সেবা করছে।

আর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তার ছোট্ট বোন শিশু জুই খাতুন।বিষয়টা সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও পদ্মা’য় সর্বস্ব হারানো পদ্মাপাড়ের এক হতদরিদ্র পরিবারের বাস্তব ঘটনা এটি।রাজবাড়ী সদর বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামের দিন-মুজুর জালাল ফকিরের বাড়িতে সম্প্রতি দেখা গেল এমন হৃদয়-বিদারক ঘটনা।কুলসুম বেগম বলে, বছর দেড়েক আগে সর্বনাশা পদ্মা নদীতে আমার ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়েছে।

এখানে কোনো মতো মাথা গুজার ঠাঁই পেয়েছিলাম এখন উপরওলার চোখ পড়েছে আমার দিকে। আমি চলে গেলে আমার ছোট ছোট ৩টা বাচ্চা কে দেখবে।স্বামী জালাল ফকির বলেন, গত মাসে ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে একটা ক্যান্সার নিরাময় ওষুধ কিমু দেয়া হয়েছে, যার দাম ২০ হাজার টাকা এবং বলেছেন উপযুক্ত চিকিৎসা সেবায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মাসে আরো একটি কিমু দিতে হবে কিন্তু এতো টাকা কোথায় পাব।

যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যাক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতো তাহলে উপকৃত হতাম।কাউছার বলে, পা কেটে আমার ৮টা সেলাই লাগছে কিন্তু তাতে আমার কোনো কষ্ট নেই আমি শুধু আমার মা’কে বাঁচানোর জন্যে আপনাদের কাছে সাহায্যে ও দোয়া চাচ্ছি।