নতুন বইয়ের সঙ্গে পোশাক কেনার টাকাও পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

নতুন পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ কেনার জন্য টাকা পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইয়ের সঙ্গে মাথাপিছু ২ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।গত মাসের শেষের দিকে এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত থাকা ডিপিইর মহাপরিচালক এফ এম মনজুর কাদির। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এসব উপকরণ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

ডিপিইর মহাপরিচালক এফ এম মনজুর বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে মনোযোগী করার জন্য নতুন বইয়ের সঙ্গে ২ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে নতুন ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, জুতাসহ প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে। এজন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বছরের শুরুতে এসব শিক্ষার্থীদের হাতে অর্থ তুলে দিলে তারা শিক্ষা উপকরণ কিনতে পারবে। এতে করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও কমবে।’

এর আগে গতকাল শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কুড়িগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী বছর শুরুর দিন দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বইয়ের পাশাপাশি দুই হাজার করে টাকা দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুলের পোশাক কেনার জন্য এ টাকা দেয়া হবে।’প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় করে সাজানো হচ্ছে ক্লাসরুম। আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে এতসব আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পে যারা দুর্নীতি করছেন তারা কেউ মাপ পাবেন না। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন।

পাকা বাড়ি পাচ্ছেন ২১১ অ’সহায় পরিবার !

নওগাঁয় ২১১টি অসহায় পরিবারকে দুর্যো*গ সহনীয় বাড়ি নি*র্মাণ করে দিচ্ছে সরকার।নওগাঁর ১১ উপজেলার অসচ্ছল, হতদরিদ্র, ঘরহীন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দু*র্যোগে গৃহহীন পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ, অসচ্ছল মুক্তিযো*দ্ধা পরিবারসহ ২১১টি পরিবারকে এসব পাকা বাড়ি নি*র্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।দু*র্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ও টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থে মানবিক সহায়তায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নওগাঁ সদর উপজেলায় ২০টি, পোরশা উপজেলায় ২৪টি, সাপাহার উপজেলায় ২৩টি,নিয়ামতপুর উপজেলায় ২২টি, পত্নীতলা উপজেলায় ২১টি, ধামইরহাট উপজেলায় ১৯টি, বদলগাছী উপজেলায় ১৭টি, মহাদেবপুর উপজেলায় ১৮টি, মান্দা উপজেলায় ১৭টি, রানীনগর উপজেলায় ১৫টি ও আত্রাই উপজেলায় ১৫টিসহ সর্বমোট ২১১টি বাড়ি নির্মাণ কাজ চলছে।

তিনি জানান, বাড়িগুলো ইটের গাঁথুনি দিয়ে হবে, কাঠের দরজা-জানালা, অত্যাধুনিক রঙিন টি*নের ছাউনি, ১০ ফিট লম্বা ও ১০ ফিট আয়তনের ২ কক্ষের বাড়ি, একটি রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যা*নিটারি ল্যাট্রিন।নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নামানুরপুর গ্রামের শারিরিক প্রতিবন্ধী আলেয়া বেওয়া (৫০) বলেন, নিজের সামান্য জমি থাকলেও ঘর বানানোর সামর্থ নাই। বেঁচে আছি প্রতিবন্ধী ভাতা আর গ্রামের মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। জন্ম থেকেই ঝুপড়ির মধ্যে বসবাস করে আসছি। সরকারি খরচে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পাওয়ার শেষ জীবনটা হবে সুখের, নতুন বাড়িতে ভালভাবে থাকতে পারবো।

একই ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ভিক্ষুক আব্দুল জব্বার (৭৫) বলেন, অনেকদিন আশ্রয়হীন ছিলাম, ভিক্ষা করে দিন কাটতো। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বৃ*দ্ধ হয়েছি। বয়সের ভারে এখন আর চলতে পারিনা।মানুষের দয়া আর দানের ওপর কোন মতে বেচে আছি। সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আমার সামান্য জমিতে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, শেষ বয়সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারবো।

নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদরের নিতপুর গ্রামের বাদাম বিক্রেতা ফিটি (৭০) বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে পরিত্য**ক্ত প্লাষ্টিক সামগ্রী কু*ড়িয়ে বিক্রি করা সামান্য টাকা আর বাদাম বিক্রি করে আমার দিন চলে।সংসারে আপন বলে কেউ নেই। কোন রকমে টিনের ছাপড়ার নিচে বসবাস করছি। পৈ**তৃক সূত্রে সামান্য জমি আছে, কিন্তু ঘর বানানোর সামর্থ নাই। সরকারি টাকায় পিআইও অফিস ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। এটাই আমার কাছে রাজপ্রসাদ। ঘর পেয়ে আমি খুব খুশি।

নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দু*র্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে নওগাঁ জেলার ১১ উপজেলায় ২১১টি পরিবারের মধ্যে দু**র্যোগ সহনীয় বাড়ি করে দিচ্ছে সরকার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুরু হয়েছিল। যার মোট ব্য*য় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৪১ টাকা।তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ব্যবস্থা ও রান্নাঘর সুবিধাসহ এসব বাড়ি বন্যা, ঘূ*র্ণিঝড়, বজ্র*পাত প্রতিরোধে সক্ষম। কোন মানুষ যেন বাস্তুহারা না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার ।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য দু*র্যোগ সহনীয় ঘর নি*৮র্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনব ও চমৎকার একটি ক*র্মসূচি।এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে, গ্রামের এই পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা।তিনি জানান, দু*র্যো*গ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিয়ন পরিষদের

চেয়ারম্যানরা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সম্মলিতভাবে এ কর্মসূচি সফল করতে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নি*র্মা*ণ কাজ শেষের দিকে। অতি শিগগিরই তাদের বাড়ি হস্তান্তর করা হবে।

কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার !

উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না। এ বিষয়ে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মাশরাফি ঘোষণা অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে ক্রয় করা ডেঙ্গু শনাক্তকারী ৬শ’ কিট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজার ঘোষণা অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে ক্রয় করা ডেঙ্গু শনাক্তকারী ৬শ’ কিট নড়াইলের দু’টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খবর বাসসের।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের কাছে কিটসগুলো পৌঁছে দেয়া হয়।জেলা প্রশাসক আনঞ্জুমান আরার নেতৃত্বে আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৩শ’ টি কিট নড়াইল সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট ও ৩শ’ টি কিটস লোহাগড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আসাদুজ্জামান টনি, সদর পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, ডা. মশিউর রহমান বাবুসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।জেলা প্রশাসক আনঞ্জুমান আরা বলেন,সকল পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে নড়াইলের প্রতি ইঞ্চি জায়গা থেকে ডেঙ্গু নির্মূলে কাজ করবো। তিনি মাশরাফী বিন মোর্তজা এম.পিকে নড়াইলবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন সংসদ সদস্যের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবা প্রদানে পাশে থেকে রোগীদের হাসপাতালে অবস্থান নির্বিঘ্নে করা, সেবা প্রদানে যেকোন হয়রানি মোকাবেলা, জরুরি আম্বুলেন্স সেবা প্রাপ্তি ও হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও গ্রহণের উপযোগী রাখতে নড়াইল সদর ও লোহাগড়া হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে আমার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দের নেতৃত্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’

কিটস গ্রহণ করতে এসে নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, এই কিটসের অভাবে বিগত কয়েক দিন ডেঙ্গু শনাক্তে আমরা বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখন তারা নির্বিঘ্নে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে পারবেন বলে জানান।উল্লেখ্য, ডেঙ্গু রোগ মহামারি আকার ধারণ করলে, নড়াইলের ডেঙ্গু আক্রান্তদের পাশে থাকার কথা দিয়ে যাবতীয় সকল সহযোগিতার ঘোষণা দেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা। এসময় তিনি সকলকে নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহবান জানান।

দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর দাবি নিয়ে তরুণীর অনশন !

স্ত্রীর পরিপূর্ণ মর্যাদার দাবি নিয়ে স্বামীর বাড়িতে এসে তিন দিন ধরে অনশন করছে এক তরুণী।কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামে মোবারক আলীর ছেলে দুবাই প্রবাসী ইয়াওর আলীর বাড়িতে স্ত্রীর দাবি নিয়ে রিমা আক্তার (২৭) নামের তরুণী শুক্রবার থেকে অনশন করছে।

অনশনরত মেয়ের অভিযোগ ও তাদের বিয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, নরসিংদী জেলার খালারচর ইউনিয়নের মানারা কান্দি গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে রিমা আক্তার এরসাথে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে একই কোম্পানিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা দেশে আসেন। পরে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই তারিখে নরসিংদিতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়।

মাস দেড়েক মেয়ের এলাকায় ছেলে একটি বাসা ভাড়া রেখে দুজন ঘর সংসার করে আবার দুজনে বিদেশ পাড়ি জমায়। সেই থেকে মেয়ের রোজগারের প্রায় ১৪ লাখ টাকা তার কাছে রেখে স্ত্রীকে দেশে পাঠিয়ে দেয় স্বামী ইয়াওর আলী।স্বামী তাকে জানায় দেশে চলে যেতে পরিপূর্ণ মর্যাদা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের বাড়িতে উঠিয়ে নেবে। স্বামীর এমন বক্তব্যে রিমা দেশে ফেরে। পরে বারবার চেষ্টা করেও তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পরে শুক্রবার দুপুর ২ টা থেকে এলাকায় এসে স্বামীর বাড়ির দরজায় স্ত্রীর পরিপূর্ণ মর্যাদা দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কয়েক দফা ছেলেপক্ষের সাথে মেয়ের বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য মাতব্বররা প্রাথমিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।আলীনগর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দর আলী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম রাতে নিজে মেয়েটিকে রাখার ব্যবস্থা করি। তবে মেয়ে স্ত্রীর দাবি জানালেও ছেলে অস্বীকার করছে।

সে কারণে মেয়েটিকে তার অভিভাবক নিয়ে আসতে বলা হলেও রাজি হচ্ছে না। এ অবস্থায় আর কোন সমাধা সম্ভব হয়নি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়েটি ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে বলে তিনি জানান।

অনশনরত রিমা আক্তার স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন। তবে অভিযোগ বিষয়ে ইয়াওর আলীকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কয়েক দফা ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বন্যায় সড়কের ক্ষতি, প্রভাব পড়বে ঈদযাত্রায় !

বন্যায় সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এবারের ঈদ যাত্রায়। উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার বাড়ি ফেরা মানুষেরা পড়বেন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ডুবে যাওয়া সড়কগুলোতে এখনই ভারি যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানি সরে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হবে। বন্যায় ডুবে গেছে মাঠ, ঘাট। ডুবেছে বাড়ি ঘর, সড়ক মহাসড়কও। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ নতুন কিছু নয় এদেশের জন্য। তবে এবার ভোগান্তিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া কোটি মানুষের যাত্রায়। মহাসড়কের বেহাল দশায় আতঙ্কিত গণপরিবহণ চালকরা।

বাস চালকরা বলছেন, বন্যায় সমস্যা বেশি। রাস্তাঘাট ভাঙা, চলতে কষ্ট হয়। সরকার ঠিক না করে দিলে ভাঙাচোরা দিয়ে যেতে হবে। রাস্তাঘাট ভাঙলে মানুষেরও কষ্ট, আমাদেরও কষ্ট।দেশের উত্তরাঞ্চলের সড়ক মহাসড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবারের বন্যায়। পানি সরে গেলেও থেকে যাবে সড়কের বেহাল দশা। এখনি এসব সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, বন্যার পরে এ সমস্ত রাস্তা কিন্তু বিরাট একটা ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়। এটা রাস্তা নাকি চষা ক্ষেত সেটা বোঝা যায় না। একটা হচ্ছে পানি সরিয়ে ফেলা আর ওভার লোডিংয়ের ব্যবস্থা করা।সড়কে পানি জমে থাকায় এখন সম্ভব নয় সংস্কার কাজ। তবে বন্যার পানি নেমে গেলে সড়কগুলোকে দ্রুত চলাচল উপযোগী করা যাবে।

সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, সাত দিনের মধ্যে আমরা সব রাস্তা ঠিক করতে পারবো। তবে শুধুমাত্র টাঙাইলের রাস্তাটায় সময় বেশি লাগবে। ওটায় একটা বড় বাঁধ আছে। এজন্য ১৫ দিন লাগবে। দেশের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : সময় টিভি নিউজ

জামালপুরে বন্যায় ১২ লাখ পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ !

জামালপুরে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে হ্রাস পেতে শুরু করলেও ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরাম, দশানীসহ সব নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জামালপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর সদর ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ৬১ টি ইউনিয়ন ও ৭ টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ১২ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। পানিবন্দী মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।বন্যার কারনে জেলার ১ হাজার ১০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোপা-আমনের বীজতলা, আউশ ধান, পাট ও সবজি, ভুট্রাসহ ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

বন্যায় জেলার কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বানভাসীরা। কোথাও ত্রাণের খবর পেলে বানভাসী মানুষ সেখানে হুমড়ী খেয়ে পরছে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ৮৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা ও ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে আত্রাই নদী, মুহূর্তে তলিয়ে গেছে ২শ’ গ্রাম !

হঠাৎ বন্যায় নওগাঁর মান্দায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিশেহারা লক্ষাধিক মানুষ। বাধঁ ভেঙে আত্রাই নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে ২শ গ্রাম।তলিয়ে গেছে প্রায় দু হাজার হেক্টর জমির রোপা, আউশ ও রবি ফসলসহ ৫শ পুকুরের কোটি টাকার বেশি মাছ ভেসে গেছে। দুর্গতরা অনেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে ভোর থেকেই মান্দার আত্রাই নদীর নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩শ ফিট ভেঙে যায়। স্রোতের প্রবল তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে পানি ঢিকে পড়ে গ্রামের পর গ্রামে।প্রায় ৫শ পুকুরের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়। প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় প্রায় দু হাজার হেক্টর রোপা আউশসহ রবি ফসল। আকস্মিক এ বন্যায় ২শ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছ। অনেকেই আশ্রয় নেয় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

এদিকে বাঁধ ভাঙার পর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আর ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান। আর প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলহানির কথা বলছে কৃষি বিভাগ।

বানভাসিদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ১শ পরিবারকে ১০ কেজি চাল ১ লিটার তেল,৫ কেজি চিনি ও ৫ কেজি চিড়া প্রদান করেছে।দুর্গতদের তালিকা করে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন । আর কৃষি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করেছে।

কুড়িগ্রামে বন্যায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী !

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটেছে। ব্রহ্মপুত্র-ধরলাসহ নদীর পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় জেলার ৫৫টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলার ৯টি উপজেলার ৩৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।এদিকে ঘরে ঘরে বন্যার পানি ওঠায় পানিবন্দি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন তারা। চরাঞ্চলে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় বন্যার্তরা স্কুল, বাঁধের রাস্তা, পাকা সড়কসহ উঁচু স্থানে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় নতুন করে ৩ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ১০ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ !

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার ১০ বছর পর জামালপুর জেলা কা**রাগার থেকে মুক্তি পেলেন সরিষাবাড়ি উপজেলার পাখিমারা গ্রামের বৃদ্ধ আজমত আলী মাস্টার। হাইকোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জামালপুর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।

যাবজ্জীবন সাজার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির করা আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত ২৭ জুন আপিল বিভাগ একটি রায় দেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আবু তাহের নির্দেশনা পাঠান।

ওই নির্দেশনাটি বিশেষ ডাকযোগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুরের জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমানের কাছে পৌঁছে। নির্দেশনা পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে আজমত আলীকে কা**রাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার পাখিমারা গ্রামের ইজ্জত উল্ল্যা সর্দারের ছেলে আজমত আলী। তার বয়স এখন ৭৪ বছর। টাঙ্গাইলের গোপালপুর ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি।

১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বি*রোধের জেরে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নি***হত হন। এ ঘটনায় আজমত আ**লীকে আ**সামি করে হ**ত্যা মা**মলা করা হয়।এ মা**মলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে যা***বজ্জীবন সাজা দেন। এ রায়ের বি**রুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। একই সময় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ ক্ষমার জন্যও আবেদন করেন। আপিল বহাল থাকার সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কা**রাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। কা**রাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সরিষাবাড়ি গ্রামের বাড়ি চলে যান।

অপরদিকে ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান। ১৩ বছর বাড়িতে থাকার পর কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর আজমত আলীকে তার বাড়ি থেকে পুলিশ ফের গ্রে***ফতার করে। এর পর থেকে তার দিন কাটতে থাকে জামালপুর জেলা কার***গারের সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে।

জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে এই কা***রাগারে যোগদানের পর আজমত আলীর বিষয়টি নজরে আসে। আমি কা**রাগারেই আজমত আলীর সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলোচনা করি। পরে আমি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেই।আজমত আলী মাস্টারের মেয়ে বিউটি আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে গ্রে****ফতার করে ১০ বছর জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমার বাবার জীবনের মূল্যবান সময়ের বেশিরভাগই জেলে কাটতে হলো। জীবনে কিছুই পেলেন না তিনি।

যাদের ভুলে তার শিক্ষক বাবাকে দীর্ঘ সময় জেলের ঘানি টানতে হলো তিনি তাদের শাস্তির দাবি জানান। মুক্তি পেয়ে আজমত আলী মাস্টার বলেন, মুক্তি পাওয়াটা আনন্দের বিষয় হলেও আমার জন্য খুবই দুঃখের। আমার জীবনটা কারা*গারেই কেটে গেছে। লেখাপড়া করে আমি কি করতে পারলাম। জীবনতো কারা*গারেই শেষ। আমি এর বিচার আপনাদের কাছে দিলাম।