ধ* র্ষণ থেকে বাঁচতে এলাকা দিয়ে পালাচ্ছিলেন তিনি : গণপিটুনির শিকার রোহিঙ্গা তরুণী

ধ*র্ষণ থেকে বাঁচতে এলাকা দিয়ে পা*লাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একটি ছেলেকে দেখে তার সা*হায্য পেতে ডাক দেন। এমন দা*বি করেছেন ‘গণপি* টুনি’র শিকার রোকেয়া বেগম (১৮) নামের ওই রোহিঙ্গা তরুণী। শুক্রবার বিকেলে ছে*লেধরা স*ন্দেহে তাকে পি* টুনি দিয়ে পুলিশে হ*স্তান্তর করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘ*টনাটি ঘটেছে বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায়। স্থা*নীয়রা জানিয়েছে, বালাঘাটার লেমুঝিরি ও অক্ষ্যংঝিরির মাঝামাঝি পাহাড়ে বিজয় ইসলাম শুভ নামের এক কিশোর গরু চ*ড়াচ্ছিল। এ সময় তিন তরুণ ও আ*টক ত*রুণী তাকে ধাওয়া করেন।

এতে কিশোরের চি*ৎকারে এলাকাবাসী ওই ত*রুণীকে ধরে ফেলেন।এ ব্যা*পারে অক্ষ্যংঝিরির বাসিন্দা বিজয় ইসলাম বলে, সে গরু চ*রানোর সময় হঠাৎ ওই ত*রুণী এসে তার স*ঙ্গে যাওয়ার জন্য ডাকেন। সে যেতে অ*স্বীকার করলে তরুণী তাকে ধা*ওয়া করেন। এ সময় আরও তিন তরুণ তাকে ঘেরাও করার চে*ষ্টা করেন। তখন সে চিৎ*কার করলে তরুণেরা পা*লিয়ে যান। আর পা*লিয়ে যাওয়ার সময় প*ড়ে গেলে লোকজন ত*রুণীকে ধ*রে ফেলেন। এদিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে চি*কিৎসাধীন রোকেয়া বলেন, তিনি ছে*লেধরা নন। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শ*রণার্থী শিবিরে থাকেন। তিনি বি*বাহিত।

স্বামীর নাম হামিদ উল্লাহ।তিনি আরও বলেন, শরণার্থী শিবির থেকে তার বাবার স*ঙ্গে চি*কিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে তিন যুবক তাকে ট্যা*ক্সিতে তু*লে সরাসরি বান্দরবানে নিয়ে আসেন। এরপর ওই পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তারা তাকে ধ* র্ষ* ণের চে*ষ্টা করেন। এ সময় পা*লানোর চে*ষ্টা করার সময় পথে ওই কিশোরের স*ঙ্গে দেখা হয়। তিনি কিশোরের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিশোর ভুল বুঝে চি*ৎকার দিলে এ*লাকাবাসী এসে তাকে পি*টুনি দেন।‘

গণপি* টুনি’র শি*কার ওই তরুণী বলেন, যে তিন তরুণ তাকে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে নিয়ে আসেন তিনি তাদের নাম জানতে পেরেছেন। তবে তাদের বাড়ি কোথায় তা জানাতে পারেননি। রোকেয়ার ভা*ষ্য মতে, ওই তিন তরুণের নাম রহমত উল্লাহ, আয়াত উল্লাহ ও জাবেদ। এ ব্যাপারে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পি*টুনিতে ওই রোহিঙ্গা তরুণী সা*মান্য আ*হত হয়েছেন। হাসপাতালে চি*কিৎসাধীন থাকায় তাকে এখনো জি*জ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

তবে তাকে চট্টগ্রাম থেকে কারা, কীভাবে, কী উ*দ্দেশ্যে নিয়ে এসেছেন, তা জানার চে*ষ্টা চলছে। এ সময় দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ছে*লেধরার গু*জবে আ*তঙ্কিত না হওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বা*ন জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

চির বিদায় নিলেন সার্জেন্ট কিবরিয়া !

সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃ*ত্যুর কাছে হার মানলেন সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া । অথচ শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে র*ক্ত দেয়ার জন্য সহকর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে হেলিকপ্টারে করে আনা হয় ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চলে চিকিৎসা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে মা*রা যান তিনি। তার মৃ*ত্যুতে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি ক্যাভার্ডভ্যান কিবরিয়াকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন।

জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন।কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কিন্তু না থামিয়ে কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

আশ*ঙ্কাজনক অবস্থায় সার্জেন্টকে স্থানীয়রা উ*দ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা যায়, তার দুই পায়ের ৪টি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার র*ক্তের প্রয়োজন হওয়ায় ওয়ালেস বার্তা পেয়ে হাসপাতালে অগণিত সহকর্মী হাজির হন। কিন্তু কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল থেকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়। তবে তার অবস্থা আশ*ঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। রাতেই বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে ছুটে আসেন। আজ সকালে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

এদিকে সার্জেন্টকে চাপা দেয়ার খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়ার বিরু*দ্ধে হ*ত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে।সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় চালক মো. জলিল মিয়ার বিরু*দ্ধে দ*ণ্ডবিধির ৭টি ধারায় অভি*যোগ আনা হয়েছে।

বেপ*রোয়া গতিতে যান চালানো, সিগন্যাল অমান্য, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি সম্পত্তির (মোটরসাইকেল) ক্ষতিসাধন, হ*ত্যার উদ্দেশ্যে আ*ক্রমণসহ ৭টি অভি*যোগ মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার মৃ*ত জলিল সিকদারের ছেলে।

বিয়ের গাড়িবহরে ট্রেনের ধাক্কা, বর-কনেসহ ঝরল ৯ টি তাজা প্রান !

বিয়ের গাড়িবহরের রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধা*ক্কায় বর-কনে ও শিশুসহ কমপক্ষে ৯ জন নি*হত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। আজ ১৫ জুলাই সোমবার বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এদিকে নিহতদের মধ্যে বর রাজন (২৫) এবং কনে সুমাইয়া খাতুন (২০)-এর পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মধ্যে একজন শিশু এবং ৬ জন পুরুষ যাত্রী।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানায়, বরযাত্রী ভর্তি মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়ার ঘাটিনা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়ায় যাচ্ছিল। সলপ স্টেশনের উত্তরে পঞ্চক্রোশী আলী আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় মাইক্রেবাসটির সঙ্গে ট্রেনের ধা*ক্কা লাগে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার জানান, শুনেছি ৯ জন মা*রা গেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।এ বিষয়ে উল্লাপাড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপার হওয়ার সময় বিয়ের গাড়ি বহরের একটি মাইক্রোবাস ট্রেনে ধা*ক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন মারা যান। পুলিশ পাঠানো হয়েছে যাতে ট্রেনটিতে বিক্ষুব্ধরা অগ্নি সংযোগ না করে সে চেষ্টা করছে পুলিশ।

পল্লী বিদ্যুতের ছেড়া তারে মা-বাবা দুইজনই হারালো ! অসহায় হল ৪ শিশু !

পল্লী বিদ্যুতের ছেড়া তারে জড়িয়ে মা-বাবার অকাল মৃ*ত্যু*’তে অসহায় হয়ে পড়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠি গ্রামের ৪ অবুঝ শিশু। তাদের মধ্যে ৩ শিশুর কান্না থামলেও কান্না থামেনি দেড় বছর বয়সের শিশু জেসমিনের। সে দুধ পানের জন্য তার মাকে খুঁজছে।

তাদের বাড়িতে এখনো ভিড় করছেন আত্মীয় স্বজনরা ও এলাকার মানুষ। অনেকেই অনাথ শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের পানি মুছছেন। আর বিত্তবানদের কাছে অবুঝ শিশুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তার স্বজনরা।রবিবার সকালে বরিশাল জেলার গৌরনদীর সীমান্তবর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠী গ্রামে শিশুদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় বছরের শিশু কন্যা জেসমিন বুকের দুধ পানের জন্য হন্য হয়ে খুঁজছে তার মাকে।

সাত বছর বয়সের হাবিবা এখনও বুঝছে না তার মা ও বাবা পৃথিবীতে বেঁচে নেই। মৃ*ত্যুর খবরে ওই বাড়িতে ছুটে আসা শত শত মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে আট বছরের শিশু কন্যা হামিদা খানম। বার বার জিজ্ঞাসা করছে বাবা ও মা কোথায়? ওই দম্পতির ১১ বছরের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবিন হাওলাদার অঝরে কাঁদছেন মা ও বাবার মৃ*ত্যুতে। তাকিয়ে থাকছেন নিজের অবুঝ বোনদের মুখের দিকে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্ম*রত বিদ্যুৎকর্মীদের ওপর। তাদের দায়িত্ব ও অবহেলার কারণেই বাবা ও মা অকালে প্রাণ হারিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।জানা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামের ভ্যানচালক কামাল হোসেন হাওলাদার (৪০) চরম দৈন্যতার মধ্যে জীবন-যাপন করতেন।

গত ১১ জুলাই দুপুরে কামালের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে পাট শাক তুলতে যায়। ওই ক্ষেতের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যুতের তার ছিরে পড়ে রয়েছিলো।ফলে মমতাজ বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে থাকে। বিষয়টি দেখে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় স্বামী কামাল হোসেন। এসময় ওই দম্পতি পাট ক্ষেতে বসেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা**রা যায়।

একটি কাঠের বেঞ্চ বাঁচিয়ে দিল পদ্মায় ডুবতে থাকা দুই নারীকে !

রাজশাহীতে পদ্মার পানিতে ডুবে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন দুই নারী। পানির পাকে পড়ে ৬ সেকেন্ড নিখোঁজ থাকার পরও এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন একটি কাঠের বেঞ্চের বদৌলতে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের শ্রীরামপুর টি গ্রোয়েনর নিকট এ ঘটনা ঘটে।

মোবাইলে ধারন করা ঐ ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৬টা ১৫মিনিটে একটি নৌকায় উঠে ১১ যাত্রী।নৌকাটি চলতে শুরু করলে চালকের অদক্ষতায় ভরা পদ্মায় নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে দুই নারী। সাথে পানিতে পড়ে তারা যে বেঞ্চে বসেছিলেন সে বেঞ্চটিও।তবে কাঠের বেঞ্চটি ভাসমান থাকায় ঐ দুই নারী তা আকড়ে ধরেন। কিন্তু সেটিরও ছিল ডুবুডুবু অবস্থা। পড়ার ২০ সেকেন্ড পর স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায় তারা। এরপর ৬ সেকেন্ড পানিতে নিখোঁজ থাকার পর আবারও ভেসে উঠেন।

এসময় পাশে থাকা আরেকটি নৌকা এগিয়ে আসে। চলে উদ্ধার তৎপরতা। ঘটনার ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর আবারও নৌকায় উঠতে সক্ষম হলে ঐ দুই নারীকে নিয়ে শহরের দিকে চলে যান নৌকাচালক।চালক ও ঐ দুই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রতিদিনিই বাড়ছে পদ্মার পানি।যদিও এখন পর্যন্ত বিপদসীমার ৬ মিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে ১ জনের পরিচয় মিলছে

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় কালভার্ট ভেঙে লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় দুইটি বগি খালে পড়ে যাওয়া এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে কালামিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।জানা গেছে, তিনি কুলাউড়ার সাবেক পৌর মেয়রের ভাই আব্দুল বারির স্ত্রী। বাকি ৬ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা এক নারীর পরিচয় পেয়েছি। তার মাথা থেকে শরীর আলাদা হয়ে গেছে। তিনি স্থানীয় আব্দুল বারির স্ত্রী। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আমরা ফেসবুকে তাদের ছবি দিয়েছি, দেখি, এতে তাদের পরিচয় পাওয়া যায় কিনা।কুলাউড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এ এক এম সফি আহমদ বলেছেন, আমরা ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে ৩ জন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

রবিবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৫০ জন যাত্রী আহতে হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সূত্র জানায়, ৭টি বগির মধ্যে ২টি ব্রিজের নিচে পড়েছে, ২টি লাইন থেকে ছিটকে পড়েছে এবং ৩টি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জন ও কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ঝরল ৯ প্রাণ, আহত ৬৫ !

চালকদের গাফিলতি ও বেপোরোয়া গতির কারণে ঈদের ছুটিতে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে ঝরে পড়েছে তরতাজা নয় প্রাণ। স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ কাটাতে যাবার সময় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এ নয়জন প্রাণ হারায়।

দুর্ঘটনায় প্রায় ৬৫জন গুরুত্বর আহত হয়েছে হতাহতদের পরিবারগুলোতে ঈদ আনন্দের পরিবর্তে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতরা হলো- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশমত হলদীয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ফজলুল হক (৪০),

একই উপজেলার তালুক সর্বানন্দা গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩৫), কুটিপাড়া গ্রামের বুলুমিয়ার ছেলে হামিদুল ইসলাম (৪০),

রংপুরের মির্জাপুরের মহুরীপাড়া মহল্লার আব্দুর রহিমের ছেলে আতাউর রহমান (৩২), নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ফারুক (৪০), চন্দন (৩৮), ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার কমল ইশ্বরদী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা

এমারুল হোসেন (৪২) এবং প্রাইভেটকার চালক রুবেল (৪৫), কুমিল্লা লাঙ্গলকোর্ট থানার মহুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫)। পুলিশ জানায়, ঈদের আগের দিন ৪ জুন মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-বগুড়া রায়গঞ্জ উপজেলা দথিয়া এলাকায় ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী জারিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যায়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

অপরদিকে একই দিন ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী আঁখি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে মুলিবাড়ী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা লালমণি এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এ সময় দু’টি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
ঈদের দিন বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ৫ জুন মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাঁতী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি মুরগীবাহী মিনি ট্রাকের সাথে একটি বড় ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে মুরগীর ট্রাকের চালক ফারুক ও হেলপার চন্দন আহত হয়।

উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনই মারা যান। একইদিন সকালে তবারিপাড়া এলাকায় ঢাকাগামী ডিপজল পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের হেলপারসহ ৮ জন আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর বাসের হেলপার রবিউল মারা যায়। এছাড়াও মহাসড়কের ষোলমাইল এলাকায় ঢাকাগামী আদর পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ৭ যাত্রী আহত হয়।ঈদের পরদিন ৬ জুন বৃহস্পতিবার সকালে হাটিকুমরুল- বনপাড়া মহাসড়কের উল্লপাড়া উপজেলার হরিণচড়া বাজারে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় কারটি খাদে পড়ে যায়। এতে অগ্রণী ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার ঢাকার ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার ও চালক নিহত হয়।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী জানান, চালকদের গাফিলতির কারণেই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সূএঃবিডি২৪লাইভ

আজ সন্ধ্যার পর পরই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে নিহত ৯ আহত বহু সংখ্যক !

হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে সন্ধ্যার তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বায়তুল মোকারম মসজিদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ অংশে স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবু ভেঙে পড়ে একজন নিহত এবং অন্তত ২০ থেকে ২২ জন আহত হয়েছেন।

পাশাপাশি রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পার্কিংয়ের দেয়াল ধসে তিনজন নিহতের সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গাছচাপায় ২ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন হলেন, সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫)।
অপরদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত দুইজন হলেন, উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের গানুইর গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে শফিনুর রহমান বিষু (৩২) এবং জেলার শিবগঞ্জ থানার পিঠাইল গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩০)।

এসময় এ সময় আহত হয়েছেন হজরত আলী (৬০) নামের আরেকজন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।এছাড়া রাজশাহীর বানেশ্বরে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান সরকার ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের সময় তিনি বানেশ্বর বাজারের একটি মুড়ির মিলে ছিলেন। পরে ঝড় শুরু হলে একটি ইট এসে তার মাথার ওপর পড়ে।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ইতালি যাওয়ার পথে নৌকা ডুবিতে শিবচরের জাকিরসহ মাদারীপুরের নিহত ৬, নিখোঁজদের বাড়িতে শোকের মাতম

লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ায় সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত সজিবের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে চলছে মাতম। এছাড়া নিখোঁজ মাদারীপুর, শিবচর ও রাজৈরের আরো ৫ যুবকের পরিবারেও চলছে কান্নার রোল।

স্বজনরা জানায়, বছর খানেক আগে অবৈধপথে লিবিয়া যায় মাদারীপুরের কয়েক যুবক। এরপর অবৈধভাবে সমুদ্র পথে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার সময় সোমবার রাতে তিউনিসিয়ায় সাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বাংলাদেশি নিহত ও নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের উত্তর শিরখাড়া এলাকায় আজিজ শিকদারের ছেলে সজিব হোসেন (২০) মারা যান।

নিখোঁজ থাকেন সদরের বল্লভদী এলাকার আদেল উদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে মনির হোসেন মাতুব্বর (২১) ও শ্রীনদী এলাকার জোবায়ের মাতুব্বরের ছেলে নাদিম মাতুব্বর (১৬)। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও একই ঘটনায় সদর উপজেলার মঠেরবাজার এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে সাইফুর ইসলাম (২৩) নিখোঁজ রয়েছেনে। নিখোজ রয়েছে মাদারীপুরের শিবচওে দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৮নং চর গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন (২৮) । অপরজন আলম দস্তার গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে নাইম সিকদার(১৯)।

তাদের পরিবারে চলছে কান্নার রোল। দ্রুত নিহতের লাশ দেশে আনার পাশাপাশি নিখোঁজদের ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। এছাড়া দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সজিবের বোন মিম আক্তার বলেন, ‘আমারে আফা কইয়া আর কে বোলাবো। আমার ভাইরে এক বছর রাইখা কেন বৃহস্পতিবার পাঠাইলি। আমি এহন কেমনে ভাইরে ভুইলা থাকমুরে। কোথায় গেলি সজিবরে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মাদারীপুর শাখার যুব প্রধান শিশির হোসেন জানান, ‘‘তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে নৌকা ডুবির ঘটনায় এই পর্যন্ত মাদারীপুরের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। সজিব নামে একজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা নিহত ও নিখোঁজদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য নিয়েছি।

আজ সকালে গাড়ি উল্টে ঝরে গেলো তাজা ৭ টি প্রাণ।

রাজশাহী, বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন।
পুলিশ জানায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারে শ্যালো ইঞ্চিন চালিত ট্রলির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বাসের হেলপার আবু হানিফ (২৮), বাসের যাত্রী উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মীরগঞ্জ বান্ডাবটতলা গ্রামের মনসুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪২) ও একই ইউনিয়নের হরিরামপুর দ্বারপাড়া গ্রামের পিয়ার উদ্দিনের স্ত্রী বাদল বেওয়া (৬৫)।

বাগেরহাট: জেলার রামপাল উপজেলার মানিডাঙ্গা এলাকায় ট্রাক ও মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই মাহেন্দ্রর যাত্রী বলে জানিয়েছেন রামপাল হাইওয়ে থানার এসআই মলয় রায়।বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপালের চেয়ারম্যানের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দু’জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন- মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সোহাগ শেখ (৩৫) ও একই উপজেলার মাকোরডন গ্রামের সঞ্জিত রায় (৪৭)অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরে ট্রাকচাপায় দুখু মিয়া নামে এক সিএনজি চালিত আটোরিকশার চালক নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় আরো দুই অটোরিকশা চালক আহত হন।

ভোরে শহরের উত্তর তেমুহনী স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪টি অটোরিকশা দুমড়ে মুচড়ে গেছে। নিহত দুখু মিয়া রামগঞ্জ উপজেলার পদ্মাবাজার গ্রামের বাসিন্দা।