সোমবারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও স্থগিত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আগামীকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও স্থ গিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী জেএসসির ‘বিজ্ঞান’ পরীক্ষাটি অ নুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ নভেম্বর এবং জেডিসির ‘ইংরেজি’

পরীক্ষা ১৬ নভেম্বর।এর আগে একই কা রণে শনিবারের (০৯ নভেম্বর) জেএসসি ১২ নভেম্বর ও জেডিসি ১৪ নভেম্বর অ নু ষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আবারও পে ছাল।জেএসসির ‘গণিত’ পরীক্ষা ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও সেটি ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৪ নভেম্বরের জেডিসির ‘গণিত’ পরীক্ষা ১৫ নভেম্বর সকাল ৯টায়।রোববার (১০ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।গত ২ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল

সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন এবং ছাত্রী ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ জন বেশি।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু আজ !

দুই হাজার ৯৮২টি কেন্দ্রে আজ একযোগে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট -জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট-জেডিসি পরীক্ষা।
শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেএসসিতে বাংলা এবং জেডিসিতে কুরআন মাজীদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা দেবে ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী। এবার ২৯ হাজার ২৬২ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্র ও ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় মোট সাতটি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়ের পরীক্ষা হবে সৃজনশীল প্রশ্নে।

পরীক্ষা শুরুর আগেই সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা পিএম পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির।

মেডিকেলে চান্স পেয়ে টাকার অভাবে খাদিজার ভর্তি অনিশ্চিত !

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা খাতুন। তার মেধাক্রম ১৭৮১।কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দিনমজুর বাবার সন্তান খাদিজা। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া খাদিজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা। কারণ দিনমজুর বাবার পক্ষে ভর্তিসহ খাদিজার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে আছে খাদিজার পরিবার।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ি গ্রামের দিনমজুর জালাল উদ্দিনের মেয়ে খাদিজা খাতুন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা খাতুন। তার মেধাক্রম ১৭৮১। মেয়ে ভালো ফলাফল করায় চোখে ঘুম নেই দিনমজুর বাবা জালাল উদ্দিন ও মা জোসনা বেগমের। মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। খাদিজা খাতুনের বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া আমার কিছুই নেই। বাঁশের বেড়ার তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে পরিবারের সাত সদস্যের বসবাস।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। দিনমজুরের কাজ করে সাত সদস্যের খাবারের জোগান দিতেই হিমশিম খাই। এরপরও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করিয়েছি।বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন রাজশাহী কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরি খুঁজছে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।ছোট মেয়ে খাদিজা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তাই অনেক কষ্ট করে মেয়ে খাদিজাকে পড়ালেখা করিয়েছি। এখন সে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। কিন্তু তাকে মেডিকেলে ভর্তি এবং পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো আমার সামর্থ্য নেই।জালাল উদ্দিন বলেন, রানীবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে খাদিজা। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এতদিন তার পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি।

কিন্তু এখন একসঙ্গে অনেক টাকা লাগবে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে তার লেখাপাড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়।সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে খাদিজা ডাক্তার হবে, আর না হয় এখানেই তার পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটবে। মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। খাদিজা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আমার। অভাব-অনটনের সংসারে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক কষ্ট করেছি।ভালোভাবে লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়েও এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এতদূর পথ আসার পর টাকার অভাবে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে ভাবতেই কান্না আসে।

চোখে অন্ধকার দেখছি আমি। কারণ আমাকে মেডিকেলে পড়ানোর মতো বাবার সামর্থ্য নেই। জানি না আমার ভাগ্যে কি আছে। আমি সবার সহযোগিতা চাই। খাদিজা খাতুনকে যারা সহযোগিতা করতে চান- রকেট অ্যাকাউন্ট-০১৭৯৪৬৫৮৫৮৯৮ ও খাদিজার বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৮০৫৯৭৫৩৫।

ডাবল জিপিএ-৫ পাওয়া সেই তানিয়া এবার ঢাবির মেধা তালিকায় !

অভাবকে জয় করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া সেই শিক্ষার্থী এবার মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটে ব্যবসায়ীক শিক্ষা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধাতালিকায় ৮৫৬ সিরিয়ালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে।

ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর এলাকার শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা এসএসসি ও এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকায় আলোড়ন তৈরি করে। সে ওই এলাকার মৃত কামাল হোসেনের মেয়ে।বাবার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে তানিয়ার লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হলে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এরপর তাকে সহযোগিতার জন্য দানশীল অনেকেই এগিয়ে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমেরিকা প্রবাসী শৈলকুপার এক শিক্ষানুরাগী সংবাদ প্রকাশের পরপরই তানিয়ার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন।

তানিয়া সুলতানা জাগো নিউজকে জানান, অভাবি পরিবারের হলেও তার ভ্যানচালক বাবার ইচ্ছে ছিল যেকোনোভাবেই মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে।গত ৩ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা যান। আজ সে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে, বিভিন্ন মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। তবে বাবা কামাল হোসেন দেখে যেতে পারলো না মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে।

তানিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় খুশি স্থানীয়রাও। এলাকার অনেকেই জানায়, মেয়েটি এমন অভাবের সংসারে বাস করেও লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ায় তারা খুশি।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, শুধু টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি থাকলেই যে লেখাপাড়া করা যায় এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছে অদম্য তানিয়া। একদিন তানিয়া দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।তানিয়া ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে।

তার বাবা কামাল হোসেন ভ্যানচালক ছিলেন। মা আছিয়া বেগম এখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান তানিয়া সুলতানা।

মিথ্যা বলা বন্ধ না করলে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তাদের ঈদ সালামি বাবদ এক কোটি টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা আর তিনি (সাদ্দাম) নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

তবে তাঁর এই দাবি অস্বীকার করেছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাদ্দামকে কাল সতর্ক করা হবে। তার পরও যদি সে সতর্ক না হয়, মিথ্যা গুজব ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা হয়ে না দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে উপাচার্য অভিযোগ করেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। বরং রাব্বানী ও ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন তাঁর কাছে কয়েক দফায় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট থেকে ৪ থেকে ৬ শতাংশ টাকা ঈদ সালামি দাবি করেছেন।

এসব নিয়ে আজ কথা হয় জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ভিসি ম্যাম আমাদেরকে এক কোটি টাকা দিয়েছেন ঈদ সালামি বাবদ। সভাপতি জুয়েল ভাই ৫০ লাখ, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল ভাই ২৫ লাখ, আর আমি নিছি ২৫ লাখ। কে কয় টাকা নিব এটাও ভিসি ম্যাম ঠিক করে দিছেন।’ঈদ সালামি এক কোটি টাকা? এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘ভাই, আমাকে দিছে। ঈদ সালামি বলে আমি নিছি। আমার পোলাপান আছে। রাজনীতি করি টাকার দরকার আছে। কেউ যদি ঈদ সালামি দেয় আপনি নেবেন না? ভিসি কোথায় থেকে এই টাকা আমাদের দিয়েছেন, তা আমরা জানি না। এক কোটি টাকা ঈদ সালামি পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি আমরা।’

সাদ্দামের দাবির ব্যাপারে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “আমি শুরু থেকে বলে আসছি, আমি কাউকে টাকাপয়সা দেইনি। তবে কেউ যদি বলে টাকা পেয়েছে, তাহলে পেতে পারে। আমি দেইনি। আমি দিয়েছি এটা ও (সাদ্দাম) প্রমাণ করুক। যেখান থেকে ও পেয়েছে, এটাও বলুক, ওকে বলতে দেন। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রীদের জানিয়েছি। তাদের বলেছি  আপনারা চাইলে তদন্ত করেন। কিন্তু ওনারা বলছে, ‘এসব মিথ্যা। ভুয়া বিষয়ে আমরা তদন্ত করতে চাই না। যেগুলোর কোনো দালিলিক অভিযোগ নাই, সেখানে কেন তদন্ত করব শুধু শুধু।’ ওনারা চাইলে তদন্ত করতে পারেন।”

উপাচার্য বলেন, ‘সাদ্দামকে কাল সতর্ক করা হবে। তার পরও যদি সে সতর্ক না হয়, মিথ্যা গুজব ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এ দিকে ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার ব্যাপারে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ছাত্রলীগের পদ হারানো সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থেকে জানা যায়, আলোচিত এক কোটি টাকা জাবি শাখা ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি হিসেবে দিয়েছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

টাকার ভাগাভাগির বিষয়টি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন টপ অব দ্যা ডে। এরই মধ্যে আজ দুপুরে হঠাৎ করে দেড় শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘণ্টা খানেক শোডাউন করেন সাদ্দাম হোসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আসলে এটা শোডাউন না। সামনে ভর্তি পরীক্ষা, তাই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করলাম। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কিনা তা দেখলাম।’
চারটি হল আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, মওলানা ভাসানী হল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও সালাম-বরকত হল ছাড়াও মীর মশাররফ হোসেন হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হল আমাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। জাবিতে কমিশন কেলেঙ্কারি, টাকা-পয়সা বা দুর্নীতির ব্যাপারে যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে শিডিউল বিক্রি থেকে শুরু করে ওপেন হওয়া পর্যন্ত ভিসির ছেলে প্রতীক হোসেনের ফোন রেকর্ড দেখেন। যদি প্রতীকের ফোন রেকর্ড বের করতে পারেন তাহলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশেষ করে ৯ আগস্ট আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ের আগে-পরে ভিসির ছেলের যেসব কথাবার্তা হয়েছে তা বের করতে পারলে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না।’

এদিকে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপ জাবি ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে ভিসিপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ।পাশাপাশি ফোনালাপকে ‘মিথ্যাচার’ দাবি করে সবাইকে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন ও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস।অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতি উন্মোচন ও এর বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

স্কুল-কলেজের পরীক্ষায়,ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৫ আর থাকছেনা পরিবর্তে আসছে জিপিএ ৪

স্কুল-কলেজের পাবলিক পরীক্ষায়, ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৫ -এর পরিবর্তে আসছে জিপিএ ৪ । আগামী বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল জিপিএ ফোর -এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যায়নের জন্য জিপিএ ৪ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সারা বিশ্বে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ বা সিজিপিএ ৪ -এর মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে স্কুল কলেজের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় সিজিপিএ ৫-এর মাধ্যমে। এতে করে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষায় যারা পাস করছে তাদের ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে বোধগোম্য হয়ে উঠে না। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ ৪-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, কিন্তু স্কুল-কলেজের পাবলিক পরীক্ষায় তা হয় জিপিএ ৫- এর মাধ্যমে , যা একজন শিক্ষার্থীর গোটা শিক্ষা জীবনের সার্বিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করে। এ রকম নানা যুক্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী এনটিভিকে জানালেন নতুন সিদ্ধান্তের কথা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ ৫-এর যে গ্রেডিং সিস্টেম আছে সেটাকে আমরা চেষ্টা করছি যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গায় ৪ পয়েন্ট আছে, সেটাতে নিয়ে যাওয়ার।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পুরো এডুকেশন সিস্টেম ওয়াইড আমরা ইউনিফাইড কমন সিস্টেম করার ব্যাপারে কাজ করব। সেটা করতে গেলে এ বছর থেকে হয়তো সম্ভব হবে না। আমরা এটি যত দ্রুত সম্ভব, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে হয়তো বা আগামী বছর কোনো একটি পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করব।খাতা মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে যেসব সমালোচনা আছে তা যেন নতুন চালু হতে যাওয়া জিপিএ ৪ পদ্ধতিতে না থাকে নে নিয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন বাংলায় এক রকমের নম্বর উঠে, সায়েন্সে এক রকম উঠে। এসব ভেরিয়েশনকে নিয়ে একটি স্ট্যান্ডারডাইজেশন করার প্রক্রিয়া আছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদাত হোসেন বলেন, একই পরীক্ষা একই খাতা দুজন পরীক্ষক দেখলে দুই রকম নম্বর দিতে পারে। সেই দুটি নম্বরকে একই মাপে আনতে গেলে কিছু স্ট্যাটিসটিক্যাল পদ্ধতি করতে হয়। বিভিন্ন দেশের রেজাল্টে কাজটা করা হয়। আমাদের দেশে করা হয় না। ও লেভেলে বা এ লেভেলে করা হয়, সাধারণ পরীক্ষায় করা হয় না। এটার বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও কাজকর্ম চলছে।বৈঠকে ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৪-এর ধরন কী হবে এ নিয়ে নানা মতামত এলেও জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ চালুর ব্যাপারে কারোরই আপত্তি ছিল না বলে জানা যায়। সূত্র : এনটিভি

কলেজছাত্রী শিরিন আক্তার সোনিয়া টিউশনির টাকা দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন –

দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন হবিগঞ্জ শহরের কলেজছাত্রী শিরিন আক্তার সোনিয়া।ছোট্ট একটি টিনের ঘর বানিয়ে শহরের মাহমুদাবাদ এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মায়ের মমতা’ নামে অবৈতনিক বিদ্যালয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চ ও পাঠাগারের জন্য কিনেছেন অনেক বই। আর এসবই করেছেন টিউশনির মাধ্যমে উপার্জিত নিজের টাকা দিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহরের মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা নুরুল হকের মেয়ে শিরিন আক্তার সোনিয়া। সিলেট এমসি কলেজে মাস্টার্সে পড়ছেন। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ, আর ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের শেষে দিকে প্রতিষ্ঠা করেন অবৈতনিক এই বিদ্যালয়।নাম দেন মায়ের মমতা অবৈতনিক বিদ্যালয়। এখানে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূলে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি বয়স্কদের স্বাক্ষরজ্ঞানও শেখানো হয়।

শিরিন আক্তার প্রথমে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখানে শুধু পাঠদানই নয়, গান, বাজনা শেখানোসহ দেয়া হয় নৈতিক শিক্ষাও। এছাড়া বিদ্যালয়েই গড়ে তুলেছেন মায়ের নামে একটি পাঠাগার। হরেক রকম বই দিয়ে সাজানো সেই পাঠাগারে অবসর সময়ে বই পড়তে আসেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।বোনের ১ শতাংশ জমিতে টিন দিয়ে নির্মিত ঘরে গড়ে তুলেছেন এ বিদ্যালয়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে শিক্ষার বাতি জ্বালাচ্ছেন ঘরে ঘরে।
অভিভাবকরা জানান, শুরুতে তারা মনে করেছিলেন এখানে পড়াতে হয়তো প্রচুর খরচ দিতে হবে। কিন্তু বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা শিরিন আক্তার ঘরে ঘরে এসে শিক্ষার্থী জোগাড় করেছেন। অভিভাবকদের বুঝিয়েছেন এখানে গরিব শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে পড়ানো হয়।
তারা আরও জানান, শিরিন আক্তার নিজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টিউশনি করে যা পান তা দিয়েই এ বিদ্যালয়ের খরচ চালান। কারও কাছ থেকে এক টাকা সাহায্যও নেন না।

তারা বলেন, এ বিদ্যালয়ে পড়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এখন সামাজিক হয়েছে। মুরুব্বিদের দেখলে তারা সালাম দেয়, আদবের সঙ্গে কথা বলে। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তারা গান, নাটকসহ নৈতিকতাও শিখছেশিরিন আক্তার সোনিয়া জানান, কষ্ট হলেও নিজের টিউশনি থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের খরচ যোগান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিনিসহ ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মাঝে একজনকে তিনি সামান্য সম্মানি দেন, অন্যজন বিনামূল্যেই পড়াচ্ছেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন এই আলোর দিশারী।

নারী শিক্ষকদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করান পিটিআই সুপার !

প্রশিক্ষণার্থী নারী শিক্ষকদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করান যশোর পিটিআইএর সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌস। মহিলা ইনস্ট্রাক্টরদের সাথে অশা*লীন আচরণ, মানসিক অত্যাচার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্টাফদের অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এ পিটিআই সুপার।

ট্রেনিংয়ের সাপোর্ট সার্ভিসের টাকাও যশোর পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌস আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সুপার হাসানারুল ফেরদৌসের অনিয়ম-অত্যাচারের প্রতিকার চেয়ে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর পিটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিটিআইয়ের ইনস্ট্রাক্টর মাহবুর আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনস্ট্রাক্টর আবু তালেব, ইনস্ট্রাক্টর আবু বকর সিদ্দিক।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে যোগদানের পর থেকে হাসানারুল ফেরদৌস পিটিআইতে নিজের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা, কর্মচারী, পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণ করেন। তিনি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেন।

মহিলা ইনস্ট্রাক্টরদের সাথে অশালীন আচরণ ও মানসিক অত্যাচার করেন। স্টাফদের সর্বদা অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং মানসিক চাপে রাখেন।পিটিআই কর্মকর্তারা আরও জানান, আইসিটি ট্রেনিংয়ের সাপোর্ট সার্ভিসের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌসঅ সহকর্মীদের সাথে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করেন তিনি। কথায় কথায় নিজের ডান হাত সম্প্রসারিত করে ‘আমার হাত এর চেয়েও লম্বা’ বলে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করেন।

তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনজন অফিস সহকারীকে বদলি করেছেন, যার কারণে অফিস সহকারী ছাড়াই চলছে পিটিআই অফিস। এছাড়া অপকর্ম ঢাকার জন্য চারজন ইনস্ট্রাক্টরকে দুর্গম এলাকায় বদলি করেছেন তিনি।লিখিত বক্তব্যে কর্মকর্তারা দাবি করেন, সুপারিনটেনডেন্টের এমন সব অস্বাভাবিক কার্যক্রমে পিটিআইয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

যা, বর্তমান সরকারের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যশোর পিটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আগামীকাল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে !

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামীকাল প্রকাশিত হচ্ছে। দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ফল জানতে পারবে। এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে।

তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়ার মাধ্যমে ফলপ্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন।

এদিকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে রেজাল্ট শিট ডাউনলোডের প্রক্রিয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছে ঢাকা বোর্ড।
বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) ‘রেজাল্ট’ কর্নারে ক্লিক করে ইআইআইএন নম্বর এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠনভিত্তক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে। এ ছাড়া ডিসি ও ইউএনও ইমেইলে কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল পাঠানো হবে। ডিসি অফিস ও ইউএনও কার্যালয় থেকে ফলের হার্ড কপি সংগ্রহ করা যাবে।

এ ছাড়া দুপুর ১টায় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.bmeb.gov.bd) প্রবেশ করে আলিম পরীক্ষার জেলা ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফল পাওয়া যাবে।এইচএসসি পরীক্ষার ফল মাদ্রাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন।

১০৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি ! সবাই পাস করেছে ২ হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানে।

২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী। এবারের এসএসসি ও সমমাসের পরীক্ষায় এবার ১০৭ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছে। তবে শতভাগ পাস করেছে ২ হাজার ৫৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সোমবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

এর আগে বোর্ড চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।প্রথা অনুযায়ী, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সাধারণত শিক্ষামন্ত্রী বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করতেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে থাকায় সেই রেওয়াজের ব্যত্যয় হলো।ফল প্রকাশ উপলক্ষে লন্ডন থেকে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৮২ হাজার ২২৪ জন ছাত্রী।
তিনি বলেন, ‘আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৩ ও কারিগরি বোর্ডে ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ।’

গত কয়েক বছরের মতো এবারও এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ২৯ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে, তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দশ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন।গত বছর আট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। পাসের হার মাদরাসা বোর্ডে ৭০ দশমিক ৮৯ ও কারিগরি বোর্ডে ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ ছিল। বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এবার এসএসসিতে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়, শেষ ৫ মার্চ।মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ৬ মার্চ।