ইডেন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর আত্মহ*ত্যা

মেহের আফরোজ মিতু নামে ইডেন কলেজের এক ছাত্রী বিয়ের আগের দিন আ*,ত্মহ*ত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরের কলেজ রোডের নিজ বাড়িতে তিনি আ,,ত্মহ,,ত্যা করেন।মিতু ওই এলাকার বাবুল আকতারের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইডেন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। জানা

গেছে, নিজের সিদ্ধান্তের বাইরে বিয়ের কারণে তিনি আ*ত্ম,,হ*ত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশ ও স্থানীয়দের।প্রতিবেশীরা জানান, ১৫ দিন আগে মিতু (২১) ঢাকা থেকে মাগুরায় ফিরেছিলেন। শহরের জেলা পাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিলেন তিনি।দুই মাস আগে তার সিদ্ধান্তের বাইরে বরিশালে খান ওয়ালিউল ইসলাম স্বাধীন নামে এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।বিয়ের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতার জন্য শুক্রবার বরপক্ষের মিতুর বাড়ি মাগুরাতে আসার কথা ছিল। তার একদিন আগেই সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি ফাঁস লাগিয়ে আ,*ত্মহ**ত্যা করেন।মিতুর বাবা বাবুল আকতার

জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির অন্যান্যরা ঘুম থেকে উঠলেও মিতু দরজা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে ছিলেন। এ অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে মিতুর মা ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন স্বজনরা। এ সময় ওড়না দিয়ে ফাঁ**স লাগানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃ**ত ঘো*ষণা করেন।মিতুর বাবা আরো জানান, গত রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিলো তার। মেয়ের কথাবার্তায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। অথচ তিনি আ*ত্মহ*,ত্যা করবেন এমনটা কেউই ভাবেননি।মাগুরা সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম

জানান, মেয়েটি আ*,ত্মহ**ত্যা করেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর থানায় অ*,পমৃ**ত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিয়ে সংক্রান্ত কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে কারো সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেই এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে স্ত্রী মিতুর আ**ত্মহ*,ত্যার খবর পেয়ে ঢাকায় বায়িং হাউজে কর্মরত হবু স্বামী ওয়ালিউল ইসলাম স্বাধীন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সদর থানার ওসি জানান।

মুখে ভর করে লিখেই জিপিএ-৫ পেল যশোরের লিতুন জিরা

দুই হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া লিতুন জিরা মুখে ভর করে লিখেই এবার পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।লিতুন জিরা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেকপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। সে এবার উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।স্থানীয়রা

জানান, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা প্রখর মেধাবী। হুইল চেয়ারেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে প্রখর মেধাবী এ-প্লাস পেয়ে লিতুন জিরা মেধার সাক্ষর রাখল।বর্তমানে হুইল চেয়ারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।মেধাবী এ শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলার এ আর মহিলা কলেজের প্রভাষক। তিনি গত ১৭ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি।তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম

ব্যক্তি। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় খুব কষ্টে তাদের সংসার চলে।লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা ছিল তাদের। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করেছে।লিতুন জিরা আর ১০ জন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সবকিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে।লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, তার ২৯

বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পাননি।এককথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অন্যদের থেকে অনেক ভালো লিতুন।

দিনে চায়ের দোকানে কাটিয়ে রাতের পড়াশুনা করে বিশালের জিপিএ-৫

মাথায় চিনি ও হাতে চা পাতার প্যাকেট দেখে বোঝার বাকি রইলো না এটাই বিশাল। পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কেমন লাগছে? কাছে আসার পর এমন কথায় মুচকি হাসলো।চিনি, চাপাতা থেকে তার সাথে চলে খোশ গল্প। মো. বিশাল মিয়া পিইসিতে জিপিএ-৫পেয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার সাহেরা

গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিশাল। বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে দিন কাটিয়ে গভীর রাতের পড়াশুনায় তার এ সাফল্য।
এ ব্যাপারে বিশালের বাবা মো. লিয়াকত মিয়া জানালেন, গ্রামের বাড়ির জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌড়াইলে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার। বাড়ি ভাড়া, তিন সন্তানের পড়াশুনার খরচসহ অন্যান্য সাংসারিক ব্যয় মেটানো হয় চা বিক্রির আয় থেকেই। আগে বড় ছেলে ইভান দোকানে থাকতেন। কয়েক বছর ধরেই সঙ্গে থাকে বিশাল। বিকেল পাঁচটার পর এসে বাড়ি ফিরে রাত একটার দিকে।

এরপর পড়তে বসে। ডিপ্লোমায় পড়াশুনা করা ছেলে ইভানও আগে এভাবে দোকানে বসতো।এ সময় বিশাল জানায়, স্কুলের পাশাপাশি প্রাইভেট শিক্ষক আমেনা আক্তার তানজিনার কাছে পড়তো। এ ছাড়া দোকান থেকে বাড়ি ফিরেও পড়াশুনা করতো। মা কুলসুম বেগম তাকে স্কুল পাঠানো, পড়াশুনা নিয়মিত করার বিষয়ে উৎসাহ দেয়। বড় ভাই, বোনদের কাছ থেকেও উৎসাহ পায়।এদিকে বিশালের পিইসির ফলাফল বিবরণী থেকে দেখা যায়, সে ছয়টি বিষয়ের

প্রতিটিতেই এ প্লাস পেয়েছে। বাংলায় ৮৫, ইংরেজিতে ৮৭, গণিতে ৮০, সমাজ বিজ্ঞানে ৯০, সাধারন বিজ্ঞানে ৯১ ও ধর্মে ৯৬ নম্বর।এদিকে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তার পরিচিত নাম বিশাল। অনেকেই তার এ সাফল্যে অবা হয়েছে। আগে থেকে জানা থাকা কেউ আবার তাকে পুরস্কার দিবেও বলেছেন। এ প্রতিবেদককের কাছে বিশালের ফলাফল জেনে অনেকেই দোয়া করেন।এ ব্যাপারে পৌর এলাকার মেড্ডার সাঈদ সালমান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন প্রতিদিন সন্ধ্যায় লিয়াকত মিয়ার দোকানে চা খাই। বিশালকে আগে থেকেই চিনি। কিন্তু সে যে পড়াশুনায় এতো ভালো তা জেনে অবাকই হলাম।’এদিকে

দাতিয়ারার বাসিন্দা কাজী মো. রেজাউল করিম বেশ উচ্চস্বরেই জানতে চায়, বিশাল তোর রেজাল্টা কি। জিপিএ-৫ পাওয়ার কথা শুনেই তিনি বিশালের জন্য পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে বিশালের রোল নম্বর যে এক ছিলো তা জানতেন।এ ব্যাপারে বিশালের প্রাইভেট শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার্থী আমেনা আক্তার তানজিনা জানান,পড়াশুনার প্রতি বেশ আগ্রহ ওর। শিশু শ্রেণি থেকেই আমি তাকে পড়াশুনা করাই। পরীক্ষা

চলাকালীনও রাতে একটা-দুইটা পর্যন্ত দোকানে ছিলো বিশাল।জানা যায়, বিশাল পড়াশুনার পাশাপাশি ভালো ক্রিকেটও খেলে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের
অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ তার পছন্দের খেলোয়াড়। সেও একজন অলরাউন্ডার হতে চায়। তবে বড় কোনো জায়গায় এখনো খেলার সুযোগ হয়নি। পড়াশুনা শেষ করে সে প্রকৌশলী হতে চায়।

কুমিল্লার সেই চা বিক্রেতার স্কুল থেকে ৯৮ জনের ৯৬ জন পাস

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে দেশসেরা ফলাফল করেছে নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস।আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে ফলাফল ঘোষণার পর এ তথ্য জানা যায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে

এ বছর শতভাগ পাসসহ পিইসিতে ৯৮.২৮% ও জেএসসিতে ৯০.৭৬% জিপিএ ৫ পেয়েছে।বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস ২০০৮সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি ও জেএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে বোর্ডে স্থান দখল করে নিয়েছে একাধিকবার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের পিইসি পরীক্ষায় ৩৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৩৪৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।এ ছাড়া জেএসসি

পরীক্ষায় ২৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২২৬ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স
গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, নরসিংদীতে মানসম্মত ও গুণগত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠানটি অক্ষুণ্ন রেখেছে। আমি সব সময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত

হোক।আমাদের একঝাঁক তরুণ শিক্ষক-শিক্ষিকার অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবারও ভালো ফলাফল হয়েছে।এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমার নিরন্তর চেষ্টা আছে, আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

মোবাইলে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির ফল পাবেন যেভাবে

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশ করা হবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, প্রধানমন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে

হস্তান্তরের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বিস্তারিত তুলে ধরবেন।প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল জানতেDPESTUDENT IDYEAR & SEND TO 16222Example: DPE 1120194142432222 2019 & SEND TO 16222
ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল জানতেEBTSTUDENT IDYear & SEND TO 16222Example: EBT 1120194142432222 2019 & SEND TO 16222
JSC পরীক্ষার ফল: JSCBOARDROLLYEAR & SEND TO 16222Example: JSC DHA 123456 2019 & SEND TO 16222 JDC পরীক্ষার ফল: JDCMADROLLYEAR & SEND TO 16222 Example: JDC MAD 123456 2019 & SEND TO 16222 গত ১৭ থেকে ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায়

সারাদেশে ২৯ লাখ তিন হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।দেশব্যাপী সাত হাজার ৪৫৮টি কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ সময় বহিষ্কৃত দুই
শতাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। অন্যদিকে, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বহিষ্কারের নিয়ম বাতিল !

বাতিল করা হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের নিয়ম। এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলীর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ বাতিল করে সম্প্রতি আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে সরকারি নির্দেশাবলীর ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলা ছিল।

অনুচ্ছেদের আওতায় পরীক্ষার আওতায় কোনও শিক্ষার্থী একে অন্যের সঙ্গে কথা বললে, অনুমোদিত কাগজপত্র ছাড়া অন্যকোনও বস্তু সঙ্গে রাখলে, অন্যকে দেখানোর সহযোগিতা করলে, উত্তরপত্র ছাড়া অন্য কিছুতে লিখে আনলে তাকে ওই বিষয়সহ অন্য বিষয়ের পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার অথবা পরীক্ষা বাতিল করা হতো। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে বহিষ্কৃতদের ২৮ ডিসেম্বর মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলপ্রকাশ করতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন করে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে পরীক্ষা নিচ্ছে। সমাপনী পরীক্ষার ফল আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার করা কেনও অ বৈধ হবে না, সেই সঙ্গে এবারের পরীক্ষায় বহিষ্কার হওয়া শিশুদের ফের পরীক্ষা নিতে কেনও নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

চলতি বছরে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চলাকালে প্রায় দুইশ’ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আদালত গত ২১ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

বাবা প্রতিবন্ধী মা গৃহকর্মী, রাস্তার খুপরিতে থেকে মেডিকেলে চান্স পেলেন মাহফুজা !

বাবা প্রতিবন্ধী মা গৃহকর্মী, রাস্তার খুপরিতে থেকে মেডিকেলে চান্স পেলেন মাহফুজা! পিতা আব্দুল মান্নান প্রতিবন্ধী হলেও সংসার চালাতে পরের বাড়িতে দিনমজুর খেটে। আর মা খালেদা বেগম অন্যের বাড়িতে করেন ঝি-এর কাজ। তাদের নেই নিজস্ব কোনো জমি ও ঘরবাড়ি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামের রাস্তার পাশেই রয়েছে খুপরি আকারে জরাজীর্ণ ঘর।

এটি আয়নাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ি। সেখানেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন মাহফুজা। হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র কন্যা সেই মাহফুজা খাতুনই এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। মাহফুজার গন্তব্য এখন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। মেডিকেলে ভর্তির টাকাটাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিয়েছেন গ্রামের মানুষ। অদম্য মেধাবী মাহফুজার জীবন কাহিনী আর ১০টি শিক্ষার্থীর মতো নয়। সোনার চামচ মুখে দিয়েও তিনি জন্মগ্রহণ করেননি।

পিতার অসামর্থ্যটাকে মাহফুজা কোনো দিন অনুভব করেননি। তার একটাই লক্ষ্য ছিল দারিদ্রতাকে জয় করে দিনমজুর পিতার মুখে হাসি ফোটানো।
কোটচাঁদপুরের দোড়া ইউনিয়নের পাঁচলিয়া গ্রামে মাহফুজার নানা বাড়ি। নানা মঙ্গল মণ্ডলের বাড়িতেই মাহফুজার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি।
উপজেলার পাঁচলিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে।এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে যুদ্ধ শুরু করেন মেডিকেলে ভর্তির জন্য। ধরা দেয় সাফল্য। মেধা তালিকায় তার স্থান হয় ৩৮১৬।

এখন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সে। মাহফুজা খাতুন জানান, এই সাফল্যের জন্য তিনি প্রথমেই তার পিতা মাতা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মেধাবী মাহফুজা বলেন, আমি দরিদ্র ঘরের সন্তান। দারিদ্রতা কী সেটা আমি বুঝি। কাজেই চিকিৎসক হয়ে আমি সমাজের হতদরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেব। সমাজের কিছু মানুষের সাহায্য ও প্রেরণায় আমি এতদূর এসেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।

সোমবারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও স্থগিত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আগামীকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও স্থ গিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী জেএসসির ‘বিজ্ঞান’ পরীক্ষাটি অ নুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ নভেম্বর এবং জেডিসির ‘ইংরেজি’

পরীক্ষা ১৬ নভেম্বর।এর আগে একই কা রণে শনিবারের (০৯ নভেম্বর) জেএসসি ১২ নভেম্বর ও জেডিসি ১৪ নভেম্বর অ নু ষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আবারও পে ছাল।জেএসসির ‘গণিত’ পরীক্ষা ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও সেটি ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৪ নভেম্বরের জেডিসির ‘গণিত’ পরীক্ষা ১৫ নভেম্বর সকাল ৯টায়।রোববার (১০ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।গত ২ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল

সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন এবং ছাত্রী ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ জন বেশি।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু আজ !

দুই হাজার ৯৮২টি কেন্দ্রে আজ একযোগে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট -জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট-জেডিসি পরীক্ষা।
শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেএসসিতে বাংলা এবং জেডিসিতে কুরআন মাজীদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা দেবে ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী। এবার ২৯ হাজার ২৬২ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্র ও ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় মোট সাতটি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। ইংরেজি ছাড়া সব বিষয়ের পরীক্ষা হবে সৃজনশীল প্রশ্নে।

পরীক্ষা শুরুর আগেই সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা পিএম পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির।

মেডিকেলে চান্স পেয়ে টাকার অভাবে খাদিজার ভর্তি অনিশ্চিত !

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা খাতুন। তার মেধাক্রম ১৭৮১।কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দিনমজুর বাবার সন্তান খাদিজা। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া খাদিজার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা। কারণ দিনমজুর বাবার পক্ষে ভর্তিসহ খাদিজার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে আছে খাদিজার পরিবার।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ি গ্রামের দিনমজুর জালাল উদ্দিনের মেয়ে খাদিজা খাতুন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন খাদিজা খাতুন। তার মেধাক্রম ১৭৮১। মেয়ে ভালো ফলাফল করায় চোখে ঘুম নেই দিনমজুর বাবা জালাল উদ্দিন ও মা জোসনা বেগমের। মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ জোগানোর চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। খাদিজা খাতুনের বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া আমার কিছুই নেই। বাঁশের বেড়ার তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে পরিবারের সাত সদস্যের বসবাস।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। দিনমজুরের কাজ করে সাত সদস্যের খাবারের জোগান দিতেই হিমশিম খাই। এরপরও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করিয়েছি।বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন রাজশাহী কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরি খুঁজছে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।ছোট মেয়ে খাদিজা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তাই অনেক কষ্ট করে মেয়ে খাদিজাকে পড়ালেখা করিয়েছি। এখন সে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। কিন্তু তাকে মেডিকেলে ভর্তি এবং পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো আমার সামর্থ্য নেই।জালাল উদ্দিন বলেন, রানীবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে খাদিজা। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এতদিন তার পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি।

কিন্তু এখন একসঙ্গে অনেক টাকা লাগবে। এ অবস্থায় আমার পক্ষে তার লেখাপাড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়।সমাজের বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করেন তাহলে খাদিজা ডাক্তার হবে, আর না হয় এখানেই তার পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটবে। মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। খাদিজা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আমার। অভাব-অনটনের সংসারে নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক কষ্ট করেছি।ভালোভাবে লেখাপড়ার সুযোগ না পেয়েও এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এতদূর পথ আসার পর টাকার অভাবে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে ভাবতেই কান্না আসে।

চোখে অন্ধকার দেখছি আমি। কারণ আমাকে মেডিকেলে পড়ানোর মতো বাবার সামর্থ্য নেই। জানি না আমার ভাগ্যে কি আছে। আমি সবার সহযোগিতা চাই। খাদিজা খাতুনকে যারা সহযোগিতা করতে চান- রকেট অ্যাকাউন্ট-০১৭৯৪৬৫৮৫৮৯৮ ও খাদিজার বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর-০১৭৮০৫৯৭৫৩৫।