মিথ্যা বলা বন্ধ না করলে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তাদের ঈদ সালামি বাবদ এক কোটি টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা আর তিনি (সাদ্দাম) নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

তবে তাঁর এই দাবি অস্বীকার করেছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাদ্দামকে কাল সতর্ক করা হবে। তার পরও যদি সে সতর্ক না হয়, মিথ্যা গুজব ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা হয়ে না দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে উপাচার্য অভিযোগ করেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। বরং রাব্বানী ও ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন তাঁর কাছে কয়েক দফায় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট থেকে ৪ থেকে ৬ শতাংশ টাকা ঈদ সালামি দাবি করেছেন।

এসব নিয়ে আজ কথা হয় জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ভিসি ম্যাম আমাদেরকে এক কোটি টাকা দিয়েছেন ঈদ সালামি বাবদ। সভাপতি জুয়েল ভাই ৫০ লাখ, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল ভাই ২৫ লাখ, আর আমি নিছি ২৫ লাখ। কে কয় টাকা নিব এটাও ভিসি ম্যাম ঠিক করে দিছেন।’ঈদ সালামি এক কোটি টাকা? এমন প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘ভাই, আমাকে দিছে। ঈদ সালামি বলে আমি নিছি। আমার পোলাপান আছে। রাজনীতি করি টাকার দরকার আছে। কেউ যদি ঈদ সালামি দেয় আপনি নেবেন না? ভিসি কোথায় থেকে এই টাকা আমাদের দিয়েছেন, তা আমরা জানি না। এক কোটি টাকা ঈদ সালামি পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি আমরা।’

সাদ্দামের দাবির ব্যাপারে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “আমি শুরু থেকে বলে আসছি, আমি কাউকে টাকাপয়সা দেইনি। তবে কেউ যদি বলে টাকা পেয়েছে, তাহলে পেতে পারে। আমি দেইনি। আমি দিয়েছি এটা ও (সাদ্দাম) প্রমাণ করুক। যেখান থেকে ও পেয়েছে, এটাও বলুক, ওকে বলতে দেন। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রীদের জানিয়েছি। তাদের বলেছি  আপনারা চাইলে তদন্ত করেন। কিন্তু ওনারা বলছে, ‘এসব মিথ্যা। ভুয়া বিষয়ে আমরা তদন্ত করতে চাই না। যেগুলোর কোনো দালিলিক অভিযোগ নাই, সেখানে কেন তদন্ত করব শুধু শুধু।’ ওনারা চাইলে তদন্ত করতে পারেন।”

উপাচার্য বলেন, ‘সাদ্দামকে কাল সতর্ক করা হবে। তার পরও যদি সে সতর্ক না হয়, মিথ্যা গুজব ছড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এ দিকে ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার ব্যাপারে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ছাত্রলীগের পদ হারানো সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থেকে জানা যায়, আলোচিত এক কোটি টাকা জাবি শাখা ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি হিসেবে দিয়েছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

টাকার ভাগাভাগির বিষয়টি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন টপ অব দ্যা ডে। এরই মধ্যে আজ দুপুরে হঠাৎ করে দেড় শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘণ্টা খানেক শোডাউন করেন সাদ্দাম হোসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আসলে এটা শোডাউন না। সামনে ভর্তি পরীক্ষা, তাই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করলাম। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কিনা তা দেখলাম।’
চারটি হল আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, মওলানা ভাসানী হল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও সালাম-বরকত হল ছাড়াও মীর মশাররফ হোসেন হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হল আমাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না। জাবিতে কমিশন কেলেঙ্কারি, টাকা-পয়সা বা দুর্নীতির ব্যাপারে যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে শিডিউল বিক্রি থেকে শুরু করে ওপেন হওয়া পর্যন্ত ভিসির ছেলে প্রতীক হোসেনের ফোন রেকর্ড দেখেন। যদি প্রতীকের ফোন রেকর্ড বের করতে পারেন তাহলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশেষ করে ৯ আগস্ট আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ের আগে-পরে ভিসির ছেলের যেসব কথাবার্তা হয়েছে তা বের করতে পারলে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না।’

এদিকে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপ জাবি ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে ভিসিপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ।পাশাপাশি ফোনালাপকে ‘মিথ্যাচার’ দাবি করে সবাইকে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন ও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস।অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতি উন্মোচন ও এর বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

স্কুল-কলেজের পরীক্ষায়,ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৫ আর থাকছেনা পরিবর্তে আসছে জিপিএ ৪

স্কুল-কলেজের পাবলিক পরীক্ষায়, ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৫ -এর পরিবর্তে আসছে জিপিএ ৪ । আগামী বছর যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল জিপিএ ফোর -এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যায়নের জন্য জিপিএ ৪ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সারা বিশ্বে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ বা সিজিপিএ ৪ -এর মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে স্কুল কলেজের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় সিজিপিএ ৫-এর মাধ্যমে। এতে করে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষায় যারা পাস করছে তাদের ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে বোধগোম্য হয়ে উঠে না। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিপিএ ৪-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, কিন্তু স্কুল-কলেজের পাবলিক পরীক্ষায় তা হয় জিপিএ ৫- এর মাধ্যমে , যা একজন শিক্ষার্থীর গোটা শিক্ষা জীবনের সার্বিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করে। এ রকম নানা যুক্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী এনটিভিকে জানালেন নতুন সিদ্ধান্তের কথা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ ৫-এর যে গ্রেডিং সিস্টেম আছে সেটাকে আমরা চেষ্টা করছি যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গায় ৪ পয়েন্ট আছে, সেটাতে নিয়ে যাওয়ার।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত তা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পুরো এডুকেশন সিস্টেম ওয়াইড আমরা ইউনিফাইড কমন সিস্টেম করার ব্যাপারে কাজ করব। সেটা করতে গেলে এ বছর থেকে হয়তো সম্ভব হবে না। আমরা এটি যত দ্রুত সম্ভব, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে হয়তো বা আগামী বছর কোনো একটি পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করব।খাতা মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে যেসব সমালোচনা আছে তা যেন নতুন চালু হতে যাওয়া জিপিএ ৪ পদ্ধতিতে না থাকে নে নিয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন বাংলায় এক রকমের নম্বর উঠে, সায়েন্সে এক রকম উঠে। এসব ভেরিয়েশনকে নিয়ে একটি স্ট্যান্ডারডাইজেশন করার প্রক্রিয়া আছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদাত হোসেন বলেন, একই পরীক্ষা একই খাতা দুজন পরীক্ষক দেখলে দুই রকম নম্বর দিতে পারে। সেই দুটি নম্বরকে একই মাপে আনতে গেলে কিছু স্ট্যাটিসটিক্যাল পদ্ধতি করতে হয়। বিভিন্ন দেশের রেজাল্টে কাজটা করা হয়। আমাদের দেশে করা হয় না। ও লেভেলে বা এ লেভেলে করা হয়, সাধারণ পরীক্ষায় করা হয় না। এটার বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও কাজকর্ম চলছে।বৈঠকে ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি জিপিএ ৪-এর ধরন কী হবে এ নিয়ে নানা মতামত এলেও জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ চালুর ব্যাপারে কারোরই আপত্তি ছিল না বলে জানা যায়। সূত্র : এনটিভি

কলেজছাত্রী শিরিন আক্তার সোনিয়া টিউশনির টাকা দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন –

দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন হবিগঞ্জ শহরের কলেজছাত্রী শিরিন আক্তার সোনিয়া।ছোট্ট একটি টিনের ঘর বানিয়ে শহরের মাহমুদাবাদ এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মায়ের মমতা’ নামে অবৈতনিক বিদ্যালয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চ ও পাঠাগারের জন্য কিনেছেন অনেক বই। আর এসবই করেছেন টিউশনির মাধ্যমে উপার্জিত নিজের টাকা দিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহরের মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা নুরুল হকের মেয়ে শিরিন আক্তার সোনিয়া। সিলেট এমসি কলেজে মাস্টার্সে পড়ছেন। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ, আর ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের শেষে দিকে প্রতিষ্ঠা করেন অবৈতনিক এই বিদ্যালয়।নাম দেন মায়ের মমতা অবৈতনিক বিদ্যালয়। এখানে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিনামূলে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি বয়স্কদের স্বাক্ষরজ্ঞানও শেখানো হয়।

শিরিন আক্তার প্রথমে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখানে শুধু পাঠদানই নয়, গান, বাজনা শেখানোসহ দেয়া হয় নৈতিক শিক্ষাও। এছাড়া বিদ্যালয়েই গড়ে তুলেছেন মায়ের নামে একটি পাঠাগার। হরেক রকম বই দিয়ে সাজানো সেই পাঠাগারে অবসর সময়ে বই পড়তে আসেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।বোনের ১ শতাংশ জমিতে টিন দিয়ে নির্মিত ঘরে গড়ে তুলেছেন এ বিদ্যালয়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে শিক্ষার বাতি জ্বালাচ্ছেন ঘরে ঘরে।
অভিভাবকরা জানান, শুরুতে তারা মনে করেছিলেন এখানে পড়াতে হয়তো প্রচুর খরচ দিতে হবে। কিন্তু বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা শিরিন আক্তার ঘরে ঘরে এসে শিক্ষার্থী জোগাড় করেছেন। অভিভাবকদের বুঝিয়েছেন এখানে গরিব শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে পড়ানো হয়।
তারা আরও জানান, শিরিন আক্তার নিজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টিউশনি করে যা পান তা দিয়েই এ বিদ্যালয়ের খরচ চালান। কারও কাছ থেকে এক টাকা সাহায্যও নেন না।

তারা বলেন, এ বিদ্যালয়ে পড়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এখন সামাজিক হয়েছে। মুরুব্বিদের দেখলে তারা সালাম দেয়, আদবের সঙ্গে কথা বলে। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তারা গান, নাটকসহ নৈতিকতাও শিখছেশিরিন আক্তার সোনিয়া জানান, কষ্ট হলেও নিজের টিউশনি থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের খরচ যোগান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিনিসহ ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মাঝে একজনকে তিনি সামান্য সম্মানি দেন, অন্যজন বিনামূল্যেই পড়াচ্ছেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন এই আলোর দিশারী।

নারী শিক্ষকদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করান পিটিআই সুপার !

প্রশিক্ষণার্থী নারী শিক্ষকদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করান যশোর পিটিআইএর সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌস। মহিলা ইনস্ট্রাক্টরদের সাথে অশা*লীন আচরণ, মানসিক অত্যাচার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্টাফদের অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এ পিটিআই সুপার।

ট্রেনিংয়ের সাপোর্ট সার্ভিসের টাকাও যশোর পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌস আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সুপার হাসানারুল ফেরদৌসের অনিয়ম-অত্যাচারের প্রতিকার চেয়ে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর পিটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিটিআইয়ের ইনস্ট্রাক্টর মাহবুর আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনস্ট্রাক্টর আবু তালেব, ইনস্ট্রাক্টর আবু বকর সিদ্দিক।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে যোগদানের পর থেকে হাসানারুল ফেরদৌস পিটিআইতে নিজের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা, কর্মচারী, পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণ করেন। তিনি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেন।

মহিলা ইনস্ট্রাক্টরদের সাথে অশালীন আচরণ ও মানসিক অত্যাচার করেন। স্টাফদের সর্বদা অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং মানসিক চাপে রাখেন।পিটিআই কর্মকর্তারা আরও জানান, আইসিটি ট্রেনিংয়ের সাপোর্ট সার্ভিসের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সুপারিনটেনডেন্ট হাসানারুল ফেরদৌসঅ সহকর্মীদের সাথে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করেন তিনি। কথায় কথায় নিজের ডান হাত সম্প্রসারিত করে ‘আমার হাত এর চেয়েও লম্বা’ বলে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করেন।

তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনজন অফিস সহকারীকে বদলি করেছেন, যার কারণে অফিস সহকারী ছাড়াই চলছে পিটিআই অফিস। এছাড়া অপকর্ম ঢাকার জন্য চারজন ইনস্ট্রাক্টরকে দুর্গম এলাকায় বদলি করেছেন তিনি।লিখিত বক্তব্যে কর্মকর্তারা দাবি করেন, সুপারিনটেনডেন্টের এমন সব অস্বাভাবিক কার্যক্রমে পিটিআইয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

যা, বর্তমান সরকারের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যশোর পিটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আগামীকাল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে !

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামীকাল প্রকাশিত হচ্ছে। দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ফল জানতে পারবে। এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে।

তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়ার মাধ্যমে ফলপ্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন।

এদিকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে রেজাল্ট শিট ডাউনলোডের প্রক্রিয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছে ঢাকা বোর্ড।
বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) ‘রেজাল্ট’ কর্নারে ক্লিক করে ইআইআইএন নম্বর এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠনভিত্তক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে। এ ছাড়া ডিসি ও ইউএনও ইমেইলে কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল পাঠানো হবে। ডিসি অফিস ও ইউএনও কার্যালয় থেকে ফলের হার্ড কপি সংগ্রহ করা যাবে।

এ ছাড়া দুপুর ১টায় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.bmeb.gov.bd) প্রবেশ করে আলিম পরীক্ষার জেলা ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফল পাওয়া যাবে।এইচএসসি পরীক্ষার ফল মাদ্রাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন।

১০৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি ! সবাই পাস করেছে ২ হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানে।

২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী। এবারের এসএসসি ও সমমাসের পরীক্ষায় এবার ১০৭ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছে। তবে শতভাগ পাস করেছে ২ হাজার ৫৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সোমবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

এর আগে বোর্ড চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।প্রথা অনুযায়ী, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সাধারণত শিক্ষামন্ত্রী বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করতেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে থাকায় সেই রেওয়াজের ব্যত্যয় হলো।ফল প্রকাশ উপলক্ষে লন্ডন থেকে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৮২ হাজার ২২৪ জন ছাত্রী।
তিনি বলেন, ‘আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৩ ও কারিগরি বোর্ডে ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ।’

গত কয়েক বছরের মতো এবারও এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ২৯ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে, তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দশ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন।গত বছর আট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। পাসের হার মাদরাসা বোর্ডে ৭০ দশমিক ৮৯ ও কারিগরি বোর্ডে ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ ছিল। বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এবার এসএসসিতে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়, শেষ ৫ মার্চ।মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ৬ মার্চ।

বিশ্বকাঁপানো সেই বিজ্ঞানীও চবির শিক্ষক হওয়ার অযোগ্য!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্র ড. সাজিদ আলী হাওলাদারের কথা মনে আছে নিশ্চই। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ফেজারভারিয়া আসমতি নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিস্কার করেন হৈ-চৈ ফেলে দেন।

বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। একারণে তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর খেতাব দেয়া হয়। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেন।
ইতালির বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল জুট্যাক্সার ২৭৬১ নম্বর ভলিউমে তার প্রথম স্বীকৃতির খবর ছাপা হয়।

সাজিদের ওই কৃতিত্বে আকৃষ্ট হয়ে বেলজিয়ামের ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের জীববিজ্ঞানের প্রবীণ প্রফেসর ফ্রাঙ্কি বসুইট তার অধীনে মাস্টার্স করার আমন্ত্রণ জানান। তবে সেখানে তার যাওয়া হয়নি। তবে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা প্রফেসর ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজিদকে মাস্টার্স বাদ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে নিয়ে নেন। ফলে বয়স ৩০ পেরোনোর আগেই সাজিদ পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ড. সাজিদের অধীনে এখন অনেক নামকরা ছাত্র মাস্টার্স করছেন।

এতো কিছুর পরেও বিশ্বকাঁপানো সেই ড. সাজিদকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগই দেয়া হয়নি। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে আবেদন করলেও তাকে ভাইভায় ডাকা হয়নি। তিনি মাস্টার্স করেননি এমন অযুহাত দেখানো হয়েছে!

যার অধীনে বিদেশে সেরা সেরা শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স করছেন তাকে নাকি মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হবে। এমন আজব নিয়মের বেড়াজালে ড. সাজিদ আলীর বাংলাদেশে শিক্ষকতার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অথচ ছোটবেলা থেকেই ড. সাজিদ আলীর স্বপ্ন ছিল তিনি শিক্ষক ও গবেষক হবেন। গবেষকের স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি বাংলাদেশে শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, ড. সাজিদ আলী চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে আবেদন করেন। তবে মাস্টার্স না থাকায় ভাইভায় তাকে ডাকা হয়নি। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের জিভাসকিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের অধীনে বিবর্তনবাদ শাখায় গবেষক পদে নিযুক্ত আছেন তিনি। সেখানে তার অধীনে অনেক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হলে তাকে মাস্টার্স করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে অবাক হয়েছেন ড. সাজিদ আলী। ড. সাজিদ জানান, বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য গোটা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি। তাই এখানে গবেষণার অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে একটি প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর বানাতে চান। যেখানে প্রাণিবৈচিত্র্যের নমুনা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধানে মৌলিক গবেষণা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন জাদুঘর রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় ড. সাজিদকে রাশিয়া একাডেমি অব সায়েন্স এবং চায়না একাডেমি অব সায়েন্স এমন একটি জাদুঘর বানানোর জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না মেলায় সেটি সম্ভব হয়নি। পরে ব্যাঙ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ২০০৯ সালে ব্যাঙমেলার আয়োজন করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এই মেলা বন্ধ করে দেয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির অভয়ারণ্য তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রেও তিনি পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।

জানা যায়, বর্তমানে সাজিদের আবিস্কৃত ব্যাঙের সংখ্যা চারটি। এমনকি তিনি জাকেরানা নামে প্রাণীর নতুন একটি গণেরও নামকরণ করেন। এর মধ্যে ‘জাকেরানা ঢাকা’ আবিস্কারের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্র্ড। এ ব্যাপারে নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া গবেষণার জন্য ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের ‘হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ লাভ করেন তিনি।

একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডির আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশি এই তরুণ!

একটা কিংবা দুইটা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আমন্ত্রণ পেয়েছেন সাবেক বাংলাদেশি সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, পুরডু ইউনিভার্সিটি ইন্ডিয়াপোলিস, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, উয়েনে স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন মিশিগান, সাউদার্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটি ইন কারবনডেলে, বোউলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন ওহাইয়ো এবং ইউনিভার্সিটি অব মেমপহিস ইন টেনিসি।

খায়রুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গবেষণার জন্য তার পছন্দ পাবলিক হেলথ, হেলথ কমিউনিকেশনের মতো বিষয়।
এ ব্যাপারে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘একটা সময় যখন আমি স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল, এখন সেই ছেলে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আমন্ত্রণ পেয়েছি। এটি সত্যিই একটি দারুণ অনুভূতি!’

খায়রুল বলেন, পিএইচডিতে আমি জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ও ভোক্তাদের মধ্যে যে শূন্যতা বিদ্যমান তা পরীক্ষা করবো। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও ভোক্তারা নিজেদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মত শক্তি অর্জন করছে।
তিনি জানান, সহজেই বিশাল তথ্য ভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইন্টারনেট স্বাস্থ্যগত তথ্যের এক শক্তিশালী ও প্রকৃত এক উৎসরূপে আর্বিভূত হয়েছে। এসব তথ্য একইসঙ্গে এক ধরনের উদ্বেগেরও সৃষ্টি করছে। যেখানে বিজ্ঞানীরা কোনো স্বাস্থ্যগত উদ্ভাবনের বিষয়ে দালিলিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করেন সেখানে ভোক্তারা ভালো-মন্দ বিচার করতে তাদের কাছে থাকা নিজস্ব তথ্যকে গুরুত্ব দেন।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র গমনের আগে খাইরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পাঁচ বছর ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কাজ করেছেন। তিনি ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে মাস্টার অব সাইন্স (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে অ্যাডজানক্ট ইনস্ট্রাকটর হিসেবে যোগদান করেন।

জুলাই থেকে স্কুলের রান্না করা খাবার পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা !

দেশের ১৬ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগামী জুলাই থেকে দুপুরে রান্না করা খাবার দেয়া হবে। শিশুদের আকৃষ্ট করা, ঝরেপড়া হ্রাস এবং পুষ্টি ও খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় চালু করা হবে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় কর্মশালায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ শীর্ষক চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। সঞ্চালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।আলোচনায় অংশ নেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালক রুহুল আমিন খান এবং বিশ্ব খাদ্য

কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড র‌্যাগান। মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। টাকা-পয়সার সমস্যা নয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সবাই এটাকে সমর্থন করি। কারণ আমাদের যিনি প্রধান, তিনি চান এটা হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর মন বুঝেই এ কথা বলছি।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। তবে স্কুল মিলকে পুষ্টিমানের বিবেচনায় বিচার করতে হবে। খাবার শিশুকে শিক্ষায় মনযোগী করতে সাহায্য করবে। আমি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা দু’জনই পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বসতে রাজি।পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বিনিয়োগে লাভ-ক্ষতি থাকে। এ বিনিয়োগে লস নেই। এ বিনিয়োগ সমাজ, পরিবার, ধর্ম, রাষ্ট্র, বিশ্বের জন্য কল্যাণকর। এই শিশুরাই শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ হয়ে বেরিয়ে আসবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্কুলে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি করা হলে স্কুলে শিক্ষার্থী ঝরেপড়া বন্ধ হবে ও স্কুলে আসার প্রবণতা বাড়বে। তিনি বলেন, আমরা যত বড় বাংলাদেশ বানাই, যত সুন্দর বাংলাদেশ বানাই, ভিত্তি দুর্বল করে ফেললে টিকবে না। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শারীরিকভাবে সুস্থ ও শিক্ষিত করতে এ খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মানচিত্র অনুযায়ী ১৬ জেলা চিহ্নিত করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়া আছে।

এখন ৩টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক চালু আছে। এগুলো হচ্ছে- জামালপুরের ইসলামপুর, বরগুনার বামনা ও বান্দরবানের লামা উপজেলা। জাতীয় স্কুল মিল নীতি প্রণয়ন করতে এর আগে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রথমে আংশিক পরে দেশের সব শিশুর হাতেই বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে শিশুদের মধ্যে খাবারও তুলে দেয়া সম্ভব।

খাবারের তালিকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ৬ দিনের মধ্যে ৩ দিন রান্না করা খাবার ও ৩ দিন বিস্কুট দেয়া হবে- একদিন পরপর। রান্নার কাজ করা হবে স্থানীয়দের সহায়তায়। প্রতি স্কুলে একজন বাবুর্চি নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষার্থী বেশি হলে বাবুর্চির একজন সহকারী নিয়োগ করা হবে। বর্তমানে চলমান বিস্কুট কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীপ্রতি ৮ টাকা করে খরচ হয়। রান্না করা খাবার দেয়া হলে বাজেট ১৮ টাকা হবে। প্রতি খাবারে একজন শিশুর দৈনিকশক্তি চাহিদার ৩০ শতাংশ এবং পুষ্টি চাহিদার ৫০ শতাংশ স্কুলের খাবারে নিশ্চিত করা হবে। এজন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা জুলাই থেকে স্কুলে স্কুলে রান্না করা খাবার পাবে

রান্না করা খাবার পাবে- দেশের ১৬ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগামী জুলাই থেকে দুপুরে রান্না করা খাবার দেয়া হবে। শিশুদের আকৃষ্ট করা, ঝরেপড়া হ্রাস এবং পুষ্টি ও খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় চালু করা হবে।বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় কর্মশালায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ শীর্ষক চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। সঞ্চালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
আলোচনায় অংশ নেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালক রুহুল আমিন খান এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড র‌্যাগান। মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। টাকা-পয়সার সমস্যা নয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় সবাই এটাকে সমর্থন করি। কারণ আমাদের যিনি প্রধান, তিনি চান এটা হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর মন বুঝেই এ কথা বলছি।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। তবে স্কুল মিলকে পুষ্টিমানের বিবেচনায় বিচার করতে হবে। খাবার শিশুকে শিক্ষায় মনযোগী করতে সাহায্য করবে। আমি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি।

আমরা দু’জনই পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বসতে রাজি। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বিনিয়োগে লাভ-ক্ষতি থাকে। এ বিনিয়োগে লস নেই। এ বিনিয়োগ সমাজ, পরিবার, ধর্ম, রাষ্ট্র, বিশ্বের জন্য কল্যাণকর। এই শিশুরাই শিক্ষা-দীক্ষায় পরিপূর্ণ হয়ে বেরিয়ে আসবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্কুলে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি করা হলে স্কুলে শিক্ষার্থী ঝরেপড়া বন্ধ হবে ও স্কুলে আসার প্রবণতা বাড়বে। তিনি বলেন, আমরা যত বড় বাংলাদেশ বানাই, যত সুন্দর বাংলাদেশ বানাই, ভিত্তি দুর্বল করে ফেললে টিকবে না। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শারীরিকভাবে সুস্থ ও শিক্ষিত করতে এ খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মানচিত্র অনুযায়ী ১৬ জেলা চিহ্নিত করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়া আছে।
এখন ৩টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক চালু আছে। এগুলো হচ্ছে- জামালপুরের ইসলামপুর, বরগুনার বামনা ও বান্দরবানের লামা উপজেলা। জাতীয় স্কুল মিল নীতি প্রণয়ন করতে এর আগে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রথমে আংশিক পরে দেশের সব শিশুর হাতেই বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে শিশুদের মধ্যে খাবারও তুলে দেয়া সম্ভব।

খাবারের তালিকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ৬ দিনের মধ্যে ৩ দিন রান্না করা খাবার ও ৩ দিন বিস্কুট দেয়া হবে- একদিন পরপর। রান্নার কাজ করা হবে স্থানীয়দের সহায়তায়। প্রতি স্কুলে একজন বাবুর্চি নিয়োগ দেয়া হবে। শিক্ষার্থী বেশি হলে বাবুর্চির একজন সহকারী নিয়োগ করা হবে।

বর্তমানে চলমান বিস্কুট কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীপ্রতি ৮ টাকা করে খরচ হয়। রান্না করা খাবার দেয়া হলে বাজেট ১৮ টাকা হবে। প্রতি খাবারে একজন শিশুর দৈনিক শক্তি চাহিদার ৩০ শতাংশ এবং পুষ্টি চাহিদার ৫০ শতাংশ স্কুলের খাবারে নিশ্চিত করা হবে। এজন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া হবে।\

-বাংলাদেশ টুডে