সহবাসের পর গোসল না করে সেহেরি খেলে কি রোজা হবে?

রমজানে রাতের বেলা স্বপ্নদোষ বা স্বামী স্ত্রী সহবাসের পর অনেক সময় গোসলের সময় থাকে না। কিন্তু এ দুই অবস্থায় গোসল করা ফরজ। এ ফরজ গোসল না করে যদি সেহরি খাওয়া হয় তাহলে কি রোজার কোনো ক্ষতি হবে। এই নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে। আসুন জেনে রাখি মাসআলাটি।

ফিকহবিদদের মতে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করেই সেহরি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা সহি হবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত থাকতেই গোসল করে সময় মতো নামাজ আদায় করে নিতে হবে। সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। (মুসলিম হাদিস নং ২৫৯২, বাদায়ে, ১/১৫১)

বিষয়টির প্রমাণ রাসুলের সহধর্মিণী উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিস— ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺣﻠﻢ، ﻓﻴﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ .

রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে অতিক্রম করতেন। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৮২৯, মুসলিম : ১১০৯।] রাসুলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন:— ﻛﺎﻥ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻪ ﺛﻢ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ.

সহবাসের ফলে না-পাকি অবস্থায় রাসুল সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন, অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৯২৬]

একই হুকুম-ভুক্ত হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীরা। ফজর হওয়ার পূর্বেই যদি তারা পবিত্র হয়ে যায়, তবে গোসল না করেই নিয়ত করে নিবে।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)’র বিদায় হজ্বের ভাষণ ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে প্রেরণ করেছেন দ্বিন ইসলামকে বিজয়ী ও পূর্ণতা দানেরজন্য। যখন দ্বিন ইসলাম বিজয় ও পূর্ণতা লাভ করে তখন তিনি তাঁর বিদায়ের কথা অনুভব করেন। তাই তিনি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা)-কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করেপ্রেরণকালে বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, সম্ভবত এ বছরের পর আমার সঙ্গে তোমার আরসাক্ষাৎ হবে না। হয়তো তুমি আমার মসজিদ ও আমার কবরের পাশ দিয়ে গমন করবে।’ মহানবী (সা.)-এর এ কথা শুনে হজরত মুয়াজ (রা.) প্রিয় নবীর বিদায়ের কথা ভেবে কাঁদতে লাগলেন।৮ জিলহজ রাসুলুল্লাহ (সা.) মিনায় অবস্থান করেন এবং ৯ জিলহজ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা বিদায়হজের ভাষণ হিসেবে সুপরিচিত।আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর ঐতিহাসিক ভাষণঃ১. হে জনতা, আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সঙ্গে এ জায়গায় আর একত্র হতে পারব কি না।২. হে মানবমণ্ডলী, স্মরণ রাখো, তোমাদের আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।তোমাদের আদি পিতা একজন, অনারবদের ওপর আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তদ্রূপ সাদার ওপর কালোর কোনো প্রাধান্য নেই। আল্লাহ ভীতিই শুধু শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মানদণ্ড।

৩. তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদ আজকের দিন, এ মাস এবং এ শহরের মতো পবিত্র।৪. শোনো, জাহেলিয়াতের সব কিছু আমার পদতলে পিষ্ট করা হয়েছে। জাহেলিয়াতের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।৫. জাহেলি যুগের সুদ রহিত করা হলো। আমাদের মধ্যকার প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের সুদ। এখন থেকে সব ধরনের সুদ হারাম করা হলো।৬. স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আল্লাহর আমানতস্বরূপ তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কলেমার মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। তাদের ওপর তোমাদেরঅধিকার রয়েছে যে তারা তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান দেবে না, যাদের তোমরাপছন্দ করো না। তারা এরূপ করলে প্রহার করতে পারো। তবে কঠোর প্রহার করবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তোমরা যথাযথ অন্ন-বস্ত্র প্রদান করবে।৭. আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ।
৮. হে জনতা, মনে রেখো, আমার পরে কোনো নবী নেই। তোমাদের পরে কোনো উম্মতনেই। ফলে তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, রমজানের রোজারাখবে, স্বেচ্ছায় ধন-সম্পদের জাকাত দেবে, আল্লাহর ঘরে হজ করবে,শাসকের আনুগত্য করবে। যদি তোমরা এসব পালন করো, তাহলে তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে (ইবনে মাজাহ)।৯. হে মানবমণ্ডলী, পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতাকে দায়ী করা হবে না।১০. তোমাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা তখন কী বলবে?সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যুত্তরে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছেন, আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মহানবী (সা.) এ কথা শুনে শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে তিনবার বলেন, হে রব, আপনি সাক্ষী থাকুন (সহিহ মুসলিম)।১১. প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের দাস-দাসী সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দেবে। তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরতে দেবে। তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবে। শাস্তি দেবে না।১২. হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে নির্মাণ করেন এই মসজিদ

নবীর মসজিদ। আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। হজরত মুহাম্মদ সা: নিজ হাতে নির্মাণ করেন এ মসজিদ। মসজিদের নির্মাণকাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি।অবস্থান সৌদি আরবের মদিনার কেন্দ্রস্থলে। হজরত মুহাম্মদ সা: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার বছর ৬২২ সালে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশেই ছিল হজরত মুহাম্মদ সা: এর বসবাসের ঘর। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ।গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে

গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক। হজরত মুহাম্মদ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। পরে মসজিদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে তার রওজা মোবারক মসজিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রওজা মোবারকের ওপরে গম্বুজ নির্মাণ করা হয়। ১২৭৯ সালে প্রথম এখানে একটি কাঠের গম্বুজ নির্মাণ করা হয় এবং পরে অনেকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয় এটি।বর্তমানে যে গম্বুজটি দেখা যাচ্ছে সেটি নির্মিত হয় ১৮১৮ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের সময়। হজরত মুহাম্মদ সা: নবুওয়াত লাভের

পর মসজিদে নববীকে তৃতীয় মসজিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পথে মদিনা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কুবা নামক স্থানে হজরত মুহাম্মদ সা: একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এটিকেই সে সময়ে প্রথম মসজিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। অবশ্য ইরিত্রিয়ার মাসওয়ায় অবস্থিত সাহাবা মসজিদকেও কেউ কেউ নবীর সময়ে নির্মিত প্রথম মসজিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা হোক কুবা মসজিদের ভিত্তি স্থাপন এবং নবীর মসজিদের সরাসরি নির্মাণ কাজে অংশ নেন রাসূলে পাক সা:।বর্তমানে মুসলমানদের কাছে পবিত্র কাবার পর মসজিদে নববীকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাজীরা সবাই পরিদর্শন করেন এ মসজিদ। কারণ এ মসজিদের মধ্যে রয়েছে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা মোবারক।মক্কা থেকে হিযরতের পর

জীবনের বাকি বছরগুলো মদিনাতেই কাটান তিনি।তবে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর সময়ে নির্মিত মসজিদের অবকাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই।শুরুতে মসজিদটি ছিল মূলত দেয়াল ঘেরা একটি খোলা স্থান। ওহী তথা কুরআন নাজিলে,মানুষের সম্মিলন স্থান এবং বিচার ফয়সালা সম্পন্ন হতো এখানে। কুরআন শেখার জন্য একটি উঁচুস্থান ছিল। মসজিদের কিছু অংশে ছাদের ব্যবস্থা ছিল যার খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আর কিবলা ছিল জেরুসালেমের দিকে। পরে কুরআনে কিবলা পরিবর্তনের আয়াত নাজিল হলে কিবলাও পরিবর্তন করা হয়।মসজিদটি যে স্থানে নির্মিত হয় তার এক অংশে খেজুর শুকানো হতো। মালিক

ছিলেন সাহল ও সুহাইল। মসজিদ নির্মাণের জন্য তারা এটি দান করতে চাইলে হজরত মুহাম্মদ সা: দান গ্রহণ না করে কিনে নেন। প্রথমে মসজিদটির আয়তন ছিল ১০০/১১৬.৯ ফুট। দেয়ালের উচ্চতা ১১.৮ ফুট। মসজিদের তিনটি দরজা ছিল। খায়বার যুদ্ধের পর মসজিদ চার দিকে সম্প্রসারণ করা হয়। পশ্চিমে তিন সারি খুঁটি নির্মাণ করা হয় এবং এ স্থান সালাতের জন্য ব্যবহার করা হয়। এরপর হজরত উমরের (রা:) সময় এ মসজিদ সম্প্রসারণ করা হয়।
হজরত উসমানের (রা:) সময় ৬৫৯ সালে পুরো মসজিদ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়।খেজুর গাছের খুঁটির পরিবর্তে পাথরের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এভাবে পরে বিভিন্ন সময় সংস্কার আর সম্প্রসারণ চলতে থাকে।৭০৭ সালে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক মসজিদে নববীর ব্যাপক

সংস্কার করেন। তিন বছরব্যাপী ব্যয়বহুল সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদের চার দিকে চারটি মিনারও নির্মাণ করা হয় প্রথমবারের মতো। নির্মাণকাজে তিনি বাইজানটাইন থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র আনয়ন করেন। মসজিদের মধ্যে দেয়াল দিয়ে নবীর স্ত্রীদের ঘরগুলোকেও আলাদা করা হয় এ সময়। এরপর আব্বাসীয় খলিফাদের সময়ও মসজিদের সংস্কার চলতে থাকে।১৪৭৬ সালে মসজিদের গম্বুজটি পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ১৮৩৭ সালে গম্বুজটিতে সবুজ রঙ করা হয়।১৮৫৯ সালে উসমানীয় সুলতান আব্দুল মাজিদ ১৩ বছরব্যাপী মসজিদ সংস্কার শুরু করেন। এ সময় মসজিদের স্থাপত্যশৈলী, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি করা হয়। ব্যবহার করা হয় অনেক দামি জিনিসপত্র।১৯৩২ সালে বর্তমান সৌদি রাজ পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠার পর মসজিদের ব্যাপক

সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়ন করা হয়। বাদশা ইবনে সৌদ, বাদশা ফয়সাল, বাদশা ফাহাদ প্রত্যেকের সময়ই বিপুল অর্থ ব্যয়ে মসজিদ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১২ সালে ঘোষণা করা হয় ছয় বিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্প, যা শেষ হলে মসজিদে মুসল্লি ধারণক্ষমতা হবে সর্বোচ্চ ২০ লাখ।
মসজিদে নববীর স্থাপত্য শৈলী, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মূল্যবান দ্রব্যাদির ব্যবহার,সাজসজ্জা আর জৌলুশ, মসজিদ চত্বরের বর্তমান অটোমেটিক ছাতা, অদূরে পাহাড় শ্রেণীসহ আর যত যা কিছুই বর্ণনা করা হোক না কেন কোনো কিছুই এ মসজিদের মূল আকর্ষণ বা সৌন্দর্যের কারণ নয়। এ

মসজিদের প্রাণ, এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ ভালোবাসা আর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলো মসজিদের অভ্যন্তরে নবী পাক হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা
মোবারক। এ মসজিদ চত্বরে পা ফেলতেই যে কারো মনে ভেসে ওঠে এখানেই এক সময় কদম মোবারক ফেলতেন নবী পাক হজরত মুহম্মদ সা: এবং তার সাহাবীরা।আরো কত সহস্র স্মৃতি ভেসে ওঠে মানুষের মনে এ মসজিদের আশপাশের পরিবেশ ঘিরে।

আয়াতুল কুরসি পড়লে ‌‘মৃ*ত্যু’র আযাব হবে পিপড়ার কামড়ের মত

একজন মুমিন মু’সলিমের জীবন মৃ’ত্যুর আগ পর্যন্ত সুন্দরভাবে অ’তিবাহিত করার জন্য অনেক দোয়া রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্ আত্নাকে বলেন, “বেরোও।” সে বলে, “না আমি স্বেচ্ছায় বেরোব না।” আল্লাহ বলেন, “অনিচ্ছায় হলেও, বেরোও।”রাসুলুল্লাহ (সাঃ)

বলেছেন- যখন মু’মিন-বিশ্বা’সী বান্দার রূহ বেরোয় তখন তার সাথে দু’জন ফেরেশতা দেখা (অর্থাৎ তা গ্রহণ) করে এবং তা নিয়ে দু’জনই ঊর্ধ্বে আরোহন করে।তারপর এর সুগন্ধির কথা উল্লেখ করা হয়। আসমানবাসিগণ বলে, “পৃথিবী থেকে একটি পবিত্র রূহের আগমন ঘটেছে। হে রূহ! তোমা’র প্রতি এবং যে দেহ তুমি আবাদ করছিলে,তার প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক।” এরপর একজন ফেরেশতা তাকে নিয়ে তার প্রতিপালকের কাছে চলে যায়।
তারপর তিনি বলেন, “তাকে শেষ সময়ের (অর্থাৎ কেয়ামত না হওয়া পর্যন্ত) জন্য নিয়ে যাও।” পক্ষান্তরে কাফিরের আত্না যখন বেরোয়, তখন এর দুর্গন্ধ ও

অ’পবিত্রতার কথা উল্লেখ করা হয়। আসমানবাসিগণ বলে, “পৃথিবী থেকে একটি অ’পবিত্র রূহের আগমণ ঘটেছে।” আর এর সম্বন্ধে বলা হয়-“শেষ সময় পর্যন্ত রাখবার জন্য তাকে নিয়ে যাও।”হযরত আজরাঈল (আ) যখন জান কবজ করতে আসবেন, তখন মৃ’ত্যু পূর্ব মুহুর্তে ক’ষ্ট হবেই। তবে মহান আল্লাহ
তায়ালার মমিন বান্দারা সেই ক’ষ্টটা কম পেয়ে থাকেন। আল্লাহ পাক বলছেন, আল কোরআনে বর্ণিত ছোট্ট এই দোয়াটি পড়লে মৃ’ত্যু আযাব হালকা হয়ে
যাবে। দোয়াটিকে আম’রা সবাই ‘আয়াতুল করসি’ বলেই জানি। দোয়াটি নিম্নরূপঃআয়াতুল কুরসী: আল্লাহু লাইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইউম, লাতা’খুযুহু

সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম, লাহু মাফিস্* সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরয। মানযাল্লাযি ইয়াশ্*ফাউ ইন্*দাহু ইল্লা বিইযনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা
খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমাশাআ ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরযা, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আযীম। (সূরা বাকারঃ ২৫৫)

যেসব রোগের একমাত্র ঔষধ নামাজ

কিছু কিছু রোগ আছে যার নামাজ ব্যতিত কোন ঔষধ বা প্রেসক্রিপশন নেই। নামাজ হার্ট এ্যাটাক, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিস, মেলিটাস ইত্যাদির বি*৮রুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হার্টের রোগীদের প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা উচিত, যেমনিভাবে তারা তাদের ডাক্তারদের নিকট খারাপ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অনুমতি লাভ করে থাকেন।নামাজ একটি উত্তম ইসলামী ব্যায়াম, যা মানুষকে সব সময় সতেজ

রাখে, অলসতা এবংঅবসাদগ্রস্ততাকে শরীরে বাড়তে দেয় না। অন্যসব ধর্মের মধ্যে এমন সামগ্রিক ইবাদত আর নেই যা আদায়ের সময় মানুষের সকল অঙ্গ নড়াচড়া ও শক্তিশালী হয়।নামাজীর জন্য এটা একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে, এটা একান্তই সামগ্রিক ব্যায়াম যার প্রভাব মানবের সকল অঙ্গগুলোতে পড়ে এবং সামগ্রিক মানব অঙ্গগুলোতে নড়াচড়া ও শক্তি সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্য অটুট থাকে।

আজানের সুর আমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে: জেনিফার গ্রাউত

জেনিফার গ্রাউত একজন মার্কিন সংগীতশিল্পী। তিনি ২০১৩ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ২০১৫ সালে, ইউটিউবে কোরআন তিলাওয়াতের একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে। ডিসেম্বর ২০১৯ সালে নওমুসলিম তরুণ এই সংগীতশিল্পী আলজাজিরা আরবির সঙ্গে তাঁর ইসলাম গ্রহণ, পারিবারিক জীবন ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন।প্রশ্ন : প্রথমেই আপনার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই, আপনি ২০১৩ সালে ইসলাম গ্রহণ

করেছেন। কিসের প্রভাবে আপনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন?উত্তর : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে মুসলমানের জীবনপ্রণালী, যা একটি মুসলিম দেশে সফর করার সময় দেখেছিলাম। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করার পর আমি মরক্কো সফরে যাই।গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পুরো গ্রীষ্মে মরক্কোয় ছিলাম। তখন যে বিষয়টি আমাকে প্রথম আকর্ষণ করে তা হলো আজানের ধ্বনি। যেখানেই যেতাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান শুনতে পেতাম। আমি জানতে পারলাম, আজানের মাধ্যমে সবাইকে নামাজের প্রতি

আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি আমাকে পুলকিত করে। সত্যি বলতে আজানের সুরই আমাকে প্রথম ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।তিনি বলেন, তা ছাড়া অন্যের প্রতি মরক্কোর মানুষের সম্মানবোধও আমাকে স্পর্শ করে। আমি অনুভব করি, এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মুসলিমদের রীতি-নীতির সম্পর্কে জানার প্রচণ্ড আগ্রহ জন্মাল আমার ভেতর। ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম। কিছু পড়ার পর ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে বিস্মিত করল। ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ঝুঁকে গেলাম এবং একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করলাম।প্রশ্ন : জেনিফার! আপনি ২০১৩ সালে আরবের প্রসিদ্ধ সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ‘Arabs Got Talent’-এ সেরা শিল্পী মনোনীত হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ করেই অন্তত তিন বছর সব রকম সংগীত

থেকে আড়ালে চলে গেলেন। এই আড়ালে থাকার কোনো কারণ ছিল? উত্তর : যদি আমার শব্দ চয়ন ঠিক হয়, তাহলে এটাকে আমি আধ্যাত্মিক সফর বলব। যখনই আপনার কোলে নতুন অতিথির আগমন হবে, স্বাভাবিকই আপনার জীবনে তখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তো সব কিছু গোছগাছ করার জন্য আমার একটি বিরতির প্রয়োজনও ছিল।আর এই আড়ালে থাকার আরেকটি কারণ, যেন অর্থবহ একটি নতুন ও সুন্দর জীবনে প্রবেশ করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বিশ্বাস, আমি লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।প্রশ্ন : আপনার কোরআন তিলাওয়াত শুনে ভক্তরা আপনার কণ্ঠকে ঐশীস্বর

আখ্যা দেন।কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে আপনি কোন শায়েখের তিলাওয়াত বেশি অনুসরণ করেন এবং কার তিলাওয়াত বেশি শোনা হয়?উত্তর : অনুসরণের বিষয়ে বলব, হয়তো যে কারো তিলাওয়াতের সঙ্গে আমার তিলাওয়াত মিলে যেতে পারে, তবে আক্ষরিক অর্থে আমার তিলাওয়াতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আমি বলব, এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আমি মিসরের বিখ্যাত কারি শায়খ সিদ্দিক আল মিনশাবির তিলাওয়াত খুব বেশি শুনি। সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী তিলাওয়াতে তিনি অদ্বিতীয়।মিনশাবির কণ্ঠে সুরা ইউসুফ ও সুরা তাকবির শুনতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে।প্রশ্ন : আপনি একাধিক দেশ সফর করেছেন।

সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটি? যেখানে বারবার যেতে মন চায়?উত্তর : মক্কা-মদিনার চেয়ে আমার কাছে বেশি প্রিয় আর কোনো জায়গা নেই। মক্কা-মুকাররমায় পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।প্রশ্ন : মরক্কো এসে সাঈদ নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন এবং আপনাদের কোল আলোকিত করে ‘কমার’ (চাঁদ) নামের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ার খবর শুনেছি—ব্যাপারটি কি এমনই?

উত্তর : হ্যাঁ, হ্যাঁ…।প্রশ্ন : ‘কমার’ নামটি কি আপনার পছন্দ?উত্তর: অবশ্যই আমার। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে আগে থেকেই এই সুন্দর নামটি আমি
মেয়ের জন্য পছন্দ করে রেখেছি। আমার মেয়ের মুখ আমার কাছে কমারের (চাঁদ) মতোই উজ্জ্বল ও সুন্দর। যখন আমার মেয়েকে গর্ভে ধারণ করি, তখনই সিদ্ধান্ত নেই, যদি আমার মেয়ে হয়, তবে তার নাম ‘কমার’ রাখব।

এই ৩ আমল করে দুনিয়া ত্যাগ করলেই সঙ্গে সঙ্গে জান্নাত

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন এবং জাহান্নামের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করলো সে মহা সফলতা অর্জন করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’সুতরাং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে ডান হাতে আমলনামা নিয়ে জান্নাতে যেতে হলে একনিষ্ঠতার সঙ্গে অল্প আমলের বিকল্প নেই।

হাদিসে এমন ৩টি আমলের ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, যারা সহজ ৩টি আমল করবে তাদের জান্নাতে যাওয়া একেবারেই সহজ। বাধা হয়ে থাকবে শুধু মৃ’ত্যু। আর তাহলো-(১) সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত ‘সাইয়েদুল ইসতেগফার’ পড়া-সাইয়েদুল ইসতেগফার আল্লাহর এত চমৎকার প্রশংসায় ভরপুর যে, যদি কেউ নিজের গোনাহ মাফের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চায়; আল্লাহ ওই ব্যক্তি ক্ষমা করে দেন। হাদিসে এসেছে- ‘কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদুলইসতেগফার পড়ে। আর সেদিন সে মারা যায়, আল্লাহর ইচ্ছায় সে জান্নাতে যাবে।’ (বুখারি)আর তা হলো-
মূল আরবি: ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি গুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’

(২) প্রতিদিন ‘সূরা মুলক’ এক বার পড়া-কোরআনুল কারিমের ২৯তম পারার প্রথম সূরা এটি। এ সূরাটি প্রতিদিন একবার পড়লে মুমিনের জান্নাত সুনিশ্চিত। দৈনন্দিন আমলের সূরাগুলোর মধ্যে এটি একটি। যা প্রতিদিন এশার নামাজের পর পড়া হয়।এ ছাড়াও যাদের সূরাটি মুখস্থ আছে, তারা চাইলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই এ সূরাটি তেলাওয়াতকরতে পারে। নামাজে সূরা মুলক এর আয়াতগুলো বুঝে বুঝে তেলাওয়াত করলে অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। নামাজে একনিষ্ঠতা তৈরি হয়।এ সূরায় মহান আল্লাহর স্মরণ ও তার প্রতি ভয় সৃষ্টি হয় এবং নেক কাজের আগ্রহ বেড়েযায়। সূরা মুলক পড়ার মাধ্যমে নামাজ আদায় করলে দিনব্যাপী অগণিত খারাপ কাজের মাঝে একটি ভালো কাজ করার অন্যরকম অনুভূতি পাওয়া যায়।

সূরাটির নিয়মিত পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা করবেন আল্লাহ তায়ালা। কেয়ামতের দিন সূরা মুলক তার তেলাওয়াতকারীকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে(৩) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়া-প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কোরআনুল কারিমের মর্যাদাপূর্ণ আয়াত ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করা। এ আয়াতে বান্দা তাওহিদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণাগুলো তেলাওয়াত করে।আর তা হলো- মূল আরবি : اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-বাংলা উচ্চারণ : আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ

ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা আয়াত-২৫৫)অর্থ : আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছেসবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতিত এমন কে আছে যে, তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন

তা ব্যতিত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ে, ওই ব্যক্তি ও জান্নাতের মাঝেএতোটুকু দূরত্ব থাকে যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করছে না বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছে না।সুতরাং মুমিন বান্দার উচিত, সকাল-সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া। দিনের যে কোনোসময় সূরা মুলক পড়া এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই মুমিনের লক্ষ্য

প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন করা। একজন মুমিনের সার্থকতা তার প্রভুর সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় ইবাদতগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু আমল সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন।সময় মতো নামাজ আদায়

করাঃ- একদিন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর নিকট কোন কাজ সব থেকে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেন, ‘সময়মতো নামাজ আদায় করা। ঈমানের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি হলো নামাজ। নামাজের ক্ষেত্রে অবহেলার কোনো অবকাশ নেই; বরং সময়মতো নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে যারা মসজিদে অপেক্ষায় থাকে, তাদের জন্য নামাজের সওয়াবই লেখা হয়।’তাছাড়া আবু হুরায়রা (রা.) থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করতে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে নামাজরত থাকে। আর ফেরেশতারাও

ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে যে হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ, তুমি তাকে রহম করো। (আর ফেরেশতারা) ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দোয়া করতে থাকে, যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ অজু নষ্ট না করে। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৫)
মাতা-পিতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করাঃ- হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মাতা-পিতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাতা-পিতার সহিত সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।সুরা ইসরার

২৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদাচরণ করবে।তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ বলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বোলো।’

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দের ইবাদত নামাজ

নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।ঈমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যকেরই নামাজ আদায় করা উচিৎ। তাতে আসুক যত বাধা-বিপত্তি।সালমান

ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে চল্লিশ দিন যাবৎ প্রথম তাকবিরের সাথে জামাতে নামাজ পড়বে, তার জন্য দু’টি পরওয়ানা লেখা হয়, একটি জাহান্নাম থেকে অ’পরটি মোনাফেকি থেকে মুক্তির। (তিরমিযী) রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি উত্তম’রূপে অজু করে নামাজ পড়ার আশায় ম’সজিদের দিকে যায়, অথচ ম’সজিদে গিয়ে দেখে জামাত শেষ, তবু সে জামাতের সওয়াব পাবে। (আবু

দাউদ)রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল হল ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা। (বোখারি)রাসুলুল্লাহ (সা) আরও এরশাদ করেন, যতক্ষণ মানুষ নামাজের প্রতীক্ষায় থাকে, ততক্ষণ নামাজের সওয়াব লাভ করতে থাকে। (বোখারি ও মু’সলিম)

সন্তানের বিয়ের উছিলায় হজ বিলম্ব করা যাবে না

হজ যে বছর ফরজ হয়, ওই বছরই আদায় করে নেয়া উচিত। অহেতুক কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। একবার হজ ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫২৮)নিজের হজ আগে করতে হবে, পরে অন্যের হজ। মনে রাখতে হবে, আগে নিজের হজ আদায় করে পরে

মাতা-পিতার হজের চিন্তা।তবে সামর্থ থাকলে তাদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করা যাবে। অন্যথায় আগে নিজের ফরজ আদায় করা উচিত। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮,
পৃষ্ঠা: ২৮২)অনেকে মনে করেন, আগে সন্তানের বিয়ে দিতে হয়। তারপর হজ আদায়। অথচ এ কথাশরিয়ত সমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না। (রহিমিয়া, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৭৬)
সম্পাদনা : রাশিদ, ইমরুল