কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মাটি !

মক্কার প্রাচীন নাম বাক্কা। হজের কর্মসীমানাকে হারাম শরিফ বলে। হারাম মানে নিষিদ্ধ ও সম্মানিত। হারামাইন অর্থ দুটি হারাম বা দুটি সম্মানিত স্থান। মক্কা শরিফ ও মদিনা শরিফকে একত্রে হারামাইন শরিফাইন বলা হয়। পবিত্র মক্কা শরিফ ও মদিনা শরিফে অমুসলিমদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।মক্কার হারাম শরিফের সীমানা হলো বাইতুল্লাহ শরিফের পশ্চিমে জেদ্দার পথে শুআইদিয়া পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল),

পূর্বে জেরুজালেমের পথে ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার (৯ মাইল), দক্ষিণে তায়েফের পথে ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল), উত্তরে মদিনা শরিফের পথে ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল)।এ সীমানার মধ্যে জীবজন্তু শিকার করা নিষিদ্ধ। এমনকি গাছপালা, তৃণলতা ইত্যাদি ছেঁড়াও নিষেধ। হারাম শরিফের প্রাণকেন্দ্র হলো মসজিদুল হারাম, এর কেন্দ্রস্থলে কালো বর্ণের চতুষ্কোণ ঘরটিই হলো বাইতুল্লাহ শরিফ বা মহান আল্লাহর সম্মানিত কাবাঘর। হজরত আদম (আ.)-এর সময়কালেই কাবাঘরের সৃষ্টি।

হজরত নূহ (আ.)-এর সময় সংঘটিত মহাপ্লাবনের পর নবী ও রাসুল হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর ছেলে নবী ও রাসুল হজরত ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পুনরায় কাবাঘর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন।এ যাবৎ কাবা শরিফ ১২ বার সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমান কাবাঘরের আয়তন পশ্চিমে ১০ দশমিক ১৫ মিটার (২২ হাত), পূর্বে ৮ দশমিক ৪০ মিটার (১৮ দশমিক ৫ হাত), দক্ষিণে ৮ দশমিক ২৪ মিটার (১৮ হাত), উত্তরে ৫ দশমিক ৫০ মিটার (১২ হাত) এবং উচ্চতা ৮ দশমিক ২৪ মিটার (১৮ হাত)।

মুসলমানরা মনে করেন, পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামীনের অনন্য নিদর্শন পবিত্র কাবা শরিফ। ভৌগোলিকভাবে গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে বরকতময় পবিত্র কাবার অবস্থান- এটাও অনেকের জন্য আশ্চর্যজনক বিষয়।কাবাগৃহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তা পৃথিবীর সর্বপ্রথম ও সুপ্রাচীন ঘর। কোরআনের ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটিই হচ্ছে এ ঘর, যা বাক্কায় (মক্কা নগরীতে) অবস্থিত।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬)

ইসলামী জ্ঞানের তথ্যমতে, পৃথিবীতে ভূমির সৃষ্টি হয় বিশাল সাগরের মাঝে, এর মাঝে মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘরের স্থলকে কেন্দ্র করেই। তাই, কাবার নিচের অংশটুকু অর্থাৎ কাবাঘরের জমিনটুকু হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মাটি।ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হয়ে সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। পরে এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের। মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না।আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে। এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)। এভাবেই পবিত্র কাবার বরকতে পৃথিবী স্থির হয়ে যায়। ধীরে ধীরে এখানে মানবসভ্যতার গোড়াপত্তন হয়।

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই আল্লাহ পবিত্র কাবা শরিফকে তার মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলাস্থল হিসেবে কবুল করেছেন। দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের কিবলা এই কাবা শরিফ।প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও শত্রুদের আক্রমণের কারণে বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ। তাই বেশ কয়েকবারই ক্ষতিগ্রস্ত কাবাকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য মতে, কাবাকে এ পর্যন্ত ১২ বার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।বিভিন্ন বিপর্যয়ের হাত থেকে সংরক্ষণ করতে কাবা শরিফকে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে আধুনিক ও শক্তিশালী প্রযুক্তির প্রয়োগে সংস্কার করা হয়। কাবা পুনঃসংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৬ সালে হাতিমে কাবাও পুনঃনির্মাণ করা হয়।

পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণ-পুনঃনির্মাণে বিভিন্ন যুগে হজরত আদম (আ.), হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.) এবং আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)ও অংশগ্রহণ করেছিলেন। নবী ইব্রাহিমের (আ.) আমল থেকেই মূলত পবিত্র কাবা শরিফ আয়তক্ষেত্র আকৃতির ছিল।ইসলামের আগমনের পূর্বে কুরাইশরা যখন পবিত্র কাবাকে পুনঃনির্মাণ করে তখন তহবিলের অভাবে পবিত্র কাবা শরিফের পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি তারা। যে স্থানটি তখন নির্মাণ করতে পারেনি সেই স্থানটিকে বলা হয় ‘হাতিমে কাবা’। এটি কাবারই অংশ। এ কারণে হাতিমে কাবাকে তাওয়াফে অন্তর্ভূক্ত করতে হয়। যা একটি ছোট্ট গোলাকার প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত।

পবিত্র কাবা শরিফের এক কোণে সংযুক্ত ‘হাজরে আসওয়াদ’ কালো পাথরটি আগে আকারে বড় ছিল। বর্তমানে এ পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরায় বিভিন্ন সাইজে বিভক্ত। যা একটি সিলভার রংয়ের ফ্রেমে একত্র করে কাবা শরিফের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে লাগানো।পাথরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বন্যাসহ অনেকবার চুরি ও জালিয়াতির চেষ্টার কারণে অনাকাঙ্খিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাজরে আসওয়াদের প্রথম সিলভার ফ্রেমটি তৈরি করেছিলেন আবদুল্লাহ বিন জুবাইর।প্রাক ইসলামি যুগ থেকে এখন পর্যন্ত কাবা শরিফের চাবি একটি পরিবারের কাছেই রয়েছে। সম্মানিত এই পরিবারটি হলো বনু তালহা গোত্র। এ গোত্র গত ১৫শ শতাব্দী ধরে এ দায়িত্ব পালন করছে। এটি ওই পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সদস্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন।

বছরে দুই বার এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয় বার করা হয় জিলকদ মাসে। এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বনু তালহা তথা আলশিবি পরিবারের লোকেরাই করে থাকেন।পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ‘ঊড’ তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। পবিত্র নগরী মক্কার গভর্নর এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ জানান।একটা সময়ে পবিত্র কাবা শরিফের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ পবিত্র ঘরে প্রবেশ করে ইবাদাত-বন্দেগিও করতো। হজের সময় তীর্থযাত্রীরা ইচ্ছা করলে এতে প্রবেশ করতে পারতো।কিন্তু হাজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ঘরের নিরাপত্তার জন্যই এখন কেউ ইচ্ছা করলেও অভ্যন্তরে যেতে পারে না। এটা এখন মাঝে মাঝে বিশেষ বিশেষ মেহমানদের জন্য খোলা হয়।

পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অবিশ্বাস্য হলেও চিরন্তন সত্য যে, এর চারদিকে ঘোরা অর্থাৎ তাওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না। তবে হ্যাঁ, নামাজের সময় যখন মুয়াজ্জিন জামাতের জন্য ইক্বামাত দেন ঠিক নামাজের সময় তাওয়াফকালীন অবস্থায় যে যেখানে থাকে সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজে অংশগ্রহণ করে। নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে আবার তাওয়াফ শুরু হয়ে যায়।উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. খালিদ বাবতিনের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে অবস্থিত পবিত্র কাবাই পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। (আল আরাবিয়া : ২৩ জুলাই, ২০১২)

আরেকটি বিষয় হলো, বছরের বিশেষ একটি দিন দুপুরে সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকে। তখন পবিত্র কাবা বা মক্কায় অবস্থিত কোনো অট্টালিকায় ছায়া দৃষ্টিগোচর হয় না। যেমন – ২০১৪ সালের ২৮ মে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে সূর্য ছিল পবিত্র কাবার ঠিক মাথার ওপর। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটি হয় না।

প*রকীয়ার ৬ শাস্তি, দুনিয়ায় ৩টি-আখেরাতে ৩টি আ*শঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে পারিবারিক কলহ

আ*শঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে পারিবারিক কলহ। আমাদের সমাজে নি*ত্যনৈমিত্তিক ব্যা*পার হয়ে দাঁড়িয়েছে প*র*কীয়া। ম*হামারী আকার ধারণ করেছে পরকীয়া। পত্রিকার পাতা খুলতেই চোখে পড়ে প*রকীয়ার খবর।প*রকীয়ার ফাঁ*দে আ*টকা পড়ে আ*ত্মহনন করছেন অগণিত নারী-পুরুষ; ব*লি হচ্ছেন নি*রপরাধ সন্তান, স্বামী অথবা স্ত্রী। প*রকীয়ার পথে বা*ধা হওয়ায় নিজ স*ন্তানকেও নি**র্মম ভাবে হ*ত্যা করছে মম*তাময়ী মা।

প্রতিদিনই স্বামীর হা*তে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, সন্তানের হাতে পিতা-মাতা এবং পিতা-মাতার হাতে স*ন্তানের প্রা*ণ হর*ণের ঘ*টনা ঘ*টছে। বাড়ছে পারিবারিক অ*শান্তি, ভে*ঙে যাচ্ছে সংসার।কোনো না কোনোদিন এর শেষ প*রিণতি হচ্ছে নৃ*শংস ঘট*নার মধ্য দিয়ে। প*রকীয়া মানবতা বি*রোধী একটি অ*পরাধ। বি*কৃত মা*নসিকতা।ইসলাম একটি মানবিক ধর্ম। সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। কোনো মানবিক গর্হিত কাজকে ইসলাম অনুমোদন দেয়নি। বিবাহিত কোন নারী বা পুরুষ স্বীয় স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির স*ঙ্গে কোনও ধরণের স*ম্পর্ক কিংবা বি*বাহবহি*র্ভত‚ প্রে*ম, যৌ*ন সম্পর্কে লি*প্ত হওয়ার মত গ*র্হিত ক*র্মকে কীভাবে ইসলাম স*মর্থন করতে পারে?

এ বি*কৃত কর্মের অসারতা বিবেকও ধি*ক্কার দেয়। নিজ স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে অ**বৈধ সম্পর্ক স্থাপন করবে, সুস্থ বিবেকবান কোনো মানুষ এটা মেনে নিতে পারে না। এ ক*র্মের কারণে সমাজ যেমন শৃ*ঙ্খলতা হারায়, তেমনি পারিবারিক বন্ধনেও ধরে ফা*টল। পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে সামাজিক সকল রীতিনীতি।এ কাজের বিষফল মানবাজাতি কয়েক যুগ ধরে প্র*ত্যক্ষ ও প*রোক্ষভাবে লক্ষ্য করে আসছে। ইসলাম হলো নীতি ও আদর্শের ধর্ম।ইসলামে প*রকীয়া ও অ*বৈধ সম্প*র্ক থেকে নারী-পুরুষকে ক*ঠোরভাবে স*তর্ক করা হয়েছে।

নারীদের কথার আ*ওয়াজকেও স*তরের অ*ন্তর্ভুক্ত করে অপ্রয়োজনে প*রপু*রুষের সঙ্গে কথা বলতে নি*ষেধ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কথা বলতে হলেও সুরা আহজাবের ৩২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা প*রপু*রুষের স*ঙ্গে কোমল ও আ*কর্ষণীয় ভ*ঙ্গিতে কথা বলতে নি*ষেধ করেছেন।যাতে নারীদের স*ঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনো পু*রুষ আ*কর্ষণবোধ না করেন।শুধু নারীদেরই নয়, বরং সুরা নুরের ৩০ নম্বর আয়াতে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা পু*রুষদেরকে দৃ*ষ্টি সং*যত রাখার নি*র্দেশ দিয়েছেন। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে মহিলাদেরকে তাদের দৃ*ষ্টি সংযত রাখার পাশাপাশি তাদের গোপন শোভা অনাবৃত করতে নি*ষেধ করা হয়েছে।

অপাত্রে সৌ*ন্দর্য প্র*দর্শনকে হা*রাম করে সবটুকু সৌন্দর্য স্বামীর জন্য নিবেদনে উ*ৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কারণ, স্বামী তার স্ত্রীর সৌন্দর্যে মোহিত হলে সংসারের শান্তিই বাড়বে।প*ক্ষান্তরে স্ত্রীর সৌন্দর্য দিয়ে অ*ন্যকে মো*হিত করার পথ অ*বারিত করলে তা কেবল বি*পদই ডেকে আনবে।পুরুষ-মহিলা সবাইকে চ*রিত্র সংরক্ষণের নি*র্দেশ দিয়েছে ইসলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ব্য*ভিচারের নি*কটবর্তী হয়ো না। এটা অ*শ্লীল কাজ এবং নি*কৃষ্ট আ*চরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, ৩২) ব্ভি*চারের শা*স্তি হিসেবে আল্লাহ বলেন, ‘ব্য*ভিচারী ও ব্য*ভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বে*ত্রাঘাত কর।’ (সুরা নুর, ২)

হাদিস শরিফে ব্য*ভিচারের ভ*য়ানক শা*স্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! তোমরা ব্য*ভিচার পরি*ত্যা*গ কর। কেননা এর ছয়টি শা*স্তি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আ*খেরাতে প্র*কাশ পাবে।যে তিনটি শা*স্তি দু*নিয়াতে হয় তা হচ্ছে, তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে।আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অ*সন্তোষ, ক*ঠিন হিসাব ও জা*হান্নামের শা*স্তি ভো*গ করবে।’ (বায়হাকি, হা নং ৫৬৪)

হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মু*খ ও ল*জ্জাস্থানের হেফাজতের জা*মিনদার হবে আমি তার বেহেশতের জা*মিনদার হবো।’ (বুখারিঃ ৭৬৫৮) কখনো দেখা যায় দেবরের সাথে জ*মে ওঠে প*রকীয়া।ইসলাম দে*বরের সাথে দেখা-সা*ক্ষাৎ করার লাগাম*কেও টেনে ধরেছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সা*বধান! তোমরা নি*র্জনে নারীদের কাছেও যেও না।’এক আনসার সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ

দেবর স*ম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? নবীজি (সা.) বললেন, ‘দেবর তো মৃ*ত্যু*র স*মতুল্য।’ (মুসলিম, ২৪৪৫)হাদিসের ব্যা*খ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ফতহুল বারিতে লিখেছেন, ‘এখানে মৃ*ত্যু*র স*মতুল্যর অর্থ হলো হা*রাম।’ আর ইসলামে এসবের শা*স্তি ভ*য়াবহ।এসবের শা*স্তি হিসেবে রজম ও দোররার নি*র্দেশ এসেছে হাদিসে। যাতে কোনো নারী ও পুরুষ যেন এধরনের ভয়া*বহ ক*র্মে লিপ্ত না হয়।

বিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র আজান !

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। ফজরের আজানের আওয়াজে পৃথিবীর ঘুম ভাঙে। আবার এশার আজনের ডাকে সাড়া দিয়ে নামাজ শেষে সবাই ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়। মাঝে আছে যোহর, আছর ও মাগরিব।এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর কোনও না কোনও প্রান্তে সবসময়ই আজান হয়।

ফজরের পবিত্র আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে মুসলমানের। তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য, নামাজ ও কল্যাণের আহ্বানে দিন শুরু হয় তাদের।ঘোষণা করা হয়, হে মানব! ওঠো, ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম। শুধু স্রষ্টার ইবাদত নয়, জাগতিক অনেক বিচারেও ফজরের আজানের এই আহ্বান কল্যাণের বাহক।আধুনিক যুগের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সকালের নির্মল বায়ু, সূর্যালোক ও কায়িক পরিশ্রমকে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মত দিয়েছেন।

একই সঙ্গে সূর্যালোক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্মঘণ্টা এগিয়ে নেয়ার মতও দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।আজান মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে, আজান কল্যাণের ধারক। আর সেই কল্যাণের ধারা পৃথিবীব্যাপী অব্যাহত থাকে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা। এটা মুসলিম বিশ্বের হিসাবে। আর যদি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের শেষ শহর হিসাব করা হয় তাহলে ফজরের আজানের দৈর্ঘ্য হবে আরও বেশি। মুসলিম বিশ্বের সর্বপূর্বের শহর ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি এবং সর্বপশ্চিমের শহর মৌরিতানিয়ার নাওজিবো।

গ্রিনিচ মান সময়ের হিসাবে উভয় দেশের মধ্যে সময়ের পার্থক্য ৯ ঘণ্টা। অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ায় ফজরের আজান শুরু হওয়ার ৯ ঘণ্টা পর আজান হয় আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ায়। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি দ্বীপে আজান শুরু হওয়ার পর তা ক্রমেই পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হয়। অগ্রসরমাণ আজানের ধ্বনি প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবেই অগ্রসর হতে থাকে।আজানের ধ্বনি পূর্ব থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হওয়ার ধারাক্রমটি এমন—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, মিসর, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মালি, মৌরিতানিয়া।

তবে তারও আগে আজান হয় জাপানের নিমুরো দ্বীপে। সেখানে ফজরের আজান হয় রাত ১টা ৫৭ মিনিটে (১২ মে)। আর সর্বশেষ আজান হয় আমেরিকার আলাস্কা প্রদেশের শেষ প্রান্তে।সেই হিসাবে শুধু ফজর নয়, পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আজান হয় ৯ ঘণ্টা ধরে।

সৌদি আরবে আরো তিন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃ**ত্যু !

মদিনা ও মক্কায় আরও তিন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃ**ত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃ*তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮জন। এর মধ্যে মক্কায় সাতজন এবং মদিনায় একজন মা**রা গেছেন। এর মধ্যে সাতজন পুরুষ ও একজন নারী। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) মা**রা যাওয়া তিনজন হলো- মাহমুদুল হক (৬৭), আবদুস সালাম (৫৩) ও মোহরম আলী (৬৪)।

মাহমুদুল হক চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ার ছনহরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মদিনায় মা**রা যান। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর বিটি ০৭১৮৩২৭ ও পিলগ্রিম আইডি ৯৫৬১১৯৯। তিনি বেসরকারি হজ এজেন্সি আল মাবরুর হজ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে গত ৮ জুলাই বিজি ৩২১১ যোগে সৌদি আরবে যান।

একইদিন ঢাকার দোহারের নারিশা পশ্চিম ঘরের গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুস সালাম মা**রা যান। তার পাসপোর্ট নম্বর বিআর ০৯১৩৮৩০ ও পিলগ্রিম আইডি ০২৮৮১৮৯। তিনি গত ৫ জুলাই বেসরকারি কুমিল্লা ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি এয়ারলাইনস এসবি ৩৮০৭ ফ্লাইটে সৌদি আরব যান।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সিদলাই গ্রামের মোহাম্মদ মোহরম আলীর পাসপোর্ট নম্বর ইএ ০০২১৪৫১ ও পিলগ্রিম আইডি ০৩৪৭০০৩। তিনি গত ৯ জুলাই বেসরকারি আকাবা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে বিজি ৩২১৩ ফ্লাইটে সৌদি আরব যান।সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর মোট হজযাত্রীর সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে।

গাছ বিক্রি করে হজের স্বপ্ন পূরণ করলেন এক কৃষক !

মুমিন হৃদয়ে সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার ইবাদত হলো হজ। যদিও হজের জন্য রয়েছে আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা। তথাপিও এমন অনেক অসহায় ও শারীরিক প্রতি*বন্ধী রয়েছেন যারা হজের জন্য থাকেন আত্মহারা। আল্লাহ তাআলা সেসব বান্দাদের জন্য হজের ব্যবস্থাও করে দেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে হজের স্বপ্ন পূরণে গাছের পরিচর্যা করেন। গাছ বিক্রির টাকায় সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন এক কৃষক। তিনি ১৮ বছর আগে জমির আইলে লাগিয়েছেন গাছ। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে হজে গেলেন গাইবান্ধার মধ্যবয়স অতিক্রম করা এ কৃষক।বাংলাদেশের গাইবান্ধার জেলার শাদুল্লাপুরের এক কৃষক গাছ বিক্রির টাকায় হজ পালনের উদ্দেশে গিয়েছেন সৌদি আরবে। ফেসবুকে বৃদ্ধ সম্বোধন করা হলেও, ছবি বলে দেয় যে, তিনি মধ্য বয়স অতিক্রম করছেন।

ছবিসহ সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘গাছ বিক্রির টাকায় হজ’-এর এ খবর ভাইরাল হয়ে যায়। আর তা হলো-একজন হাজি সাহেব। বয়সে বৃদ্ধ। এসেছেন হজে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে। হোটেল লবিতে (বারান্দায়) বসে (বৃদ্ধ হাজির সঙ্গে) কথাবার্তা বলছি। (তাকে) খুব আবেগী মনে হলো।জানতে চাইলাম, কি কাজ করেন বাড়িতে?-ক্ষেত-খামার (কৃষি কাজ) করি।-আচ্ছা! তাহলে হজে আসলেন (খরচ মেটালেন) কীভাবে?
উত্তর দিলেন, বাবা! ১৮ বছর আগে হজের ইচ্ছা করি। কাবা ঘরটা দেখার শখ ছিল অনেক। হজের উদ্দেশে ১৮ বছর আগে জমি ও ক্ষেতের আইলে ইউক্যালিপটাসসহ কিছু গাছ রোপণ করি।

হজ করার আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে থাকি। গাছগুলো বড় হয়। এবার সে গাছগুলোর বেচা টাকা দিয়েই হজে আসলাম।
আমি বললাম, ‘মাশাআল্লাহ’। আপনার হজের টাকাটা কত পিওর! কোন হারামের মিশ্রণ নেই। সম্পূর্ণই পরিশ্রমের টাকা।

হাজি সাহেব বলেন, আরেকটু শুনুন!
-গাছগুলো বড় হওয়ার পর, প্রায়ই যখন রাত হতো, মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো, আমি গাছগুলোর কাছে যেতাম। গাছ ধরে ধরে কাঁদতাম, দোয়া করতাম। আল্লাহ যেন আমাকে হজে নিয়ে যান।

-একটা গাছের বয়স আঠারো। সেটি বেচে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় হলো। দেরি না করে সেই টাকা দিয়েই হজের রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি। এরপর প্রথমে ২২টা। তারপর ২০ টা গাছ বিক্রি করে হজের টাকা সংগ্রহ করি। কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলেন। বললেন, আল্লাহই আমারে নিয়ে এসেছেন।

এরপরে আরও অনেক কথা হলো। আমি কাছ থেকে নিখাদ হৃদয়ের মানুষটাকে দেখতে থাকলাম। ভাবলাম, এসব হাজিদের হজ কবুল হতে আর কত দেরি!’ফেসবুকের এ পোস্ট ও ব্যক্তির ঘটনাই প্রমাণ করে যে, একনিষ্ঠ ইচ্ছা থাকলে যে কোনো কঠিন কাজই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সফলতায় প্রয়োজন আন্তরিক সদ্বিচ্ছা। আর স্বদিচ্ছা থাকলেই যে কোনো ব্যক্তিই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম।আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত ব্যক্তির হজকে সহজ করে দিন এবং কবুল করুন। মুসলিম উম্মাহকে হজ ও ওমরার তাওফিক দান করুন। আমিন।

৭০ জন নবী এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন !

৭০ জন নবী এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন! আরবি পরিভাষায় পাহাড়ের চেয়ে নিচু এবং সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু স্থানকে খায়েফ বলা হয়। আবার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকাসম ভূমিকেও খায়েফ বলে আরবরা। শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কঙ্কর নিক্ষেপ করা হজের আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম অংশ।

এই কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানের খুব কাছে ঐতিহাসিক ‘মসজিদে খায়েফ’ অবস্থিত। এই মসজিদে ৭০ জন নবী নামাজ আদায় করেছেন। অপরদিকে, খায়েফ মসজিদ হচ্ছে মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের এক স্মৃতিচিহ্ন। সওর পাহাড়ের বিপরীত দিকের পাহাড়ের অদূরে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদের আলোচনা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।

বিশাল মসজিদটি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে আসা হাজিদের মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের অনেক ঘটনাকে। বৃহদাকার মসজিদের উচুঁ মিনারগুলো বেশ দূর থেকে পাহাড়ের চূড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে নামাজ আদায় করছেন এবং বলেছেন, এখানে সত্তরজন নবী সমাহিত হয়েছেন। নবী করিম (সা.) বিদায় হজে মসজিদে খায়েফে নামাজ পড়েছেন। এই মসজিদের অনেক ফজিলত হাদিস ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে।

ইতিহাসে এসেছে, পঞ্চম হিজরিতে ইহুদিদের প্ররোচনায় মক্কার কাফেররা মদিনায় হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে তারা কিছু আরব গোত্রের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তি করার জন্য মক্কার কাফেররা যে স্থানটি বেছে নেয় পরে সেখানেই খায়েফ মসজিদ নির্মিত হয়।

মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের গোত্রগুলোর ঐক্যের ব্যর্থতার নিদর্শন হিসেবে মসজিদটি দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত ঘোষণা করছে, ইসলামের বিজয়গাঁথা ইতিহাসকে। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) খায়েফ মসজিদের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন ওসমানিয় শাসনামলে সেখানে একটি বড় গম্বুজ ও মেহরাব তৈরি করা হয়।

এখন অবশ্য সেটি আর নেই। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, ২৪০ হিজরিতে এক প্রলয়ঙ্করী বন্যায় খায়েফ মসজিদ ধসে পড়ে। তবে বন্যা শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদটি আবার নির্মাণ করা হয় এবং এর চারপাশে বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়। সে সময় এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ মিটার এবং প্রস্ত ছিল ৫৫ মিটার।

মসজিদ
সে হিসাবে এটি ছিল ওই সময় আরব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এমনকি তখন মসজিদে হারামের চেয়েও বড় ছিল এই মসজিদের আয়তন। ৮৭৪ হিজরিতে মিসরের মামলুকি সুলতান কাইতবা এই মসজিদ পুননির্মাণ করেন। মসজিদের ওই স্থাপনাটি কয়েক দশক আগ পযন্ত বিদ্যমান ছিল।

এখন থেকে তিন দশক আগে ১৪০৭ হিজরিতে এই মসজিদ পরিবধন ও পুননির্মাণের এক বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মসজিদের আয়তন আগের চেয়ে চারগুণ বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার বর্গমিটার করা হয়। খায়েফ মসজিদে এখন ৩০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের চারকোণায় অবস্থিত চারটি সুউচ্চ মিনার মসজিদটিকে দান করেছে অপার সৌন্দর্য। হজের মৌসুমে মিনায় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের সময়টাতে মসজিদটি মুসল্লিদের প্রচুর ভিড় দেখা যায়। মসজিদের সামনে স্থাপিত সাইনবোডে বেশ কয়েকটি ভাষায় লেখা রয়েছে মসজিদের নাম। সেখানে বাংলাতেও লেখা আছে- আল খায়েফ মসজিদ।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহন করেন খ্রিস্টিয় ৫৭০ সালে। এর মাত্র ৫০ বছর পর ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে আসে ইসলাম! আর উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে শুরু হয় যাত্রা! বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাপ্ত শিলালিপি এমন দাবিই জোরালো করেছে। এতে আরও দেখা যায়, ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে দেশের প্রথম মসজিদটিও নির্মিত হয় এই জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ‘মজেদের আড়া’ নামক গ্রামে। ১৯৮৭ সালে পঞ্চগ্রামে জঙ্গল খননের সময় প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

এর একটি ইটে কালেমা তাইয়্যেবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হয়, মসজিদটি হিজরি ৬৯ অর্থাৎ ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে স্থাপন কিংবা সংস্কার করা হয়। রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.)-এর মামা, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)।

অনেকে অনুমান করেন, পঞ্চগ্রামের মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন যা ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়। দেশের প্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরে রয়েছে একটি কাতারের জন্য ৪ ফুট প্রস্থ জায়গা।

চিতই পিঠা বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়ে হজে গেলেন মোহর আলী !

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মোহর আলী চিতই পিঠা বিক্রি করে সস্ত্রীক হজে যাচ্ছেন। পিঠা বিক্রি করার সময় তার স্বপ্ন ছিল হজ পালনে সৌদি আরবে যাবেন। মোহর আলীর সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।

রবিবার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী গ্রামের মোহর আলী ও তার স্ত্রী ফিরুজা বেগমকে নিয়ে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।মোহর আলী বলেন, ‘আমি সারা জীবন চিতই পিঠা বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করে আসছি। অনেক আগে থেকে আমার ইচ্ছা ছিল আমি হজ করবো। আল্লাহ পাক আমাকে কবুল করেছেন তাই আমি পবিত্র হজে যেতে পারছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই আল্লাহ পাক যেন আমাকে কবুল করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি হজে যাওয়ার জন্য অল্প অল্প করে টাকা জোগাড় করে রেখেছি। সেই টাকা দিয়ে হজে যাচ্ছি। আমি সব সময় বলতাম আল্লাহ যেন আমাকে হজ পালন না করিয়ে মৃত্যুবরণ না করেন। আল্লাহ আমার সেই চাওয়া পূরণ করেছেন।’

গোপালদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আলী আজগর বলেন, তিনি একজন সৎ মানুষ। সারা জীবন পিঠা বিক্রি করেছেন। তিনি হজে যাচ্ছেন সত্যিই ওনাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।

কোরবানির গোশত বিতরণের সঠিক সুন্নাহ কী?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ২৩০৪তম পর্বে কোরবানির গোশত বিতরণের সঠিক সুন্নাহ কী, সে বিষয়ে মেইলে জানতে চেয়েছেন জিল্লুর রহমান। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : কোরবানির গোশত বিতরণের সঠিক সুন্নাহ কী? বিতরণের আগে সামান্য পরিমাণে বাসায় নেওয়া জায়েজ হবে কি? যা বণ্টনের সময় সমন্বয় করা হবে?

উত্তর : কোরবানির গোশত বণ্টনের বিষয়টি মূলত ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এটি নবী কারিম (সা.)-এর নির্দেশনা। নবী কারিম (সা.) এভাবে পছন্দ করেছেন, সেটি হলো—একভাগ নিজের জন্য রাখবেন, আরেক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে হাদিয়া হিসাবে উপঢৌকন দেবেন, অন্য আরেক ভাগ ফকির-মিসকিনদের বণ্টন করবেন।

যেহেতু আমরা কোরবানি করছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জবাই করার পরে, আল্লাহ অনুমোদন দেওয়ার কারণে আমরা খেতে পারছি। যদি আল্লাহ বলতেন, আমার জন্য জবাই করেছ, এখন পুরোটাই বিতরণ করে দাও, তাহলে আমরা পুরোটাই বিতরণ করতাম। তাই কোরবানি গোশতের ক্ষেত্রে বিতরণের এই প্রক্রিয়ায় নবী কারিম (সা.) যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটা অনুসরণ করা নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নাহ।

এটা বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। যদি কোনো কারণে কমবেশি হয়, তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন না এবং তার যে কোরবানি হবে না, ব্যাপারটা এমন নয়। আপনি প্রয়োজন মনে করে খাওয়ার জন্য আগে কিছু গোশত নিয়ে গেলেন তারপর সেটাকে সমন্বয় করলেন, এটা জায়েজ রয়েছে, নাজায়েজ নয়।

আর সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক নয়। সে ক্ষেত্রে আপনি কমবেশি করতে পারেন। যেমন, অনেক সময় দেখা যায়, কোরবানির গোশত তিন ভাগ করার পর দুই ভাগ ফকির-মিসকিন ও আত্মীয়দের দেওয়ার পর যে এক ভাগ আছে তা পরিবারের লোকসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণে সামান্য হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আপনি কমবেশি করতে পারেন। এটা নাজায়েজ নয় বা হারাম বিষয় নয়। তবে ফকির-মিসকিনদের একটা অংশ যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়ে। কোরবানির যে ত্যাগের মহিমা, সেটা মূলত এখানেই নিহিত আছে।

আমেরিকার খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম হলেও একলা ঘরে কলেমা পড়ে আমি মুসলিম হই!

আপনারা আমাকে আলি কামারাতা নামে চেনেন। তবে এই পরিচয় ধারণের আগের ইতিহাসটুকু অনেকেই জানেন না।
আমি সেটাই আপনাদের শোনাব। আমেরিকার একটি খ্রি*স্টান পরিবারে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার দাদি আমাকে প্রতি সপ্তাহে গি*র্জায় নিয়ে যেতেন। সেখানে নিয়মিত বাইবেলের পাঠ হতো। কিন্তু আমি বড় হওয়ার পর গি*র্জায় কম সময় দিতাম। স্কুল, খেলাধুলা ইত্যাদিতেই বেশি সময় কাটত আমার। হাই স্কুলে পড়ার সময় আমি ধর্ম ত্যাগ করে না*স্তিক হয়ে যাই। মূলত একজন না*স্তিক শিক্ষকের সংস্পর্শ আমাকে স্রষ্টায় অবিশ্বাসী করে তোলে।
১৭ বছর বয়সে আমি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিই।

তখন আমি আবারও ধর্মের পথে ফিরে আসি। দীর্ঘ সময় আমি ধর্ম বিষয়ে পাঠ, অধ্যয়ন ও প্রার্থনায় কাটাতাম। একজন খ্রি*স্টান হিসেবে আমি সব সময় সত্য ও অসত্যের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। কিন্তু আমার ধর্ম তার সত্যতা ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করতে পারেনি।ধর্মের ব্যাপারে আমি যত পড়ছিলাম, আমার হতাশা তত বাড়ছিল। এরই মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটল। সব সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক সম্মিলনে আলোচনার একমাত্র বিষয় ছিল ইসলাম। তারা বলছিল, মুসলিম ধর্মবিশ্বাস কিভাবে মানুষকে অমুসলিম হ*ত্যায় উৎসাহিত করে,

যাতে তারা জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে। এমন আরো অনেক ভুল ধারণা, যা ইসলামকে অসভ্য ধর্ম প্রমাণিত করে—তা আলোচিত হতো সেখানে।
ফলে না বুঝেই বহু মানুষ ইসলামের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে লাগল। আমিও ছিলাম তাদের একজন। ইসলামবিরোধী প্রচারণায় আমি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হই এবং ইসলামের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি। ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণার পাশাপাশি আমি ছিলাম মার্কিন সামরিক বাহিনীতে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদে বিশ্বাসী।

কয়েক মাস মিডিয়ায় ধারাবাহিক ইসলামবিরোধী প্রচারণায়, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের সম্মানহানি ও মুসলিমবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া, সেগুলোর কারণে আমি আরো উত্তেজিত হই।

১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার তিন মাস পর স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের একটি প্রস্তাব দেন।

তা হলো, যদি আমাদের কেউ একটি মৌলিক ও অভিনব প্রজেক্ট তৈরি করতে পারে, তাহলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘পাসিং গ্রেড’ পাবে। সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটি গেম তৈরির সিদ্ধান্ত নিলাম, যেখানে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে হ*ত্যা করতে হবে। আমি খুব দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করি। প্রকল্পটি ক্রিসমাসের ছুটির পর জমা দেওয়ার কথা ছিল।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এটা বাড়ি নিয়ে আসব এবং অবসর সময়ে আরো খুঁটিনাটি কাজ করব। আমি গেমে একটি পর্ব এমন রাখতে চাইলাম, যেখানে ওসামা বিন লাদেনের পাগড়িতে আগুন নিক্ষেপ করা হবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমি গুগলে সার্চ দিলাম। তখন ইসলাম বিষয়ে এমন কিছু লেখা পাই, যা আমার চোখ খুলে দেয়।

একটি প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় ছিল নুহ, ইবরাহিম, মুসা, ঈসা (আ.)-সহ অন্যান্য নবীর ব্যাপারে মুসলিম ধর্মবিশ্বাস। যেহেতু আমি নিয়মিত বাইবেল পড়তাম, তাই আমি এসব নবীর ব্যাপারে জানতাম। আমি আশ্চর্য হলাম, খ্রিস্টান না হয়েও তাঁরা কিভাবে নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে? আমি গেম তৈরির কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ইসলাম বিষয়ে প্রবন্ধ ও বই পড়তে লাগলাম। আক্ষরিক অর্থে আমি জেগে উঠলাম। ছুটির সময় সর্বক্ষণ আমি পড়তাম। পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যেতাম, আবার জেগে উঠতাম এবং পড়তাম।

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি এক সত্যিকার খ্রি*স্টান হব। আমি ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে পড়ব এবং খ্রি*স্টধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দিক খুঁজে বের করব, যেন আমাকে কেউ জন্মসূত্রে খ্রি*স্টান বলতে না পারে। খ্রি*স্টধর্মের ইতিহাস পড়ার পর দেখলাম, ঈসা (আ.)-এর আনীত বাণী অনুসরণ করছে না গির্জাগুলো। বরং তারা ঈসা (আ.)-এর পরে একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে এবং যারা ও যা কিছু তাদের মতবাদের বিরোধী ছিল তা ধ্বংস করে দেয়। এরপর আল্লাহ তাঁর সত্য বাণী দিয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেন।

আমি কোরআন পড়তে শুরু করার পর জানলাম, কোরআন কখনো পরিবর্তন হয়নি এবং হবে না। একজন খ্রিস্টান হিসেবে বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা বাইবেল তার মূল অবস্থার ওপর টিকে আছে কি না, সেই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেনি। আর কোরআন প্রথম ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হওয়ার সময় যেমন ছিল, ঠিক সেভাবেই রয়েছে।

ইসলাম, কোরআন ও মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে পড়ার পর আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কথা বলতে চাইলাম। কিন্তু আমার এলাকায় কোনো মসজিদ ছিল না, তাই ইন্টারনেটে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলি। সব পর্যবেক্ষণের পর আমি আর সত্য অস্বীকার করতে পারলাম না।

কিন্তু আমার ভেতর গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছিলাম, আমি মুসলিম হতে পারি না। কারণ আমি আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ। তুমি মুসলিম হতে পারো না। কারণ তুমি আরব নও। ইসলাম শুধু আরবের জন্য। ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহতার পর ইসলাম গ্রহণ করলে তুমি পরিবারকে কী বলবে? আলহামদুলিল্লাহ! আমি অল্প দিনের মধ্যে এসব প্রশ্ন উপেক্ষা করতে সক্ষম হই। যেহেতু আমার আশপাশে কোনো মসজিদ ছিল না, তাই আমি একলা ঘরে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলামে দীক্ষিত হই।

কোরআন শিক্ষার অভাবে মানুষ চরিত্রহীন হচ্ছে’- চরমোনাই পীর !

বুধবার জয়পুরহাটে আশরাফুল উলুম কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)বলেছেন, পৃথিবীতে যতদিন ওহীভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে ততদিন পৃথিবী টিকে থাকবে। কোরআনের শিক্ষার অভাবে চরিত্রহীন হচ্ছে মানুষ’

তিনি সকলকে ইসলামবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর বলেন, কোরআনী শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি কখনো অনৈতিক কাজে জড়াতে পারে না। সমাজে অশান্তির মূলেই রয়েছে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা। ইলমে ওহীর শিক্ষা প্রসারে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলাম কল্যাণের ধর্ম। মানবতা শান্তির ধর্ম। ইসলামকে বিশ্বব্যাপী কলুষিত করতে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো জঙ্গিবাদ ও আইএসের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামের সুমহান পতাকাতলে

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শামিল হচ্ছে।
এ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতেই আইএস ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে। ইসলাম চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়।