পবিত্র কুরআনে এই মসজিদটিরই প্রশংসা করেছেন আল্লাহ

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নির্মিত মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই মসজিদ ও তারমুসল্লিদের প্রশংসা করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে কুবা মদিনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। কুবা মূলত একটি প্রাচীন কূপের নাম। কূপের নামানুসারে পরবর্তী সময়ে এলাকার নামকরণ হয়।মহানবী (সা.) মদিনায় আগমনের পর কুবা নামক স্থানে অবতরণ করেন। তিনি আবু আইয়ুব আনসারি

(রা.)-এর ঘরে অবস্থান করেন। তখন এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মদিনার উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত এই মসজিদের নির্মাণকাজে স্বয়ং নবী করিম (সা.) অংশগ্রহণ করেন। মসজিদ নির্মাণে প্রথম পাথরটি তিনিই রাখেন।নির্মাণকাজ শেষ হলে তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করেন এবং কুবাবাসীর প্রশংসা করেন। নবনির্মিত মসজিদে প্রথম নামাজ তিনিই আদায় করেন।মসজিদে নববীর পাশে স্থায়ী আবাস গড়লেও মহানবী (সা.) প্রতি সপ্তাহের শনিবার মসজিদে

কুবায় আসতেন।কোরআনে মসজিদে কুবার প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত সেখানে অবস্থান করা আপনার জন্য অধিক সংগত।সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা পছন্দ করে। আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : তওবা, আয়াত : ১০৮)প্রতিষ্ঠার পর উসমান বিন আফফান (রা.), ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.), উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ও তাঁর ছেলে প্রথম আবদুল মাজিদ প্রমুখ শাসকরা মসজিদে কুবার সংস্কারকাজ করেন।

বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের সময় সর্বশেষ সম্প্রসারণ হয়। ১৪০৫ হিজরিতে শুরু হওয়া সংস্কারকাজ শেষ হয় ১৪০৭ হিজরিতে।যাতে মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৫০০ স্কয়ার মিটার। মসজিদে কুবায় বর্তমানে ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে।আতাউর রহমান খসরুর লেখা থেকে

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ ১০ নভেম্বর রবিবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মানবজাতির শিরোমণি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিন। প্রায় ১৪০০ বছর আগে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২রবিউল আউয়াল ইসলামের শেষ নবী (সা.) আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন।আবার ৬৩২
খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন।আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এই মহামানব। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলামের।

তাঁর আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির ললিত বাণীর প্রচার সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠা করেন ন্যায় ও ইনসাফ, মানবতা ও কল্যাণ।
মহানবী (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যুর এ দিনটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলমানরা এ দিনটি উদযাপন করেন বিশেষ গুরুত্বের
সঙ্গে।বরাবরের মতো এবারও সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইবাদত-বন্দেগি, মিলাদ, জসনে জুলুস, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবেন।ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (স) শেষ নবী। সারা আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, তখন মহান আল্লাহপাক তাঁর প্রিয়নবীমুহাম্মদকে (স) সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন। তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। এরপর বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও শান্তির পথে আহ্বান জানান।সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে

মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা নিয়ে এনেছিলেন তিনি। মহানবী (স) দীর্ঘ ২৩ বছর এ বার্তা প্রচার করে ৬৩ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।আজ সরকারি ছুটির দিন। দৈনিক পত্রিকা অফিসগুলোও আজ বন্ধ থাকবে। তাই সোমবার কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশেরবড় বড় মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হবে। রাজধানীতে বের হবে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জসনে জুলুস। দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

আজো ম’রুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ

অবিশ্ব স্য হলেও সত্যে। আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে যে গাছটির নিচে মহানবী (সা) বিশ্রাম নিয়েছিলেন জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় সেই গাছটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেনপৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বা’সযোগ্য না হলেও সত্যি। ম’রুভূমির রু ক্ষ পরিবেশের কারণে জ ন্ম থেকেই

গাছটি ছিল পাতাহীন শু কনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভ রে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যা মল অ বস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
অবিশ্বা’স্য এই গাছটি জর্ডানের ম’রুভূমির অ ভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দ’ণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্ম’দ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে ম’ক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দে শ্যে যাত্রা করেন।যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত

মাইলব্যা পী বিস্তৃত উ ত্ত প্ত বালুকাময় এক ম’রুভূমি। মোহাম্ম’দ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব ম’রুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লা ন্ত হয়ে পড়েন। তখন তারা একটু বি শ্রামের জা য়গা খুঁ জছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁ জে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির স ন্ধান পাচ্ছিলেন না।কিন্তু দূরে একটি মৃ’তপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উ ত্তপ্ত ম’রুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শী র্ণ ও মৃ’তপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা ম’রুভূ মির উ’ত্তাপে শী র্ণ পা তাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্ম’দ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর

নি র্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃ ক্ষরা জি তার দিকে হেলে প ড়ে ছায়া দিত।মোহাম্ম’দ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃ’তপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন।আবু তালিব মোহাম্ম’দকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায়

পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্ম’দ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!বালক মোহাম্মা’দকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্ম’দ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমা’র সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী।
তিনি বলেন, আমি তার স’ম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী। চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের

নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের ম’রুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন ম’রুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির
আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই। গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই ম’রুভূমি আর ম’রুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় ম’রুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।

স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু থেকে পরিবার নিয়ে মুসলমান হলেন কৃষ্ণ বাবু !

জামালপুরে স্ব-ইচ্ছায় হিন্দু থেকে স্ব-পরিবারে মুসলমান হয়েছে শ্রী কৃষ্ণ বাবু (২৯) নামের এক যুকব। বর্তমানে তার নাম রাখা হয়েছে বিলাল হোসেন মণ্ডল।তাকে মুসলমান হওয়ার বিষয়ে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন কাচারী পাড়া এলাকার মোঃ আল আমিন হীরা।বিলাল হোসেন মণ্ডল জামালপুর শহরের কাচারী পাড়া এলাকার শ্রী মন্টু ঋষীর ছেলে।বিলাল হোসেনের স্ত্রী পূর্নি ঋষির(হিন্দু অবস্থায়)(২৬) বর্তমান নাম মোছাঃ মরিয়ম, বড় ছেলে শ্রী সুখ নাথ ঋষির (৮) বর্তমান নাম হাসান এবং ছোট ছেলে শ্রী দুখ নাথ ঋষির (৬) বর্তমান নাম হুসাইন।

জুমার নামাজ শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাচারীপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ এ.কে.এম জহুরুল ইসলাম মনসুর,সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, মিজানুর রহমানসহ মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যবৃন্দ ও মুসল্লি। এ সময় সদ্য মুসলিম হওয়া এ পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সদ্য মুসলিম দুই শিশুকে আলহাজ নূর মোহাম্মদ ক্বওমী মাদ্রাসায় বিনামূল্যে পড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার মোহতামিম কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম।

জানা যায়, গত ১৩ জুন জামালপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা-এর মাধ্যমে সনাতন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ওই পরিবারের চারজন সদস্য। যার রেজিঃ নং- ৫৮০।

এরপর আবার জামালপুর শহরের কাচারীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম তাদের কালিমা পড়ান।
সদ্য মুসলিম হওয়া বিলাল হোসেন মন্ডল বলেন, আমি বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে যেতাম এবং মোবাইলে ওয়াজ শুনতাম। বাড়িতে গিয়ে ওইসব বিষয় আমার স্ত্রীকে বলতাম।

এরপর থেকে আমাদের কাছে ইসলাম ধর্ম ভালো লাগতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমি ও আমার স্ত্রী পরামর্শ করে নিজেদের ইচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যাদের সঙ্গে আল্লাহ থাকেন তারা কখনও হতাশ হন না

পাওয়া-না পাওয়া, সাফলতা-ব্যর্থতা মানুষের জীবনে আসতেই পারে। তাই বলে কি হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করতে হবে! আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আর আত্মহত্যাকে কোনো ধর্মই সমর্থন করে না।
ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ব্যর্থতার পরই আসবে সফলতা। যেমনিভাবে রাত পোহালেই আসে দিন।

আর ব্যর্থতায় মর্মাহত লোকদের সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।
(সূরা আলে ইমরান : ১৩৯)
হতাশ হতে বারণ করেছে ইসলাম। যারা জীবনের প্রথম পর্যায়ে খারাপ কাজ করেছে পরবর্তী সময়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে মর্মপীড়ায় ভুগছেন, তাদেরও আল্লাহতায়ালা নিরাশ করেননি। তিনি তাদের সুপথে ফিরে আসার জন্য ক্ষমার সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন,
‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব গোনাহ মাফ করবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা যুমার : আয়াত ৫৩)।

অনেকে হতাশ হয়ে হরেক রকম নেশায় জড়ায়। এতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায় কিন্তু হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
নেশা করা ইসলাম ধর্মে হারাম। তাই যারা পাওয়া, না-পাওয়া জীবনে হতাশ হয়ে পড়েছে তাদের উচিত নেশা না করে ধৈর্য ধারণ করা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা : ১৫৩)। আর আল্লাহতায়ালা যাদের সঙ্গে আছেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট ঘায়েল করতে পারে না।

রাসূল (সা.) হতাশাগ্রস্ত মানুষকে মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কয়েকটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। যা তাদের মনকে সজীব ও সতেজ করবে।
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ওইগুলো পড়ে আমল করবে, সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
আমলগুলো তেত্রিশবার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়া, তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়া। (সহিহ মুসলিম)

এইমাত্রপাওয়া: বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দু’পক্ষ আলাদাভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সম্মত হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ এবং ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি দু’পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে।২০২০ সালের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার (২৮ অক্টোবর) তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাদ অনুসারীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলাম। অপরদিকে সাদবিরোধীদের পক্ষে মাওলানা জুবায়ের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ার হোসেন,
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সাঃ)

আগামী ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ৩০ অক্টোবর বুধবার থেকে আরবি ১৪৪১ হিজরির ‘রবিউল আউয়াল’ মাসের গণনা শুরু হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সাঃ) পালিত হবে।রবিবার বাংলাদেশ অ্যাসট্রোনোমিক্যাল সোসাইটি (বিএএস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হিজরি ১৪৪১ সনের ‘রবিউল আওয়াল’ মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা জানিয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

আগামী ২৮ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে
বর্তমান চাঁদের অমাবস্যা কলা পূর্ণ করে নতুন চাঁদের জন্ম হবে।চাঁদটি ওইদিন সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে ৪ ডিগ্রি উপরে ২৫৬ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং প্রায় ২৪ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৫টা ৪৭ অস্ত যাবে।এ সময় চাঁদের কোনো অংশ আলোকিত থাকবে না এবং দেশের আকাশে একে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।চাঁদটি পরদিন ২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার ৫টা ২২ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে

১৪ ডিগ্রি উচ্চতায় ২৪৬ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে ২৫২ ডিগ্রি
দিগংশে অস্ত যাবে।এ সময় চাঁদের ৩% অংশ আলোকিত থাকবে এবং দেশের আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে একে বেশ স্পষ্টভাবেই দেখা যাবে। এই সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর আকাশে উদিত চাঁদের বয়স হবে ৩১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট এবং সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটে।সুতরাং, ইসলামী

নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ৩০ অক্টোবর ২০১৯,বুধবার থেকে আরবি ১৪৪১ হিজরীর ‘রবিউল আউয়াল’ মাসের গণনা শুরু হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর তারিখে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালিত হবে।

মেক্সিকো উত্তর আমেরিকার মেক্সিকোতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ৫ হাজার ৫০০ জন

মেক্সিকো। উত্তর আমেরিকার একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগর, গুয়েতেমালা, বেলিজ ও ক্যারিবিয়ান সাগর বেষ্টিত জনপদ এটি। এ জনপদের ৫ হাজার ৫০০ আদিবাসী পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম রাষ্ট্র এটি। ১০৯ মিলিয়ন তথা প্রায় ১১ কোটি জনসংখ্যার দেশ মেক্সিকো। প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটি আমেরিকার পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্দশ বৃহত্তম স্বাধীন রাষ্ট্র।

বৃহত্তম দেশ মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য চিয়াপাস। ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এ রাজ্যের ৫ হাজার ৫০০ জন আদিবাসী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলে হলেও দেশটিতে স্পেনীয় ভাষাভাসী মানুষই বেশি।মেক্সিকোর মানুষ উদার ও শান্তি প্রিয়। দেশটির চিয়াপাস রাজ্যে গত দশকে শান্তির সন্ধানে ব্যাপক হারে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলামের শান্তি ও সহাবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।
মেক্সিকোতে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবদান রেখেছে লেবানন,

সিরিয়া এবং স্পেনের অভিবাসী মুসলমান। যারা মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় ইসলামিক সেন্টার চিয়াপাস রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। এখান থেকেই ইসলামিক দাওয়াহ ও ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়।চিয়াপাস রাজ্যের আদিবাসী ‘তাজুতাজিল’ নাম প্রসিদ্ধ। এ গোত্রের লোকেরা সেদেশের সান ক্রিস্টোবাল দে লাস কাসাস শহরে বসবাস করে। এই গোত্রের অধিকাংশ নাগরিকই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন।

তাজুতাজিল গোত্রের আদিবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। যারা আমেরিকান প্রাচীন মায়া সম্রাজ্যের অনুসারী। এরা মধ্য আমেরিকান প্রাচীন মায়া সাম্রাজ্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আরব ও স্পেনীয় মুসলিম অভিবাসীদের আচার-আচরণ ও জীবন-যাপনই তাজুতাজিল আদিবসীদের ইসলাম গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।

ইসলামকে অবশেষে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম ঘোষণা করল ইউনেস্কো !

ইসলামকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো (UNESCO)। গত ৭ জুলাই এ সম্পর্কিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইউনেস্কো। এর আগে ইউনেস্কো ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের সবগুলো ধর্ম নিয়ে গবেষণা চালায়। ওই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্ম কোনটি তা খতিয়ে বের করা।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশনের তুলনামূলক গবেষণা বিভাগের প্রধান রবার্ট ম্যাকগি বলেন, ছয় মাসব্যাপী গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণের পর আমরা এই উপসংহারে উপনীত হয়েছি যে, ইসলামই বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম। সংবাদ সম্মেলনে ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি ঢাকা ও বাগদাদের স ন্ত্রা সী হা মলাসহ ইসলামের নামে চালানো স ন্ত্রা সী হা মলাগুলোর সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন ইউনেস্কো কর্মকর্তারা।তারা বলেন, স ন্ত্রা সবাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলামের অর্থ শান্তি। এদিকে, বিশ্বের বড় বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা ইউনেস্কোর এই সনদ ও ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাইলামাও অন্যান্য ধর্মগুলোকে ইসলামের কাছ থেকে শান্তির শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছেন।

আর কী করে অহিংস এবং অপরের প্রতি সহনশীল থাকা যায় সে চেষ্টাও করতে বলেছেন।এদিকে, অনেক ইসলামী পণ্ডিতের মতে, ইসলাম আগে থেকেই শান্তির ধর্ম এবং বিশ্বসেরা ও সর্বশেষ ধর্ম হিসেবে পরিচিত ছিল।সূতরাং ইউনেস্কোর এই ঘোষণার কোনো দরকার ছিল না। এতে বরং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক বাড়বে।

ইউরোপের দেশ নরওয়েতে প্রতিদিন আট জনের বেশি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন !

ইউরোপের দেশ নরওয়েতে ইসলাম গ্রহণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ভিন্নধর্মী লোক মুসলমান হচ্ছেন।দৈনিক ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় তিন হাজার নরওয়েজিয় নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করছে। যা ১৯৯০ সালের সময় থেকে ৬ গুণেরও বেশি।প্রতিবেদনের হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ জনেরও বেশি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আগে নরওয়ের নারীরা মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করতে বেশি আগ্রহী ছিল।

তবে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করার এ প্রবণতা আগের চেয়ে এখন কমে গেলেও নারীদের মধ্যে বেড়ে গেছে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ অধ্যয়ন ও গবেষণা। যার ফলে আগের তুলনায় ইসলামের দিকে ঝুঁকছে বেশির ভাগ নারী ও পুরুষ।অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ইসলাম গ্রহণকারী দুই নারীর বক্তব্য, নরওয়েজিয় ইসলাম গ্রহণকারী নারী মনিকা সালমুক।৪ বছর আগে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়ন শুরু করে সে। বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়নের পর সে নিজের জন্য ইসলামকে বেছে নেয়।৪২ বছর বয়সী নরওয়েজিয় স্বেচ্ছাসেবী নারী সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন। নরওয়েতে আশ্রয় নেয়া মুসলিম শরণার্থীদের সাহায্যে তিনি কাজ করেন।

মুসলিম শরণার্থীদের সহযোগিতা করতে তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন। নরওয়েতে ১৯৬০ সালের দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে মুসলিমদের অবস্থান। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ১৯৭৪ সালে প্রথম মসজিদ গড়ে ওঠে।পরবর্তী সময়ে নরওয়েতে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
২০১১ সালের তথ্য মতে নরওয়েতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলিম।-ডেইলি বাংলাদেশ