আপনি কি অতিরিক্ত টেনশন করেন, রসুন খেতে ভুলবেন না ! জানুন কেন ?

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এর থেকে হার্টের রোগ হতে পারে। আবার কখনো কখনো এই রোগ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উৎকৃষ্ট পদ্ধতি হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। বলা হয়, রসুন উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। রসুনে রয়েছে প্রচুর সালফারে পূর্ণ অ্যালিসিন, ডায়াল্লিল ডি সালফাইডসহ আরো নানা উপাদান।

ভারতের ডি কে পাবলিশিং হাউসের একটি বই ‘হিলিং ফুডস’-এ বলা হয়েছে, রসুনে থাকা সালফার রক্তনালিতে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন করে। এতে তাদের স্থিতিস্থাপকতা বেড়ে রক্তচাপ কমে।অ্যানালস অব ফার্মাকো থেরাপির সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের সিস্টোলিক রক্তচাপ বাড়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রসুন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত, বিএমসি কার্ডিওভাস্কুলার ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে রসুন উপকারী। রসুনে থাকা অ্যালিসিন রিঅ্যাকটিভ যৌগ। বিশেষত, যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগী, তাদের ক্ষেত্রে এটি দুর্দান্ত কাজ করে।উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপার টেনশন কমাতে কীভাবে রসুন ব্যবহার করতে হবে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন ৪৮০ থেকে ৯৬০ মিলিগ্রাম রসুন খান, তাদের রক্তচাপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে এক কোয়া করে রসুন খাওয়া। এ ছাড়া অনেকে মনে করেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে দুই থেকে তিন কোয়া রসুন খেলেও উপকার হয়। তবে শুধু রক্তচাপেই নয়, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের জন্যও রসুন উপকারী। এ ছাড়া রসুন রক্তকে প্রাকৃতিকভাবে তরল রাখে। তাই এ ধরনের কোনো ওষুধ খেলে কিন্তু রসুন খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

প্রসূতি মায়ের অপ্রয়োজনীয় সিজার ঠেকাতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমন !!

সন্তান প্রসবের সময় প্রয়োজন ছাড়া প্রসূতির সিজার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পরে তিনি জানান, আবেদনটি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।রিট দায়েরের বিষয়ে সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে,বাংলাদেশে গত দু’বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছি।’

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানে রয়েছে নানা রকম ঝুঁকি। মা ও শিশু উভয়কেই এমন অস্ত্রোপচার ঝুঁকিতে ফেলে।সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু জন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় লাগে।এ ছাড়া সিজারিয়ানের কারণে প্রাকৃতিক জন্মের লাভজনক দিকগুলোও নষ্ট হতে পারে। যেমন, শিশু মায়ের প্রসবের পথ দিয়ে যদি স্বাভাবিকভাবে বের হয় তাহলে তার শরীর কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করতে পারে।

এসব ব্যাকটেরিয়া শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। অস্ত্রোপচারের ফলে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে না। যার ফলে এই ভালো ব্যাকটেরিয়া সে পায় না।এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধ পান করার জন্য মায়ের সঙ্গে শিশুর যে শারীরিক নৈকট্যে আসা দরকার সিজারিয়ান হলে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে ঘটে। কারণ মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য শিশুকে তখন কিছু সময় দূরে রাখা হয়।
একদম শুরুর দিকে মায়ের বুক দুধের বাড়তি উপকারিতা রয়েছে। তা থেকে সে বঞ্চিত হয়। ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৮ সালে বাংলাদেশি বাবা-মায়েরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন প্রায় চার কোটি টাকার বেশি। জনপ্রতি হিসেবে গড়ে তা ছিল ৫১ হাজার টাকার বেশি। সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানের হার বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক হারে বেশি।বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যত শিশু জন্ম নেয় তার ৮০ শতাংশই হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

সংস্থাটি আরও বলছে, ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু তারপরও এমন সিজারিয়ান হচ্ছে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন এমন অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ঠেকাতে ডাক্তারদের ওপর নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছে। এমন প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।

সংস্থাটি বলছে, কিছু অসাধু চিকিৎসক এর জন্য দায়ী, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি লাভজনক ব্যবসা।
বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং নবজাতক ও মাতৃ-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নান বলছেন, ‘চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সুবিধা আসলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে না গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে অনুপ্রাণিত করে।’

আপনার কি গ্যাস্টিক সমস্যা আছে ? আজই জেনে নিন কি করবেন !

আমাদের দেশে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ছাড়া কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এই সমস্যা মূলত বেশি বেশি ভাজা পোড়া খাওয়ার কারণে প্রধানত হয়।

অনেকের পেট ব্যাথা , বুকের ব্যথা বা বদ হজম এসব খাওয়ার পরে হয়। এই সমস্যা এড়ানোর জন্য, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, আপনাকে নিম্নলিখিত নিয়মগুলির মধ্যে কোন একটি অনুসরণ করলে হবে।কাঁচা আদা অর্ধেক ইঞ্চি পরিমাণ নিন।

তারপর একটু লবণ মাখিয়ে নিন । আদা খাওয়ার কয়েক মিনিটের পর গরম কাপের এক কাপ কুসুম গরম পানি খান । রাতে আর কোন গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হবে না । অথবা, একটি চুলায় একটি হাড়িতে এক গ্লাস পানি নিন । এর আগে, এক ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা হলুদ পানিতে নিন । পানি কমপক্ষে পাঁচ মিনিট গরম করুন তারপর এটা নিচে নামিয়ে নিন ঠান্ডা হলে, এটি খেয়ে নিন দেখুন গ্যাস্টিক পালাবে ।

অথবা, যদি উপরের সমস্ত পদ্ধতি একটি সমস্যা হয় তবে এক গ্লাস পানির সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি পান করুন। রাত্রে কখনো পেটে বা বুকে ব্যাথা থাকবে না।গ্যাস্ট্রিক লক্ষণগুলি পেটে জ্বালা, অশান্তি, বমি বমি ভাব, বমিভাব, পেট ক্ষুধা, ক্ষুধা হ্রাস, পেটের ভারী অনুভূতি খাওয়ার পরে বেড়ে যায়। গ্যাস্ট্রিক সমস্যাগুলি খাদ্যের কারণে উত্থিত হয়, সময় মত না খাওয়া, বাসি অথবা ভাজা পোড়া খাওয়া, জাঙ্ক ফুট খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির পরিমাণ পান না করা ইত্যাদি । গ্যাস্ট্রিক এর হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় জানি-

আলু রস- ১ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধ করার সেরা উপায় হল আলু রস ব্যবহার করা।আলুর অ্যালকালাইন উপাদান গ্যাস্ট্রিক সমস্যা লক্ষণ প্রতিরোধ করে। 2. এক বা দুটি আলু গ্রেট করে নিন।এর পর গ্রেট আলু থেকে রস বের করে নিন। তারপর আলু রস সঙ্গে গরম জল মেশান। এই পানীয় ৩ বার একটি দিন পান করুন। প্রতি বার খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে আলু জুস খান। কিন্তু অন্তত 2 সপ্তাহের জন্য এই পানীয় পান করুন তবে ভালো ফল পাবেন ।

আদা -1 জেনেটিকালি সংশোধিত উপাদান গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আদা বমি সমস্যা হ্রাস করে, বদ হজম , গ্যাস কমে যায়, আপনি আদার রস দিয়ে মধু মিশ্রিত করে পান করতে পারেন । লাঞ্চের আগে এবং ডিনারের খাওয়া ভালো । 3. আদা কুচি করে জলে ভিজিয়ে রাখুন 10 মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন , তারপর চা মত করে একটু মধু যোগ করে পান করুন । বেনিফিট পেতে দুবার বা তিনবার এই পানীয় পান করুন। 4. যদি আপনি চান আস্ত অদা পরিষ্কার করে চিবিয়ে খেতে পারেন ।দই -1 আপনি প্রতিদিন ২/3 চা চামচ দই খেয়ে নিন। দই হ’ল পাইলরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আমাদের পেট রক্ষা করে যা গ্যাস্ট্রিক ক্রিয়াকলাপের মূল কারণ। তাছাড়া, দই আমাদের শরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি।

মাত্র তিনটি ঢ্যাড়স নিয়ন্ত্রণে রাখবে আপনার ডায়াবেটিস!

বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সারের মতোই ডায়াবেটিস একটি ভয়ঙ্কর মারণ রোগে পরিনত হয়েছে। সম্প্রোতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৮০ লক্ষ। বর্তমানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ২০ লক্ষ।

ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধী। ডায়াবেটিসের ফলে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, অষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, কিন্তু তা কোনও ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

তবে রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেক্সন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, একেবারে সামান্য খরচে। প্রতিদিন মাত্র তিনটি ঢ্যাড়সই রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে।তিনটি ঢ্যাড়স নিয়ে ভাল করে জলে ধুয়ে নিন।

এর পর সেগুলির সামনের দিকের সামান্য অংশ (ডগার অংশ) এবং বৃন্তের অংশ বাদ দিয়ে দিন।এ বার ঢ্যাড়সগুলি লম্বা করে চিরে দিয়ে সারা রাত এক গ্লাস জলে ভিজিয়ে রাখুন।সকালে উঠে এই ঢ্যাড়স ভেজানো জল খেয়ে নিন।

রক্তে সুগারের মাত্রা কতটা কমল তা হাতেনাতে প্রমাণ পেতে এই জল খাওয়ার আগে ও জল খাওয়ার দু’ ঘণ্টা পরে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। তফাতটা নিজেই দেখতে পাবেন। তবে এর সঙ্গে শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটাহাঁটি করুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিসের আতঙ্ক কাটিয়ে সুস্থ ভাবে বাঁচুন।

যে কারণে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে এক সঙ্গে খাবেন !

রোজ তিনটা করে খেজুর খান। চালিয়ে যান এক সপ্তাহ। তারপর আরও কয়েকটা দিন। অভ্যাস হয়ে গেল তো? এটা আর ছাড়বেন না। ফলটা কী?

আপনি যদি দিনে তিনটা করে খেজুর এক সপ্তাহ খান, তাহলে সাত দিনে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হারিয়ে যাবে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে। খাবারের রুচি বাড়বে। আর বাড়াবে আপনার হজমক্ষমতাও। শরীর অবশকারী যেকোনো ধরনের রোগে খেজুর হলো মোক্ষম দাওয়াই।

এ ছাড়া অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিশ্বস্ত ও সেরা সৈনিকের নাম খেজুর। খেজুর কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের এক গবেষণায় জানা যায়, নিয়মিত খেজুর খেলে কোলন স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খেজুর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো কোলন ক্যানসারের জন্য দায়ী কোষগুলোকে মেরে ফেলে।

যেসব পুরুষ বা মহিলা শারীরিক দুর্বল তারা প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের মধ্যে কয়েকটা খেজুর ভিজিয়ে খেতে পারেন এটি পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে !

চিকেন পক্স প্রতিরোধ করবে যেসব খাবার

ঋতুরাজ বসন্তে একটি ভয়াবহ রোগ হচ্ছে চিকেন পক্স। চিকেন পক্স অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ, হাঁচি-কাশি এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমেই এটি বেশি ছড়ায়। তাই চিকেন পক্স থেকে বাঁচতে হলে সচেতন হতে হবে।

অনেকের ধারণা, এই রোগ একবার হলে দ্বিতীয় বার আর হয় না। এটি মোটেও ঠিক নয়। এ রোগ একাধিকবার হতে পারে।

বায়ুবাহিত এই রোগ সহজেই সংক্রমণ ছড়ায়। তাই সর্তকতাই হতে পারে এই রোগ প্রতিরোধের অন্যকম উপায়। কারণ রোগ হওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ভালো। কিছু খাবার আছে যা খেলে চিকেন পক্স প্রতিরোধ করা যায়।আসুন জেনে নেই এমনি কিছু খাবার-
নিমপাতা
বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে নিমপাতার জুড়ি নেই। গোসলের সময় হালকা গরম পানি নিমপাতা দিয়ে গোসল করে অসুক ভালো হয়ে যায়। ভ্যারিসেল্লা ভাইরাসেরর আক্রমণে সাধারণ বসন্ত রোগ হয়। নিমপাতা জীবাণুনাশক এ ভ্যারিসেল্লা ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।

সজনে ফুল
সজনে দেখতে সবুজ রঙের লম্বা আকৃতির থাকে। আর ফুলগুলো হয় হলুদ রঙের । সজনের কচিপাতা, ফুল, ও সজনে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। সজনের তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু। খাবার সঙ্গে ভর্তা করে খেতে পারেন সজনে ফুল। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সজনে ফুল অত্যন্ত উপকারী। তাই প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন।
বাঁধাকপি

শীত শেষ হলেও বাজারে পাওয়া যায় বাঁধাকপি। থাইরয়েডের সমস্যা না থাকলে খেতে পারেন বাঁধাকপি। বাঁধাকপি রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল যা বায়ুবাহিত প্রতিরোধ করে।
গাজর
বাজারে সারা বছরই গাজর পাওয়া যায়। গাজর বিটা ক্যারোটিন অক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে ও সংক্রমণের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।
টকদই
টকদই শরীরের টক্সিন দূর যা শরীর পরিষ্কার করে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম করে। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

বিয়ের পরেও শারীরিক ভাবে সবল থাকতে ৭টি খাবার

পুরুষ মানুষ নাকি দুই প্রকার জীবিত আর বিবাহিত। বিয়ের পর প্রত্যেকের জীবনেই শারিরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এটি মূলত হরমোনজনিত কারণে হয়ে থাকে। এ কারণে শরীর ফিট রাখতে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা।

বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, বিবাহিত জীবনে ফিট থাকতে হলে আপনাকে দৈনন্দিন খাবারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। কারণ সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকার পাশাপাশি দরকার স্বাস্থ্যকর দৈহিক সম্পর্ক। প্রাকৃতিকভাবে দৈহিক শক্তি বর্ধক খাদ্যই অনেক বেশি কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আজকাল। তাই বিয়ের পরও সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা জরুরী।

কেননা, বিয়ের পর শারীরিক-মানসিক নানা পরিবর্তন আসে। খাদ্যাভাস ও পরিবেশের পরিবর্তন, পরিবর্তিত জীবনযাত্রাসহ অনেক কিছই এর জন্য দায়ী। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর ঠিকানা বদলের কারণে মানসিক পরিবর্তনও আসে। তবে হতাশ হবেন না। বিয়ের পরও শরীর ফিট রাখতে কিছু বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
দেখে নিন কী কী খাবার খাবেন:

কলা :

কলায় রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। এ ছাড়া কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ান যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ শর্করা যা দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই, দীর্ঘসময় ধরে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হলেও ক্লান্তি আসবে না।

ডিম:

শরীরের দুর্বলতা এবং ক্লান্তি দূর করে দারুণ সহায়ক ডিম। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম অবশ্যই রাখতে হবে। প্রতিদিন সকালে, না পারেন সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ১টি করে ডিম সিদ্ধ করে খান। এতে দৈহিক দুর্বলতার সমাধান হবে।

দুধ:

ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে চান অনেকে। কেউ-কেউ মনে করেন দুধ মোটেই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। প্রতিদিন মাখন তোলা দুধ খান। এতে প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন বিদ্যমান। কিন্তু যদি শরীরে দৈহিক শক্তির হরমোন তৈরি হওয়ার পরিমাণ বাড়াতে চান তাহলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবারের দরকার। তবে সবগুলোকে হতে হবে প্রাকৃতিক এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট।

মধু:
সকালে গরম জলের সঙ্গে পাতিলেবুর রস ও মধু খান। এতে ত্বকও ভালো থাকবে। তাই দৈহিক শক্তি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।রসুন:
ক্লান্তি দূর করে রসুন। যৌন উদ্দীপনা ধরে রাখে এবং শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখে এই রসুন। রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা দৈহিক ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

কফি:
কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন শারীরিক মিলনের ইচ্ছা জাগায়। তাই কফি অবশ্যই পান করুন। ব্ল্যাক কফি পানে অধিক সুফল পাবেন। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা মিলনের মুড কার্যকর রাখে।
চকোলেট :
প্রেমর সঙ্গে চকোলেটের অন্য রকম সম্পর্ক রয়েছে। তাই চকোলেট খান এবং ভালোবেসে খান। এগুলো মিলনের উত্তেজনা ও দেহে শক্তির মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। পিইএ’র সঙ্গে অ্যানান্ডামাইড মিলে অরগাজমে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য দিবসে ডা. দেবী শেঠীর ২৩ পরামর্শ, সবাই জেনে রাখুন

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। সারাদেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রথমেই আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখতে হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. দেবী শেঠী। ভারতের নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

হার্ট সুস্থ রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের এই চিকিৎসক। স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিডিভিউ২৪ডটকমের পাঠকদের জন্য পরামর্শগুলো তুলে ধরা হলো-১. খাবারে আমিষের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
২. শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে।
৩. একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৪. সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন আধাঘণ্টা করে হাঁটতে হবে।
৫. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৭. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৮. শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
৯. ত্রিশোর্ধ্ব সবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১০. জীবনে সবকিছু নিখুঁত হবে, এমন ভাবার কারণ নেই।
১১. জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
১২. জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো।
১৩. জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
১৪. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস পরিহার করতে হবে।
১৫. হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার ফল এবং সবজি।
১৬. হৃদযন্ত্রের জন্য যে কোন তেলই খারাপ।
১৭. নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।
১৮. সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
১৯. রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।

২০. হার্ট অ্যাটাক হলে রোগিকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে।
২১. জিহ্বার নিচে একটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে।
২২. অ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে।
৩. দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে শুঁটকি ও গরুর মাংসে!

বাংলাদেশে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে শুঁটকি ও গরুর মাংসে। সম্প্রতি চিকিৎসকদের করা একটি গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্যান্সারের জন্য খাদ্যাভ্যাসকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, মানুষের মধ্যে শুঁটকি ও গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতা বেশি। শুঁটকিতে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় শুঁটকি ভালো রাখার জন্য এর সঙ্গে ডিডিটি (ডাইক্লোরোডাইফিনাইলট্রাইক্লোরোইথেন) মেশানো হয়।

ডিডিটি পাউডার ও রাসায়নিক স্প্রে মিশ্রিত শুঁটকি খেলে লিভার, পাকস্থলীসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়।আর গরুর মাংস বিক্রেতারা মাংস তাজা দেখানোর জন্য নানা ধরণের কৌশল নিচ্ছেন। মেশাচ্ছেন ভেজাল। মাংস তাজা দেখানোর জন্য বোতলে তুলে রাখা হয় রক্ত। সেই রক্ত পরে মাংসে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্যান্সার রোগীর হার কেমন ও তারা কী ধরনের ক্যান্সারে বেশি ভুগছে তা জানতে নিয়মিত গবেষণা করে আসছে চিটাগং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেন সার্জারি (সিআরআইসিএস) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধীন ল্যাবরেটরি অব ইউক্যারিওটিক জিন এক্সপ্রেশন অ্যান্ড ফাংশন। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ১৫ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬০০ রোগীর ওপর একটি গবেষণা চালায় তারা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ক্যান্সারে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে কক্সবাজারে, যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট রোগীর ৩১ শতাংশ। এরপর ১৫ শতাংশ রোগী পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর, ১৫ শতাংশ সাতকানিয়ার এবং ১৩ শতাংশ পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া ও বালুখালীর। কক্সবাজারের ক্যান্সার রোগীদের ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ ভুগছে লিম্ফোমায়। এছাড়া পাকস্থলীর ক্যান্সারে ভুগছে ১১ দশমিক ৮৩ ও শ্বাসতন্ত্রের ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গবেষকরা বলছেন, চট্টগ্রামের মতো সারাদেশের চিত্রও একই হতে পারে। শুঁটকি ও গরুর মাংস যারা খাদ্যাভ্যাসে রাখছেন তারা এ মরণব্যাধীতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।২০১৬ সালের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও একই গবেষণা করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। চিত্রও পাওয়া গেছে একই। অর্থাৎ ২০১৬ সালের মতোই সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার রোগীদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের হার বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। একে উদ্বেগজনক বলছেন গবেষকরা।

বিড়ালের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১টি খাবার,,,,,,জেনে নিন সেই খাবারের নাম

বিশেষ এক ধরনের বিড়ালের মল থেকে কফি বিন সংগ্রহ করে বিশ্বের আটটি দামি খাবারের একটি তৈরি হয়। বিবিসি বাংলা বিশ্বের সবচেয়ে দামি আটটি খাবার কী দিয়ে তৈরি হয়, কেন এত দাম, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলুন দেখে নিই সেটি।জাফরানের নাম যদি শুনে থাকেন, এটাও নিশ্চয়ই জানেন যে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি মশলার একটি। প্রতি আউন্স জাফরানের দাম স্বর্ণের দামের চেয়েও বেশি। এ জন্য জাফরানের আরেক নাম ‘লাল স্বর্ণ’।এ রকম দামি খাবার বা খাবারের উপাদান আর কী আছে? কেন এগুলোর দাম এত বেশি? বিবিসির ‘ফুড প্রোগ্রাম টিম’ বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাবার বা খাবারের উপদানগুলোর খোঁজ নিয়েছে:
জাফরানআপনার পাতের ভাত যদি হলদে রঙের আভা ছড়ায়, তাহলে বুঝতে হবে এটির ওপর ছিটানো হয়েছে জাফরান।

জাফরান আসলে একটি ফুলের গর্ভমুণ্ড। এটি মূলত ব্যবহার করা হয় খাদ্য রঙিন করতে।যদি ওজনের তুলনা করেন, এটি নিঃসন্দেহে স্বর্ণের চেয়ে দামি। কেন জাফরানের দাম এত বেশি?কারণ খুব সহজ। যে ফুল থেকে এই জাফরান সংগ্রহ করা হয়, সেটি ফোটে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য, শরৎকালের শুরুতে। একটি ফুলে মাত্র তিনটি গর্ভমুণ্ড থাকে। খালি হাতে এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করতে হয়।এক কিলোগ্রাম জাফরান সংগ্রহ করতে অন্তত দুটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গায় এই ফুলের চাষ করতে হবে। বা দরকার হবে প্রায় তিন লাখ ফুল।

ক্যাভিয়ার
ক্যাভিয়ার আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের ডিম। এই ডিমকে নোনা জল ও চাটনিতে রসিয়ে নেয়া হয়। বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু খাবারের একটি বলে গণ্য করা হয় একে।
এই ক্যাভিয়ার সংগ্রহ করে প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করার কাজটি খুবই দুরূহ। তবে তার চেয়ে বড় কথা হলো ক্যাভিয়ার খুবই বিরল।
বচেয়ে বিখ্যাত ক্যাভিয়ার আসে বেলুজা স্টার্জেন মাছ থেকে। কেবল কাস্পিয়ান সাগর ও কৃষ্ণ সাগরে এই মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু এই মাছ এখন বিপন্নপ্রায়। খুব কম মাছের ডিমই এখন বৈধভাবে কেনাবেচা হয়একটি বেলুজা ক্যাভিয়ার পূর্ণবয়স্ক হতে সময় লাগে প্রায় ২০ বছর। এর পরই কেবল এই মাছ ডিম পাড়তে পারে। কিন্তু এই মাছ হত্যা করেই কেবল এর ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব।অ্যালবিনো স্টার্জেন মাছের ডিম তো আরও বিরল। এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়।
গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবে এক কিলোগ্রাম অ্যালবিনো ক্যাভিয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার।

ঝিনুকঝিনুক এখন বিলাসী খাবার হিসেবে বিবেচিত হলেও আগে কিন্তু তা ছিল না। উনিশ শতকের শুরুতে ঝিনুক ছিল খুব সস্তা। উপকূলীয় এলাকার শ্রমজীবী লোকজনের অন্যতম প্রধান খাবার ছিল এটি।
কিন্তু অতিরিক্ত ঝিনুক আহরণ এবং সমূদ্রদূষণের ফলে ঝিনুকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে এর দাম বেড়ে গেছে
বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দামে বিক্রি হয় ঝিনুক। কিন্তু লন্ডনের কোনো দামি রেস্তোঁরায় এক ডজন ঝিনুক খেতে আপনাকে অন্তত ৬৫ ডলার খরচ করতে হবে।
তারপরও এর কদর কমছে না। অনেকে তো মনে করে ঝিনুকের মধ্যে আছে যৌনশক্তি বর্ধক উপাদান।

সাদা ট্রাফলসাদা ট্রাফল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ ছত্রাকগুলোর একটি। এটি জন্মায় মাটির নিচে। তাও আবার কেবল উত্তর ইটালির পাইডমন্ট অঞ্চলের কিছু গাছের শেকড়ের মধ্যে।
সাদা ট্রাফলের মধ্যে আছে এক দারুণ সুগন্ধ। এবং খুবই তীব্র এক স্বাদ।সাদা ট্রাফলের চাষ করা যায় না। এটি নিজে থেকে হয়। অনেকে এই ট্রাফলের চাষ করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ কারণেই সাদা ট্রাফলের দাম এত বেশি।ম্যাকাওয়ের এক ক্যাসিনো মালিক স্ট্যানলি হো একটি মাত্র সাদা ট্রাফলের জন্য ২০০৭ সালে ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন। সেই ট্রাফলটির ওজন ছিল দেড় কেজি।মাটির নিচে জন্মানো দেড় কেজি ছত্রাকের জন্য বেশ চড়া মূল্যই বলতে হবে।

ইবেরিকো হ্যাম
একটা প্রবাদই আছে। পৃথিবীতে দুই ধরনের হ্যাম আছে। হ্যাম, আর ইবেরিকো হ্যাম।এই বিশেষ ধরনের শূকরের মাংস আসে কেবল স্পেন আর পর্তুগালের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে। সেখানে ওক গাছের জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় কালো ইবেরিয়ান শূকর ।ওক গাছ থেকে ঝরে পড়া ফল খেয়ে বাঁচে এই শূকর। ইবেরিয়ান হ্যাম আসে এই শূকর থেকে। প্রায় তিন বছর ধরে এই শূকরের মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কখনো কখনো চার বছর।গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবে সবচেয়ে দামি ইবেরিয়ান শূকরের একটি পা সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০ ডলার দামে বিক্রি হয়েছিল।ওয়েগু বিফওয়েগু বিফ মানে আসলে জাপানি গরুর মাংস। চার ধরনের জাপানি গরুর যে কোনোটি থেকেই আসতে পারে এই মাংস।

এই গরুর মাংসের পরতে পরতে থাকে চর্বি। যখন রান্না করা হয়, তখন এই চর্বি গলে মাংসে মিশে যায়। ফলে মাংসটা থাকে খুবই নরম। মুখে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হবে মাংসটা যেন গলে যাচ্ছে।এর দাম এত বেশি হওয়ার কারণ, এসব গরু পালতে খরচ অনেক। ওয়েগু মাংস হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য এই গরুগুলিকে কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে পালতে হয় এবং বড় করতে হয়। যাতে তাদের পেশীর পরতে পরতে চর্বি জমে সেজন্যে বাছুরগুলোকে একেবারের শুরু থেকেই বিশেষ ধরণের খাবার খাওয়ানো হয়।জাপানে সবচেয়ে দামি ওয়েগু বিফ হচ্ছে ‘কোবে বিফ’। প্রতি কেজির দাম ৬৪০ ডলার।কোপি লুয়াক কফিএক কাপ কফি কেন দামি খাবারের তালিকায়, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু এটি যেমন-তেমন কফি নয়। এই কোপি লুয়াক কফির দাম প্রতি কেজি ৭০০ ডলার।যে কফি বিন থেকে এই কফি তৈরি হয়, সেই বিনগুলো এক ধরনের বিড়ালকে খাওয়ানো হয়। এশিয়ান পাম সিভেট নামের এই বিড়াল কফি বিনগুলো খাওয়ার পর সেগুলো তার পাকস্থলীর এসিডে জারিত হয়।এরপর বিড়ালের মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে এই কফি বিন। সেই বিন থেকে তৈরি হয় কফি।
আশা করি এই প্রক্রিয়ার কথা শুনে কফি খাওয়ার বাসনা আপনার উড়ে যায়নি!

যারা এই কফির ভক্ত, তাদের যুক্তি, বিড়ালের পেটেই আসলে এই কফির সঙ্গে যুক্ত হয় ভিন্ন এক ফ্লেভার।
ফোয়া গ্রা
ফোয়া গ্রা একটি দামি খাবার। মূলত হাঁস বা রাজহাঁসের লিভার বা যকৃৎ দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবার। এই হাঁস বা রাজহাঁসের লিভার স্বাভাবিক আকারের চাইতে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বড় করা হয় বেশি করে খাইয়ে।
এ কারণে এই লিভারের স্বাদ অনেক বেশি।যারা এই খাবারের ভক্ত, তারা এর জন্য যেকোনো মূল্য দিতে রাজি। তবে মানুষের এই লোভের বলি হচ্ছে হাঁস। কারণ তাদের জোর করে বেশি খাইয়ে মেদবহুল করে তোলা হচ্ছে।গলা দিয়ে টিউব ঢুকিয়ে এসব হাঁসকে জোর করে খাওয়ানো হয়। উদ্দেশ্য তাদের লিভারকে স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বড় করে তোলা।
এই প্রথা নাকি চালু আছে কয়েক হাজার বছর ধরে।তবে এখন অনেক দেশে ফো গ্রা উৎপাদনের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের অনেক জায়গায় এখনো এই খাবার ভীষণ জনপ্রিয়।