মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ডাক আরব আমিরাত , ইরাক-কাতারের, আবর দেশগুলো কী করবে ?

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ডাক দিয়েছে আরব আমিরাত, ইরাক ও কাতার। সোমবার দেশ দুটি শান্তির ডাক দেয়।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-হাকিম টেলিফোনে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

দুই দেশের কূটনৈতিক আলাপের পর ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, সঙ্কটের সময় এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো।২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে প্রভাবশালী ছয়টি দেশের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা চুক্তি হয়। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে বের হয়ে গেল দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি জলসীমা থেকে স্পেনের ফ্রিগেট তুলে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্পেন এক আদেশে তাদের এ রণতরী সাময়িকভাবে তুলে নেয়।এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পটভূমিতে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাগ্রারিটা রবলেস আদেশ দিয়েছেন,

সাময়িকভাবে তাদের রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবহরের সঙ্গে যাচ্ছে না।তাদের বহর ইতিমধ্যে বাব এল-মানদেব প্রণালী অতিক্রম করেছে, যেটি আরব উপদ্বীপের ইয়েমেন অঞ্চলে রয়েছে। এই প্রণালী ভারত সাগর থেকে লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহর হরমুজ প্রণালীতে রয়েছে। উত্তেজনার মধ্যে গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানি ও তাদের ছায়া বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির প্রতিরোধক হিসেবে এই রণতরী ও বোমারু বিমান মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বোল্টন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোনো হামলা হলে কঠোর শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেয়া হবে।
এছাড়া ইরানের হুমকির জবাবে কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে বি-৫২ স্ট্রাটোফোরট্রেস বোমারু বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ সপ্তাহে দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকার ও একটি নরওয়েরসহ চারটি জাহাজ রহস্যজনকভাবে ওমান উপসাগীয় এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এই অঞ্চলটি জাহাজ চলাচলে ব্যস্ততম এলাকা। এর আগে ইরান এ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছিল।

সৌদি আরবে গোলাগুলিতে নিহত ৮

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের সংখ্যালঘু শিয়া অধ্যুষিত কাতিফ প্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার পুলিশের ওই অভিযানের পর দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, নিহতরা কাতিফের একটি সন্ত্রাসী সেলের সদস্য।

নিরাপত্তাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সৌদির সরকারি বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে বলছে,দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিতে সম্প্রতি ওই সন্ত্রাসী সেলটি গঠিত হয়েছিল।তিনি বলেছেন, ‘একটি আবাসিক ভবন ঘিরে ফেলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে মারা যায় তারা।’

‘তাদেরকে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে সাড়া না দিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে…ফলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সন্ত্রাসীরা।’তবে এই অভিযানে কোনো বেসামরিক নাগরিক কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হননি বলে জানিয়েছেন সৌদি ওই কর্মকর্তা।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, সংখ্যালঘু শিয়া অধ্যুষিত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাতিফ প্রদেশের বাসিন্দারা প্রতিনিয়তবিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন বলে সুন্নী সংখ্যাগরিষ্ঠ সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।শিয়া অধ্যুষিত এই এলাকায় নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ও গত জানুয়ারিতে কাতিফে পুলিশের অভিযানে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে।

২০১১ সালে আরব বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ‘আরব বসন্ত’ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই প্রদেশে অস্থিরতা শুরু হয়। ২০১৬ সালে প্রদেশের সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা নিমর আল নিমরকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার।নিমরকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর শিয়া সংখ্যাগুরু ও মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক চরম আকার ধারণ করে।

সৌদি আরবের ৩ কোটি ২০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। তবে দেশটিতে শিয়াদের ব্যাপারে কোনো ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না সৌদি সরকার।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই, এএফপি।

এক আমেরিকানের ৫ কোটি টাকা জরিমানা কারন বাংলাদেশি মুসলিমকে বাড়ি ভাড়া না দেয়ায়

যুক্তরাষ্ট্রে এক বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়াকে মুসলিম বাবা আর সন্তানের কাছে রেস্টুরেন্টের জন্য জায়গা ইজারা দিতে নিষেধ করেছিলেন৷ এ কারণে ৬,৭৫,০০০ ডলার (৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা) দিয়ে আপোস করতে হবে তাকে৷ টেকনোলজি ও লাইফস্টাইল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল হিলের পাশের শহর ডেনভারে ২০১৬ সালে একটি বাড়ি ভাড়া নেন ক্রেইগ ক্যাল্ডওয়েল৷ সেখানে তিনি একটি ফ্রাইড চিকেনের রেস্টুরেন্ট খোলেন৷ ২০১৭ সালের শেষ দিকে এসে সেটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ক্যাল্ডওয়েল৷

কিন্তু বাড়ির মালিকের সাথে চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে হয় নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজে দিতে হবে, নয়তো ৫ বছর ভাড়া পরিশোধ করে যেতে হবে৷ ক্যাল্ডওয়েল তাই নামেন ভাড়াটিয়ার সন্ধানে৷পেয়ে যান রাশাদ খান ও তাঁর বাবা জুনেদকে৷ তাঁরা সেখানে বাংলা ও ভারতীয় খাবারের দ্বিতীয় একটি রেস্টুরেন্ট খোলার জন্য আগ্রহী হন৷

কিন্তু সমস্যা বাধলো ক্যাল্ডওয়েল যখন বাড়ির মালিক ক্যাটিনা গ্যাচিসকে তাঁদের পরিচয় দিলেন৷ মুসলিম শোনার পর তিনি ভাড়ার চুক্তিতে অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে আর কোনো আগ্রহ দেখালেন না৷৭১ বছর বয়সি ক্যাল্ডওয়েল বলেন, ‘বিষয়টি আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না৷ আমাকে কেউ বিশ্বাস করবে, সেটাও মনে হচ্ছিল না৷’

এক সপ্তাহ পর ক্যাল্ডওয়েল আবারও গেলেন তাঁর বাড়ির মালিকের কাছে৷ এবার তিনি কথোপকথন রেকর্ড করেন মোবাইলের অ্যাপ ব্যবহার করে৷
ক্যাটিনা এ সময় তাঁকে বলেন, ‘আমি অ্যামেরিকান চাই, যে তোমার আর আমার মতো ভাল৷’ ক্যাল্ডওয়েল পরে আবার তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, ‘তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মুসলিম ধরে নিয়ে আসছে এখানে৷ আর সেকারণে আমি নানা সমস্যায় পড়ছি৷’

পরবর্তীতে নিজের আইনজীবীর পরামর্শে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান ক্যাল্ডওয়েল৷ সেখানে ক্যাটিনা গ্যাচিসও তার এই কথোপকথনের কথা স্বীকার করেন৷
গ্যাচিসের কথায় অবশ্য খুব একটা আশ্চর্য হননি রাশাদের বাবা৷ কিন্তু নাম শুনেই তাঁর গোটা জীবনকে পরিমাপ করে ফেলার বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে পারেননি রাশাদ৷

তিনি বলেন, ‘আমার ভীষণ রাগ হয়েছিল৷ মর্মাহত হয়েছিলাম৷ ব্যাপারটি নিয়ে আমার নিজের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়৷ আরো কেউ কি এভাবে চিন্তা করে, নাকি এই নারীই শুধু…?’আদালতে বিষয়টি গড়ানোর পর স্থানীয় গণমাধ্যমেও এই খবর আসে৷ ঐ বাড়ির মালিকের ব্যবসা প্রত্যাখ্যানের হিড়িক ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷

এপ্রিলে আদালতে দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়৷ সে অনুযায়ী বাড়ির মালিককে তার আচরণের জন্য ৬,৭৫,০০০ ডলার দিতে হবে বাদীদেরকে৷ যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।এক বছর মামলা চলার পর এটিকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাশাদ৷ বলেন, ‘আমি আর আমার বাবা শুধু দেখতে চেয়েছিলাম যে, বিচার বলে কিছু আছে, যার কারণে এই নারী এমনটি করতে পারেন না৷’

১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন রাশাদ৷ বাবার সাথে ব্যবসায় নামার আগে কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য প্রযুক্তিতে ডিগ্রি অর্জন করেন৷
বাংলাদেশ আর যুক্তরাজ্যের সাথেও তাঁর পরিবারিক সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি৷

শ্রীলংকায় বোরকা পড়া নিষিদ্ধ করা হল, সমর্থন করে যা বলল সৌদি আরব।

শ্রীলংকায় মুসলিম নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে সম্মান জানাতে দেশটিতে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
কলম্বোর সৌদি দূতাবাস এক সতর্কবার্তায় দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে।

ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বন্ধুপ্রতীম দেশ শ্রীলংকায় সম্প্রতি যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা আমাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। সিরিজ বোমা হামলার কারণে ২৯ এপ্রিল শ্রীলংকান সরকার বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখে এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে।এ প্রেক্ষিতে শ্রীলংকায় অবস্থানরত সৌদি নাগরিক ও ভ্রমণকারীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার জন্য লংকান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রবিবার বিশেষ ক্ষমতা বলে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছেন। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না।

তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন। সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।এদিকে জরুরি আইনের মধ্যেই নারীদের বোরকা পরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মুসলমানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগ্রসর আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোশুয়া টি হোয়াইট বলেন, বোরকা নিষিদ্ধের এই বার্তা এটাই বলছে- লংকান মুসলমানরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এতে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংশয় তলানিতে চলে যাবে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,অপরাধীদের খুঁজে বের করাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তাদেরই বিচার করা উচিত। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলিম নারীদের শাস্তির মুখে ফেলে দেয়া উচিত হবে না। যদি কেউ তাদের ধর্মচর্চা কিংবা বোরকা পরতে চান, তবে এ ঘটনায় তাদের নিজেদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে হবে।

মুসলমানরা অত্যাচার করে না, সন্ত্রাস করে না, করে বিজেপির নেতারা : মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেছেন, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টানরা দাঙ্গা করে না, দাঙ্গা করে বিজেপি। শনিবার হুগলী জেলার পান্ডুয়া-তে এক নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় মমতা বলেন, ‘বিজেপি হিন্দুদের দল নয়, ওরা হিন্দু ধর্মকে বদনাম করে,আমাদের দেবতাদের অপমান করে, অসম্মান করে আর দেবতাদের রাস্তায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। আমরা করি না।’তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরের মা-আম্মাকে যেমন সম্মান করে ঘরে রাখি তেমনি দেবতাদেরও তাদের আসনে বসিয়ে পূজা করি, সম্মান জানাই। আমরা দেবতাদের মূর্তি বাইরে ফেলে দিয়ে হিন্দু-মসলমান করি না।

মনে রাখতে হবে যে, হিন্দুরাও দাঙ্গা করে না, মুসলমানরাও দাঙ্গা করে না। খ্রিষ্টান, শিখ, আদিবাসীরাও দাঙ্গা করে না। দাঙ্গা করে নরেন্দ্র মোদির মতো কিছু বিজেপির নেতারা। এরা দাঙ্গা লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলে। এটা ওদের চালাকি, ওদের প্ল্যান।’

বিজেপিকে দাঙ্গাবাজের দল বলে আখ্যায়িত করে মমতা বলেন ‘যারা দাঙ্গা করে,

যারা অত্যাচার করে, যারা সন্ত্রাস করে..যারা দেশকে ভালবাসে না..তাদের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।’

সৌদি আরব রমজান উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী ইসলামের সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে ৩৫ দেশে ইমাম পাঠাচ্ছেন।

মাত্র এক সপ্তাহ পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। মহিমান্বিত এই মাসে তারাবি এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের ইমামতির জন্য বিশ্বের ৩৫টি মুসলিম দেশে ৭০ জন ইমাম পাঠাচ্ছে সৌদি আরব।

বিশ্বব্যাপী ইসলামের সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ। এজন্য ইতোমধ্যে ৭০ জন সৌদি ইমামকে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির ইসলাম ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।এতে করে বিশ্বের মুসলিমদের সঙ্গে সৌদি আরবের নিবিড় এবং দায়িত্বপূর্ণ যোগাযোগ তৈরি হবে বলে মনে করে সৌদি আরব।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি আবদুল লতিফ আল আশেইখ বলেন, কুরআনে হাফেজ এই ৭০ জন ইমাম সৌদি আরবের শরিয়াহ কলেজ থেকে বাছাইকৃত। যারা ইসলামের গভীর এবং সঠিক জ্ঞানে জ্ঞানী।এই ইমামগণ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারবেন, ইসলামের সারল্য এবং এর গভীর ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ইসলামের গভীরতার বিষয়ে আলোকপাত করাতে পারবেন এবং সুন্দর তিলাওয়াতে কুরআনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সুযোগ্য এই ইমামরা মুসলিম দেশগুলোর জন্য একেক জন সৌদি আরবের দূতের মতো। ইসলামের বিষয়ে বিভিন্ন ভ্রান্তি কাটিয়ে ইসলামের নানা বিষয়ে অপব্যাখ্যা দূর করে সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেশগুলোর মুসল্লিদের সাহায্য করবেন তারা।

মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সৌদি আরব দায়িত্বশীল, ইমামদের মাধ্যমে এই বার্তাও সৌদি আরব পৌঁছে দিতে চায়।তবে কোন ৩৫টি দেশে এই ৭০ জন ইমাম যাচ্ছেন তা এখনও ঘোষণা দেয়া হয়নি।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সংখ্যা বেড়ে ৩১১–তে পৌঁছেছে।

শ্রীলঙ্কায় একের পর এক ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩১১–তে পৌঁছেছে। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি। এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছেন।

বিস্ফোরণে সেলিমের মেয়ে–জামাই আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেলিমের নাতির খোঁজ পাওয়া যায়নি।পুলিশের বরাত দিয়ে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। গত রোববারের ওই হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই দ্বীপরাষ্ট্রে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিন হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুই স্থানে হামলা হয়। ঐদিন ছিল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে।

হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশের মোট আটটি স্থানের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩১১ জন নিহতের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক। ফ্রান্স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে ব্রিটিশ, আমেরিকান, ডাচ ও জাপানি নাগরিকসহ মোট ৩৫ জন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। রবিবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে নয়টার দিকে দেশটিতে এই ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮ টা ৪৫ নাগাদ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপনকালে কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানের তিনটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একই সময়ে দেশটির রাজধানীর অভিজাত তিনটি হোটেল সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারিতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত পাঁচ শতাধিক মানুষকে কলম্বোসহ বেশ কিছু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভয়াবহ বোমা হামলার পর ফেসবুক, টুইটারসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার।

মার্কিন মুসলিম কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে ট্রাম্পের আক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মুসলিম মহিলা সদস্য ইলহান ওমরকে ঘিরে গত কদিন ধরে চলছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে তার এক মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে তাকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি এই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে আরও। ইলহান ওমরের পক্ষে এবং বিপক্ষে তীব্র বাদানুবাদ চলছে রাজনীতিতে এবং গণমাধ্যমে।

ইলহান ওমর তার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে নাইন ইলেভেনের হামলার প্রসঙ্গ টেনেছিলেন এবং এই হামলাকে ‘সাম পিপল ডিড সামথিং’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এরপর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ভিডিওর পাশাপাশি ইলহান ওমরের মন্তব্য জুড়ে দিয়ে সেটি টুইট করেন।

রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেন, ইলহান ওমর নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলাকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা ইলহান ওমরকে সমর্থন করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলহান ওমর এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছেন। ঠিক কিভাবে এই বিতর্কের শুরু এবং কেন এটি এত উত্তেজনা তৈরি করেছে মার্কিন রাজনীতিতে?

ইলহান ওমর কে?
গত নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার একটি আসন থেকে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম দুজন মুসলিম মহিলা কংগ্রেসের সদস্য হন, ইলহান তাদের একজন। তিনি হচ্ছেন প্রথম কংগ্রেসের প্রথম কোন মহিলা সদস্য, যিনি হিজাব পরেন।

ইলহান ওমরের পরিবার সোমালিয়া থেকে উদ্বাস্তু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আসেন। কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শুরু থেকেই ইলহান ওমরকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। ইসরায়েল এবং ইসরায়েলপন্থী লবি নিয়ে মন্তব্যের কারণে তাকে ‘অ্যান্টি সেমেটিক’ বা ইহুদী বিদ্বেষী বলে বর্ণনা করেন ডানপন্থী সমালোচকরা। পরে অবশ্য ইলহান ওমর তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

একজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসাবে ইতোমধ্যে তিনি নানা ধরণের হুমকিরও মুখে পড়েছেন। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় নিউ ইয়র্কের পুলিশ সম্প্রতি ৫৫ বছর বয়সী এক লোককে গ্রেফতার করে। এই লোকটি ইলহান ওমরকে সন্ত্রাসী বলে বর্ণনা করেছিল।
কী বলেছিলেন ইলহান ওমর?
‘সাম পিপল ডিড সামথিং’ বা কিছু লোক কিছু একটা করেছিল’ কথাটি ইলহান ওমর সম্প্রতি দেয়া এক বক্তৃতায় বলেছিলেন। গত ২৩ মার্চ তিনি কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের সভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। ২০ মিনিটের ঐ ভাষণে তিনি ইসলামোফোবিয়া থেকে শুরু করে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসবাদী হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন।

এক পর্যায়ে তিনি কথা বলছিলেন, নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের কী ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
“এই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। বহু দিন ধরে আমাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে একটা অস্বস্তি নিয়ে বসবাস করতে হয়েছে এবং সত্যি কথা বলতে কি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই দেশের প্রতিটি মুসলিমেরও তাই হওয়া উচিৎ। নাইন ইলেভেনের পর কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স স্থাপন করা হয়েছিল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, কিছু লোক কিছু একটা করেছে এবং এখন আমাদের সবাই নাগরিক অধিকার হারাতে শুরু করবো।”

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স আসলে স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা এই তথ্যটি যাচাই করে প্রকাশ করার পর ইলহান ওমরের একজন মুখপাত্র অবশ্য বলেন, তিনি ভুল বলেছেন এবং তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন নাইন ইলেভেনের হামলার পর এই সংগঠনের আকার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

এই বির্তক কীভাবে ছড়ালো?
ইলহান ওমরের এই বক্তৃতা গত ৯ এপ্রিল থেকে সবার মনোযোগ কাড়তে শুরু করে। কারণ টেক্সাসের এক রিপালিকান কংগ্রেস সদস্য ড্যান ক্রেনশ তার বক্তৃতাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেন। এরপর বিষয়টি লুফে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ সহ অন্যান্য রক্ষণশীল মিডিয়া, তারা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান ইলহান ওমরকে ‘অ্যান্টি আমেরিকান’ বলে বর্ণনা করেন।

এর পাল্টা ইলহান ওমর একে ‘বিপদজনক উস্কানি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কারণ আমি এখনই মৃত্যুর হুমকির মধ্যে আছি।’ ইলহান ওমর নাইন ইলেভেনের ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একটি মন্তব্য পোস্ট করে বলেন, তিনিও কী তাহলে নাইন ইলেভেনের হামলাকে খাটো করে দেখাচ্ছিলেন?

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। তারা পত্রিকার প্রথম পাতায় নাইন ইলেভেনের হামলার একটি ছবি প্রকাশ করে ওপরে হেডলাইন দেয়: ‘হিয়ার ইজ ইয়োর সামথিং।’

নিউ ইয়র্ক পোস্টের এই শিরোনাম বিতর্কটিকে আরও তিক্ত করে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর পক্ষে বিপক্ষে শুরু হয় তর্ক। নাইন ইলেভেনের ছবি ব্যবহারের জন্য অনেকে পত্রিকাটির সমালোচনা করে। নিউ ইয়র্কের যে কর্নার শপগুলোতে পত্রিকা বিক্রি হয়, যেগুলোর বেশিরভাগই ইয়েমেনিরা চালায়, তারা পত্রিকাটি বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এই বিতর্ককে কীভাবে দেখছে মানুষ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই বিতর্কে ইলহান ওমরকে সমর্থন দিচ্ছেন। শুক্রবার টুইটারে ‘স্ট্যান্ড-উইথ-ইলহান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ড করছিল। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকরা ইলহানের সমর্থনে এগিয়ে আসেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজন নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ ‘ন্যাক্কারজনক এবং বিপদজনক।’

বাংলাদেশে লেখাপড়া করে আমি প্রধানমন্ত্রী, আমার বন্ধু স্বাস্থ্যমন্ত্রী !

১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত আমি ও আমার সহপাঠী, অর্থাৎ আমার মন্ত্রিপরিষদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ২০ নম্বর কক্ষে থেকেছি। এখনো আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করছি।

দীর্ঘসময়ে আমাদের মাঝে কোনোদিন মনোমালিন্য হয়নি। আমার সেই সহপাঠী বন্ধুর কারণেই আজ আমি প্রধানমন্ত্রী। তিনিই আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। এমনিভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়ের স্মৃতিচারণ করেন ডা. লোটে শেরিং।রোববার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বলেছেন, ভালো ডাক্তার হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে তাদের মন জয় করতে হবে। মানবিক হতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ আছে ডাক্তারদের। শুধু চিকিৎসা সেবা নয় সামাজিক-রাজনৈতিক অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তারদের অবদান রাখার সুযোগ আছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অনেক সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. লোটে শেরিং। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে আজ আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, আমার সেই বন্ধু স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার আরও অনেক বন্ধু অনেক ভালো জায়াগায় আছেন। তাদের জন্য শুভ কামনা।তিনি বলেন, আমি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছি। কিন্তু আমার পেশাকে ছাড়তে পারিনি। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি চাকরি না করে, বিদেশে না গিয়ে ভুটানের মানুষকে নিয়ে ভেবেছি। তাদেরকে বুঝতে চেষ্টা করেছি। তাদেরকে নিয়ে কাজ করেছি। তাই আজ আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

লোটে শেরিং আরও বলেন, আমাদেরকে সকল ভোদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশটাকে নিজের ভাবতে হবে। বিশেষ করে ডাক্তারদের মানবিক হতে হবে।সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং তার শিক্ষা জীবনের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসে শিক্ষা জীবনের স্মৃতিবিজড়িত কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের আগমনে সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছিলেন বেশ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ক্যাম্পাসে তার স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং তার ব্যাচমেটদের সঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটান। এর আগে ডা. লোটে শেরিং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। তাকে কাছে পেয়ে সহপাঠী ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হন।
সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ময়মনসিংহে পৌঁছালে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ডা. লোটে শেরিংকে স্বাগত জানান। এ সময় সহপাঠীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি।

তার আগমনে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝখানে দুই দেশের পতাকা, দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানের ছবি, ব্যানার, পোস্টার দিয়ে সজ্জিত করা হয়। শহরজুড়ে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. টান্ডি দরজি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী লায়োনপু দিহেন ওয়াংমু, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. উগেন ডেমা, বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার ও ময়মনসিংহ বিএমএ সভাপতি ডা. মতিউর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।

২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে লোটে শেরিং ১৯৯১ সালে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ঢাকায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।

২০১৩ সালে রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে লোটে শেরিংয়ের রাজনৈতিক দল জয়লাভ করে। পরে লোটে শেরিংয়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন তিনি। বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে ২০ বছর পর ময়মনসিংহে আসেন লোটে শেরিং।

সৌদি আরবে ভয়াবহ হামলা,৩ সৌদি সেনা নিহত !!

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর স্নাইপার ইউনিটের হামলায় সৌদির তিন সেনা নিহত হয়েছে। শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরানে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পার্স ট্যুডে।

এর আগে শুক্রবারও স্নাইপার ইউনিটের সদস্যরা নাজরান ও জিযানে একই ধরণের হামলা চালিয়েছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে, শুক্রবারের হামলায় সৌদি আরবের ভাড়াটে সেনাদের অন্তত ২১ জন আহত অথবা নিহত হয়েছে।

সৌদি আরব নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাবেক সেনাদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে এনেছে। এসব ভাড়াটে সেনারাও ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।

২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি আরব ও এর মিত্র দেশগুলো। আগ্রাসী বাহিনীর হামলায় নানা সংকটে জর্জরিত হওয়ার পরও ইয়েমেনিরা অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণে রাজি নয়। তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।