ইরানকে সৌদি অরবের কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানের বৃটিশ ট্যাংকার আ*টকে*র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি একে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অসম্মান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একইসঙ্গে অবিলম্বে ইরানকে বৃটিশ ট্যাংকার ছেড়ে দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেন, ইরান যা করেছে তা স¤পূর্ন অগ্রহণযোগ্য। বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইরানকে এখনই উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে।

গত দুই মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজছে। সৌদির আমন্ত্রণে ইরানকে শিক্ষা দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু থেমে নেই ইরানও।

নিজেদের জলসীমায় বৃটিশ ট্যাংকার প্রবেশের অ*ভিযোগে সেটিকে আটক করেছে দেশটির রেভ্যুলুশনারি বাহিনী আইআরজিসি। আর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর বৃটেনের সঙ্গেও স¤পর্কে টানাপড়েন চলছে ইরানের। এ নিয়ে দু দেশের মধ্যে চলছে বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি। তারইমধ্যে বৃটেনের পক্ষ নিয়ে ইরানকে এমন হুঁশিয়ারি বার্তা দিলো সৌদি আরব।

এর আগেও গত মাসে সৌদি বাদশাহ সালমান ইরানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে দেশটির বি*রুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণে আরব রাষ্ট্র প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।সূত্র : আরব নিউজ

ইতালিতে পুলিশের ধাওয়ায় প্রাণ গেল বাংলাদেশীর !

ইতালির রাজধানী রোমে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জব্বার ঢালী নামে‌র এক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ভিয়া কাভুরে অবস্থিত হোটেল গ্রান্ড প্লাটিনোর বিপরীত পার্শ্বে হকার জব্বার ঢালীকে পুলিশ ধাওয়া করলে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দৌড়ে পালানোর সময় সিঁড়ি থাকায় তিনি পড়ে যান এবং মৃত্য বরণ করেন। জব্বার ঢালী শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের গোলার বাজার গ্রামের বাসিন্দা। খবর পেয়ে ইতালিতে থাকা তার ভাই ঘটনাস্থলে পৌছেন, তিনি ভাইয়ের শোক সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।।

এদিকে এই ঘটনা পরপরই সেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি উপস্থিত হোন। পুলিশ মৃত জব্বার ঢালীর লাশ উঠিয়ে নিয়ে যায়।প্রবাসী জব্বার এর মৃত্যুতে রাজধানী রোমে শরীয়তপুর বাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির শীর্ষ নেতারাও সেখানে উপস্থিত হন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের ভাষ্য জানা যায়নি।

জরিমানা দিয়ে অ*বৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে মালয়েশিয়ান সরকার

জরিমানা দিয়ে অ*বৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে মালয়েশিয়ান সরকার। ৭শ’ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জ*রিমানা দিয়ে সেখানে অ*বস্থানরত অ*বৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই জরিমানার অর্থ প্রদান করে দেশে ফিরতে পারবে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অ*ভিবাসীরা।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন এক বি*বৃতিতে জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশি বৈ*ধভাবে কাজ করছেন। এর বিপরীতে অ*বৈধ বাংলাদেশি অ*ভিবাসী রয়েছে অন্তত ৩ লাখ। এদের অনেকেই বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন কা*রাগারে ব*ন্দি রয়েছেন। আর বাকিরা এতদিন ধরে গ্রে*ফতার আ*তঙ্কে ছিলেন।

তবে দেশটির সরকারের এমন প*দক্ষেপে অ*ভিবাসীদের মনে গ্রে*ফতার আ*তঙ্ক কমবে এবং তারা অচিরেই নিজ নিজ দেশে ফিরবেন বলে মনে করছেন সং*শ্লিষ্টরা। তাদের মালয়েশিয়া ত্যা*গের প্র*ক্রিয়া স*ম্পন্ন করতে ও জ*রিমানার বিনিময়ে নিজ দেশে ফিরতে দেশজুড়ে অন্ত*ত ৮০টি কাউন্টার খুলতে যাচ্ছে দেশটির প্র*শাসন।

সৌদি সরকার প্রবাসীদের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে যেভাবে

নির্দিষ্ট পারিমাণ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে প্রবাসীদের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার। দেশটির প্রধান দুই মসজিদের অভিভাবক বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটির প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টার সেই দেশে স্থায়ী হওয়ার জন্য দুটি প*দ্ধতির কথা জানিয়েছে।

এর একটি হলো, এককালীন পুরো অর্থ পরিশোধ করে স্থায়ী আবাসিকতা লাভ। আরেকটি হলো, বাৎসরিক অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে অস্থায়ী আবাসিকতা লাভ। পাশাপাশি আবাসিকতা প্রত্যাসীদের জন্য বেশকিছু সুবিধার কথাও জানিয়েছে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টার। তবে দুই ক্ষেত্রেই অর্থের পরিমাণ এখনও জানানো হয়নি।

নিয়ম মেনে যারা সৌদি আরবে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা করছেন বা বিনিয়োগের চিন্তা করছেন এই প্রিমিয়াম আবাসিকতা পদ্ধতির অনুমোদন তাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে খালিজ টাইমস। প্রবাসীদের জন্য এই নিয়ম চালুর পাশাপাশি রোববার রেসিডেন্সি সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইনে আবাসিকতার আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সেবা চালু করেছে বলে সংবাদে প্রকাশ।

যারা সৌদি আরবে স্থায়ী হওয়ার কথা চিন্তা করছেন তাদেরকে এসএপিআরসি’র(SAPRC) আওতায় অনলাইনে সেবা দেবে সেন্টারটি। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা বিস্তারিত তথ্য জেনে তাদের প্রয়োজনীয় সকল নথি পাঠানোসহ ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

সৌদি আরবে ৩ বাংলাদেশি হাজির মৃ*ত্যু !

সৌদি আরবের মক্কায় তিন বাংলাদেশি হাজির মৃ*ত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ হজ অফিস জানিয়েছে, মৃ*ত ওই তিন হাজির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নি*হতরা হলেন- বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সালজার রহমান (৬১)। তার পাসপোর্ট নম্বর-BX0265796। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আবুল হাশেম (৬১)। তার পাসপোর্ট নম্বর-BQ0104414 এবং ঢাকার পল্লবীর সেলিম (৫৬)। তার পাসপোর্ট নম্বর-BK0577564।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের জন্য সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ হজ অফিস ৪০০ জন মৌসুমি হজ কর্মী নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্সসহ পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়া

এদিকে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জনের হজ করার কথা রয়েছে। তবে পবিত্র হজ পালন করতে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৯৫৩ জন হজযাত্রী মক্কা ও মদিনায় পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ৪ হাজার ১৮৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৫ হাজার ৭৬৮ জন।

অন্যদিকে এবারের হজকে সামনে রেখে পবিত্র কাবা শরিফের বাইরে মিনা, মুজদালিফা, আরাফাত এবং জামারাতের পবিত্র জায়গাগুলোতে শেষ মুহূর্তে চলছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। সৌদির সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশে থেকে আসা হাজিদের সুবিধার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের হজ মিশন।

প্রবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ, কাতারে শত শত কর্মী পথে পথে ঘুরছেন !

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশ কাতারের রাজধানী দোহায় বৈ*ধভাবে পাড়ি জমানোর পরও বাংলাদেশী শ্রমিকদের দিন কাটছে মানবেতরভাবে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার পর তাদের ভাগ্যে জুটছে না চাকরি। খুঁজে পাচ্ছেন না কোম্পানি। বাধ্য হয়ে আরবিদের দয়ায় এখন তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে গাড়ির ভেতর অথবা কোনো মজলিসে। এসব অ*ভিযোগ জানাতে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে গেলে সেখান থেকেও শ্রমিকদের সহযোগিতা না করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

কাতারের পথে পথে বেকার ঘুরে বেড়ানো এসব নিঃস্ব ও প্রতারিত কর্মী দ্রুত তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।কাতারের দোহা থেকে লিখিত ও অডিও বার্তায় পাঠানো অ*ভিযোগে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজধানীর উত্তরার লিননাস ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাতারে গিয়েছেন।

এর জন্য তার খরচ হয়েছে তিন লাখ ৭২ হাজার টাকা। চুক্তি মোতাবেক কোম্পানির ভিসা দেয়ার কথা বলা হয়। কাজ করতে হবে ৮ ঘণ্টা। থাকা মালিকের। খাওয়ার জন্য ৩০০ রিয়াল দেয়া হবে। আর মাসিক বেতন হবে ১৫০০ রিয়াল। দুই বছর পর দেশে যাওয়ার জন্য কোম্পানি থেকে আসা যাওয়ার বিমান টিকিট দেয়া হবে। কিন্তু কাতারে যাওয়ার পর থেকে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে কাজ জুটেনি। খুঁজে পাননি চুক্তি মোতাবেক কোম্পানি।

যে কফিলের কথা বলে দালাল নিয়ে এসেছে এখন পর্যন্ত তারও দেখা পাননি তিনি। এখন দালালকে ফোন দিলে ফোনও ধরছে না। কখনো ফোনে পেলেও উল্টো হু*মকি দেয়া হচ্ছে। এসব কারণে তার দিন কাটছে মানবেতরভাবে। তিনি বলেন, দিন কাটে যেমন তেমন, রাত কাটাতে হচ্ছে কখনো গাড়িতে অথবা আরবিদের কোনো মজলিসের অনুষ্ঠানে। মালেক লিখেছেন, এমন দুর্দশা তার একার নয়, শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী তার মতো ফ্রি ভিসার নামে কোম্পানির কাজ না পেয়ে বেকার পথে পথে ঘুরছেন।লিখিত এবং অডিও বার্তায় আব্দুল মালেক আরো অভিযোগ করেন, এসব অভিযোগ জানাতে তিনিসহ কয়েকজন প্রতারিত শ্রমিক অনেক ক ষ্ট করে খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দূতাবাসে গেলে সেখান থেকেও তাদের সাহায্য সহযোগিতা না করে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের বলেছেন, ‘তোমরা এখানে কেন এসেছো? তোমাদের ভিসা আমরা দিয়েছি? এমন কথা শুনে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে দূতাবাস থেকে তারা বের হয়ে যান। তাদের মতো সমস্যা নিয়ে দূতাবাসে শত শত শ্রমিক অপেক্ষা করছে জানিয়ে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, রাতে আমরা কোথায় থাকব?অনুরোধ করলে আরবিরা আমাদের কোনো দিন তাদের গাড়িতে রাখে। আবার কখনো কোনো মজলিসে নিয়ে রাখে। এভাবেই আড়াই মাস পার করেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাদের বিপদ থেকে উ*দ্ধারে কেউ-ই এগিয়ে আসছে না। তার মতে, সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না দেয়া হলে বিদেশে হাজার হাজার রেমিট্যান্স যো*দ্ধারা নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এর আগে টেলিফোনে আব্দুল মালেক নয়া দিগন্তকে এসব অভি*যোগ করে বলেন, আমরা যখন কাতারে আসি তার আগে দেশে বিএমইটি থেকে ট্রেনিং দিয়ে আমাদের হাতে স্মা র্ট কার্ড দেয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল বিদেশে স্মা র্ট কার্ড দিয়ে তোমরা সব ধরনের সহযোগিতা পাবে। এ তথ্য দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছে বললে তারা বলছেন,‘এসব স্মা র্ট কার্ড-মা র্ড এই দেশে চলে না? এরপর দূতাবাস থেকে জানিয়ে দেয়া হয় ‘তোমাদের জন্য দূতাবাসের কিছুই করণীয় নাই’। তবে তিনি ওই কর্মকর্তার নাম জানাতে পারেননি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর প্রতারিত শ্রমিক আব্দুল মালেকের দেয়া অভি*যোগের ভিত্তিতে উত্তরার লিননাস ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের মালিক এবং পাঞ্জেরী হজ অ্যান্ড ওমরাহ সার্ভিসের চেয়ারম্যান আলহাজ মো: আরজু আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে শুধু বলেন,

আব্দুল মালেকের নামে কাতার থেকে একটি ভিসা পাঠিয়েছিল আব্দুর রব নামের এক ব্যক্তি। তার রেফারেন্সে মালেক আমা র অফিসে এসেছিল। আমা র অফিস থেকে শুধু বিমানের টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। তবে তাকে বিদেশে পাঠাতে প্রসেসিং কোনো এজেন্সির নামে হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহানের সাথে এ সমস্যার বিষয়ে গত রাতে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বহির্গমন শাখার একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে নাম না জানিয়ে বলেন, কাতারগামী কর্মীদের সত্যায়ন পদ্ধতি এখন উঠে গেছে। গত দুই মাস থেকে সত্যায়ন ছাড়াই কাতারগামী কর্মীরা যেতে পারছে। তবে সেখানে তারা কোন অবস্থায় আছে সেই প্রতিবেদন আমাদের হাতে আসেনি।

অবশ্য ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা দূতাবাসের সত্যায়ন পদ্ধতি তুলে দেয়ায় শ্রমিকদের কোম্পানির সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এখন তার ওই বক্তব্যই সত্য হতে চলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যায়ন ছাড়া কাতারে পাড়ি জমানো শ্রমিকেরা কেমন আছেন সেটি সরেজমিন জানতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই।

মালয়েশিয়ায় স*ড়ক দু*র্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃ*ত্যু হয়েছে !

মালয়েশিয়ায় স*ড়ক দু*র্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃ*ত্যু হয়েছে। তারা হলেন- টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মাইনুল (৩২) ও মোহাম্মদ আলী (২৭)।

সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে নি*হত দুই যু*বকের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানান। তারা বলেন, ৭ জুলাই (রোববার) রাতে মালয়েশিয়ার জহুর বাহরু শহরের ক*র্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে স*ড়ক দু*র্ঘটনায় এ দু’জনের মৃ*ত্যু হয়।
নি*হতরা হলেন- ধনবাড়ীর যদুনাথপুর ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মাইনুল ও একই ইউনিয়নের নলহারা আকন্দবাড়ি গ্রামের আতাব আলীর ছেলে আলী।যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর ফিরোজ আহমেদ বি*ষয়টি নি*শ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মাইনুল প্রায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় ফার্নিচার ও ডেকোরেশনের কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিন মাস ছুটি কাটিয়ে আবারও মালয়েশিয়ায় যান তিনি।আর নলহারা গ্রামের আলী একবছর আগে বি*দেশ যান বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ।মাইনুলের ভাতিজা মঞ্জুরুল ইসলাম মিলন জানান, তার চাচার দুই ছেলে রয়েছে।

তাদের একজন স্থা*নীয় হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র, অন্যজন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান জানান, কোম্পানির কা*জ শে*ষে বাসায় ফে*রার পথে জহুর বাহরু জেলার মোয়া থানা এলাকায় ল*রির স*ঙ্গে ধা*ক্কায় এ দু*র্ঘটনা ঘ*টে।

এতে ঘট*নাস্থলেই ওই দু’জনের মৃ*ত্যু হয়।তবে যো*গাযোগ করা হলে ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, তারা এখনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

বিদেশে বসে প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা, দেশে এসেই আ*টক প্রবাসী !

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে কুরু*চিপূর্ণ প্রচারণা চালানোর অভি*যোগে রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫) নামের প্রবাসী এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঁঙ্গাখা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আ*টক করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করেছে পুলিশ।আ*টক রফিক ওই গ্রামের মৃ*ত নুরুল আমিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আদালতের মাধ্যমে তাকে কা*রাগারে পাঠানো হয়েছে।

থানা সূত্র ও অভিযোগকারী জানায়, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রফিক সৌদি আরবে থাকেন। তিনি সেখানে থেকে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অপ*প্রচার চালান। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি রফিক ছুটিতে দেশে আসেন।

বিষয়টি সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জের চরমটুয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের নজরে আসলে তিনি এ বিষয়ে রোববার (৭ জুলাই) সদর থানায় একটি লিখিত অভি*যোগ করেন। ওই অভি*যোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১০ জুলাই) রাতে বাঁঙ্গাখা গ্রামে অভিযান চালিয়ে রফিককে আ*টক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বিরু*দ্ধে ফেসবুকে অ*পপ্রচার চালানোর অভিযোগে এক যুবককে আ*টক করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটটিও জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে।

প্রয়োজনে যু*দ্ধ করবো, সৌদিকে হুঁশিয়ারি কাতারের

কাতারের আমিরের ভাই খালিফা বিন হামাদ আলে সানি বলেছেন, তারা কখনোই যু** চায় না, তবে প্রয়োজনে যু**ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার এক টুইট বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

হামাদ আলে সানি লিখেছেন, কাতার যু**কামী নয়, কিন্তু কোনো দেশ যদি কাতারে আগ্রাসনের চিন্তা করে থাকে তাহলে তাদের জানা উচিত দোহা সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে রক্ষা করবে।

কাতারের ওপর অবরোধ আরোপকারী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইনকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

২০১৭ সালের ৫ জুন সৌদি আরব, মিশর, আরব আমিরাত ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে। এসব দেশ কাতারের সঙ্গে জল, স্থল ও আকাশ পথে সব ধরনের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে।

এরপর ২০১৭ সালের ২৩ জুন এসব দেশ কাতারকে ১২টি শর্ত দিয়ে বলে, শর্তগুলো মানলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

ওই ১২ শর্তের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শর্ত হচ্ছে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে কাতারকে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, আল-জাজিরা টিভি চ্যানেল ও কাতারে অবস্থিত তুর্কি সাম*রিক ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে। তবে ওই সব শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ওমানে ভালো নেই বাংলাদেশি শ্রমিকরা !

ওমানে প্রায় ৮ লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি। কাজের জন্য বেশিরভাগ শ্রমিকের থাকতে হচ্ছে শহরের বাইরে বা মরুভূমিতে। যদিও তাদের অধিকাংশেরই রুম থাকে হামরিয়াতে।

এদিকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ শ্রমিকই ফ্রি ভিসায় পাড়ি জমাচ্ছে ওমানে। ফলে থাকছে না কাজের কোন নিশ্চয়তা। নিজেদের কাজের সন্ধান করতে হচ্ছে নিজেদেরই।ওমানের হামরিয়াকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বলা হলেও এখন আর সেই আগের মতো ভিড় লক্ষ্য করা যায় না। আগে যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শ্রমিক নিতে আসতো এই হামরিয়াতে।এখন তেমন কাজের সন্ধান মিলছে না। দালালদের খপ্পরে পরে অবৈধ ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

কুমিল্লার মুহাম্মাদ দেলোয়ার, দুই বছর আগে দালালের লোভনীয় কথায় ফ্রি ভিসা নিয়ে ওমানে এসেছিলেন,এয়ারপোর্টে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও ওমান আসার পর কাজ মিলে মরুভূমিতে। এখন ৪৮ ডিগ্রির তাপমাত্রায় কাজ করতে হচ্ছে দেলোয়ারকে। আশেপাশে শুধু মরুভূমি ছাড়া আর কিছুই নাই। ৩ লাখ টাকা দিয়ে ওমানে এসেছিলেন তিনি।ব্যাংকের ঋণ ও পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে এখন ওমানের মরুভূমিতে কন্সট্রাকশনের কাজ করেন।তিনি বলেন, সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত শরীরে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা। মাঝেমধ্যেই পুলিশি চেকিং হয়, ধরা পরলেই দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই ভয়ে একটু শান্তি-মতো ঘুমাতেও পারি না।

মোবেলা সানাইয়া সহরে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে কাজ করেন ফরিদপুরের মোবারক, চার বছর আগে এলাকার এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে ওমানে এসে প্রথমে মালিকের কাজ করলেও এখন অবৈধ।চুক্তি অনুযায়ী বেতন না দেওয়া এবং মাস শেষে বেতন না পাওয়ার কারণে মালিকের থেকে পালিয়ে এখন অবৈধ হয়ে কাজ করছেন তিনি।৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ও কঠোর পরিশ্রম করছেন মোবারক। সারাদিন কাজের মধ্যে পার করলেও রাত কাটে নানা দুশ্চিন্তায়।একদিকে পরিবারের চিন্তা অপরদিকে যে কোনো সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয়।

প্রতি শুক্রবারই সন্ধ্যার পর পুলিশের চেকিং হয় এই হামরিয়াতে। পুলিশ আসার খবরে বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যায়। যারা পুলিশের হাতে আটক হয় তাদের বেশিরভাগকে দেশে চলে আসতে হয়।অন্যথায় জেল খাটতে হয়, আর যাদের আরবাব (ওমানি স্পন্সর) ভালো, তাদের আরবাব থানায় এসে জরিমানা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

সাধারণত গালফের অন্য দেশের তুলনায় ওমানিরা বাংলাদেশিদের বেশি সম্মান দেয়। সেই সাথে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ওমানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীও বেশি।

বর্তমানে দেশটির বাংলাদেশি শ্রমিকরা তেমন ভালো নেই, সেই সাথে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন, তাদের ব্যবসাও অনেক মন্দা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মুহাম্মাদ ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি।