কুয়েতে করোনায় আক্রান্ত ৩ বাংলাদেশি শনাক্ত

কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২০ জনের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি শনাক্ত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছে দেশটির স্থানীয় এক পত্রিকা। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন কুয়েতি নাগরিক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করে এসেছেন, একজন সৌদি আরব থেকে এবং কোয়ারেন্টিনে থাকা বাকি ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে

এদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানায় কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কুয়েতে বর্তমানে সর্বমোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ৬৭ জন, আইসিইউতে রয়েছেন ১২ জন। কুয়েত সরকার দেশের বাইরে

থাকা তাদের নাগরিকরা ফিরে আসার পর তাদের আলাদাভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া করোনা বিস্তার ঠেকাতে ও মোকাবেলায় কুয়েত সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কড়া নজরদারি রেখেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা পর্তুগালে ভ’য়াবহ ক্ষ’তির মুখে

পর্তুগাল এবং স্পেনে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একদিনে ৮৪৪ জন মারা গেছেন।অন্যদিকে পর্তুগালে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি, প্রাণ গেছে ১০০ জনের। এ অবস্থায়, মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা পর্তুগালে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। করোনা পরিস্থিতিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের সাময়িকভাবে নিয়মিত ঘোষণা করেছে সরকার।

বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘাতক করোনার হানা। পর্তুগালে বন্ধ পর্যটন সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ব্যবসা। পর্তুগালে বসবাসরত ৭০ ভাগ বাংলাদেশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সরকারের বিভিন্ন আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা এখানে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে।

করোনা প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পর্তুগাল সরকার। এর মধ্যে এখানে অনিয়মিত অধিবাসীকে নিয়মিত ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব অধিবাসী পর্তুগালে নিবন্ধিত তারা এখন সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারবেন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীসদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পর্তুগাল সরকার।

স্পেনেও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতালির পরেই ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে স্পেন। এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় লক ডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে পর্তুগিজ ও স্পেনিস সরকার।

কাতার প্রবাসীরা করোনায় বাংলাদেশির মৃত্যুতে ভয়াবহ আতঙ্কে

কাতারে কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক বাংলাদেশি। এই প্রথম এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর শুনে থমথমে অবস্থা পুরো দেশে। দেশটির প্রথম মৃত্যুই কোনো বাংলাদেশির হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রবাসীরা। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৫৯০ জন।

শনিবার রাতে কাতারের সংবাদমাধ্যম দ্য পেনিনসুলার খবরে বলা হয়, ৫৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ খবর জানাজানি বলে, প্রবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রবাসীরা বলেন, অনেক মানুষ একত্রিত হওয়ার কোনো দরকার নেই। আপনারা আইন মেনে চলবেন।

এ অবস্থায় আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ ছিল কমিউনিটি নেতাদের কণ্ঠে। কমিউনিটির নেতা দিদারুল আলম আরজু বলেন, প্রবাসী ভাইদের বলব, বাইরে ঘোরাঘুরি না করে কাতার সরকার যে আইন করেছে তা মেনে চলুন।

কাতারে প্রায় ১৭ হাজারের মতো মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের অন্তত ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

করোনা ভাইরাসের কারনে মালয়েশিয়ায় লকডাউন বাড়ানো হয়েছে

মালয়েশিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রা’দুর্ভাব ঠে’কাতে এবং দেশটির অভিবাসী ও স্থানীয় নাগরিকদের সুর’ক্ষা দিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষে’প গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন টেলিভিশনে এক বিশেষ সা’ক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে চ’লমান ল’কডাউনের আওতাভুক্ত মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডারের (এমসিও) স’ময়সীমা বা’ড়িয়ে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত রাখার ঘো’ষণা দেয়া হলো।দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে ১৭২ জন।

এ নিয়ে সর্বমোট আ’ক্রান্তের সংখ্যা দাঁ’ড়িয়েছে ১৭৯৬ জনে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফি’রেছেন ১৯৯ জন এবং মৃ’ত্যুব’রণ করেছেন ১৯ জন।দ্রুত ছ’ড়িয়ে পড়া’র পরিপ্রে’ক্ষিতে প্র’তিরোধের জন্য সরকার সবাইকে গৃ’হে অ’বস্থান করতে বলেছে। এক সাথে চ’লাফেরা করা, ক’র্মস্থলে যাওয়া সব ব’ন্ধ করে দিয়েছে।চলমান লকডাউনের আওতাভুক্ত মু’ভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডারের (এমসিও) নি’র্দেশনা অমা’ন্য করবে তাদের ১ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জ’রিমানা অ’ন্যথায় ৬ মাসের জে’ল অথবা উভয় দ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হতে পারে।

এদিকে এ ভাইরাসে মালযেশিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আ’ক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও রয়েছেন চ’রম আত’ঙ্কে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় অব’স্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের করোনা ভাইরাস নি’য়ে আ’ত’ঙ্কিত না হয়ে সর্বো’চ্চ সত’র্কভাবে স্বা’ভাবিক জীবনযা’পন করতে প’রা’মর্শ দেয় বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সবাইকে ঘরে থাকারও আ’হ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব করোনা প্র’তিরোধে যেসব পদক্ষে’প নিল

করোনার সং’ক্র’মণ ঠে’কাতে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের মাঝে জ’নসচেতনতা সৃ’ষ্টিতে কাজ করছে বাংলাদেশ কমিউনিটি জেদ্দা। সৌদি আরবের আইন কানুন মেনে চলা, প্র’য়োজন ছা’ড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে বি’রত থাকা ও প’রিষ্কার-প’রিচ্ছন্ন থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় মেনে চলতে প্রবাসীদের আ’হ্বান জা’নাচ্ছেন কমিউনিটির নেতারা। মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন করে দুই শতাধিক করোনা রোগী শ’না’ক্ত হয়েছে।

সৌদিতে করোনা ভাইরাস সং’ক্র’মণের কারণে অভিবাসী ও সৌদি নাগরিকদের সার্বিক নি’রা’পত্তার জন্য একে একে ব’ন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্র’তিষ্ঠান। চলছে ২১ দিনের কারফিউ। এ অ’বস্থায় সরকারের জা’রি করা সব নি’র্দেশনা দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেনে চ’লার আ’হ্বান জা’নিয়েছেন প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা।জেদ্দা কমিউনিটি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, সৌদি সরকার যে সা’ন্ধ্যাকালীন আইন জা’রি করেছে। আমরা প্রবাসীরা অবশ্যই এ কা’রফিউর প্রতি শ্র’দ্ধা রাখব।

আপনারা অযথা মার্কেটে ঘো’রাঘুরি করবেন না। যথা সময়ে বাসায় ফিরে যাবেন।এ স’ঙ্ক’টময় প’রিস্থিতিতে খাবার ও নি’ত্যপ্রয়োজনীয় দ্র’ব্যের দাম না বা’ড়াতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আ’হ্বান জা’নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।সৌদি বাংলা বিজনেস অ্যা’সোসিয়েশন সদস্য রওশন জামিল শিপু বলেন, এ দুর্যোগ মুহূর্তে সৌদি আরবে কোনো পণ্যের দাম একটুও বা’ড়েনি। আমি বাংলাদেশের ব্যব’সায়ীদের অ’নুরোধ করব, আপনারা অ’পাতত এ মু’হূর্তে সি’কেট করবেন না।সৌদিতে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে চলছে রাত্রিকালীন ২১ দিনের কা’রফিউ।

এ আইন অমা’ন্যকারীদের করা হচ্ছে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জ’রিমানা ও গ্রে’ফতার। এখন পর্যন্ত সাড়ে সাতশ’র বেশি করোনা রোগী শ’না’ক্ত হয়েছে সৌদিতে। সেই স’ঙ্গে প্রথম একজন মা’রা গে’ছেন বলে নিশ্চিত ক’রেছেন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া : মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া’ এমনটাই ই’ঙ্গি’ত দিয়েছেন মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলা সেগারান।সোমবার দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নেপালের কর্মী নিয়োগের অনুরূপ চু’ক্তি করা হবে বাংলাদেশের সঙ্গে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূ’ড়া’ন্ত

পর্যায়ে রয়েছে।তবে ব্যয় ও স্ব’চ্ছ’তা ব্যবস্থার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। রোববার এ কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।তার একদিন পরই বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেয়ার বার্তা এলো মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর কাছ থেকে। স্থানীয় সময় ৭ জানুয়ারি দেশটির মালয়েশিয়াকিনি নামক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ, মালয়েশিয়ায়

মার্কিন বাণিজ্য নি’ষে’ধা’জ্ঞার ঝুঁ’কি এ’ড়া’নোর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ‘শূ’ন্য-ব্যয়ে’ কর্মী নিয়োগের প্র’ক্রি’য়া চলছে।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অ’বৈ’ধ অ’ভি’বা’সীদের বৈ’ধ হতে সুযোগ সৃষ্টি করে মালয়শিয়ার সরকার। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট সে সুযোগের মেয়াদ শে’ষ হয়। এ সময়ের মধ্যে বহু বাংলাদেশি বৈ’ধ হন।তবে বৈ’ধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে বহু বাংলাদেশি নি’ব’ন্ধিত হয়েও প্র’তা’র’ণার শি’কা’র হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

অপেক্ষার পালা শেষ, এ মাসেই চালু হবে ই-পাসপোর্ট

জেনে নিন বিস্তারিত। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা….অবশেষে দেশে চালু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা। চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ি এবং উত্তরা

পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তীতে অনান্য পাসপোর্ট অফিস থেকে এ সেবা পাওয়া যাবে।এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক (ডিআইজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বলেন,আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট বিতরণ উদ্বোধন করতে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করবেন।তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।ই-পাসপোর্টের সূচনা দিয়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী,যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যাও হবে দুই ধরনের, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বিতরণের পদ্ধতি তিন ধরনের—সাধারণ,জরুরি ও অতি জরুরি। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার

৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ছয় হাজার ৯০০ টাকা।বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি সাত হাজার ৫০০ টাকা এবং১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি পাঁচ হাজার টাকা, জরুরি ফি সাত হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা।এ ছাড়া ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০

হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি সাত হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২ হাজার টাকা।উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট এক ধরনের বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে পাসপোর্টের ডাটা পেজ-এ মুদ্রিত তথ্য সমন্বিত একটি চিপ সংযুক্ত থাকে। কোনো কোনো দেশের ই-পাসপোর্টে দুটি ফিঙ্গার প্রিন্ট সংযুক্ত হয়।

বাঙালির বেতন বছরে ৭২০ দিনার,কোম্পানিকেই দিতে হয় ৫২০ দিনার,তাহলে তারা খাবে কী: মোহাম্মদ

নিজের ভাগ্যর পরির্বতন এর জন্য মানুষ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তবে তাদের এই যাত্রা অনেক সময় কষ্টকর হয়। নানা ভাবে তারা বৈষম্যর স্বীকার হয়। সঠিক ভাবে কাজ করে ও প্রকৃত পারিশ্রমিক থেকে তারা বঞ্চিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের দক্ষতা না থাকার জন্য ও বৈষম্যর স্বীকার হয়ে থাকেন প্রবাসীরা। এর ফলে প্রবাসীদের অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন প্রতারক ব্যক্তিরা প্রবাসীদের সাথে প্রতারনা করে থাকে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারক

চক্র সক্রীয় তারা সব সময় উন্মুখ হয়ে থাকে প্রতারনা করার জন্য।কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামেদ আল-সাবাহকে ক্লিনার কোম্পানি ও সিকিউরিটি কোম্পানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কফিল পন্থা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-মোল্লা। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় কুয়েতের প্রবীণ এ সাংবাদিক গরিব শ্রমিক ও তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন।ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, আকদ হুকুমার কোম্পানিগুলো টাকার বিনিময়ে ভিসা বিক্রি করে দেয়। যেসব শ্রমিক তাদের কোম্পানিতে কাজ করেন তাদের মধ্যে জামিয়া (সুপার

মার্কেটে) নিরাপত্তা কাজে নিয়োগিত এক শ্রমিকের বক্তব্য তুলে ধরে সাংবাদিক বলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে জানান, প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা কাজ করেও মাসে মাত্র ৭৫ দিনার বেতন পান। আবার আকামার টাকাও তাকেই দিতে হয়।ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের ব্যাংক কার্ড পর্যন্ত নিয়ে নেয়। কার্ড ব্যবহার করে শ্রমিকের কন্ট্রাকের বেতন কোম্পানিগুলো উঠিয়ে নেয়। ওই নিরাপত্তাকর্মী খাবারের বিষয়ে জানান, খাবারের কথা জিজ্ঞাস করলে বলেন আমি জামিয়া থেকে খেয়ে থাকি। মিশরীয় এই নাগরিক মিশর থেকে ১ হাজার ৪০০ দিনার দিয়ে ভিসা কিনে কুয়েতে এসেছেন। সাংবাদিক মোহাম্মদ

আল-মোল্লা বলেন, আমি একটি ক্লিনার কোম্পানির বাঙ্গালি শ্রমিকের সাথে কথা বলেছি, তিনি যেটা বললেন, আমি ক্লিনার কোম্পানির আকদ হুকুমায় কাজ করি। আমাদের আকদ পাল্টাতে হলে জনপ্রতি ৫২০ দিনার দিতে হয়।আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম তোমার বেতন কত? বাঙালি বললেন, আমার বেতন মাত্র ৬০ দিনার ও ১২ ঘণ্টা কাজ করি। সাংবাদিক সবার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি এই বাঙালির বেতন বছরে ৭২০ দিনার হয় আর এই বেতন থেকে ৫২০ দিনার যদি কোম্পানিকেই দিয়ে দিতে হয় তাহলে বলেন, তারা কী খাবে? তাদের পরিবারকেই কী খাওয়াবে? তিনি বলেন, আরো শুনুন, কুয়েতে

সিকিউরিটি কোম্পানি ও ক্লিনার কোম্পানিগুলো তাদের কর্মচারিদের বাইরে কাজ করার জন্য প্রতি আকামায় ১ হাজার দিনার করে নিয়ে থাকে। যদিও তাদের কন্ট্রাক্ট আকদ হুকুমার কন্ট্রাকে।সাংবাদিক বলেন, আমার কথা যাচাই করুন, অনেক কোম্পানি আছে ১ হাজার শ্রমিক এনে জন প্রতি ১ হাজার দিনার করে নিয়ে বাইরে ছেড়ে দিচ্ছে। কী লাভ এতে করে? তাদের এক বছরের আকামা লাগিয়ে পরে আর লাগাচ্ছে না। কারণ তাদের কোন কন্ট্রাক্ট নেই।তিনি সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এই গরিব মানুষগুলো সব কিছুর টাকা দিয়েও তাদের সুবিধাগুলো পাচ্ছে না। তাই আমি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, মাননীয়

মন্ত্রী, আপনি কুয়েতের কফিল ও আকদ হুকুমার পন্থা উঠিয়ে দিয়ে নিয়োগকারী এবং শ্রমিকের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী সংস্থা গঠন করুন। যাতে করে এই গরিব মানুষগুলো তাদের সুবিধাগুলো পেতে পারে। তিনি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, এমন একটি নিয়ম করে আপনি একটি মানবতার কাজ করুন।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাঙালী কর্মরত রয়েছে বিভিন্ন পেশায়। মধ্যপ্রাচ্য দেশ গুলোতে এই বাঙালী প্রবাসীদের সংখ্যা অনেক। বৈধ-অবৈধ ভাবে

নিজের অবস্থান পরিবর্তন এর জন্য প্র‍তিবছর পাড়ি জমাচ্ছে অনেক বাঙালী। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ কারার জন্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড গতিশীল কারার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিশেষ অবদান রয়েছে।

অফিস ড্রেস-সিমেন্ট মাখানো জুতা পরা অবস্থায় ১৭৬ কর্মীকে সৌদি থেকে ফেরত

কয়েকদিন আগেই ১৪১ জনকে ফিরিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। এর কয়েকদিন না যেতেই গত শনিবার আরও ১৭৬ কর্মীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব। এ নিয়ে গত চার দিনে দেশে ফিরেছেন ৩১৭ কর্মীকে ফেরত পাঠাল সৌদি।শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তারা। সৌদি

ফেরত শহিদ মিয়া জানান, আড়াই বছর আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তিনি সৌদি আরবে টাইলস ফিটিংয়ের কাজ করতেন। কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরার পথে তাকে পুলিশ আটক করে। তার গায়ে অফিস ড্রেসও ছিল। পায়ে ছিল টাইলস লাগানোর সিমেন্ট মাখানো জুতা। ওই অবস্থাতেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।দেশে ফিরেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিনা আক্তার ও শামিমা বেগম। তিনি গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব

গিয়েছিলেন। তারা নিয়োগ কর্তার মারধরের শিকার হন। পরে তাদের দেশে পাঠানো হয়।এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া আক্তার ও খাদিজা, সিরাজগঞ্জের রাশেদাসহ ১৫ নারী প্রতারণার শিকার হয়েছে সেখানে। পরে তারা পালিয়ে আশ্রয় নেন জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোমে। সেখান থেকে শনিবার তাদের দেশে পাঠানো হয়।

ভাগ্য এতটাই খারাপ যে কর্মস্থল থেকে কাজের পোশাকে পরা অবস্থায় দেশে ফেরত

গৃহক*র্তার নি*র্যাতন ও পুলিশের ধরপাকড়ের শি*কার হয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১৫ নারীসহ আরও ১০৬ বাংলাদেশি। শনিবার রাত ১১টা ২০ ও ১টা ৩০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটযোগে দেশে ফেরেন এসব কর্মী। এ নিয়ে চার দিনে ২৪৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।ফেরত আসা নারীকর্মীদের গল্প আগে ফিরে আসা নারীদের মতোই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিনা আক্তার ও শামিমা বেগম জানান, গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে

নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাদের। নির্যাতন সইতে না পেরে সেখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফহোমে।একই সমস্যা নিয়ে হোমে থাকা নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া আক্তার ও খাদিজা, সিরাজগঞ্জের রাশেদাসহ ১৫ নারীর সঙ্গে দেশে ফিরেন। শহীদ মিয়া (৪০) আড়াই বছর আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে টাইলস ফিটিংয়ের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি। ভাগ্য এতটাই খারাপ যে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে ধরে কাজের পোশাকেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়।মাত্র চার মাস আগে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হানিফ গিয়েছিলেন সৌদি আরবে।

সৌদিতে তার পাসপোর্টের তিন মাসের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হলে মালিক আর আকামা তৈরি করেননি। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ ধরলে দেশে পাঠানো হলো তাকে। একইসঙ্গে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের হামিদুল্লাহ, কুমিল্লার তোফাজ্জল, সিলেটের শুভ দেবনাথ।দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ করেন, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা প্রদান করলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কফিলের
সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না বরং কফিল প্রশাসনকে বলেন ক্রুশ (ভিসা বাতিল) দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে।বরাবরের মতো গতকালও

ফেরত আসাদের মাঝে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে ২৪ হাজার ২৮১ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়। আর নতুন বছরের শুরুর চার দিনে ফিরলেন ২৪৭ জন। ফেরত আসাদের বর্ণনা প্রায় একই রকম। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন।তিনি বলেন, যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন

তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায়।এইভাবে ব্যর্থ হয়ে যারা ফিরছেন তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সে জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে।দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।