সৌদিতে বাংলাদেশি রুমমেটের হাতে বাংলাদেশি খু’ন

সৌদি আরবে দুই রুমমেটের হাতে এক বাংলাদেশি খু’ন হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আল খারিজ শহরের আজিজিয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, আজিজিয়ার একটি বাংলাদেশি ভিলাতে একই রুমে ওই তিনজন থাকতেন। সন্ধ্যায় বাথরুমে প্রবেশ নিয়ে রুমমেটদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে দুজন মিলে একজনকে বাথরুমে ফেলে গ’লা কে’টে হ’ত্যা করে।

এ ঘটনায় দুই হ’ত্যকা’রীকে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হ’ত্যা’র শি’কার হওয়া লোকটির নাম-ঠিকানা বিস্তারিত জানা যায়নি। আরেকটি খবর : সৌদি যুবরাজকে কাশ্মীর পরিস্থিতি জানালো ইমরান খান সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।দু’দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দায় পৌঁছে ইমরান খান সৌদি যুবরাজকে কাশ্মীর পরিস্থিতি জানান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমরান খান কাশ্মীর পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ নিয়েও আলোচনা করেন।একইসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানান। ওই হামলার পর সৌদি আরবের প্রতিদিন তেলের উৎপাদন অর্ধেক কমে গেছে।

এর আগে ইমরান খান জেদ্দার বিমানবন্দরের রাজকীয় টার্মিনালে অবতরণ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান মক্কার গভর্নর খালিদ বিন ফয়সাল আলে সৌদ।ইমরান খানের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী এবং ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যার মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি এবং অর্থ উপদেষ্টা আব্দুল হাফিজ শেখ।সৌদি নেতাদের সাথে শলাপরামর্শ শেষে ইমরান খান নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেবেন।

গত ৫ আগস্ট ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে দুই ভাগে বিভক্ত এবং ভারতের সঙ্গে একীভূত করেছে।এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তথ্য দেয়া হয়েছে যে, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীরের জনগণের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে।

হয়রানী মুক্ত বিমানবন্দর ও পাসপোর্ট অফিস চান প্রবাসীরা !

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে যতটা ক্রমশ শক্তিশালী করে চলেছে, মূলত তার সম পর্যায়ে আর কোনো কিছুই হতে পারেনা।অথচ সেই চরম দুর্ভাগা প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসাকালীন সময় প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তাদের অসদাচরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে নানান হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে তিনটি সেক্টরের বেশি অবদান রয়েছে। এগুলো হলো- গার্মেন্ট, সেবা এবং অভিবাসন খাত। সাধারণভাবে আমরা গার্মেন্টে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি।এ খাতের কাঁচামাল আমদানির খরচ বাদ দিলে দেখা যায়, অভিবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে নেট বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গার্মেন্টের চাইতে তিনগুণ বেশি।দেশে প্রবাহিত বৈদেশিক সাহায্যের তুলনায় এটি ছয়গুণ এবং ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের বারো গুণ বেশি তাই এই কথা বলতে বাধা নেই যে ‘

অভিবাসীর ঘামের টাকা সচল রাখছে দেশের চাকা’।বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিবছর দেশে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পাঠায়। প্রতিবছর এ মুদ্রা পাঠানো বৃদ্ধি পাচ্ছে।‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চলতি অর্থবছরে এটি ৯ গুণ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।’দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।১৩ জুন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনকালে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চলতি অর্থবছরে এটি ৯ গুণ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ২২৮ বিলিয়ন ডলার; ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে আসে ১৫ দশমিক ৩১৬ বিলিয়ন ডলার; ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আসে ১৪ দশমিক ৯৩১ বিলিয়ন ডলার;২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১২ দশমিক ৭৬৯ বিলিয়ন ডলার; ২০১৭-১৮-তে আসে ১৪ দশমিক ৯৮১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ মাসে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়েছে ১৩ দশমিক ৩০৩ বিলিয়ন ডলার।কিন্তু দেশে পাঠানো এই অর্থের দ্বিগুণ অর্থ অবৈধ চ্যানেল হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হয়।

ফলে অন্য দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যায়। হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে আসার ক্ষেত্রে ওই দেশে বসে থাকা হুন্ডির এজেন্টরা প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেয়। আর দেশে অবস্থানরত অপর এজেন্ট প্রবাসীদের পরিজনদের কাছে টাকা দিয়ে দিয়ে।এর ফলে প্রবাসীর পরিজনরা দেশে টাকা পেলেও প্রবাসী আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। এ ছাড়া দেশে টাকা না পাঠিয়ে বিদেশে পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে।নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের কোনো বাজেটেই ছিল না।এর মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হচ্ছে।

এর আওতায় বীমাকারী মারা গেলে, দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী ও সম্পূর্ণ অক্ষমতা বা পঙ্গুত্ববরণ করলে মূল বীমার শতভাগ পরিশোধ করার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের ভিত্তিতে দাবি পরিশোধ করা হবে।এবারের বাজেটে প্রবাসীদের জন্য দেয়া হয়েছে আরেকটি সুখবর- এটিও এবারই প্রথম। বৈধপথে দেশে টাকা পাঠালে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন তারা।বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয় কমানো এবং বৈধপথে অর্থ প্রেরণ উৎসাহিত করতে প্রস্তাবিত বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।ফলে বৈধপথে প্রবাসী আয় আসার পরিমাণ বাড়বে এবং হুন্ডি ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছি।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বীমা নীতিমালার আওতায় প্রবাসী কর্মীদের জীবন বীমা সুবিধা প্রদান করা হবে। সাধারণত মৃত্যুর ক্ষেত্রে বীমা সুবিধায় প্রিমিয়াম হার ও বীমা অঙ্ক বীমা গ্রহীতাদের বয়সভেদে পার্থক্য হয়ে থাকে।তবে প্রবাসী কর্মীদের একটি গ্রুপ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বীমা প্রকল্পটি বা পলিসি সহজীকরণের লক্ষ্যে বীমা গ্রহীতাদের বয়স নির্বিশেষে অভিন্ন প্রিমিয়াম হার আরোপ করা হবে।এদিকে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠালে একই সঙ্গে দেশ ও প্রবাসীদের পরিজনরা উপকৃত হন। প্রবাসীরা যখন বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠান তখন ব্যাংকগুলো বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই অর্থ স্থানান্তর করে দেশে অবস্থানরত পরিজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

আর ওই বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অর্থ হিসাবে জমা থাকে।কিছু অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও জমা রাখে। এ অর্থ বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়।বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ পেতে পারে। আমদানির ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো রোধ ও প্রশিক্ষিত করে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠাতে পারলে প্রবাসী আয় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের কোটা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ৪০ বিলিয়নে উত্তীর্ণ হওয়া অসম্ভব নয়।

গত পাঁচ বছরে কর্ম উদ্দেশ্য নিয়ে বিদেশে যাওয়া অভিবাসীর সংখ্যায় এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত সাত থেকে দশটি দেশের মাঝে সীমাবদ্ধ। তার ওপরে আবার একেক বছরে একেকটাদেশে প্রায় ৫০ ভাগের অধিক কর্মী গিয়ে থাকেন।গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশ সৌদি আরবে পুরুষ শ্রমিক প্রেরণ করতে পারছিল না। কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসান প্রায় বন্ধ।জি-টু-জির ব্যর্থতার কারণে গত চার বছরে মালয়েশিয়াতেও খুব অল্প সংখ্যক লোকই যেতে পেরেছিল।রেমিট্যান্স আহরণের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, মানি লন্ডারিং-এর ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যাংকসমূহের উৎসাহে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের হার বেড়েছে।

তবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিনটি দেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের অনেকটাই এখনও হুন্ডির মাধ্যমে হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি ব্যবসায় নিয়োজিতরা ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ এবং ‘ওভার ইনভয়েসিং’ করে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার কাজে হুন্ডির টাকা ব্যবহার করে।স্বর্ণ পাচারকারীরাও হুন্ডি ব্যবহার করে থাকে ফলে এই দেশ গুলো হতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বেশ কম আসছে।অভিবাসন বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রেখেছে। সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসী পরিবারে মাত্র ১৩ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন।

অনভিবাসী পরিবারগুলো প্রায় ৪০ ভাগই দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছেন।আন্তর্জাতিক অভিবাসন হয় না এমন এলাকার তুলনায় অভিবাসন হয় এমন এলাকায় মজুরি বেশি, স্থানীয় বাজারের সম্প্রসারণ বেশি, প্রযুক্তি নির্ভর বিশেষায়িত পণ্যর ব্যবহার বেশি, কৃষি আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ বেশি। অর্থাৎ অভিবাসীরা স্থানীয় অর্থনীতিতে পরোক্ষভাবে অবদান রাখছেন ‘মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট’ তৈরি করে।এদিকে সাম্প্রতিক কালে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে বিমান বন্দরে দুর্নীতি, চোরাচালান ও যাত্রী হয়রানির মতো ইত্যাদি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে।বিদেশ প্রত্যাগত বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং মালয়েশিয়া প্রত্যাগত শ্রমিকদের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকে।আর পাসপোর্ট অফিসের সীমাহীন হয়রানীর কথা সকলের জানা।

প্রয়াসীরা চান এ দুটি বিষয়ে সরকারি নজরদারি আরো জোরালো করা উচিত। যাতে কোন প্রবাসী হয়রানীর শিকার না হন।মালয়েশিয়ার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এসএম আবাদুল কুদ্দুছ (পিএইচডি) বলছেন,২০১৪ সালের শুরুতে আমরা দেখেছি অবৈধ সমুদ্র পথে অভিবাসনে প্রলুব্ধ করেছে কিছু মানবপাচারকারী গোষ্ঠী। থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার জঙ্গলে গণকবরে শুয়ে আছেন বহু নাম না জানা অভিবাসী।১০ হাজার টাকায় তাদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হবে বলে নৌকায় তুলে মাঝ পথে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। না দিতে পারলে তাদের অনেককেই সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়েছে। অনেক সময় মনে হয়েছে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে প্রশাসন দ্বিধাগ্রস্ত ক্রস ফায়ারে পরে গেছেন নীচের দিকের কিছু দালালেরা।

যথাযত আইনে মামলা রজু হয়নি। বৈধ অভিবাসনের পথ সচল রাখতে হলে অবৈধ অভিবাসন পরিচালনাকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।মাহাসা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডা: আবুল বাসার বলছেন, অভিবাসনকে উন্নয়নের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রবৃদ্ধি এবং সমতা অর্জনের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে অভিবাসী পরিবারগুলো কীভাবে সম্পৃক্ত হবে তার দিক নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।মানবাধিকার কর্মী হারুন আল-রশিদ বলছেন, ২০০০ সালের শুরু থেকে বিভিন্ন সরকার অভিবাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নজর দিয়েছেন। নতুন মন্ত্রণালয় খোলা হয়েছে, নীতি এবং আইন তৈরি হয়েছে, সহজ শর্তে ঋণদানের জন্যে প্রবাসী ব্যাংক খোলা হয়েছে কিন্তু অভিবাসন এমন একটি জটিল বিষয় যে এখানে সুফল ধরে রাখা বেশ কঠিন।

বিশ্বায়ন থেকে ছুড়ে দেওয়া বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় নিত্যনতুন পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।তিনি মনে করেন, বিমানবন্দর ও পাসপোর্ট দালালের হয়রানী কমাতে,গ্রহণকারী দেশে সেবা দিতে, ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনে নির্দিষ্ট পলিসি, চাই অর্থ আর রিসোর্স বরাদ্দ করা আর সরকারের দায়বদ্ধতা।প্রবাসী শ্রমিকনেতা শাহ আলম হাওলাদার বলছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৭-৯ লাখ মানুষ দেশের বাইরে যায়। বিপুলসংখ্যক জনশক্তি বাইরে গেলেও এর প্রায় পুরোটাই অদক্ষ। ফলে তাদের উপার্জনও কম। এক্ষেত্রে সরকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তাদের বিদেশে পাঠাতে চায়।

বর্তমানে সীমিত পরিসরে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু থাকলেও দালালের মাধ্যমে বা অবৈধভাবে বিদেশে যান তারা প্রশিক্ষণ ছাড়াই যান।শাহ আলম আরোও বলছেন, প্রবাসে বৈধ অবৈধ সবাই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।বর্তমানে মালয়েশিয়া যারা বৈধ অবৈধ কর্মরত রয়েছেন। কেউই ভালো নয়। কারণ অবৈধরা মালয়েশিয়া সরকারের চলমান অবৈধ শ্রমিক ধরপাকড় অভিযানের ভয়ে ফেরারি হয়ে দিনাতিপাত করছেন।দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের বৈধতা বা অবৈধদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

৫ দিন সংসার করে পালালেন মালয়েশিয়া প্রবাসী, অনশনে স্ত্রী

প্রেমিকাকে বিয়ের পর পাঁচদিন সংসার করে পালিয়ে গেলেন প্রবাসী স্বামী। এ অবস্থায় স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেছেন এক নারী। ওই নারীর বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে বর্তমানে অনশনে আছেন তিনি।

বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা চৌরাস্তা গ্রামের শামসুল হক মধু মিয়ার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে অনশন অব্যাহত রেখেছেন ওই নারী। তবে স্ত্রী বাড়িতে আসার সংবাদ পেয়ে আনোয়ার হোসেন পালিয়ে গেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার ওই নারীর মোবাইলে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অনশনরত ওই নারীর ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক বছর আগে কাবিন রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করি আমরা।মুঠোফোনের মাধ্যমে বিয়ে হলেও ৩ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে কাজি অফিসে গিয়ে কাবিনে স্বাক্ষর করে আনোয়ার হোসেন। পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আমাদের বাসায় পাঁচদিন সংসার করে।

ওই নারী বলেন, বিয়ের ষষ্ঠ দিনে কাউকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যায় আনোয়ার। এরপর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। এরপর আমি তার বাড়িতে এসে অবস্থান নিই।বাড়িতে আসার পর জানতে পারি আনোয়ারের আগের স্ত্রী রয়েছে। আমাকে দেখে আনোয়ারের স্ত্রী ও অন্যরা ব্যাপক মারপিট করেছে। আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারপিটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সেলিম বলেন, ওই বাড়িতে গিয়ে অনশনরত নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিদেশ থেকে দেশে এসে ওই নারীকে বিয়ে করেছে আনোয়ার।ওই নারী বাড়িতে আসার খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে আনোয়ার। তাকে না পাওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ওই নারী অনশন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ-সৌদি আরব বৈঠক !

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে শিগগির দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছে দু’দেশ।মঙ্গলবার দুপুরে সৌদি আরবের জেদ্দায় এক বৈঠকে একমত প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের ও কিংডম অফ সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার ড. নাসের এ আল দাআদ।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী ইমরান আহমদ বাংলাদেশি কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথসভা করার গুরুত্ব আরোপ করেন।এর প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে আরো বেশী কর্মী নেওয়ার আহ্বান করলে সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার এ ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। সৌদি আরবের ডেপুটি ইন্টেরিয়র মিনিস্টার আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ।এছাড়াও বৈঠকে মুসলিম উম্মাহ’র ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রির সচিব (ইন্টেরিয়র-সিকিউরিটি) মোহান্না, ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের অ্যাডভাইজার ড. আব্দুল্লাহ বিন ফাখরি আল আনছারি জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. যাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা !

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচিতে অবৈধ অভিবাসীরা তেমন আগ্রহী না হওয়ায় দেশটির অভিবাসন বিভাগ প্রতিদিনই ধরপাকড় চালাচ্ছে। এতে বৈধ প্রবাসীরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দেশে ফেরায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া ত্যাগে তারা আগ্রহী না হওয়ায় অভিবাসন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা।

মালয়শেয়িয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান আমরা কেউ অবৈধ হতে চাইনি। আমরা বৈধ পথেই এসেছি। প্রতারণার কারণে আমরা অবৈধ হয়ে গেছি।এদিকে হাজার হাজার রিঙ্গিত জমা দিয়েও বৈধতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এ শ্রমিকদের।তারা জানান, পাসপোর্ট-ভিসার জন্য তারা অনেক টাকা দিয়ে যাচ্ছ। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। বের হলেই পুলিশ ধরছে তাদের।দেশটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে আটক করা হয় প্রায় ৩৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে। আটকদের যাচাই-বাছাই শেষে গ্রেফতার দেখানো হয় ৮ হাজার ৫৬ জন বাংলাদেশিকে।

এ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের চাকরি দেয়া বা তাদের সহায়তা করার অভিযোগে ৯২২ কোম্পানি মালিককেও আটক করা হয়।১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশত্যাগের সুযোগ পাওয়ার পরও যারা অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

মালয়েশিয়ায় ৬ মাসে ৩৯৩ বাংলাদেশির মৃ,ত্যু, তদন্তের দাবি !

জীবিকার তাগিদে প্রতি বছরেই আমাদের দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোক সেখানে গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।তাদের পাঠানো টাকায় দেশে পরিবার পরিজন খেয়ে পরে বাঁচেন। কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃ’ত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

দেশটির অনলাইন মালয়েসিয়াকিনির তদন্তে দেখা গেছে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সেখানে ৩৯৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা গেছেন।
এরা সবাই বয়সে তরুণ বা যুবক। মৃ’ত্যুর কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক। মাত্র ৬ মাসে এত বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যাওয়ায় এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে সোশ্যালিস্ট পার্টি অব মালয়েশিয়া (পিএসএম)।

দলটি বলেছে, মৃ’ত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন, এসব তরুণ শ্রমিকের জন্য ‘কিলিং ফিল্ড’ হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়া। এর দায় নিতে হবে আমাদের এবং যথাযথ পদ্ধতিতে এর তদন্ত শুরু করতে হবে। মৃ’ত্যু সনদে এসব মৃ’ত্যুর প্রধান কারণ দেখানো হয়েছে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন।পিএসএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আর রানি বলেছেন, ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী এমন হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছেন মালয়েশিয়ায়। তাদের মৃ’ত্যুতে যে কারণ দেখানো হচ্ছে তা একেবারেই বেমানান।

কারণ, অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের আগে তাদেরকে মেডিকেল পরীক্ষায় ‘ফিট’ বা যোগ্য বলে সনদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে তাদের মারা যাওয়ার কারণ হতে পারে বাসস্থানের অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির কারণে।প্রতিটি মৃ’ত্যুর প্রকৃত কারণ পূর্ণাঙ্গভাবে খুঁজে বের করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পরে। পোস্ট মর্টেম করা যেতে পারে। মৃ’ত্যুর আগের উপসর্গ সম্পর্কে তথ্য নেয়া যেতে পারে মৃ’ত শ্রমিকের সহকর্মীদের কাছ থেকে।

এরপরই মৃ’ত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, এমন মৃ’ত্যুর তথ্য সংরক্ষণের জন্য আমাদের উচিত ডাটাবেজ তৈরি করা, যাতে সহজে সব তথ্য এক স্থানে পাওয়া যায়। এসব সমস্যার মূলে পৌঁছার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে বিস্তৃত করা উচিত।তিনি বলেন, এটা সবাই জানেন যে, অনেক ঋণ করে বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া যান। এতে তারা মালয়েশিয়ায় আধুনিককালের দাসত্বে পরিণত হচ্ছেন।

এই অবস্থা মোকাবিলা করতে শ্রমিক আমদানিতে সংশ্লিষ্ট সব ফি নিয়োগকারীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে অভিবাসীদের ইস্যু নিয়ে কাজ করা রাইট টু রিড্রেস কোয়ালিশনের মতো গ্রুপগুলো।তাই শ্রমিক নিয়োগ, অবৈধ শ্রমিক, শ্রমিকদের আবাসন ও তাদের স্বাস্থ্যগত ইস্যুসহ সব বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণের জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আর রানি।কিন্তু অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যার বিষয়ে যথাযথভাবে দৃষ্টি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমি চাই এই ট্রাজেডি বন্ধ হোক।

মালয়েশিয়ায় সবজি বাগানে অভিযান : ১২ বাংলাদেশি আ,টক !

মালয়েশিয়ার ক্যামেরুন হাইল্যান্ডের সবজি বাগান থেকে ১২ বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৩৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আ,টক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ক্যামেরুন হাইল্যান্ডের প্রায় ৭টি সবজি বাগান ও ফুলের বাগানে অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন বিভাগ।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক ইনদেরা খায়রুল দাজায়মি আবু দাউদ বলেন, ‘দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন বিভাগের ২৪ জন কর্মকর্তা অভিযানে অংশ নেন। ক্যামেরুন হাইল্যান্ডের কুয়ালা তেরলার সবজি বাগানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।’
অভিযান শেষে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাতুক ইনদিরা খায়রুল দাজায়মি আবু দাউদ বলেন, সবজি বাগানগুলোতে বেশিরভাগই অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক।

১২ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ওই অভিযানে ১৭ জন ভারতীয়, ৮ জন মিয়ানমার ও ২ জন নেপালি নাগরিককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানান দাতুক ইনদেরা খায়রুল দাজায়মি আবু দাউদ।
মহাপরিচালক বলেন, অভিযান চলাকালে অবৈধ অভিবাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এলাকা ব্লক রেইড দিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বৈ*ধ কাগজপত্র না থাকায় এবং অতিরিক্ত সময় মালয়েশিয়ায় অবস্থানের কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন রুলস ১৯৬৩ এর অধীনে তাদের তদন্ত চলছে।
আটকদের লেংগিং ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও তদন্তের জন্য সবজি বাগানের আরও ৬ কর্মীকে ইমিগ্রেশন বিভাগে ডাকা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছ।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হ,ত্যা !

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পার্শ্ববর্তী সেগামবুট ডালাম এলাকায় এক বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হ,ত্যা করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট কারের মধ্যে র,ক্তাক্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।

নিহত বাংলাদেশির নাম মো. শামীম (৩৩), তবে মালয়েশিয়ায় ক্লিনার শামীম নামে সবাই চেনে। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী নি,হতের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের আকল মেঘ এলাকার মো. মুকলেস সোয়ালের ছেলে।নি,হত শামীম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিল বলে জানা গেছে। শামীমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কারা এবং কি কারণে তাকে হ,ত্যা করা হয়েছে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

যুক্তরাজ্যের এমপি প্রার্থী মৌলভীবাজারের বাবলিন
ব্রিটেনের আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে ড. বাবলিন মল্লিককে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে দেশটির উদার ধারার রাজনৈতিক দল লিবডেম (লিবারেল ডেমোক্র্যাট)। কার্ডিফ সেন্ট্রাল আসনের জন্য প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তিনি।
ড. বাবলীন বাবলিন মল্লিক মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ ফিরোজের মেয়ে। ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আসেন তিনি।

পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ বাবলিন বায়ো কেমেস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।
বাবলীন ব্রিটেনে স্থায়ী আবাস গড়েছেন। সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কার্ডিফে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য শেকড় নামে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বাবলিন। তিনি কমিউনিটির স্বার্থে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রথম বাঙালি ও মুসলিম নারী হিসেবে গত কাউন্সিল নির্বাচনে বিপুল ভোটে কাউন্টি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নারীকে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে না ফে,রার দেশে ৩ যুবক !

মানব পাচার চক্রের প্রলোভনে লিবিয়া হয়ে নৌকাযোগে ইতালিতে যাওয়ার পথে মা*রা গেছেন ফরিদপুরের তিন যুবক। তারা হলেন সদর উপজেলার ডোমরাকান্দির সায়েম মোল্লা ও জেলার সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের সেলিম উদ্দিন ও সানি মাতব্বর।এদের মধ্যে সায়েম ও সেলিমের মরদেহ রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। অপরদিকে সানির ম*রদেহ আগামী সপ্তাহে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

মৃ*তদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের ডোমরাকান্দি এলাকার ইতালি প্রবাসী প্রতারক মফিজুর রহমান ফরিদপুর সদর উপজেলার বিল্লাল মোল্লার ছেলে সায়েম মোল্লা (১৭), সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে সেলিম উদ্দিন (৩০) ও মফিজ মাতব্বরের ছেলে সানি মাতব্বরকে (২৭) ইতালির একটি ইলেকট্রনিকস কোম্পানিতে ৮০ হাজার টাকা বেতনে কাজের প্রলোভন দিয়ে ইটালিতে পাঠানোর কথা বলেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেন। ১০ মে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যায়।

সায়েমের বাবা বিল্লাল মোল্লা বলেন, গত ৩ জুন সায়েম ফোন করে জানায় তাদের একটি নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইতালি নিয়ে যাওয়ার সময় সমুদ্রের মাঝখানে নৌকার তলা ফেটে ডুবে যাচ্ছে। এ সময় তাদের নিশ্চিত মৃ**ত্যু হতে যাচ্ছে জানিয়ে আমাদের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। এরপর ফোন কেটে যায় এবং আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।সায়েমের বাবা আরও বলেন, পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ নিয়ে মৃ**ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই দুজনের ম*রদেহ ফেরত আনা হয় দেশে। আগামী সপ্তাহে সানির ম*রদেহ দেশে আসতে পারে।এদিকে, সানির বাবা মফিজ মাতব্বর তার সন্তানের ম*রদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
অপরদিকে, রোববার দুপুরে সায়েম মোল্লা ও সেলিমের ম*রদেহ বাড়িতে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে তাদের ম*রদেহ দা*ফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, লোক মুখে জেনেছি বিদেশে মৃ*ত্যু হওয়া দুজনের ম*রদেহ দেশে এসেছে, পরিবার তাদের মর*দেহ দা*ফন করেছে।ফরিদপুর জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ষষ্টী পদ রায় বলেন, মৃ*তরা জনশক্তি কার্যালয়ের মাধ্যমে জায়নি বিধায় তাদের বিষয়ে আমাদের অফিসে কোনো রেকর্ড নেই। ফলে তাদের ম*রদেহ দেশে আনার বিষয়েও আমাদের জানা নেই।

ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ম*রদেহ দেশে আসার পর প্রশাসনকে অবহিত করে দা*ফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের ইকামা সংক্রান্ত বিশেষ খবর

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট অর্থাৎ ইকামা নবায়নে জরিমানার বিধান নিয়ে নতুন ঘোষনা দিয়েছেন দেশটির জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ পাসপোর্টস।নতুন ঘোষনা অনুযায়ী, ইকামা এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরেও তিনদিন সময় থাকবে নবায়ন করার। ইকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার তিনদিন পর থেকে জরিমানা বলবত হবে।

এছাড়াও ঘোষনা এসেছে জরিমানার অংকেও। প্রথমবার ইকামা নবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ পার হয়ে গেলে জরিমানা দিতে হবে ৫০০ রিয়াল। এরপরে পুনরায় আবারও অর্থাৎ দ্বীতিয়বারের মতো যদি ইকামা এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, তবে জরিমানার অংক বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার রিয়াল।

তৃতীয়বারের মতো যদি ইকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, তবে কোনভাবেই তা নবায়ন করা যাবে না, এবং সেক্ষেত্রে ইকামা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে প্রবাসীকে।ইকামা নবায়নের নতুন এই জরিমানার বিধান ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, এবং এই মোতাবেক ব্যবস্থাও নেবে সৌদি আরব সরকার।