এক বছরের বাচ্চাকে কেউ এই ভাবে মারে, একে কি বাচ্চা লালন পালন বলে ! (ভিডিও সহ)

এক বছর বাচ্চা। সেই বাচ্চাকে জামা কাপড় পরাচ্ছেন এক মহিলা। আর জামা কাপড় পারনোর সময় ওই মহিলা বাচ্চাটির সঙ্গে যা করেছেন, তা এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়ো দেখে ওই মহিলার উপর রাগে ফেটে পড়ছেন নেটিজেনরা।

এই ঘটনার জেরে ওই মহিলার কঠিন শাস্তির দাবি করছেন সবাই।জামা পরার সময় এক বছরের শিশুকে এ ভাবে পেটানোর ঘটনাটি ঘটেছে মালয়েশিয়াতে। তবে ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই পুলিশ আটক করেছে ওই মহিলাকে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, জামা পরানোর জন্য বাচ্চাটিকে শোয়ালেন ওই মহিলা।তার পর জামা পরানোর পাশাপাশিই চলছে মার। জামা পরাতে পরাতেই বাচ্চাটির পেটে এক ঘুষি মারলেন ওই মহিলা।

মার খেয়ে কেঁদেই চলেছে সেই বাচ্চাটি। কিন্তু মহিলার কোনও বিকার নেই। কান্না থামাতে আরও কয়েক ঘা বসিয়ে দিলেন তিনি।বাচ্চাকে মারের ধরন দেখে রেগে লাল সকলে। নেটিজেনরা বলছেন, পশুকেও এ ভাবে মারে না।

এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে যে ব্যক্তি এই ভিডিয়ো করেছেন তাঁকে নিয়েও। তিনি কেন ওই মহিলাকে নিরস্ত করলেন না সেই প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

ছাদে ওঠায় মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন !!

চুরির অপবাদ দিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেয়ার সময় আর্তনাদ করতে করতে মাটিতে ঢলে পড়েন মোশারফের মমতাময়ী মা খুদেজা খাতুন। বার বার তিনি মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

মানসিক প্রতিবন্ধী মোশারফ হোসেনকে শিকলে বেঁধে রাখা হত। তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তাই ঈদের আগের দিন তাকে মুক্ত করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় ঘুরতে ঘুরতে পাশের এক উচ্চবিত্তের বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে সে। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। চুরির অপবাদ দিয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হিটলার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

তাড়াইল উপজেলার দক্ষিণ শামুকজানি গ্রামের কেন্তু মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন অনেক দিন ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দড়ি জাহাঙ্গীরপুর এলাকায় সাবেক কাস্টম অফিসার মোখলেসুর রহমান খান শাহানের বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে সে। এতেই ঘটে বিপত্তি।

বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে কেয়ারটেকার সাজ্জাদ হাসান হিটলার মোশারফকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওতে দেখা যায়, মারপিটের সময় ওই কিশোর বাঁচার জন্য আকুতি করলেও মন গলছিল না বাড়ির মালিকসহ অন্যদের। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। শুক্রবার সকালে এর প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকার লোকজন।

নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোর মোশারফকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোশারফের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে রাতেই বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে আসামি করে তাড়াইল থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আটক করা হয় অভিযুক্ত সাজ্জাদ হাসান হিটলারকে। তিনি পূর্ব দড়ি জাহাঙ্গিরপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তাড়াইল থানা পুলিশের ওসি মো. মুজিবুর রহমান। সূএঃ জাগোনিউজ

এবার মহাসড়কের পাশে ব্যাগ, ভেতরে নবজাতকের কান্না !

ঢাকার অদূরে গাজীপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার (৫ জুন) রাতে মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ি এলাকার মহাসড়কের পাশে একটি ব্যাগ থেকে শিশুর কান্না শুনতে পায় শফিকুল নামে একজন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোন সন্তানহীন দম্পতির কাছে নবজাতকটিকে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরআগে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বাদশা বাড়ি নামক এলাকায় কাপড়ের তৈরি ব্যাগ থেকে একটি জীবিত নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই এলাকার স্থানীয় সোহরাব গাজী ও তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম জীবিত নবজাতককে উদ্ধার করেছেন বলে জানা যায়।

ঈদের আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (৪ জুন) বাদশা বাড়ি এলাকার রশীদ মিরা বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশের গাছতলা থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে উদ্ধারকারী সোহরাব গাজী জানান, ঘটনার দিন সকাল বেলা খেতে কাজ করতে যাওয়ার সময় তারা গাছের তলায় থাকা একটি লাল রংয়ের ব্যাগের ভেতর বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে পান তিনি। পরে কাছে গিয়ে দেখতে পান ফেলে রাখা বাচ্চাটিকে পিঁপড়ায় জড়িয়ে ধরেছে।

তিনি আরও জানান, পিঁপড়ার কামড়ে নবজাতকটি কান্নাকাটি করছিল। পরে তাকে সেখান থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়।

দুমকি থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

নিয়ম ভেঙে রানির গায়ে হাত দিলেন ট্রাম্প

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের নিয়ম ভেঙে রাণীকে স্পর্শ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩ জুন) বাকিংহাম প্রাসাদে রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পিঠে হালকা চাপড় মারতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। এরপর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

৯৩ বছর বয়সী রানির প্রশংসায় ওই নৈশভোজে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ৭২ বছর বয়সী ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রানির কঠোর পরিশ্রম, আমেরিকা-ব্রিটেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এসব বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। কথা শেষ হতে উঠে দাঁড়ান। তার পরেই রানির পিঠে সেই হালকা চাপড়। এ সময় রানিকে নির্বিকার দেখা গেছে।

ভারতের কলকাতায় দেখা গিয়েছে চাঁদ, আগামীকাল ঈদ ভারতে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেল চাঁদ। আর সেইজন্যই ভারতে ঈদ পালিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। তবে বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়নি এখনো।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আজ ৪ জুন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে বসার কথা থাকলেও এখনো তা শুরু হয়নি। চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪ জেলা কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল ৫ জুন, বুধবার বাংলাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

সলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ছেলের সাইকেলে মায়ের লাশ, এগিয়ে আসেনি গ্রামবাসী

১৭ বছর বয়সী ছেলে সারোজ একা একাই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা তার মাকে বাঁশের পালানে শুইয়ে সাইকেলে করে গ্রাম থেকে দূরে বনের মধ্যে নিয়ে দাফন করেছে।

মৃত্যুর সময় মা জানকি সিনহানিয়ার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। পানি আনতে গিয়ে আচমকা মারা যান তিনি। ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর করপোবহালে বাবার বাড়িতেই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

ঘটনাটি গত জানুয়ারি মাসের। ভারতের ওড়িশ্যা অঙ্গরাজ্যের ছোট এক গ্রামের মাঝখান দিয়ে সাইকেলে করে সারোজ যখন তার মায়ের লাশ নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার মনোযোগ নষ্ট হওয়ার মতো তেমন কিছু ছিল না। একমাত্র জিনিস যেটা তার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল সেটি হচ্ছে, তার নিজের জুতো ভাঙা রাস্তার নুড়ির সঙ্গে বারবার ঘষা খাওয়ার আওয়াজ। সাইকেলের পেছনের সিটে ক’টা বাঁশের পালানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে তার মা জানকি সিনহানিয়ার লাশ শুইয়ে দেয়া হয়েছিল। সে দৃশ্য দেখলে তখন ভাবাটা কঠিন- কোনো একদিন এই সিটে চড়ে ঘুরে বেড়াতেন তিনি।

ইন্ডিয়াটুডের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সারোজ যখন লাশ নিয়ে যাচ্ছিল তখন তার মাথায় ছিল একটি অপরিষ্কার তোয়ালে। সেটি মাথায় নিয়েই কখনো কখনো কারো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল সে। ‘লাশটা কার?’, এমন প্রশ্নের উত্তরে খুব নিচুস্বরে জবাব দিতো- আমার মায়ের।

সারোজ আর তার মায়ের দোষ বলতে একটাই ছিল- তারা নিচু বর্ণের মানুষ। প্রচলিত প্রথা অনুসারে, উচ্চ বর্ণের কেউ নিচু বর্ণের কারো দাফনের কাজে শামিল হওয়া নিষিদ্ধ। আর সে প্রথা মেনে কেউ আসেনি সারোজকে সহায়তা করতে।

তার চিরচেনা প্রতিবেশীরাও সেদিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। ওদিশার করপোবহাল গ্রামের সবার চোখে সারোজ আর তার মা অদৃশ্য হয়ে গেছিল। কেউ আসেনি লাশটিকে একবার সপর্শ করতেও। কেননা, সারোজের পরিবার নিচু জাতের।

সম্প্রতি তার লাশ নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের ভাইরাল হয়েছে। রেডিটে বেশ কয়েকবার শেয়ার হওয়ার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে সমালোচনা।

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে সন্তান প্রসব !

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়ক হয়ে কু‌ড়িগ্রাম যাওয়ার পথিমধ্যে কন্যা সন্তা‌নের জন্ম দিয়েছেন আফরোজা বেগম নামে এক গৃহবধূ।

মঙ্গলবার (৪ জুন) সকাল ১০টার দি‌কে মহাসড়‌কের সেতুর গোলচত্ত্বর এলাকায় গৃহবধূর প্রসব বেদনা শুরু হয়।

প‌রে সড়‌কের উপরই তিনি কন্যা সন্তা‌নের জন্ম‌দেন। বর্তমা‌নে মা মে‌য়ে দুইজনই সুস্থ র‌য়ে‌ছেন।
আফরোজা বেগম কুড়িগ্রাম সদর উপ‌জেলার ৩নং ভোগদাঙ্গা ইউনিয়নের পোরার ভিটা গ্রামের হা‌বিব হো‌সেনের স্ত্রী। তিনি স্ত্রী‌কে নি‌য়ে গাজীপুরে বসবাস করতেন। গাজীপু‌র শহ‌রে কখনও রিকশা, কখনও শ্রমিকের কাজ করতেন সে।

জানা গেছে, হা‌বিব হো‌সেন লোকাল এক‌টি পরিবহনে করে তার গর্ভবতী স্ত্রী‌কে নি‌য়ে কুড়িগ্রামে যাচ্ছিলেন। এরম‌ধ্যেই হঠাৎ করে দীর্ঘ যানজ‌টের ফ‌লে মহাসড়‌কের সেতুর গোলচত্ত্বর এলাকায় প্রসব বেদনা শুরু হয়।

প‌রে সড়‌কের উপরই তার স্ত্রী কন্যা সন্তা‌নের জন্ম‌দেন। খবর পেয়ে ভুঞাপুর থানা স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সের দুই নার্স সেতু এলাকায় এসে শিশু সন্তানসহ মা‌কে চি‌কিৎসা দেন। হা‌বিব তার মে‌য়ের নাম রে‌খে‌ছেন স্বরনী।

হা‌বিব হো‌সেন জানান, গা‌ড়ি‌তে প্রসব বেদনা শুরু হ‌লে তা‌কে ধ‌রে সড়‌কের পা‌শে নামিয়ে রাখা হয়। এ সময় গা‌ড়ির একজন ৯৯৯ নম্ব‌রে ফোন ক‌রেন। প‌রে রাস্তার পাশেই স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী আফ‌রোজা বেগম কন্যা শিশু জন্ম দেন।

এরপর ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থে‌কে নার্সসহ এক‌টি অ্যাম্বুলেন্স এসে নার্সরা স্ত্রী‌কে চিকিৎসা সেবা দেন। মা ও মে‌য়ে দুইজনই সুস্থ রয়েছেন।

ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র নার্স স্বেদ খাতুন ব‌লেন, ‘ঘটনাস্থলে আসার আগেই সড়‌কের ওপরে সন্তান প্রসব হ‌য়ে‌-ছে।

এরপর মা মেয়েকে চেকআপ করা হ‌য়ে‌ছে। পাশাপা‌শি দুইজন‌কে চি‌কিৎসা‌ সেবা দেয়া হ‌য়ে‌ছে। দুইজনই সুস্থ র‌য়ে‌ছেন।

বিজেপি না করায় শিশুকে হত্যা করে মাকে নির্যাতন

সবে কদিন আগেই শেষ হলো ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এরই মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেছেন মোদি। ক্ষমতায় বসেছে বিজেপি। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২ জুন) এমনই এক ঘটনা ঘটল ভারতের অশোকনগরের সেনভাঙা এলাকায়।সেনভাঙায় এক গৃহবধূ বিজেপি না করায় তার দু’মাসের শিশুকে হত্যা এবং তাকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উঠোন ঝাঁড় দেওয়াতে দেরির অজুহাতে মারধোর করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক আক্রোশ রয়েছে ওই গৃহবধূর ভাসুর-ননদদের। অভিযুক্ত পরিবারটি কট্টর বিজেপি। আর কিছুদিন আগেই ওই নারী ও তার স্বামী যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে।

এরই মধ্যে এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। আর অভিযোগের পর পরই অভিযুক্ত ভাশুর সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বাকি অভিযুক্ত শিপ্রা শর্মা, রিনা মণ্ডল, সমাপ্তি গঙ্গোপাধ্যায়, কমলা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারাসত পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘তদন্দ শুরু হয়েছে, একজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছে।’

প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিবাদের জেরে তরুণীর ওপরে বরাবরই নির্যাতন চলত বলে জানতে পারে পুলিশ। এ দিকে, ঘটনার কথা জানাজানি হতেই উত্তেজিত তৃণমূলকর্মী-সমর্থকেরা অশোকনগর থানার সামনে জড়ো হন। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তোলেন।

স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায় বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটে ওই তরুণীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিজেপির মনোনয়নে দাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছিল।

রাজি হননি উনি। নানা সময়ে বিজেপি করার জন্য চাপ দিত। সে কথা শোনেনি ওই তরুণী। সেই রাগেই মারধর। শিশুটিও চোট পেয়ে মারা গেল।’ বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের কথায়, কোনও রাজনৈতিক দল এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটাতে পারে, ভাবাই যায় না।

মারাই গেলেন হোয়াইট হাউসের পাশে নিজ গায়ে আগুন দেওয়া সেই লোকটি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি দপ্তর ও বাসভবন হোয়াইট হাউজের সামনে এক ব্যক্তি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

তবে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা দেয়ার পরও বাঁচানো যায়নি তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি’র এলিপস পার্কে বুধবার বিকেলে দর্শকদের সামনে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

এলিপস পার্ক পুলিশ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মৃত ওই ব্যক্তির নাম অর্নব গুপ্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেটের বেদেসদা এলাকায় থাকতেন। তাঁর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে তিনি দক্ষিণ এশীয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজের শরীরে আগুন লাগানোর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

৫২ একর জমিতে গড়ে ওঠা এলিপস পার্কটি হোয়াইট হাউসের দক্ষিণে অবস্থিত। এর অবস্থান ওয়াশিংটন ডিসি’র কেন্দ্রস্থলে, ন্যাশনাল মলের উত্তরে এবং ওয়াশিংটন স্মৃতিস্তম্ভ’র ঠিক উত্তরে।

আগুন লাগানোর পর দেশটির সিক্রেট সার্ভিস’র মুখপাত্র জেফ্রে অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘খবর পেয়ে মুহূর্তেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ওই ব্যক্তির শরীরের আগুন নিভিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ন্যাশনাল মলের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তিকে এলিপস পার্কের ভেতর দৌড়ে যেতে দেখেন। এরপরই দেখা যায় ওই ব্যক্তির সারা শরীরে আগুন জ্বলছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ওপর একটি ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দাউ দাউ করা আগুনে জ্বলন্ত শরীর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন অর্নব গুপ্ত।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের গেইটের সামনে একটি ইলেকট্রিক স্কুটারে চেপে নিজের জ্যাকেটে আগুন ধরিয়েছিলেন এক ব্যক্তি।

মদিনা শরিফের ইমাম শায়খ আব্দুল কাদিরের ইন্তেকাল

মদিনার মসজিদে নববির ইমাম প্রখ্যাত মুফাসসির শায়খ আব্দুল কারিদ শাইবা আলম-হামদ (১০০) গত সোমবার (২৭ মে) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

মসজিদে নববির এ শতবর্ষী ইমাম ১৯২১ সালে মিসরে জন্ম গ্রহণ করেন। মিসরের বিশ্ববিখ্যাত জামে আল-আজহারে ইসলামি শরিয়া অনুষদে লেখাপড়া করেন। অতঃপর মিসরেই ১০ বছর ইসলামি শরিয়া বিষয়ের ওপর শিক্ষকতা করেন।

শায়খ আব্দুল কাদির শাইবা আল-হামদ সৌদি আরবের মাহাদ বুরাদাহ আল-ইলমিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে তিনি মিসর থেকে সৌদিতে চলে আসেন। অতঃপর রিয়াদে আরবি ভাষা ও শরিয়া কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।

রিয়াদের আরবি ভাষা ও শরিয়া কলেজে শিক্ষকতা করাকালীন সময়ে তিনি মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের রমজানে তিনি মসজিদে নববিতে তাহাজ্জুদ নামাজের ইমামতি করেন।আল্লামা আল-হামদ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মসজিদে নববিতে কুরআনের তাফসিরের ওপর বিশেষ দরস প্রদান করেন।

গত মঙ্গলবার (২৮ মে) আসরের নামাজের পর মরহুমের জানাজা শেষে রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।আল্লাহ তাআলা দাওয়াতে দ্বীনের এ খাদেমকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।