টয়লেটে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতককে দত্তক নিতে শত শত ফোন, কেবিনে পুলিশ মোতায়েন

রাজধানীর শিশু হাসপাতালের টয়লেট থেকে উদ্ধার করা নবজাতকটিকে দত্তক নিতে শত শত ফোন আসছে শেরে বাংলা নগর থানায়।

হাসপাতালে ফুটফুটে মেয়ে শিশুটিকে দেখতে ও দত্তক নিতে ভিড় করছেন শতাধিক মানুষ। নিরাপত্তার জন্য শিশু হাসপাতালের ওই কেবিনের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ওই নবজাতককে হাসপাতালের টয়লেটে দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান এক রোগীর স্বজন। শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩ দিন। উদ্ধারের পর শিশুটিকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজতে তদন্ত করছে পুলিশ। বুধবার (১৫ মে) সকাল পর্যন্ত তার বাবা-মাকে পাওয়া পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল ও আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে শিশুটিকে কে বা কারা গেলে গেছেন সেই রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।

শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম জাগো নিউজকে বলেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত কেউ শিশুটিকে নিজের বলে দাবি করেনি। তবে শিশুটির জন্য রাত থেকে আমার কাছে,

শেরে বাংলা নগর থানার ডিউটি অফিসার এবং ইন্সপেক্টর তদন্তের মোবাইলে শত শত ফোন আসছে। সকাল থেকে আমি নিজেই ১০০’র বেশি ফোন রিসিভ করেছি। সবাই শিশুটিকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্তের কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, রাত থেকেই শিশুটিকে দেখতে ও দত্তক নিতে হাসপাতালে অনেকেই ভিড় করেছেন। এতে শিশুর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা শিশু হাসপাতালে তার কেবিনের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করেছি। চিকিৎসক ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজতে রাতে ডিসি-তেজগাঁও-ডিএমপি ফেসবুক পেইজে ছবিসহ একটি পোস্ট দেওয়া হয়।

এরপর থেকে অনেক ফোন আসছে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য। অনেকে ফেসবুক পোস্টের নিচেই তাদের দত্তক নেয়ার জন্য নাম-ঠিকানা ও সিরিয়াল দিয়ে রাখছেন। আমরা তার বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে শিশু আইনে আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবে পুলিশ সেটা মেনেই কাজ করবে।

নবজাতকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে শিশু হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, শিশুটি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকের বাবা-মাকে খুঁজতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকারের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দেয়া হয়েছে। পোস্টটি অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে। পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

‘মা, আমাকে নিয়ে যাও, তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না আমার’
এই নিষ্পাপ শিশুটিকে শেরে বাংলা নগর থানাধীন শিশু হাসপাতালে পাওয়া গিয়েছে। শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে শিশুটি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই নিষ্পাপ শিশুটি ফিরে পাক তার মা-বাবাকে। মা-বাবার কোল আলোকিত করে বেড়ে উঠুক আসল পরিচয়ে। মা-বাবার কোল ভরে উঠুক সুক্রন্দসী এই নিষ্পাপ শিশুটির কান্না ও হাসিতে।

যদি কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি শিশুটির মা-বাবা/পরিচিত জনকে চিনে থাকেন বা তাদের সম্পর্কে কোন তথ্য জেনে থাকেন, নিচে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো-

ওসি (শেরে বাংলা নগর থানা): ০১৭১৩৩৯৮৩৩৫
এসি (তেজগাঁও জোন): ০১৭১৩৩৭৩১৭৮

মাত্র পাওয়া: আবহাওয়া অফিস থেকে দারুন সুসংবাদ

বাংলাদেশ অভিমুখে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। বলা হচ্ছে, প্রতিবেশী ভারতের কয়েকটি অঞ্চল কাঁপিয়ে আসবে বাংলাদেশে।শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় ফণী ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগ ধারণ করে ওড়িশায় আঘাত হেনেছে।

তবে উপকূল ঘেঁষে থাকায় বাংলাদেশে এসে এর গতিবেগ কমে ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহম্মেদ।

বৃহস্পতিবার রাতে আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

শামসুদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল অথবা দুপুর নাগাদ ফণী ভারতের পুরীর দিকে অবস্থান করতে পারে। সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাতে খুলনার দিকে অবস্থান করতে পারে। যার গতিবেগ থাকবে ৯০ থেকে ১০০ কি মি।

তিনি আরো বলেন, সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না সামুদ্রিক জলোচ্ছাস ফণী। এখন পর্যন্ত এর গতিপথ পাল্টানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই এখন পর্যন্ত সতর্ক সংকেত বাড়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।

ব্রেকিং : ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার শক্তি সঞ্চয় করছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’

ভয়ঙ্কর হতে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ফণী । ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়রটির কেন্দ্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এটা ১৮০ থেকে ২১০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলে উঠে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ফণী কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঠিক হতে পারে কোন এলাকা দিয়ে উপকূলে উঠে আসতে পারে। এটা সামান্য পূর্বদিকে সরে আসলেই বাংলাদেশের সুন্দরবন ও বরিশাল উপকূল দিয়ে উঠে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটা প্রতিনিয়ত গতিপথ পরিবর্তন করে যাচ্ছে। আমেরিকান আবহাওয়া অফিস ফণী মডেল ও এর গতি সম্বন্ধে জানিয়েছে, উপকূলে উঠে আসার সময় ফণীর গতি হতে পারে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার। যা হতে পারে অতি ধ্বংসাত্মক।

আবহাওয়াবিদরা জানান, বাংলাদেশের উপকূল থেকে এর দূরত্ব ধীরে ধীরে কমে আসছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফণী ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি মাত্র ২০ কিলোমিটার এগিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ফণী আরো শক্তিশালী হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ২ (দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

তারেক রহমানের নির্দেশেই শপথ নিতে এসেছি

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিতে সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন বিএনপি থেকে একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ৪ সদস্য। আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

সংসদে যাওয়ার আগে এমপি হারুনুর রশিদের বাসায় তারা মিলিত হন। এরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন।

জানা গেছে, তাদের শপথ পড়াতে প্রস্তুত স্পিকারের কার্যালয়ও। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ পড়াবেন। তবে শপথ নিতে এসে হারুনুর রশীদ জানান, তারেক রহমানের নির্দেশেই শপথ নিতে এসেছি। এর আগে শপথ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান জাহিদ ও গণফোরামের মোকাব্বির খান।

তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জনের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্য হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, বগুড়া-৬ আসনের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান জাহিদ (বহিষ্কৃত)।

যে কারণে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা করবে- মাশরাফি

নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তারই অংশ হিসেবে এবার সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত এই ক্রিকেট তারকা।দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলার সময় মাশরাফি বলেন, আমি একজন সরকারি কর্মকর্তার ফাইল রেডি করে আনছি। আমি নিজেই দুদকে মামলা করব তার নামে।

বুধবার দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধিজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।বিভিন্ন দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ্য করে মাশরাফি বলেন, যারা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় তারাও দোষে দোষী। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে গিয়ে যদি কেউ হুমকি দেয় তাহলে আমাকে জানাবেন। কারও বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পেলে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ইতিমধ্যে নড়াইলের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য আমার হাতে এসেছে। আমি নিজেই ওই কর্মকর্তার নামে দুদকে মামলা করবো’।মাশরাফি বলেন, আমি একা বলে কি হবে, আপনাদেরকেও এসব কাজে সহযোগিতা করতে হবে, তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে সহযোগিতা করতে হবে, তা ছাড়া একার পক্ষে সব সম্ভব না।

নড়াইলের উন্নয়ন অগ্রগতি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমি একটি টিম দিয়ে নড়াইল উন্নয়ন মাস্টার প্লান এর কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা একটি পরিকল্পিত মডেল নড়াইল জেলা গড়তে চাই।

নড়াইল পৌরসভার উন্নয়নের জন্য পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গনরোধে কাজ চলছে বাকি কাজ আগামি একসপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে আশা করি।পরিকল্পিতভাবে নড়াইল শহরের উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা রক্ষায় চিত্রা ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষাখাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধান করতে হবে।

মাশরাফি আরও বলেন, আমার কাছে অনেকেই আসেন ব্যক্তিগত সহযোগিতার জন্য। কেউ আসে চাকুরীর জন্য, আবার কেউ আসে ব্যক্তিগত সহযোগিতার জন্য। আপনারা আমার কাছে আসবেন, আপনার এলাকার উন্নয়নের জন্য।মতবিনিময় শেষে তিনি বলেন, আগামি ৩০ মে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি আপনার সবাই দোয়া করবেন। আমরা যেন দেশের জন্য ভাল কিছু উপহার দিতে পারি। ০২ জুন ওভাল ভেন্যুতে প্রথম বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মতবিনিময় সভায় জেলা পর্যায় সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওকলে প্রেমিকার আত্মহত্যা দেখেও বিয়ে করতে রাজি হল না প্রেমিক মাহিবি !

৩ বছর ধরে ইডেন কলেজের ছাত্রী ঝালকাঠির সায়মা কালাম মেঘার সঙ্গে এবং বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র ঝালকাঠির মাহিবি হাসানের প্রেমের সম্পর্ক।প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও বাধা হয়ে দাঁড়ান মাহিবির মা সেলিনা বেগম।রোববারও (২১ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রেমিকা মেঘা।

নিজের ওড়না সিলিং ফ্যানের সঙ্গে পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে না ফেরার দেশে চলে যান মেঘা। ভিডিওতে প্রেমিকার করুণ মৃত্যু দেখেও মন গলেনি প্রেমিক মাহিবির। প্রেমিকার মৃত্যুর পর সহপাঠী আফরিন জাহান ও মেঘার মা রুবিনা আজাদকে ফোন দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানান মাহিবি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠির বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ আত্মহত্যার নির্মম বর্ণনা দেন মেঘার বাবা-মা।

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- মেঘার চাচা আবুল বাশার। সংবাদ সম্মেলনে মেঘার মা রুবিনা আজাদ, বাবা আবুল কালাম ও চাচাতো ভাই মাইনুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার ৭৪/১ ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের চারতলা বাড়ির চারতলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ইডেন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরমর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মেঘার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের মুসলিম পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তিনি কোনোমতেই মাহিবি-মেঘার সম্পর্ক মেনে নেননি। সেই সঙ্গে তাদের বিয়েতে আপত্তি জানান সেলিনা বেগম। মায়ের বাধায় প্রেমিকা মেঘাকে বিয়ে করতে টালবাহানা শুরু করেন মাহিবি।একাধিকবার বিয়ের দিন নির্ধারণ করে আবার পরিবর্তন করে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন মাহিবি ও তার পরিবার। বিষয়টি নিয়ে প্রেমিক মাহিবির সঙ্গে একাধিকবার বাগবিতণ্ডা হয় প্রেমিকা মেঘার।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই কলাবাগান থানায় মামলা করেন মেঘার চাচা আবুল বাশার। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার মাহিবি হাসানের (২৫) প্ররোচনায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মেঘা।
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার মৃত নফিসুর রহমানের ছেলে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র মাহিবি হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেঘার। ২০১৭ সালে মেঘা ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হয়। কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো মেঘা।

তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে মাহিবি প্রায়ই মেঘার সঙ্গে দেখা করতো। মাস ছয়েক আগে মেঘা এবং মাহিবি বিয়ের ব্যাপারে একমত হয়। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান মাহিবির মা ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা হাসপাতালের নার্স সেলিনা বেগম।শবে বরাতের দুইদিন আগে কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এজন্য মেঘা কিছু কেনাকাটাও করেছিল। কিন্তু মাহিবি ওই দিন কথা দিয়ে বিয়ের জন্য আসেনি। এ নিয়ে মোবাইলে তাদের ঝগড়া হয়।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, রোববার বিকেলে মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মেঘা এবং মাহিবির ইমোতে কথা হয়। ভিডিও কলে কথা বলার সময়ই মেঘা তার প্রেমিক মাহিবিকে বলেছে, যদি বিয়ে না করো তাহলে এখনই আমি আত্মহত্যা করব। পরে মাহিবিকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে মেঘা। মর্মান্তিক এ দৃশ্য দেখেও পাষণ্ড মাহিবি মেঘাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়নি।
মৃত্যুর পর মাহিবি মেঘার মা রুবিনা আজাদকে মোবাইলে মেঘার মৃত্যুর সংবাদ দেয়। মেঘার মা বিষয়টি ঢাকায় মেঘার বান্ধবী আফরিন জাহানকে জানালে কাঁঠালবাগানের বাসায় যায়। তারা বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় মেঘাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেঘাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে মেঘার চাচা আবুল বাশার কলাবাগান থানায় মামলা করেন। মামলার পর কলাবাগান থানা পুলিশের এসআই মো. সেলিম রেজা মেঘার মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।এসআই সেলিম রেজা বলেন, মেঘার চাচা যে মামলা করেছেন সেটির তদন্ত চলছে। মেঘার আত্মহত্যার পেছনে কারও প্ররোচনা থাকলে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি বিআইপি কলোনির পেছনে মাহিবি হাসানের বাড়িতে গেলে দোতলা বাড়ির নিচতলার গেটে তালা লাগানো দেখা যায়।

বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গাজী হায়দার বলেন, আমি আমার দুই বোন নিয়ে নিচতলায় ভাড়া থাকি। বাড়ির মালিক নফিসুর রহমান কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।তার স্ত্রী সেলিনা বেগম এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দোতলায় থাকেন। কয়েকদিন ধরে তারা বাড়িতে নেই। তারা কোথায় চলে গেছেন আমরা জানি না। গত কয়েকদিন ধরে তাদের ঘর তালাবদ্ধ। কোথায় গেছে কাউকে কিছু বলে যায়নি তারা।

প্রতিবেশীরা জানান, বাবা নফিসুর রহমান মারা যাওয়ার পর বখাটে হয়ে যায় ছেলে মাহিবি হাসান। একাধিক মেয়ের সঙ্গে মাহিবির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছ। তার মা এসব দেখলেও বাধা দেন না। তার প্রেমে বলি হলেন ইডেন কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা।
প্রেমিকা মেঘার মৃত্যুর পর ঘরে তালা দিয়ে মা ও বোনকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন মাহিবি।

সুবর্ণচরে ১৪ বছরের ছাত্রীকে নিয়ে ৩ সন্তানদের জনক মসজিদের ঈমাম নিখোঁজ।

নোয়াখালী সুবর্ণচরে পূর্ণিমা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে পেলে পালিয়ে গেলেন ৩ সন্তানদের জনক মসজিদের ঈমাম নুরুল আলম। এব্যাপারে পূর্ণিমার বাবা ফারুকের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, তারা প্রাথমিক ভাবে মেয়ে হারানো গেছে মর্মে একটি সাধরান ডায়রি করেন, এবং নিতি বিস্বস্থ সূত্রে জানতে পেরেছেন, নুর আলম তার মেয়েকে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে ও করেছেন।

বিবাহের উপযুক্ত না হতেই কি ভাবে বিয়ে করলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মেয়ে দেখতে শুনতে বড় হয়ে গেছে, এর চেয়েও ছোট মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। পরে তিনি ফোন কেটে দেন।সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুবর্ণচর উপজেলার ৪ নং চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের হাজী দুদা মিয়া জামে ঈমাম, আল আমিন বাজার মাদ্রাসার শিক্ষক, আন্ডার চর ইউনিয়নের জাকির মিকারের বাড়ীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুর আলম (৩৮) গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতের রাতে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের মোঃ ফারুকের মেয়ে স্থানীয় সুবর্ণচর গার্লস স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্নিমা আক্তার (১৪) কে প্রেমের ফাঁদে পেলে অজানার উদ্দ্যেশ্য পাড়ি জমায়।

সে থেকে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। মেয়ের বাবা মোঃ ফারুক চরজব্বর থানায় এবিষয়ে একটি সাধারন ডায়রী করেন জিডি নংঃ- ৩২৫/ ২০১৯।  নুর আলম হুজুরের বর্তমান স্ত্রী ৩সন্তানের জননী রাহেলা(ছন্ধ নাম) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে সমাজের ঈমাম ছিল, সে এমন কাজ করবে আমি ভাবতেও পারিনে, কিছুদিন যাবত তার এমন কর্মকাণ্ডে বাধাঁ দিলে সে আমাকে প্রায় মারধর করে, এবং এসব বিষয়ে প্রায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো, আমার বাবাও একজন আলেম এবং একটি সমজিদের ঈমাম আমি মান-সম্মানের ভয়ে মুখ খুলিনি। বর্তমানে পূর্ণিমার পরিবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি নুরল আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তিনি আরো বলেন, আমার ৬ বছর বয়সী এক সন্তান মারা গেছে বর্তমানে ৪ বছর বয়সের সিয়াম নামের আরেক সন্তান বড় হচ্ছে এবং ৩ মাসের অনাগত সন্তান আমার পেটে এই অবস্থায় আমি কোথাই যাবো কি করবো বুঝতে পারছিনা।এ ব্যপারে জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ওসি শাহেদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, মেয়ের বাবা একটি জিডি করেছেন, নুরুল আলমকে আসামী করে অভিযোগ করলে আমি দ্রুত আইনী ব্যাবস্থা নিবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, নুরুল আলম এর আগেও একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করেছে, সমজিদের ঈমাম ছিলো তাই আমরা ভালো মনে করে কোন প্রতিবাদ করিনি। নুরুল আলমের পৈত্রিক বাড়ী নোয়াখালী সদর উপজেলার আ-ারচর ইউনিয়নে। সে দির্ঘ বছর ধরে পূর্ব চরজব্বর গ্রামে টিনসেডের বাড়ী ঘর করে থাকে, এবং সে এলাকায় তাবিজ কবজের ব্যবসা করতো। নুরুল আমিনের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিয়ে পাগল রানা ! মাত্র আঠারো পেরোনোর আগেই ৪ বিয়ে করে ফেলেছে !

রানা মন্ডল। বয়স মাত্র সতেরো কি আঠারো হবে। আর এই বয়সেই চার চারটি বিয়ে করে এলাকায় রীতিমতো হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি। তবে এরই মধ্যে তিন স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।এরপর সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ জুলাই স্কুল পড়ুয়া এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন ‘বিয়ে পাগল’ এই রানা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ জালিয়াতি করে বয়স বাড়িয়ে একের পর এক বিয়ে করে চলেছেন এই যুবক।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাশেদ মন্ডলের ছেলে আলোচিত এই রানা।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে রানার গ্রামে তার পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রানা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। বর্তমানে তিনি মেহেরপুরে আছেন।স্থানীয়রা জানান, রানা লেখাপড়ায় বেশি দূর এগুতে পারেনি। রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিক নির্বাহ করে।২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় প্রথম বিয়ে করেন রানা। বিয়ের কয়েক মাস পর তার প্রথম সংসার ভেঙে যায়। এরপর মিরপুর উপজেলার কচুবাড়িয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীও নানা কারণে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তাকে ছেড়ে চলে যান।

এর কয়েক মাস পর ফের দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডিতে রানা তৃতীয় বিয়ে করেন। সে সংসারও টেকেনি। এরপর সর্বশেষ চলতি মাসের ২০ জুলাই ভেড়ামারায় মৌসুমী নামে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করেন রানা।এলাকার মাতব্বর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আলী আসমত জানান, এর আগেও রানার বিয়ে নিয়ে বেশ কয়েকবার বিচার-শালিস হয়েছে। তারপরও এ কাজ চলছেই। তারা কাউকে না জানিয়ে একের পর নাবালক ছেলেকে বিয়ে দিচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি করে এ কাজ করে আসছে রানা ও তার পরিবার।

তিনি আরও জানান, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই একটি জন্ম নিবন্ধন নেন রানা মন্ডল। সেই জন্ম নিবন্ধনে বয়স দেখানো হয়েছে ২১ বছর। তবে বয়স প্রমাণের জন্য কোনো কিছু জমা দেয়া হয়নি ইউনিয়নে।ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার টিপু সুলতান ও সচিবের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের ইউসিডি কর্মী এ জন্মনিবন্ধন রানার নামে ইস্যু করেন। এ জন্মনিবন্ধন সব বিয়েতে ব্যবহার করেছে তার পরিবার।রানার বাবা কৃষি শ্রমিক রাশেদ মন্ডল বলেন, ছেলের জন্ম তারিখ আমার মনে নেই। তবে আমার মেয়ের বয়স বর্তমানে ১১ বছর। মেয়ের থেকে ছেলের বয়স ৮ থেকে ৯ বছর বেশি।গত দেড় বছরে ছেলে চারটি বিয়ে করেছে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম দুই বউ চলে যাওয়ার পর আমি বিয়ে দিতে চাইনি।

তার মায়ের পীড়াপীড়িতে বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের আগে ইউনিয়ন সচিবের মাধ্যমে সনদটি নিয়েছেন বলে তিনি জানান।রানা মন্ডলের মা রেহেনা খাতুন রেনু বলেন, আমার ছেলের বিয়ে আমি দেব, তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়। ছেলে বিয়ে করতে চায় তাই বিয়ে দিয়েছি। এখানে বাইরের লোকের এত মাথা ব্যথা কেন?
রানার এক সময়ের সহপাঠী হৃদয় খান বলেন, রানা ও আমি এক সঙ্গে পড়েছি। আমার এক বছরের বড় সে।আমি মাঝখানে মাদরাসায় ভর্তি হওয়ায় আমার এক বছর গ্যাপ রয়েছে। সেই হিসেবে রানা আমার এক বছরের বড় হতে পারে। আমার বয়স এখন ১৬ বছর চলছে।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম বলেন, আমার সময়ে সনদ দেয়া হয়নি। আগের চেয়ারম্যানের সময় সনদ জালিয়াতি করে কাজটি করেছে রানার পরিবার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এদিকে বয়স না হওয়ায় ছেলেকে একাধিক বিয়ে দেয়ায় রানার বাবা রাশেদ মন্ডলকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ‘বিয়ে পাগল’ রানা মন্ডল।মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল আহমেদ বলেন, ১৭-১৮ বছরের একটি ছেলে চারটি বিয়ে করেছে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জন্মসনদ জালিয়াতি করলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার বাড়ি থেকে ছেলের বয়স ২১ বছরের বেশির কথা বলা হলেও কেন জাতীয় নাগরিক সনদ করেনি সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিন চাকার মোটরসাইকেল নিয়ে আসছে হোন্ডা

সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের মোটরসাইকেল নিয়ে এল জাপানের জনপ্রিয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী সংস্থা হোন্ডা। হোন্ডা নিওউইং মোটরসাইকেলের সামনে দুটি, পিছনে একটি চাকা থাকছে।২০১৬ সালে এই মোটরসাইকেলের পেটেন্ট ফাইল করেছিল জাপানের কোম্পানিটি।

২০১৯ সালের ২০ মার্চ পটেন্ট গৃহীত হয়েছে। এই মোটরসাইকেলে থাকতে পারে একটি ভি-টুইন ইঞ্জিন।
তবে এই মোটরসাইকেলে ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করতে পারে হোন্ডা। কবে এই মোটরসাইকেল তৈরি শুরু হবে তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে পেটেন্ট স্বীকৃতি পাওয়ায় পরে এই মোটরসাইকেল তৈরিতে আর দেরি করবে না জাপানের কোম্পানিটি।

বর্তমানে একটি মাত্র তিন চাকার মোটরসাইকেল রয়েছে বাজারে। এটি ইয়ামাহা নিকেন। এই মোটরসাইকেলে রয়েছে তিনটি চাকা।এই মোটরসাইকেলে শক্তি যোগায় একটি ৮৪৭ সিসির ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনে সর্বোচ্চ ১১.৮ বিএইচপি শক্তি এবং ৮৭.৫ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যাবে।

এবার ধর্ষক সিরাজের স্ত্রীকে নিয়ে পাওয়া গেলো যে ভয়ঙ্কার তথ্য

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা যখন জেলে তখন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার ১৮ লাখ টাকা তুলে উধাও হয়েছেন। বর্তমানে ফেরদৌস আক্তার কোথায় আছেন তা জানেন না আত্মীয়-স্বজন কেউই।নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়।তবে এসব টাকার কিছু অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটি অধ্যক্ষ সিরাজের। রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটি তালাবদ্ধ। ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি ক্রয় করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে।
ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

অধ্যক্ষ সিরাজের ফ্ল্যাটের সামনে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুরের মো. ইব্রাহিম। স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি।
ইব্রাহিম বলেন, ৪ থেকে ৫ দিন আগে ওই বাড়ির লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তবে তারা কোথায় গেছেন-তা আমি জানি না। আমরা আসলে এতো কিছুই জানতাম না। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে তার সম্পর্কে জানতে পারছি। তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত।
ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মার্চ সিরাজের স্ত্রী তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কিভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলো জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা এসব টাকার কিছু প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশে এসব টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার।

পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, ছাত্রদল নেতা নুরুদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই তিনজনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ-দৌলা মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়।

অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশও করে তারা। এ কমিটিকে মদদ দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। তারা দলে টেনে নেয় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকেও।

তারপরও অধ্যক্ষকে মুক্ত করতে পারেনি তারা। এতে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাফিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এমনকি রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার আগের দিন (৫ এপ্রিল) বিকেলে অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীমসহ পাঁচজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছবিও তোলেন।

শাহাদাত হোসেন শামীম রাফি হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি ও হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জোবায়ের আহম্মেদ মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তারা দুইজন এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। নূর হোসেন মামলার আসামি না হলেও তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার মুক্তির দাবিতে ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নুরুদ্দিনকে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় শাহাদাত হোসেন শামীমকে। তারাই রাফির সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের পরিকল্পনায় রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এরই মধ্যে রাফি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে শাহাদাত হোসেনের পরিকল্পনায় রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরদৌস আরা জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে অধ্যক্ষের সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। তারপরই মূলত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের মদদে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।

অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম নিপীড়ক অধ্যক্ষের বিচার করতে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন এবং পৌর কাউন্সিলর মাকুসদ আলম আমাদের আন্দোলন করতে বাধা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমি কাউকে মদদ দেইনি। আমিও চাই যারা অপরাধী তাদের যেন বিচার হয়।

৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।