আলোচিত সম্রাটকে গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী !

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় তথ্য প্রমাণ পেলে যুবলীগ নেতা সম্রাটকেও ধরা হবে বলে জানান তিনি।আজ শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ পাব, তার বিরুদ্ধেই আমরা অ্যাকশনে যাব। কাউকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এটাই- সে জনপ্রতিনিধি হোক বা প্রশাসনের লোক হোক যে-ই অন্যায় কাজ করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা থাকলে যুবলীগ নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করাটা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি।তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যে দল-মতেরই হোক, কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে।’

অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের শনাক্তকরণে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তালিকা পেলে সেটা যে ধরনেরই প্রতিষ্ঠান হোক, তাদের দমন করা হবে।এ সময় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যসহ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলায় সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সৌদিকে সমর্থনের আশ্বাস ইমরান খানের !

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি আরবকে সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সমর্থন দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে দুই দিনের সৌদি সফরে গতকাল শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন। খবরঃ ডন এ সময় দুই দেশের মধ্যকার বহুমুখী ও গভীর সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও সিংহাসনের উত্তরসূরি

মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন ইমরান খান। এ সময় তিনি দেশটির দুটি তেল স্থাপনায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে গত শনিবারে বাকিক ও খরিচ তেলক্ষেত্রে হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গিয়েছিল। এ হামলার জন্য সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্র চিরবৈরী ইরানকে দুষছে। যদিও সব দায় অস্বীকার করছে তেহরান।

এ সময় নিশ্চয়তা দিয়ে ইমরান খান বলেন‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’এ সময় অধিকৃত কাশ্মীরে ভারত সরকারের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট অবৈধভাবে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য হুমকি তৈরি করেছেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার।’

এ সময় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ইস্যুতে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একসঙ্গে কাজ করে যেতে সম্মত হন সৌদি নেতৃবৃন্দরা।

বস্তাভরে দিতেন ঘুষের টাকা, ৭শ’ কোটি টাকা জমা আছে ব্যাংকে !

একটা সময় নারায়ণগঞ্জ যুবদলের নেতা ছিলেন জি কে শামীম। যুবদলের নেতা থাকলেও এক দশক থেকে তিনি যুবলীগ নেতা! সব সম্ভবের দেশে এটি হয়তো স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় তিনি গণপূর্তের প্রতাপশালী ঠিকাদার। বিশেষ জাদুবলে পূর্তের প্রায় সব কাজই তার কব্জায়। তাই ঘুষ কমিশনও দেন দু’হাত ভরে। সাবেক এক মন্ত্রীকে ঘুষ দিতেন রীতিমতো বস্তাভরে। গাড়িতে নিজেই পৌঁছে দিতেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।

শুধু মন্ত্রী নন, এভাবে ভাগ পেতেন প্রভাবশালী আমলা ও প্রকৌশলীরাও। নিজের রাজ্যের অঘোষিত এ ‘রাজা’ শুক্রবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।এদিকে হঠাৎ ক্যাসিনো-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যুবলীগের আন্ডারওয়ার্ল্ড। এই সুনামির তোড়ে ভেসে যাচ্ছেন অনেকে। আত্মগোপনে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। কোনো ‘ক্ষমতাধর লীগই’ টিকতে পারছে না আপসহীন এ অভিযানে। একে একে মুখোশ খুলে যাচ্ছে অনেকের।

সূত্রগুলো বলছে, সবে শুরু। এখনও বহু রথী-মহারথী বাকি আছে। একে একে সবাই ধরা পড়বে। শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারি দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা সন্ত্রাস,দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের কারোরই রেহাই হবে না এ যাত্রায়। এটি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা।সূত্র জানায়, যুবলীগের হর্তাকর্তাদের অনেকেরই এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন।

তবে ইতিমধ্যে বিমানবন্দরসহ সব সীমান্ত পথে এ তালিকার সন্দেহভাজনদের ছবিসহ নাম-ঠিকানা পাঠিয়ে বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় আড়াইশ যুবলীগ নেতার তালিকা ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম তার ৫টি ব্যাংকে ৭শ’ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। কয়েক মাস আগে সেখানেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রেখেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে জি কে শামীম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার নিকেতন ও বাসাবো এলাকায় ৫টি করে ১০টি বহুতল বাড়ি, বাসাবোতে ১ বিঘার একটি বাণিজ্যিক প্লট, পর্যটন শহর বান্দরবানে একটি ৩ তারকা মানের রিসোর্টসহ আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।সূত্র বলছে, ঢাকার যুবলীগ নেতাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকার শীর্ষে আছেন যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, রফিকুল ইসলাম রফিক, শাহে আলম মুরাদ, আরমানুল হক আরমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, কাউন্সিলর সেন্টু, জসিম, এপিএস মিজান ও জনৈক যুবলীগ নেতা নিখিল।

এছাড়া তালিকায় রাজধানীর বিভিন্ন থানার ৫ জন ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এসব অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিলাসী জীবনযাপনের তথ্য সংগ্রহসহ তাদের ক্লোজ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ঠিকাদার গত ১০ বছরে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার কাজ পায়। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৮০ শতাংশ ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে শামীমের প্রতিষ্ঠান যুক্ত।অনেকেই বলেন, এমনভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয় যাতে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়।

অন্যভাবে বললে বলতে হয়, শামীমকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের শর্ত সেভাবে নির্ধারণ করা হয়।সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জি কে বিপিএল ব্ল্যাকলিস্টেড হয়। কারণ রূপপুরের বালিশ কাণ্ডের মাধ্যমে মূলত জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। রূপপুরের গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে বড় অঙ্কের কয়েকটি কাজ জি কে শামীম নিজেই করছেন।

এছাড়া ৫ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে ৩-৪টি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি কাজও দেন। ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের কারণেই মূলত রূপপুরে ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে বালিশ, চাদর ও ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি হয়।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সব ঠিকাদারই জি কে শামীমের নিয়ন্ত্রণে। বড় বড় কাজ তিনি নিজেই করেন। কিছু কাজ পছন্দের অন্য ঠিকাদারদের দিয়ে দেন মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে। তার মাধ্যমে কাজ পেয়ে ব্যাপকভাবে লাভবান সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লি.) ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

শামীমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারি টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কাজটি করতেন মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। অতিরিক্ত মূল্যের একটি বড় অংশ অসৎ কর্মকর্তারা ভাগ করে নিতেন।এছাড়া শামীমকে কাজ পাইয়ে দিলে আলাদা কমিশনও পাওয়া যায়। রূপপুরের বালিশ কাণ্ডে টাকা গেছে মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার পকেটে। এদের মধ্যে অল্প কয়েকজন চিহ্নিত হলেও বেশির ভাগই ধরাছোঁয়ার বাইরে। রহস্যজনক কারণে সুবিধাভোগী প্রভাবশালী আমলাদের নাম নেই।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের জন্য মোট ২১টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৯টি ভবনের কাঠামো ইতিমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। এসব ভবন নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়ার পর টেন্ডার মূল্যের ৫ পার্সেন্ট দিতে হয়েছে নেগোসিয়েশন খরচ বাবদ।এটি নিয়েছেন জি কে শামীম নিজেই। কারণ এই কাজ তিনিই সব কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এনেছেন বলে দাবি করেন।গণপূর্তের সাবেক এক ইঞ্জিনিয়ার নিয়েছেন ১ পার্সেন্ট। সাবেক একজন মন্ত্রীকে দিতে হয়েছে ১ পার্সেন্ট, একজন সচিব নিয়েছেন পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট এবং পূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী নেন আরো পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, ‘মনে হচ্ছে একটি যুগের অবসান হল। ভাই বহু শান্তি পেলাম আজ। ওর যন্ত্রণায় আমাদের চাকরি করাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই উনার টাকার ভাগ কে পাননি, ফোনে সবার নাম বলতে চাই না।’সূত্র বলছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ঘুষের বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগাভাগি হয়। মন্ত্রীর ভাগের ঘুষের টাকা নেন তার ঘনিষ্ঠভাজন হিসাবে পরিচিত জনৈক জিয়া ও নাইম। এছাড়া নিজেকে আড়াল করতে সতর্কতার অংশ হিসেবে চার-পাঁচ হাত ঘুরে এবং কয়েক দফা স্থান বদলিয়ে টাকা নেন সাবেক একজন প্রকৌশলী।

একজন আমলার টাকা নেন জনৈক মুমিতুর রহমান। পূর্ত মন্ত্রণালয়ে জিকে শামীমের প্রভাব-প্রতিপত্তি আঁচ করা যায় রূপপুরে দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই।কারণ ওই প্রতিবেদনে জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানকে শুধু দায়মুক্তি দেয়া হয়নি, তদন্ত কমিটি জি কে শামীমের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করে। প্রতিবেদনে অন্য ঠিকাদারদের দুর্নীতির জন্য দায়ী করা হলেও জি কে শামীমের প্রশংসা করে বলা হয়, ‘জিকে বিপিএল কর্তৃক সরবরাহকৃত মালামাল খুবই ভালো এবং উন্নত মানের।’

সূত্র বলছে, রূপপুরে বালিশ কাণ্ড প্রকাশিত হওয়ার পর জি কে শামীম বিশাল নিরাপত্তা বহর নিয়ে চলাফেরা শুরু করেন। অন্তত ২০ জন গানম্যান পরিবেষ্টিত হয়ে তার চলাফেরা শুরু হয়। বহরের আগে-পিছে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল থাকে।শামীমকে বহনকারী গাড়ির আগে-পিছে দুটি গাড়িতে ভিআইপি প্রটোকলের মতো রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে তার লোকজন। পূর্ত অধিদপ্তরে এভাবে তিনি রাজসিক কায়দায় এসে ঢোকেন প্রতিদিন। তার এমন গাড়িবহর আর অস্ত্রধারী গানম্যান দেখে পূর্ত অধিদপ্তরের অনেকেই শামীমকে সমীহ করে চলেন।

শামীম তার হোন্ডা বাহিনী টেন্ডার ছিনতাইয়ের কাজেও ব্যবহার করেন। বছরখানেক আগেও প্রকাশ্যে বঙ্গ বিল্ডার্সের মালিক লিটনের কাছ থেকে তার লোকজন টেন্ডার ছিনতাই করে। বড় কাজ ছাড়া ছোট কাজের দিকে জি কে শামীমের তেমন আগ্রহ নেই।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১শ’ কোটি টাকার বেশি কাজ হলেই সেখানে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম শোনা যায়।পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীতেও যেসব বড় বড় ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে তার বেশির ভাগই নির্মাণ করছে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বিপিএল।

শামীমের প্রতিষ্ঠান যেসব কাজ করছে তার মধ্যে আছে দুটি ফেইজে নির্মিত জাতীয় রাজস্ব ভবনের ৫শ’ কোটি টাকার কাজ, রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাব সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের ৪৫০ কোটি কাজ, ৪০০ কোটি টাকার পার্বত্য ভবন নির্মাণ, সচিবালয়ের কেবিনেট ভবন নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের সঙ্গে জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট।
মূলত মান্নান খানের আমলে টেন্ডারবাজি করে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। মান্নান খান যুগের অবসান হলেও জি কে শামীমের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং পরবর্তী সময়ে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

জব্দ করা অর্থ বেকারদের কর্মসংস্থানে ব্যয় করার প্রস্তাব রাশেদার !

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক। সেখানে তিনি অভিযান হতে যে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, তার সঠিক বণ্টন নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করে বলেছেন-জানি, প্রস্তাবটি শুনতে খটকা লাগবে, তারপরও একটা বিষয় মাথায় ঘুরছে! এই অভিযানগুলো হতে যে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো লাখো-কোটি বেকার

তরুণ, কৃষক, দিন মজুর সহ যারা জীবন সংগ্রামে দিন কাটাচ্ছে, উদ্যোক্তা হবার শর্তে তাদেরকে বৈধ প্রক্রিয়ায় দিয়ে দেয়া যায় কিনা?
কারণ এই টাকার হকদারতো তারাই! সাধারণের হক মেরে আজ তাদের এই সাম্রাজ্য! আহা মানুষ যদি জানতো, সুখ আসলে কিসে, তাহলে কি এমন করতো?যারা চিন্তা করছেন, কোটি টাকা কত টাকায় হয়, কখনো একসাথে দেখিনি বলে হা হুতাশ করছেন, তারা একবার ভাবেন, কি সুখে আছি আমরা, কি সুন্দর একটা জীবন আমাদের

সাধারণের! ছয়জন বডি গার্ড নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া, খেতে যাওয়া যার প্রয়োজন হয়, সেই লোকের তো আসলে আমার আপনার মতো স্বাধীন কোন জীবন নেই!চাইলেই রিকশায় করে ঘুরে বেড়াতে পারেনা, টিএসসিতে বসে মরিচ চা, মাল্টা চা সহ ১০১ রকমের চা এর স্বাদ নিতে পারেনা জীবনে আসলে তারাই সুখী, যাদের কোন লোভ নেই………।। কি বলেন, কথা ঠিক কিনা!?
লেখিকা: রাশেদা রওনক, সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পত্রিকার ইনফরমেশন যদি আমরা আগে পেতাম, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম’ !

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘পত্রপত্রিকা দেখছেন না? সমস্ত পত্রিকা এখন ক্যাসিনোতে ভরা।এই ক্যাসিনোর মালিকানায় নাকি আমর ‘খামোশ’! এটি মিথ্যা নয়। এই পত্রিকার ইনফরমেশন যদি আমরা আগে পেতাম, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় যুবলীগের এক কর্মী সভায় ‌তি‌নি এ কথা বলেন। এ সময় যুবলীগকে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগ থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, যারা এই কাজ করে তাদের ধরুন। যত বড় নেতাই হোক- আমি করলে আমাকেও ধরুন।‘স্মার্ট ভালো, ওভার স্মার্টের দরকার নেই’- মন্তব্য ক‌রে যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ওয়ার্কার হও, ওভার ওয়ার্কার হইও না; বেশি শিক্ষিত দরকার নাই,

পিএইচডি তাত্ত্বিকের দরকার নাই। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট একজন কাঠুরিয়া, ভারতের প্রেসিডেন্ট একজন চা বিক্রেতা। এত ফটর ফটর কোরো না। রাজনীতি সবার জন্য; শিক্ষিত হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই যারা করে, সেই সবচেয়ে বড় শয়তান।’তিনি বলেন, ‘যুবলীগ করতে হলে ম্যানেজার হতে হবে। ম্যানেজার মানে কী? হাউ টু ম্যানেজ, হাউ টু অ্যাডজাস্ট। আপনি যদি ম্যানেজ করতে না পারেন সংসারেও সুখী হতে পারবে না, জীবনেও না।’

পৃথিবীর সব থেকে বড় মিথ্যা ‘আই লাভ ইউ’ মন্তব্য করে ওমর ফারুক আরও বলেন, কী তাই না?ক্লাস সিক্সে একবার বলছেন, টেনে আবার বলছেন, কলেজে বলছেন, ভার্সিটিতে বলছেন, কতোজনকে বলছেন! এর থেকে বড় মিথ্যা আর কী হতে পারে? আপনি ম্যানেজ করতে না পারলে প্রেম করবেন কিভাবে?’

এ সময় যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতা হইছো তাই না? পতন হইলে বউ ছাড়া কেউ থাকে না। এটা মাথায় রেখো। বউ খারাপ হলেও তার থেকে শ্রেষ্ঠ কেউ নাই।

মৌসুমীকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়াল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি !

অসুস্থ নৃত্যশিল্পী ও অভিনয়শিল্পী মৌসুমীকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়াল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান মৌসুমীর মগবাজারের বাসায় গিয় ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে আসার পর থেকেই সুখে দুঃখে সমিতিকে শিল্পীদের পাশে রাখার চেষ্টা করি।তার ধারাবাহিকতায় মৌসুমীর এই কঠিন সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়ালো। তিনি আমাদের শিল্পী সমিতির অনেক পুরোনো সদস্য। কিছুদিন হয় তার স্তনে টিউমার ধরা পড়ে।’

জায়েদ খান আরও বলেন, ‘ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসাতেও বেশ ছাড় পেয়েছে মৌসুমী। কারণ ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে শিল্পী সমিতির চুক্তি আছে আমাদের।সে চুক্তি মোতাবেক মৌসুমীর চিকিৎসা বাবদ খরচের ৫০ ভাগ ছাড় পেয়েছেন। পরে গত সপ্তাহে মৌসুমী চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কাছে ২০ হাজার টাকা সহযোগিতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।

তার সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি, তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি।’প্রসঙ্গত, মৌসুমী ছাড়াও কিছুদিন আগে চলচ্চিত্রের ফাইট ডিরেক্টর রাজু আহমেদ ও সালামকে আর্থিক সাহায্য দেয় শিল্পী সমিতি।

র‌্যাবের হাতে ধরা খাওয়ার সময় যা বললেন যুবলীগ নেতা জি কে শামীম !

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে শুক্রবার দুপুরে আ’টক করেছে র‌্যাব। এরপর থেকেই একের পর এক বের হচ্ছে তার কুকর্মের আমলনামা।নিজ কার্যালয়ে তার কাছ থেকে নগদ ১০ কোটি টাকা এবং ২০০ কোটি টাকার এফডিআর ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ চেক পায় র‍্যাব। এরপর সাংবাদিকদের ওই কোটি টাকার বান্ডিল দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

তবে সাংবাদিকদের দেখে হতভম্ব হয়ে যান শামীম। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ছবি তুইলেন না, আমাকে বেইজ্জতি কইরেন না। আমার একটা সম্মান আছে। এখানে যা হচ্ছে, আপনারা দেখছেন। কিন্তু আমাকেও আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দিতে হবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না।’তার এ কথা শুনে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা শামীমকে বলেন, ‘আপনি আমাদের সহযোগিতা করেন। আমাদের সহযোগিতার জন্য ও অভিযানের সচ্ছতার জন্য মিডিয়া আমাদের সহযোগিতা করছে।’

অভিযানের পুরো সময়টুকু নিজেকে ক্যামেরা থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন শামীম। কখনও দাঁড়িয়ে, চেয়ারে বসে, হাত দিয়ে মুখ ঢাকছিলেন তিনি। আবার এটা-ওটা খোঁজার জন্য দীর্ঘক্ষণ টেবিলের নিচে মাথা ঢুকিয়েও রাখেন।জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে কথা লোকমুখে শোনা গেলেও সংগঠনটির শিক্ষা সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু বলছেন, শামীম যুবলীগের কেউ নন, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

মাদার তেরেসা স্বর্ণপদকসহ ১৩টি সম্মাননা পেয়েছেন শামীম !

যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-মাদক ও বড় অংকের অর্থসহ গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এবং অন্তত ১৩টি সম্মাননা-পদক পাওয়া গেছে তাঁর কার্যালয়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংগঠন এবং সমাজসেবায় অবদান রাখার বিভিন্ন সময় তাকে এ সম্মাননা-পদক দিয়েছে নানা সংগঠন।

তার পাওয়া পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে- ফিদেল কাস্ত্রো অ্যাওয়ার্ড ২০১৭, মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-২০১৭, অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল-২০১৭, মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০১৮ প্রভৃতি।শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনে জি কে শামীমের কার্যালয়ে র্যাবের অভিযানের পর এই পদক দেখা যায়।

যুবলীগ নেতার অফিসে নগদ ১০ কোটি ও ২০০ কোটি টাকার চেক!

নগদ ১০ কোটি ও দুইশ’ কোটি টাকার চেকসহ যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নিকেতনে শামিমের ব্যবসায়িক কার্যালয় জি কে বিল্ডার্সে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, ম্যাগজিন, স্বর্ণালংকার ও প্রচুর গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ।

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপিতে ভয়াবহ বর্ণনা, যত সম্পর্ক ছিল নয়নের সাথে !

রিফাত হ’ত্যা’কা’ণ্ডের ২০ দিন পর গ্রে’ফতা’র হন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গ্রে’ফ’তারের পরই মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে হন আসামি।পাঁচ দিনের রিমান্ডের দু’দিন শেষ হতেই রিফাত হ’ত্যা’কা’ণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। আদালতে দেয়া মিন্নির সেই জবানবন্দির একটি কপি পেয়েছে

রিফাত হ’ত্যা’কা’ণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির সেই স্বীকারোক্তি হুবহু পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হলো।আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি। ২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করাকালীন ২০১৭ সালে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

ওই সময় রিফাত শরীফ বামনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিল। রিফাত শরীফ আমাকে তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করে দেয় তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। কলেজে যাওয়া আসার পথে নয়ন বন্ড আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জ্বালাতন করতো।আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে আমার বাবা ও ছোট ভাইকে ক্ষতি করার ভয় দেখাতো। বিষয়টি আমি রিফাত শরীফকে জানাইনি।আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ্য করি এবং এ

কারণে রিফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে এবং আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।আমি নয়নের মোবাইল নম্বরে আমার মায়ের মোবাইল নম্বর এবং নয়নের দেয়া নম্বর শেষে ৬১১৩ ও একটি নম্বর শেষে ৪৫ দিয়ে নয়নকে কল,ম্যাসেজ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিতাম। বরগুনা সরকারি কলেজে পড়াকালীন ধীরে ধীরে রিফাত ফরাজী, রিফাত হাওলাদার ও রাব্বি আকনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

প্রেমের সম্পর্কের কারণে নয়ন বন্ডের বাসায় আমার যাতায়াত ছিল। নয়নের বাসায় দুজনের শারীরিক সম্পর্কের কিছু ছবি ও ভিডিও নয়ন গোপনে ধারণ করে। যা আমি প্রথমে জানতাম না।নয়নের বাসায় আমি প্রায়ই যেতাম এবং আমাদের শারী’রিক সম্পর্ক চলতে থাকে। এরপর গত ১৫/১০/১৮ আমি রোজী অ্যান্টির বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল বেলা ব্যাংক কলোনি থেকে নয়ন বন্ড রিকশাযোগে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়।

নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রিফাত ফরাজী এবং আরও ৭/৮ জনকে দেখি। শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে এবং নয়নের বাসায় আমার ও নয়নের বিয়ে হয়। তারপর আমি বাসায় চলে যাই।বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি। তখন নয়ন বলে- ওইটা বালামে ওঠে নাই। বালামে না ওঠলে বিয়ে হয় না।এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারী’রিক সম্পর্ক বজায় রাখি। নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না।

২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস আমি মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে আমি কুয়াকাটা যাই এবং নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি।আমি নয়নের বাসায় আসা যাওয়া কালে জানতে পারি নয়ন মাদকসেবী, ছিনতাই করে এবং তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। এ কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয় এবং রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার পূর্বের ভালোবাসার সম্পর্ক আবার শুরু হয়। গত ২৬ এপ্রিল পারিবারিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়।

রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ শারীরিক সম্পর্ক, মোবাইলে কথা-বার্তা, ম্যাসেজ এবং ফেসবুকের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ-সবই চলতো।বিয়ের পর জানতে পারি রিফাত শরীফও মাদকসেবী। সে মাদকসহ পুলিশের কাছে ধরা খায়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আমি রিফাতসহ আমার বাবার বাসায় থাকতাম। মাঝে মাঝে তাদের বাসায় যেতাম। নয়ন বন্ডের বিষয় নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে কথা কাটাকাটি হতো এবং রিফাত শরীফ আমার গায়ে হাত তুলতো।

গত ২৪ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোর স্বামী, হেলালের ফোন ছিনাইয়া নিয়েছে। পরে রিফাত ফরাজীও আমাকে ফোন দিয়ে বলে, হেলালের মোবাইলটি রিফাতের কাছ থেকে নিয়ে হেলালকে ফেরত দিতে।আমি রিফাত শরীফকে হেলালের ফোন ফেরত দিতে বললে রিফাত শরীফ আমাকে চড় থাপ্পড় মারে এবং তলপেটে লাথি মারে। রাতে মোবাইল ফোনে নয়নকে জানাই এবং কান্না করি।পরদিন ২৫ এপ্রিল আমি কলেজে গিয়ে নয়নের বাসায় যাই। রিফাত শরীফকে একটা শিক্ষা দিতে হবে এ কথা নয়নকে বললে নয়ন বলে,

হেলালের ফোন নিয়ে যে ঘটনা তাতে রিফাত ফরাজী তাকে মারবে। তারপর আমি বাসায় চলে আসি এবং এ বিষয়ে কয়েক বার আমার নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার স্বামী রিফাত শরীফকে মাইর দিয়া শিক্ষা দিতে হবে, এ পরিকল্পনা করি।
২৬ এপ্রিল আমি কলেজে যাই এবং সায়েন্স বিল্ডিং এর পাশের বেঞ্চের উপর রিফাত ফরাজী রাব্বি আকনকে বসা পাই। রিফাত হাওলাদার পাশে দাঁড়ানো ছিল। তখন আমি রিফাত ফরাজীর পাশে বসি এবং রিফাত ফরাজীকে বলি, ওকি ভাইটু খালী হাতে আসছ কেন, এ কথার জবাবে রিফাত হাওলাদার বলে, ওকে মারার জন্য খালি হাত যথেষ্ট।

এরপর রিফাত ফরাজীকে জিজ্ঞাসা করি, নয়ন বন্ড ও রিফাত শরীফ কলেজে এসেছে কীনা? তখন নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দেয়। সে কোথায় জানতে চাইলে নতুন ভবনের দিকে যেতে বলে এবং ওই সময় নয়ন নতুন ভবনের পাশের দেয়াল টপকায়ে ভেতরে আসে।
আমি হেঁটে নতুন ভবনের দিকে যাই এবং নয়নের সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারপিটের বিষয়ে কথা বলি। এরপর রিফাত শরীফ কলেজের ভেতরে আসে এবং আমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য কলেজ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলের কাছে নিয়ে আসে।

কিন্তু আমি মোটরসাইকেলে না উঠে সময় ক্ষেপণ করার জন্য পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসি। রিফাত শরীফ আমার পেছন পেছন ফিরে আসে। তখন রিশান ফরাজী কিছু পোলাপানসহ আসে এবং রিশান ফরাজী জিজ্ঞাসা করে, তুমি আমার বাবা-মাকে গালি দিয়েছো কেন? রিফাত শরীফ বলে, আমি গালি দেই নায়।ওই সময় রিফাত ফরাজী জামার কলার ধরে এবং রিশান ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে। রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়, রিশান ফরাজীসহ রিফাত হাওলাদার এবং আরও অনেকে রিফাত শরীফকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মারধর করতে করতে এবং টেনে হেঁচড়ে ক্যালিক্সের দিকে নিয়ে যায়।

ক্যালিক্সের সামনে তারা রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আমি তখন সবার পেছনে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওই সময় নয়ন বন্ড ক্যালিক্সের সামনে এসে রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। মারপিটের মধ্যেই রিফাত ফরাজী টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার দৌড়ে যায় এবং রিফাত ফরাজী দুটি দা ও টিকটক হৃদয় এবং রিফাত হাওলাদার লাঠি নিয়ে আসে।একটি দা দিয়ে নয়ন বন্ড ও ১টি দা দিয়ে রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে কোপাচ্ছিল। রিশান ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রাখে যাতে রিফাত শরীফ পালাতে না পারে। রিফাত শরীফকে কোপাইতে দেখে আমি নয়ন বন্ডকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। দায়ের কোপের আঘাতে রিফাত শরীফ রক্তাক্ত হয়।

সে রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্ব দিকে হেঁটে যায় এবং আমি রাস্তায় পড়ে থাকা জুতা পরি এবং উপস্থিত একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দিলে আমি রিকশা করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।এরপর আমার বাবাকে ফোন করি। আমার বাবা ও চাচা হাসপাতলে আসে। এরপর রিফাত শরীফকে বরিশাল পাঠানো হয়। আমার কাপড়-চোপড়ের রক্ত লেগে থাকায় আমি বাসায় চলে যাই। পরে আমি জানতে পারি রিফাতের অবস্থা খারাপ। এরপর নয়নকে ফোনে বলি তোমরা ওকে যেভাবে কোপাইছো তাতে তো ও মারা যাবে এবং তুমি আসামি হবা।তারপর ওর অবস্থান জানতে চাই এবং পালাতে বলি। দুপুরের পর খবর পাই রিফাত শরীফ মা’রা গেছে।