নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকায় শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা রোগী ফয়সাল সুস্থ হয়ে

জার্মানিতে লেখাপড়া করা শেখ ফয়সাল হোসেন। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভি’ডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান।

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে কনফারেন্সে শেখ ফয়সাল হোসেন বলেন, আমি জার্মানিতে পড়ালেখা করি, গত ১ মার্চ দেশে আসি পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য। ১০ দিন পর আমার শরীর খুব খারাপ মনে হয়। করোনার লক্ষণ দেখা দিলে আমি নিজে থেকে আইইডিসিআর যাই। সত্যি বলতে আমি প্রথম একটু ভ’য় পেয়েছিলাম। যে এখানে আমি জার্মানির মতো চিকিৎসা সেবা পাবো কি না?

শেষ পর্যন্ত আইইডিসিআর আমাকে যে নির্দেশনা দেয় সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে থাকি। আমার পরিবারের সদস্য এবং আমি যাদের সঙ্গে দেখা করেছি তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখে। চিকিৎসার পর কয়েক দফা টেস্টে পর যখন নেগেটিভ আসে, আমি পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আমার পরিবারের অন্য কারো কোনো সমস্যা হয়নি।

আইইডিসিআর এর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখান থেকে ডাক্তার ফার্সি আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। খোঁজ খবর নিয়েছেন। আমি সত্যি খুশি। যে ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে আমি এজন্য শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমি দেশবাসীকে বলবো ঘরে থাকুন। যতদিন ঘরে থাকতে বলে ঘরে থাকুন। সবাই ঘরে থাকলে এরকম পরিস্থিতি মো’কাবিলা করতে পারবো।

পরে ফয়সালের কাছে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তোমার পরিবারের কারো সমস্যা হয়নি? জবাবে ফয়সাল বলেন, না। এরপর প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নেন ফয়সাল।

যার শরীর থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে করোনা খোঁজ মিলল তার

মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৯৯টি দেশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৭ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছেন ৩৬ হাজার ২২৬ জন মানুষ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এক্ষেত্রে তারা হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন সেই রোগীকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীকে। তারা মনে করেন ‘পেশেন্ট জিরো’ রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা করলে প্রতিরোধের উপায় এবং ভ্যাকসিন বের করা সহজ হবে। অবশেষে মিলেছে সেই পেশেন্ট জিরো রোগী।

ইন্ডিয়া টাইমস জানায়, প্রথম করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে ৬৭ বছর বয়সী এক চীনা মহিলা। নাম ওয়েই গুইশিয়ান। তিনি চীনের উহান শহরের বাজারে চিংড়ি মাছ বিক্রি করতেন।এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ওয়েই গুইশিয়ান গত বছরে ১০ ডিসেম্বর হুনান সি ফুড মার্কেটে চিংড়ি বিক্রির সময় অসুস্থ হয়েছে পরেন। প্রথমে ফ্লুয়ের মতো উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে যান ওয়েই। প্রথমে তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দিনের পর দিন ক্রমশ দুর্বল হতে থাকেন গুইশিয়ান। দিন দুয়েক পরই উহানের ইলেভন্থ হাসপাতালে যান। সেখানেও ধরা পড়েনি এই মারণ-ভাইরাস। ১৬ ডিসেম্বর ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় উহান ইউনিয়ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান গুইশিয়ান। আর সেই হাসপাতালেই তাঁকে বলা হয় যে, শরীরে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে।

এরপরই ওই হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা, যাদের সবার শরীরেই একই ধরনের উপসর্গ। গুইশিয়ানের দেখাদেখি ওই হাসপাতালে ছোটেন হুনান মার্কেটের আরও অনেক মানুষ। এমনকি অনেক ক্রেতাও আক্রান্ত হয়ে পড়েন ওই রোগে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে ওয়েই গুইশিয়ানকে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়। তাঁর শরীরে মেলে COVID-19 ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। সে সময় ডাক্তারদের ধারণা, উহানের ওই সামুদ্রিক খাবার বিক্রির মার্কেট থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

চীনের চিকিৎসকরা মনে করেন, উহানের ওই মার্কেটের টয়লেট ব্যবহার করাতেই তাঁর শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

উহান মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশনের তরফে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন যে ২৭ জন রোগী তাঁদের মধ্যে প্রথমেই ছিলেন ওয়েই গুইশিয়ান।

ভারতে ভয়াবহ হচ্ছে করোনা, একদিনেই শনাক্ত ২৩০

ভারতে ভয়াবহ হচ্ছে করেনা পরিস্থিতি। সোমবার দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৫১ জন। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২।

দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে কেরালা। সেখানে এরিমধ্যে ২০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যটিতে ১৯৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। ওই রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৮। অন্য দিকে কর্ণাটকে ৮৩ জন এবং উত্তরপ্রদেশে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৫ জন।

অন্য দিকে, রোববার রাতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে তিন জন করোনা আক্রান্ত হন। এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যেই রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: somoynews.tv

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ২৯ বাংলাদেশির প্রাণহানী

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সোমবার (৩০ মার্চ) একদিনে ছয় বাংলাদেশিসহ ৫৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০ হাজার। এ নিয়ে দেশটিতে মারা গেলেন ২৯ বাংলাদেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি। এ অবস্থায় নিউইয়র্কে প্রবাসীদের জরুরি চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করেছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিউইয়র্কে পৌঁছেছে নৌবাহিনীর এক হাজার শয্যার ভাসমান হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম অবস্থায় ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে স্থাপন করা হয়েছে আরও একটি হাসপাতাল।

এমন পরিস্থিতিতেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশব্যাপী লকডাউনের পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন।

করোনার সংক্রমণ শুরুর পর সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। এদিন আক্রান্ত ও মারা গেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিও। এ অবস্থায় প্রবাসীদের জরুরি চিকিৎসায় একটি আপদকালীন প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

এরইমধ্যে অন্তত আট বাংলাদেশি চিকিৎসক প্রবাসীদের চিকিৎসায় স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কনস্যুলেটের ওয়েব সাইটে এই চিকিৎসকদের নাম ও ফোন নম্বর পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়।

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এ সংখ্যাটি নেহায়েত কম নয়। সোমবার করোনায় নিউইয়র্কে ও মিশিগানে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিও মারা গেছেন। এরমধ্যে একজন আলোকচিত্র সাংবাদিক।

কাইশ্যা চরিত্রের অভিনেতা করোনা আক্রান্তের ৭ দিন পরই মারা গেলেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জাপানের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা শিমুরা। তার প্রতিভা সংস্থা ইওয়া অফিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে গেল ২০ মার্চ থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর তিনদিন পর করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে বাংলাদেশে কাইশ্যা নামে পরিচিত এই অভিনেতার।

এই ভাইরাসের কারণেই রোববার (২৯ মার্চ) ৭০ বছর বয়সী এই অভিনেতা মারা যান। জাপান টাইমস জানিয়েছে, কেন শিমুরা ২০ মার্চ নিউমোনিয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পরীক্ষার পর ২৩ তারিখ তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। জাপানের বিনোদন জগতের লোকদের মধ্যে তারই প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হন।

শিমুরা তার কাজের জন্য বিশ্বজুড়েই প্রশংসা পেয়েছেন। জাপানি এ অভিনেতা বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলায় তার ডাবিং ভিডিওগুলোও কাইশ্যা নামে পরিচিত হওয়ায় মূল নামে চাইতে কাইশ্যা নামেই তাকেই লোকজন বেশি চেনেন। জীবিত অবস্থায় তিনি বলেছিলেন, তার কমেডিয়ান হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আমেরিকান কমেডিয়ান জেরি লুইস।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে ছুটির সময় বাড়ছে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। এছাড়া সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৯ এপ্রিল বন্ধ দেয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ছুটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার মনে করছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ছুটি ভালো ফল দিয়েছে। গত দুদিন নতুন করে কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

৪ তারিখ আসতে আরও কয়েকদিন বাকি এর মধ্যে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক ছুটি শেষে পরিস্থিতি বুঝে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ সফলভাবে সীমিত রাখা গেছে। ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর যখন জনগণ গ্রাম থেকে ফিরবেন তখন যাতে আবারো করোনা সংক্রমণ না ঘটে, সে বিষয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি হয়তো বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমরা জানি না।’ছুটি বাড়ানো হলে তা ১১ এপ্রিল কিংবা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের আবেদন থাকবে ছুটি আরও কিছু দিন বাড়ানো হোক। এতে আমরা আরও নিশ্চিত হতে পারব, আরও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারব।’এর আগে ২৩ মার্চ সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। গতকাল (২৯ মার্চ) থেকে ২ এপ্রিল পাঁচ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মোট ১০ দিনের ছুটিতে থাকবে সারা দেশ।

সৌদিতে গ্রেপ্তার ৪,করোনা আল্লাহর শাস্তি দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনায় স্থবির পুরো বিশ্ব। করোনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করছেন।এমন অবস্থায় করোনা ভাইরাসকে আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় সৌদি আরবে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরব পুলিশ।দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক মাধ্যমে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে।

সৌদির পাবলিক প্রসিকিউশন আরো জানায়, এক ভিডিও বার্তায় করোনাসংকট নিয়ে বিদ্রূপ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া ব্যক্তিকেও গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ হয়নি। তবে দেশটির সামাজিম মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে জল্পনা চলছে।ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারী খালেদ আল শাহরি। যিনি এক ভিডিও বার্তায় বিপর্যয় এবং মহামারীকে আল্লাহর শাস্তি বলে উল্লেখ করেছেন।এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে গ্রেফতার হওয়া আরেক ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম আল-দুওয়াইশ, যিনি দেশটির একজন ধর্মপ্রচারক।

গত বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।গ্রেফতার হওয়া আরেক ব্যক্তি খালেদ আবদুল্লাহ, তিনি করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি কর টুইটারে পোস্ট করেন বলে অভিযোগ। তবে গ্রেফতার হওয়া চতুর্থ ব্যক্তি সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই নারী রাতে মাস্ক তৈরি দিনে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করছে

সারা দেশের মত পঞ্চগড়েও করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে জেলায় করোনা সচেতনতায় চলছে নানা কর্মসূচি। তবে জেলার আটোয়ারি উপজেলায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কথা চিন্তা করে দিনে ও রাতে নিজ উদ্যোগে নিশাত রহমান নামে নারী তৈরি করছে মাস্ক। রাতে মাস্ক তৈরি করে আর দিনের বেলায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামুল্যে মাস্ক বিতরন করছে। নিশাত রহমান আটোয়ারি উপজেলা লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি। তার এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়েছেন ঐ সংগঠনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান।

সরেজমিনে নিশাত রহমান জানায় প্রতিটি মাস্ক তৈরি করতে সময় লেগেছে ১৫ মিনিট করে। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে এই মাস্কগুলো তৈরি করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারে মাস্কগুলো বিতরণ করেন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি নিশাত রহমান, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মো. মশিউ রহমান, উপদেষ্টা আব্দুল হাই, সংগঠনের সদস্য মিলন, সুমন ও আইরিন প্রমুখ।

আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত রহমান নিজস্ব অর্থায়নে ৫শতাধিক মাস্ক তৈরি করেছে। একই সাথে উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরন করছে নিজ খরচে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে। নিশাত রহমান জানান, সংসার, সন্তানদের সামলিয়ে, নিজের পড়াশোনা শেষ করে রাতে মাস্ক তৈরি শুরু করি। চলে গভীর রাত পর্যন্ত মাস্ক তৈরির কাজ।

সকালে এসব মাস্ক তুলে দেই সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে। মাস্ক পেয়ে খুশী এলাকার মানুষ। প্রাথমিকভাবে ৫শ মাস্ক তৈরি করে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে যতদিন করোনা ভাইরাসের প্রভাব থাকবে ততদিন আমি নিজ উদ্যোগে মাস্ক তৈরি করে বিতরন করবো। জানা যায় সংগঠনটি সারা দেশের মত পঞ্চগড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রচারণা চালায়।

শরীরে করোনা হয়নি শুনে বিরিয়ানি খাওয়ার আবদার কিশোরের

শরীরে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেনি-এমন রিপোর্ট জেনে বিনিয়ানি খাওয়ার আবদার জানালো কিশোর সুমন। তবে চিকিৎসকরা তার সব আবদার রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলে অতি আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিশোরের শরীরের নমুনায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে।রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে আইইডিসিআর থেকে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে এ রিপোর্ট পৌঁছায়। পরে তা পৌঁছে দেয়া হয় এ হাসপাতালে। এতে স্বস্তি ফিরেছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও রোগীদের মধ্যে।এর আগে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে শহরে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত ভাসমান অবস্থায় ঘোরাফেরা করা এ কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, করোনাভাইরাস সন্দেহে যে কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল-তার শরীরের নমুনার পরীক্ষা রিপোর্ট দিয়েছে আইইডিসিআর। এতে করোনা নেগেটিভ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে এখন ১৩৭ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এছাড়া ১০৫ জনের ১৪ দিন শেষ হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, করোনাভাইস সন্দেহে ভর্তি হওয়া রোগীর শরীরের নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায়- স্বস্তি ফিরেছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও রোগীদের মধ্যে।

কারণ এ নিয়ে গত দু’দিন হাসপাতালে আসা রোগীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করেছিল। তারপরও আমরা ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। ডা. রুবেল আরও জানান, কিশোরের শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। জ্বর, সর্দি ও কাশি কমে গেছে। stay home stay safeখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদরের আবুল হোসেনের ছেলে সুমন মিয়া (১৬) রাজধানীর সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে বোতলজাত পানি বিক্রি করতো। গত ১৯ মার্চ সেখান থেকে অসুস্থতা নিয়ে লঞ্চযোগে চাঁদপুরে আসে।

এখানে কোথাও কোনো আশ্রয় না পাওয়ায় গত ৯ দিন জ্বর সর্দি ও কাশি নিয়ে শহরে ঘুরে বেড়ায় সে। পরে গত শুক্রবার স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর চোখে পড়ে সুমন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন কিশোরটি করোনাভাইসে আক্রান্ত। অন্যদিকে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন সুমন নামে এ কিশোরের কাছে পৌঁছে যায় তার সুস্থতার সংবাদ। এ সময় অতি আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়ে। চিকিৎসকদের কাছে বিরিয়ানি খাওয়ার অব্দারও করে সে। এতে তার সব আব্দার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করলেন মারুফ

নিউইয়র্কে অবস্থানরত চলচ্চিত্র তারকা কাজী মারুফ জানিয়েছেন তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। তার স্ত্রী রাইসাও সুস্থ আছেন।শনিবার রাতে মারুফের বাবা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ জানান, মারুফ এবং তার স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার বরাতে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মারুফের করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফ বলেন, গতকাল নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিজের জ্বর হওয়ায় রাইসা ভীত হয়ে পড়ে। এই খবর সে আমার শাশুড়িকে জানায়। আমার শাশুড়ির কাছ থেকে বাবা (কাজী হায়াত) খবরটা জেনেই হয়তো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

মারুফ বলেন, আমার স্ত্রীর জ্বর হয়েছে তবে তা কভিড-১৯ না। আর আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি।

নিউইয়র্কের রিচমন্ড হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকা মারুফ জানান, জ্বরের কারণে সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে আইসোলেশনে আছেন রাইসা।

তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে সন্তানদের স্কুল বন্ধ। বড় ধরনের প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না তাঁরা কেউ।

এদিকে কাজী হায়াতের সহকারী পরিচালক সর্দার মামুন সময় নিউজকে জানান, মারুফ এবং তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হননি। মারুফের স্ত্রীর গেল কয়েকদিন থেকে ঠাণ্ডা জ্বর। এই কারণে দুই বাচ্চা ও স্বামীর কথা চিন্তা করে ডুপ্লেক্স বাড়ির দোতলায় স্ত্রী ও নিচে বাচ্চাদের নিয়ে মারুফ থাকছেন।

তিনি জানান, রাইসার জ্বর হলেও করোনা কিনা তা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। তবে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে।