আরব আমিরাতে কর্মচারীদের ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুপুরে কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা !

আজ বৃহস্পতিবার আরব আমিরাত সকল কর্মকর্তাদের গ্রীষ্মের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক এবং অন্যান্য অফিসের কর্মীদের সূর্যের রোদের কাজ থেকে নিষিদ্ধ করা হবে।

হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমআইরিটিজেশন মন্ত্রণালয় জানায়, খোলা জায়গাগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ 15 জুন থেকে 15 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২:৩০ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত সরাসরি সূর্যালোতে কাজ চালানো নিষিদ্ধ।মন্ত্রণালয় টুইট করেছে, ” খোলা জায়গাগুলিতে মধ্যাহ্নভোজের সময় এবং সরাসরি সূর্যালোকের অধীনে 15 জুন থেকে 15 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত 12.30 টা থেকে বিকাল 3 টা পর্যন্ত কাজ চালানো নিষিদ্ধ।”

যদি শ্রমিকরা তার থেকে বেশি সময় কাজ করে তবে তাদের অনেক বেশি মজুরি ধার্য্য করা উচিত।শ্রম সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ফেডারেল আইন অনুসারে, “যদি কাজের পরিবেশের জন্য কর্মীদের নিয়মিত কাজের সময়গুলির চেয়ে বেশি সময় কাজ করানো প্রয়োজন হয়, তাহলে কর্মীকে সাধারণত ২৫ শতাংশেরও কম সময়ে বা ৪ ভাগের এক ভাগ সময় কম কাজ করিয়ে পুরো কাজের ঘন্টার সমান মজুরি দিতে হবে।

যদি শ্রমিকদের বিরতির সময় কাজ করা হয় তাহলে প্রতি ব্যক্তির জন্য জরিমানা দিতে হবে 5000 দিরহাম , কাজের ভিত্তির উপর বিচার করে ডিক্রি লঙ্ঘনের জন্য Dh50,000 পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতবে বাংলাদেশ; জানিয়ে দিলো উট শাহীন

নিউজিল্যান্ড ম্যাচটিই মুশফিকের জন্য ভাল যায়নি। সাকিবের সঙ্গে সচ্ছন্দেই ব্যাটিং করছিলেন তিনি। কিন্তু রান আউট হয়ে তাঁর আরেকটি ভাল ইনিংসের সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশের ব্যাটিংও চলে যায় ব্যাকফুটে।

মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং সামর্থে মুগ্ধ ক্রিকেট অনুসারীও প্রায়ই সমালোচনা করেন তাঁর কিপিং সামর্থের। আবার তিনি যে একেবারেই অদক্ষ উইকেটের পেছনে, সেটিও বলা যাচ্ছে না। নিউজিল্যান্ড ম্যাচেই তো দারুণ দু’টি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি।

২৪৪ রানের স্বল্প পুঁজি নিয়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তুমুল লড়াই করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এই ম্যাচে দিন শেষে কিউইরা জয়ের হাসি হাসলেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল টাইগাররা। ২ উইকেটের জয়ই প্রত্যক্ষ প্রমাণ।

দারুণ রোমাঞ্চকর এ ম্যাচের পর প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে মাশরাফি বাহিনী। জয় না পেলেও লড়াকু মানসিকতার জন্য তাদের প্রশংসায় ভেজাচ্ছেন ক্রিকেট বিশ্বের রথী-মহারথীরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও (আইসিসি) এ টানটান উত্তেজনাকর ম্যাচ নিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইট করেছে।

একে স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আইসিসি লিখেছে, স্নায়ুক্ষয়ী এ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লড়াই করে গিয়েছে।

তবে যেভাবেই হোক নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে জয় পেয়েছে। জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আগামী শনিবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ইংলিশদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। স্বাগতিকদের হারিয়ে তারা এখন ফ্রন্টফুটে ফের আসতে পারেন কি না-তাই দেখার।

এদিকে অধিনায়ক উইলিয়ামসনের মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের।

তিনি বলেন, ‘আমরা দারুণ ফিল্ডিং করেছি, প্রথম ইনিংস দুর্দান্ত ছিল। জিততে পেরে দারুণ হল। টুর্নামেন্টে আমাদের দারুণ এক অভিজ্ঞতা হল।’

এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভবিষ্যৎবাণী করছে সেই রাশিয়ান বিশ্বকাপের সেই উট।আগামী (৮ জুন) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ৩য় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ আর সেই ম্যাচে জয়ী হবে বাংলাদেশ। এমনটাই ভবিষ্যৎবাণী করেছে বলে জানা গেছে।

ক্ষমা চাইলেন পাইলট ফজল মাহমুদ

বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে সেদেশের ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়।

আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

ঘটনার পর রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তার পাসপোর্টটি কাতারে পাঠানো হয়।সেইসঙ্গে ফজল মাহমুদকে ভিভিআইপি ফ্লাইট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।তার পরিবর্তে পাঠানো হয়েছে ক্যাপ্টেন আমিনুলকে।

এদিকে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে ক্ষমা চেয়েছেন পাইলট ফজল মাহমুদ।

শুক্রবার দুপুরের দিকে কাতারের দোহার ক্রাউন প্লাজা হোটেল থেকে টেলিফোনে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টলকে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট করতে আসার সময় এভাবে পাসপোর্ট রেখে আসা অনিচ্ছাকৃত হলেও এই দায় আমার নিজের। আমি আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ভবিষ্যতে এই ঘটনা আমার জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

বিমানের নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ফজল মাহমুদ বলেন, আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে বিবেচনায় নিয়ে আমাকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে বহাল রাখতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিজেকে শতভাগ সুস্থ ও স্বাভাবিক দাবি করে তিনি বলেন, ত্রিশ বছর বিমানে চাকরি করছি, প্রতিনিয়ত ভিভিআইপি ফ্লাইট করেছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবেও আমাকে চেনেন। কোনোদিন ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করিনি।

তিনি বলেন, আমি যখন দেখলাম আমার সঙ্গে পাসপোর্টটি নেই, সঙ্গে সঙ্গে আমি ইমিগ্রেশনে না গিয়ে ট্রানজিট পয়েন্টের অরিস এয়ারপোর্ট হোটেলে গিয়ে উঠি। গতরাত (বৃহস্পতিবার)

সোয়া এগারোটার দিকে বিমানের স্টেশন ম্যানেজার ইলিয়াসের কাছ থেকে পাসপোর্ট গ্রহণের পর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে চলে আসি। ঘটনা এইটুকুই। অথচ প্রকৃত ঘটনা না জেনে আমার দেশের মিডিয়া কাল্পনিক কথাবার্তা প্রচার করে যাচ্ছে। আমি স্বাভাবিক আছি।

তিনি আরও বলেন, ভুলবশত পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকলে ইমিগ্রেশন কোনো ক্রুকে আটক করা হয় না। বরং তখন পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্টস নিয়ে আসার জন্য বলা হয়।

আমাকেও তাই বলতো। আমি পাসপোর্ট না থাকায় ইমিগ্রেশনে না গিয়ে হোটেলে চলে যাই।

জান্নাতুল বাকির ইতিহাস !

জান্নাতুল বাকি সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত একটি কবরস্থান। এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। পূর্বে এখানে কবরের উপর স্থাপনা ছিল। পরবর্তীতে সৌদি আরব সরকার তা ধ্বংস করে দেয়। এই কবরস্থানটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মক্কা মুকাররমা’-এর কবরস্থান হলো, জান্নাতুল মুআল্লা। আর মদিনা মুনাওয়ারা’-এর কবরস্থান হলো-জান্নাতুল বাকি। এর মূল নাম হলো- ‘বাকিউল গারকাদ’। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় থাকাবস্থায় হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যু হয়।

সাহাবায়ে কেরাম তখন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, তাকে কোথায় দাফন করা হবে? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন,আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, তাকে ‘বাকিউল গারকাদ’য় দাফন করা হবে। (মুসতাদরাকে হাকিম, খ.১১ পৃ.১৯৩)। এভাবেই এ জায়গা কবরস্থানের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়ে যায়। এবং এখানে সর্বপ্রথম (হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র দুধভাই) হযরত উসমান ইবনে মযঊন (রা.)-কে দাফন করা হয়।

তারপর কবরস্থান তিনদিকেই প্রশস্ত হতে থাকে। আর আজ তো তা বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। জান্নাতুল বাকি মসজিদে নববীর পূর্বদিকে অবস্থিত। প্রথমদিকে মদজিদে নববী আর বাকি মাঝখানে ‘হারতুত দাগওয়াত’ নামে একটি মহল্লা আবাদ ছিলো।যেখনে মদজিদে নববীর খাদেমরা তাদের বংশধর নিয়ে বসবাস করতেন। ১৪০৫ হিজরীতে মসজিদে নববী সংস্কারের সময় এই মহল্লাকে অন্য এক জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়। এখন এই জায়গা মসজিদে নববীর বারান্দা হিসেবেই ব্যবহার হয়। এবং এটার শেষ প্রান্তেই মসজিদে নববীর চার দেয়াল।

তারপর ‘আবু যর’ নামে একটা সড়ক। তারপর যথেষ্ট উচ্চতার পর জান্নাতুল বাকি। কবরস্থানের চতুর্দিকে একটি উঁচু প্রাচীর। পশ্চিম দিকে একটি বড় গেইট। কবরস্থানে যাওয়ার জন্য একটি প্রশস্ত সিঁড়ি। ফজরের পরে এবং আসরের পরে কবরস্থান সবার জিয়ারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বাহিরে পুলিশের লোকজন অবস্থান করে।

ভেতরেও শক্তভাবে নজরদারি করা হয়, কোনোপ্রকার বেদাতি কাজ শুরু করলে, তা শক্তহাতে দমন করা হয়। মৃতদের দাফন করার জন্য স্বয়ং আল্লাহ পাক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ দিচ্ছেন জান্নাতুল বাকির ফযিলত বোঝার জন্য এতটুকু তথ্যই যথেষ্ট। সর্বপ্রথম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলালাইহি ওয়া সাল্লাম তার দুধ ভাইকে দাফন করেন।

তারপর তাঁর চাচি- হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ (হযরত আলী (রা.)-এর আম্মা) তারপর হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ছেলে হযরত ইবরাহিম (রা.)-কে এখানে দাফন করা হয়।তাছাড়াও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র তিন মেয়ে- হযরত রুকাইয়া (রা.), হযরত যয়নাব (রা.) এবং হযরত উম্মে কলসুম (রা.)-কে এখানে সমাহিত করা হয়।

এই তিন মেয়েই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এর সামান্য সামনে উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) এবং উম্মুল মুমিনিন হযরত মায়মূনা (রা.) ছাড়া বাকি সকল উম্মুল মুমিনিন’র কবর মোবারক। হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.) -এর ইন্তেকাল হয় মক্কায়। তাই তাকে জান্নাতুল মুআল্লায় দাফন করা হয়।

উম্মুল মুমিনিন হযরত মায়মূনা (রা.)-এর ইন্তেকাল মক্কা থেকে ১০ মাইল দূরে “মাকামে সরফে’ হয়। সারাফ মদিনা দিকে আসতে যে সড়ক পাওয়া যায়, এর পাশেই।এটা আশ্চর্যজনক যে, হযরত মায়মূনা (রা.)-এর বিবাহও এই জায়গায় হয়। এবং মৃত্যুও এই জায়গায়। এবং এখনেই তার মাকবারা। উম্মাহাতুল মুমিনিন’র মধ্য থেকে শুধু উম্মুল মুমিনিন হযরত যয়নাব বিনিতে খুযাইমা রা.-এর মৃত্যু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’এর জীবদ্দশায় ঘটে। এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাকে দাফন করেন।

বাকি উম্মাহাতুল মুমিনিনরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র বিদায়ের পর মৃর্ত্যুবরণ করেন। এবং তাদের সকলকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।যদি সামান্য বামদিকে যান, তাহলে ছোট একটি অংশ নজরে আসবে, এখানে হযরত আলী (রা.)-এর ভাই হযরত আকিল এবং তার ভাতিজে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তৈয়্যার (রা.)’ এর কবর। এর বরাবর একটি শারী। এবং শুরতেই হযরত নাফে রা. এবং হযরত ইমাম মালিক রহ.-এর কবর। এর সোজা বরাবর সামনে বেড়ে আরো কিছু কদম পরে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সাহেবজাদা হযরত ইবিরাহিম (রা.) এর কবর।

এবং এর কিছুটা দূরে হযরত ওসমান (রা.)-এর কবর। এবং এর বিপরীত দিকে হযরত হালিমা সা’দিয়া (রা.) এর কবর। এর মধ্যখানে আরেকটি বেড়া রয়েছে যে পাশটায় শুহাদাদের দাফন করা হয়েছে।দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ডান দিকে দেয়ালের বিলকুল নিচে ইসমাঈল ইবনে জাফরের মাযার। এবং বামদিকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র ফুফুর কবর। এই পুরো কবরস্থানেই বড় বড় হাস্তিদের কবর মোবারক। এখন আর সেখানে দাফন হয় না।

হ্যা অবশ্যই সৌদি সরকার এখন এটাকে উত্তর-পশ্চিম দিকে যথেষ্ট প্রশস্ত করছে। এখানে সাধারণ সব মুসলমানদের দাফন করা হয়। এর বেশিরভাগই হাজি। মূলত তারাই তো সৌভাগ্যবান, যারা মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। সৌদি সরকার দু’বার বাকিকে সংস্কার করেছে। প্রথম সংস্কার করে শাহ ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজের আমলে।এসময় ‘বাকিউল গামাত’ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত একটি সড়ককে বাকির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। উত্তর দিক থেকেও এক অংশকে বাকির সঙ্গে প্রশস্ততায় যুক্ত করা হয়। সর্বমোট ছয় হাজার মিটার সংযোগ করা হয়। তাছাড়া বাকির ভেতরে পাকা রাস্তা বানানো হয়। যাতেকরে বৃষ্টির মৌসুমে দর্শনার্থী এবং দাফন করতে আসা লোকদের কোনধরনের কষ্ট না হয়।

দ্বিতীয় দফা সংস্কার হয়, শাহ ফাহাদ’র আমলে। এবং সময় আশপাশের সকল মহল্লা, বাজার, সড়ক উচ্ছেদ করে জান্নাতুল বাকিতে সংযুক্ত করে জান্নাতুল বাকিকে প্রশস্ত করা হয়। এখন জান্নাতুল বাকির চতুর্দিকে সতেরশো চব্বিশ মিটার লম্বা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এতে মরমর পাথর লাগানো হয়েছে। এবং দেয়ালে কালো রঙ্গের লোহার জালি লাগানো হয়েছে। জান্নাতুল বাকির একপাশে মৃতের গোসল দেয়া এবং কাফন পরানোরও ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।জান্নাতুল বাকি’র ফযিলত সম্পর্কীয় হাদিস অনেক। এই কবরস্থানের সবচেয়ে বড় ফযিলত হলো- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রিবেলা ঘুম থেকে উঠে এখানে চলে আসতেন।

এবং এই কবরস্থান’য় শায়িত লোকদের মাগফিরাত’র জন্য দোআ করতেন। হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত লম্বা একটি হাদিসে একটি ঘটনা হলো-‘একদিন রাসুল (সা.) (বণ্টনানুযায়ী আমার নির্ধারিত দিনে) পাশে ছিলেন। কিছুক্ষণ থাকার পর যখন দেখলেন আমার চোখের পাতা বুজে গেছে। তিনি আস্তে আস্তে উঠলেন এবং সাবধানতার সঙ্গে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে গেলেন। তারপর আবার শান্তশিষ্টভাবে দরজা বন্ধ করে দিলেন। আমি উঠে কাপড় পরিবর্তন করলাম। এবং চাদর গায়ে দিয়ে তার পিছু পিছু চলতে শুরু করলাম। তিনি জান্নাতুল বাকিতে প্রবেশ করে একটি জায়গায় দাঁড়ালেন। প্রায় অনেকক্ষণ যাবত তিনি সেখানে দাঁড়িয়েই থাকলেন।

তিনবার হাত উঠিয়ে দু’আ করলেন। তারপর মুখ ঘুরালেন। আমিও মুখ ফিরালাম এবং খুব দ্রুত গতিতে বরং বলা যায়, দৌঁড়ে দৌঁড়ে এসে ঘরে প্রবেশ করলাম। তারপর ঠিকঠাকভাবে আগের মতো আস্তে করে শুয়ে পড়লাম। আমি ঘরে পৌঁছুতে না পৌঁছতে দেখি, তিনিও ঘরে পৌঁছে গেছেন। এসে বলতে লাগলেন, আয়েশা! তোমার কি হলো?তোমার শ্বাস যে ফুপে উঠছে। বললাম, না কিছুই না। বললেন, নিজে বলে দাও, নয়তো আমার সুক্ষ্ম সংবাদদাতা (আল্লাহ) আমায় সব বলে দেবেন। বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক! ঘটনা হলো, এই…। বললেন, আচ্ছা! ওই ছাঁয়া তাহলে তোমার ছিলো?

যেটা আমি ওখানে দেখছিলাম। বললাম, জি হ্যা! বললেন, তোমার সংশয় ছিলো, আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার উপর জুলুম করবেন। বললাম, লোক যতোই লুকোচুরি করুক না ক্যান। আল্লাহ তো জেনেই ফেলেন।তারপর তিনি আমাকে বললেন, কথা হলো, হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমার কাছে আসছিলেন। তিনি আমাকে আস্তে আস্তে ডাকছিলেন, যাতে তুমি বুঝতে না পারো। তিনি ভেতরে আসতে পারছিলেন না, কেননা, তখন তোমার কাপড় এলোমেলো ছিলো। আমিও ভাবলাম তুমি শুয়ে আছো। এজন্য আমি তোমাকে আর জাগানোও সমীচীন মনে করিনি।

আমার এটাও ভয় ছিলো, তুমি একা এখানে ভয় পাবে। জিবরাইল আলাইহিস সালাম, আমাকে বলতে লাগলেন, আপনার রব আপনাকে হুকুম করছেন, আপনি (জান্নাতুল) বাকিবাসীদের কাছে যাবেন। এবং তাদের জন্য মাগফিরাত’র দু’আ করবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-৯৭৩) হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার বণ্টিত নির্ধারিত দিন আমার কাছে থাকাবস্থায় রাতের প্রায় শেষাংশে উঠে বাকিতে চলে যেতেন। এবং বলতেন-

‘হে মুমিন শহরবাসীরা! তোমাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। কালই তোমরা তোমাদের প্রতিশ্রুত বস্তু পাচ্ছো। তোমরা (কিয়ামতের জন্য) বিলম্ব করছ। ইনশাআল্লাহ! আমরাও অচিরেই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছি। হে আল্লাহ! কাকিবাসীকে মাফ করে দাও।’

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির জমিন চিড় ধরবে, সে ব্যক্তি আমি। তারপর আবু বকর (রা.), তারপর ওমর (রা.), তারপর আহলে বাকি। আমি আহলে বাকি’র পাশে আসবো। তারা আমার সঙ্গে একত্র হবে।

তারপর আমি মক্কাবাসীর অপেক্ষা করবো। তারা মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি জায়গায় এসে আমার সঙ্গে মিলিত হবে। (সুনানে তিরিমযি, হাদিস নং-৩৬২৫; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস নং-৩৬৯১)

হযরত উম্মে কায়েস বিনতে মুহসিন হতে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘ কিয়ামতের দিন সত্তরহাজার লোক কবর থেকে এমনভাবে উঠবে যে, তাদের চেহারা চতুর্দশ রাত্রির পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় চমকাতে থাকবে। এবং এই সকল লোক কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস নং-৭০৩৫)

লেখক : নাজমুল ইসলাম কাসিমী

প্রবাসীকে খুঁজে হারানো লাগেজ ফিরিয়ে দিল পুলিশ !!

পরিবারের সঙ্গে সুদুর সিঙ্গাপুর থেকে ঈদ করতে বরিশালে যাচ্ছিলেন মো. ইবরাহিম হোসাইন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী চাপে সদরঘাট থেকে হারিয়ে ফেলেন মূল্যবান তিনটি লাগেজ।

যাতে আত্মীয় স্বজনদের জন্য নানা সামগ্রী ও পাসপোর্টসহ নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিল। এগুলো আর ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে লঞ্চযোগে বরিশাল চলে যান এই প্রবাসী।কিন্তু সদরঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চেষ্টায় লাগেজগুলো উদ্ধার হয়। এরপর নানাভাবে চেষ্টায় সন্ধান পাওয়া যায় প্রকৃত মালিক ইবরাহিমের। মঙ্গলবার দুপুরে তার ভাইয়ের কাছে লাগেজগুলো হস্তান্তর করে বিষাদ হতে যাওয়া ঈদে আনন্দ ফিরিয়ে আনল পুলিশ।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের এডিসি তাপস কুমার দাস ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিশ্চিত হারানো লাগেজ পুলিশের চেষ্টায় ফিরে পেয়ে খুশি ইবরাহিম হোসাইন। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যদের প্রতি।

জানা গেছে, সোমবার সকালে ঢাকায় নেমে সদরঘাট থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন সিঙ্গাপুর ফেরত মো. ইবরাহিম হোসাইন। ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভিড় ছিল। ঘাটে পৌঁছার পর কুলির কাছে লাগেজ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু যাত্রীদের ভিড়ে হারিয়ে যায় কুলি।

পরিস্থিতি খারাপ দেখে লাগেজের চিন্তা বাদ দিয়ে পরিবারকে নিরাপদে লঞ্চে নিয়ে ওঠেন ইবরাহিম। ভীষণ মন খারাপ নিয়ে চলে যান বরিশালে। লাগেজ পাওয়ার আশা পুরোপুরি ছেড়ে দেন।

পরে ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তিনটি লাগেজসহ কুলিকে দেখতে পায়। একপর্যায়ে কুলি জানায় সে লাগেজের মালিককে খুঁজে পাচ্ছে না। পরে পুলিশ লাগেজগুলো তাদের সংরক্ষণে রেখে প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকে। কন্ট্রোল রুম থেকে মাইকিংও করা হয়। কিন্তু কেউ লাগেজের খোঁজে না আসায় সেখানেই রেখে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে কন্ট্রোল রুমে ডিউটি করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন পুলিশ কর্মকর্তা তাপস কুমার দাস। পরে নিজের ফেসবুকে লাগেজগুলোর ছবি দিয়ে প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে ফেসবুক বন্ধুদের সহযোগিতা চান তিনি।এছাড়া লাগেজের সঙ্গে থাকা পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঘেঁটে পাওয়া মোবাইল নম্বরে কথা বলেন তাপস কুমার। মোবাইল নম্বরটি ছিল লাগেজ তিনটির মালিক ইবরাহিমের বড় ভাইয়ের।

ঢাকা টাইমসকে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা সব ধরনের যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হই লাগেজগুলোর মালিক বরিশালের ইবরাহিম। তিনি যেহেতু বরিশালে ছিলেন এই মুহুর্তে তার ঢাকায় আসারও সুযোগ কম, তাই তার পাঠানো প্রতিনিধির কাছে লাগেজগুলো হস্তান্তর করি।

হারানো লাগেজ ফিরে পাওয়া ইবরাহিমের সঙ্গে ঢাকা টাইমসের কথা হয়। তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। লাগেজের আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। গতকাল ঘাটের অবস্থাও ছিল মারাত্মক খারাপ। এই অবস্থার মধ্যে বাড়িতে পৌঁছার আগেই মোবাইলে জানতে পারি লাগেজ পাওয়া গেছে। পুলিশ ফোন করে জানিয়েছে। তখন অনুভূতি কেমন ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না।তিনি জানান, লাগেজ তিনটিতে নগদ টাকাসহ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মালামাল ছিল।

পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইবরাহিম বলেন, অনেকে নানা কারণে পুলিশের উপর আস্থা রাখতে চান না। বিষয়টা তেমন নয়। আমার এই ঘটনায় সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে পুলিশ। তাদের জন্য আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

প্রতিপক্ষকে কচুকাটা করতে ওস্তাদ, লিটনকে একাদশে নেওয়ার দাবি জোড়ালো হচ্ছে !!

মুশফিকের অমন রান-আউট মিস করা; মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুন কিছু করতে না পারা এবং স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে কারণে ঘুরে ফিরে বারবারই একটা নাম সামনে চলে আসছে- লিটন দাস।

দেশের অন্যতম সেরা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে কচুকাটা করতেও ওস্তাদ। টিম কম্বিনেশনের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ খেলা হয়নি লিটনের। এবার বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই তরুণ তারকা নিজেকে একাদশে রাখার দাবি জানিয়ে রাখছেন।

দেশের সবচেয়ে টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুর রহিমের পারফরমেন্স দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্যারিয়ারজুড়ে তার সমালোচনার জায়গাটিই হলো উইকেটকিপিং।

কয়েক বছর আগে একবার তাকে কিপিং থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লিটনের ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও দায়িত্ব ফিরে পান তিনি। তখন মুশফিক বলেছিলেন, কিপিং না করলে নাকি তার ব্যাটিংটা ঠিকঠাক হয় না।

বর্তমানে আবারও দারুণ ফর্মে ফিরেছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। যে কারণে তামিম-সৌম্যর দুর্দান্ত একটি ওপেনিং জুটি পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জুটি ধারাবাহিকভাবে দলকে ভালো শুরু এনে দিচ্ছে। এটা সত্য যে, সর্বশেষ দুই ম্যাচে ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলের চাহিদা মিটিয়ে মন্থর ব্যাটিং করেছেন।

সৌম্য বিধ্বংসী ব্যাটিং করলেও ৪০-৪৫ রানের ইনিংসগুলো বড় করতে পারছেন না। তার পরেও ওপেনিং পজিশনে পরিবর্তনের সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। সাকিব আল হাসানকে চার নম্বরে পাঠিয়ে তিন নম্বর পজিশনটাই লিটনের জন্য উপযুক্ত।

বিশ্বকাপের মাঝেই যে মুশফিককে কিপিং ছাড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই; এমনটা হওয়ার সম্ভাবনাও তেমন নেই। কিন্তু লিটনকে একাদশে প্রয়োজন অন্য কারণে। গত দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যান হিসেবে চাহিদা মেটাতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন।

করেছেন যথাক্রমে ২৬ এবং ২১ রান। যে কারণে লিটনকে একদশে নেওয়ার দাবিটা উঠেছে জোরেশোরে। একটা সময় যারা লিটনের সমালোচনা করতেন; এখন তারাই লিটনকে দলে চাইছেন।কারণ লিটন কিপার হিসেবেও দুর্দান্ত। একই সঙ্গে ডেথ ওভারের জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা মিস করছেন রুবেল হোসেনকে।

আজ ৩০তম রোজার পর ঈদের নামাজ পড়লেন ৫ গ্রামের মানুষ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ৩০ রোজা পূরণ করে আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। এ নিয়ে চিরিরবন্দরে টনা তৃতীয় দিন ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হলো।

জানা গেছে, ৫নং আব্দুলপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী ঈদগাহ মাঠ, শুকদেবপুর, নান্দেড়াই, ৮ নং সাইতারা ইউনিয়নে দক্ষিণ পলাশবাড়ী ও ৪নং ইসবপুর ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি, দক্ষিণ নগর গ্রামের আংশিক লোকজন এই ঈদের জামাত আদায় করেন। এই পাঁচ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করেন এবং নারীরা বাসায় ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আরও জানা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলার বেশ কিছু গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গত ৪ জুন

মঙ্গলবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া ৫ জুন সারাদেশের মতো ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন অনেকে।

কিন্তু চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে চিরিরবন্দন উপজেলার ৫নং আব্দুল পুর ইউনিয়নের শুকদেবপুর, পলাশবাড়ী, নান্দেড়াই ও ৪নং ইসবপুর ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি, দক্ষিণ নগর গ্রামের আংশিক লোকজন তারাবির নামাজ আদায় করেন এবং সেহেরি খেয়ে রোজা রাখেন। তাই তারা গত ৫ জুন ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আজ সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মেরাইডাঙ্গা ঈদগাহ মাঠে। এ মাঠে ইমামতি করেন ইমাম নাজমুল হক হামদানী ও চিরিরবন্দর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করেন ইমাম আব্দুল মান্নান।

ইমাম আব্দুল মান্নান বলেন, চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আমরা তারাবির নামাজ আদায় করি এবং ভোরে সাহরি খেয়ে রোজা রাখি। তাই আমরা ৩০ রোজা পূরণ করে ঈদের নামাজ আদায় করলাম।

চিরিরবন্দর থানা পুলিশের ওসি মো. হারেসুল ইসলাম ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চি করেছেন।

Share

হাস্যোকর ভুলে মুশফিককে নিয়ে টুইটারে ঝড়

বাংলাদেশ। কিন্তু উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাস্যকর এক ভুলে ম্যাচটি চলে যায় নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

বুধবার রাতে কেনিংটন ওভালে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের কাছে ২ উইকেটের হার মানে বাংলাদেশ। ১৭ বল হাতে রেখে ২৪৫ রানের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায় কেন উইলিয়ামসনের দল।

১১তম ওভারের প্রথম বল শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান। ওভারের দ্বিতীয় বলে সাকিব আল হাসানের বল মোকাবেলা করেন রস টেইলর।

বল কাছে ঠেলে দিয়েও অপর প্রান্তে থাকা অধিনায়ক উইলিয়ামসনের সাথে প্রান্ত বদলের চেষ্টা করেন টেইলর।

তবে তামিম ইকবাল দ্রুত বল ছুঁড়ে দেন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। তামিমের ছুঁড়ে দেওয়া বল স্ট্যাম্পেই আঘাত করতে যাচ্ছিল। তবে নিজ প্রচেষ্টায় রান আউট করতে গিয়ে বল ধরার আগেই গ্লাভসের স্পর্শে বেলের পতন ঘটান মুশফিক। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে যান উইলিয়ামসন। টেইলরকে নিয়ে পরে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১০৫ রানের জুটি। এই জুটিতেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট।

মুশফিকের এমন হাস্যকর ভুলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তার সমালোচনা। ইরফানুল করিম নামের একজন লিখেছেন, “মুশফিক জাস্ট ড্রপড দ্য ম্যাচ।”

আহাদ হোসেইন নামের একজন লিখেছেন, “মুশফিকের মতো উইকেটকিপার নিয়েই বিশ্বকাপ স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে।” আরেকজন লিখেছেন, “মুশফিকুর রহিম আরো একটি বড় ধরনের ভুল করলো। জানি না, কবে সে পরিপক্ব হয়ে উঠবে।”

এখনও ৭ ম্যাচ আছে, আশা করছি কামব্যাক করতে পারব: মাশরাফি

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পরাজয়ের পর বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন ‍মুর্তজা বলেন, আমাদের এখনও সামনে সাত ম্যাচ আছে। আশা করছি আমরা কামব্যাক করতে পারব।
খেলা শেষ মাশরাফি আরও বলেন, আসলে উইকেট ভালোই ছিল। আমরা ২০ থেকে ৩০ রান কম করেছি।

আমাদের প্রত্যাশিত ব্যাটিং হয়নি। তবে ওদের রস টেইলর খুব ভালো খেলেছে। ওই ম্যাচটা বের করে নিয়ে গেছে।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ। স্বল্প পুঁজি নিয়েও দুর্দান্ত লড়াই করেছেন সাইফউদ্দিন-মোসাদ্দেক-সাকিব-মিরাজরা।

ইনিংসের শেষ দিকে টাইগার বোলারদের নৈপুণ্যে পরাজয়ের দুয়ারে থেকেও ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ভালো খেলেও পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মাশরাফিদের।

বুধবার প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় পায় নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভারে ২৪৪/১০ (সাকিব ৬৪, সাইফউদ্দিন ২৯, মিঠুন ২৬, সৌম্য ২৫, তামিম ২৪; ম্যাট হেনরি ৪/৪৭, ট্রেন্ট বোল্ট ২/৪৪)।

নিউজিল্যান্ড: ৪৭.১ ওভারে ২৪৮/৮ (টেইলর ৮২, উইলিয়ামন ৪০, নিশাম ২৫, গাপটিল ২৫, মুনরো ২৪; সাইফউদ্দিন ২/৪১, মিরাজ ২/৪৭, সাকিব ২/৪৭, মোসাদ্দেক ২/৩৩)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী।

নিয়ম ভেঙে রানির গায়ে হাত দিলেন ট্রাম্প

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের নিয়ম ভেঙে রাণীকে স্পর্শ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩ জুন) বাকিংহাম প্রাসাদে রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পিঠে হালকা চাপড় মারতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। এরপর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

৯৩ বছর বয়সী রানির প্রশংসায় ওই নৈশভোজে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ৭২ বছর বয়সী ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রানির কঠোর পরিশ্রম, আমেরিকা-ব্রিটেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এসব বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। কথা শেষ হতে উঠে দাঁড়ান। তার পরেই রানির পিঠে সেই হালকা চাপড়। এ সময় রানিকে নির্বিকার দেখা গেছে।