রিজিকের চাকা আপনারও ঘুরে যাবে এই সূরা পড়লে…

কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি ম’ক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটিকে ইস’লামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্ম’দ (সা:) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে।

এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ স’ম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমা’র প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।”

অ’পর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, ‘তোম’রা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অ’পারগ?’প্রস্তাবটি তাঁদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ (অর্থাৎ কেউ পারবে না।)তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ’ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল।” (অর্থাৎ এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ

কুরআন পড়ার সমান নেকী’ অর্জিত হয়) (বুখারী) [1] [1] সহীহুল বুখারী ৫০১৫, ৫০১৪, ৫৫৪৩, ৭৩৭৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবূ দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯, ১০৭৩১, ১০৭৯৭, ১০৯১৩, ১০৯৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৭৭, ৪৮৩ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
উক্ত সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অ’তঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তা ব্যক্ত করল।
সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমা’র প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।” (বুখারী) [1] [1]

সহীহুল বুখারী ৫০১৫, ৫০১৪, ৫৫৪৩, ৭৩৭৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবূ দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯, ১০৭৩১, ১০৭৯৭, ১০৯১৩, ১০৯৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৭৭, ৪৮৩ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ স’ম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।”
(মু’সলিম) [1] [1] মু’সলিম ৮১২, তিরমিযী ২৮৯৯, ২৯০০, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৭, আহমাদ ৯২৫১, দারেমী ৩৪৩২ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই (সূরা) ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি।’ তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”(তিরমিযী হাসান সূত্রে, বুখারী বিচ্ছিন্ন সনদে) [1] [1] সহীহুল বুখারী ৭৭৪ নং হাদীসের পরবর্তী বাব। তিরমিযী ২৯০১, আহমাদ ১২০২৪, ১২১০৩, দারেমী ৩৪৩৫ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
প্রতিদিন অজুর সাথে ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করার দ্বারা ০৯ টি উপকার লাভ হবে।
(১) আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত অ’সুন্তুষ্টির ৩০০ টি দরজা বন্ধ করে দিবেন। যেমন: শত্রতা, দূর্ভিক্ষ, ফিতনা ইত্যাদি।

(২) রহমতের ৩০০ টি দরজা খুলে দিবেন।

(৩) রিজিকের ১০০০ টি দরজা খুলে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা পরিশ্রম ছাড়া তাকে গায়েব থেকে রিজিক দিবেন।

(৪) আল্লাহ পাক নিজস্ব ইলম থেকে তাকে ইলম দিবেন, নিজের ধৈর্য্য থেকে ধৈর্য্য এবং নিজের বুঝ থেকে বুঝ দিবেন।

(৫) ৬৬ বার কুরআন শরীফ খতম করার সাওয়াব দান করবেন।

(৬) তার পঞ্চাশ বছরের গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

(৭) আল্লাহ পাক জান্নাতে ২০টি মহল দান করবেন। যেগুলো ইয়াকুত, মা’রজান,জম’রুদ দ্বারা নির্মিত হবে এবং প্রত্যেকটি মহলে ৭০,০০০ দরজা হবে।

(৮) ২০০০ রাকাত নফল পড়ার সাওয়াব অর্জিত হবে।

(৯) যখন ‍মৃ’ত্যু বরন করবে তখন তার জানাযায় এক লক্ষ দশ হাজার ফেরেশতা অংশগ্রহন করবেন।

আজ ২১/০৯/২০১৯ আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের স্বর্ণের রেট জেনে নিন !

এই মুহূর্তে দেশে প্রবাসে যে যেখানে আছেন আমার বাংলাদেশ এ স্বাগতম ! ধনী থেকে গরিব সবাই চায় এটি কাছে রাখতে । কিন্তু অনেক দাম হওয়ার কারনে শুধু ধনী বাক্তিরাই সেটি সংরক্ষন করতে পারে। তবে যারা দেশের বাইরে থাকেন তারাও মাঝে মাঝে ভাল স্বর্ণ কম মূল্যে কিনতে পারে। তার প্রবাসী ভাইদের জন্য এটি বেশ।

ভরি =১১.৬৫৪ গ্রাম

বাংলাদেশ: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট)  =  3625  টাকা ।  দুবাই: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম =  183.00দেরহাম,  (22 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 174.00 দেরহাম । সৌদি আরব: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম =  184.10 সৌদি রিয়্যাল, (22 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 175.16 সৌদি রিয়্যাল ।

কাতার: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 175.78 কাতারি রিয়্যাল ।

সিঙ্গাপুর: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 65.54 ডলার ।

মালয়েশিয়া: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 196.34 রিংগিত ।

ইংল্যান্ড: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 38.75 ব্রিটেন পাউন্ড ।

বাহরাইন: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 18.90 দিনার ।

ওমান: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 17.90 রিয়াল ।

অস্ট্রেলিয়া: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 58.98 অস্ট্রেলিয়ান ডলার ।

কুয়েত: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 15.43 দিনার ।

কানাডা :  প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম =  62.68 কানাডিয়ান ডলার ।

আমেরিকা: প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম (24 ক্যারাট) – 1 গ্রাম = 47.75 আমেরিকান ডলার ।

যেকোনো সময় স্বর্ণের রেট উঠানামা করতে পারে। যে যেখানে আছেন নিরাপদে থাকুন, আনন্দময় হোক আপনার সারাদিন।নতুন নতুন খবর পেতে সবসময় আমার বাংলাদেশের এর সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ ।

বাংলাদেশের জিততে চাই মাত্র ১৩৯ রান !

শুরুর দিকে দুই আফগান ওপেনারে আতঙ্ক ছড়ায় বাংলাদেশ শিবিরে। অবশ্য তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। আফগানিস্তানের ব্যাটিং ছন্দ থামিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা। ফলে নির্ধারিত ওভারে সাত উইকেটে ১৩৮ রানে থেমে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। বন্দরনগরীর ভেন্যুতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু শুরুর দিকে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত খুব একটা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ধারহীন বোলিংয়ের পাশাপাশি বাজে ফিল্ডিংয়ে শুরুতে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

অবশ্য আফগানদের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ মিসের কারণে সেটা হতে দেননি মাহমুদউল্লাহ। শফিউলের বলে সহজ ক্যাচ ফেলে রহমতউল্লাহ গুরবাজকে জীবন দেন এই অলরাউন্ডার।আফগানিস্তানের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের ঘটনা। ওভারের পঞ্চম বলে শফিউলের আউট সুইং ঠিক মতো খেলতে পারেননি রহমতউল্লাহ। ফলে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। বল চলে যায় ফাইন লেগে। যেখানে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু রহমাতউল্লাহর সেই সহজ ক্যাচ  মুঠোয় জমাতে পারেননি তিনি। এক রানে আউট হতে যাওয়া এই আফগান ওপেনার পৌঁছে যান ২৯ রানে।

তাঁর সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন হজরতউল্লাহ জাজাইও। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে ৪৭ রানে করেন তিনি। দুই ব্যাটসম্যানে চড়ে শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে থামে অতিথিদের ওপেনিং জুটি।দশম ওভারে জাজাইকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান আফিফ হোসেন। একই ওভারে দুইবার আঘাত হানেন আফিফ। প্রথমে জাজাইকে ফেরানোর পর ফেরান আসগর আফগানকে। তিনে ব্যাট করতে নামা এই ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তরুণ এই অলরাউন্ডার। এরপর ১১ তম ওভারে রহমতউল্লাহকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। এবারো ক্যাচ তুলে দেন আফগান তারকা। নিজের ক্যাচ নিজেই তালুবন্দী করে তাঁকে সাজঘরের পথ দেখান মুস্তাফিজ।

দ্রুত তিন উইকেট নেওয়ার পর আফগানিস্তানকে চেপে ধরেন বাংলাদেশি বোলাররা। ওপেনিংয়ের পর আর কোনো জুটিকে থিতু হতে দেননি স্বাগতিক বোলাররা। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত আফগানদের ১৩৮ রানে থামায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বাকি ৯ ব্যাটসম্যানের রান সংখ্যা যথাক্রমে ০, ১৪, ৪, ১, ২৩*, ৩, ১০, ১১*।বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন আফিফ হোসেন। সমান একটি করে নেন মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান।গত বছর দেরাদুনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আফগানদের সামনে টি-টোয়েন্টিতে জয়হীন বাংলাদেশ। দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে তিনটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতেও কাটছে না সেই দুর্দশা। দলটির বিপক্ষে শেষ ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিতেছে টাইগাররা।

তাতে দুই দুলের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৪-১। টানা চার পরাজয়ের পর আজ শনিবার সফরকারীদের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
তবে আফিফ-মুস্তাফিজ বাংলাদেশকে খেলায় ফেরালেও মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ ম্যাচের সুবিধা প্রথম নয় ওভারেই বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে আফগানিস্তান। প্রথম নয় ওভারে ৭৫ রান তুলে রানের গতি ধরে রেখেছে সফরকারীরা।

ফেসবুক বন্ধ করে দিতে বললেন ট্রাম্প !

ফেসবুক ভেঙে (বন্ধ) দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে ওই সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গকে ফেসবুক ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাকারবার্গের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেন। সেখানে দেখা গেছে, হাত মিলিয়ে জাকারবার্গের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করছেন ট্রাম্প। ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন- ওভাল অফিসে দারুণ সাক্ষাৎ হলো ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ওই সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গকে ফেসবুক ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। আর ট্রাম্পের সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যানও করেন মার্ক জাকারবার্গ।

আলোচিত সম্রাটকে গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী !

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় তথ্য প্রমাণ পেলে যুবলীগ নেতা সম্রাটকেও ধরা হবে বলে জানান তিনি।আজ শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ পাব, তার বিরুদ্ধেই আমরা অ্যাকশনে যাব। কাউকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এটাই- সে জনপ্রতিনিধি হোক বা প্রশাসনের লোক হোক যে-ই অন্যায় কাজ করবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা থাকলে যুবলীগ নেতা সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করাটা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি।তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যে দল-মতেরই হোক, কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে।’

অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের শনাক্তকরণে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তালিকা পেলে সেটা যে ধরনেরই প্রতিষ্ঠান হোক, তাদের দমন করা হবে।এ সময় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যসহ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্রি ভিসার নিশ্চিত যে অবস্থা জানালেন প্রবাসীরা !

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে উল্লেখযোগ্য হারে বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক রয়েছে। আমিরাতে বর্তমানে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ।তবে বন্ধ দেশগুলোয় শ্রমিক নিয়োগ ফের শুরু করতে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার চাহিদা অনুযায়ী উন্মুক্ত হচ্ছে না।

ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আমিরাতে আছেন দীর্ঘ ১৭ বছর থেকে। ফ্রি ভিসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমিরাতে শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকলেও ভিজিট ভিসায় বিদেশগামীরা নিয়মিতই আসছেন। আমিরাতে ফ্রি ভিসা বলে কোনো ভিসা ইস্যু হয় না। তবুও বাংলাদেশি দালাল চক্র ফ্রি ভিসার কথা বলে অসহায় প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।আমিরাতে এই ভিসা বেকার ভিসা হিসেবে প্রচলিত। কারণ এ ধরনের ভিসা দিয়ে যারা আসে তাদের সবাইকে কাজ খুঁজে নিতে হয়, কাজ পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের টাকা পয়সা খরচ করে থাকা-খাওয়া চালিয়ে যেতে হয়।’

আমিরাত প্রবাসী গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘কিছু অসাধু বাংলাদেশি দেশটির প্রশাসনকে অস্থায়ী অফিস দেখিয়ে একটা কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে। এ লাইসেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে বাংলাদেশি ভিসা ইস্যু করে সেই ভিসাকে ফ্রি ভিসা বলে বিক্রি করে।একটা ভিসা ইস্যু করতে বাংলাদেশি টাকায় সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, কিন্তু সেটা বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায়।’তিনি বলেন, ‘আমিরাতে এমনও বাংলাদেশি রয়েছে যারা ৫-৬ বছর অতিক্রম করলেও এখনও

তার কফিলকে (স্পন্সর) চোখে দেখেনি বা সে যে কোম্পানির ভিসা নিয়ে এসেছে সেই কোম্পানির অফিসও দেখার ভাগ্য হয়নি। আমিরাতে ফ্রি ভিসা বলে কোনো ভিসা ইস্যু হয় না। তবুও মানুষ সতর্ক হচ্ছে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমিরাতে বাংলাদেশি বাদে অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে নেপাল কিংবা ভারতীয়রা আমিরাতে চাকরি নিয়ে যেতে ভিসা বাবদ তাদের খরচ হয় সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার রিয়াল অথচ বাংলাদেশি ৫০-৬০ হাজার টাকা। আর ভিসা ব্যবসায়ীদের প্রতারণায় বাংলাদেশিদের জন্য তা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’‌‌অর্থকষ্টে মানবতের জীবন যাপন করতে হচ্ছে অনেক প্রবাসীকে।

পরবাসীদের আশায় পথ চেয়ে থাকে পরিবার। পরিবারের করুণ অবস্থার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঋণের সুদ, পরিবারে খরচ, চাকরির খোঁজ, বেতন বকেয়া, আকামার বিষয়ে ইত্যাদির মানসিক চাপে বাসা বাঁধে নীরব ঘাতক স্ট্রোক।বাংলাদেশ সরকার এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসব অসাধু ভিসা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এদের দৌরাত্ম বাড়ছে দিনের পর দিন। শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক হারে। তবে শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভিসা ব্যবসায়ীদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমবাজারে অনেকটা মন্দা ভাব চলে এসেছে।

জানা গেছে, কিছু অসাধু ভিসা ব্যবসায়ীর কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা আমিরাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে কিছু সুবিধালোভী প্রবাসী বাংলাদেশি শুধু ভিসার ব্যবসা করার জন্য অফিস খুলে বসে আছে, নিজে একজন বাংলাদেশি হয়েও প্রবাসে বাংলাদেশিদের সঙ্গেই নানা প্রতারণায় লিপ্ত রয়েছে।

এসব ভিসা ব্যবসায়ীদের প্রতারণার কারণে দেশটির নিয়োগকর্তারাও বাংলাদেশি শ্রমশক্তির ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছে। চলমান এ অবস্থায় আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে পড়তে যাচ্ছে।এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে প্রবাসী বাংলাদেশি ভুক্তভোগীরা অভিমত প্রকাশ করেন।

Share

সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলায় সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সৌদিকে সমর্থনের আশ্বাস ইমরান খানের !

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি আরবকে সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সমর্থন দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে দুই দিনের সৌদি সফরে গতকাল শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন। খবরঃ ডন এ সময় দুই দেশের মধ্যকার বহুমুখী ও গভীর সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও সিংহাসনের উত্তরসূরি

মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন ইমরান খান। এ সময় তিনি দেশটির দুটি তেল স্থাপনায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে গত শনিবারে বাকিক ও খরিচ তেলক্ষেত্রে হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গিয়েছিল। এ হামলার জন্য সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্র চিরবৈরী ইরানকে দুষছে। যদিও সব দায় অস্বীকার করছে তেহরান।

এ সময় নিশ্চয়তা দিয়ে ইমরান খান বলেন‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’এ সময় অধিকৃত কাশ্মীরে ভারত সরকারের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট অবৈধভাবে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য হুমকি তৈরি করেছেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার।’

এ সময় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ইস্যুতে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একসঙ্গে কাজ করে যেতে সম্মত হন সৌদি নেতৃবৃন্দরা।

বস্তাভরে দিতেন ঘুষের টাকা, ৭শ’ কোটি টাকা জমা আছে ব্যাংকে !

একটা সময় নারায়ণগঞ্জ যুবদলের নেতা ছিলেন জি কে শামীম। যুবদলের নেতা থাকলেও এক দশক থেকে তিনি যুবলীগ নেতা! সব সম্ভবের দেশে এটি হয়তো স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় তিনি গণপূর্তের প্রতাপশালী ঠিকাদার। বিশেষ জাদুবলে পূর্তের প্রায় সব কাজই তার কব্জায়। তাই ঘুষ কমিশনও দেন দু’হাত ভরে। সাবেক এক মন্ত্রীকে ঘুষ দিতেন রীতিমতো বস্তাভরে। গাড়িতে নিজেই পৌঁছে দিতেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।

শুধু মন্ত্রী নন, এভাবে ভাগ পেতেন প্রভাবশালী আমলা ও প্রকৌশলীরাও। নিজের রাজ্যের অঘোষিত এ ‘রাজা’ শুক্রবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।এদিকে হঠাৎ ক্যাসিনো-ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যুবলীগের আন্ডারওয়ার্ল্ড। এই সুনামির তোড়ে ভেসে যাচ্ছেন অনেকে। আত্মগোপনে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। কোনো ‘ক্ষমতাধর লীগই’ টিকতে পারছে না আপসহীন এ অভিযানে। একে একে মুখোশ খুলে যাচ্ছে অনেকের।

সূত্রগুলো বলছে, সবে শুরু। এখনও বহু রথী-মহারথী বাকি আছে। একে একে সবাই ধরা পড়বে। শুধু রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারি দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা সন্ত্রাস,দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের কারোরই রেহাই হবে না এ যাত্রায়। এটি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা।সূত্র জানায়, যুবলীগের হর্তাকর্তাদের অনেকেরই এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। কেউ কেউ ইতিমধ্যে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন।

তবে ইতিমধ্যে বিমানবন্দরসহ সব সীমান্ত পথে এ তালিকার সন্দেহভাজনদের ছবিসহ নাম-ঠিকানা পাঠিয়ে বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় আড়াইশ যুবলীগ নেতার তালিকা ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম তার ৫টি ব্যাংকে ৭শ’ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। কয়েক মাস আগে সেখানেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রেখেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে জি কে শামীম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার নিকেতন ও বাসাবো এলাকায় ৫টি করে ১০টি বহুতল বাড়ি, বাসাবোতে ১ বিঘার একটি বাণিজ্যিক প্লট, পর্যটন শহর বান্দরবানে একটি ৩ তারকা মানের রিসোর্টসহ আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।সূত্র বলছে, ঢাকার যুবলীগ নেতাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকার শীর্ষে আছেন যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, রফিকুল ইসলাম রফিক, শাহে আলম মুরাদ, আরমানুল হক আরমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, কাউন্সিলর সেন্টু, জসিম, এপিএস মিজান ও জনৈক যুবলীগ নেতা নিখিল।

এছাড়া তালিকায় রাজধানীর বিভিন্ন থানার ৫ জন ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এসব অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিলাসী জীবনযাপনের তথ্য সংগ্রহসহ তাদের ক্লোজ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ঠিকাদার গত ১০ বছরে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার কাজ পায়। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৮০ শতাংশ ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে শামীমের প্রতিষ্ঠান যুক্ত।অনেকেই বলেন, এমনভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয় যাতে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়।

অন্যভাবে বললে বলতে হয়, শামীমকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের শর্ত সেভাবে নির্ধারণ করা হয়।সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জি কে বিপিএল ব্ল্যাকলিস্টেড হয়। কারণ রূপপুরের বালিশ কাণ্ডের মাধ্যমে মূলত জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়। রূপপুরের গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে বড় অঙ্কের কয়েকটি কাজ জি কে শামীম নিজেই করছেন।

এছাড়া ৫ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে ৩-৪টি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি কাজও দেন। ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের কারণেই মূলত রূপপুরে ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে বালিশ, চাদর ও ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি হয়।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সব ঠিকাদারই জি কে শামীমের নিয়ন্ত্রণে। বড় বড় কাজ তিনি নিজেই করেন। কিছু কাজ পছন্দের অন্য ঠিকাদারদের দিয়ে দেন মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে। তার মাধ্যমে কাজ পেয়ে ব্যাপকভাবে লাভবান সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লি.) ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

শামীমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারি টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কাজটি করতেন মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। অতিরিক্ত মূল্যের একটি বড় অংশ অসৎ কর্মকর্তারা ভাগ করে নিতেন।এছাড়া শামীমকে কাজ পাইয়ে দিলে আলাদা কমিশনও পাওয়া যায়। রূপপুরের বালিশ কাণ্ডে টাকা গেছে মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার পকেটে। এদের মধ্যে অল্প কয়েকজন চিহ্নিত হলেও বেশির ভাগই ধরাছোঁয়ার বাইরে। রহস্যজনক কারণে সুবিধাভোগী প্রভাবশালী আমলাদের নাম নেই।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের জন্য মোট ২১টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৯টি ভবনের কাঠামো ইতিমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। এসব ভবন নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়ার পর টেন্ডার মূল্যের ৫ পার্সেন্ট দিতে হয়েছে নেগোসিয়েশন খরচ বাবদ।এটি নিয়েছেন জি কে শামীম নিজেই। কারণ এই কাজ তিনিই সব কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এনেছেন বলে দাবি করেন।গণপূর্তের সাবেক এক ইঞ্জিনিয়ার নিয়েছেন ১ পার্সেন্ট। সাবেক একজন মন্ত্রীকে দিতে হয়েছে ১ পার্সেন্ট, একজন সচিব নিয়েছেন পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট এবং পূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী নেন আরো পয়েন্ট ৫ পার্সেন্ট।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, ‘মনে হচ্ছে একটি যুগের অবসান হল। ভাই বহু শান্তি পেলাম আজ। ওর যন্ত্রণায় আমাদের চাকরি করাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই উনার টাকার ভাগ কে পাননি, ফোনে সবার নাম বলতে চাই না।’সূত্র বলছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ঘুষের বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগাভাগি হয়। মন্ত্রীর ভাগের ঘুষের টাকা নেন তার ঘনিষ্ঠভাজন হিসাবে পরিচিত জনৈক জিয়া ও নাইম। এছাড়া নিজেকে আড়াল করতে সতর্কতার অংশ হিসেবে চার-পাঁচ হাত ঘুরে এবং কয়েক দফা স্থান বদলিয়ে টাকা নেন সাবেক একজন প্রকৌশলী।

একজন আমলার টাকা নেন জনৈক মুমিতুর রহমান। পূর্ত মন্ত্রণালয়ে জিকে শামীমের প্রভাব-প্রতিপত্তি আঁচ করা যায় রূপপুরে দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই।কারণ ওই প্রতিবেদনে জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠানকে শুধু দায়মুক্তি দেয়া হয়নি, তদন্ত কমিটি জি কে শামীমের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করে। প্রতিবেদনে অন্য ঠিকাদারদের দুর্নীতির জন্য দায়ী করা হলেও জি কে শামীমের প্রশংসা করে বলা হয়, ‘জিকে বিপিএল কর্তৃক সরবরাহকৃত মালামাল খুবই ভালো এবং উন্নত মানের।’

সূত্র বলছে, রূপপুরে বালিশ কাণ্ড প্রকাশিত হওয়ার পর জি কে শামীম বিশাল নিরাপত্তা বহর নিয়ে চলাফেরা শুরু করেন। অন্তত ২০ জন গানম্যান পরিবেষ্টিত হয়ে তার চলাফেরা শুরু হয়। বহরের আগে-পিছে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল থাকে।শামীমকে বহনকারী গাড়ির আগে-পিছে দুটি গাড়িতে ভিআইপি প্রটোকলের মতো রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে তার লোকজন। পূর্ত অধিদপ্তরে এভাবে তিনি রাজসিক কায়দায় এসে ঢোকেন প্রতিদিন। তার এমন গাড়িবহর আর অস্ত্রধারী গানম্যান দেখে পূর্ত অধিদপ্তরের অনেকেই শামীমকে সমীহ করে চলেন।

শামীম তার হোন্ডা বাহিনী টেন্ডার ছিনতাইয়ের কাজেও ব্যবহার করেন। বছরখানেক আগেও প্রকাশ্যে বঙ্গ বিল্ডার্সের মালিক লিটনের কাছ থেকে তার লোকজন টেন্ডার ছিনতাই করে। বড় কাজ ছাড়া ছোট কাজের দিকে জি কে শামীমের তেমন আগ্রহ নেই।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১শ’ কোটি টাকার বেশি কাজ হলেই সেখানে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম শোনা যায়।পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীতেও যেসব বড় বড় ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে তার বেশির ভাগই নির্মাণ করছে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বিপিএল।

শামীমের প্রতিষ্ঠান যেসব কাজ করছে তার মধ্যে আছে দুটি ফেইজে নির্মিত জাতীয় রাজস্ব ভবনের ৫শ’ কোটি টাকার কাজ, রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাব সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের ৪৫০ কোটি কাজ, ৪০০ কোটি টাকার পার্বত্য ভবন নির্মাণ, সচিবালয়ের কেবিনেট ভবন নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ।সূত্র বলছে, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের সঙ্গে জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট।
মূলত মান্নান খানের আমলে টেন্ডারবাজি করে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন। মান্নান খান যুগের অবসান হলেও জি কে শামীমের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং পরবর্তী সময়ে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

জব্দ করা অর্থ বেকারদের কর্মসংস্থানে ব্যয় করার প্রস্তাব রাশেদার !

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক। সেখানে তিনি অভিযান হতে যে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, তার সঠিক বণ্টন নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করে বলেছেন-জানি, প্রস্তাবটি শুনতে খটকা লাগবে, তারপরও একটা বিষয় মাথায় ঘুরছে! এই অভিযানগুলো হতে যে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো লাখো-কোটি বেকার

তরুণ, কৃষক, দিন মজুর সহ যারা জীবন সংগ্রামে দিন কাটাচ্ছে, উদ্যোক্তা হবার শর্তে তাদেরকে বৈধ প্রক্রিয়ায় দিয়ে দেয়া যায় কিনা?
কারণ এই টাকার হকদারতো তারাই! সাধারণের হক মেরে আজ তাদের এই সাম্রাজ্য! আহা মানুষ যদি জানতো, সুখ আসলে কিসে, তাহলে কি এমন করতো?যারা চিন্তা করছেন, কোটি টাকা কত টাকায় হয়, কখনো একসাথে দেখিনি বলে হা হুতাশ করছেন, তারা একবার ভাবেন, কি সুখে আছি আমরা, কি সুন্দর একটা জীবন আমাদের

সাধারণের! ছয়জন বডি গার্ড নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া, খেতে যাওয়া যার প্রয়োজন হয়, সেই লোকের তো আসলে আমার আপনার মতো স্বাধীন কোন জীবন নেই!চাইলেই রিকশায় করে ঘুরে বেড়াতে পারেনা, টিএসসিতে বসে মরিচ চা, মাল্টা চা সহ ১০১ রকমের চা এর স্বাদ নিতে পারেনা জীবনে আসলে তারাই সুখী, যাদের কোন লোভ নেই………।। কি বলেন, কথা ঠিক কিনা!?
লেখিকা: রাশেদা রওনক, সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন!

উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশ নরওয়ে। দেশটিতে যখন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’-এর নামে ইসলাম ও মুসলমানদের নিষিদ্ধের জোর দাবিতে আন্দোলন করছে একটি ইসলাম বিদ্বেষী দল।ঠিক তখনই ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এসেছে অনেক বড় সুখবর। নরওয়েতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন ভিন্নধর্মী লোক মুসলমান হচ্ছে।ইউরোপের এ দেশটিতে ইসলাম গ্রহণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় দৈনিক ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নরওয়ের সুপ্রাচীন ও সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অসলো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের একজন গবেষকের বরাতেভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদন বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় তিন হাজার নরওয়েজিয় নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করছে। যা ১৯৯০ সালের সময় থেকে ৬ গুণেরও বেশি।প্রতিবেদনের হিসাবে গড়ে প্রতিদিন ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৮ জনেরও বেশি। ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগে নরওয়ের নারীরা মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করতে বেশি আগ্রহী ছিল।

তবে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করার এ প্রবণতা আগের চেয়ে এখন কমে গেলেও নারীদের মধ্যে বেড়ে গেছে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ অধ্যয়ন ও গবেষণা। যার ফলে আগের তুলনায় ইসলামের দিকে ঝুঁকছে বেশির ভাগ নারী ও পুরুষ।অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নরওয়ের ইসলাম গ্রহণকারী ২ নারীর বক্তব্যে ইসলাম গ্রহণের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট। তাদের মতে-মনিকা সালমুক নরওয়েজিয় ইসলাম গ্রহণকারী নারী মনিকা সালমুক। ৪ বছর আগে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়ন শুরু করে সে। বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়নের পর সে নিজের জন্য ইসলামকে বেছে নেয়।

৪২ বছর বয়সী নরওয়েজিয় স্বেচ্ছাসেবী নারী সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন। নরওয়েতে আশ্রয় নেয়া মুসলিম শরণার্থীদের সাহায্যে তিনি কাজ করেন। মুসলিম শরণার্থীদের সহযোগিতা করতে তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সোলভা নাবিলা স্যাক্সেলিন।
নরওয়েতে ইসলাম
১৯৫০ সালের দিকে নরওয়েতে মুসলমানের অবস্থান স্পষ্ট ছিল না। ১৯৬০ সালের দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে মুসলিমদের অবস্থান। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ১৯৭৪ সালে প্রথম মসজিদ গড়ে ওঠে।১৯৬০ সালের পরবর্তী সময়ে নরওয়েতে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। গত ২০১১ সালের তথ্য মতে নরওয়েতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলিম।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুন মাসে ‘স্টপ ইসলামাইজেশন’ গ্রুপের এক সভায় ইসলাম, কুরআন ও হিজাবের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুলিশি প্রহরায় এক জনসমাবেশে প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআনুল কারিম ছুঁড়ে ফেলেন অ্যানা ব্রাটেন নামে এক নারী নেত্রী।সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কুরআনের কপিটি সংরক্ষণে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে অ্যানা ব্রাটেন পবিত্র কুরআনের কপিটি প্রতিবাদকারী মুসলিমের দিকে ছুড়ে ফেল দেন।

এ ঘটনার ৪ মাসের ব্যবধানে অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের গবেষণার ফলাফল ও ভারডেনস গ্যাঙ্গে-এর প্রতিবেদনটি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।