দারুণ সূচনা বাংলাদেশের;;;;দেখে নিন স্কোর

আগামী ২৬ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর এই ম্যাচের আগে আজ এক প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা বোর্ড একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে টাইগাররা।এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ২৮৩ রানের টার্গেট দেয় শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিক বোর্ড একাদশের দেয়া এই রানের টার্গেটে এখন ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমেছে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। তামিমের সাথে অন্য কেউ ওপেনিং করবেন এমনটা ধারণা করা হলেও সৌম্যই নামেন ওপেনিংয়ে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ১১ ওভারে ১ উইকেটে ৫২ রান করেছে। তামিম ইকবাল ৩২ রানে অপরাজিত রয়েছেন ও সৌম্য ১৩ রান করে আউট হন ।

১ মণ পেয়ারা মাত্র ১০০ টাকায়

বাংলার আপেল’ খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারার মোকাম ঝালকাঠির ভীম’রুলী গ্রাম। সেখানে বর্তমানে পেয়ারার দাম খুবই কম।এতে পেয়ারা গাছ থেকে তোলার শ্রমিক মজুরিও হয় না। তাই হতাশ হয়ে পেয়ারা বিক্রি না করে ফিরে যান পেয়ারা চাষিরা।

ঝালকাঠি সদর উপজে’লার ভীম’রুলী গ্রামের পেয়ারা চাষি সুজন হালদার শানু বলেন, ‘আম’রা ১শ’ টাকায় ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করি। সেই পেয়ারা ঢাকায় কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হয়। ১ মণ পেয়ারা বিক্রি করে ২ কেজি চালও কেনা যায় না।’

জে’লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সদর উপজে’লার কী’র্তিপাশা, ভীম’রুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদীশপুর, খোদ্রপাড়া, পোষন্ডা, হিমানন্দকাঠি, বেতরা, কাপড়কাঠি ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজে’লার আটঘর কুড়িয়ানার বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে পেয়ারা বাগান। সড়ক ও জলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ মোকাম থেকে পেয়ারা সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, দ্রুত পচনশীল এ ফল ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে নিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে নামমাত্র মূল্যে পেয়ারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ফলে কিছু মানুষ বিনাশ্রমে বিপুল পরিমাণ মুনাফা পাচ্ছে। অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রম করেও চাষিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারছে না।

কাপড়কাঠি গ্রামের পেয়ারা চাষি পরিতোষ বেপারী বলেন, ‘আমা’র দেড় একর জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ৮০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এখন পেয়ারার ভরা মৌসুম কিন্তু দাম অনেক কম। যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে প্রতিদিনের শ্রমিক খরচও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

শতদাসকাঠি গ্রামের বিপুল হালদার বলেন, ‘আমা’র এক একর ২৫ শতাংশ জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আম’রা পেয়ারা মহাজনদের কাছে বিক্রি করি। মহাজনরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে মহাজন ও পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন।’

ভবেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, ‘প্রতিবছর বড় বড় কোম্পানি যদি জে’লি তৈরির জন্য এখান থেকে পেয়ারা কিনতো, তাহলে আম’রা বেশি লাভবান হতাম। সবচেয়ে ভালো হতো ভীম’রুলী গ্রামে জে’লি কারখানা স্থাপন করলে।’

ভীম’রুলী গ্রামের পেয়ারার মহাজন লিটন হালদার বলেন, ‘সারাবছর কঠোর পরিশ্রম করেও পেয়ারা চাষিরা ঋণের বোঝা মুক্ত হতে পারছে না। দারিদ্র্য আঁকড়ে ধরেছে তাদের জীবনযাত্রাকে। আম’রা যতটা পারি তাদের সহায়তা করি।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো: ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। গড়ে ৮ টন করে ফলন হয়েছে। তবে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, বিধায় হতাশ হয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’

বোরকা পরলেই ১৪ হাজার টাকা জরিমানা

বোরকা, নিকাব বা পর্দা পরে কোন নারী রাস্তাঘাটে বের হলে বা সরকারি বাস, ট্রেনে উঠলে বা অফিসে কাজ করতে গেলে আইনভঙ্গের দায়ে ওই নারীকে ১৫০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ হাজারের বেশি টাকা) জরিমানা দিতে হবে। এই আইন করেছে নেদারল্যান্ড।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে বোরকা নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডসে।

দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডসের আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষকে রাস্তাঘাটে মুখ দেখিয়ে চলাফেরা করতে হবে।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডস সরকার স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা পাঠিয়েছে। রাস্তাঘাটে বোরকা পরা কাউকে দেখলেই তাকে যেন এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়, তার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি কেউ মেনে না চললে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

এর আগে শ্রীলঙ্কা, তিউনিশিয়াতেও বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তথ্য সূত্র: টেলার রিপোর্ট, ডাচ রিভিউ।

নয়ন-মিন্নির সংসারের ২০ আলামত এখন পুলিশের হাতে

ছেলের বউ হিসেবেই তাদের বাড়িতে মিন্নি অবাধে যাতায়াত করত বলে নয়নের মা দাবি করলেও নয়ন সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি এখনও রহস্যাবৃ*ত। নয়নের মা’র দাবি করেন, তার বাড়িতে মিন্নি ছোটখাটো সংসারও গড়ে তুলেছিলো। কিন্তু মিন্নি দাবি করছেন, নয়নের সঙ্গে তার বিয়েই হয়নি এবং নয়নের বাড়িতে থাকা ও যাতায়াতের তথ্য সঠিক নয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজ ঘেঁষা টিনের চালা দেয়া ৩টি ঘর নয়নের বসতবাড়ি। সোমবার সেখানে যাওয়ার পর দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে একা এক ঘরে বসে আছেন নয়নের মা সাহিদা বেগম। তিনি বলেন, এই মিন্নির জন্য আমার ছেলেটা শেষ হয়ে গেল।

এ সময় তিনি একটি কক্ষ দেখিয়ে বলেন, এখানে নয়ন থাকত। পুলিশ এখান থেকে মিন্নির ব্যবহৃত অনেক কিছু নিয়ে গেলেও কিছু কিছু জিনিস এখনও পড়ে আছে। নয়নের বসত ঘরের দরজার ওপর বড় করে লেখা ‘বাসর ঘর’। ঘরের দেয়ালের কয়েকটি জায়গায় ইংরেজি হরফে লেখা ‘এন প্লাস এম’-মানে, নয়ন যোগ মিন্নি। আরেক জায়গায় লেখা ‘আই লাভ ইউ এন প্লাস এম।’ দেয়ালের কয়েকটি লেখা কালো কালির স্প্রে দিয়ে মুছে দেয়া হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙা।

নয়নের মা জানান, নয়নকে ধরার জন্য পুলিশ বাড়িতে এসে সব ভেঙে দিয়েছে। ভাঙা ড্রেসিং টেবিল দেখিয়ে তিনি বলেন, এই ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মিন্নি সাজগোজ করতো। ড্রয়ার খুলে একটি ফেস পাউডারের খালি কৌটা বের করে বলেন, শুধু কৌটাটা পড়ে আছে। পাউডারসহ ওপরের অংশ পুলিশ নিয়ে গেছে ।

ঘরের এক কোণে র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো প্লাস্টিকের ফুলসহ ফুলদানি পরে আছে। সেটা দেখিয়ে তিনি বলেন, নয়নের জন্মদিনে মিন্নি দিয়েছিল। ওই জন্মদিনের ভিডিও ইউটিউবে এখনও আছে। একটা ভাঙা কম্পিউটার টেবিলের সামনে মোবাইল ফোনের ভাঙা টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এসব মোবাইল ফোনের মাদারবোর্ড ও সিমকার্ড পুলিশ নিয়ে গেছে, তাতে নয়নের ও মিন্নির অনেক ছবি রয়েছে।

এক পর্যায়ে নিজের মোবাইল ফোনের গ্যালারি খুলে মিন্নির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, মিন্নি প্রতিদিনই আমাদের বাড়ি আসতো। কলেজের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা সরু গলি দেখিয়ে বলেন, মিন্নির ছবিটি এই গলিতেই তোলা।

নয়নের সঙ্গে মিন্নির ভিডিও চ্যাটের স্ক্রিন শট ছবি দেখিয়ে বলেন, তারা তো সব সময় ভিডিওতে কথা বলত। ছবিতে দেখা যায়, নয়নের চ্যাটিং মেসেঞ্জার প্রোফাইলে মিন্নির ছবি দিয়ে লেখা ‘বউ’। নয়নের মা বলেন, পুলিশ প্রায় সবকিছুই নিয়ে গেছে। মোবাইলের স্ক্রিন টাচ নষ্ট হয়ে গেলে নয়ন কিছুদিন আমার ফোনটা ব্যবহার করে। তাই এই ছবিগুলো আমার কাছে রয়ে গেছে। নয়নের মা বলেন, যারা নয়নকে বন্ড বানিয়েছে তাদেরও ধরা হোক। যাতে আর কেউ বিপথগামী সন্ত্রাসী বা বন্ড না হয়।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নয়নের বাড়ি থেকে ২০ ধরনের আলামত নেয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের অনেক ছবি, মিন্নির ব্যবহৃত লিপস্টিক, মিন্নির লেমিনেটিং ছবি, আটকে থাকা চুলসহ চিরুনি, কামিজ, চুলের ক্লিপ, ফেসপাউডার,

চোখের ভ্রূতে ব্যবহৃত আই ব্রো, কয়েকটি সিম ও মোবাইল ফোন, এম প্লাস এন খোদাই করা সামুদ্রিক ঝিনুক। মিন্নি ও নয়ন কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে এই ঝিনুকটি সংগ্রহ করেছিলেন। যা এ মামলার আলামত হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জানা যায়, নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘ*নিষ্ঠতা ও বিয়ের বিষয়টি প্রমাণ করতে এসব আলামত জব্দ করা হয়। যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। পুলিশ জানায়, মিন্নি নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছে। তাই অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করা গেলে রিফাত হ*ত্যার রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হবে। প্রমান করা যাবে, ওই ঘটনা থেকে নিজেকে আড়াল করতে কিভাবে মিন্নি একের পর এক মিথ্যা বলেছেন।

রেনুর বড় ভাই রিয়াজ মাহমুদের হৃদয় বিদারক পোস্ট

আমার বোন আমার চেয়ে বয়সে দশ বছরের ছোট হবে। রেনু ওর নাম। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ওর। ছোট বেলা হতে কিছুটা নার্ভাস প্রকৃতির রেনু ছিল খুব মেধাবী। স্কুলে কখনও দ্বিতীয় হয়নি। সব সময় ফার্স্ট গার্ল।

বাবা রেনুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে ডাক্তার হবে নয়তো সরকারি বিসিএস কর্মকর্তা। কিন্তু সংসার জীবনটা রেনুর সুখের হয়নি। ছোট ছোট দুটি সন্তান নিয়ে সে একাই জীবন অতিবাহিত করছিল।

সংসার ভেঙে গেছে বেশ আগেই। বাবা ও মা মারা গিয়েছেন। রেনু নিজের মতো করেই সন্তানদের ভাল স্টুডেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। ছোট বাচ্চাটার মাত্র চার বছর বয়স। মৃত্যুর আগের রাতে কিছুটা অস্থির দেখাচ্ছিল রেনুকে।

ছোট বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার জন সকালে স্কুলে যাবে। সকাল হলে বাসার কাছে প্রাইমারি স্কুলটায় ভর্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই অপরিচিত দুটি বখাটে ছেলে তাকে অহেতুক প্রশ্ন করতে শুরু করলে সে নার্ভাস হয়ে যায়।

রেনুর বেশ মানসিক অস্বস্তি হয় এধরনের জেরায়। সে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। তার মতো সাধারণ মেয়ে সারাজীবনে চাকরি সংসার সমাজ ইত্যাকার বহির্মুখী অনুষঙ্গকে আত্মস্থ করতে পারেনি তার অন্তর্মুখী স্বভাবের জন্য।

যেমন পুলিশ, মাস্তান, ক্ষমতাবান, ডোমিনেটিং সোসাইটি, প্রভাব বিস্তারকারী মানুষজনের সামনে পড়লে সে ভাষা হারিয়ে ফেলতো। কিন্তু মনে মনে সে ভাবতো অন্যরা তো বেশ মানিয়ে নিয়ে চলছে ফিরছে, সে পারছে না কেন?

কেন এসব পরিস্থিতিতে পড়লে তার কথা বলার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে সে। কেন সে পরিষ্কার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না, কেন সে মানুষের প্রশ্নের (অযাচিত) পরিষ্কার জবাব দিতে পারে না।

কেন সে ছোট বেলায় দোষ না করেও মায়ের কড়া ধমকে চুপ করে ছিল, কেন সে স্বামীর অন্যায়েও নিঃশব্দ ছিল, কেন সে পুলিশের নাম শুনলেই অপরাধীর মতো ভয়ে নিজের মধ্যে সেঁধিয়ে পড়তো সে নিজেও জানে না।

সে ভয় পেতো চেনা পরিচিত ঢাকা শহরের এসব কিছু এই ছিল সত্য। সেই সত্যটাই তার জীবন নিয়েছে। সেই প্রখর খরতাপের মধ্যে শত শত মানুষের কয়েকজন তাকে নৃশংসভাবে পেটালো। পিটিয়ে তার সারা শরীর থেঁতলে দিল।

শেষ নি:শ্বাস বের হবার আগে তখনও সে তাকিয়েছিল মানুষগুলোর দিকে। রক্তমাখা মুখ, কপালের মধ্যে রক্তভেজা চুলগুলো ঘামে, রক্তে লেপটে আছে, সেই অবস্থায় তাকিয়েছিল মানুষের (মানুষ?) দিকে।

হয়তো শেষ মুহূর্তেও চেষ্টা করছিল গুছিয়ে কিছু বলতে…। ভাইগো ও ভাই, আমি এখানে এসেছিলাম আমার বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে…, আমি ছেলে ধরা না। আমার নাম তাসলিমা রেনু। দুটো বাচ্চা আছে আমার। আমি মরে গেলে ওদের কেউ থাকবে না। এখনো যদি আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান আমি মরবো না। আমি সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে চাই। বাসায় বাচ্চাগুলো আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।”

কিন্তু বোবার মতো রেনু তাকিয়েই ছিল ঘোরলাগা চোখে। মাটিতে পড়ে যায় রেনু। দুটি হাত চারটি হাত লাঠি হাতে ক্রমাগত পিটিয়ে পিটিয়ে শেষ করে দিলো। শুধু রেনুর জীবনটা নয়, তার সব স্বপ্ন, তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ।

আমার বোন রেনুর হত্যার ভিডিওটি যারা করেছেন, যারা দেখেছেন, তাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনারা সবাই অনেক গোছানো মানুষ। পরিপাটি ফিটফাট, নিরাপদ। রেনু, বোনটা আমার যদি এর ছিটেফোঁটাও স্মার্ট হতো!

রেনুর বড় ভাই রিয়াজ মাহমুদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

প্রিয়ার বিচার চায় হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার চেয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট।
২২ জুলাই সোমবার কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয়।

এ সময় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল এ সময় বলেন, ‘ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ নিখোঁজ হয়েছে, এ তথ্য বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের কাছে বিচার চাওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে কল্যাণ ট্রাস্ট।’ কাদের প্ররোচনায় কোন উদ্দেশ্যে প্রিয়া সাহা এই মিথ্যাচার করেছেন, সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব নির্মল রোজারিও বলেন, ‘হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বা কল্যাণ ট্রাস্ট অথবা অন্য কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অতীতে কখনও দেওয়া হয়নি। এই হিসাব কীভাবে এসেছে, তার জবাব প্রিয়া সাহাই দিতে পারবেন।’

সৎ পথে থাকলে আল্লাহ সহায় হবেন, মামলা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সুমন

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কটূক্তি করার অ**ভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মা**মলার বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল সোমবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস-শামস জগলুল হোসেনের আদালতে মা*ম*লাটি করেন গৌতম কুমার এডবর নামে রাজধানীর ভাষানটেকের এক সমাজসেবক।

মা*ম*লার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন ব্যারিস্টার সুমন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে আমাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র হতে পারে চিন্তায় আমি বিগত ২৮-০৫-২০১৯ তারিখে ঢাকার শাহবাগ থানায় বিভিন্ন ভুয়া পেজের নাম উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করি যার নম্বর হচ্ছে ১৭০৯।

ভুয়া পেজ ব্যবহার করে আজকে যে মামলাটি আমার বি*রুদ্ধে করা হলো এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র বলে আমি মনে করি। আমার জিডির কাগজটি আপনাদের সম্মুখে দিলাম। আমার বিশ্বাস সৎ পথে থাকলে আল্লাহ সহায় হবেন এবং সকল ষড়য্ন্ত্র নস্যাৎ হবে।’

স্ট্যাটাসের নিচে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) একটি কপি সংযুক্ত করে দিয়েছেন।
ব্যারিস্টার সুমনের বি*রুদ্ধে করা মা*মলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন ফেসবুকে বলেন, পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্ট এবং বর্বর জাতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যাদের ধর্মের কোনো ভিত্তি নেই। মনগড়া বানানো ধর্ম। হয়তো দু-একটি খবর নিউজে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরও অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়, তাদের নৃশংসতার আড়ালে।

অ*ভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৯ জুলাই সনাতন ধর্ম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে মিথ্যা, অশ্লীল চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ফলে হিন্দু সমাজ তথা গোটা জাতির মধ্যে এ বিষয় নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আসামির এরকম আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীল অবমাননাকর ও অরুচিপূর্ণ বক্তব্যের ফলে রাষ্ট্র ও হিন্দু সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। আসামির এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলে সাধারণ জনগণ নীতিভ্রষ্ট, অসৎ হইতে উদ্ধত হওয়ায়র ফলে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কিন্তু এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার সুমন আগে থেকেই বলে আসছেন তার এ ফেসবুক আইডিটি ফেক। তিনি গত ২০ জুলাই তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে একটি ফেক পেজ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। আমি এ বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আপনারা সচেতন থাকবেন। এটাই আমার একমাত্র পেজ, যার ফলোয়ার ২০ লাখের অধিক।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে মামলার প্রস্তুতির কথা রোববার (২১ জুলাই) জানান বাদী হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি সুমন কুমার রায়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেই বিষয়টি জানান। পরে মামলার প্রস্তুতির বিষয়টি তিনি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন বলেন, পৃথক দুটি ধারায় এ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে সুমন কুমার রায় বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি এবং মানহানির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুই ধরনের অভিযোগ আনার সুযোগ আছে। একটি ২৯৫ (ক) ধারায়। অপরটি ফেসবুক লাইভে মানহানি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধিত ধারায় অভিযোগ আনা হবে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘মামলা করা একটি সাংবিধানিক অধিকার। যে কেউ কারো বি*রুদ্ধে মামলা করতে পারে। এটাই বাংলাদেশের নিয়ম হওয়া উচিত।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরু

দ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের করা মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ও ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য ব্যারিস্টার সুমন আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে খারিজের আদেশ দেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। সেদিন তিনি বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করব, আপনারা আমার পাশে থাকবেন।’

২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪০৩ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে

২১ জুলাই রোববার বিকেল ৪টা থেকে ২২ জুলাই সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

একদিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির এটি রেকর্ড বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৮৩ জন ও ঢাকার বাইরে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজধানীর পঁয়ত্রিশটি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার এ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভারের পাশাপাশি কুষ্টিয়া ও খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তির তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা এখনো পাঁচজন।

আমার মা কখন আসবে? মা না এলে আমি ভাত খাব না

প্রথম দিকে মগ্ন ছিল পুতুলখেলায়, এখন তার মাকে চাইই চাই। মাকে ছাড়া সে খাবে না। বারবার বলছে, ‘মা কখন আসবে? মা কেনো আসছে না? মা না এলে আমি ভাত খাব না।

কিন্তু মা তো আর ফিরবে না, চলে গেছে না ফেরার দেশে। এই চরম সত্যতা বোঝার বয়স নেই ছোট্ট তাসনিমা তুবার। তাই মা নেই প্রায় তিনদিনের বেশি, সেটা বুঝে উঠতেই পারছে না।

সোমবার (২২ জুলাই) সারাদিন মায়ের অপেক্ষায় থেকে চার বছরের তাসমিন মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ছিল কান্নায়। তার বড় ভাই ১১ বছরের তাহসিন আল মাহিন অন্তত বুঝতে পারে, তাদের মা আর কোনো দিন ফিরবেন না। তবে বোনকে সান্ত্বনা দেওয়ার অবস্থা তার নেই। শোকে-দুঃখে সে নির্বাক। একই অবস্থা তাদের আত্মীয়দেরও।

ছেলেধরা সন্দেহে তাদের মা তাসলিমা বেগমকে (৪০) গত শনিবার ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গণ**পিটু*নিতে হ**ত্যা করা হয়।

রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাসলিমাকে দাফন করা হয়েছে।

মদিনার যে স্থানগুলো সবচেয়ে বেশি দেখতে যায় হাজিরা

মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে স্পন্দন ও আবেগ শীর্ষস্থান দখল করে আছে মদিনা। মর্যাদায় পবিত্র কাবা শরিফের পরেই যার স্থান।

যদিও মদিনার জিয়ারত হজের অংশ নয়, তথাপিও অধিকাংশ মুসলমানের কাছে বিভিন্ন কারণে মক্কার চেয়ে মদিনার ভালোবাসা অনেক বেশি। তাই সারাবিশ্ব থেকে আগত কোনো হজযাত্রীই মদিনার সফর ও জিয়ারত মিস করেন না।

মুসলিম উম্মাহর প্রিয় শহর মদিনা। এ মদিনায় বসবাস করেছেন দু’জাহানের বাদশাহ বিশ্বনিব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আজও তার রওজা মদিনার মসজিদে নববিতে অবস্থিত মদিনার মসজিদে নববি ছাড়া আরও ৪টি স্থান মুসলিম উম্মাহ সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করেন। যা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য স্মৃতি বিজড়িত স্থান। এ স্থানগুলো সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িত। আবেগ ও ভালোবাসার সে স্থানগুলো হলো-

প্রিয় নবির রওজা
মসজিদে নববির অভ্যন্তরে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সে ঘর। যে ঘরে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাফন করা হয়েছে।

মুসলিম উম্মাহ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজায় আবেগ ভক্তিপূর্ণ সালাম জানায়। এ স্থানে রয়েছে ইসলামের প্রথম দুই খলিফা হজরত আবু বকর ও ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু। মুসলিম উম্মাহ প্রিয় নবির সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকেও সালাম জানায়।

জান্নাতুল বাকি
মদিনার মসজিদে নববির দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। একে আরবিতে মাকবারাতুল বাকি, বাকউল গারকাদও বলা হয়ে থাকে। এখানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, হজরত ওসমানসহ সাহাবায়ে কেরামদের অনেককেই দাফন করা হয়েছে।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশ কয়েকবার এ কবরস্থান জিয়ারতে এসেছিলেন। বিশ্বনবি হিজরত করে মদিনা আসার সময় জান্নাতুল বাকির স্থান সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত ছিল। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন,

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ রাতে জান্নাতুল বাকির দিকে বেরিয়ে যেতেন এবং বলতেন, হে (কবরের) মুমিন সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তোমাদের কাছে এসেছে যা তোমাদেরকে ওয়াদা দেয়া হয়েছিল। কেয়ামত পর্যন্ত তোমরা অবশিষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় নিশ্চয়ই আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবো। হে আল্লাহ! তুমি বাকিউল গারদবাসীদের ক্ষমা করে দাও।’ (মুসলিম)

বর্তমানে হজ ও ওমরা মৌসুমে মদিনায় যারা মারা যান তাদেরকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। সারাবিশ্ব থেকে আগত মুসলিম উম্মাহ এ জান্নাতুল বাকি সবচেয়ে বেশি জেয়ারত করেন।

মসজিদে কুবা
ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের পর মদিনায় সর্ব প্রথম এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় হয়। হিজরতের পর প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে ১৪দিন অবস্থান করেছিলেন।

মসজিদে কুবা উম্মতে মুহাম্মাদির সর্ব প্রথম মসজিদ। সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি এবং মসসিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার স্থান। গুগল ম্যাপে মসজিদে নববি থেকে কুবা মসজিদে দূরত্ব প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কিলোমিটার দেখালেও মূলতঃ এটি ৩-৪ কিলোর বেশি নয়।

মসজিদে কুবা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার উপর (মসজিদে কুবা) -তাই বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে নামাজ কায়েম করতে দাঁড়াবে।

সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ্ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১০৮)

বিশ্বনবি মদিনায় ১০ বছর কাটিয়েছেন। এ সময়ে তিনি পায়ে হেঁটে কিংবা উটে আরোহণ করে কুবা মসজিদে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে-
– হজরত উসাইদ ইবনে হুজাইব আল আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘মসজিদে কুবায় এক ওয়াক্ত নামায আদায় করা; সওয়াবের দিক থেকে একটি ওমরা আদায়ের সমতুল্য।’ (তিরমিজি)

– অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নাত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইবনে মাজাহ)।

মসজিদে কিবলাতাইন
মসজিদ আল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ। মদিনায় অবস্থিত একটি মসজিদ। ঐতিহাসিক দিক থেকে এই মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ পড়াকালীন সময়ে আল্লাহর নির্দেশে প্রিয়নবি কেবলা পরিবর্তন করেছিলেন।

এ ঘটনা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ। আগে দুটি মেহরাব থাকলেও মসজিদ পূর্ণঃনির্মাণের সময় জেরুজালেমের মসজিদে আকসা মুখী কিবলা সরিয়ে নেয়া হয়।

ওহুদ পাহাড় ও প্রান্তর
মদিনা শহরের উত্তরে ১০৭৭ মিটার তথা ৩৫৩৩ ফুট উচ্চতার ওহুদ পাহাড় অবস্থিত। এ পাহাড়ের পাদদেশে মক্কার কুরাইশ ও মদিনার মুসলিমদের মধ্যে দ্বিতীয় যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মক্কার বাহিনীর আক্রমণের বিশ্বনবি আহত হন এবং তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি নিহত হয়েছেন।

হৃদয় বিদারক এ যুদ্ধে প্রথম দিকে মুসলিমরা বিজয় লাভ করলেও পাল্টা আক্রমণে কুরাইশদের তুলনায় মুসলিমদের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। এ হজরত হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ ৭০ জন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। ওহুদ পাহাড়েরর পাদদেশে এ ৭০ জন সাহাবিকে দাফন করা হয়।

সারাবিশ্ব থেকে আগত মুসলিম উম্মাহ সাহাবাদের কবর জিয়ারত ও ওহুদ প্রান্তর দেখতে এখনও ওহুদ প্রান্তর সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করেন।

মদিনার এসব স্থানগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। এ স্থানগুলোর প্রতি মুসলিম উম্মাহর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আজন্ম। যা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সূত্র- জাগো নিউজ