প্রেমের টানে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে খুলনায় জার্মান তরুণী !!

সুদূর জার্মান থেকে প্রেমের টানে খুলনায় ছুটে এলেন অ্যাসটিট ক্রিস্টিয়াল কাসুমী সিউর (৪৩) নামের এক তরুণী। এরপর মহানগরীর খানজাহান আলী থানার যোগিপোলের যুবক আসাদ মোড়লের (৪০) সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি।

বাংলাদেশে আসার আগে ক্রিস্টিয়াল তার জার্মান স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। খুলনায় এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আসাদ মোড়লকে বিয়ে করেছেন তিনি। আসাদের সঙ্গে জার্মান নাগরিকের বিয়ের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের পরিচয়। প্রায় দুই বছর ধরে কথা বলতে বলতে প্রেম। সেই প্রেমের টানে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসেন ক্রিস্টিয়াল।স্থানীয় সূত্র জানায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানার যোগিপোলের ৭নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে এমডি আসাদ মোড়লের সঙ্গে দুই বছর আগে ফেসবুকে জার্মান তরুণী ক্রিস্টিয়ালের (৪৩) পরিচয় হয়। এরপর তাদের বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্ব থেকে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ক্রিস্টিয়াল প্রেমের সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে জার্মান স্বামীকে ডির্ভোস দিয়ে ১০ জুন ঢাকায় আসেন। ১১ জুন তিনি আসাদের খোঁজে খুলনায় আসেন এবং একটি হোটেলে ওঠেন।ওই হোটেলেই দুইজনের প্রথমবারের মতো সরাসরি দেখা হয়। ১২ জুন ক্রিস্টিয়াল খুলনা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৩ জুন কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

এ বিষয়ে অ্যাসটিট ক্রিস্টিয়াল কাসুমী সিউর বলেন, বাংলাদেশি আসাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বাস্তবে রূপ দিতেই আমি এখানে চলে আসি। সরাসরি তাকে দেখে বুঝে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি এবং বিয়ে করেছি। এখন আমরা সুখী। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।জানতে চাইলে আসাদ মোড়ল বলেন, দুই বছর আগে ফেসবুকে জার্মান তরুণী ক্রিস্টিয়ালের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্ব থেকে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৩ জুন কোর্টের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয়। তার জীবনসঙ্গী হতে পেরে খুবই খুশি আমি।

আসাদের বাবা ইব্রাহিম মোড়ল বলেন, ছেলে যাকে নিয়ে সুখী হবে তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে কখনও ভাবিনি এক বিদেশিকে বিয়ে করবে ছেলে।

এদিকে, আসাদ মোড়লের সঙ্গে জার্মান তরুণীর বিয়ে হওয়ার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবার মাধ্যে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান তরুণীকে দেখতে আসাদের বাড়িতে ভিড় করছেন গ্রামবাসী।

তুরস্ক জুড়ে মুরসির গায়েবানা জানাজায় জনতার ঢল !

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুসরির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব গায়েবানা জানাজায় হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম ঘটে।তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের সকল মসজিদে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়েছে।

ইস্তাম্বুলের ফেইত মসজিদের মুরসির গায়েবানা জানাজায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া আঙ্কারায় অবস্থিত মিসরের দূতাবাসের বাইরে শত শত তুর্কি মুরসির মৃত্যুতে বিক্ষোভ করেছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানও একটি জানাজায় শরিক থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এরদোগান বলেন, মুরসি গণতন্ত্রের জন্য শহীদ হয়েছেন। ইতিহাস তাকে কখনো ভুলে যাবে না।

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি মৃত্যুবরণ করেছেন। ৬৭ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সোমবার দেশটির আদালতে শুনানি চলাকালে এজলাসেই মৃত্যুবরণ করেন।মিসরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম বৈধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

আজ ১৮/০৬/২০১৯ তারিখ, দিনের শুরুতেই দেখে নিন আজকের টাকার রেট কত !!

এই মুহূর্তে দেশে ও দেশের বাইরে যে যেখান আছেন সবাইকে “আমার বাংলাদেশ”এর পক্ষ থেকে স্বাগতম !যারা দেশের বাইরে কাজ করছেন তারা দেশের জন্য অত্যান্ত উপকার করছেন । দেশে টাকা পাঠানোর পূর্বে টাকার রেট ভালোভাবে দেখে নিন। আজ ১৮/০৬/২০১৯ তারিখ দিনের শুরুতে দেখে নিন আজকের টাকার রেট !

সৌদি রিয়াল (SAR) =22.60৳

মালয়েশিয়ান রিংগিত (MYR) = 20.72৳

দুবাই দেরহাম (AED ) = 23.15৳

বাহরাইন দিনার (BHD ) = 225.02৳

ব্রিটিশ পাউনড (GBP) = 111.43 ৳

কুয়েতি দিনার (KWD ) = 278.16 ৳

কাতারি রিয়াল(QAR) =23.35৳

সিঙ্গাপুর ডলার ( SGD) = 62.75 ৳

ওমানি রিয়াল (OMR) = 219.32৳

ইউএস ডলার (USD) = 84.44৳

ইউরো (EUR) = 95.05 ৳

মালদ্বীপিয়ান রুপিয়া (MVR ) = 5.05৳

আফগানিস্তান  (AFN) = 1.09 ৳

নিউজিল্যান্ড ডলার(NZD) = 55.20৳

কানাডিয়ান ডলার (CAD) = 63.15৳

ইন্ডিয়া রূপি (INR) = 1.21৳

সাউথ আফ্রিকান রেন্ড (ZAR) =5.51৳

অস্ট্রেলিয়ান ডলার( AUD)=59.40৳

ইরাকি দিনার (IQD) = 0.07৳

দক্ষিণ কোরিয়ান উয়ান(WAN)= 0.074৳

জাপানিজ (YEN) = 0.739৳

চাইনিজ উয়ান ( YUAN) =12.11৳

সোমালিয়া (SOS ) = 0.14 ৳

কিছু কিছু কোম্পানিতে রেট আপডেট করতে সময় নেয় তাই দেশে টাকা পাঠানোর আগে ভালোভাবে রেট যাচাই করে নিন ।

হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠাইয়া নিজে ঝুঁকিতে থাকবেন না । তাতে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, দেশ ও উপকৃত হবে। যে কোন সময় টাকার রেট উঠা নামা করতে পারে। প্রতিদিন আপডেট পেতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন।।প্রতি মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের তারতম্যের সাথে সাথে টাকার রেট উঠানামা করে।বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ পথে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর বিভিন্ন এজেন্ট আছে যেমন মানি গ্রাম , ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন , রিয়া ইত্যাদি ।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে টুইট বার্তায় যা বললেন শোয়েব আখতার

চলমান দ্বাদশ বিশ্বকাপে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছে টিম বাংলাদেশ। সোমবারের ম্যাচে টার্গেট ছিল বিশাল। তবুও সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য ঝড়ো ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এমন একটা জয়ই দরকার ছিল। শুধু সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্যই নয়, দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্যও। টাউন্টনে এদিন দাঁতে দাঁত চেপে নেমেছিল টাইগাররা। সমর্থকরাও বসে ছিলেন তীর্থের মতো। শেষ পর্যন্ত হতাশ করেননি সাকিব-লিটনরা। বাংলাদেশের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বিশ্বের অনেক কিংবদন্তি।

অন্যদিকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারালেও চলমান দ্বাদশ বিশ্বকাপে খাবি খাচ্ছে পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদের দল হেরেছে তিনটি ম্যাচে। ৫ ম্যাচ খেলা পাকিস্তান যেখানে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে, সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে।সোমবার (১৭ জুন) উইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের দাপুটে এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যে ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতেও গড়তে হয়েছে রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ ছিল ঠিক একদিন আগে। যদিও ঐ ম্যাচে পাকিস্তানের একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত ও ম্লান ব্যাটিং পারফরম্যান্স হাই ভোল্টেজ ম্যাচটিকে একপেশে ম্যাচে পরিণত করেছিল।

একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক সময়ে এতটাই বিবর্ণ যে সমালোচনা না করেও উপায় নেই। সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারও তাই এখন দলের সমালোচকের ভূমিকায়। এবার পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচের মেজাজ বুঝবার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।৪৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় এই ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘এটি দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স ছিল।

বালাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে শোয়েব আখতার বলেন, বাংলাদেশ আজ যেভাবে খেলেছে এবং ৩২২ রান সফলভাবে তাড়া করেছে,বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখাচ্ছে তারা কতটা উন্নতি লাখ করেছে । বাংলাদেশ সামনের ম্যাচ গুলোও ভাল খেলবে আশা করি । আমি আশা করি আমরা (পাকিস্তান) এখান থেকে কিছু শিখতে পারব।’পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ‘কলাপ্স’ ঠেকাতে বাংলাদেশের মত খেলা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি টুইট বার্তায় বলেন, ‘এভাবেই আপনাকে দ্রুত উইকেট পতন থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে।’

সাকিব নয়, ম্যাচ জয়ের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে যার নাম বললেন মাশরাফি !!

পুরস্কার বিতরণীর শুরুতেই ইঞ্জুরির কথা জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, আমার হার্মশট্রিং ইনজুরির জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ হওয়ার আগেই আমি মাঠ ছাড়ি । তবে তখন আমাদের হাতে বল করার অনেক বোলার ছিল তাই অসুবিধা হয় নি।

আমি মনে করি ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে মুস্তাফিজ পর পর যে কয়েকটি উইকেট নিল তার জন্যই আমরা ম্যাচে থাকতে পেরেছি। সাকিব সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, সে দলের জন্য দারুণ খেলে যাচ্ছে , প্রত্যেক ম্যাচে সে অসাধারন সফলতা দেখাচ্ছে।

আশাকরি তার সাথে এমন সফলতায় আরও কেউ যোগ দিবে। শেষ দুই ম্যাচে মুশফিক দারুণ খেলেছে, তবে আজকে লিটন ছিল অসাধারন। সাধারনত সে ওপেনিংয়ে ব্যাট করে তাকে পাচে ব্যাট করতে বলা কঠিন ছিল। কিন্তু সে দারুণ ভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং দারুণ খেলেছে।
৭৫, ৬৪, ১২১, ১২৪ ব্যাটিংয়ের এই পরিসংখ্যান যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই স্বপ্নের। অথচ কি সাবলিলভাবেই না এই স্কোরগুলো গড়ে ফেললেন সাকিব! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চার ম্যাচে ৩৮৪ রান শুধু বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানের মসনদ ফিরেই পেলেন না বরং দুই ম্যাচ হারার পরে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে মাঠের বাইরে থেকে তেড়ে আসা অনেক প্রশ্নকে ছক্কা মেরে ওপারে পাঠিয়ে দিলেন।

তাতে কষ্ট পেতে চাইলেও পেতে পারে ব্রান্ডন ম্যাককুলাম কিংবা নাসের হুসেন!তাতে অবশ্য বাংলাদেশের কিছু যায় আসছে না। বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি তা হলো ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নকে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনা। দলের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার। সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখার। আর সেই স্বপ্ন পূরণে সাকিবের সঙ্গে আজ কি দারুণ সঙ্গটাই না দিলেন লিটন কুমার দাস।

সঙ্গে ১৩৫ বলে ১৮৯ রানের অপরাজিত জুটি দুর্দান্ত এক জয় ছিনিয়ে আনলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অথচ ফর্মে থাকার পরও বিশ্বকাপে যেন জায়গা হচ্ছিল না লিটনের। শুধু দলের সাইডবেঞ্চে বসে থাকার জন্য যে আসেননি তার শক্ত এক বার্তা রাখলেন ৬৯ বলে ৮ চার ও চার ছক্কায় ৯৪ রান করা লিটন কুমার দাস।এর শুরুটা অবশ্য করেছিলেন তামিম ও সৌম্য। টনটনে বড় টার্গেট তাড়ায় নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। রানের জন্য লড়ছিলেন তামিম, অন্যপ্রান্তে সৌম্য সাবলীল ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন।

নবম ওভারের প্রথম বলে আন্দ্রে রাসেলকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা মারলেন সৌম্য। পরের বলেই ক্যাচ তুলে দিলেন স্লিপে। ২৩ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ২৯ রান করা সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে ৫২ রানের ওপেনিং জুটি। সৌম্যর আউটের পর হাত খুলতে থাকেন তামিম। সাকিবকে সঙ্গী করে এগিয়ে নিতে থাকেন দলের স্কোর।দ্বিতীয় উইকেটে তখন এসে গেছে ৬৯ রান। জমে উঠেছে জুটি ঠিক তখনি শেলডন কটরেলের দুর্দান্ত এক থ্রোতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে যান ৪৭তম হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকা তামিম। কটরেল নিজেই সরাসরি থ্রোতে তামিমের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। তামিমের আউট হওয়ার কিছুণের মধ্যেই থমাসের লেগ স্ট্যাম্পেও বাইরের বল খোঁচা মেরে আউট হন মুশফিক (১)।

তামিম-মুশফিকের জোড়া শিকার করে আবার ট্রাকে ফিরে আসে উইন্ডিজ। সঙ্গে বাড়তে থাকে বাংলাদেশি সমর্থকদের দীর্ঘশ্বাস। চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু মিঠুনের পরিবর্তে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকা লিটন কি দুর্দান্তভাবেই না সে সুযোগ কাজে লাগালেন। সাকিবের সঙ্গে গড়লেন অনবদ্য ১৭৯ রানের জুটি। যে জুটি শক্ত ভীত গড়ে দেয় বাংলাদেশের। নিশ্চিত করে জয়। যে জয় আনন্দের, হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২১ রান তোলে উইন্ডিজ। ভয়ংকর ক্রিস গেইল ১৩ বল খেলে একটি রানও করতে পারেননি! শেষ পর্যন্ত দলীয় ৬ রানে সাইফউদ্দিনের বলে ক্রিস গেইলের ক্যাচ দুর্দান্তভাবে লুফে নেন মুশফিকুর রহিম। এমন অবস্থায় দলের হাল ধরেন অপর ওপেনার এভিন লুইস এবং শাই হোপ। ৫৯ বলে ফিফটি করেন এভিন লুইস। দুজনের জুটিতে তখন ১১৬ রান এসে গেছে। অবশেষে এই জুটি ভাঙেন সাকিব। তার ঘূর্ণিতে বদলি ফিল্ডার সাব্বিরের তালুবন্দি হন ৬৭ বলে ৭০ করা এভিন লুইস।

এরপর ৭৫ বলে বাংলাদেশের বিপে টানা ৬ষ্ঠ ফিফটি করেন শাই হোপ। উইকেটে এসে রানের জন্য ছটফট করছিলেন নিকোলাস পুরান (২৫)। তাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। লং অন থেকে দারুন ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার।বিধ্বংসী শিমরন হেটমায়ার উইকেটে এসেই তা-ব শুরু করেন। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ২৫ বলে। শেষ পর্যন্ত এই মারকাটারি ব্যাটসম্যানকে তামিম ইকবালের তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজ। ক্রিস গেইলের মতো আরেক ভয়ংকর হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেলও ‘ডাক’ মারেন আজ। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়েন এই দানবীয় ব্যাটসম্যান।

এরপর উইকেটে এসে ঝড় তোলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ১৫ বলে ৩৩ রান করে বিপজ্জনক এই অল-রাউন্ডার সাইফউদ্দিনের শিকার হন। শাই হোপকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মুস্তাফিজ। ১২১ বলে ৯৬ রান করা হোপকে লিটন দাসের তালুবন্দি করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন কাটার মাস্টার। শেষদিকে ব্র্যাভোর ১৫ বলে ১৬ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২১ রান। শেষ বলে ব্র্যাভোকে বোল্ড করে দেন সাইফ। ৩টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিন।

সাকিবের সেঞ্চুরি, আবেগে কেঁদে ফেললেন স্ত্রী শিশির !

সাকিবের সেঞ্চুরির মুহূর্তে কেঁদে দেন তার প্রিয়তম স্ত্রী শিশির। ক্যামেরায় ধরা পড়ে সাকিবপত্নীর এই আবেগভরা মুহূর্তটি।সাকিব আল হাসানের অল রাউন্ড নৈপুণ্যে উইন্ডিজের রানের পাহাড় টপকে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

বল হাতে দুই উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন দুর্দান্ত শতক।বাউন্ডারি মেরে নিজের শতরানে পৌঁছান সাকিব। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বোলার দৌড়ানো শুরু করার আগে থেকেই ভয়ে চোখে হাত দিয়ে রাখেন শিশির। সাকিব বাউন্ডারি মারার পরেই চোখ খোলেন শিশির এবং তখনই আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি।চলতি বিশ্বকাপের ২৩তম ম্যাচে আজ মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ দল।
এই ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ৯৯ বলে ১৬ চারে ১২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চার হাফসেঞ্চুরি করে শচীন টেন্ডুলকার, কুমার সাঙ্গাকারা, গ্রায়েম স্মিথদের মত কিংবদন্তীদের পাশে নাম লেখালেন সাকিব।

সাকিবের আগে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে চার হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- গ্রায়েম ফ্লাওয়ার, নবজিত সিং সিধু, শচীন টেন্ডুলকার, গ্রায়েম স্মিথ ও কুমার সাঙ্গাকারা।তবে তাদের মধ্যে শচীন এই রেকর্ড গড়েছেন দুইবার। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন সাকিব।

আরব আমিরাতে সর্ব প্রথম যেভাবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেলেন বাংলাদেশী প্রবাসী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান

প্রথম বাংলাদেশী প্রবাসী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান কে আরব আমিরাতের স্থায়ী বাসস্থান ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রদান করেছে ।আল হারামাইন গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং দুবাইয়ে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান।

কোম্পানির জারি করা এক বিবৃতিতে, স্বীকৃতি আসে আল-হারামাইন গ্রুপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩৮ বছর উদযাপন করে ।
মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান, বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় এবং বাণিজ্য উদ্যোগের বিস্তৃত পরিসরে জড়িত – সুগন্ধি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ,চা, এবং আতিথেয়তা ইত্যাদি বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবসায়িকের সাথে জড়িত ।তার গ্রুপ আল হারামাইন পারফিউম, মধ্য প্রাচ্যের অঞ্চলের সর্ববৃহত্তম সুগন্ধি বা পারফিউম নির্মাতাদের মধ্যে একজন, আল হারামাইন টি কো লিমিটেড এবং আল হারামাইন হাসপাতাল প্রাঃ লি।

 
তিনি বলেন “আমি ধন্যবাদ জানাই উর্ধ্বতন শেখ খলিফা বিন জয়েদ আল নাহিয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি, তাঁর মহিমা শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক এবং তাঁর মহিমা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ক্রাউন প্রিন্স অফ আবুধাবি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার।

 
তিনি আরো বলেন “গোল্ডেন ভিসা আমার এবং আমার দেশ বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মান। এটি আমাদেরকে ইউএই অর্থনীতিতে আরো বিনিয়োগের জন্য উত্সাহিত করবে এবং ইউএই অর্থনীতির আরো বিস্তৃত সাহায্য করবে। আমরা গ্রেট অর্থনৈতিক অনুমোদনের জন্য ইউএইয়ের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ,সুযোগ এবং সম্মান, ।

 
গ্রুপটি জি সি সি, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো ১০০ টিরও বেশি শাখায় সরাসরি ১০০০ টিরও বেশি পেশাদার এবং কর্মচারী নিয়োগ করে ২০ টিরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন।মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান – অনাবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) -এর জন্য বরাদ্দকৃত তিনজন ঋণদাতাদের মধ্যে একজন।

 
তিনি ২015 সালের ২013, ২013, ২014, ২015 এবং ২016 সালের সর্বমোট পাঁচ বছরের জন্য শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) ছিলেন।
সৌদি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত টাইকুন :
সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বসবাসকারী, মাহতাবুর রহমান ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং সিলেট শহরে তার শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এর পর তিনি সৌদি আরবের পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দেন, যা 1970 সাল থেকে মক্কাতে ভালভাবে চলছিল।
 
মাহতাবুর রহমান তার বাবার কাছ থেকে তার ব্যবসায়ের কৌশল শিখেছিলেন এবং সুবাসের ক্ষেত্রে নিজেকে আয়ত্ত করেছিলেন। মক্কা থেকে নতুন গন্তব্য পর্যন্ত তাঁর পারিবারিক ব্যবসায় বিকাশ, উদ্ভাবন এবং প্রসারিত করার তার দৃষ্টি ছিল।পারফিউম বা সুগন্ধি পণ্যের ব্যবসাটি হঠাৎ বেড়েই চলেছে, ১৯৮১ সালে মাহতাবুর রহমান দুবাইয়ে তাদের প্রথম শোরুম খুললেন।

 
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সম্ভাব্য সুগন্ধি পণ্যের বাজারের পূর্বাভাসের পর, তিনি তার পুরো অপারেশন ও উত্পাদন ইউনিট সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরিত করেন এবং 33,000 বর্গক্ষেত্রের একটি এলাকায় ওএআরএলএল-ইআরপি সার্ভারের সাথে আধুনিক এবং সুশৃঙ্খল হেড অফিস নির্মাণ করেন ফুট এবং 180,000 বর্গফুট এলাকা জুড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে, যা একটি অত্যাধুনিক উত্পাদন ইউনিট হিসাবে বৃদ্ধি পায়।

তিনি জানায় “এটি প্রায় ১৯৯২-১৯৯৩ ছিল, আমি একটি সুগন্ধি কারখানা করার জন্য একটি জমি সন্ধান করছিলাম। শেখ হুমাইদ বিন রাশিদ আল নুঈইমি, সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য এবং আজমানের শাসক, এই জমিটি আমাকে দিয়েছিল । Ajman নতুন শিল্প এলাকা এটি একটি ফাঁকা এলাকা ছিল ।”আমরা আমাদের ব্যবসা বাড়ানোর অব্যাহত রেখেছি এবং এটি প্রতি বছর বাড়ছে। আমরা আজমনে আমাদের কারখানাতে ১০০ মিলিয়ন দিরহাম বিনিয়োগ করেছি।”

 
২০১১ সালে তিনি দুবাইয়ে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন – বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য একমাত্র নিবন্ধিত ব্যবসা গ্রুপ।তিনি বাংলাদেশে শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করেন।

উইন্ডিজকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করল বাংলাদেশ !!

সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। এমন সমীকরণের সময় বাংলাদেশ সামনে পাহাড়সম রানের টার্গেট। তবে শেষ পর্যন্ত সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছে টাইগাররা।

বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই রান মাত্র ৪১ ওভারে তুলে নিয়ে অস্ট্রোলিয়াকে সতর্ক বার্তা দিয়ে রাখলো সাকিব মাশরাফিরা। কারণ দুই দিন বাদেই বিশ্বকাপে নিজেদের ৬ষ্ট ম্যাচে আগামী ২০ জুন অস্ট্রোলিয়ার মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার শরীরী ভাষা জানান দিচ্ছিলো এবার হতে পারে বিশেষ কিছু। যা তিনি জানিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের ও দলের লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়েও।

আর বিশেষ কিছু করার দায়িত্বটাও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেও পারেননি দলকে জেতাতে। আজ (সোমবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও করলেন সেঞ্চুরি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণটাও রেখেছেন নিজের হাতেই। সাকিবের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরিতে ভর করে জয়ের পথে একটু একটু করে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ইনিংসের ৩৪তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পূরণ করেন সাকিব। তার আগে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আজ দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এ কীর্তি গড়লেন সাকিব।টনটনে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ৩২২ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৯ রানের মাথায় রাসেলের শিকার হয়ে ফিরে যান সৌম্য।এরপর সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু ইনিংসের ১৮তম ওভারে এসেই নিরুপায় তামিম ফেরেন রানআউটের ফাঁদে পড়ে।কটরেলের বলটি সামনে ঠেলে দিয়ে ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে আসলেই সরাসরি থ্রোতে তামিমকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন কটরেল। ৪৮ রানেই শেষ হয় তামিমের ইনিংস।

নিজে বোলিংয়ের পর নিজের দূর্দান্ত এক ফিল্ডিংয়ে তামিমকে রান আউটের ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেওয়ার পরবর্তী ওভারে থমাস তুলে নিলেন টাইগার ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকের উইকেট।তামিম ৪৮ রান করে ফিরে গেলেও মুশফিক রানের খাতা না খুলেই শাই হোপের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান।
পরপর ২ ওভারে দেশসেরা দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে এখন বড় বিপদে পড়েছিল টাইগার ব্যাটিং লাইনআপ। তবে সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

আবারো বাঘের গর্জন দেখল বিশ্ববাসী !!

সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। এমন সমীকরণের সময় বাংলাদেশ সামনে পাহাড়সম রানের টার্গেট। তবে শেষ পর্যন্ত সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছে টাইগাররা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা তেমন ভালো ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বোলিং উদ্বোধন করেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারে কোনো রান নিতে পারেননি ক্যারিবীয় দুই ওপেনার ক্রিস গেইল আর এভিন লুইস। মেডেন দেন মাশরাফি।

পরের ওভারে সাইফউদ্দীনও ২ রানের বেশি দেননি। তৃতীয় ওভারে এভিন লুইসের কাছে মাত্র একটি বাউন্ডারি হজম করেন মাশরাফি। তার পরের ওভারে দ্বিতীয় বলেই আঘাত সাইফউদ্দীনের।অফসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বল বুঝতে না পেরে একটু খোঁচা দিয়েছিলেন গেইল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহীম ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। এ নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার ম্যাচে দুবারই শূন্যতে আউট হলেন বিধ্বংসী এই ওপেনার।

৬ রান তুলতেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন এভিন লুইস আর শাই হোপ, দ্বিতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ১১৬ রান।থিতু হয়ে গিয়েছিল জুটিটা, চোখ রাঙানিও দিচ্ছিল। ২৫তম ওভারে এসে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাকিব আল হাসান। তাকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচ হন লুইস। ৬৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ক্যারিবীয় ওপেনার করেন ৭০ রান।

তৃতীয় উইকেটে নিকোলাস পুুরান আর সিমরন হেটমায়ারের ৩৭ রানের জুটিটিও ভাঙেন এই সাকিব। টাইগার স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৩০ বলে ২৫ রান করে লং অনে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হন পুরান। ১৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।সেখান থেকে ৪৩ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী এক জুটি হেটমায়ার-শাই হোপের। কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে মোস্তাফিজ ঝলক দেখান। ৪০তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন কাটার মাস্টার।

মোস্তাফিজের ওভারের তৃতীয় বলটি মিডউইকেটে ভাসিয়ে দেন হেটমায়ার। ২৫ বলে ৫০ রানের টর্নোডো ইনিংস খেলা এই ব্যাটসম্যান হন তামিম ইকবালের চোখে লাগার মতো এক ক্যাচ।ওভারের শেষ বলটিতে দুর্দান্ত এক ডেলিভারি দেন মোস্তাফিজ, শূন্য রানেই আন্দ্রে রাসেল ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে।২৪৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে আরেকটি ঝড়ো জুটি ক্যারিবীয়দের। এবার হোপের সঙ্গী অধিনায়ক জেসন হোল্ডার, ১৫ বলে ৩৩ রানের ঝড় তুলে ক্যারিবীয় অধিনায়ক আউট হন সাইফউদ্দীনের বলে, লং অফে ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ।

তারপরও একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন শাই হোপ। বল খরচ করলেও যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত আর সেঞ্চুরি পাওয়া হয়ে উঠেনি তার। ১২১ বলে ৯৬ রান করে মোস্তাফিজের শিকার হন হোপ।শেষ ৬ ওভারে টাইগার বোলাররা বেশ চেপে ধরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এর মধ্যেও টুকটাক বাউন্ডারি মেরে রান এগিয়ে নিয়েছে তারা। শেষ ওভারের শেষ বলে ড্যারেন ব্রাভোকে (১৫ বলে ১৯) বোল্ড করেন সাইফউদ্দিন।শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রানের পাহাড়সমান পুঁজি দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন দুই পেসার মোস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিন। স্পিনার সাকিবের শিকার ২ উইকেট।

৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তামিম কিছুটা ধীর গতিতে খেললও ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালায় আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।তবে দলীয় ৫২ রানে রাসেলের বলে ক্রিস গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৩ বলে ২৯ রান।এরপর ঝড়ো এক জুটি গড়েন তামিম আর সাকিব আল হাসান। সৌম্য আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ বলেই জুটিতে হাফসেঞ্চুরি পার করেন এই যুগল। ৫৫ বলেই গড়ে ফেলেন ৬৯ রানের জুটি।

কিন্তু কপাল মন্দ হলে যা হয়! এবারের বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচে রান পাননি। আজ (রোববার) বেশ দেখেশুনে খেলছিলেন তামিম ইকবাল। হাফসেঞ্চুরির খুব কাছেও চলে গিয়েছিলেন। ৪৮ রানে এসে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন বাঁহাতি এই ওপেনার।কট্রেলের বলটি ড্রাইভ করে একটুখানি বের হয়ে গিয়েছিলেন তামিম। সুযোগ না দিয়ে তার মুখের উপর দিয়েই থ্রো করে দেন ক্যারিবীয় পেসার। তামিম ব্যাট রাখতে রাখতে ভেঙে যায় স্ট্যাম্প। ৫৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে গড়া টাইগার ওপেনারের ৪৮ রানের ইনিংসটি থামে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে।

তারপর মুশফিকুর রহীমও বেশিদূর যেতে পারেননি। ওসানে থমাসের বলে মাত্র ১ রান করে উইকেটরক্ষক শাই হোপের ক্যাচ হয়েছেন মিডল অর্ডারের এই ভরসা।এরপর মাঠে নামেন নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাস। এরপরই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ফিফটি করেন সাকিব আল হাসান। ৪০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করতে ৭টি চার মারেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি পূরণ করেন সাকিব।

দ্রতই দুই উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। শুধু সাকিবই নয়, দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে ফেলেন লিটন দাস। ৪৩ বলে ফিফটি করতে ৪টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
শেষ পর্যন্ত এই দুই টাইগারের কাঁধে ভর করে ৪২ ওভার ২ বলে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের সীমানায় পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে ভালো শুরু বাংলাদেশের, লাইভ দেখুন !!

৩০ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। শিমরন হেটমায়ারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে পরের ১০ ওভারে ৯২ রান তুলে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখতে পেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

৫০ তম ওভারের শেষ বলে ড্যারেন ব্রাভোকে বোল্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে করে ৩২১ রানে।জিততে রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে গত আসরে জিতেছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের ইনিংসঃ

বাংলাদেশ: ৪০/০ ৭ ওভার শেষে। তামিম ১১ ও সৌম্য ২২ রানে ব্যাট করছে। সংক্ষিপ্ত স্কোর:ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ৩২১/৮ (গেইল ০, লুইস ৭০, হোপ ৯৬, পুরান ২৫, হেটমায়ার ৫০, রাসেল ০, হোল্ডার ৩৩, ব্রাভো ১৯, টমাস ৬*; মাশরাফি ৮-১-৩৭-০, সাইফ ১০-১-৭২-৩, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৯-৩, মিরাজ ৯-০-৫৭-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০, সাকিব ৮-০-৫৪-২)।